সোমবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬

পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিল্লি সফরে যাচ্ছেন আজ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান শুভেচ্ছা সফরে আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে ভারতের রাজধানী দিল্লি যাচ্ছেন। তিন দিনের এই সফরে তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, সফরের সময় খলিলুর রহমান শুধু ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেই নয়, দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা ইস্যুতে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সফরের আলোচনায় ভিসা সহজীকরণ, জ্বালানি সহযোগিতা জোরদার, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর করা, বিদ্যমান বিধিনিষেধ শিথিল বা প্রত্যাহার, অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।

বিশেষ করে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও পারস্পরিক সুফলের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো স্বাভাবিক ও গতিশীল করার দিকেই জোর দেওয়া হবে।

এই সফরটি তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর এটিই বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর প্রথম দিল্লি সফর। সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে সফর শুরু হবে। পরদিন ৮ এপ্রিল তিনি এস জয়শঙ্করের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেবেন। একই দিনে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং জ্বালানি মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি।

দিল্লি সফর শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে যোগ দেবেন।

জানা গেছে, ৯ এপ্রিল সকালে দিল্লি থেকে একটি ফ্লাইটে তিনি এবং এস জয়শঙ্কর একই সঙ্গে মরিশাস যাবেন। সেখানে ১১ ও ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে অংশ নিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সামুদ্রিক কৌশলগত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন তারা।

২৭ এপ্রিল যশোর যাবেন প্রধানমন্ত্রী

আগামী ২৭ এপ্রিল যশোরে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপির) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের।

সোমবার (৫ এপ্রিল) রাতে বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এই তথ্য জানান।

শায়রুল কবির খান জানান, খুলনা বিভাগ বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন আগামী ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোর শিডিউল আছে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি যশোরের শার্শা উপজেলার উলাসী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। ৫০ বছর আগে ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল নিয়ে এই খালের খনন কাজ শুরু করেছিলেন, যা ইতিহাসে ‘উলশী-যদুনাথপুর প্রকল্প’ বা ‘জিয়া খাল’ নামে পরিচিত।

এ ছাড়া, এই সফরে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করতে পারেন।

ইয়ামালকে সমর্থন দিয়ে একসঙ্গে লড়াইয়ের ঘোষণা ভিনিসিয়ুসের

বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সবসময়ই সোচ্চার অবস্থান নিয়ে আসছেন রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বিতর্ক থাকলেও অবশ্য তিনি নিজেই বেশিরভাগ ঘটনায় বর্ণবাদের শিকার। এক্ষেত্রে রিয়াল, স্পেন ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা এবং ব্রাজিলের সমর্থন পেয়ে আসছেন ভিনি। এবার তিনি নিজে সমর্থন দিলেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামালকে। তার সঙ্গে মিলে যেকোনো বর্ণবাদী আচরণের বিরুদ্ধে ভিনি লড়াইয়ের প্রত্যাশাও জানিয়েছেন।

কিছুদিন আগে এস্পানিওলের মাঠে প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল স্পেন ও মিসর। যেখানে ম্যাচের মাঝে স্বাভাবিকভাবেই মিশরীয় ফুটবলারদের আচরণে ধর্মীয় ভাবভঙ্গি প্রকাশ পায়। ম্যাচটিতে কেউ গোল করতে পারছিল না, শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় সেই দ্বৈরথ। সে কারণেই কি না প্রতিপক্ষ ফুটবলারদের লক্ষ্যে মুসলিম-বিদ্বেষী স্লোগান তোলে স্প্যানিশ সমর্থকদের একটি অংশ! যা মানতে পারেননি লামিনেই ইয়ামাল। স্বদেশি সমর্থকদের তিনি তীব্র সমালোচনা করেছেন।

যা নিয়ে স্পেনের শীর্ষ ফুটবল সংস্থাও নিন্দা জানিয়েছে। পরবর্তীতে ইয়ামাল সোশাল মিডিয়ায় নিজের অবস্থান জানিয়ে লেখেন, ‘আমি একজন মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ। গতকাল স্টেডিয়ামে একটি স্লোগান শোনা যাচ্ছিল– “যে লাফাবে না, সে-ই মুসলিম।” আমি জানি এটি প্রতিপক্ষ দলকে লক্ষ্য করে বলা হয়েছিল এবং আমার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত কিছু ছিল না, কিন্তু একজন মুসলিম হিসেবে এটি তবুও অসম্মানজনক এবং অসহনীয়। জানি সব সমর্থক একরকম নয়, কিন্তু যারা এ ধরনের স্লোগান দেয় তাদের বলছি, মাঠের ভেতর ধর্মকে কৌতুক হিসেবে ব্যবহার করা আপনাদের অজ্ঞ ও বর্ণবাদী হিসেবেই তুলে ধরে। ফুটবল উপভোগ করা এবং দলকে উৎসাহিত করার মাধ্যম, কাউকে তার পরিচয় বা বিশ্বাসের জন্য অসম্মান করার জন্য নয়।’

এদিকে, আজ (মঙ্গলবার) চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ ও বায়ার্ন মিউনিখ। এই ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে বর্ণবাদ ও ইয়ামালের প্রসঙ্গে রিয়াল তারকা ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘এ বিষয়টা এত বেশি ঘটে যে এটি নিয়ে কথা বলাটা সবসময়ই কষ্টদায়ক। আশা করি আমরা এই লড়াই অব্যাহত রাখব। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে লামিনে এটি নিয়ে কথা বলেছে। যা অন্যদেরও সহায়তা করবে। আমাদের খ্যাতি ও টাকা আছে, ফলে এসব বিষয়ে আমরা ভারসাম্য করতে পারি। কিন্তু যারা দরিদ্র এবং সবখানেই কৃষ্ণাঙ্গ আছে, আমাদের চেয়ে নিশ্চিতভাবে তাদের সংগ্রামটা অনেক বেশি। তাই আমাদের এক হতে হবে, এমন ব্যক্তিদের (খেলোয়াড়) আওয়াজ শক্তিশালী…।’

চলমান চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও লিসবনে অনাকাঙ্ক্ষিত বর্ণবাদের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড। প্রতিপক্ষ বেনফিকার ফুটবলার জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ানি তাকে ‘বানর’ ডাকার অভিযোগ উঠলে উয়েফা তাকে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছিল। এমনকি ভিনিসিয়ুসকে স্বাগতিক গ্যালারি থেকে পর্তুগিজ ক্লাবটির সমর্থকরাও তুচ্ছজ্ঞান করেছেন। সেই প্লে-অফের দুই লেগে বেনফিকাকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠে রিয়াল।

বর্ণবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও শক্ত অবস্থান অব্যাহত রাখার মাধ্যমে ভালো ভবিষ্যতের প্রত্যাশা করে ভিনিসিয়ুস বলছেন, ‘আমি বলছি না যে স্পেন, জার্মানি কিংবা পর্তুগাল বর্ণবাদী দেশ। তবে এসব দেশে বর্ণবাদী মানুষ আছে এবং ব্রাজিলসহ অন্যান্য দেশেও। এজন্য (এর বিরুদ্ধে) আমাদের একসঙ্গে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আশা করি ভবিষ্যতে কোনো ফুটবলার, সাধারণ মানুষ বা কেউই এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন না।’

এবার ভিয়েনা চলচ্চিত্র উৎসবে খুলনার মাটি-মানুষের গল্প

নেদারল্যান্ডসের পর এবার অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ‘দেলুপি’। আগামী ২৩ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া ‘রেড লোটাস এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ভিয়েনা ২০২৬’-এ সিনেমাটি নির্বাচিত হয়েছে। উৎসবটি চলবে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত।

সিনেমাটির নির্মাতা মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, আগামী ২৫ এপ্রিল স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টায় ভিয়েনার ঐতিহ্যবাহী স্ট্যাটকিনো থিয়েটারে ‘দেলুপি’র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে, চলতি বছরেই নেদারল্যান্ডসের ৫৫তম ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যামে প্রদর্শিত হয়ে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে সিনেমাটি। ইউরোপের মাটিতে এটি সিনেমাটির দ্বিতীয় বড় কোনো উৎসবে অংশগ্রহণ।

সাফল্যের এই ধারাবাহিকতা নিয়ে নির্মাতা তাওকীর বলেছেন, নেদারল্যান্ডসে অভাবনীয় সাড়া পাওয়ার পর এখন সিনেমাটি অস্ট্রিয়ায় যাচ্ছে, যা আমাদের পুরো টিমের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। এটি বাংলা ও বাংলাদেশের সিনেমার জন্য বড় একটি অর্জন।

খুলনার আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট, মাটির গন্ধ আর মানুষের জীবন সংগ্রামের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘দেলুপি’। সিনেমার চিত্রনাট্যে দক্ষিণাঞ্চলের নদীভাঙন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং স্থানীয় রাজনীতিতে জাতীয় প্রভাবের মতো বিষয়গুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন চিরঞ্জিৎ বিশ্বাস, অদিতি রায়, রুদ্র রায়, জাকির হোসেনসহ আরও অনেকে।

ফুটপ্রিন্ট ফিল্ম প্রোডাকশনের এই চলচ্চিত্রটি ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর খুলনার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় এবং পরে ঢাকার দর্শকদের কাছেও বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এই সিনেমার মাধ্যমেই বড় পর্দায় পরিচালক হিসেবে অভিষেক হয় মোহাম্মদ তাওকীর ইসলামের। এর আগে তিনি ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য ‘শাটিকাপ’ ও ‘সিনপাট’ নির্মাণ করে আলোচনায় এসেছিলেন।

বিশ্বকাপ দলে থাকার লড়াইয়ে নেইমারের হঠাৎ অস্ত্রোপচার স্পোর্টস ডেস্ক

ব্রাজিলিয়ান তারকা তার শেষ আশা আঁকড়ে ধরে আছেন। নেইমার জুনিয়র তার সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করতে তার সাধ্যমতো সবকিছু করে চলেছেন। সান্তোস তারকা আবারো ছুরি-কাঁচির নিচে গেছেন।

মার্কা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হঠাৎ অস্ত্রোপচার করিয়েছেন নেইমার। কুয়েঙ্কার বিপক্ষে কোপা সুদামেরিকানার প্রথম ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে সান্তোস ম্যানেজার কুকা বলেছেন, ‘ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতি চলাকালে নেইমার হাঁটুর অস্ত্রোপচার করিয়েছে। সে অনুশীলন করেনি। অস্ত্রোপচারের পর সেরে ওঠার জন্য সে কয়েকদিন কাটিয়েছে।’

গত ব্রাজিলিয়ান লিগ মৌসুম শেষ হওয়ার পর নেইমার ডাক্তারদের পরামর্শ মেনে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। মার্কা বলেছে, ‘ঠিক কয়েক মাস পর এখন নেইমার অপারেশন থিয়েটারে ফিরেছেন। প্লাটিলেট সমৃদ্ধ প্লাসমা ব্যবহার করে নিজেকে ফিরে পাওয়ার জন্য এই কাজটি করেছেন তিনি। হাঁটুর সংযোগস্থলের ক্ষতিগ্রস্থ টিস্যুকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই অস্ত্রোপচার।’

তারা আরও যোগ করেছে, ‘আন্তর্জাতিক বিরতি চলাকালে নেইমার চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেন। ওই সময়ে তিনি ব্রাজিল স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশায় ছিলেন। বিশ্বকাপের কয়েক মাস আগে সম্পূর্ণ ফিট হওয়ার লক্ষ্যে এবং যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা বিশ্বকাপে যেন ২৬ জনের স্কোয়াডে থাকতে কার্লো আনচেলত্তিকে রাজি করাতে পারেন, সেজন্য তিনি এখন বিশেষ পুনরুদ্ধার কর্মসূচি শুরু করেছেন।’

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী গ্রেপ্তার

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারের পর তাকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

তবে কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানায়নি ডিবি।

জানা গেছে, শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। রংপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন নিহত হওয়ার ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট শিরীন শারমিন চৌধুরী, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন টিপু মুনশি।

রংপুর-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন শিরীন শারমিন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর স্পিকার নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। তাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হলে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রথম জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন। এরপর থেকে টানা চারবার তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এরপর রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেন এবং ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। ২ সেপ্টেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকারের পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেন।

মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ শুরু করেছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ শুরু করেছে। সেই লক্ষ্যে শহর ও গ্রামে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবাসহ রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬’ উদযাপিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য-‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’।

প্রধানমন্ত্রী বাণীতে বলেন, ‘দেশব্যাপী ধাপে ধাপে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী বা হেলথ কেয়ারার নিয়োগ করা হবে, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ হবেন নারী। এছাড়া প্রতিটি নাগরিকের জন্য ই-হেলথ কার্ড, দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগের দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ব্যবস্থা চালু করা, স্বাস্থ্য খাতে সেবার মান উন্নয়ন ও চিকিৎসা ব্যয় সহনীয় রাখতে প্রয়োজনীয় সংস্কার, স্বাস্থ্যবিমা চালু ও ধীরে ধীরে বিস্তার, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা জোরদার এবং সেবাগ্রহীতা ও সেবাদাতার জন্য ন্যায়সঙ্গত আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এসব লক্ষ্য অর্জনে স্বাস্থ্য খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্যকর এবং একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলার অঙ্গীকারকে সামনে রেখে ৭ এপ্রিল বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬’ উদযাপিত হচ্ছে।’

তিনি বলেন, মানুষ, পশুপাখি ও পরিবেশ-এই তিনটি উপাদান পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। এদের নিরাপত্তা এবং সুস্থতা পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। এজন্য সব প্রাণের সুরক্ষা আজ সময়ের দাবি। এটাই ‘ওয়ান হেলথ’ বা ‘এক স্বাস্থ্য’ ধারণা যা মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার চারপাশের প্রাণিকুল ও পরিবেশের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় সমান তাগিদ দেয়। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান ও পরিবেশবিজ্ঞানকে সমন্বিত করে গবেষণা ও টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন।

তারেক রহমান বলেন, বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানের দ্রুত অগ্রগতি স্বাস্থ্যসেবায় অভূতপূর্ব সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে আমাদের দেশে প্রান্তিক অঞ্চল ও দরিদ্র বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই, মানসম্পন্ন ও বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয় এবং কার্যকর চিকিৎসা দিতে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর), অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), কিংবা মেশিন লার্নিং (এমএল)-এর মতো প্রযুক্তির উদ্ভাবন, ব্যবহার ও প্রসারকে উৎসাহিত করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার বিশ্বাস করে ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দেন কিউর’ অর্থাৎ ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’। নির্বাচিত এই সরকার ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’-নীতির ভিত্তিতে উন্নত কল্যাণকামী রাষ্ট্রে বিদ্যমান ব্যবস্থার আলোকে সবার জন্য সহজ ও সুলভ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। কারণ, স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সম্মিলিতভাবে পালন করলে আমরা একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠনে সক্ষম হব।’

হামে দিশেহারা অভিভাবক, নেই স্পষ্ট নির্দেশনা : ডা. তাসনিম জারা

দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের মধ্যে শিশুদের নিয়ে চরম উদ্বেগে আছেন অভিভাবকরা। তবে এই পরিস্থিতিতে সরকার থেকে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা না পাওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা।

সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক প্যানেল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

সাতটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার জোট ‘কোয়ালিশন ফর অ্যাডভান্সিং ইক্যুালিটি অ্যান্ড জাস্টিস ‌সমতা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায়’ নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি, বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে।

তাসনিম জারা বলেন, হামের উপসর্গ দেখা দিলে অভিভাবকরা বুঝতে পারছেন না কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন, জ্বর এলেই, নাকি র‍্যাশ উঠার পর। কোথায় যাবেন; উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, নাকি জেলা হাসপাতালে সেটিও পরিষ্কার নয়। এমনকি আক্রান্ত শিশুকে বাসায় আইসোলেশনে রাখবেন নাকি হাসপাতালে নিয়ে যাবেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

তিনি বলেন, আক্রান্ত শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ দিতে হাসপাতালে নিলে সেখান থেকে অন্য শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে। কিন্তু এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। ফলে অভিভাবকরা এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরছেন, যা সংক্রমণ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এবারের হামের প্রাদুর্ভাব আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, আমাদের জনস্বাস্থ্য কাঠামো কতটা ভঙ্গুর।

তথ্যের ঘাটতিকে সবচেয়ে বড় সমস্যা উল্লেখ করে তাসনিম জারা বলেন, একটি প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সঠিক ও সময়োপযোগী তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দেশে এখনো হামে আক্রান্ত, হাসপাতালে ভর্তি, সুস্থ হওয়া বা মৃত্যুর নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যাচ্ছে না। জনগণ শঙ্কিত হবে নাকি আশ্বস্ত হবে তা নির্ভর করে তথ্যের ওপর। অথচ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনেও সাংবাদিকদের প্রশ্নের পরও আক্রান্ত ও মৃত্যুর সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব সাগুফতা বুশরা মিশমা।

অধ্যাদেশ বাতিলের চাপ আমলাতন্ত্র ও রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেই আসছে: টিআইবি

অধ্যাদেশ আইন হিসেবে কার্যকর না হওয়ার পেছনে মূলত দুটি কারণ কাজ করছে, একটি আমলাতন্ত্র ও আরেকটি রাজনৈতিক প্রভাব- এমনটা বলছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

তিনি বলেন, বর্তমানে অধ্যাদেশ নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা মূলত অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধের ফল, যার উৎস রাজনৈতিক অঙ্গন। একই সঙ্গে এ প্রক্রিয়ায় আমলাতন্ত্রের ওপরও নির্ভরতা রয়েছে। অধ্যাদেশ বাতিলের পক্ষে যেসব যুক্তি তুলে ধরা হচ্ছে, তার অনেকটাই আমলাতন্ত্র থেকেই এসেছে। এতে প্রমাণ হয়, এখনো দেশের নীতিনির্ধারণে আমলাতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) টিআইবি কার্যালয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে প্রণীত কতিপয় অধ্যাদেশ বাতিল ও পরিবর্তন বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, বর্তমান সময়টা দুদকের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। দুদক কখনোই পুরোপুরি কার্যকর ছিল না, তবে বর্তমানে নেতৃত্বের অভাবে প্রতিষ্ঠানটি আরও অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কমিশন না থাকায় নতুন কোনো সিদ্ধান্তও নেওয়া যাচ্ছে না, যা উদ্বেগজনক। তিনি দ্রুত দুদকের নতুন অধ্যাদেশ সংশোধন ও নতুন কমিশন গঠনের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ও জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ বাতিলের দাবি জানিয়েছে টিআইবি।সংগঠনটি জানায়, পুলিশকে একটি জনবান্ধব এবং একটি পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে যে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুলিশ কমিশন গঠন প্রয়োজন তার কোন প্রতিফলনই অধ্যাদেশটিতে হয়নি। যা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে প্রস্তাবিত বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত সুপারিশ ও সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

টিআইবি আরও বলছে, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুলিশ কমিশনের প্রত্যাশা পদদলিত করে এমনকি ‘স্বাধীন’ বা ‘নিরপেক্ষ’ শব্দগুলো ব্যবহার না করে শুধুমাত্র একটি ‘সংবিধিবদ্ধ সংস্থা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে এর গঠন, কার্যপরিধি ও প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিধানসমূহ এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে প্রস্তাবিত বিএনপি ও সব রাজনৈতিক দলের সম্মতিসহ জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত সুপারিশ ও সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অন্যদিকে এ অধ্যাদেশের বলে যদি পুলিশ কমিশন গঠিত হয় তবে তা হবে সম্পূর্ণভাবে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশি ও প্রশাসনিক আমলাতন্ত্রের কর্তৃত্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠান, যা এ ধরনের কমিশনের মৌলিক উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হবে।

পুলিশ কমিশন গঠনে পুলিশ কমিশনের সদস্য হিসেবে একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা (গ্রেড-১) ও একজন সাবেক পুলিশ সদস্যকে (গ্রেড-১) অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি এবং সাবেক পুলিশ সদস্যকে কমিশনের সদস্য সচিবের কর্তৃত্ব প্রদান করা করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ তথা বৈশ্বিক অভিজ্ঞতায় সম্পূর্ণ অভূতপূর্ব। এভাবে সাবেক পুলিশ সদস্যকে সদস্য-সচিবের কর্তৃত্ব প্রদান করে প্রস্তাবিত কমিশনের চেয়ারপার্সন এবং অন্য কমিশনারদের পদমর্যাদা ও কর্ম-সক্ষমতাকে খর্ব করা হয়েছে। একই সঙ্গে কমিশনের চেয়ারম্যানের পদমর্যাদা তার অবসর গ্রহণের পূর্বের পদমর্যাদার সমরূপ করা এবং সদস্যদের পদমর্যাদা নির্ধারণের ক্ষমতা সরকারকে প্রদান করা হয়েছে। যার ফলে কমিশনের স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, কমিশনের নিরপেক্ষতাকে পদদলিত করা ও কমিশনে সরকার এবং নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালনের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

এছাড়া পুলিশ কমিশনের চেয়ারপার্সন ও সদস্য নিয়োগের বাছাই কমিটির গঠন ও কর্মপদ্ধতি পরিপূর্ণভাবে আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণে, যার ফলে কমিশন গঠন ও কাজে ক্ষমতাসীন সরকারের পরিপূর্ণ কর্তৃত্ব ও স্বার্থের দ্বন্দ্বের ক্ষেত্র সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারকে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি বা সরকারি কর্মচারীকে কমিশনে প্রেষণে নিয়োগ করার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। প্রথম তিন বছর এই সংখ্যার কোনো সীমা নির্ধারণ করা হয়নি এবং পরবর্তী সময়ে ৩০ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলা হলেও সরকারি নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখার জন্য এ হারও যথেষ্টের চেয়ে বেশি। আরও বলা হয়, জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশটিতে এমন একটি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠনের কথা বলা হয়েছে যে একই সঙ্গে তথ্য আন্তঃপরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে। অর্থাৎ কর্তৃপক্ষ একইসঙ্গে নিয়ন্ত্রক ও সেবা দাতা, যা স্বার্থের সংঘাত তৈরি করবে।

ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ আলোকে সব প্রকার উপাত্তের (ডেটা) ব্যবস্থাপনা, আন্তঃপরিচালন এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আলাদা এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে অর্পণ করা হয়েছে জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হাতে। আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা অনুযায়ী সাধারণত এই ধরনের কর্তৃপক্ষ উপাত্ত সুরক্ষা আইনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গঠিত হয়। জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তার দায়িত্ব পালন ও কার্যসম্পাদনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবে বলা হলেও এই কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা বাছাই করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি। যার ফলে বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই প্রক্রিয়ায় সরকারের পছন্দ এবং অনুগত লোকজনই এই সুযোগ লাভ করবেন বলে তাদের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। কর্তৃপক্ষ একইসঙ্গে অধ্যাদেশটির অধীনে নিজেকে একটি আন্তঃপরিচালন গেটওয়ে ও পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। অর্থাৎ কর্তৃপক্ষ নিজেইে একটি ডেটা পরিচালন অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে, যা সুস্পষ্ট স্বার্থের দ্বন্দ্বযুক্ত পরিবেশ তৈরি করবে।

ভারতের সঙ্গে নতুন অধ্যায় শুরু করতে চায় সরকার : প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলের সম্পর্কের ধারা বদলে ভারতের সঙ্গে সম্পূর্ণ নতুন এক অধ্যায় শুরু করতে চায় বর্তমান সরকার।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

উপদেষ্টা জানান, বৈঠকে দুই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় থাকলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। পাইপলাইনে জ্বালানি আমদানির প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিতে আমরা আশাবাদী।’

সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘শেখ হাসিনার আমলে যে ধরনের সম্পর্ক ছিল, তা আর হবে না। সেই অধ্যায় এখন শেষ।’

আসন্ন ‘ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স’-এ যোগ দিতে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভারত সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। এই সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

হুমায়ুন কবির জানান, সফরে দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয়, বিশেষ করে সীমান্ত হত্যা বন্ধসহ অন্যান্য অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।