বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

ধানমন্ডিতে ছায়ানট ভবনে হামলা ভাঙচুর মামলায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জন অজ্ঞাতনামা

রাজধানীর ধানমন্ডিতে ছায়ানট ভবনে হামলা ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা হয়েছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে ঢাকার ধানমন্ডি থানায় এই মামলা করেন ছায়ানটের প্রধান ব্যবস্থাপক দুলাল ঘোষ। ধানমন্ডি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, মামলায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জন অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীকে আসামি করা হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট করে কারও নাম দেওয়া হয়নি। গুলিবিদ্ধ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে গেল বৃহস্পতিবার রাতে ধানমন্ডিতে ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে হামলা হয়। ছায়ানটের ছয়তলা ভবনের প্রতিটি তলাতেই ভাঙচুর চালানো হয়। ভবনের নিচতলায় অগ্নিসংযোগও করা হয়। এই ভবনের শ্রেণিকক্ষগুলোর সিসি (ক্লোজড সার্কিট) ক্যামেরা, কম্পিউটার, আসবাব, বাদ্যযন্ত্র তছনছের পাশাপাশি বেশ কিছু ল্যাপটপ ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম লুটপাটও হয়

মার্কা যাই হোক, সরাইল-আশুগঞ্জ থেকেই নির্বাচন করবো: রুমিন ফারহানা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন না পেলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ‘মার্কা যাই হোক, সরাইল-আশুগঞ্জ থেকেই নির্বাচন করবো।’

গতকাল (শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর) সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বিটঘর বাজারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি যা বলি, আমি তাই করি; এইটা ভালো হলে ভালো, মন্দ হলে আমার কিছু করার নেই। আপনারা যদি আমার পাশে থাকেন, মার্কা যা-ই হোক, নির্বাচন করব আমি সরাইল-আশুগঞ্জ থেকেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা পাশে থাকলে আমি বাংলাদেশ জয় করতে পারি, সরাইল-আশুগঞ্জকে অন্য রূপ দিতে পারি, আমার বাবার অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করতে পারি। বাকি জীবন আপনাদের পাশে থেকে কাজ করব।’

উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী রুমিন ফারহানাসহ অর্ধডজন বিএনপি নেতা। তবে এ আসনটিতে এখনও দলীয় প্রার্থী দেয়নি বিএনপি।

তারেক রহমানের দেশে ফেরার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন

তারেক রহমানের দেশে ফেরার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিএনপি। নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেয়া হয়েছে সব ধরনের ব্যবস্থা। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, দল থেকে তারেক রহমানের নিরাপত্তার সব প্রস্তুতি নিলেও দুশ্চিন্তার জায়গা রয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারে ভূমিকাকে মুখ্য মনে করছেন তারা। আর এসব বিবেচনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নিরাপত্তায় কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তা নেয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

তারেক রহমান নিজেই দেশে ফেরার ঘোষণা দেয়ার মধ্যে দিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেলো ২৫ ডিসেম্বরে ফিরছেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয় সেদিন বেলা ১২টা নাগাদ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে বহনকারী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমানের যেটা নিয়মিত ফ্লাইট সেটাতেই তিনি আসছেন। এটার ল্যান্ডিং টাইম ১১টা ৫৫ মিনিট বাংলাদেশ বিমানবন্দরে।’

দেশে ফিরে গুলশানের ১৯৬ নম্বরের এ বাড়িতেই উঠবেন তারেক রহমান, যা ইতিমধ্যে পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। নিশ্চিত করা হয়েছে শতভাগ নিরাপত্তা। বাড়ির পুরো আঙ্গিনা ও সড়কেও বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা, দেয়াল জুড়ে তারকাঁটা ও নিরাপত্তা রক্ষীদের কঠোর পাহাড়া।

ভূরাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মো. জগলুল আহসান বলেন, ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের যে আদর্শ সে আদর্শকে ধারণ করে তিনি সামনে নিয়ে যাবেন। এ আদর্শকে ধারণ করতে গেলে বা সে অনুযায়ী কাজ করতে গেলে রিজিওনাল কোনো পাওয়ারের কোনো স্বার্থ আঘাত হানবে কী না এগুলো কিন্তু ভাবার অবকাশ রয়েছে। চায়না, ইউএসএ এবং ইন্ডিয়া তারা ইন্ডিয়া স্টেটস পাওয়ারে জড়িত যেখানে বাংলাদেশে একটা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। সেখানে নিয়ন্ত্রণ রাখতে তারা নিজেদের একটা সরকার রাখার চেষ্টা সবসময় করবে।’

তবে সম্প্রতি ওসমান হাদির ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের ভূমিকাই সবচেয়ে মুখ্য বলে মনে করেন এ বিশ্লেষক। এছাড়াও তারেক রহমানের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা জোরদারে কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তা নেয়ার পরামর্শ তার।

কর্নেল মো. জগলুল আহসান বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা দিয়ে এসএসএফের প্রটোকল দেয়া হয়েছে৷ সেভাবে রাষ্ট্র চিন্তা করলে তাকেও সেরকম এসএসএফ বা সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা প্রটোকল দেয়া যেতে পারে। কিছু ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটির বিষয় থাকে, কিছু ইন্টারনাল সিকিউরিটির ব্যাপার থাকে, অর্গানাইজেশন থাকে সেগুলোর মাধ্যমে কিন্তু ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। সবভাবে আপনাকে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতার পালাবদলের রাজনীতি যখন দৃশ্যমান, সর্বত্র দেশের নিরাপত্তা নিয়ে নেতিবাচক প্রশ্ন, সেসময় বিএনপির প্রধান নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত কতটা সম্ভব সে প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে।

জামায়াতে যোগ দেয়ায় হঠাৎ আমার দাম বেড়ে গেছে: মেজর আখতারুজ্জামান

যে কথায় জামায়াত কষ্ট পায়, সে কথা বলবেন না বলে জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন। এজন্য নিজের জবান কাটতেও রাজি তিনি।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার গচিহাটা কলেজ মাঠে আয়োজিত এক কৈফিয়ত সভায় তিনি বলেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি- যে কথায় জামায়াতে ইসলামী কষ্ট পায়, সেই কথা বলব না। প্রয়োজনে আমার জবান কেটে দেব। কারণ তারা আমাকে আশ্রয় দিয়েছে। আমি তাদের ভালো-মন্দের সঙ্গে থাকব। জামায়াত তাদের রাজনীতি করবে, এগিয়ে যাবে।’

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী আমাকে আশ্রয় দিয়েছে। তারা যদি আমাকে আশ্রয় না দিত, তাহলে হয়তো আমাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে হতো।

এ বয়সে নতুন করে ঘর বা দল গড়ার সামর্থ্য আমার নেই। আমার ঘরে চাল নেই, চুলা নেই- আমি কীভাবে নতুন ঘর বানাব। এ বয়সে কেউ আমাকে আশ্রয় দেবে না। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী আমাকে আশ্রয় দিয়েছে। এজন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এ কৃতজ্ঞতা আজীবন থাকবে।’

তিনি বলেন, জামায়াতে যোগ দেয়ার হঠাৎ দেখছি আমার দাম বেড়ে গেছে। বিএনপির অনেক বন্ধু ফেসবুকে আমাকে নিয়ে লেখালেখি করছে। এতে আমি শুকরিয়া জানাই।

তারা এখন বুঝতে পারছে, আমি তাদের ঘরের একটি মোটা খুঁটি ছিলাম। আমি নিজে দল ছেড়ে আসিনি, আপনারা আমাকে বের করে দিয়েছেন।

গত তিন বছর আমার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখেননি, এমনকি বিয়ের দাওয়াতও দেননি। আজ আমাকে গালাগালি করছেন- এতেও ভালো লাগে, কারণ বুঝি আপনারা আমাকে নিয়ে ভাবছেন।

সাবেক এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ সবাই মিলেমিশে বসবাস করবে। আমি কোনো নির্বাচনে অংশ নেবো না। জামায়াত যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে নিশ্চয় তারা আমাকে কোনো ভালো জায়গায় রাখবে।

জামায়াতের কাছে তিনটি আবদার তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রথমত, আমি চাই দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজিমুক্ত, সন্ত্রাস ও দখলদারমুক্ত বাংলাদেশ।

আমরা আর চাঁদা দিতে চাই না, রাস্তাঘাটে নিরাপদে চলতে চাই। দ্বিতীয়ত, সত্য প্রকাশ ও শান্তি প্রতিষ্ঠা চাই, বিশৃঙ্খলা নয়।

শান্তির মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হোক। তৃতীয়ত, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মর্যাদা চাই- মানুষ মানুষকে সম্মান করবে।’

এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবি করে তিনি বলেন, আমরা একজন ত্যাগী হাদিকে হারিয়েছি। আমরা এ হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

যারা এ হত্যার সঙ্গে জড়িত, প্রয়োজনে পাতাল থেকে তুলে এনে হলেও তাদের বিচার করতে হবে। আমরা শুধু বিচারই চাই না, শরিফ ওসমান হাদির রেখে যাওয়া কাজ বাস্তবায়ন করতে চাই।

সভায় কিশোরগঞ্জ-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা শফিকুল ইসলাম মোড়ল, উপজেলা আমির অধ্যাপক মোজাম্মেল হক জোয়ারদার, সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হাসানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ১৩ ডিসেম্বর জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপির সাবেক এমপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগদান করেন।

সন্ত্রাসী হামলায় পাকিস্তানের চার সেনা নিহত

পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে সন্ত্রাসী হামলায় চার সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর আফগানিস্তানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গতকাল শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) এ আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী ও কয়েকজন বন্দুকধারী একটি সেনা অবকাঠামোতে বড় হামলার চেষ্টা করে। তবে ওই সময় তা ঠেকিয়ে দেন উপস্থিত সেনারা। সন্ত্রাসীদের হামলায় তখন চার সেনা নিহত হন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি শুরু হয়। যা কয়েক ঘণ্টা চলে। এতে পাঁচ সন্ত্রাসী নিহত হয়।

আজ শনিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “উত্তর ওয়াজিরিস্তানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্পে ‘খারিজি গুল বাহাদুর গ্রুপ’-এর সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান। এই হামলায় চারজন পাকিস্তানি সেনা সদস্য শহিদ হয়েছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং পাকিস্তানের কড়া বার্তা পৌঁছে দিতে আফগান মিশনের উপ-প্রধানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে।”

আফগান সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় দীর্ঘসময় ধরে পাকিস্তানি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে সন্ত্রাসীরা। যা গত কয়েকমাসে অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় প্রতি সপ্তাহে সন্ত্রাসী হামলায় সেনাদের প্রাণ যাচ্ছে। এর জবাবে পাকিস্তানও বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে।

সূত্র: তোলো নিউজ

সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেলে (টিএফআই) গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার ১০ সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের দিন নির্ধারণ রয়েছে আজ।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ আদেশ দেবেন। ফলে আসামিদের বিচার শুরু হবে কি হবে না তা জানা যাবে।

এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট আসামি ১৭ জন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার ১০ সেনা কর্মকর্তা হলেন— র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।

পলাতক অন্যরা হলেন— শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র‌্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ ও র‌্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খায়রুল ইসলাম।

গত ১৪ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার তিন আসামির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ ও সাতজনের হয়ে লড়েন তাবারক হোসেন। এছাড়া আসাদুজ্জামান খাঁন কামালসহ তিনজনের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম, তিনজনের পক্ষে সুজাদ মিয়া ও শেখ হাসিনার হয়ে লড়েন আইনজীবী মো. আমির হোসেন। শুনানিতে প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা কারণ (গ্রাউন্ড) এনে নিজেদের মক্কেলের অব্যাহতি চেয়েছেন। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আবেদন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এ বিষয়ে আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে, ৩ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি শেষ করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। শুনানিতে টিএফআই সেলের বীভৎসতা তুলে ধরার পাশাপাশি গুমের অন্ধকার পেরিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এক নতুন বাংলাদেশ উদিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। গুম হওয়া ব্যক্তিদের ভাগ্য দুভাবে নির্ধারণ হতো বলেও উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে ভাগ্য ভালো হলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হতো। দ্বিতীয়ত সাত-আট বছর গুম রাখার পর ফেলে রাখা হতো অজানা কোনো স্থানে।

চলতি বছরের ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা ১০ কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। একইসঙ্গে পলাতক আসামিদের হাজিরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত তারিখে হাজির না হওয়ায় তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেন আদালত। ৮ অক্টোবর এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে অভিযোগ আমলে নিয়ে ১৭ জনের বিরুদ্ধেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।

ভোট পর্যন্ত বাড়তি নজর চেয়ে মেটাকে চিঠি

বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতা উসকে দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে মেটা কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি (এনসিএসএ)। চিঠিতে ফেসবুকসহ মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোতে সহিংসতা, ভয় দেখানো ও মব অ্যাকশনের আহ্বান ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। শুক্রবার এনসিএসএর মহাপরিচালক মেটার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে এ চিঠি পাঠান।

চিঠিটি পাঠানো হয় মেটার ভাইস প্রেসিডেন্ট (পাবলিক পলিসি) সাইমন মিলনার, পরিচালক (পাবলিক পলিসি, আঞ্চলিক কার্যালয়) সারিম আজিজ এবং হেড অব হিউম্যান রাইটস পলিসি ফ্রেডেরিক রসকিকে। চিঠি পাঠানোর বিষয়টি জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

চিঠিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এরই মধ্যে ব্যাপক সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার জন্ম দিয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে ১ হাজার চারশর বেশি শিক্ষার্থী নিহত হন এবং হাজারো মানুষ আহত হন। বর্তমানে দেশটি একটি ভঙ্গুর রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য করতে কাজ করছে।’

এনসিএসএর অভিযোগ, এ সংকটময় সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক সহিংসতা উসকে দেওয়া, ভয়ভীতি দেখানো এবং নির্বাচন ব্যাহত করার আহ্বানের প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এর ফলে বাস্তব জীবনে সহিংসতা বেড়েছে।

চিঠিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ওসমান হাদির মর্মান্তিক মৃত্যু ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর হামলার ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলা হয়, সাবেক শাসনব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি প্রকাশ্যে এসব সহিংসতাকে সমর্থন জানিয়েছেন এবং সরাসরি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান জানিয়েছেন। এর পরপরই দেশের স্থানীয় দুটি গণমাধ্যম ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, যা ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে ওঠে।

এনসিএসএর অভিযোগ, সহিংসতা উসকে দেওয়া ও সংঘটিত করার জন্য দায়ী হিসেবে চিহ্নিত একাধিক অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করার অনুরোধ জানানো হলেও মেটা সময়মতো সহযোগিতা করেনি। চিঠিতে বলা হয়, সহিংসতামূলক কনটেন্টের অনিয়ন্ত্রিত প্রচার জাতীয় স্থিতিশীলতা, সামাজিক সম্প্রীতি, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য সরাসরি হুমকি। মেটার ভূমিকা শুধু প্রযুক্তিগত নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ গণদায়িত্বের বিষয় বলেও মন্তব্য করা হয়।

এনসিএসএ জানায়, বাংলাদেশে মেটার কোনো স্থানীয় কার্যালয় নেই। ফলে জরুরি নিয়ন্ত্রক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত যোগাযোগ সাধারণত বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং এনসিএসএর মাধ্যমে পাঠানো হয়।

চিঠিতে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় মেটাকে কয়েকটি নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, সহিংসতা ও সামাজিক অস্থিতিশীলতা রোধে প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্ব স্বীকার, বাংলাদেশ সংক্রান্ত কনটেন্টে কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড আরও কঠোর ও দ্রুত প্রয়োগ, বাংলা ভাষায় কনটেন্ট মডারেশন ও সেন্টিমেন্ট অ্যানালাইসিস জোরদার করা এবং অন্তত ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ সংক্রান্ত কনটেন্টের ওপর বাড়তি নজরদারি বজায় রাখা।

চিঠিতে বলা হয়, এটি জাতীয় গুরুত্বের একটি বিষয়। ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ একটি প্রকৃত অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখেনি। আসন্ন নির্বাচন নাগরিকদের জীবন, গণতান্ত্রিক অধিকার, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এই প্রেক্ষাপটে মেটা যথাযথ দায়িত্ববোধ ও জরুরি মনোভাব নিয়ে পদক্ষেপ নেবে, চিঠিতে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি।

তিন বাহিনী ও পুলিশ প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করবেন সিইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন গণভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিরক্ষা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এন নাসির উদ্দিন। রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এই উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে ইসি সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকের সূচি সাজানো হয়েছে দুই ধাপে। প্রথম পর্বে দুপুর ১২টায় সিইসি এ এম এন নাসির উদ্দিন সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানের সঙ্গে একান্ত আলোচনায় বসবেন, যেখানে মূলত নির্বাচনকালীন সামরিক বাহিনীর ভূমিকা ও বিশেষ নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে কথা হবে। দ্বিতীয় পর্বে দুপুর আড়াইটায় পুলিশের আইজিপিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ইসির পূর্ণাঙ্গ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করবেন সিইসি এ এম এন নাসির উদ্দিন। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনারদের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত থাকবেন। সভার মূল উদ্দেশ্য হলো—ভোটের আগে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং চলমান যৌথ বাহিনীর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা।
বিজ্ঞাপন

ইসি জানিয়েছে, সভা শেষে তিন বাহিনীর প্রধান এবং পুলিশ প্রধানের উপস্থিতিতে গণমাধ্যমকে ব্রিফ করা হবে। সেখানে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে দেশজুড়ে যে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবেন সিইসি।

ফেরি থেকে ট্রাকসহ পাঁচ যানবাহন নদীতে, তিন মরদেহ উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীতে ফেরি থেকে ট্রাকসহ পাঁচটি যানবাহন পানিতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে ধলেশ্বরীর মাঝ নদীতে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন- মোটরসাইকেলচালক রফিক, ভ্যানচালক স্বাধীন এবং প্রবাসী মাসুদ।

স্থানীয়দের ভাষ্য- নারায়ণগঞ্জের নরসিংহপুর এলাকা থেকে যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে ফেরিটি ছেড়ে আসে।

মাঝনদীতে পৌঁছানোর পর হঠাৎ করে ফেরিতে থাকা একটি ট্রাক চালু হয়ে যায়। এ সময় ট্রাকটি সামনে থাকা একটি মোটরসাইকেল, দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও একটি ভ্যানগাড়িসহ পানিতে পড়ে যায়।

বক্তাবলী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. রকিবুজ্জামান জানান, বক্তাবলীর পূর্বপাশের ঘাট থেকে যানবাহন ও যাত্রী নিয়ে ফেরিটি ছেড়ে আসে।

মাঝনদীতে হঠাৎ করে ট্রাকটি চালু হয়ে গেলে পাঁচটি যানবাহন পানিতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও অন্যরা নিখোঁজ হন।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) মো. হাসিনুজ্জামান বলেন, ধলেশ্বরী নদী পার হওয়ার সময় ফেরি থেকে ট্রাকসহ কয়েকটি যানবাহন পানিতে পড়ে যায়।

এ ঘটনায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, আপাতত তল্লাশি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। যদি আরও কেউ নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে রোববার সকাল থেকে পুনরায় তল্লাশি অভিযান শুরু হবে।

পাশাপাশি ডুবে যাওয়া যানবাহন উদ্ধারের কাজও শুরু করা হবে।

হান্নান মাসউদকে হত্যার হুমকি: মূল অভিযুক্ত আটক

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত ইসরাত রায়হান অমিকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) হাতিয়ার চর ইশ্বর ইউনিয়নের নন্দ রোড থেকে রাত ১১টায় গ্রেপ্তার করে হাতিয়া থানা পুলিশ।

আটক ইসরাত রায়হান অমি হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হালিম আজাদের ছেলে।

​গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে আবদুল হান্নান মাসউদের চাচা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী হেডমাস্টার শামছল তিব্রিজ হাতিয়া থানায় একটি জিডি করেন।

জিডিতে উল্লেখ করা হয়, ‘Israt Raihan Ome’ এবং ‘রুপক নন্দী’ নামের দুটি ফেসবুক আইডি থেকে হান্নান মাসউদ ও তার সহযোগীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

​ভাইরাল হওয়া সেই হুমকি: মেসেঞ্জারের স্ক্রিনশটে দেখা যায়, অমি লিখেছিলেন- ‘হান্নান বল আর তানভির বল যেই নেতাই হোক, খোদার কসম করে বললাম, উত্তরাঞ্চলে চলাচল হারাম হয়ে যাবে। আমাদের নেতাকর্মীরা ডাইরেক্ট গিলে খেয়ে ফেলবে। তোর নেতাকে এটা কপি করে পাঠাইস।’

​এই ঘটনায় অমি ছাড়াও আরও ছয়জনের নাম জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন- রুপক নন্দী (২৫), সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হালিম আজাদ (৪৬) প্রেম লাল (২৫) নুর হোসেন রহিম (২৬) বাবুলাল (৩২) ও ওমর ফারুক (৩২)৷

​হাতিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম জানিয়েছে, জিডি হওয়ার পর থেকেই তারা বিষয়টি তদন্ত শুরু করেন। হুমকির স্ক্রিনশটগুলো যাচাই-বাছাই শেষে আজ অভিযুক্ত অমিকে আটক করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য অভিযুক্তদের বিষয়েও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।