শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

ভোট দিতে প্রবাসী নিবন্ধন ২ লাখ ৪৯ হাজার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন দেশ থেকে ভোট দেওয়ার জন্য ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে প্রবাসী নিবন্ধন করেছেন ২ লাখ ৪৯ হাজার ৩৩৮ জন প্রবাসী। এর মধ্যে ২ লাখ ২৮ হাজার ১৪৭ জন পুরুষ এবং ২১ হাজার ১৯১ জন নারী। নির্দিষ্ট সময়ে সংশ্লিষ্ট প্রবাসীদের ঠিকানায় ব্যালট পেপার পাঠিয়ে দেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা ১০ মিনিট পর্যন্ত ইসির ওয়েবসাইট থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

এবারই প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটে ভোট নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। এ ক্ষেত্রে প্রবাসী, আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তি, ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিতরা এ ব্যবস্থায় ভোট দিতে পারবেন। এ জন্য অ্যাপে নিবন্ধন করতে হবে। গত ১৯ নভেম্বর থেকে নিবন্ধন শুরু হয়েছে, চলবে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

যেসব দেশে নিবন্ধন চলছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, মিসর, মোজাম্বিক, লিবিয়া, মরিশাস, হংকং, ব্রাজিল, উগান্ডা, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, লাইবেরিয়া, বতসোয়ানা, কেনিয়া, রুয়ান্ডা, আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, তানজানিয়া, সোমালিয়া, ঘানা, গিনি, মরক্কো, দক্ষিণ সুদান, চিলি, সিয়েরা লিওন, ইকুয়েডর, তাইওয়ান, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, গাম্বিয়া, পেরু, জিম্বাবুয়ে, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ইত্যাদি।

ইসি জানিয়েছে, অ্যাপে নিবন্ধনকারীদের ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট ডাকযোগে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ভোটার ভোট দিয়ে ফিরতি খামে তা আবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন।

উল্লেখ্য, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি।
এ ক্ষেত্রে ৫০ লাখ প্রবাসী ভোট টানার টার্গেট নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে সংস্থাটি।

ভোজ্যতেলের নতুন দাম আজ থেকে কার্যকর

দেশের বাজারে বৃদ্ধি পেয়েছে ভোজ্যতেলের দাম। নতুন এই মূল্য আজ সোমবার (৮ ডিসেম্বর) থেকে কার্যকর হচ্ছে।

রবিবার (৭ ডিসেম্বর) ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা ও আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে এ নতুন মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী- লিটারে ৬ টাকা বাড়িয়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের নতুন দাম ৯৫৫ টাকা। এছাড়া খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৭৬ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতেই হবে : প্রধান উপদেষ্টা

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘জাতির জন্য প্রতীক্ষিত এ নির্বাচনে আপনারা (ইসি) চালকের আসনে আছেন। আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতেই হবে।’

আজ রবিবার সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ৪ কমিশনার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে সরকার। জাতিকে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতিকে আমরা ইতিহাসের সেরা নির্বাচন উপহার প্রত‍্যয়ে এগিয়ে চলছি।’

আগামী সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অবহিত করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান ও প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সব ধরনের প্রস্তুতি সঠিক ও সুন্দরভাবে এগোচ্ছে এবং ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন ও একই দিনে গণভোট আয়োজনের জন্য কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

প্রস্তুতিকালে ইসিকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদানের জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান সিইসি ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা।

নির্বাচনের প্রস্তুতিকালে সর্বাত্মক সহযোগিতা করায় সিইসি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমে ধন্যবাদ জানান।

বিটিআরসি ঘেরাও মোবাইল ব্যবসায়ীদের, অবরুদ্ধ চেয়ারম্যান

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) সংস্কারসহ কয়েকটি দাবিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনের সামনে কঠোর কর্মসূচিতে নেমেছেন মোবাইল ব্যবসায়ীরা।

রবিবার সকাল ১০টার দিকে ‘বাংলাদেশ মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি’র ব্যানারে শত শত ব্যবসায়ী আগারগাঁওয়ের বিটিআরসি ভবনের সামনে জড়ো হয়ে অবস্থান নেন। এদিন রাত সাড়ে ৭টার দিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই স্থানে অবরোধ করে বিক্ষোভ করছিলেন ব্যবসায়ীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ব্যবসায়ীদের অবরোধে সড়কের এক পাশের যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে, সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ।
ব্যবসায়ীরা বিটিআরসি ঘেরাও করেন। এতে চেয়ারম্যানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ রয়েছেন।

একই সঙ্গে রবিবার সন্ধ্যায় আগারগাঁও মোড় থেকে বিটিআরসি ভবনের সামনে পর্যন্ত অন্তত চার জায়গায় আগুন জ্বালিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)-এর সেক্রেটারি আবু সায়ীদ পিয়াস বলেন, ‘আমরা বহুবার সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বৈঠকের জন্য অনুরোধ করেছি।
কিন্তু একবারও আমাদের ডাকা হয়নি। আলোচনার সুযোগ পেলে সমাধান সম্ভব ছিল। এখন পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। সারা দেশের খুচরা ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রেখেছেন।

ব্যবসায়ীদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে এনইআইআর সংস্কার, সিন্ডিকেট প্রথা বাতিল এবং মোবাইল ফোন আমদানির সুযোগ উন্মুক্ত করা। তাদের অভিযোগ, এনইআইআর বাস্তবায়ন হলে লাখো ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নতুন এই নিয়মের ফলে একটি বিশেষ গোষ্ঠী লাভবান হবে এবং বাড়তি করের চাপে গ্রাহক পর্যায়ে মোবাইলের দাম বেড়ে যাবে।

এ বিষয়ে তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের (শেরেবাংলানগর জোন) সহকারী কমিশনার (এসি) জাকির হোসেন বলেন, বিটিআরসি ভবনের সামনে মোবাইল ব্যবসায়ীদের সড়ক অবরোধের কারণে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আমরা ডাইভারশন দিয়ে অন্য রাস্তায় যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করেছি।
আগারগাঁও একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এটি বন্ধ থাকায় অন্য রাস্তায় ব্যাপক চাপ পড়েছে। বিভিন্ন সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি।

এর আগে গত ৩০ নভেম্বর সকাল ১০টায় পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে দোকান বন্ধ রেখে রাজধানীর কারওয়ান বাজার-পান্থপথ এলাকায় জড়ো হয়ে মানববন্ধন করেছিলেন বিভিন্ন শপিং মলের মোবাইল ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা।

উল্লেখ্য, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টেলিযোগাযোগ খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অনিবন্ধিত মোবাইল ফোনের ব্যবহার রোধ করতে আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর ব্যবস্থা চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে নিবন্ধনবিহীন, চুরি হওয়া বা অনুমোদনহীন আমদানি করা মোবাইল ফোনের ব্যবহার বন্ধ হয়ে যাবে। এর ঠিক আগেই বড় ধরনের আন্দোলনে নামলেন ব্যবসায়ীরা।

প্রাথমিকের ৩২ হাজার শিক্ষকের পদোন্নতির বিষয়ে যা বললেন উপদেষ্টা

মামলার কারণে ৩২ হাজার সহকারী শিক্ষককে পদোন্নতি দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, ‘এটি খুব দুঃখের কথা। আমাদের ৩২ হাজার স্কুলের প্রধান শিক্ষক নেই।
অথচ ৩২ হাজার সহকারী শিক্ষককে আমরা পদোন্নতি দিতে পারছি না। একটা মামলার জন্য এটা হয়েছে। মামলাটি নিষ্পত্তি করার জন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। নিষ্পত্তি করতে পারলে অনেকগুলো সমস্যার সমাধান হবে।

এর আগে তিনি উপজেলার উত্তর লেমশীখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পূর্ব ধূরুং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, অবকাঠামো ও অফিসকক্ষ পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া কুতুবদিয়ার ঐতিহ্যবাহী বাতিঘর ও সৈকত ঘুরে দেখেন তিনি।

বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, ‘কুতুবদিয়ার বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে শিক্ষকসংকট দেখা গেছে। নতুন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন কুতুবদিয়াসহ বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকসংকট দূর করা হবে।

সীমান্তে যুদ্ধাবস্থা নেই অথচ মানুষকে গুলি করে মারা হয় : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত হচ্ছে পৃথিবীর একমাত্র সীমান্ত, যেখানে যুদ্ধাবস্থা নেই অথচ মানুষকে গুলি করে মারা হয়। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আমরা সব সময় এটার নিন্দা করে যাব। বিএসএফ যদি আমাদের এলাকায় ঢুকে কাজটা করত তাহলে আমরা সেটার ব্যবস্থা নিতাম। এমনকি বিজিবিকে বলতাম এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে তোমরা অ্যাকশন নেবে।
যেহেতু এটা ভারতের সীমান্তের ভেতরে ঘটছে আমাদের জোর করে এটা বন্ধ করার কোনো উপায় নেই। আমরা যা করছি, এটুকুই। এর বেশি করতে পারব না।’

রবিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নীলফামারীতে এক হাজার শয্যার চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘যখন খুব ঢাকঢোল পেটানো হচ্ছিল যে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের স্বর্ণযুগ চলছে, এ রকম ভালো সম্পর্ক কোনো দিন ছিল না তখনও কি সীমান্ত হত্যা বন্ধ হয়েছিল? হয়নি। সম্পর্ক যতই ভালো করেন না কেন ভারতীয় পলিসি বা ভারতীয় কার্যক্রম বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আর এখন আপনারই বলেন যে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের এক ধরনের টানাপোডেন চলছে।’

বাংলাদেশ ভারত-সীমান্ত নিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এ ধরনের যেকোনো ঘটনাকে নিন্দা করি নিয়মিত।
আমরা প্রতিবাদ নোট দিই। আমরা তাদের বলি যে এ রকম ঘটনা আর যেন না ঘটে। কিন্তু তার পরেও ঘটে। আমি তো জোর করে বা বলপ্রয়োগ করে এটা বন্ধ করতে পারব না। কাজেই এর মধ্য দিয়ে আমাদের যেতে হবে।
আমাদের সাবধান থাকতে হবে যেন এ রকম ঘটনার সম্মুখীন আমরা যেন না হই।’

ভারতের চিকেন নেক নিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘চিকেন নেক হলো ইন্ডিয়ার, আমাদের না। আমরা তো ইন্ডিয়ার চিকেন নেক দখল করতে যাব না। তারা চিকেন নেক নিয়ে যা ইচ্ছা করুক তাতে আমাদের কী। আমরা এখানে কোনো পক্ষ হতে যাব না। ভারতের সঙ্গে চীনের বিভিন্ন সম্পর্ক আছে। তারা সেটা নিয়ে হয়তো চিন্তিত হবে। এটা আমাদের বিষয় না। আমরা সেখান থেকে দূরে থাকব। কারণ আমাদের সাথে এই দেশগুলোর যে সম্পর্ক, তার সাথে এই চিকেন নেকের কোনো সম্পর্ক আছে বলে আমি মনে করি না।’

তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘চীন-মৈত্রী হাসপাতালের জন্যে এটি চমৎকার একটা জায়গা। সরকারের অধীনেই খাসজমি আছে, সেখানে আমরা করতে পারছি। আমার আশা যে খুব তাড়াতাড়ি হবে। চায়নিজরা বলেছে তিন বছর লাগবে এটা কনস্ট্রাকশন করতে। আমি যতটুকু জানি তাদের কনট্রাক্টর বা কারা কাজ করবে সেগুলোও তারা নির্ধারণ করে দিয়েছে। এই হাসপাতালটা একটা রেফারাল হসপিটাল হবে, যেখানে উচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে চীনারা এটা দেখাশোনা করবে, ম্যানেজ করবে। পরে আস্তে আস্তে আমাদের কাছে হস্তান্তর করবে।’

পররাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষ হলে আবারও পুরনো জীবনে ফিরে যাবেন এবং তার কোনো ধরনের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই বলেও জানান তিনি।

ওই সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সাইদুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাকিউজ্জামানসহ প্রমুখ।

নতুন এমপিও নীতিমালা প্রকাশ

বেসরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য প্রণীত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ প্রকাশ করা হয়েছে। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয়।

নীতিমালায় উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক পদ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ বিভিন্ন পদের যোগ্যতার মানদণ্ডে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতাসহ ১৩ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকলে এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দুই থেকে তিন বছরের অভিজ্ঞতাসহ ১৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকলে শিক্ষকরা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের সুযোগ পাবেন।

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, বিনা অনুমতিতে ৬০ দিন বা তার বেশি সময় অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক এমপিওভুক্তির জন্য বিবেচিত হবেন না। এমনটি হলে ৬০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর ওই পদ শূন্য ঘোষণা করে বিধি অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া নিতে হবে।

নতুন জনবল কাঠামোয় বলা হয়েছে, কোনো বেসরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ খোলার জন্য প্রতিটি বিভাগে ন্যূনতম ৩৫ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে।
বিজ্ঞান বিভাগে নতুন শাখা খুলতে ন্যূনতম ২৫ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। মফস্বলে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ খোলার জন্য ন্যূনতম ৩০ জন এবং বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ন্যূনতম ২০ জন শিক্ষার্থীর শর্ত রাখা হয়েছে।

নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে মন্তব্য করে আইনি জটিলতায় ভারতীয় গায়িকা

ভারতীয় ভোজপুরি গায়িকা নেহা সিং রাঠোর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর আইনি জটিলতায় পড়েছেন। আল্লাহাবাদ হাই কোর্ট গত শুক্রবার তার আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। এর ফলে যেকোনো সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

উত্তর প্রদেশের আল্লাহাবাদ হাই কোর্ট নেহার আগাম জামিনের আবেদন নাকচ করে দেয়।
বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর হামলার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়ী করে তার দেওয়া মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। এই মন্তব্যের জেরে লক্ষ্ণউর বিভিন্ন এলাকায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই আইনি জটিলতা থেকে সুরক্ষা পেতে নেহা আগাম জামিনের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন।

চলতি বছরের এপ্রিলে পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর হামলার পর নেহা নিরাপত্তায় গাফিলতির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়ী করেছিলেন।
তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘আমি সরকারের কাছে কী প্রশ্ন করব? শিক্ষা ও স্বাস্থ্য আর অগ্রাধিকার নয়। এমন এক সময়ে, যখন জাতীয়তাবাদী রাজনীতি এবং হিন্দু-মুসলিম বিভাজন চরমে, মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। আমি কি সরকারের বদলে গিয়ে মোহাম্মদ আলি জিন্নাহকে প্রশ্ন করব? কেন্দ্রীয় সরকার ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত। দেশ চালানো হচ্ছে জাত ও ধর্মের ভিত্তিতে।

নিজের বক্তব্যের পক্ষে সাফাই দিতে গিয়ে নেহা দাবি করেন, একজন স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে নিরাপত্তা ব্যর্থতা নিয়ে সরকারকে প্রশ্ন করার অধিকার তার রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি কোনো উসকানিমূলক গান গাননি, বরং শুধু প্রাসঙ্গিক প্রশ্নই তুলেছেন। তবে এই মুহূর্তে তাকে জামিন না দিয়ে আদালত আইনি প্রক্রিয়াটি খোলা রেখেছে।

‘শিগগিরই’ গাজা পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরুর আশা নেতানিয়াহুর

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রবিবার বলেছেন, গাজার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে তিনি ‘শিগগিরই’ অগ্রসর হওয়ার আশা করছেন।

দুই নেতার বৈঠকের পর জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মেৎসের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা গাজায় হামাসের শাসনের অবসান কিভাবে ঘটানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেছি… আমরা প্রথম অংশটি শেষ করেছি এবং এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করতে যাচ্ছি, যা আরো কঠিন।’

নেতানিয়াহু আরো বলেন, এই অঞ্চলে ‘শান্তির সুযোগ’ নিয়ে আলোচনা করতে তিনি চলতি মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা হামাসের নেতৃত্বে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ওপর চালানো হামলায় আটক করা জীবিত ও মৃত ৪৭ জন বন্দিকে মুক্তি দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়।

এ পর্যন্ত এক ইসরায়েলি পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ ছাড়া বাকি সব জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

নেতানিয়াহু আরো বলেন, ‘এখন আমাদের সামনে রয়েছে দ্বিতীয় ধাপ, যা কোনো অংশেই কম ভীতিকর নয়—আর তা হলো হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং গাজাকে সামরিকীকরণমুক্ত করা। তৃতীয় একটি ধাপও রয়েছে, আর তা হলো গাজাকে উগ্রবাদমুক্ত করা—যা অনেকেই একসময় অসম্ভব বলে মনে করতেন। কিন্তু এটি জার্মানিতে করা হয়েছে, জাপানে করা হয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলোতে করা হচ্ছে, গাজাতেও করা সম্ভব।

চুক্তি স্বাক্ষরের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও গাজার যুদ্ধবিরতি এখনো ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে, দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে এটি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে।

ট্রাম্পের পরিকল্পনায় একাধিক ধাপ রয়েছে : প্রথমে যুদ্ধবিরতি, এরপর ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার ও গাজার জন্য একটি নতুন প্রশাসন গঠন এবং সবশেষে ইসরায়েলের প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযানে ধ্বংস হওয়া বিস্তীর্ণ এলাকার পুনর্গঠন।

মেৎস শনিবার সন্ধ্যায় ইসরায়েলে পৌঁছন, দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তার প্রথম সফর। গাজা যুদ্ধের কারণে দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহ্যগতভাবে দৃঢ় সম্পর্ক নড়বড়ে হয়ে যাওয়ার পর তিনি বার্লিনের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

মে মাসে ক্ষমতায় আসা মেৎস এর আগে ইসরায়েলের অবিরাম সামরিক অভিযানের বারবার সমালোচনা করেছেন।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মেৎস বলেন, ইসরায়েলের সমালোচনা ‘সম্ভব এবং কখনো কখনো হয়তো প্রয়োজনীয়ও’।

তিনি আরো বলেন, ‘জার্মানি ও ইসরায়েলের মধ্যকার সম্পর্ক এটি সহ্য করতে পারে। কিন্তু ইসরায়েলি সরকারের নীতির সমালোচনাকে ইহুদিবিদ্বেষের অজুহাত হিসেবে অপব্যবহার করা যাবে না।’

আরএমপির ১২ থানার ওসিকে বদলি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) ১২টি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বদলি করা হয়েছে।

রবিবার (৭ ডিসেম্বর) আরএমপি কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ১২ থানার ওসিকে বদলি/পদায়ন কার্যকর করা হয়।

নতুন পদায়ন হওয়া ওসিদের মধ্যে বোয়ালিয়া মডেল থানার বর্তমান ওসি মো. আবুল কালাম আজাদকে মতিহার থানায় বদলি করা হয়েছে। দামকুড়া থানার ওসি মো. রবিউল ইসলামকে বোয়ালিয়া মডেল থানায়, চন্দ্রিমা থানার ওসি মো. আরজুনকে বেলপুকুর থানায়, মতিহার থানার ওসি আব্দুল মালেককে রাজপাড়া থানায় বদলি করা হয়েছে।

এ ছাড়া কাটাখালী থানার ওসি আব্দুল মতিনকে পবা থানায়, বেলপুকুর থানার ওসি সুমন কাদেরীকে কাটাখালী থানায়, শাহমখদুম থানার ওসি মাছুমা মুস্তারীকে এয়ারপোর্ট থানায়, এয়ারপোর্ট থানার ওসি ফারুক হোসেনকে শাহমখদুম থানায়, পবা থানার ওসি ফরহাদ আলীকে কাশিয়াডাঙ্গা থানায়, কাশিয়াডাঙ্গা থানার ওসি আজিজুল বারী ইবনে জলিলকে দামকুড়া থানায়, কর্ণহার থানার ওসি মনিরুল ইসলামকে চন্দ্রিমা থানায়, রাজপাড়া থানার ওসি হাবিবুর রহমানকে কর্ণহার থানায় বদলি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আরএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মুখপাত্র) গাজিউর রহমান জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আরএমপি ১২টি থানার ওসি রদবদল করেছে। পদায়ন ও রদবদলের এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।