শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

ষড়যন্ত্রকারীরা নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে, প্রশিক্ষিত শ্যুটার নিয়ে মাঠে নেমেছে: প্রধান উপদেষ্টা

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকে জুলাই অভ্যুত্থান নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছে দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলো। আর প্রধান উপদেষ্টা বলছেন, ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে। তারা প্রশিক্ষিত শ্যুটার নিয়ে মাঠে নেমেছে। এ পরিস্থিতিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা

আজ (শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। বৈঠকে শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলা এবং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন প্রধান উপদেষ্টা।

পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

আজকের বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এবং আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল অংশ নেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ওসমান হাদির ওপর হামলা পূর্ব-পরিকল্পিত ও গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ; এর পেছনে বিরাট শক্তি কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনটি না হতে দেয়া। এ আক্রমণটি খুবই সিম্বলিক। তারা তাদের শক্তি প্রদর্শন করতে চায়, নির্বাচনের সব আয়োজন ভেস্তে দিতে চায়। এগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে।’

ড. ইউনূস বলেন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে মনে হচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে। তারা প্রশিক্ষিত শ্যুটার নিয়ে মাঠে নেমেছে।’

এসময় বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এ পরিস্থিতিতে আমাদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই পরস্পরের দোষারোপ থেকে বিরত থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়াজ তুলতে হবে। কোনো ধরনের অপশক্তিকে আমরা বরদাস্ত করবো না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মধ্যে যতই রাজনৈতিক বক্তব্যের বিরোধিতা থাকুক না কেন, জাতির স্বার্থে এবং জুলাইয়ের স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতেই হবে।’

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার পরামর্শ দেন তিনি।

জামায়াত নেতা গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের নানা বক্তব্য একে অন্যকে দোষারোপ করার প্রবণতা বাড়িয়েছে, যার ফলে আমাদের বিরোধীরা সুযোগ পেয়েছে। আমাদের পূর্বের ন্যায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থে আমরা একে অন্যকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলেছি। জাতিকে বিভক্ত করে এমন কথা আমরা কেন বলব? সব দলকে তাদের কমিটমেন্ট ঠিক করতে হবে।’

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই কিছু লোক এই অভ্যুত্থানকে খাটো করার জন্য নানা অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘সুসংগঠিতভাবে জুলাইয়ের বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন চলছে। মিডিয়া ও প্রশাসনের নানা স্তরে এই কাজ হচ্ছে। নির্বাচনের পর যারা ক্ষমতায় আসবে, তারাও এর ভুক্তভোগী হবে। কেউই একা সরকার চালাতে পারবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে যাতে মনে হয় যারা অভ্যুত্থান করেছে তারা অপরাধ করেছে। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে নরমালাইজ করতে নানা চেষ্টা চলছে। টিভি টকশোতে তারা নিয়মিত অংশ নিচ্ছে, প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় বৈঠক করছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মিলিত হচ্ছে এবং আদালত প্রাঙ্গণে স্লোগান দিচ্ছে।’

আমাদের বিশেষ কোনো নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই। আমরা এটা নেবো না। জুলাইকে সবাই মিলে ওউন করতে হবে। জুলাইকে কে কী বলবে—এই টানাপড়েনে আমরা জুলাইকে শেষ করে দিচ্ছি। ষড়্‌যন্ত্রকারীরা আমাদের অনৈক্যকে আমাদের পরাজয় হিসেবে দেখছে। তারা ভারতে বসে যা ইচ্ছা তা-ই করছে, আর আমরা কিছুই করতে পারছি না বলে জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘বুদ্ধিজীবী বেশে, সাংস্কৃতিক কর্মী বেশে আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নকারীদের থামাতে হবে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা নিজেরা ঐক্যবদ্ধ থাকতে না পারলে কোনো নিরাপত্তাই আমাদের কাজে আসবে না। রাজনৈতিক স্বার্থে দলগুলো আওয়ামী লীগকে নানা রকম সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের চিন্তা করতে হবে—ভবিষ্যতের জন্য আমরা কী করতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘শুধু সরকার নয়, সবাইকে শক্ত থাকতে হবে। নিজেদের মধ্যে যেন দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। রাজনৈতিক বক্তব্য থাকবে, কিন্তু কাউকে শত্রু ভাবা বা আক্রমণ করার সংস্কৃতি থেকে সরে আসতে হবে।’

নির্বাচনের সময় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, তবে মাথায় রাখতে হবে—এটি যেন একটি নির্দিষ্ট মাত্রার মধ্যে নিয়ন্ত্রণে থাকে বলে জানান তিনি।

আসিফ নজরুল বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হানাহানি শুরু হওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হয়েছে।’

রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের শুধু দলীয় স্বার্থ নয়, জাতীয় স্বার্থের বিষয়েও সজাগ থাকতে হবে।’

হাদির ওপর হামলা মানে বাংলাদেশের ওপর হামলা: সালাহউদ্দিন আহমেদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলা মানেই বাংলাদেশের ওপর হামলা। এসময় তিনি হাদির সুস্থতা কামনা করেন। একইসঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানান। আজ (শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ওসমান হাদির ওপর এ হামলা প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের ওপরই হামলা। এটা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা বলে আমরা মনে করি না। নির্বাচন তফসিল ঘোষিত হয়েছে ১০ তারিখ। তার পরদিনই বাংলাদেশের একজন সম্ভাব্য জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে পদপ্রার্থীর ওপরে প্রাণনাশের হামলা হলো। হামলার ধরন দেখে বোঝা যায়, এটা একটা পেশাদার, প্রফেশনাল খুনীর কাজ।’

তিনি বলেন, ‘এখন ওসমান হাদি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছে, মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাকে (হাদিকে) জীবিত রাখেন, বাঁচিয়ে রাখেন, সুস্থতা দেন।’

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার বিষয় নিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘এ প্রেক্ষিতে আমাদের আলোচনা হলো। আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য অটুট রাখবো, সুদৃঢ় করবো। আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক হতে পারে। সামনে নির্বাচন, বিভিন্ন রকমের রাজনৈতিক বিতর্ক হবে, কিন্তু আমরা ওই পর্যায়ে বিতর্ক করবো না- যাতে করে আমাদের ঐক্য বিনষ্ট হয়। আমাদের চেতনা হচ্ছে জুলাই, ২০২৪-এর ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, প্রত্যাশা, জনআকাঙ্খা। এটাকে আমরা ঊর্ধ্বে তুলে ধরবো। ঐক্য হিসেবে আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যকে অটুট রাখবো। এ জায়গা আমাদের কোনো আপস নাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, নির্বাচনের এসময়ে যারা বাংলাদেশে নির্বাচন চায় না। নির্বাচনকে যারা একটি গণতন্ত্রের উত্তরণের পথ হিসেবে দেখতে চায় না, শক্তিশালী রাষ্ট্র বিনির্মাণের বিপক্ষে যারা, প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধের শক্তি, এ কাজ তাদেরই। তারা বাংলাদেশেও আছে এবং বাংলাদেশের বাইরেও আছে। পতিত ফ্যাসিবাদকে অবশ্যই আমরা এ বার্তা দিতে চাই, এ জাতীয় কোনো ধরনের হামলা করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না, প্রতিহত করতে পারবে না।’

জাতীয় ঐক্যে অটুট থাকার কথা জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যে অটুট থাকবো। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে যেকোনো মূল্যে আমরা অর্থবহ করবো, বিশ্বাসযোগ্য করবো।’

হাদির ওপর হামলা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, আ.লীগের ষড়যন্ত্রের ছক: নাহিদ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্রের ছক বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি জানান, আওয়ামী লীগ যাতে কোনো সুযোগ-সুবিধা না পায় সে ব্যাপারে ফ্যাসিবাদবিরোধী দলগুলো সবাই একমত।

আজ (শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মূলত আজকে আলোচনার জন্য প্রধান উপদেষ্টা তিনটি দলের নেতাদের ডেকেছিলেন। আমরা একত্রে আলোচনা করেছি, সেখানে ওসমান হাদির পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন, তার মা ছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘গতকালের ঘটনা কেবল একজন প্রার্থীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা নয়, আমি গতকালও বলেছি, এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনাও নয়। এটা আওয়ামী লীগ যে ষড়যন্ত্রে ছক আঁকছে নির্বাচনকে ঘিরে, সেটার একটা শুরু বলা যেতে পারে। ফলে এ ধরনের পরিবেশকে আমরা কীভাবে একত্রে মোকাবেলা করবো এবং সেটার জন্য যে ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন, সেটা যেন অটুট থাকে।’

এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘আমরা জানি নির্বাচনে, রাজনীতিতে আমরা প্রতিযোগিতা করবো, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো, একে অন্যের বিরুদ্ধেও হয়তো কথা বলবো। কিন্তু সেটা যাতে কখনোই সীমা অতিক্রম না করে এবং আওয়ামী লীগকে কোনো সুযোগ-সুবিধা করে না দেয়, এ ব্যাপারে আমরা সবাই ঐকমত্য প্রকাশ করেছি।’

বিএনপির সহনশীলতার বিপরীতে মবোক্রেসির রাজনীতি দেখা যাচ্ছে: খসরু

বিএনপির সহনশীলতার রাজনীতির বিপরীতে মবোক্রেসির রাজনীতি দেখা যাচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ (শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটে বিএনপির ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আমির খসরু বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজে ওসমান হাদিকে দেখতে গেলে যে আচরণ করা হয়েছে, এমন আচরণ আগামীর নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নের বিপরীত। জনগণ এ রাজনীতি দেখতে চায় না। জাতির মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে।’

সভায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সময়ে সন্ত্রাসীদের উত্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘হাদির বিষয়ে একটি রাজনৈতিক দল বিএনপিকে লক্ষ্য করে বার্তা দিচ্ছে, যা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। কোনো মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।’

এসময় ওসমান হাদিকে সময়ের সবচেয়ে স্পষ্টভাষী হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

হাদির ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার ‘আল্টিমেটাম’

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীরা গ্রেপ্তার না হলে ১৫ ডিসেম্বর (সোমবার) সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। আজ (শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম। এর মধ্যে হাদির ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে ১৫ তারিখ এ সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে দেশের আপামর মানুষ।’

তিনি বলেন, ‘হাদিদের শেষ নাই। যারা জুলাইকে বিপ্লব মানতে চান না, তারা দিল্লির গোলামী করতে চায়, দুর্নীতি করতে চায়। এ সুশীলরাই বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে। সুশীলদের চরিত্র বদলের আশা করবেন না। এদের দিয়ে বাংলাদেশে আবার দিল্লি আর ফ্যাসিজমের অনুপ্রবেশ ঘটছে।’

মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের কোনো আইকন রাখা যাবে না। এক হাদিকে গুলি করে আমাদের যুদ্ধ থামানো যাবে না। যারা ক্ষমতায় যেতে যারা জুলাইকে অস্বীকার করবে, ভারতের সঙ্গে আঁতাত করবে তাদের আপনারা বর্জন করবেন।’

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জুলাইযোদ্ধাদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। এসময় হাদির কালচারাল সেন্টারের দায়িত্ব নেয়ার ঘোষণা দেন এই সম্পাদক।

আশার গল্প শোনানোর মতো পরিস্থিতি নেই, হাদির অবস্থা প্রসঙ্গে বিশেষ সহকারী

মাথায় গুলিবিদ্ধ শরিফ ওসমান হাদির অবস্থা নিয়ে আশার গল্প শোনানোর মতো পরিস্থিতি নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান। তিনি জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাদির শারীরিক অবস্থা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।

ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, বাম কানের ওপর দিয়ে ঢুকে ডান দিক দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বুলেট হাদির মস্তিষ্কের কাণ্ড বা ব্রেন স্টেম পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘ম্যাসিভ ব্রেন ইনজুরি’ হিসেবে বিবেচিত।
আগামী ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, আর এ অবস্থায় কোনো ধরনের নতুন ইন্টারভেনশন করা হবে না।

তিনি বলেন, হাদি এখন ‘খুবই ক্রিটিক্যাল’ অবস্থায় আছেন এবং আগামী ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। তাকে আপাতত কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসে রাখা হয়েছে, যদিও চিকিৎসকেরা এখনো আশার কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না।

ডা. সায়েদুর জানান, গুলি বাম কানের ঠিক ওপর দিয়ে মাথায় প্রবেশ করে ডান দিক দিয়ে বেরিয়ে গেছে।
এই গতিপথে মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ব্রেন স্টেম-এও ইনজুরি হয়েছে, যা জীবনরক্ষাকারী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। এটা আমরা ম্যাসিভ ব্রেন ইনজুরি হিসেবে বিবেচনা করছি। এখন কোনো ধরনের ইন্টারভেনশন সম্ভব না। রোগীকে কেবল লাইফ সাপোর্টে ধরে রাখার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরো জানান, রোগীকে এখন কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। তবু একটুখানি আশার জায়গা আছে, রোগীর শরীরে এখনো সাইন অব লাইফ আছে। অপারেশনের সময় তার নিজের শ্বাস নেওয়ার কিছু প্রচেষ্টা দেখা গিয়েছিল।

তবে, পথটা সহজ নয় বলেও জানান ডা. সায়েদুর। তিনি বলেন, হাদি অস্ত্রোপচারের আগেই একবার শকে চলে গিয়েছিলেন।
পরে অ্যাম্বুলেন্সে স্থানান্তরের সময় তার নাক ও গলা দিয়ে প্রবল রক্তক্ষরণ শুরু হয়। যদিও আপাতত সেটি নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে।

বিশেষ সহকারী আরো জানান, এখনই কোনো আশার গল্প শোনানোর মতো পরিস্থিতি নেই। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গতকাল রাত ৮টার পর হাদিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সন্ধ্যায় ব্রিফ করেন ঢাকা মেডিক্যালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান জাহিদ রায়হান। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘হাদির দুবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছে। সেই সঙ্গে ঘটনার পর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। এই রোগীর বিষয়ে আমরা আশার কোনো কথাই বলব না। উনি সর্বোচ্চ খারাপ অবস্থায় আছেন, কিন্তু বেঁচে আছেন এখনো। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন,‌ ঘটনার তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে যাচাই করে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

কোহলিকে ছাড়িয়ে গুগল সার্চে শীর্ষে সূর্যবংশী, কী বললেন ১৪ বছরের বিস্ময়বালক

ভারতের উদীয়মান ব্যাটিং প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশী এখন শুধু মাঠেই নয়, জনপ্রিয়তার শীর্ষেও। ২০২৫ সালে গুগলে সবচেয়ে বেশি সার্চ হওয়া ভারতীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে উঠে এসেছেন ১৪ বছর বয়সী এই কিশোর ক্রিকেটার। তালিকায় তিনি ছাড়িয়ে গেছেন বিরাট কোহলির মতো তারকাকেও।

শুক্রবার দুবাইয়ের আইসিসি একাডেমি গ্রাউন্ডে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ভারতের গ্রুপ ‘এ’ ম্যাচে ব্যাট হাতে রীতিমতো ইতিহাস গড়েন সূর্যবংশী।
মাত্র ৯৫ বলে ১৭১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি, যা অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে কোনো ভারতীয় ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর।

ম্যাচ শেষে সম্প্রচারকারী সংস্থার পক্ষ থেকে তাকে তার জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। গুগলের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে তিনি ভারতের সবচেয়ে বেশি সার্চ হওয়া ব্যক্তি এবং বিশ্বব্যাপী সার্চের তালিকায় তার অবস্থান ষষ্ঠ।

এই প্রসঙ্গে বৈভব সূর্যবংশী জানান, খ্যাতি বা আলোচনার চেয়ে তার কাছে খেলাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘আমি এসব বিষয়ে খুব বেশি মন দিই না। আমার ফোকাস থাকে নিজের খেলায়। হ্যাঁ, এসব শুনতে ভালো লাগে, আনন্দও পাই। কিন্তু এরপর সামনে এগিয়ে যাওয়াই আমার কাজ।

গতকাল বৈভবের ইনিংসটি ছিল ৯টি চার ও ১৪টি ছক্কায় সাজানো, যা অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। তার এই ১৭১ রান যুব ওয়ানডেতে কোনো ভারতীয় ব্যাটারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। এর আগে ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ১৭৭ রান করেছিলেন আম্বাতি রাইডু।

সন্ত্রাসীদের পেছনের শক্তি কারা স্পষ্ট করতে হবে

সন্ত্রাসীদের পেছনের শক্তি কারা স্পষ্ট করতে হবে

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তফসিল ঘোষণার ঠিক পরের দিন একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদিকে টার্গেট করে গুলি করার ঘটনা গভীর উদ্বেগের। এ-জাতীয় ঘটনাকে কোনোভাবেই ছোট করে দেখা যায় না, যাবে না। অনতিবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে হবে এবং এ ঘটনার পেছনের শক্তি কে বা কারা, সেটি জাতির সামনে স্পষ্ট করতে হবে। গতকাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত শরিফ ওসমান হাদিকে দেখে বের হয়ে গণমাধ্যমকে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি দেশবাসীর কাছে হাদির সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামান, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হাফেজ হাজি মুহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ প্রমুখ। এর আগে গতকাল বিকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। কোনো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা মতভিন্নতার কারণে এ ধরনের সহিংসতা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।
আমি এই ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করছি এবং দোয়া করি, আল্লাহতাআলা তাঁকে পূর্ণ সুস্থতা দান করুন।’

দুর্নীতির কারণে সংকুচিত হচ্ছে শ্রমবাজার

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। এরপর জনশক্তি ব্যবসায়ীরা আশা করেছিলেন, নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি কাজে লাগিয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব হবে। কিন্তু নতুন সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টা প্রবাসী কল্যাণ নিয়ে নানান সময়ে বক্তব্য দিলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো উদ্যোগ এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি।

গত এক বছরে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের জনবল রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে।
এর পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের শ্রমবাজার ক্রমেই সংকুচিত হয়ে চলেছে।

বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ১০ লাখ ১১ হাজার ৮৬৯ জন কর্মী বিদেশে গিয়েছেন। এর মধ্যে ৯৫ শতাংশ কর্মী গিয়েছেন মাত্র পাঁচটি দেশে- সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কাতার, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে এই সংখ্যা ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম।
সে বছর ১৩ লাখ ৭ হাজার ৮৯০ জন কর্মী বিদেশ পাঠানো হয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ৯৭ হাজার ৮৭৩ জন কর্মী বিদেশে যান। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে এই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ৪৪২ জনে। অর্থাৎ, চলতি বছর জানুয়ারির তুলনায় কেবল ফেব্রুয়ারিতেই জনবল রপ্তানি কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ।

তিনটি বড় শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। এগুলো হলো- মালয়েশিয়া, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ ছাড়া সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশগুলোতে নিয়োগ কমে যাওয়ায় এবং মালয়েশিয়া, ওমানের পাশাপাশি বাহরাইনের শ্রমবাজারও বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর মাঝে অবশ্য সরকার নতুন শ্রমবাজার খোলার চেষ্টা করছে, তবে তাদের সাফল্যকে এখনো পর্যাপ্ত বলা যায় না। বিদ্যমান বাজারগুলো চালু করতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৩ সালে ওমানে সোয়া লাখের বেশি কর্মী যান, কিন্তু ২০২৪ সালে দেশটির শ্রমবাজার বন্ধ থাকায় মাত্র ৩৫৮ জন কর্মী যেতে পেরেছেন। ২০২৩ সালে প্রায় এক লাখ কর্মী আমিরাতে গিয়েছিলেন, তবে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজারে। ২০১৭ সাল থেকে বাহরাইনে কর্মী নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। গত বছরও দেশটি বাংলাদেশ থেকে একজন কর্মীও নেয়নি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী পাঠানোর হার কম। দক্ষ কর্মীদের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান প্রতিশ্রুতিশীল শ্রমবাজার হলেও ভাষা ও পেশাগত দক্ষতার অভাবে অনেকেই সেখানে ঢোকার সুযোগ পাচ্ছেন না। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার ঘোষণা দেয় দক্ষিণ কোরিয়া। অথচ সে বছর মাত্র ৪ হাজার ৪৯৬ জন কর্মী পাঠানো সম্ভব হয়। ২০২৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে গিয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৯১৮ জন। রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ‘সরকার দাবি করে বাংলাদেশ থেকে ১৬৮টি দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে ৯৫ শতাংশ কর্মীই যাচ্ছে মাত্র ছয়টি দেশে। বাকি দেশে আসলে নামেমাত্র কর্মী পাঠানো হচ্ছে, কোথাও তা মাত্র ২ থেকে ৩-৪ শতাংশ।’

তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়েছে বাংলাদেশি ও মালয়েশিয়ার রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেটের কারণে। অনেক কর্মী মালয়েশিয়ায় গিয়ে কাজ পাননি, ফলে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে দেশটি। সরকারকে দ্রুত মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।’ সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবকাঠামো খাত বন্ধ থাকায় কর্মী নিয়োগ কমে গেছে। এ ছাড়া সৌদি আরবে গত বছর ৬ লাখ কর্মী যাওয়ায় (এ বছর) চাহিদা কমে গেছে বলে জানান এই গবেষক।

গুটিকয়েক দেশনির্ভর শ্রমবাজার দেশে অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। এর মধ্যে কোনো একটি দেশ অভিবাসন নীতি পরিবর্তন করলে বা বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজার বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে রেমিট্যান্সে।

বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে ১০ লাখ ১১ হাজার ৮৬৯ জন কর্মী কাজের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গেছেন। তাঁদের মধ্যে ৯ লাখ ৬৬২ জনই গেছেন সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কাতার, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই)। যা গত বছর মোট জনশক্তি রপ্তানির ৮৯ শতাংশ। অর্থাৎ জনশক্তি রপ্তানি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে এই পাঁচ দেশের ওপর। প্রধান শ্রমবাজারগুলোতেও কর্মী রপ্তানি কমতে শুরু করেছে। নির্মাণ খাতের প্রবৃদ্ধি ধীর হওয়ায় এরই মধ্যে ইউএই-তে কর্মী নিয়োগ কমে গেছে। প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরবেও শ্রমিকের চাহিদা কমেছে। গত কয়েক বছরে সৌদি আরবে কর্মীদের বড় একটি অংশ গেছেন ফ্রি ভিসায়। তাঁদের কাজের কোনো চুক্তি নেই, কাজ পাওয়ার নিশ্চয়তাও নেই। কাজ জোগাড় করে নিতে হয়। বেশি কর্মী যাওয়ায় দেশটিতে কাজের সুযোগ কমেছে। ফ্রি ভিসায় যাওয়া কর্মীদের অনেকে সপ্তাহে এক-দুই দিন কাজ করতে পারেন। আবার যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চুক্তিতে কাজ করছেন, তারাও প্রত্যাশা অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। বিগত বছরগুলোয় সৌদি আরব বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ দেওয়ায় বর্তমানে অন্যান্য দেশের কর্মীদের নিয়োগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তান ও ভারতের শ্রমিকদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। কারণ, দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশ থেকে মূলত অদক্ষ ও স্বল্পদক্ষ শ্রমিক পাঠানো হয়। কাতার ২০২২ সালে ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক নিয়েছিল, যার একটি বড় অংশ ছিল বাংলাদেশি। কিন্তু বিশ্বকাপ-পরবর্তী চাকরির সংকটে এই শ্রমবাজারও বর্তমানে সংকুচিত হচ্ছে। কাতারে ২০২২ সালে ২৪ হাজার ৪৪৭ জন, ২০২৩ সালে ৫৬ হাজার ১৪৮ এবং ২০২৪ সালে ৭৪ হাজার ৪২২ জন বাংলাদেশি কর্মী গেছেন। তবে চলতি বছর কর্মী যাওয়ার সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। সিঙ্গাপুর দক্ষ শ্রমিক নিতে চায়, যা বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ। অনেক শ্রমিক সিঙ্গাপুরে যেতে আগ্রহী হলেও সুযোগ সীমিত। এর পরও সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি কর্মী যাচ্ছেন। দেশটিতে ২০২২ সালে ৬৪ হাজার ৩৮৩ জন, ২০২৩ সালে ৫৩ হাজার ২৬৫ এবং ২০২৪ সালে ৫৬ হাজার ৮৭৮ জন বাংলাদেশি কর্মী গেছেন।

ইউএই-তে ২০২২ ও ২০২৩ সালে গেছেন যথাক্রমে ১ লাখ ১ হাজার ৭৭৫ ও ৯৮ হাজার ৪২২ জন বাংলাদেশি কর্মী। তবে ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৪৭ হাজার ১৬৬ জনে। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে গেছেন মাত্র ১ হাজার ১৫০ জন। নির্মাণ খাতে স্থবিরতা দেখা দেওয়ায় ইউএই-তে নিয়োগ কমেছে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে বিশ্ব শ্রমবাজারে এই ধসের প্রধান কারণ হলো দুর্নীতি। জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি এখন হুমকির মুখে। বেশির ভাগ রিক্রুটিং এজেন্সি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অভিবাসন ব্যয় বাড়িয়েছে। বাড়তি টাকা দিয়ে বিদেশে যাওয়ার পর কর্মীরা তাদের খরচের টাকা উঠাতে গিয়ে নানা অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক জনশক্তি রপ্তানিতে। জনশক্তি রপ্তানি প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষ কর্মীর চেয়ে অদক্ষ জনবলের দিকে মনোযোগ বেশি। কারণ তাদের সঙ্গে সহজেই প্রতারণা করা যায়। অদক্ষর জন্য তারা বেশি টাকা দিয়ে যে কোনো মূল্যে বিদেশে কাজ করতে যেতে আগ্রহী হয়। রিক্রুটং এজেন্টরা তাদের সহজেই মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিতে পারে। দেখা গেছে ভুয়া নিয়োগপত্র, সার্টিফিকেট নিয়ে যারা বিদেশে যাচ্ছে তাদের অধিকাংশই অদক্ষ। এভাবেই এক দুষ্ট চক্রের ফাঁদে পড়েছে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।

লেবাননে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। শুক্রবার ইসরায়েলি সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার (২০ মাইল) দূর পর্যন্ত অন্তত এক ডজন স্থানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানায়, কোথাও কোথাও ভারি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। হামলাগুলো লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে হয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

এই হামলার আগে লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আল জাজিরা আরবিকে জানান, বৈরুতকে জানানো হয়েছিল যে ইসরায়েল দেশজুড়ে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে।

উল্লেখ্য, গত বছর স্বাক্ষরিত একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল নিয়মিতভাবে তা লঙ্ঘন করে আসছে এবং হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে চাপ বাড়াচ্ছে।

সূত্র : মিডল ইস্ট আই।