বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬

এত বড় শাস্তি আমরা পাচ্ছি শুধু জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ বলে : অর্থ উপদেষ্টা

পতিত সরকারের রেখে যাওয়া বিশাল মূল্যস্ফীতিতে জনজীবনে দুর্ভোগ ও দরিদ্রের সংখ্যা আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বদ্ধপরিকর বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এতে ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলার জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

সভায় স্বাগত বক্তব্যকালে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি না করার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ‘পতিত সরকারের রেখে যাওয়া বিশাল মূল্যস্ফীতি আরও উস্কে দিতে পারে, জনজীবনে দুর্ভোগ আসতে পারে, অতি দরিদ্রের সংখ্যা আরও বেড়ে যেতে পারে, নিম্নবিত্ত আরও দরিদ্র হতে পারে। এক রকম বৈরী পরিবেশে বর্তমান সরকার কৃষক ও সাধারণ জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে কোনো জ্বালানি তেল এবং বিদ্যুতের দাম সমন্বয় সাধন করা হয়নি বা বাড়ানো হয়নি। এত বড় শাস্তি আমরা পাচ্ছি শুধু জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ বলে।’

সংকট মোকাবেলায় বিএনপি সরকার বদ্ধপরিকর ও বিগত দিনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, যেকোনো সংকট বর্তমান সরকারের কাছে নতুন কিছু নয়। অতীতে যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দুর্ভিক্ষগ্রস্ত একটি অর্থনীতি শহীদ প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছিল। তখন বৈদেশিক সহযোগিতা ও আমাদের জনশক্তির মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘এরকম সংকটের মধ্যেও ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড অর্থাৎ সামাজিক প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, যাতে করে বাংলাদেশ দরিদ্রমুক্ত হয় এবং স্বাধীনভাবে স্বনির্ভরতার সঙ্গে ও মর্যাদার সঙ্গে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। কারণ এই সরকার বাগাড়ম্বর, বয়ান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্বাস করে না। আমরা সবাইকে নিয়ে সম্প্রীতির মাধ্যমে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই।’

এ সময় তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি বা তাদের দেওয়া ইশতেহার বাস্তবায়নে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার যে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছিল, তা জনরায়ের মাধ্যমে জাতীয় এজেন্ডায় রূপান্তরিত হয়েছে। সেই ইশতেহারের পাঁচটি ফাউন্ডেশন ছিল—প্রথমত রাষ্ট্রব্যবস্থার পুনরুত্থান, দ্বিতীয়ত আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি, তৃতীয়ত ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনরুত্থান, চতুর্থত সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং পঞ্চমত ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়ার মাধ্যমে বিভাজন পরিমার্জিত করে সমাজ নির্মাণ।

তিনি আরও বলেন, আমরা সেই জনরায়ের বাস্তবায়নের লক্ষ্য হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় অনেক সময় বলা হয় যে অঞ্চলে অঞ্চলে বৈষম্য বিরাজমান। কিন্তু কখনও কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট এই আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আমাদের ইশতেহারে বাস্তবতাকে সামনে রেখে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছি যে সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন হবে। তারই অংশ হিসেবে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে এই ধরনের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা বলেন, প্রতিটি মানুষের অধিকার থাকার কথা, কিন্তু কৃষক, দুগ্ধজাত উৎপাদনকারী খামারিরা ও মৎস্যজীবীরা কখনও সম্মান বা অধিকার পাননি। বাংলাদেশে এই প্রথম এবং বলা যায় উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে প্রথম সর্বজনীন কর্মসূচি গ্রহণ করতে যাচ্ছি। একদিকে সর্বজনীন কর্মসূচির অংশ হিসেবে নারীদের ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষি কার্ডের ক্ষেত্রেও সর্বজনীন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এটি উন্নয়নশীল ইতিহাসে প্রথম।

সভায় শরীয়তপুর সদর আসনের সংসদ সাঈদ আহমেদ দাবি জানিয়ে বলেন, কাজের পরিবেশ আগে সৃষ্টি করতে হবে। তিনি সংসদ সদস্যদের জন্য প্রতি সংসদীয় আসনে কার্যালয় থাকা প্রয়োজন মন্তব্য করে বলেন এতে কাজের গতি ত্বরান্বিত হবে। নদী ভাঙ্গন চলছে ১০ কিলোমিটার ব্যাপী। তা রোধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

গোপালগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য ডা কে এম বাবর বলেন, গোপালগঞ্জে অতীতে যেসব প্রকল্প করা হয়েছে তা আয়ের উৎস না হয়ে ভর্তুকি মূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি।

গোপালগঞ্জবাসী বর্তমান সরকারের দ্বারা প্রথম বৈষম্যের শিকার হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, গত নির্বাচনে গোপালগঞ্জের তিন তিনটে সংসদীয় আসনে জয়ী হলেও গোপালগঞ্জ থেকে কাউকে মন্ত্রী বানানো হয়নি। ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা কমিশন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন মাদরাসায় শিক্ষার্থী বাড়ছে। মাদরাসা শিক্ষা যদি প্রচলিত শিক্ষার সাথে সমন্বয় না ঘটে তাহলে জাতির ভাগ্যর পরিবর্তন হবে না।

ফরিদপুর-১ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা বলেন, এ এলাকায় মানুষের প্রধান পেশা কৃষি। কৃষি উপকরণ আমরা ঠিক মত সরবরাহ করতে পারছি না, সিন্ডিকেট এর কারণে। কৃষক কষ্টের কথা আমারা শুনতে চাই না তারা কষ্টে আছে। জ্বালানি তেল নিয়ে সরকারের সমর্থকরা অপকর্ম করে যাচ্ছে।

এছাড়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, শরীয়তপুরের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ, মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী, অন্যদের মধ্যে করিম গ্রুপের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর মিয়া, ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী, শরীয়তপুর বিএনপির সাংগঠনিক মাহবুব আলী তালুকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার ফের বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আগামী সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার উচ্চ-পর্যায়ের শান্তি আলোচনা সম্ভাবনা রয়েছে। আলোচনা সম্পর্কে অবগত ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, মার্কিন-ইরানি প্রতিনিধিদলগুলো আগামীকাল রোববার পাকিস্তানের রাজধানীতে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এরআগে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) পাকিস্তানের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার থেকেই উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়। এই প্রচেষ্টা সফল হয়েছে, কারণ উভয় পক্ষই দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে, যা পাকিস্তানকে তার মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা পুনরায় শুরু করার সুযোগ করে দিয়েছে।

পর্দার আড়ালে কাজ করার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বুধবার ত্রিদেশীয় সফরে বের হন, একই দিনে দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তেহরানে পৌঁছান। সৌদি ও কাতারের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর শেহবাজ বৃহস্পতিবার রাতে তুরস্কে পৌঁছেছেন। আর ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে সেখানে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় কাটিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান।

যদিও পাকিস্তান এসব আলোচনার ফলাফল নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা হঠাৎ সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ইসলামাবাদের কর্মকর্তাদের মতে, ইসলামাবাদ এবং পার্শ্ববর্তী শহর রাওয়ালপিন্ডিতে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে, কারণ অন্যান্য প্রদেশ থেকে হাজার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী আসতে শুরু করেছে। সাধারণত ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন হলে ইসলামাবাদ প্রশাসন অনান্য প্রদেশগুলোর কাছে সহায়তা চেয়ে থাকে।

গত শনিবার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার প্রথম দফায় রাজধানীতে ১০ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করেছিল পাকিস্তান। এদিকে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা আরও জোরদার হয়েছে যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তিনি ইসলামাবাদে যেতে পারেন। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে আলোচনাধীন ‘প্রায় সবকিছুই’ তেহরান মেনে নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারপর একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বৈঠকে বসেন মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা, যা ১৯৭৯ সালের পর মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ এবং ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। তবে ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরও কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয় এবং উভয় দেশের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন।

বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য এখনো কোনো তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আলোচনা নিয়ে গণমাধ্যমগুলোকে যাচাইবিহীন প্রতিবেদন প্রকাশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

সূত্র: সিএনএন, এনডিটিভি

হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে প্রস্তুত অস্ট্রেলিয়া

হরমুজ প্রণালীতে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। খবর আলজাজিরার।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে অস্ট্রেলিয়া প্রস্তুত।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব তত বেশি গুরুতর হবে এবং মানবিক ক্ষয়ক্ষতিও বৃদ্ধি পাবে।

অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর এর প্রভাব অস্ট্রেলিয়ানরা ইতোমধ্যে অনুভব করছে, এবং আমরা পরিবারগুলোকে এর খারাপ প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে কাজ করছি।”

অস্ট্রেলিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে পরিশোধিত জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, আর সেই জ্বালানির কাঁচামাল আসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ফলে প্রণালীতে অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকলে দেশটির জ্বালানি সরবরাহে আরো চাপের সম্মুখীন হতে পারে।

হজের প্রথম ফ্লাইট উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

২০২৬ সালের পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলতি মৌসুমের প্রথম হজ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিমানবন্দরে উদ্বোধনের আগে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী আশকোনা হজ ক্যাম্পে যান এবং সেখানে অবস্থানরত হজযাত্রীদের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর ফ্লাইটের আগে তিনি বিমানে গিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের কাছে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া চান। এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, রাত ১২টা ২০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রথম ফ্লাইটটি ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে সৌদি আরবের জেদ্দার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে। প্রথম দিনে মোট ১৪টি ফ্লাইটে হজযাত্রী পরিবহনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাবেন।

হজযাত্রী পরিবহনে অংশ নিচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদি এয়ারলাইন্স এবং ফ্লাইন্যাস। আগামী ২১ মে পর্যন্ত হজযাত্রীদের নিয়ে ঢাকা থেকে ফ্লাইটগুলো পরিচালিত হবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে (৯ জিলহজ) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে হাজিদের নিয়ে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে, যা চলবে ১ জুলাই পর্যন্ত

সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের তালিকা চূড়ান্ত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে প্রাপ্ত ৬৮টি আসনের বিপরীতে ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোট। জামায়াত জোট থেকে এনসিপি একটি নারী আসন পাবে। তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এনসিপি দুটি আসন দাবি করছে জোটের কাছে।

দলের পক্ষ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। আজ শুক্রবার জামায়াতের এক সহকারী সেক্রেটারি এ তথ্য জানান গণমাধ্যমে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জোবায়ের গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের নারী প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগিরই তাদের নাম জানানো হবে। এনসিপি একটি আসন পাচ্ছে, আনুপাতিক হারে আরো একটি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।’

আনুষ্ঠানিকভাবে সোমবার (২০ এপ্রিল) তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।

আলোচনায় যাদের নাম

মহিলা জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম, মানবসম্পদ ও আইন বিভাগের সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাবিকুন নাহার মুন্নি, নাজমুন্নিছা নিলু।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে মেরিনা সুলতানা, সিলেট অঞ্চলের মাহফুজা খানম। বগুড়া অঞ্চলের সাজেদা সামাদ, প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ। mআরো আছেন জাগপা সভাপতি তাসমিয়া প্রধান ও এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু।

আর্থিক খাতের ‘নাজুক’ দশা উত্তরণে দুই বছরের ‘কুশন’ চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী

বছরের পর বছর ধরে অর্থ পাচারের ফলে ব্যাংকিং ব্যবস্থা ‘ফোকলা’ হয়ে গেছে এবং বেসরকারি খাত তারল্য সংকটে ধুঁকছে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগামী দুই বছরের জন্য বাংলাদেশের কিছু আর্থিক সুবিধা বা ‘কুশন’ দরকার, যার মাধ্যমে ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের মূলধন ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।

তার ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য এটাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। আইএমএফ-বিশ্ব ব্যাংকের বসন্তকালীন সভা নিয়ে ‘আটলান্টিক কাউন্সিল’-এর বিশেষ আয়োজনে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে খসরু আওয়ামী লীগ আমলে আর্থিক ‘লুটপাটের’ ব্যাপকতা তুলে ধরেন, যা তার ভাষায়, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে দুর্বল করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর আমরা যে অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, তা নিয়ে বিশদ আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ বর্তমানে আর্থিক খাত কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। পুঁজিবাজারের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক এবং বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

সার্বিকভাবে বাজারে মূলধন ও চলতি মূলধনের ‘তীব্র সংকট’ দেখা দেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এর ফলে বেসরকারি খাতকে এখন ‘অস্তিত্ব রক্ষার জন্য’ লড়তে হচ্ছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে বেসরকারি খাতের হাত ধরে। আমাদের দল সব সময় এই কৌশলই অনুসরণ করে এসেছে। কিন্তু অর্থনীতিকে যে অবস্থায় আমরা পেয়েছি, তাতে বেসরকারি খাতকে আগে উদ্ধার করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। এটা একটা বিশাল চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া অনেক ব্যাংকই এখন প্রায় দেউলিয়া।

তাই এসব ব্যাংককে অবিলম্বে নতুন মূলধন জোগানোর ওপর সরকারের গুরুত্ব দেওয়ার কথা সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।

বেসরকারি খাতে মূলধন ঘাটতি জন্য আওয়ামী লীগ আমলের ব্যবস্থাকে দায়ী করেন আমির খসরু। তার ভাষ্য, অতীতে অর্থনীতি ছিল গুটিকয়েক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে, যা সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য বাজারভিত্তিক অর্থনীতিতে টিকে থাকা কঠিন করে তুলেছিল।

তিনি বলেন, ওই পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশি মুদ্রার মান ৪০ শতাংশ কমে গেছে এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপে কমেছে আরও ১০ শতাংশ।

সব মিলিয়ে বেসরকারি খাতের ব্যবসা বড় ধরনের মূলধন হারিয়েছে। কার্যত ৫০ শতাংশ মূলধন ও চলতি মূলধনই বিলীন হয়ে গেছে। ফলে বাজারে বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান সচল থাকলেও তাদের উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমেছে; কোনো কোনো কোম্পানির উৎপাদন সক্ষমতা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে।

এই ভয়াবহ মন্দার কারণে কোম্পানিগুলো লোকসান গুনছে এবং কার্যত মূলধন ভেঙে চলছে। একদিকে অবমূল্যায়ন ও মূল্যস্ফীতি মূলধন গ্রাস করেছে, অন্যদিকে মূলধন ও চলতি মূলধনের অভাবে তারা আরও অর্থ হারাচ্ছে। অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি যারা, তারাই এখন সবচেয়ে বেশি দুর্দশার মধ্যে রয়েছেন।

এই সংকট মোকাবিলা করাই যে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, তা আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে তুলে ধরার কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে তিনি বলেন, সংস্কারের ক্ষেত্রে আমাদের প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত বেসরকারি খাতের মূলধন ঘাটতি পূরণ করা এবং ব্যাংকিং খাতে মূলধনের জোগান দেওয়া। এছাড়া অন্য যে কোনো সংস্কার নিয়ে আলোচনা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে না।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২৩ সালে আইএমএফের কাছ থেকে বাংলাদেশ যে ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ নিয়েছিল, পাঁচ কিস্তিতে তার ৩৬৪ কোটি ডলার হাতে পেয়েছে সরকার।

ষষ্ঠ কিস্তির ১৩০ কোটি ডলার পাওয়ার কথা ছিল গত বছরের ডিসেম্বরে। কিন্তু আইএমএফ নির্বাচিত সরকারকে ওই অর্থ দেওয়ার কথা বললে অর্থ ছাড় পিছিয়ে যায়।

সেই অর্থ ছাড় করার আগে ঋণের শর্ত বাস্তবায়নে অগ্রগতি দেখতে চায় আইএমএফ। অন্যদিকে অর্থনীতির বিদ্যমান বাস্তবতা, আসন্ন বাজেট, যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলা—এসব কারণে বাজেট–সহায়তা হিসেবে অন্তত ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের চাহিদা রয়েছে বাংলাদেশের। এবারের আইএমএফ-বিশ্ব ব্যাংক বৈঠকে সে বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।

আইএমএফের শর্তের কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের কর-জিডিপি অনুপাত অত্যন্ত হতাশাজনক। এটি ১১ শতাংশ থেকে কমে এখন ৭ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। আইএমএফ সাধারণত কর-জিডিপি বাড়ানোর জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত দিয়ে থাকে। কিন্তু ব্যবসা-বাণিজ্য যদি ঘুরে না দাঁড়ায়, তবে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো সম্ভব নয়।

আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংকের কাছে আমরা এই বার্তাই পৌঁছে দিচ্ছি যে, আগে ব্যবসা-বাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত করতে হবে, তারপর কর-জিডিপি বাড়ানোর বিষয়টি আসবে; আর এটি সময়সাপেক্ষ।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের যা প্রয়োজন তা হল আগামী দুই বছরের জন্য একটি কুশন, যার মাধ্যমে ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের মূলধন ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।

বট বাহিনী আমাকে নিয়ে ভুয়া ফটোকার্ড বানায়, ট্রল করে : শিক্ষামন্ত্রী

ফেসবুকে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ‘বট বাহিনী’ পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি তার।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এই বট বাহিনী আমাকে নিয়ে ভুয়া ফটোকার্ড বানায় এবং ট্রল করে। এমনকি আমি নাকি পরীক্ষার দিন পরীক্ষার রুটিন দিব—এমন হাস্যকর অপপ্রচারও তারা চালাচ্ছে।’ আজ শুক্রবার দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) নবীনবরণ (ওরিয়েন্টেশন) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আসন্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার রুটিন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘নকল বন্ধে পরীক্ষার রুটিন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত, কোন বিষয়ে পরীক্ষা জানা যাবে পরীক্ষার হলে’-মর্মে একটি অসত্য ও ভিত্তিহীন সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অনলাইন পোর্টালগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রকৃতপক্ষে এটি গুজব।

‘ফেল করলেই এমপিও বাতিল’- এমন গুজবও ফেসবুকে বট বাহিনী ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি বলেছিলাম এবার কোনো প্রতিষ্ঠানে জিরো পাস করলেও এমপিও বাতিল হবে না। কিন্তু বট বাহিনী লিখে দিল এবার ফেল করলেই এমপিও বাতিল। এখন দেখা যাচ্ছে দেশ ফেসবুকেই চলে।’

দেশের ইতিহাসে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত আছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

দেশের ইতিহাসে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশের ইতিহাসে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত রয়েছে। বিভিন্ন উৎস থেকেও জ্বালান সংগ্রহের চেষ্টা করছে সরকার। দেশে এপ্রিল ও মে মাসের জন্য দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। একই সঙ্গে জুন মাসের সম্ভাব্য চাহিদা মাথায় রেখে আগাম প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে এবং বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনা চলছে। আবার পরিশোধন বন্ধ থাকায় পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিতে মনোযোগ দিয়েছে সরকার। ২০২৯ সাল থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হবে। শিল্প ও কৃষিকে গুরুত্ব দিয়ে বর্তমানে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে।

দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড (ইআরএল) ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলের সংকটে পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত ১৩ এপ্রিল সর্বশেষ সেখানে পরিশোধন কার্যক্রম চালানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার কারণে প্রায় দুই মাস ধরে ক্রুড তেল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। দেশে সর্বশেষ অপরিশোধিত তেলের চালান আসে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি। আগামী মে মাসের শুরুতে নতুন চালান আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইআরএলের কর্মকর্তারা জানান, কক্সবাজারের মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) পাইপলাইনে জমে থাকা প্রায় ৫ হাজার টন এবং চারটি ট্যাংকের তলানিতে থাকা ডেড স্টক ব্যবহার করে কয়েকদিন পরিশোধন কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছিল। মূল মজুত ৬ এপ্রিল শেষ হয়ে যাওয়ার পর এসব বিকল্প উৎসের তেল দিয়েই উৎপাদন চলছিল।

তথ্য মতে, ইআরএল সাধারণত দৈনিক গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড তেল পরিশোধন করে। তবে সংকটের কারণে গত মাস থেকে তা কমিয়ে দৈনিক ৩ হাজার ৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়। পাঁচটি ট্যাংকের তলানিতে থাকা প্রায় ৩৩ হাজার টন ডেড স্টক এবং এসপিএম থেকে আনা ৫ হাজার টন তেল দিয়ে এতদিন উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত এসব মজুতও শেষ হয়ে যাওয়ায় ক্রুড প্রসেসিং কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে ৬৮ থেকে ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে, যা ইআরএলে পরিশোধন করা হয়। ইআরএল এলপিজি, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন, ডিজেল ও ফার্নেসসহ মোট ১৬ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন করে। বাকি চাহিদা মেটাতে ভারত ও চীন থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়।

হজযাত্রীদের সেবা না করতে পারলে আমাদের পদত্যাগ করা উচিত: ধর্মমন্ত্রী

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, আমরা হজযাত্রীদের খাদেম। তাদের সেবা না করতে পারলে আমাদের পদত্যাগ করা উচিত। হজযাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। হাজী ক্যাম্প পরিদর্শন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

হজযাত্রাকে সামনে রেখে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আশকোনায় হজক্যাম্পে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে ধর্মমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন।

চলতি বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট উড়াল দেবে শুক্রবার রাতে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) থেকেই হজক্যাম্পে আসতে শুরু করেছেন হজযাত্রীরা। মন্ত্রী হজ ফ্লাইট উদ্বোধন অনুষ্ঠানের সামগ্রিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং হজক্যাম্পে সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

তিনি হজযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের হজযাত্রার প্রস্তুতি, থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য বিষয়েও খোঁজ নেন।

এ সময় ক্যাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের টিম লিডারদের সঙ্গে কথা বলেন ধর্মমন্ত্রী। তাদের উদ্দেশে শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন বলেন, হজযাত্রীরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে পবিত্র এই সফরে যেতে পারেন সে বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

তিনি হজযাত্রীদের সেবায় সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করার অনুরোধ জানান। হজ ক্যাম্পে ছারপোকা এবং মশার উপদ্রব নিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, যা করার দরকার তাই করবো।

কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে কাজ করছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেছেন, দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে অতীতের বিভিন্ন কৃষিবান্ধব উদ্যোগ আজও ইতিবাচক প্রভাব রাখছে। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় কৃষি ঋণমুক্তকরণ, সারের ভর্তুকি প্রদানসহ কৃষকদের জন্য নানা সহায়ক নীতি বাস্তবায়ন করা হয়েছিল, যা কৃষি খাতকে শক্তিশালী ভিত্তি দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে”—এই দর্শন থেকেই সেই সময়কার নীতিনির্ধারণ করা হয়েছিল।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বিবিরবাজার হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও একই কৃষিবান্ধব আদর্শে বিশ্বাসী। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর কৃষকদের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর মধ্যে কৃষি ঋণমুক্তকরণ কার্যক্রম জোরদার করা এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মতো উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য। নির্বাচনী ইশতেহারের ৩১ দফা প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, ভর্তুকি ব্যবস্থার সূচনা অতীতে হলেও বর্তমান সময়ে তা আরও সম্প্রসারিত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। কৃষকদের সহায়তায় সরকার নতুন নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করছে, যার মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিও রয়েছে। এর মাধ্যমে বহু কৃষক পরিবার ইতোমধ্যে উপকৃত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে জাতীয় অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে। কৃষকদের স্বাবলম্বী করে তোলা গেলে দারিদ্র্য হ্রাস পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ, যেখানে সারা বছরই বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। তাই কৃষিখাতকে আধুনিক ও লাভজনক করতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক ভিত আরও মজবুত হবে। সরকার সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে এবং কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই খাতে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানো, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ‘কৃষক কার্ড’-এর মাধ্যমে কৃষকরা সহজেই ভর্তুকি, প্রণোদনা ও বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন, যা তাদের উৎপাদন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করছে।

তিনি বলেন, সরকার কৃষকদের পাশে থেকে তাদের সক্ষমতা বাড়াতে নিরলসভাবে কাজ করছে। ভবিষ্যতে কৃষকদের আরও শক্তিশালী করে দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো হবে। কৃষিকে আধুনিক, লাভজনক ও তথ্যনির্ভর খাতে উন্নীত করতে প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো এই কৃষক কার্ড।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন, কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, কুমিল্লা সিটি প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া এবং আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ জোহরাসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী নির্বাচিত কৃষকদের মাঝে কৃষক কার্ড বিতরণ করেন এবং কৃষি বিভাগের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জীবনমান বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লায় মোট ১,৪৫৮ জন কৃষকের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করা হয়েছে।