শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

যেসব খেলার মাঠ দিয়েছিলাম সব দখলে নিয়েছে আ. লীগ : মির্জা আব্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘আজকে খেলার মাঠ নেই, বিনোদনের জায়গা নেই, মুরব্বিদের সময় কাটানোর জন্য কোনো ক্লাব নেই। আমি যেখানে মাঠ ও বিনোদনের জায়গা করে দিয়েছিলাম সেগুলোও সব দখলে নিয়েছে এই আওয়ামী লীগ। তারা খেলার জায়গায়সহ সবকিছু দখলে নিয়ে দালান বানিয়ে ফেলেছে। আমরা নির্বাচিত হলে এগুলো সব মুক্ত করব।

রবিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মালিবাগ আবুজর গিফারী কলেজের কনফারেন্স রুমে ১২ নং ওয়ার্ডের ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা, এলাকার মুরুব্বিদের সাথে মতবিনিময় এবং বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘ভোট পাওয়ার জন্য মিথ্যা আশ্বাস দিই না। ভোটের পর অনেককে খুঁজে পাওয়া যায় না। আমার সে সুযোগ নেই।
আমি এলাকারই সন্তান। আজকে ১৭ বছর পর এই কলেজে আসলাম। আসার সময় দেখলাম অনেক কিছুই লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। শেষ করে দিয়েছে।
দখল করা হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা। এ এলাকায় আগে মাদক ছিল না। এখন মাদক সিন্ডিকেট অনেক বড়, তবু তা নির্মূল করতে হবে। এতে এলাকাবাসী আমাকে সহযোগিতা করবেন। একজন মাদকসেবী শুধু পরিবারের নয়, সমাজের সমস্যা।
আপনাদের যেকোনো সমস্যায় আমাকে কল দেবেন, কথা দিচ্ছি সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। মনে রাখতে হবে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং মাদকের সাথে কোনো আপস নেই।

তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে খাল দখলমুক্ত করতে হবে। বিভিন্ন জলাশয় আজ দখল হয়ে গেছে। ময়লা পানি বের হওয়ার জায়গা বন্ধ হয়ে গেছে। এগুলোকে মুক্ত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক কমিশনার সাজ্জাদ জহির, মহানগর দক্ষিণ বিএনপি শাখার নেতা ফজলে রুবায়েত পাপ্পু প্রমুখ।

২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বৃহৎ বৈশ্বিক ভোক্তা বাজার হবে : বিডা চেয়ারম্যান

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেছেন, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি বৃহৎ বৈশ্বিক ভোক্তা বাজারে পরিণত হতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের চার ঘণ্টার দূরত্বের মধ্যে প্রায় ২৫০ কোটি মানুষ বসবাস করে যা প্রতিবেশী দেশগুলোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রসারের বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করছে।’

আজ রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ১২তম জাতীয় এসএমই পণ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আশিক চৌধুরী বলেন, বিগত শতকের অর্থনৈতিক বিপ্লব ইউরোপ ও আমেরিকায় ঘটলেও আগামী শতাব্দীর অর্থনৈতিক বিস্তার ঘটবে এশিয়ায়।

তিনি বলেন, দেশের বড় বিনিয়োগকারীরা এখনো বাংলাদেশকে মূলত একটি উৎপাদনশীল কেন্দ্র বা কারখানা হিসেবে দেখে থাকেন। তবে বড় সমস্যা হলো ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ তৈরি না হওয়া। এটি মোবাইল ফোন, অটোমোটিভ ইন্ডাস্ট্রি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, জুতো, টেক্সটাইল, গার্মেন্টস ও চামড়া শিল্পসহ বিভিন্ন খাতকে প্রভাবিত করবে ।

বাংলাদেশকে একটি ‘তরুণ দেশ’ হিসেবে অভিহিত করে আশিক মাহমুদ বলেন, এখানকার মানুষের গড় বয়স মাত্র ২৭ বছর।
ফলে দেশের উদ্যোক্তারা অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখার জন্য এখনো পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, কিছু রপ্তানিকারককে ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, যা ধীরে ধীরে এসএমই (ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প) খাতকে সম্পূর্ণ ইন্টিগ্রেটেড রপ্তানিতে সম্পৃক্ত হতে সাহায্য করবে।

রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনার ওপর জোর দিয়ে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের দেশে শুধু টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস নয়, রপ্তানিতে বৈচিত্র্যকরণ (ডাইভারসিফিকেশন) প্রয়োজন।’

দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান ও ডিজিটাইজেশন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা সরাসরি অনলাইনে নিবন্ধন করতে ও বিভিন্ন তথ্য জানতে পারবেন।
বিদ্যুৎ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ভালো কাজ হলেও এখনো অনেক দূর যেতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মেলায় অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের প্রশংসা করে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, ‘মেলায় অংশগ্রহণকারীদের শতকরা ৬০ ভাগই নারী, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং আমাদের দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাদের জন্য অবশ্যই বড় কিছু করা প্রয়োজন।’

মেলায় অংশ গ্রহণকারী উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অংশগ্রহণকারীদের ৬০ শতাংশই নারী যা অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

হাসিনা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি : সালাহউদ্দিন আহমদ

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা বাকশালের মাধ্যমে দেশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন। গণ-অভ্যুত্থানে জনগণ তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তিনি বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও স্বাধীনতায় কখনো বিশ্বাস করেননি। পার্শ্ববর্তী একটি দেশের সেবাদাস হিসেবে ক্ষমতা ধরে রেখে সেই দেশে সম্পদ পাচারে সহযোগিতা করেছেন।
শেষ পর্যন্ত তার নির্ধারিত ঠিকানাও হয়েছে দিল্লি।

গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চকরিয়া উপজেলার ইসলামনগর এলাকায় আয়োজিত এক মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ আরো বলেন, ‘গত ১৬ বছর দেশে গণতন্ত্র ছিল না, এবার তা ফিরে এসেছে। দেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়, ন্যায়বিচার চায়, শান্তি চায়।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের অর্থনীতি, প্রশাসন ও ন্যায়বিচারে যে বিপর্যয় তৈরি হয়েছে, তা পুনর্গঠন করা হবে।’ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জনগণ এখন নিজেদের অধিকার সম্পর্কে আগের চেয়ে বেশি সচেতন। তারা নিজেরাই ভোটাধিকার পাহারা দেবে। তিনি এবারের নির্বাচন বিশ্বের কাছে স্বীকৃত সুষ্ঠু ও প্রশংসিত নির্বাচন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মহিলা সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন সাবেক এমপি ও সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী হাসিনা আহমদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না প্রমুখ। এতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের অনুষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর

বরিশালের গৌরনদী-মুলাদী উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর নির্মিত সেতুর নাম নির্ধারণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর জেরে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর চালিয়ে অনুষ্ঠান পণ্ড করে দেয় উত্তেজিত জনতা।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কাজিরচরের উদ্বোধনী প্যান্ডেলে এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অনলাইনে যুক্ত হয়ে সেতুটি উদ্বোধনের কথা ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপদেষ্টা অনলাইনে যুক্ত হওয়ার আগেই উত্তেজিত জনতা হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলজিইডির অধীনে নির্মাণাধীন ৬১৯ মিটার দীর্ঘ ‘সৌহার্দ্য সেতু’র নাম স্থানীয়দের না জানিয়ে পরিবর্তন করে ‘৩৬ জুলাই সেতু’ রাখা হয়। এতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং এর প্রতিক্রিয়ায় প্যান্ডেলে হামলার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা আরও বলেন, ব্রিজ নির্মাণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এমদাদুল হক মজনুকে অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়ায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়।

মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সেতুটির নাম পরিবর্তন করে ‘৩৬ জুলাই সেতু’ নামে উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

তবে নাম পরিবর্তন নিয়ে স্থানীয়রা আগেই আপত্তি জানিয়ে অভিযোগ করেছিলেন, যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছিল।

মুলাদী থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, হামলার কারণে আয়োজকেরা অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে পারেননি।

ইন্দোনেশিয়ায় বন্যা-ভূমিধস : মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ৯০০

একের পর এক ঘূর্ণিঝড় ও টানা ভারী বর্ষণের জেরে সৃষ্ট বন্যা-ভূমিধসে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা ও আচেহ প্রদেশের বিভিন্ন গ্রাম-শহর ও উপকূলীয় এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ৯১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনও নিখোঁজ আছেন অন্তত ২৭৪ জন।

প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় সরকারের বরাত দিয়ে শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

আচেহ প্রদেশের তামিয়াং জেলার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বন্যার কারণে খাবার, পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটে ভুগছেন তারা। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কারণে সেখানকার লোকজন ব্যাপক ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।

তামিয়াং জেলার একটি ইসলামি আবাসিক স্কুলের শিক্ষার্থী দিমাস ফিরমানসিয়াহ (১৪) রয়টার্সকে বলেছে, বন্যার কারণে সে-সহ স্কুলের অন্যান্য গত এক সপ্তাহ ধরে স্কুল হোস্টেলে আটকা পড়েছে এবং পানির যোগান ফুরিয়ে যাওয়ায় বন্যার পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছে।

তামিয়াং জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সরকারি সহায়তা কেন্দ্রগুলো থেকে খাবার ও পানি সংগ্রহ করে আনতে তাদের সীমহীন ভোগান্তি সহ্য করতে হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবাও সুবিয়ান্তো কয়েক দিন আগে বলেছিলেন যে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এবং বিপর্যয় মোকাবিলায় সরকারের যে প্রস্তুতি— তা সন্তোষজনক। তবে সুমাত্রা ও আচেহ প্রদেশের প্রশাসন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষন করেনি। এ দুই প্রদেশের কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জরুরি অবস্থা ঘোষণার আহ্বান জানিরেয়ছেন।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবেশবাদী সংস্থাগুলোর অভিযোগ, বন্যা-ভূমিধসে ব্যাপকমাত্রার এই প্রাণহানির প্রধান কারণ বনজঙ্গল উজাড় হওয়া এবং অবৈধ খনি খনন। পরিবেশজনিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য চীনের জলবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী নর্থ সুমাত্রা হাইড্রো এনার্জি এবং স্বর্ণ খনির অনুসন্ধান ও স্বর্ণ উত্তোলনকারী এগিনকোর্ট রিসোর্সেসসহ কয়েকটি কোম্পানিকে দায়ী করেছে ইন্দোনেশীয় পরিবেশবাদী সংস্থাগুলো। প্রায় সবগুলো কোম্পানিই চীনের অর্থায়নপুষ্ট।

পরিবেশাবাদী সংস্থাগুলোর অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে নর্থ সুমাত্রা হাইড্রো এনার্জি ও এগিনকোর্ট রিসোর্সেসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স, কিন্তু কোম্পানির কর্মকর্তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে রাজি হননি।

ঘূর্নিঝড় সেনিয়ার এবং তার আগে-পরে বেশ কয়েকটি মৌসুমি ঝড় ও ভারী বর্ষণের জেরে গত নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে বন্যা শুরু হয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে সুমাত্রা ও আচেহ প্রদেশ। বন্যার পাশাপাশি দুই প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে। মূলত এর জেরেই বেড়েছে মৃতের সংখ্যা।

সূত্র : রয়টার্স

ভারতের পর্যটনরাজ্য গোয়ার নাইটক্লাবে বড় অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২৩

আরব সাগরের তীরবর্তী ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় পর্যটনরাজ্য গোয়ার একটি নাইটক্লাবে অগ্নিকাণ্ডে পর্যটক এবং সেই ক্লাবের কর্মীসহ ২৩ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার রাত ১২টার পর এ ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ নামের সেই নাইটক্লাবটি অবস্থান গোয়ার উত্তরাঞ্চলীয় জেলা আরপোরা’র বাগা বিচে অবস্থিত। বাগা বিচ গোয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় সমুদ্র তীরগুলোর মধ্যে অন্যতম।

ক্লাবটির রান্নাঘর থেকে সূত্রপাত হয় আগুনের। রান্নাঘরের একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন।

রাজ্য পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অধিকাংশ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে রান্নাঘর এবং তার আশপাশ থেকে এবং ধারণা করা হচ্ছে যে তারা সবাই সেই ক্লাবের কর্মচারী ছিলেন। এর বাইরে কয়েক জন পর্যটকের দেহও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার ভোরের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক আলোক কুমার দিকে সাংবাদিকদের বলেছেন, “আগুন মূলত ক্লাবের রান্নাঘর এবং প্রথম তলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। উদ্ধার মরদেহগুলোর অধিকাংশই মিলেছে রান্নাাঘর এবং আশপাশের এলাকা থেকে। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে যে নিহতদের অধিকাংশই ক্লাবের কর্মচারী ছিলেন। কয়েক জন পর্যটকের লাশও উদ্ধার করা হয়েছে। এই সংখ্যা ৩ থেকে ৪ জন হবে। তাদের নাম-পরিচয় এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।”

রোববার সকাল পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন অলোক কুমার।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত। ইতোমধ্যে এ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, “গোয়ার সব বাসিন্দাদের জন্য আজকের দিনটি বড় দুঃখজনক একটি দিন। যারা স্বজন ও ভালবাসার মানুষ হারিয়েছেন তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। তাদের জন্য এটি এক অপূরণীয় ক্ষতি। রাজ্য সরকার ইতোমধ্যে এ ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। যাদের অবহেলার জন্য এত বড় দুর্ঘটনা ঘটল, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

সূত্র : বিবিসি

৬ দিনের অচলাবস্থার পর আজ শুরু সরকারি প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষা

টানা ছয় দিনের অচলাবস্থার পর আজ থেকে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শুরু হচ্ছে বার্ষিক পরীক্ষা। তিন দফা দাবিতে সহকারী শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন, বদলি আদেশ ও ‘শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যেও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত এসেছে শিক্ষক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে।

গত বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) রাতে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ এবং বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের ক্ষতি এড়াতে তালাবদ্ধ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। সংগঠন দুটির নেতাদের ভাষ্য, পরীক্ষা শুরু হওয়া পর্যন্ত এবং পরীক্ষা চলাকালীন কোনো বিদ্যালয়ে শাটডাউন কর্মসূচি কার্যকর থাকবে না।

প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের অন্যতম আহ্বায়ক মো. মাহবুবর রহমান ঢাকা পোস্টকে জানান, শিক্ষার্থীদের কথা ভেবেই এ সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আমাদেরই সন্তান। তাদের ক্ষতি আমরা চাই না। দুই দিন পিছিয়ে গেছে, কিন্তু এতে শিক্ষাজীবন অচল হবে না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের আন্দোলন চলমান থাকলেও পরীক্ষাকে সম্পূর্ণভাবে আওতামুক্ত রাখা হচ্ছে।

এদিকে এরইমধ্যে ৪২ জন আন্দোলনকারী সহকারী শিক্ষককে ভিন্ন জেলায় বদলি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বদলির তালিকায় আন্দোলনের পাঁচ শীর্ষ নেতা—খায়রুন নাহার লিপি, মো. শামছুদ্দীন মাসুদ, মো. আবুল কাশেম, মো. মাহবুবর রহমান ও মো. মনিরুজ্জামানও রয়েছেন। ফলে কেউই নিজ জেলায় থাকার সুযোগ পাচ্ছেন না।

সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, ১০ম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে, তবে পরীক্ষার সময় কোনো কর্মসূচি দিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করা হবে না।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এখানে ৩ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি শিক্ষক কর্মরত। প্রধান শিক্ষকরা ইতোমধ্যে ১০ম গ্রেডে বেতনভুক্ত হলেও সহকারী শিক্ষকরা এখনো ১৩তম গ্রেডে আছেন। গ্রেড উন্নীতকরণ, উচ্চতর গ্রেড সমস্যা সমাধানসহ কয়েকটি দাবি তারা দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন।

এর আগেও গত ৮-১২ নভেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা। ওই সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে দেড় শতাধিক শিক্ষক আহত হন। পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে শিক্ষকরা কর্মস্থলে ফিরে গেলেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হওয়ায় তারা আবার কর্মবিরতিতে ফিরেছিলেন।

প্রসঙ্গত, রোববার শুরু হতে যাওয়া প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষা গত ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল।

ঢাকার বায়ু আজ অস্বাস্থ্যকর, দূষণে শীর্ষে লাহোর

বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় আজ শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর, বায়ুমান সূচকে যা স্কোর ৩১২। তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। এদিন সকালে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (বায়ুর মান সূচক) স্কোর ছিল ২৪২, যা খুবই ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত।

রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান বিষয়ক ওয়েবসাইট আইকিউএয়ারে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বায়ুদূষণে বিশ্বের শহরগুলোর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি, যার স্কোর ২৪৯, চতুর্থ স্থানে থাকা ভারতের কলকাতার স্কোর ২০৭, পঞ্চম স্থানে রয়েছে ভিয়েতনামের হ্যানয়, স্কোর ২০০।

উল্লেখ্য, একটি শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, তার লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক জানিয়ে থাকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ার। প্রতিষ্ঠানটির মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো বলে বিবেচিত হয়।

আর ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয় বায়ুর মান। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় সব ধরনের সহযোগিতা করছে সরকার : প্রেস সচিব

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ক্ষেত্রে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শনিবার বিএনপি চেয়ারপার্সনের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়ার চিকিৎসার ক্ষেত্রে তাকে বিদেশ পাঠানোসহ পরিবারের অনুরোধ মোতাবেক সরকার যথাযথ সহায়তা করে যাচ্ছে।’

শফিকুল আলম আরও বলেন, খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশবাসীকে দোয়া অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে সরকার।

অপরদিকে খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার জন্য কাতার সরকারের ব্যবস্থা করা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি আগামী ৯ ডিসেম্বর ঢাকায় আসার অনুমতি চেয়েছে। অনুমতি পেলে ঢাকায় এসে ১০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়াকে নিয়ে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হবে।

মানবতাবিরোধী অপরাধে ইনুর মামলায় আজ তৃতীয় দিনের সাক্ষ্য

জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যাসহ আট অভিযোগের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে আজ।

রোববার (৭ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্যগ্রহণ পেশ হবে। এদিন দুজন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

গত ২ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দিনের জেরা শেষ হয়। ওই দিন দুই নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহাকে জেরা করেন ইনুর আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। এর আগের দিন ১ ডিসেম্বর সাক্ষ্য দেন তিনি।

এ মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে একই দিন জবানবন্দি দিয়েছেন মো. রাইসুল হক। তার বাড়ি মেহেরপুরে হলেও জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়া শহরের একটি মেসে থাকতেন। ছাত্র-জনতার ওপর হামলার প্রত্যক্ষ নির্দেশদাতা ও উসকানিদাতা হাসানুল হক ইনু ছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তার কপালেও গুলি লেগেছিল। কিন্তু ভাগ্যক্রমে বেঁচে ফিরেছেন। এছাড়া ছয়জন শহীদ হয়েছিলেন। এসবের জন্য ট্রাইব্যুনালের কাছে ইনুর সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছেন এই সাক্ষী।

এর আগে, ৩০ নভেম্বর মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। একই দিন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে ইনুর করা রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানি হয়। তার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সিফাত মাহমুদ ও মনসুরুল হক। প্রসিকিউশনের পক্ষে করেন চিফ প্রসিকিউটর। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ইনুর আবেদনটি খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। গত ২ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।

ওই দিন আটটি অভিযোগই ইনুকে পড়ে শোনান বিচারক। একপর্যায়ে নিজেকে পুরোপুরি নির্দোষ দাবি করেন এই জাসদ সভাপতি। ২৮ অক্টোবর তার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনসুরুল হক। শুনানিতে কোনো অভিযোগ সত্য নয় জানিয়ে নিজের ক্লায়েন্টের অব্যাহতির আবেদন করেন তিনি। তবে ১৪ দলীয় জোটের শরিক নেতা হিসেবে কোনো দায় ইনু এড়াতে পারেন না বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। ২৩ অক্টোবর ইনুর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।

চলতি বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর এ মামলায় ইনুকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ ছিল। ২৫ সেপ্টেম্বর এই জাসদ সভাপতির বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টে গণহত্যায় সহযোগিতাসহ সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ এনে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এরপর শুনানিতে আটটি অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। শুনানি শেষে অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করেন আদালত।

গত বছরের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন এই জাসদ নেতা। তবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হিসেবে কুষ্টিয়ায় নিজ আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে হেরে যান তিনি।

উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে কুষ্টিয়া শহরে শহীদ হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। পরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা। যাচাই-বাছাই শেষে উসকানি, ষড়যন্ত্রসহ সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। তার বিরুদ্ধে দেওয়া ফরমাল চার্জটি ৩৯ পৃষ্ঠা সম্বলিত। সাক্ষী করা হয়েছে ২০ জনকে। এছাড়া নথি হিসেবে তিনটি অডিও ও ছয়টি ভিডিও দিয়েছে প্রসিকিউশন।