শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

২০২৪-কে ১৯৭১-এর মুখোমুখি দাঁড় করানোর প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করি : মাহফুজ আলম

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, ২০২৪ এর জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের মানুষের উপনিবেশ বিরোধী লড়াই থেকে শুরু করে পাকিস্তান আন্দোলন হয়ে ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ৯০ এর গণঅভ্যুত্থান সবগুলোর ধারাবাহিকতা। বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘসময় ধরে নিজেদের মর্যাদা ও পরিচয় প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে এসেছে। ফলে ২০২৪-কে ১৯৭১-এর মুখোমুখি দাঁড় করানোর যে প্রচেষ্টা সেটি আমরা প্রত্যাখ্যান করি।

জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসস-এর সাথে একান্ত আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

মাহফুজ আলম বলেন, কেউ কেউ ১৯৭১-কে ১৯৪৭-এর ‘অ্যান্টিথিসিস হিসেবে দেখেন, কিন্তু আমরা এটিকে ঐতিহাসিকভাবে ভুল বলে মনে করি। বরং প্রতিটি পর্বেই বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের আত্মমর্যাদা, গণতন্ত্র, ভাষা ও সংস্কৃতিসহ নিজেদের পরিচয় রক্ষা এবং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে সামনে রেখেছে। ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি প্রজন্মই এই দীর্ঘ লড়াইয়ের অংশ হিসেবে নিজেদের ভূমিকা রেখেছে।

তিনি বলেন, তাই ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবকে আগের সংগ্রামগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। সব আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল এই ভূখণ্ডের মানুষের স্বাধীনতা, মুক্তি ও মর্যাদা নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ যতবারই অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক উপনিবেশিকতার শিকার হয়েছে, ততবারই বাংলাদেশের মানুষ তার বিরুদ্ধে লড়াই করেছে।

মাহফুজ আলম আরো বলেন, ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময় লড়াই চলেছে অভ্যন্তরীণ উপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে। আর ১৯৭১-এর পর সেই লড়াই রূপ নিয়েছে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের মানুষের মর্যাদার এই সংগ্রামে ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪—সবই একই সুতোয় গাঁথা।

বিজয় দিবস উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘ লড়াই, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

মাহফুজ আলম বলেন, আমাদের কোনো শহীদের রক্তের রঙ আলাদা নয়। সবাই এই মাটির মানুষ, এই মাটির পক্ষে লড়া সৈনিক।

ফ্যাসিবাদ বিরোধী ঐক্যকে জাতীয় শক্তিতে পরিণত করতে হবে : সালাহউদ্দিন আহমদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী প্রথম বিজয় দিবস আমরা গত বছর পালন করেছি। সেই বিজয় দিবসের আনন্দ উৎসব বিজয় উল্লাস ছিলো অন্যরকম। মুক্ত স্বাধীন পরিবেশে মানুষ মন ভরে বিজয়ের স্বাদ গ্রহণ করেছে। এরপরে এক বছর পার হয়ে গেলেও নানা পরিক্রমার মধ্যে দিয়ে নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে কিছু বিভক্তি দৃশ্যমান হয়েছে। এসব বিভক্তির ফলে অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী শক্তি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে, সেটা এখন দৃশ্যমান। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হওয়ার পরে একটি ঘটনায় ( হাদির ওপর হামলা) বেদনা বিধুর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসস-এর সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রক্রিয়াকে রুদ্ধ করতে পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি এবং তার দোসররা সকল চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এই সময়ে আমাদেরকে প্রকৃতপক্ষে সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র সুসংহত করার জন্য বাংলাদেশের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তি ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল রাজনৈতিক দলের ঐক্য এখন সবচাইতে বেশি জরুরি। কারণ, এর মাধ্যমেই আমরা কেবল মাত্র সন্ত্রাসবাদী, গণতন্ত্র বিরোধী তৎপরতা বা ফ্যাসিবাদী শক্তির মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার যে অপচেষ্টা, সেটা রুখে দিতে পারব।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধে এদেশের সব মানুষেরই সংগ্রাম ছিল। ৭১ কে যারা দলীয়করণ করতে চেয়েছে তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। এখন চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের আকাঙ্ক্ষা, বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির প্রত্যাশা। বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বৈষম্যমূলক সমাজ ব্যবস্থা থেকে মুক্তি, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং হারানো মানবাধিকার ফিরে পেতে চেয়েছে। এগুলোর সমষ্টিগত অভিপ্রায়ের চূড়ান্ত রূপ হচ্ছে গণঅভ্যুত্থান।

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান কাজ হলো-ফ্যাসিবাদ বিরোধী জাতীয় ঐক্যকে জাতীয় শক্তিতে পরিণত করা। একইসঙ্গে আগামী দিনের সকল কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এই ধারাবাহিকতায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা প্রকৃতপক্ষে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে পারব। এটাই আমাদের বিজয়ের উচ্ছ্বাস, জাতীয় প্রত্যাশা এবং শহীদদের রক্তের ঋণ শোধের উপায়।

হাদিকে নিয়ে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সিঙ্গাপুরের পথে

উন্নত চিকিৎসার জন্য গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে তাকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে বের করে নেওয়া হয়।

হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যেতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি আজ বেলা ১১টা ২২ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।

দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে শরিফ ওসমান হাদিকে বহন করে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী। গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কার্যালয় অভিমুখে ডাকসুর মার্চ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টায় জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারসহ তিন দফা দাবিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে ছাত্র-জনতাকে নিয়ে মার্চ শুরু করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুর ১টার দিকে ডাকসু ভবনের সামনে থেকে সমবেত ছাত্র-জনতাকে নিয়ে এই মার্চ শুরু হয়। মিছিলটি ডাকসু ভবন থেকে টিএসসি হয়ে সচিবালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেওয়ার কথা রয়েছে।

মার্চ চলাকালে অংশগ্রহণকারীদের ‘সুশীলতার দিন শেষ, জবাব চায় বাংলাদেশ’, ‘এক হাদি হাসপাতালে, লক্ষ হাদি রাজপথে’, ‘আমরা সবাই হাদি হবো, হাদির মুখে কথা কবো’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। এছাড়া স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে কটাক্ষ করে স্লোগানও দেন তারা।

এ বিষয়ে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, আমরা ডাকসুর সামনে থেকে বিক্ষোভ-মিছিল নিয়ে টিএসসি হয়ে সচিবালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেবো।

ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় নির্বাচনে প্রভাব পড়বে না : সিইসি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনায় নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, মাঝে মাঝে দু-একটা খুনখারাবি হয়। ওসমান হাদির ওপর হামলা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। নির্বাচনে এসবের কোনো প্রভাব পড়বে না।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে একটি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সিইসি বলেন, নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। ইসি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সবাইকে নিয়ে নির্বাচনে যাবে ইসি।
দুশ্চিন্তা করা যাবে না।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ২০২৪ সালের চেয়ে অনেক ভালো বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, তখন মানুষ ঘুমাতে পারত না। এখন মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত।
নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।

নাসির উদ্দিন বলেন, নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নির্ভর করে তারুণ্যের শক্তির ওপর। তরুণরা যেমন ঊনসত্তর, একাত্তর ও চব্বিশে তাদের শক্তি দেখিয়েছে। এই নির্বাচন ঐতিহাসিক নির্বাচন। কেননা পোস্টাল ভোটিং হচ্ছে।
এবার গণভোটও হবে। ইসির এই সাহসী পদক্ষেপের সঙ্গে তরুণদের অংশগ্রহণ থাকলে ফ্রি, ফেয়ার, ক্রেডিবল নির্বাচন করা ইসির জন্য সহজ হবে।’

বিজয় দিবসে ৪০ মিনিট বন্ধ থাকবে মেট্রোরেল চলাচল

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আগামীকাল মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মেট্রোরেল চলাচল ৪০ মিনিট বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে মেট্রোরেল প্যাসেঞ্জার্স কমিউনিটি-ঢাকা। সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বেলা ১১টা ৫০ মিনিট থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ থাকবে। পুরাতন বিমানবন্দরে ‘এয়ার শো’ দেখতে আগত যাত্রীরা সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে আগারগাঁও স্টেশনে নামবেন।

এছাড়া ট্রেন ও স্টেশনে পানাহার নিষিদ্ধ জানিয়ে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সবার সহযোগিতাও কামনা করা হয়।

হাদিকে সিঙ্গাপুর নিতে ঢাকায় এসেছে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদিকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে। তাকে সিঙ্গাপুর নিতে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছে।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার পর এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, দুপুর দেড়টায় হাদিকে নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে শাহজালাল ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটির।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, সব কিছু ঠিক থাকলে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি আজ দুপুরে ওসমান হাদিকে নিয়ে ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।

রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে হাদিকে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। সোমবার দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হবে।

গত ১২ ডিসেম্বর ওসমান হাদি রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে আজ সরকারি খরচে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে সিঙ্গাপুর পাঠানো হচ্ছে।

বিদেশে হাদির চিকিৎসার খরচ দেবে সরকার : অর্থ উপদেষ্টা

গুলিবিদ্ধ ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদিকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসায় যত টাকা ব্যয় হবে, সরকার সব বহন করবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ সন্তোষজনক জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এটি আরো স্থিতিশীল হবে। বিদেশে নিয়ে ওসমান হাদির চিকিৎসার জন্য যত টাকা লাগবে, তা অর্থ মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দেবে।

গতকাল রবিবার হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ দুপুরে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হবে। ইতিমধ্যে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, দুপুরে ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হবে।
এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক দল এবং ভ্রমণসংক্রান্ত সব প্রস্তুতি এর মধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের অ্যাক্সিডেন্ট ইমার্জেন্সি বিভাগে তার চিকিৎসার সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রেস উইং আরো জানায়, হাদির চিকিৎসা সংক্রান্ত সকল ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে। তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলে করে আসা দুই ব্যক্তির একজন চলন্ত রিকশায় থাকা ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিক্যালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে ওই হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন হাদি। তার অবস্থা বেশ সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

৩৬ বাংলাদেশিকে নাগরিকত্ব দিল ভারত

৩৫ বাংলাদেশিকে নাগরিকত্ব দিয়েছে ভারত। দেশটির নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় এই নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের ওড়িশা রাজ্যে ৩৫ বাংলাদেশিকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’-এর প্রকাশিত খবরে এ তথ্য উঠে আসে।

ওড়িশায় রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে নতুন নাগরিকদের স্বাগত জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি বলেন, নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের জন্য এই আইন আশ্বাস ও আশ্রয়ের প্রতীক।

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০১৯ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া ৩৫ জন অভিবাসীর হাতে ভারতীয় নাগরিকত্বের সনদ তুলে দিয়েছেন— ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। গত বৃহস্পতিবার এই সনদ বিতরণ করা হয়।

জানা যায়, এর মাধ্যমে ওড়িশায় সিএএর আওতায় নাগরিকত্ব পাওয়া মানুষের সংখ্যা দাঁড়াল ৫১ জনে।
বর্তমানে রাজ্যে আরো প্রায় ১১০০টি আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ওড়িশার জনশুমারি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়া ৩৫ জনই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। ২০২৪ সালের ১১ মার্চ কার্যকর হওয়া নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে নিপীড়নের কারণে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে প্রবেশ করা অমুসলিমরা ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। সেই বিধান মেনেই এবার ওড়িশায় নতুন করে নাগরিকত্ব পেলেন এই ৩৫ জন।

অন্যদিকে একই আইনের আওতায় আসামে প্রথমবারের মতো একজন বাংলাদেশি নারী ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়েছেন। আসামের শ্রীভূমি জেলার বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী ওই নারী ২০০৭ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন।

ভারতের শিলচরের সাবেক ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল (এফটি) সদস্য ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ধর্মানন্দ দেব জানান, ‘ব্যানার্জি’ পদবি ব্যবহারকারী ওই নারী ২০০৭ সালে পরিবারের এক সদস্যের চিকিৎসার জন্য শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আসেন। সে সময় তার সঙ্গে শ্রীভূমি জেলার (সাবেক করিমগঞ্জ) এক যুবকের পরিচয় হয়। পরে তাদের বিয়ে হয় এবং তিনি ভারতেই থেকে যান।
দম্পতির একটি সন্তানও রয়েছে। যদিও তার পরিবার এখনো বাংলাদেশের চট্টগ্রামে বসবাস করে, তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় নাগরিক হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছিলেন। গত বছর সিএএর বিধি কার্যকর হওয়ার পর তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন।

ধর্মানন্দ দেব বলেন, সিএএর আওতায় আসামে নাগরিকত্ব পাওয়া প্রথম নারী তিনি। পাশাপাশি নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজ্যে প্রথমবারের মতো কাউকে নাগরিকত্ব দেওয়া হলো। তিনি জানান, নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ৫(১)(সি) ধারা এবং ৬বি ধারার অধীনে তাকে এই নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। এই বিধানে বলা আছে, কোনো ব্যক্তি যদি ভারতীয় নাগরিককে বিয়ে করেন এবং টানা সাত বছর ভারতে বসবাস করেন, তবে নিবন্ধনের মাধ্যমে তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব পেতে পারেন।

ন্যাটোতে যোগদানের ইচ্ছা ত্যাগ করল ইউক্রেন

ন্যাটো সামরিক জোটে যোগদানের আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করার প্রস্তাব দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গতকাল বার্লিনে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে তিনি মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে পাঁচ ঘণ্টা ধরে আলোচনা করেন। এই আলোচনা সোমবারও চালিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, ‘অনেক অগ্রগতি হয়েছে’।
ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে চলা সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসানের জন্য জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করেন। যদিও সম্পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।

জেলেনস্কির উপদেষ্টা দিমিত্রি লিটভিন বলেছেন, বৈঠক শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি সোমবার আলোচনার বিষয়ে মন্তব্য করবেন। লিটভিন জানিয়েছেন, কর্মকর্তারা খসড়া নথিগুলো বিবেচনা করছেন।

লিটভিন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনা চালিয়েছেন এবং আজ সকালে পুনরায় শুরু করার চুক্তির মাধ্যমে আজ শেষ হয়েছে।’

আলোচনার আগে, জেলেনস্কি পশ্চিমা নিরাপত্তা গ্যারান্টির বিনিময়ে ন্যাটোতে যোগদানের ইউক্রেনের লক্ষ্য ত্যাগ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এই পদক্ষেপটি ইউক্রেনের জন্য একটি বড় পরিবর্তন। রাশিয়ার আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য ইউক্রেন বরাবরই ন্যাটোতে যোগদানের চেষ্টা করে আসছিল এবং এই আকাঙ্ক্ষা তাদের সংবিধানেও লেখা আছে।
এই প্রস্তাবটি রাশিয়ার লক্ষ্যগুলোর মধ্যে একটি পূরণ করে, যদিও ইউক্রেন এখনো পর্যন্ত মস্কোর কাছে ভূখণ্ড সমর্পণ করতে রাজি নয়।

উইটকফ এক্স-এর একটি পোস্টে বলেছেন, ‘প্রতিনিধিরা শান্তির জন্য ২০-দফা পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক এজেন্ডা এবং আরো অনেক কিছু নিয়ে গভীর আলোচনা করেছেন। অনেক অগ্রগতি হয়েছে এবং তারা আবার দেখা করবেন।’

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস এই আলোচনার আয়োজন করেন। একটি সূত্র জানায়, তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেওয়ার পর দুই পক্ষকে আলোচনায় বসতে দিয়ে সেখান থেকে চলে যান।
অন্যান্য ইউরোপীয় নেতারাও সোমবার আলোচনার জন্য জার্মানিতে আসছেন।

হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জেলেনস্কি বলেন, ‘শুরু থেকেই ইউক্রেনের ইচ্ছা ছিল ন্যাটোতে যোগদান করা। এগুলো প্রকৃত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের কিছু অংশীদার এই দিকটিকে সমর্থন করেনি।’

তিনি বলেন, ‘এই কারণে, বর্তমানে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আমাদের জন্য ন্যাটোর আর্টিকল ৫-এর সমতুল্য নিশ্চয়তা এবং ইউরোপীয় সহযোগীসহ কানাডা, জাপানের মতো অন্যান্য দেশের কাছ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা হলো আরেকটি রুশ আক্রমণ থামানোর একটি সুযোগ।’ তিনি আরো বলেন, বর্তমান ফ্রন্টলাইন ধরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা একটি ন্যায্য বিকল্প হতে পারে।

সূত্র : রয়টার্স