বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

হাদির অপারেশন হবে সিঙ্গাপুরে, পরিবারের অনুমতি

ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র গুলিবিদ্ধ শরিফ ওসমান হাদির এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সিঙ্গাপুরেই অপারেশন করবার অনুমতি দেয়া হয়েছে। আজ (বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর) ওসমান হাদির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পোস্টে লেখা হয়, আপনারা দোয়া করুন আল্লাহ যেন তাকে হায়াতে তাইয়্যেবাহ নসিব করেন। আর ওসমান হাদি যদি রবের ডাকে সাড়া দিয়ে শহিদের কাতারে শামিল হয় সেক্ষেত্রে পুরো বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মজলুম জনতাকে সার্বভৌমত্ব নিশ্চিতকরণে শাহবাগে জড়ো হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে৷

আরও বলা হয়, খুনিরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত আমরা শাহবাগে অবস্থান করবো এবং পুরো বাংলাদেশকে অচল করে দেয়া হবে।

খুনি যদি ভারতে পালিয়ে যায় সেক্ষেত্রে ভারত সরকারের সাথে আলোচনা করে যেকোনো মূল্যে তাকে গ্রেপ্তারপূর্বক ফেরত আনতে হবে।

উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। ওইদিন দুপুর ১টার দিকে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেয়া হয় হাদিকে।

দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে হাদিকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্স শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়। এরপর বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটে সিঙ্গাপুরের সেলেতার বিমানবন্দরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি অবতরণ করে।

পরে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয় ওসমান হাদিকে। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে রাজধানীর বিজয়নগরে প্রকাশ্যে গুলি করা হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে বক্স কালভার্ট এলাকার সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

বিশ্বব্যাংকের সালিশি আদালতে এস আলমের বিরুদ্ধে লড়বে সরকার : গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, এস আলম গ্রুপ বিশ্বব্যাংকের সালিশি আদালত ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটসে যে আবেদন করেছে, তার বিরুদ্ধে আইনিভাবে লড়বে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গতকাল বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টার ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ ও পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান গভর্নর।

এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাইফুল আলম ও তার পরিবারের আইনজীবীরা গত ২৭ অক্টোবর ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটসে এই আবেদন জমা দেন। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এই খবর দিয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, সরকার তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দের পাশাপাশি সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছে। সেই সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে ‘ভিত্তিহীন’ তদন্ত করেছে। শুধু তাই নয়, এস আলম পরিবারের বিরুদ্ধে ‘প্ররোচনামূলক মিডিয়া অভিযান’ চালানো হয়েছে। আইনজীবীরা দাবি করেছেন, এসব কারণে এস আলম পরিবারের শত কোটি ডলার ক্ষতি হয়েছে।

আবেদনে অবশ্য তারা ক্ষতিপূরণের সুনির্দিষ্ট হিসাব উল্লেখ করেননি।

২০০৪ সালে বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তির আওতায় এই সালিশি মামলা করা হয়েছে। এস আলমের পরিবার বর্তমানে সিঙ্গাপুরে বসবাস করছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের খবর অনুযায়ী, পরিবারটি ২০২০ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করার পর ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছে।

এস আলমের পরিবারের অভিযোগ, এই পরিবারকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। যেমন, অযৌক্তিকভাবে সম্পদ জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করা এবং সম্পদ ধ্বংস করা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হওয়ার পর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়, সেই সরকার এস আলম পরিবারের বিরুদ্ধে এসব ব্যবস্থা নিচ্ছে।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘এস আলম দাবি করেছেন তিনি সিঙ্গাপুরের নাগরিক। আমরা দেখাবো যে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।

তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালক ছিলেন। চোরের মায়ের বড় গলা। আমরা মামলাটি লড়ব।’

বাংলাদেশি শিল্পীদের কাজ ‘চেটেপুটে খাই’ : সোহিনী

ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সোহিনী সরকার। নিজের সাবলীল অভিনয় দিয়ে দুই বাংলার দর্শকদের মনেই জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের নাটক ও সিনেমার নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের শিল্পীদের অভিনয় নিয়ে নিজের ভালো লাগা ও মুগ্ধতার কথা প্রকাশ করেছেন সোহিনী।

সাক্ষাৎকারে সোহিনী সরকার বিশেষভাবে উল্লেখ করেন আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরী জুটির কথা। তিনি বলেন, ‘মেহজাবীন আর নিশো দুজনের যে ডুয়োটা, সেটা আমার অপূর্ব লাগে। বিশেষ করে নিশোর কাজ আমার খুবই প্রিয়।’

বাংলাদেশের অভিনয় জগতের কিংবদন্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সোহিনী বলেন, ‘যখনই বাংলাদেশের অভিনেতাদের নিয়ে কথা হয়, তখনই হুমায়ুন ফরীদি, সুবর্ণা মুস্তাফা, মোশাররফ করিম কিংবা চঞ্চল চৌধুরীর নাম চলে আসে। এছাড়া জয়া আহসান বা অপি করিমও আমার খুব পছন্দের।’

তার কথায়, ‘আমরা যারা এপার বাংলা-ওপার বাংলার কাজ দেখি, তাদের কাছে বাংলাদেশের অনেক শিল্পীর কাজই দারুণ। সত্যি বলতে, বহু মানুষের কাজ আমরা একেবারে চেটেপুটে খাই যাকে বলে।’

বর্তমান প্রজন্মের অভিনেত্রীদের মধ্যে তাসনিয়া ফারিণের কাজের প্রশংসা করেন সোহিনী। পাশাপাশি নুসরাত ইমরোজ তিশার অভিনয়ের প্রতিও নিজের ভালো লাগার কথা জানান তিনি।

এমনকি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘চরকি’র একটি প্রজেক্টে সিয়ামের বিপরীতে শবনম বুবলীর অভিনয় দেখেও মুগ্ধ হয়েছেন এই অভিনেত্রী।

ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান সম্পর্কে সোহিনীর ভাষ্য, ‘শাকিব খানের কথা তো আলাদা করে বলার কিছু নেই, তিনি তো বিশাল স্টার।’ এছাড়া চিত্রনায়ক আরিফিন শুভর সাথে নিজের কাজের অভিজ্ঞতার কথাও স্মরণ করেন সোহিনী সরকার।

‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে প্রবাসীদের নিবন্ধন ছাড়াল ৪ লাখ ৮৩ হাজার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন দেশ থেকে ভোট দেওয়ার জন্য ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে প্রবাসী নিবন্ধন করেছেন ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৬৭৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৪ লাখ ৫৪ হাজার ১২৩ জন ও নারী ২৯ হাজার ৫৪৯ জন।

এছাড়া পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে দেশের মধ্য থেকে নিবন্ধন করেছেন ৫২ হাজার ১৫ জন। এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী ৫১ হাজার ৯৫৫ জন এবং নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত ৬০ জন।

দেশের মধ্যে পুরুষ ভোটার নিবন্ধন করেছেন ৫০ হাজার ৩৮২ জন ও নারী ভোটার ১ হাজার ৬৩৩ জন।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা পর্যন্ত ইসির পোস্টাল ব্যালটের ওয়েবসাইট (https://portal.ocv.gov.bd/report/by-country) থেকে বিষয়টি জানা গেছে।

এবারই প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটে ভোট নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। এক্ষেত্রে প্রবাসী, আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তি, ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিতরা এ ব্যবস্থায় ভোট দিতে পারবেন। এজন্য অ্যাপে নিবন্ধন করতে হবে। গত ১৯ নভেম্বর থেকে নিবন্ধন শুরু হয়েছে, যা চলবে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

যেসব দেশে নিবন্ধন চলছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, মিশর, মোজাম্বিক, লিবিয়া, মরিশাস, হংকং, ব্রাজিল, উগান্ডা, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, লাইবেরিয়া, বতসোয়ানা, কেনিয়া, রুয়ান্ডা, আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, তানজানিয়া, সোমালিয়া, ঘানা, গিনি, মরক্কো, দক্ষিণ সুদান, চিলি, সিয়েরা লিওন, ইকুয়েডর, তাইওয়ান, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, গাম্বিয়া, পেরু, জিম্বাবুয়ে, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ইত্যাদি।

ইসি জানিয়েছে, অ্যাপে নিবন্ধনকারীদের ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট ডাকযোগে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ভোটার ভোট দিয়ে ফিরতি খামে তা আবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন।

নির্বাচনী ফান্ড ও ক্যাম্পেইনের সবশেষ তথ্য জানালেন আসিফ মাহমুদ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়বেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তায় এ ঘোষণা দেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে নির্বাচনী ফান্ড এবং ক্যাম্পেইনের তথ্য জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘যেদিন বলেছিলাম নির্বাচন করতে অনেক অর্থের প্রয়োজন যা আমার নেই।

সেদিন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এক বোন পরিচিত এক ভাইয়ের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা পাঠান। অনুপ্রেরণা দেন যে আমাদের জনগণের রিপ্রেজেনটেটিভ হওয়া প্রয়োজন। গণ-অভ্যুত্থানের আওয়াজ সংসদ পর্যন্ত পৌঁছানো জরুরি।’
সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, ‘সেদিন সাহস পেয়েছিলাম নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার।

যেমনভাবে লাখো জনতার মিছিল আমাদের পৌঁছে দিয়েছিল গণভবন। পালাতে বাধ্য করেছিল স্বৈরাচারকে। জনগণের সহযোগিতা, সমর্থনই আমার একমাত্র ভরসা।’
নির্বাচনী ক্যাম্পেইন সম্পর্কে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা স্বেচ্ছাসেবক আহ্বান করেছিলাম নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের জন্য।

মোট ৬২৮৪ জন আবেদন করেছেন ইতিমধ্যেই। যার একটা উল্লেখযোগ্য অংশই ঢাকা-১০ আসনের বাসিন্দা। আমরা দ্রুতই আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করব।’

খুলনার সাবেক এমপি বাবুর পিএস নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তাজ আটক

নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের খুলনা জেলা শাখার সাবেক সহসভাপতি ও খুলনার সাবেক সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবুর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) তসলিম হুসাইন তাজকে আটক করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের নগর গোয়েন্দা (ডিবি) শাখা।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ১৫ মিনিটে নগরীর ফরাজিপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, আটকের পর তসলিম হুসাইন তাজকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

প্রয়োজনে তাকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে।
ডিবি সূত্র জানায়, তসলিম হুসাইন তাজ দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি, নাশকতা পরিকল্পনা এবং সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। নাশকতামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতার তথ্যও রয়েছে।

খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি তৈমুর ইসলাম জানান, তসলিম হুসাইন তাজ বর্তমান সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে খুলনায় অবস্থান করছিলেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

গোপালগঞ্জে ‘ঘুষের’ ১০ লাখ টাকাসহ সড়ক বিভাগের পিয়ন আটক

গোপালগঞ্জে নিয়মিত চেকপোস্ট চলাকালে ১০ লাখ টাকা ও শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের পিয়নসহ ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।গতকাল বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে তাদের আটক করা হয়। রাত ১১টার দিকে গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের মিডিয়া গ্রুপে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

গোপালগঞ্জ সড়ক সার্কেলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের একটি কাজের দরপত্রের অনুমোদনের জন্য ঘুষ হিসেবে পিয়ন এ টাকা এনেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আটকরা হলেন—শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের পিয়ন এবং মাদারীপুর জেলার সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর খসরু গ্রামের মৃত কালু মোল্যার ছেলে মোশারফ হোসেন (৬০) ও প্রাইভেট কারচালক শরীয়তপুর জেলার পালং থানার দক্ষিণ মধ্যপাড়া এলাকার মৃত সোহরাব ব্যাপারীর ছেলে মো. মনির হোসেন (৪০)।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গোপালগঞ্জ শহরের পুলিশ লাইন্স মোড়ে নিয়মিত চেকপোস্ট চলাকালে বিকেল ৪টার দিকে একটি প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো গ-০৭-৬৮৪১) থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। প্রাইভেট কারের ভেতরে থাকা একটি ব্যাগের মধ্যে ও ২টি খামে মোট ১০ লাখ টাকা পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে প্রাইভেট কারের আরোহী মোশারফ হোসেন অসংলগ্ন কথাবার্তা বলায় পু‌লি‌শের সন্দেহ হয়।

এক পর্যায়ে তিনি এ টাকা গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগের সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদ হোসেনকে (সরকারি কর্মকর্তা) দেওয়ার জন্য নিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান।
চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের এতে সন্দেহ হলে উল্লেখিত প্রাইভেট কার ও টাকা তারা জব্দ করেন। এসময় পিয়ন ও ড্রাইভারকে আটক করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ সদর থানায় বুধবার রা‌তে পু‌লি‌শের পক্ষ থে‌কে মামলা দা‌য়ের হ‌য়ে‌ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সড়ক বিভাগের দায়িত্বশীল একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের একটি কাজের দরপত্রের অনুমোদনের জন্য ওই টাকা গোপালগঞ্জ সড়ক সার্কেলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে দেওয়ার জন্য আনা হয়েছিল। এখন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাদেকুল ইসলাম ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিকরুল ইসলাম কৌশলে এ ঘটনার দায় নিরপরাধী সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদ হোসেনের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। এতে সড়ক বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে গোপালগঞ্জ সড়ক সার্কেলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাদেকুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হয়। তিনি ফোন ধরেননি।

আজ বৃহস্পতিবার ওই দুজনকে মামলা দিয়ে আদালতের মাধ‌্যমে জেল হাজ‌তে পাঠা‌নো হ‌য়ে‌ছে।

প্রাক্তন স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করলেন কুমার শানু

জনপ্রিয় ভারতীয় সংগীতশিল্পী কুমার শানু ও তার প্রাক্তন স্ত্রী রীতা ভট্টাচার্যের মধ্যকার দীর্ঘদিনের তিক্ততা এবার আদালতের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। রীতার করা মানহানিকর মন্তব্যের জেরে মুম্বাই হাইকোর্টে মামলা করেছেন এই কিংবদন্তি গায়ক। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩০ লাখ রুপি দাবি করেছেন তিনি।

ভারতীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচ্ছেদের প্রায় ২০ বছর পর সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কুমার শানুর বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু অভিযোগ তোলেন রীতা ভট্টাচার্য।

তার দাবি ছিল, অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন শানু তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়েছিলেন।
এমনকি ঠিকমতো খাবার ও ওষুধের খরচ পর্যন্ত দিতেন না। জীবন বাঁচাতে রীতাকে নিজের গয়না পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়াও শানুর একাধিক বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন রীতা।

প্রাক্তন স্ত্রীর এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন কুমার শানু। গায়কের দাবি, এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ৪০ বছরের ক্যারিয়ারে গড়ে তোলা তার পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি নষ্ট করা হয়েছে।

শানুর আইনজীবী সানা রইস খানের মাধ্যমে পাঠানো ওই নোটিশে ইন্টারনেটে থাকা সেই বিতর্কিত সাক্ষাৎকারের ভিডিওগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শানুর আইনজীবীর দাবি, ‘কুমার শানু চার দশক ধরে সুরের জাদুতে কোটি কোটি মানুষকে মুগ্ধ করেছেন। সস্তা প্রচারের আশায় করা এসব মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে গুণী এই শিল্পীকে কলঙ্কিত করা যাবে না।’
প্রসঙ্গত, গত সেপ্টেম্বর মাসেই রীতাকে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন শানু। তবে তাতে কোনো সমাধান না হওয়ায় এবার বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হলেন ‘মেলোডি কিং’। দীর্ঘ দুই দশক পর এই প্রাক্তন দম্পতির আইনি লড়াই এখন শোবিজ পাড়ায় আলোচনার তুঙ্গে।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের মতোই স্থিতিশীল : এ জেড এম জাহিদ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি আগের মতোই চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।

এ কথা জানিয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘তাঁর (খালেদা জিয়া) অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। এখন পর্যন্ত চিকিৎসকদের পরামর্শ মোতাবেক যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তা তিনি ঠিকমতো গ্রহণ করতে পারছেন।’

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এভারকেয়ার হাসপাতালের বাইরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ কথা জানান।

খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে উঠবেন এমন আশা ব্যক্ত করে অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন আরো বলেন, ‘ম্যাডামের সাথে সম্পৃক্ত আমরা, এই হাসপাতালের চিকিৎসকরা অত্যন্ত আশাবাদী যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে যাবেন।’

‘তারপরেও মনে রাখতে হবে, ওনার বয়সের চেয়ে বেশি যে অসুস্থতা এবং ওনাকে পরিকল্পিতভাবে যে রকম অসুস্থ অবস্থার মধ্যে বিগত সময়ে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, চিকিৎসা দেওয়া যায়নি অথবা দিতে দেওয়া হয়নি সে কারণেই তাঁর শারীরিক জটিলতা মারাত্মকভাবে বেড়ে গিয়েছে, এবার উনি বেশি সময় পার করছেন।’

জাহিদ বলেন, এ বিষয়ে আমি শুধু আপনাদের এইটুকু অবহিত করতে চাই। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান সবসময় ওনার চিকিৎসার ব্যাপারে সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করছেন। এছাড়া ওনার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী সৈয়দ শামিলা রহমান, ম্যাডামের ভাই শামীম এস্কান্দার, বড় বোন সেলিনা ইসলামসহ পরিবারের সদস্যরা সার্বক্ষণিকভাবে আছেন, খোঁজ-খবর রাখছেন। তাঁর পাশে তো আর থাকা যাচ্ছে না যেহেতু উনি ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে আছেন। তাঁরা হাসপাতালে অথবা হাসপাতালের বাইরে অবস্থান করে ম্যাডামের চিকিৎসার ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছেন।

এছাড়া অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান, উপদেষ্টাগণ, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যগণ, এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অধ্যাপক জাহিদ।

নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার এই ব্যক্তিগত চিকিৎসক বলেন, এই হাসপাতালে আরো অনেক রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। সেই সকল রোগীর চিকিৎসা যাতে কোন ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহযোগিতা করছেন। আমি আপনাদের মাধ্যমে সকলকে অনুরোধ করতে চাই, এই হাসপাতাল সবার জন্য উন্মুক্ত। এ হাসপাতালের সেবা গ্রহণ করার সুযোগ সবারই আছে।’

‘কাজেই কোন অবস্থাতেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য আপনাদের চিকিৎসার কোন ব্যাঘাত ঘটবে না এবং আমরা কোন নেতাকর্মী কোন ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করবো না। এটা আমরা বিশ্বাস করি, এটা আমরা আশা রাখি।’

উল্লেখ্য, গত ২৩ নভেম্বর খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। এর তিনদিন পর তাঁর ফুসফুসে সংক্রমণ হলে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দিচ্ছে অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে দেশী-বিদেশী চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড।

মালয়েশিয়ায় সাঁড়াশি অভিযানে ৭২ বাংলাদেশিসহ ৪০২ জন আটক

অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে মালয়েশিয়ার দুই রাজ্যে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে ৭২ জন বাংলাদেশিসহ মোট ৪০২ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।

ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, জোহর বাহরুর তেব্রাউ শিল্প এলাকায় একটি কম্পিউটার যন্ত্রাংশ কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৩৫৬ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়। বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়া এই অভিযানে পরিকল্পিতভাবে অবৈধ প্রবাসী শ্রমিক নিয়োগের তথ্যের ভিত্তিতে কারখানাটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জোহর ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক দাতুক মোহদ রুসদি মোহদ দারুস জানান, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা সংস্থা (একেপিএস)-এর সহযোগিতায় জেআইএম জোহরের এনফোর্সমেন্ট শাখা অভিযানটি পরিচালনা করে। অভিযানে দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক বিদেশি বৈধ ভ্রমণ নথি ও পারমিট ছাড়াই সেখানে কাজ করছিলেন।

তিনি বলেন, অভিযানের সময় কয়েকজন বিদেশি পালানোর চেষ্টা করলেও সব বহির্গমন পথ দ্রুত বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এ ঘটনায় তদন্তে সহায়তার জন্য কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের দুইজন স্থানীয় পুরুষ কর্মীকেও আটক করা হয়েছে।

আটকদের মধ্যে ২৯৯ জন মিয়ানমারের নাগরিক, ২৬ জন বাংলাদেশি, ২২ জন ভারতীয়, তিনজন ইন্দোনেশীয়, দুইজন নেপালি এবং একজন করে পাকিস্তান ও ফিলিপাইনের নাগরিক রয়েছেন। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৪৬ বছরের মধ্যে।

দাতুক মোহদ রুসদি আরও জানান, কারখানাটিতে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সুসংগঠিত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগসংক্রান্ত শর্ত ভঙ্গও অন্তর্ভুক্ত। আটক সবাইকে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ ও ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩-এর আওতায় সন্দেহভাজন হিসেবে সেতিয়া ট্রপিকা ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, অবৈধ শ্রমিক নিয়োগ করে যারা মুনাফা অর্জন করছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো আপস করা হবে না। জোহরজুড়ে ধারাবাহিক ও সমন্বিত অভিযান চালিয়ে অবৈধ নিয়োগচক্র ভেঙে দেওয়া হবে।

এদিকে, নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যের নিলাই এলাকায় একটি ইস্পাত কারখানায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে ৪৬ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। আটক সবাই বাংলাদেশি নাগরিক।