বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করলেন জামায়াত আমির

শহীদ শরীফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় শেষে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি কবর জিয়ারত করেন।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফারহাদ সহ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।

কবর জিয়ারত শেষে জামায়াত আমির শহীদ ওসমান হাদির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড স্মরণ করে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

ইনকিলাব মঞ্চের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের হাদি হত্যাকারীকে এক সপ্তাহেও গ্রেপ্তার না করতে পারার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদাবক্স চৌধুরীকে তাদের সপ্তাহব্যাপী তদন্ত ও পদক্ষেপ সম্পর্কে জনগণকে জানানোর দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) হাদির জানাজার প্রাক্কালে পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের কোনো ধরনের সহিংসতার প্রতি সমর্থন না দিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির জানাজা ও দাফন শেষে উপস্থিত জনসাধারণকে শাহবাগে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চ থেকে পরবর্তী সব সিদ্ধান্ত জনগণকে জানানো হবে।’

জানাজার অনুষ্ঠানে ধর্ম উপদেষ্টা হাদির আত্মার শান্তি কামনা করে সবার কাছে দোয়া চান। এরপর বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টা। হাদির বড় ভাইও বক্তব্য রাখেন এবং তিনিই জানাজার নামাজে ইমামতি করেন।

জানাজায় প্রধান উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দিপু দাসকে পিটিয়ে হত্যা, চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল র‌্যাব

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে হত্যার আগে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করেন কারখানার ফ্লোর ম্যানেজার। এরপর তাকে উত্তেজিত জনতার হাতে তুলে দেওয়া হয়।

আজ শনিবার (২০ ডিসেম্বর) এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ১০ জনের তথ্য সাংবাদিকদের অবহিত করতে গিয়ে র‌্যাব-১৪-এর পরিচালক নাইমুল হাসান এই চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন।

এরই মধ্যে পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেড কম্পানির ফ্লোর ম্যানেজার আলমগীর হোসেনকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তার সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছেন কারখানার কোয়ালিটি ইনচার্জ এবং মিরাজ হোসেন আকন (৪৬)।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা নাইমুল হাসান বলেন, ‘ঘটনার সূত্রপাত হয় বিকেল ৪টার সময়। ফ্যাক্টরির ফ্লোর ইনচার্জ তাকে (দিপুকে) ইস্তফা দিতে বাধ্য করেন। ইস্তফা দেওয়ার পর উত্তেজিত জনতার কাছে তিনি (ফ্লোর ম্যানেজার) হ্যান্ডওভার করে দেন।
পুলিশের কাছে কেন দেননি, তার নিরাপত্তা কেন নিশ্চিত করেননি সে জন্য পাইওনিয়ার কারখানার দুজনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি।’

এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা বারবার চেষ্টা করেছি, কাকে বলেছে, কী বলেছে, এটা কিন্তু কেউ বলতে পারেনি। আমার মনে হয়, উত্তেজিত জনতা কিংবা পূর্বের কোনো শত্রুতা ছিল কি না, সেটাও তদন্ত করে দেখব। একটা লোককে এই অভিযোগে মেরে ফেলা এবং গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে তাকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা কোনোভাবেই আইনে কভার করে না এবং সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও এটাকে গ্রহণযোগ্য মনে করে না।

মামলা যেহেতু থানায় হয়েছে, ফলে থানা এই মামলা তদন্ত করবে। পাশাপাশি র‌্যাবের ‘ছায়া-তদন্তের’ কথাও জানান পরিচালক নাইমুল হাসান।

গ্রেপ্তার অন্য আটজন হলেন তারেক হোসেন (১৯), লিমন সরকার, মানিক মিয়া (২০), এরশাদ আলী (৩৯), নিঝুম উদ্দিন (২০), আজমল হাসান সগীর (২৬), শাহিন মিয়া (১৯) এবং মো. নাজমুল। শেষ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

র‌্যাব-১৪-এর পরিচালক নাঈমুল হাসান বলেন, এরা কেউ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত না।
বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে ভালুকা উপজেলায় ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে যুবক দিপু চন্দ্র দাসকে (২৮) পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তার লাশে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং অর্ধপোড়া লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে দিপুর ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় ১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

জাতীয় নির্বাচনের তফসিল সংশোধন ইসির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার আয়োজন করা হবে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোটগ্রহণ চলবে। আগামী ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন।

গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

তবে, ১৮ ডিসেম্বর তফসিল সংক্রান্ত সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের সময় দু’দিন কমিয়ে আপিল নিষ্পত্তির সময় দু’দিন বৃদ্ধি করেছে ইসি।

ইসির সংশোধিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের তারিখ ৫ থেকে ১১ জানুয়ারি, সোমবার থেকে রোববারের পরিবর্তে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি, সোমবার থেকে শুক্রবার হবে।’

‘আপিল নিষ্পত্তির তারিখ ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি, সোমবার থেকে রোববারের পরিবর্তে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি, শনিবার থেকে পরের সপ্তাহের রোববার পর্যন্ত হবে।

ইসির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের (অতঃপর সংবিধান বলে উল্লিখিত) অনুচ্ছেদ ৬৫-এর অধীন সংসদ গঠন করার লক্ষ্যে সংসদ-সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা প্রয়োজন; সেহেতু, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ১১ এর দফা (১) অনুসারে, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, জাতীয় সংসদ গঠন করার উদ্দেশ্যে প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকা হতে একজন সদস্য নির্বাচনের জন্য ভোটারদের আহ্বান জানাচ্ছে এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নিম্নবর্ণিত সময়সূচি ঘোষণা করছে—’

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের তারিখ ৫ জানুয়ারি সোমবার থেকে ৯ জানুয়ারি শুক্রবার পর্যন্ত।

আপিল নিষ্পত্তির তারিখ ১০ জানুয়ারি শনিবার থেকে ১৮ জানুয়ারি রোববার পর্যন্ত।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার। প্রতীক বরাদ্দের তারিখ ২১ জানুয়ারি বুধবার। ভোটগ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার। সূত্র : বিএসএস।

আমিরাতে রজব মাসের চাঁদ দেখা গেছে

মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে দেখা গেছে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রজবের চাঁদ। ফলে কাল রবিবার (২১ ডিসেম্বর) আরবি বর্ষপঞ্জিকার সপ্তম মাস রজবের প্রথম দিন হবে। আর রজবের চাঁদ দেখা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে গেছে পবিত্র রমজান মাসের ক্ষণগণনা।

আজ শনিবার সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ আরব আমিরাতে চাঁদ দেখার তথ্য জানিয়েছে।

রজব চারটি পবিত্র মাসের মধ্যে অন্যতম একটি। মুসলিমদের কাছে রজব মাসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই মাস থেকেই মূলত পবিত্র রমজানের প্রস্তুতি শুরু হয়। রজব ও এর পরের মাস শা’বান শেষ হলেই আসে রহমতের মাস রমজান।

রজব ও শাবান মাস যদি ২৯ বা ৩০ দিন পূর্ণ করে, তবে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে আগামী ৬০ থেকে ৬১ দিনের মধ্যেই রমজান শুরু হতে যাচ্ছে।

সৌদিতে বিরল তুষারপাত

সৌদি আরবের তাবুক ও হাইল অঞ্চলে বিরল তুষারপাতের দেখা মিলেছে। এতে করে উৎসবে মেতেছেন স্থানীয়রা। গতকাল শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে সৌদি আরবের তাবুক ও হাইল অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকাগুলো হঠাৎ করেই তুষারে ঢেকে গেছে। বিরল এই তুষারপাতে দেশটির বাসিন্দাদের জন্য এক ব্যতিক্রমী শীতকালীন অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে। এতে করে অনেকে ঘর থেকে বের হয়ে উদযাপন ও বিনোদনে মেতে ওঠে।

গালফ নিউজ জানিয়েছে, জর্ডান সীমান্তসংলগ্ন জাবাল আল লাওজ এলাকায় পাহাড়ের চূড়াগুলোতে তুষার জমেছে। এই দৃশ্য উপভোগ করতে স্থানীয়রা পরিবার ও বন্ধুদের দল সেখানে জড়ো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, মানুষ তুষার ঢাকা ঢালে হাঁটছে, ছবি তুলছে, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশন করছে এবং কেউ কেউ তাৎক্ষণিকভাবে বানানো সরঞ্জাম দিয়ে ঢাল বেয়ে স্কি করছে।

সৌদি আরবের অন্যতম উঁচু শৃঙ্গ জাবাল আল লাওজে অনেককে বরফের ওপর থেকে দেখা যায়। হাসি-উল্লাসের মধ্য দিয়ে তারা এই বিরল শীতকালীন সুযোগ উপভোগ করে। স্কি করা ও তুষারের মধ্যে খেলাধুলার ভিডিও দ্রুতই ভাইরাল হয়ে যায়, যেখানে অনেকেই এই অভিজ্ঞতাকে ‘ঐতিহাসিক’ ও ‘ভোলার নয়’ বলে বর্ণনা করেছেন।

সৌদি গণমাধ্যম জানিয়েছে, হাইলের বিভিন্ন অংশ ও এর পশ্চিমাঞ্চলেও তুষারপাত হয়েছে। পাশাপাশি রিয়াদের উত্তরে আল ঘাত এলাকায় হালকা তুষারপাতের ছবি শেয়ার করেছেন স্থানীয়রা। এই ঘটনাকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সম্ভবত কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম।

ইরানি তেল পরিবহনের অভিযোগে ২৯ জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় নতুন করে ২৯টি জাহাজ এবং তাদের পরিচালন সংস্থাকে ইরানের তেল ও তেলজাত পণ্য পরিবহনের অভিযোগে নিষিদ্ধ করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এই জাহাজগুলো ব্যবহার করে শত শত মিলিয়ন ডলারের ইরানি তেল পরিবহন করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় একজন মিশরীয় ব্যবসায়ীও রয়েছেন, যার মালিকানাধীন বা সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো ২৯টি ট্যাংকারের মধ্যে সাতটির সঙ্গে যুক্ত।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই জাহাজগুলো ইরানের তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্কিত আরও কিছু শিপিং কোম্পানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া, এসব জাহাজ সমুদ্রপথে ইরানি অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেল পরিবহনে জড়িত ছিল।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইরানি তেল পরিবহনের অভিযোগে মোট ১৮০টির বেশি জাহাজে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

তবে ট্যাংকার ট্র্যাকার এবং অন্যান্য পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা জোরদার হলেও ইরানের প্রধান ক্রেতা চীন বরং আরও বেশি ইরানি তেল আমদানি করছে। এটি ওয়াশিংটনের জন্য উদ্বেগের বিষয় হিসেবে ধরা হচ্ছে।

ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জাতিসংঘ মহাসচিবের, বিচার নিশ্চিতের আহ্বান

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই যোদ্ধা শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার নিশ্চিতের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) গুতেরেসের মুখপাত্র স্টেফানে দুজারিক নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “মহাসচিব আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সাথে সংগতি রেখে একটি দ্রুত, নিরপেক্ষ, পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়ছেন।” এছাড়া ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে নির্বাচনের একটি সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে সংযম প্রদর্শনের অনুরোধও করেছেন তিনি।

মহাসচিবের মতো একই আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। তিনি ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে ভলকার তুর্ক বলেন, “প্রতিশোধ ও বিদ্বেষ কেবল বিভাজন বাড়াবে এবং সবার অধিকার ক্ষুণ্ন করবে। কর্তৃপক্ষকে ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানা‌চ্ছি।”

‌তি‌নি ব‌লেন, “ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ সময় কিছু ভবন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়েছে এবং সাংবাদিকরাও হামলার শিকার হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।”

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ব‌লেন, “নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক জীবনে অংশ নেওয়া এবং ভিন্ন মত প্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত করা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তি‌নি আরও উল্লেখ করেন, “তার অফিস কর্তৃপক্ষ ও সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত, যাতে মানবাধিকার রক্ষা এবং সহিংসতা প্রতিরোধে সহায়তা করা যায়।”

সূত্র: ইউএন

ইসরায়েলি গুপ্তচরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান

দখলদার ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এক গুপ্তচরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দেশটির জুডিশিয়াল কাউন্সিল এ ঘোষণা দিয়েছে। চলতি বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনের যুদ্ধ হয়। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরই মোসাদের গুপ্তচরদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় শুরু করে তেহরান।

ইরানের বিচার বিভাগ বিষয়ক বার্তাসংস্থা মিজান জানিয়েছে, আঘিল কেশাভার্জ নামে এ ব্যক্তিকে শরিবার ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।

২৭ বছর বয়সী এ গুপ্তচার পেশায় আর্কিটেকচার ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। তাকে এ বছরের শুরুতে উত্তরপূর্বাঞ্চলের উরমিয়া শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেনাবাহিনীর একটি টহল দল তাকে সেনাবাহিনীর হেডকোয়ার্টারের ছবি তোলার সময় হাতেনাতে ধরে ফেলে।

জুনের পর থেকে ইসরায়েলি গুপ্তচরদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা বেড়ে গেছে। শুধুমাত্র গত সেপ্টেম্বর মাসেই ১০ জনকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে।

ইরান তখন জানিয়েছিল, তারা এমন এক গুপ্তচরের দণ্ড কার্যকর করেছে। যে ইরানের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইসরায়েলি গুপ্তচর।

গত অক্টোবরে ইরান গুপ্তচরগিরির বিরুদ্ধে কঠোর আইন করে। ওই আইনে বলা হয়, যদি কেউ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হয়ে কাজ করে এবং অপরাধ প্রমাণিত হয় তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়ে যাবে। এ কাজে জড়িতদের মৃত্যুদণ্ড ব্যতিত অন্য কোনো দণ্ড দেওয়া যাবে না। এছাড়া দণ্ডপ্রাপ্তের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের ধারাও রাখা হয় আইনে।

সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড পাওয়া এ গুপ্তচর এনক্রিপটেড ম্যাসেজিং প্লাটফর্মের মাধ্যমে মোসাদ ও ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কাজ শেষ করার পর তাকে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা হয়।

সূত্র: আলজাজিরা

ইমরান-বুশরাকে ১৭ বছর কারাবাসের সাজা দিলেন আদালত

বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের থেকে প্রাপ্ত উপহার নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় (তোশাখানা মামলা) পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছর কারাবাসের সাজা দিয়েছেন পাকিস্তানের একটি আদালত।

আজ শনিবার রাজধানী ইসলামাবাদের জবাবদিহিতা আদালতের (অ্যাকাউন্টিবিলিটি কোর্ট) স্পেশাল জজ শাহরুখ আরজুমান্দ এই রায় ঘোষণা করেছেন।

২০২২ সালের এপ্রিলে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে ক্ষমতা হারানোর প্রায় দেড় বছর পর, ২০২৩ সালের আগস্টে গ্রেপ্তার করা হয় ইমরান খানকে। প্রথমে তাকে পাঞ্জাবের অ্যাটক কারাগারে রাখা হয়েছিল, পরে সেপ্টেম্বরে আদিয়ালা কারাগারে স্থানান্তর করা হয় তাকে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে আদিয়ালা কারগারেই আদালতের এজলাস বসেছিল বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এএফপি। তোশাখানা সম্পর্কিত দু’টি মামলায় ইমরান ও বুশরাকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে।

মামলায় কারাবাসের সাজার পাশাপাশি ইমরান ও বুশরার প্রত্যেককে ১ কোটি ৬৪ লাখ রুপি করে জরিমাণা প্রদানেরও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগেও তোশাখানা সংক্রান্ত একটি মামলায় ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে ১০ বছর কারাবাসের সাজা দিয়েছিলেন নিম্ন আদালত; তবে পরে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট সেই সাজা মওকুফ ঘোষণা করেছিলেন।

গত শতকের সত্তরের দশকে পাকিস্তানের সরকারি একটি বিভাগ হিসেবে তোশাখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই বিভাগ প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, আইনপ্রণেতা, সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও অন্যান্য বিশিষ্ট জনদের দেওয়া উপহার জমা রাখে।

আইন অনুযায়ী, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী, আইনপ্রণেতা বা সরকারের পদস্থ কর্মকর্তাদের পাওয়া সব উপহার অবশ্যই এই বিভাগে জমা দিতে হবে। যারা এসব উপহার পেয়েছেন পরে তারা সেগুলো সরকার নির্ধারিত মূল্যে কিনে নিতে পারবেন। সেই মূল্যের পরিমাণ খুব বেশি নয়।

তোশাখানা থেকে উপহার কেনার পর তা বাইরে বিক্রি করে দেওয়া অবৈধ নয়, তবে পাকিস্তানে একে অনেকেই অনৈতিক বা নীতিগতভাবে ভুল মনে করেন।

ইমরান খানের বিরুদ্ধে তোশাখানা দুর্নীতি সংক্রান্ত বিতর্ক শুরু হয় ২০২১ সালে। পরে ২০২২ সালের আগস্টে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনে এ ইস্যুতে লিখিত অভিযোগ জমা দেন পাকিস্তান মুসলি লীগ নওয়াজের (পিএমএলএন) সদস্য মোহসিন নওয়াজ রানঝা।

অভিযোগে বলা হয়, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকার সময় বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান এবং সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোট ৫৮টি দামি উপহার পেয়েছিলেন ইমরান খান। এসব উপহারের সবগুলো তিনি তোশাখানায় জমা দেননি এবং যেসব উপহার জমা দিয়েছেন— সেগুলো সরকারের বেঁধে দেওয়া মূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে কিনেছেন এবং বাইরে বিক্রি করে দিয়েছেন।

বাইরে বিক্রি করা উপহারগুলোর মধ্যে কিছু দামি হাতঘড়িও রয়েছে। এসব হাতঘড়ির আনুমানিক মূল্য ১৪ কোটি ২০ লাখ রুপি।

সূত্র : এএফপি