দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের মধ্যে শিশুদের নিয়ে চরম উদ্বেগে আছেন অভিভাবকরা। তবে এই পরিস্থিতিতে সরকার থেকে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা না পাওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা।
সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক প্যানেল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
সাতটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার জোট ‘কোয়ালিশন ফর অ্যাডভান্সিং ইক্যুালিটি অ্যান্ড জাস্টিস সমতা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায়’ নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি, বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে।
তাসনিম জারা বলেন, হামের উপসর্গ দেখা দিলে অভিভাবকরা বুঝতে পারছেন না কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন, জ্বর এলেই, নাকি র্যাশ উঠার পর। কোথায় যাবেন; উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, নাকি জেলা হাসপাতালে সেটিও পরিষ্কার নয়। এমনকি আক্রান্ত শিশুকে বাসায় আইসোলেশনে রাখবেন নাকি হাসপাতালে নিয়ে যাবেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
তিনি বলেন, আক্রান্ত শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ দিতে হাসপাতালে নিলে সেখান থেকে অন্য শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে। কিন্তু এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। ফলে অভিভাবকরা এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরছেন, যা সংক্রমণ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এবারের হামের প্রাদুর্ভাব আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, আমাদের জনস্বাস্থ্য কাঠামো কতটা ভঙ্গুর।
তথ্যের ঘাটতিকে সবচেয়ে বড় সমস্যা উল্লেখ করে তাসনিম জারা বলেন, একটি প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সঠিক ও সময়োপযোগী তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দেশে এখনো হামে আক্রান্ত, হাসপাতালে ভর্তি, সুস্থ হওয়া বা মৃত্যুর নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যাচ্ছে না। জনগণ শঙ্কিত হবে নাকি আশ্বস্ত হবে তা নির্ভর করে তথ্যের ওপর। অথচ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনেও সাংবাদিকদের প্রশ্নের পরও আক্রান্ত ও মৃত্যুর সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব সাগুফতা বুশরা মিশমা।




