বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

তিন ব্যাংকের দখলে রেমিট্যান্সের ৪৩%

রাজনৈতিক পালাবদলের পর যখন দেশের অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার মেঘ, বিনিয়োগ স্থবির, ব্যাংক খাতে চাপ আর বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে দোলাচল। তখন অর্থনীতি টেনে তুলতে আশার আলো হয়ে বড় ভূমিকা রাখে প্রবাসী আয়। মাসে মাসে বিপুল রেমিট্যান্স আয়ে অবলম্বন খুঁজে পায় দেশের অর্থনীতি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত অক্টোবর মাসে দেশে এসেছে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স।

আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা প্রায় ৭ শতাংশ বেশি। এই বিশাল অঙ্কের ৪২.৮১ শতাংশই এসেছে মাত্র তিনটি ব্যাংকের মাধ্যমে—ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সরকার পরিবর্তনের পর প্রবাসীদের মধ্যে বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানোর আগ্রহ বেড়েছে। বাস্তবসম্মত বিনিময় হার, সরকারি প্রণোদনা অব্যাহত থাকা এবং হুন্ডির বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি আবারও ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরিয়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল রেমিট্যান্স সেবার বিস্তার ও ব্যাংক-এক্সচেঞ্জ হাউসের শক্তিশালী অংশীদারি, যা দূর দেশের ঘামঝরা আয়কে দ্রুত ও নিরাপদে পৌঁছে দিচ্ছে দেশে। এই প্রবাহের কেন্দ্রে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক। দেশের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স সংগ্রহকারী ব্যাংক হিসেবে তাদের ভূমিকা যেন দীর্ঘদিনের চেনা গল্প—নীরবে, নিরবচ্ছিন্নভাবে। ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) কামাল উদ্দিন জসিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রেমিট্যান্স সংগ্রহে ইসলামী ব্যাংক শুরু থেকেই সক্রিয়।

বাহারাইন, ওমান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের লোকজন আছে। তারা শুধু কর্মী নয়, প্রতিষ্ঠানকে ভালোবেসে কাজ করে। বিদেশে থাকা আমাদের অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষিও ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকসংখ্যা আড়াই কোটির বেশি। এই গ্রাহকদের আত্মীয়-স্বজন যখনই বিদেশে যান, প্রথম পছন্দ হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমেই টাকা পাঠান।

অন্য কিছু ভাবার আগেই আমাদের নাম আসে।’
সরকার পরিবর্তনের পর ব্যাংকের ভেতরের পরিবর্তনের কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। তিনি জানান, এস আলমের সময়ে নিয়োগ পাওয়া কিছু কর্মী পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ায় বাদ পড়েছেন। এর পর থেকে বর্তমান কর্মীরা দিনরাত আরো নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন। এই ডেডিকেশনই আমাদের শক্তি। ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা খুব ভালো। ২০২৬ সালের শেষে ইসলামী ব্যাংক সব দিক থেকেই আরো শক্ত অবস্থানে যাবে, এই আশা রাখেন তিনি।

অগ্রণী ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকও এই রেমিট্যান্স সাফল্যের নীরব অংশীদার। রাষ্ট্রায়ত্ত এই দুই ব্যাংক প্রবাসী আয় সংগ্রহে দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে তাদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রেমিট্যান্স পৌঁছে দিতে সহায়ক হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যখন বিনিয়োগ, উৎপাদন ও রাজস্ব আদায়ে চাপ বাড়ছে, তখন রেমিট্যান্সই দেশের অর্থনীতিকে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। তবে এই ইতিবাচক প্রবণতাকে টেকসই করতে হলে প্রবাসীদের আস্থা ধরে রাখা, সেবা আরো সহজ করা এবং রেমিট্যান্সকে উৎপাদনমুখী খাতে কাজে লাগানোর পথ খুলে দিতে হবে। নইলে এই একক আলোও একসময় ম্নান হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে যাবে। ব্যাংকভিত্তিক হিসাবে অক্টোবরে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। ব্যাংকটির মাধ্যমে এসেছে ৫৯ কোটি ২৯ লাখ ৭০ হাজার ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি পেয়েছে ২৬ কোটি ৩৯ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং তৃতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২৪ কোটি দুই লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। নতুন করে রেমিট্যান্স সংগ্রহে শীর্ষদের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের নাম। মাত্র এক বছর আগেও ব্যাংকটির অবস্থান ছিল অনেক পরে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) রেমিট্যান্স প্রবাহের চিত্রও ইতিবাচক। এই সময়ে দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে এক হাজার ১৪ কোটি ৭৭ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১২১ কোটি ৬৫ লাখ ডলার বা ১৩.৫৫ শতাংশ বেশি। অর্থনৈতিক চাপ ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও এই প্রবৃদ্ধিকে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

কলকাতার সম্ভাব্য সেরা একাদশ প্রকাশ, আছেন যারা

তিনবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন কলকাতা নাইট রাইডার্স ২০২৬ আইপিএলের আগে দলকে শক্তিশালী করতে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত মিনি নিলামে মোট ১৩ জন ক্রিকেটারকে দলে নিয়েছে। নিলামে অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনকে ২৫ কোটি টাকায় দলে ভিড়িয়েছে শাহরুখ খানের মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার মাথিশা পাথিরানাকে ১৮ কোটি টাকায় এবং বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ৯ কোটিরও বেশি টাকায় দলে নেয়।

গ্রিন, পাথিরানা ও মুস্তাফিজুরের সঙ্গে টিম সাইফার্ট, ফিন অ্যালেন এবং রাচিন রবীন্দ্রের মতো ক্রিকেটাররা আইপিএলের ১৯তম আসরে কেকেআরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভরসা হয়ে উঠবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

২০২৬ আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে ফিন অ্যালেন বা টিম সাইফার্ট—এই দুজনের মধ্যে একজন উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব পালন করবেন। আইপিএল ইতিহাসে তিনবার মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার (এমভিপি) জয়ী সুনীল নারাইন কেকেআরের হয়ে আইপিএলে ১৯০-এর বেশি ব্যাটারকে আউট করার পাশাপাশি ওপেনার হিসেবে ব্যাট হাতেও বহু গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন।

আইপিএল ২০২৫ এ কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক ছিলেন অজিঙ্কা রাহানে। এ বছরও যদি তিনি দলের নেতৃত্বে থাকেন তাহলে তিনে ব্যাটিং করার সম্ভাবনা বেশি তার। চার নম্বরে থাকবেন ক্যামেরুন গ্রিন, পাঁচ নম্বরে রিঙ্কু সিং এবং ছয় নম্বরে ব্যাট করবেন রামনদীপ সিং।

আইপিএল: কলকাতার সম্ভাব্য সেরা একাদশ প্রকাশ, আছেন যারা
বিপিএল: টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই মিলল বড় দুঃসংবাদ
২০২৬ আইপিএলে কলকাতার বোলিং আক্রমণের মূল দায়িত্ব সামলাবেন হর্ষিত রানা ও বৈভব অরোরা। তাদের সহায়তায় থাকবেন বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমান ও শ্রীলঙ্কার মাথিশা পাথিরানা। স্পিন বিভাগের দায়িত্ব থাকবে বরুণ চক্রবর্তীর ওপর। দলের ব্যাকআপ ভারতীয় পেসার হিসেবে রয়েছেন আকাশ দীপ, উমরান মালিক ও কার্তিক ত্যাগী। ব্যাকআপ ব্যাটারদের তালিকায় আছেন অংক্রিশ রঘুবংশী, মনীশ পাণ্ডে ও রাহুল ত্রিপাঠীর মতো অভিজ্ঞ নাম।

আইপিএল ২০২৬-এ কলকাতার সম্ভাব্য সেরা একাদশ: অজিঙ্কা রাহানে, সুনীল নারাইন, তেজস্বী সিং (উইকেটকিপার), ক্যামেরুন গ্রিন, রিঙ্কু সিং, রামনদীপ সিং, হর্ষিত রানা, বৈভব অরোরা, মুস্তাফিজুর রহমান, বরুণ চক্রবর্তী, মাথিশা পাথিরানা।

ইসির কাছে নিরাপত্তা চাইলেন এমপি প্রার্থী সিগমা-ফুয়াদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী রেহা কবির সিগমা এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) নির্বাচন ভবনে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে পৃথকভাবে এ সংক্রান্ত আবেদন করেন তারা।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন, নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ ও মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে লিখিত আবেদন জমা দেন কাজী রেহা কবির সিগমা।

কাজী রেহা কবির সিগমা আবেদনে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার প্রত্যয় ঘোষণা করে তিনি নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন এবং এরই মধ্যে ব্যাপক জনসমর্থন পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন।

গণসংযোগ কার্যক্রমে তার অনেক কর্মী ও সমর্থক সক্রিয় রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আইনানুগ গণসংযোগ কার্যক্রমে ভীতি সৃষ্টি ও বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম থানার পুলিশ ন্যক্কারজনকভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ জানিয়ে তিনি জানান, ১৬ ডিসেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে তার এক নিরপরাধ কর্মীকে গ্রেপ্তার করে ভুয়া মামলায় কিশোরগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এতে তার কর্মীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন এবং নির্বাচনী কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

গ্রেপ্তার মো. কিয়ামত আলী (৫০) একজন নিরীহ ও জনপ্রিয় ব্যক্তি উল্লেখ করে সিগমা বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা বা অভিযোগ ছিল না।

তাকে ২০২৪ সালের ৯ নভেম্বর দায়ের করা একটি মামলায় আসামি দেখানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। ওই মামলায় কিয়ামত আলী এজাহারভুক্ত আসামি নন। অষ্টগ্রাম থানার খুব কাছাকাছি বসবাস করলেও গত এক বছরে পুলিশ কখনো তার খোঁজ নেয়নি। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, শুধু তার কর্মীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি তদন্ত করে অবিলম্বে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু ও প্রশ্নাতীত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সিইসির হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

এদিকে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়টি তুলে ধরেন।

প্রার্থী নিরাপত্তার শঙ্কা নিয়ে ইসিতে আসছেন, এ বিষয়ে কমিশন কী ব্যবস্থা নিচ্ছে—জানতে চাইলে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘ব্যারিস্টার ফুয়াদ এসেছিলেন। তার অভিযোগ হচ্ছে, পুলিশ তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে না। আমরা সার্বিকভাবে সব প্রার্থীর নিরাপত্তার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছি।

সব প্রার্থী বিজয়ী হতে পারবেন না। জনগণ যাকে বেশি ভোট দেবেন, তিনিই বিজয়ী হবেন।’ সব প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের আচরণ বিধিমালা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

মিশন বাস্তবায়নে ভাড়া করা হয় পাঁচ অস্ত্র

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনে সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় অন্তত পাঁচটি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ভাড়া করা হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি অস্ত্র পালানোর সময় প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ সঙ্গে নিয়ে যায়। বাকি তিনটি অস্ত্র এক বন্ধুর মাধ্যমে তার বাবা হুমায়ুন কবিরের কাছে পাঠিয়েছিল পলাতক ফয়সাল। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ফয়সালের বোনের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া দুটি ম্যাগাজিন ও গুলির ব্যাগের সূত্র ধরে তিনটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে, মাথায় গুলি লাগা সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন হাদির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ফোন করে এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল বুধবার সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান দেশটিতে চিকিৎসাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের অকুতোভয় যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদিকে দেখতে গিয়েছিলেন। পরে এদিন রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে ফোন করেন এবং হাদির চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন। তিনি জানান, হাদির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে হাদির জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ করেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট ও অভিযানে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, হাদিকে গুলি করার পরপরই আগারগাঁওয়ে বোনের বাসায় গিয়ে ওঠে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল। ব্যাগের ভেতর অস্ত্র থাকার বিষয়টি জানত তার বাবা, মা, স্ত্রী ও শ্যালক। অস্ত্রভর্তি ব্যাগটি রাখা হয় বাবার জিম্মায়।

গত মঙ্গলবার রাতে স্ত্রী ও মাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তারা স্বীকার করেন, অস্ত্রগুলো গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব পুকুর থেকে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করে।

র‌্যাবের এক কর্মকর্তা বলেন, উদ্ধার করা অস্ত্রগুলোর মধ্যে একটি শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। অস্ত্রের ফরেনসিক পরীক্ষায় বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

র‌্যাব সূত্র জানায়, অপারেশন শেষে ফয়সাল আগারগাঁওয়ে বোনের বাসায় ফিরে আসে এবং তার বাবার কাছ থেকে অস্ত্রভর্তি ব্যাগ লোকানোর প্রস্তুতি নেয়। ওই সময় বাসায় অপরিচিত দুজন লোক গেলে তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মনে করে ভয়ে অস্ত্রসহ ব্যাগটি রান্নাঘরের জানালা দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়া হয়।

পরে জানা যায়, তারা আসলে বাসা ভাড়া নিতে এসেছেন। তখন ফয়সালের স্ত্রী নিচে গিয়ে ব্যাগটি দ্রুত বাসায় নিয়ে আসেন। তবে তখন দুটি ম্যাগাজিন ও গুলির ব্যাগ পড়ে যায়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র আরও জানায়, ব্যাগটিতে তখনো পাঁচটি অস্ত্র ছিল। ময়মনসিংহের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় নিজেদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ফয়সাল ও মোটরসাইকেলচালক আলমগীর শেখ দুটি অস্ত্র সঙ্গে নিয়ে যায়। বাকি তিনটি অস্ত্র ব্যাগে ভরে শ্যালক সিপুর মাধ্যমে এক বন্ধুর কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সেই বন্ধু নরসিংদীর গ্রামের বাড়ির পুকুরে অস্ত্রগুলো ফেলে দেওয়ার সময় দুটি ম্যাগাজিন না থাকার কথা জানায়।

এরপর বিষয়টি সিপু ফয়সালকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে জানায়। ফয়সাল তখন সিপুকে মেসেঞ্জারে কল করে ফোনটি স্ত্রীর কাছে দিতে বলেন। এরপর তারা বাসার নিচে গিয়ে ম্যাগাজিনগুলো খুঁজতে যায়।

ভুয়া নম্বর প্লেট ও মোটরসাইকেল উদ্ধার: গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওসমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত ভুয়া নম্বর প্লেটসহ মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিটিসি)। আগারগাঁওয়ের বনলতা আবাসিক এলাকার একটি বাড়ির নিচতলার পার্কিং থেকে মোটরসাইকেল ও হেলমেট উদ্ধার করা হয়। পরে ভুয়া নম্বর প্লেটটি পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি ম্যানহোলের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়।

এর আগে, মোটরসাইকেলটির মালিক সন্দেহে আব্দুল হান্নান নামে এক ব্যক্তিকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করে। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। তবে হত্যাচেষ্টার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তদন্ত সূত্র জানায়, মোটরসাইকেলটির মালিকানা শনাক্তে নিবিড় তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত জানা গেছে, এর প্রথম মালিক ছিলেন আব্দুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। এরপর শহিদুল, রাসেল, মার্কেটপ্লেস, ওবায়দুল ইসলাম, আনারুল এবং ওবায়দুলের হাত ঘুরে শুভ নামে একজনের কাছে মোটরসাইকেলটি যায়। মোট আটজনের হাতবদলের পর ফয়সাল করিম মাসুদের সহযোগী মো. কবিরের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে মাইনুদ্দিন ইসলামের নামে এটি কেনা হয়।

গত শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরে বক্স কালভার্ট রোডে ব্যাটারিচালিত রিকশায় যাওয়ার সময় শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে মোটরসাইকেল আরোহী এক দুর্বৃত্ত। পরে পুলিশ তার নাম ও ছবি প্রকাশ করে জানায়, সন্দেহভাজন দুর্বৃত্তের নাম ফয়সাল করিম মাসুদ। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চললেও জানা গেছে, সে এরই মধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।

ঘটনার পর হাদিকে সংকটাপন্ন অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকার তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠায়। গতকাল পর্যন্ত তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

হাদির স্বাস্থ্য: গতকাল ইনকিলাব মঞ্চ নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, গুলিবিদ্ধ শরিফ ওসমান বিন হাদির মস্তিষ্ক সচল করতে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। তবে অস্ত্রোপচারের আগে তার স্বাস্থ্য পুরোপুরি স্থিতিশীল হওয়া জরুরি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শরীর ও মস্তিষ্কের মধ্যে সংযোগ পুনঃস্থাপন করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। মস্তিষ্ক ছাড়া তার সব অঙ্গ সচল রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। সেখানে আরও বলা হয়, তার চিকিৎসা সিঙ্গাপুর অথবা যুক্তরাজ্যে হতে পারে।

আরও ভয়াবহ সংকটে গাজা

আরও প্রকট আকার ধারণ করছে গাজার পরিবেশ। শীতকালীন ঝড় গাজায় বাস্তুচ্যুত লাখো ফিলিস্তিনির দুর্দশা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, ইসরায়েলি বিধিনিষেধের কারণে জরুরি আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা এখনো গাজায় প্রবেশ করতে পারছে না।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, তাদের কাছে তাঁবু, কম্বলসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত থাকলেও সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে প্রবেশে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বাধা দিচ্ছে বা কঠোরভাবে সীমিত করছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই সপ্তাহ বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিশুর তীব্র ঠান্ডায় মৃত্যু হয়েছে। এতে অপর্যাপ্ত আশ্রয়ে থাকা শিশু ও বয়স্কদের ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, ঝড়ে গাজাজুড়ে বহু আশ্রয়কেন্দ্র ও ব্যক্তিগত সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। প্রায় ৩০ হাজার শিশু এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কার্যক্রম দ্রুত পুনরায় শুরু করতে জরুরি মেরামত প্রয়োজন।

গাজার ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স এক বিবৃতিতে বলেছে, গাজা উপত্যকায় আমরা এখন যে পরিস্থিতির মুখোমুখি, তা এক সত্যিকারের মানবিক বিপর্যয়।

এই সংকটের মধ্যেই কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে গাজায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি স্থিতিশীল করা, ত্রাণ প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং যুদ্ধ অবসানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে অগ্রগতির বিষয়টি উঠে আসে।

আলজাজিরার সাংবাদিক অ্যালান ফিশার জানান, কাতারের প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন—গাজায় মানবিক সহায়তা ‘নিঃশর্তভাবে’ প্রবেশ করতে দিতে হবে। তিনি যুদ্ধ-পরবর্তী গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনাও আলোচনা করেন এবং বলেন, এ বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে।

যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও গাজায় সহিংসতা থামেনি। চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, গাজা সিটির কেন্দ্রীয় এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১১ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, একটি মর্টার শেল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পূর্বে গোলাবর্ষণের খবরও পাওয়া গেছে। পূর্ব গাজা সিটির তুফাহ এলাকায় ইসরায়েলি গুলিতে আরও দুজন আহত হন। এ ছাড়া অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধির মধ্যে ক্বালকিলিয়ায় ইসরায়েলি সেনারা এক যুবককে গুলি করে আহত করেছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭০ হাজার ৬৬৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ সময়ে এক লাখ ৭১ হাজার ১৫২ জন আহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। একই সময়ে হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলায় ইসরায়েলে ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হন।

১৮ ডিসেম্বর আজকের নামাজের সময়সূচি

ইসলামের ৫টি রুকনের মধ্যে নামাজ অন্যতম। পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে এটি দ্বিতীয়। ইমান বা বিশ্বাসের পর নামাজই ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। কিয়ামতের দিন প্রথম হিসাব নেওয়া হবে নামাজের। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের বাইরে ওয়াজিব, সুন্নত ও কিছু নফল নামাজ রয়েছে। যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন, ওয়াক্তমতো ফরজ নামাজ আদায় করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আজ বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ইংরেজি, ৩ পৌষ ১৪৩২ বাংলা, ২৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৭ হিজরি।

ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো-

জোহর- ১১:৫৭ মিনিট

আসর- ৩:৩৯ মিনিট

মাগরিব- ৫:১৫ মিনিট

এশা- ৬:৩৫ মিনিট

ফজর (আগামীকাল শুক্রবার)- ৫:১৩ মিনিট।

উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগের সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে, সেগুলো হলো—

বিয়োগ করতে হবে

চট্টগ্রাম : ০৫ মিনিট

সিলেট : ০৬ মিনিট

যোগ করতে হবে

খুলনা : ০৩ মিনিট

রাজশাহী : ০৭ মিনিট

রংপুর : ০৮ মিনিট

বরিশাল : ০১ মিনিট

সীমান্তে মর্টার শেলের শব্দ, আতঙ্কে এলাকাবাসী

ঘুমধুম সীমান্তসংলগ্ন মিয়ানমারের অভ্যন্তরে মর্টার শেল নিক্ষেপের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) অধীন নিকুছড়ি বিওপি এলাকার সীমান্ত থেকে প্রায় দুই হাজার গজ ভেতরে এ শব্দ শোনা যায়।

স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ মর্টার শেলের শব্দে এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

বিজিবি জানায়, আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত অংজাই ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় মর্টার ফায়ারের শব্দ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সীমান্তে বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

নাইক্ষ্যংড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নিচ্ছি।

ইতালিতে ছিনতাইকারীদের গাড়িচাপায় প্রাণ গেল বাংলাদেশি যুবকের

ঘরভর্তি স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। কাছের মানুষটির এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউ। পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় তিন বছর আগে দেশ ছেড়ে ইতালি যাওয়া শরীয়তপুরের যুবক নাঈম ইসলাম শান্ত (২৫) এখন ফিরছেন লাশ হয়ে।

পরিবারের অভিযোগ, ইতালির নেপোলি শহরে ছিনতাইকারীরা তার টাকা-পয়সা ও মালামাল লুটের উদ্দেশ্যে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যা করেছে তাকে।

নিহত নাঈম শরীয়তপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদপুর এলাকার এনামুল হক মাদবর ও তাজিয়া বেগম দম্পতির ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারের অভাব দূর করার আশায় প্রায় তিন বছর আগে ২০ লাখ টাকা ঋণ করে বিদেশ পাড়ি জমান নাঈম। এক বছর আগে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি পৌঁছান তিনি। পরে নেপোলি শহরের একটি ক্যাম্পে অবস্থান করে একটি রেস্টুরেন্টে কাজ শুরু করেন। ধীরে ধীরে পরিবারের হাল ধরছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

ইতালিতে ছিনতাইকারীদের গাড়িচাপায় প্রাণ গেল বাংলাদেশি যুবকের
গ্রামীণ ব্যাংকের সামনে ককটেল, এলাকাজুড়ে আতঙ্ক
গত মঙ্গলবার রাতে ডিউটি শেষে বাসায় ফেরার পথে নেপোলি শহরে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, স্থানীয় দুষ্কৃতিকারীরা তাকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করছিল। ঘটনার রাতে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যা করা হয় নাঈমকে। বুধবার সকালে এ খবর দেশে পৌঁছালে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের মাতম শুরু হয়।

নিহতের ভাই বাপ্পি মাদবর বলেন, আমার ভাই কাজ শেষে ফেরার পথে প্রায়ই ওই এলাকার কিছু বখাটের জ্বালাতনের শিকার হতো। গত রাতে তারা আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে। আমরা দোষীদের বিচার চাই এবং ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফেরানোর জন্য সরকারের সহযোগিতা চাই।

নাঈমের চাচাতো ভাই আল-ইমরান বলেন, ইতালিতে আমার ভাইয়ের কাছ থেকে টাকাপয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ শোক কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।

নিহতের বাবা এনামুল হক মাদবর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি শুধু একবার আমার ছেলের মুখটা দেখতে চাই। যেভাবেই হোক সরকার যেন আমার ছেলের লাশটা দেশে আনার ব্যবস্থা করে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইলোরা ইয়াসমিন কালবেলাকে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি নাঈমের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এখন আর শুধু দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের যাতায়াতের পথ নয়; এটি প্রতিদিন মৃত্যুভয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। কর্মস্থলে যাওয়া, চিকিৎসা নেওয়া কিংবা পর্যটন শেষে ঘরে ফেরার প্রতিটি যাত্রাই যেন অনিশ্চয়তায় ভরা।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মাত্র আট মাসেই এই মহাসড়কে ৬৫টি দুর্ঘটনায় ৯৮ জন নিহত এবং ২৫৬ জন আহত হয়েছেন। প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচলের এই ১৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি ক্রমেই একটি কাঠামোগত সড়ক সংকটে পরিণত হয়েছে, যেখানে দুর্ঘটনা আর ব্যতিক্রম নয়—নিয়মিত ঘটনা।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, পটিয়া, বাঁশখালী, বান্দরবান, চকরিয়া ও কক্সবাজারসহ একাধিক জেলা ও উপজেলার মানুষ এই মহাসড়কের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই সড়কটি অপ্রশস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অধিকাংশ অংশে মাত্র ১৮ থেকে ২২ ফুট চওড়া এই মহাসড়কে নেই কার্যকর কোনো বিভাজক। রয়েছে অসংখ্য ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, অপর্যাপ্ত সাইনেজ ও অস্পষ্ট রোড মার্কিং। অনেক এলাকায় রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও নেই। ফলে সামান্য ভুলেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে সংঘটিত দুর্ঘটনাগুলোর বড় একটি অংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ ও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়ার ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ দুর্ঘটনার আগে বাস ও ট্রাকের বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং উল্টো পথে চলাচলের দৃশ্য দেখা গেছে।

এই সংকট শুধু চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কেই সীমাবদ্ধ নয়। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) জানিয়েছে, ২০১৮ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪ হাজার ৪৩৯ জন। একই বছরে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে নিহতের সংখ্যা ৭ হাজার ২২১ এবং আহত ১৫ হাজার ৪৬৬ জন। ওই বছর গাড়িচাপায় নিহত হন ১ হাজার ৫৩৫ জন, মুখোমুখি সংঘর্ষে ৮৭৩ জন, উল্টো পথে চলাচলে ২৭১ জন এবং যানবাহন খাদে পড়ে প্রাণ হারান ১৫৪ জন।

২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এক মাসেই দেশে ৫২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫০৭ জন নিহত এবং ৮৯৯ জন আহত হন। একই সময়ে রেলপথে ৪৪টি দুর্ঘটনায় ৪০ জন এবং নৌপথে ৭টি দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত হন। সব মিলিয়ে এক মাসে সড়ক, রেল ও নৌপথে ৫৭৭টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৫৫৩ জন।

নভেম্বর মাসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির কারণ। এক মাসে ১৯৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন ২০১ জন, যা মোট নিহতের প্রায় ৪১ শতাংশ। নিহতদের মধ্যে চালক, পথচারী, নারী, শিশু, শিক্ষার্থী এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। নিহতদের তালিকায় পাঁচজন চিকিৎসক ও একজন সাংবাদিকের নামও উঠে এসেছে।

মহাসড়কে অবৈধ ও ধীরগতির যানবাহনের চলাচলও বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ভ্যান, ইজিবাইক ও অটোরিকশার নিবন্ধন নেই, নেই হেডলাইট বা রিফ্লেক্টর। আইন অনুযায়ী এসব যানবাহনের মহাসড়কে চলাচলের অনুমতি না থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে না।

দুর্ঘটনার পর অধিকাংশ ক্ষেত্রে মামলা হলেও তদন্তের গতি অত্যন্ত ধীর। চালকের বিরুদ্ধে মামলা হলেও পরিবহন মালিক বা কোম্পানির দায় নির্ধারণ করা হয় না। প্রভাবশালী মালিকপক্ষের কারণে অনেক মামলা দুর্বল হয়ে পড়ে, সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহে গাফিলতি দেখা যায় এবং তদন্ত দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে থাকে। ফলে একই পরিবহন কোম্পানি বারবার ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ বলেন, ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক মূলত দুই লেনের, যেখানে ডিভাইডার নেই। দুই পাশে গাছ ও বাঁকের কারণে দৃশ্যমানতা কম। অবৈধ থ্রি-হুইলার ও হাটবাজারের কারণে পথচারী পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সড়ক প্রশস্তকরণ, বিভাজক স্থাপন এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক সংস্কার করা গেলে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।’

মোটরযানের গতিসীমা নির্দেশিকা-২০২৪ অনুযায়ী, প্রাইভেট কার ও বাসের সর্বোচ্চ গতিসীমা ৮০ কিলোমিটার, মোটরসাইকেলের জন্য ৬০ কিলোমিটার এবং পণ্যবাহী যানবাহনের জন্য ৫০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে।

পটিয়া হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ জসীম কালবেলাকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে অধিকাংশ চালক গতি ও ট্রাফিক নির্দেশনা মানেন না। বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং ও অসতর্কতার কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে হাইওয়ে পুলিশ নিয়মিত কাজ করছে।’

দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তার দাবিতে গত ৩০ নভেম্বর লোহাগাড়া, সাতকানিয়া ও চকরিয়া এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন আন্দোলন’-এর ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে ছয় লেন মহাসড়কের দাবিতে স্লোগান দেওয়া হয়। অবরোধের ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনা কমাতে হলে একক কোনো পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন, ফিটনেস ও রুট পারমিটে স্বচ্ছতা, চালকদের প্রশিক্ষণ ও কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন মালিকপক্ষের দায় নিশ্চিতকরণ এবং কঠোর আইন প্রয়োগ—সবকিছুর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

নির্বাচন নিয়ে ভারতের নসিহত অগ্রহণযোগ্য : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভারত নসিহত করছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, ভারতের এই অযাচিত নসিহত অগ্রহণযোগ্য। আমরা বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। এর জন্য প্রতিবেশীদের থেকে কোনো নসিহত গ্রহণের প্রয়োজন নেই।

বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে বসে আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় বক্তব্য দিতেন। এখন তিনি সংবাদমাধ্যমেও বক্তব্য দিচ্ছেন। তার বক্তব্যে যথেষ্ট উসকানি আছে।
আদালতের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে তিনি পাশের দেশে বসে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করবেন—এটাতে তো আমরা আপত্তি জানাবই। আমরা তো তাকে ফেরত চাইবই। কিন্তু ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাচ্ছে না। তার বক্তব্য বন্ধ করছে না।
উল্টো সর্বশেষ তারা কিছু নসিহত করেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচন কেমন হবে এটা নিয়ে আমরা প্রতিবেশীদের উপদেশ চাই না। এই সরকার অত্যন্ত ভালো পরিবেশে একটি নির্বাচন আয়োজন করতে চায়, যা গত ১৫ বছর ছিল না। এখন ভারত এটা নিয়ে আমাদের উপদেশ দিচ্ছে, এটাকে আমি অগ্রহণযোগ্য মনে করি। কারণ গত প্রহসনের নির্বাচনগুলোতে তারা কোনো শব্দ করেনি।
এখন আমরা যখন একটি ভালো নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি, তখন তারা নসিহত করছে। এটা অগ্রহণযোগ্য।

সম্প্রতি ভারতের সেভেন সিস্টারস নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর মন্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ কোনো সন্ত্রাসবাদে বিশ্বাস করে না। আমরা কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদীকে আমাদের ভূমিতে আমরা আশ্রয় দেব না। একজন রাজনৈতিক নেতা বলতে পারেন। কিন্তু এদেশের কোনো সরকারই এটাকে সমর্থন করবে না।

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নরেন্দ্র মোদির মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ভারত সব সময় মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের ভূমিকাকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করে। এটা গ্রহণযোগ্য নয়।