বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

হাদির খুনিদের বিচার দাবিতে ঢাকায় জামায়াতের মহাসমাবেশ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই বিপ্লবের অন্যতম নায়ক শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার এবং দেশব্যাপী সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবিতে রাজধানীতে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

আগামী ৩ জানুয়ারি (শুক্রবার) দুপুর ১২টায় ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এ মহাসমাবেশ শুরু হবে।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এই কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মহাসমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার নেতাদের অংশগ্রহণে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সারা দেশ থেকে ১০ লক্ষাধিক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দলটি। ইতোমধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে সমাবেশের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

কর্মসূচির উদ্দেশ্য সম্পর্কে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাই বিপ্লবের অগ্রসৈনিক শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসীদের আটক করতে হবে। তিনি বলেন, এই দুটি মৌলিক দাবি পূরণ না হলে নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

দলের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাসুম বলেন, দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এই বাস্তবতায় সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং জনগুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরতেই জামায়াতে ইসলামী এই মহাসমাবেশ করতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সমাবেশ থেকে দেশ ও জনগণের স্বার্থে রাজপথে জোরালো দাবি জানানো হবে।

দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হচ্ছেন জুবায়ের রহমান চৌধুরী

বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন জুবায়ের রহমান চৌধুরী। বর্তমান প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে এই তথ্য জানা গেছে। যেকোনো সময় এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করবে সরকার।
নতুন প্রধান বিচারপতি শপথ নেবেন আগামী ২৮ ডিসেম্বর।

সংবিধান অনুযায়ী, ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় আগামী ২৭ ডিসেম্বর অবসরে যাচ্ছেন দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। এরই মধ্যে বিচারক জীবনের ইতি টেনে বর্তমানে তিনি ওমরাহর জন্য অবস্থান করছেন সৌদি আরবে।

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

উল্লেখ্য, জুবায়ের রহমান চৌধুরী ১৯৮৫ সালে জজ কোর্টে এবং ১৯৮৭ সালের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট জুবায়ের রহমান চৌধুরী অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগে নিয়োগ পান। দুই বছর পর হাইকোর্ট বিভাগে তার নিয়োগ স্থায়ী হয়। ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তাকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি অনার্স ও এলএলএম ডিগ্রি নেওয়ার পর যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক আইনের ওপর আরেকটি মাস্টার্স করেছেন।

দিল্লিতে ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করল বাংলাদেশ হাইকমিশন

অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে দিল্লিতে ঢাকা হাইকমিশন থেকে পরবর্তী ঘোষণা দেওয়ার আগ পর্যন্ত সব ধরনের কনস্যুলার সার্ভিস এবং ভিসা দেওয়া বন্ধ করা হয়েছে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের দেওয়া এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দিল্লিতে বাংলাদেশি মিশনের সামনে ঝোলানো ওই নোটিশে এমন ঘোষণার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে গত শনিবার (২০ ডিসেম্বর) এবং রবিবার (২১ ডিসেম্বর) দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ করে উগ্রপন্থী এক সংগঠনের ২০-২৫ জন সমর্থক।
এ সময় তারা বাংলাদেশিদের ভারত ছাড়তে বলে এবং বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে হুমকি দেয়।

এ ঘটনা নিয়ে গতকাল রবিবার বিকেলে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছিলেন, দিল্লিতে কূটনৈতিক এলাকার ভেতরে বাংলাদেশ মিশনের অবস্থান খুবই নিরাপদ স্থানে, সেখানে হিন্দু চরমপন্থীরা ওই এলাকার মধ‍্যে আসতে পারবে কেন? তাহলে তাদের আসতে দেওয়া হয়েছে, এমন ঘটনা প্রত‍্যাশিত নয়।

এ ঘটনার পর থেকে দিল্লিতে হাইকমিশনারের পরিবার ঝুঁকি বোধ করছে এবং হুমকি অনুভব করছে বলেও জানান তৌহিদ হোসেন।

যদি জুলাই সনদ সমর্থন করেন তবে গণভোটে ‘হ‍্যাঁ’ ভোট দিন : প্রধান উপদেষ্টা

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়ে গণভোটের বিষয়ে সারা দেশে প্রচারণার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে দশটি ভোটের গাড়ি—সুপার ক্যারাভান। আজ সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে সুপার ক‍্যারাভান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘ভোটাধিকার কারো দয়া নয়, এটি আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই আমরা ঠিক করি, আমাদের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে।
একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।’

এবার জাতীয় নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। এ প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এবারের নির্বাচনে আপনি আরো একটি ভোট দেবেন। জুলাই সনদে ভোট দেবেন।
দীর্ঘ ৯ মাস ধরে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দিনের পর দিন বৈঠককরে এই সনদ তৈরি হয়েছে। এই সনদ দেশের মানুষ পছন্দ করলে দেশ আগামী বহুবছরের জন্য নিরাপদে চলবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আপনি যদি এই সনদ সমর্থন করেন তবে গণভোটে অবশ্যই ‘হ‍্যাঁ’ ভোট দিন।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা এমন একটি নির্বাচন চাই, যেখানে থাকবে না ভয়, থাকবে না বাধা—থাকবে কেবল জনগণের মুক্তও নির্ভীক মতপ্রকাশ।
সরকার সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।’

তিনি বলেন, ‘আপনি দেশের মালিক। এ দেশ আগামী পাঁচ বছর আপনার পক্ষে কে চালাবে, সেটা আপনি ঠিক করে দেবেন। আপনার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিন। সৎ ও সমর্থ প্রার্থী বেছে ভোট দিন।
চিন্তাভাবনা করে ভোট দিন।’

অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে ভোটের গাড়ির উদ্বোধন করেন তথ‍্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে চলবে ২০ স্পেশাল ট্রেন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢাকায় যাতায়াতের সুবিধার্থে আগামী ২৫ ডিসেম্বর ১০টি রুটে ২০টি স্পেশাল ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার রেজাউল করিম সিদ্দিকীর পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএনপির কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক কার্যালয়সমূহ থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে নেতাকর্মীদের ঢাকায় যাতায়াতের জন্য বিশেষ ট্রেন ও অতিরিক্ত কোচ বরাদ্দের আবেদন করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতেই রেলওয়ে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
একইসঙ্গে নিয়মিত চলাচলকারী একাধিক ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে আনুমানিক ৩৬ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, রাজবাড়ী কমিউটার (রাজবাড়ী-পোড়াদহ), ঢালারচর এক্সপ্রেস (পাবনা-রাজশাহী) এবং রোহনপুর কমিউটার (রোহনপুর-রাজশাহী) ট্রেনের ২৫ ডিসেম্বর তারিখের যাত্রা স্থগিত থাকবে। দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রেন পরিচালনা ও অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনটি ট্রেনের এক দিনের যাত্রা স্থগিত থাকায় সংশ্লিষ্ট রুটের যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

চাহিদার ভিত্তিতে যেসব রুটে স্পেশাল ট্রেন চলবে, সেগুলো হলো—কক্সবাজার-ঢাকা-কক্সবাজার, জামালপুর-ময়মনসিংহ-ঢাকা-জামালপুর, টাঙ্গাইল-ঢাকা-টাঙ্গাইল, ভৈরববাজার-নরসিংদী-ঢাকা-নরসিংদী-ভৈরববাজার, জয়দেবপুর-ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট-জয়দেবপুর (গাজীপুর), পঞ্চগড়-ঢাকা-পঞ্চগড়, খুলনা-ঢাকা-খুলনা, চাটমোহর-ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট-চাটমোহর, রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী এবং যশোর-ঢাকা-যশোর।

জুলাই অভ্যুত্থানের নামে ‘মব’ সমর্থন করে না এনসিপি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণ অভ্যুত্থানের সময় যে বাংলাদেশ আমরা আশা করেছিলাম, সেই পথে আর দেশ নেই। জুলাই অভ্যুত্থান মবক্রেসি নয়। জুলাই অভ্যুত্থানের নামে মব এনসিপি সমর্থন করে না।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে সম্পাদক পরিষদ এবং সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াব আয়োজন করে প্রতিবাদ সভা।

নাহিদ বলেন, জুলাইয়ের স্লোগানের অপব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদিকে ব্যবহার করে নাশকতা করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান মবক্রেসি নয়। পুরো দেশের রাজনীতি, নির্বাচনকে একদিকে প্রভাবিত করতেই মবক্রেসি চলছে। জুলাই অভ্যুত্থানের নামে এমন মব এনসিপি সমর্থন করে না।

এবারের গণভোট একটি ঐতিহাসিক সুযোগ : রিজওয়ানা

গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তিনি বলেন, ‘গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে তবেই দেশে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের ধারা সূচিত হবে।’

আজ সোমবার আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে ভোটারদের সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতে ‘ভোটের গাড়ি’ প্রচারণার উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘এবারের গণভোট কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।
এর মাধ্যমে দেশ কিভাবে পরিচালিত হবে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য কিভাবে বজায় থাকবে, সে বিষয়ে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে। এ লক্ষ্যেই দেশব্যাপী ব্যাপক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে কিছু মহল জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে।
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’ এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘সংস্কার কার্যক্রম সফল করতে হলে গণভোটে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা অপরিহার্য। সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হবে—পরিবর্তন কেন প্রয়োজন এবং এই পরিবর্তন তাদের জীবন ও ভবিষ্যতে কী ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ জন্য প্রতিটি জেলা ও উপজেলার জন্য পৃথক প্রচার ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সমাজের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে প্রচারণা চালানো হবে।’

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ‘দেশের চাবি, আপনার হাতে’ স্লোগানে ‘ভোটের গাড়ি’ প্রচারণার উদ্বোধন করেন। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম ফিতা কেটে কর্মসূচির সূচনা করেন।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (প্রেস ও মনিটরিং) ইয়াকুব আলীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্মিত পাঁচটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপনচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

জানা গেছে, এবারের নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় সারা দেশে মোট ১০টি ‘ভোটের গাড়ি’ পরিচালনা করবে।

এর আগে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সহিংসতার শিকার প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয় পরিদর্শন করেন এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

শ্রীদেবীর সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ ছিল? জল্পনা ভাঙলেন মাধুরী দীক্ষিত

একটা সময় বলিউডে সমানতালে রাজত্ব করেছেন শ্রীদেবী ও মাধুরী দীক্ষিত। নব্বইয়ের দশকে এই দুই সুপারস্টারকে ঘিরে দর্শকের উন্মাদনা যেমন ছিল তুঙ্গে, তেমনই দীর্ঘদিন ধরে শোনা গেছে তাঁদের নাকি ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো ছিল না।

বলিউডে নায়িকাদের মধ্যে তথাকথিত ‘ক্যাটফাইট’ নতুন কিছু নয়—আর সেই সূত্রেই শ্রীদেবী ও মাধুরীকে নিয়ে নানা জল্পনা বারবার আলোচনায় এসেছে।

তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই সব গুঞ্জনে কার্যত ইতি টানলেন মাধুরী দীক্ষিত।
শ্রীদেবী প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে এমন কোনও কারণই ছিল না যে আমরা একে অপরকে অসম্মান করব। শ্রীদেবী এমন একজন অভিনেত্রী ছিলেন, যিনি তাঁর ক্যারিয়ারে ভীষণ পরিশ্রম করেছেন। আমিও আমার কাজ করেছি নিষ্ঠার সঙ্গে। আমি মনে করি, আমরা দুজনেই সেটা জানতাম এবং বুঝতাম।

মাধুরীর এই মন্তব্য স্পষ্ট করে দেয়—প্রতিযোগিতা থাকলেও তা কখনও ব্যক্তিগত শত্রুতায় রূপ নেয়নি।

বলা দরকার, করণ জোহর পরিচালিত ‘কলঙ্ক’ সিনেমায় প্রথমে শ্রীদেবীর অভিনয় করার কথা ছিল। কিন্তু অভিনেত্রীর আকস্মিক প্রয়াণের পর সেই চরিত্রের প্রস্তাব দেওয়া হয় মাধুরী দীক্ষিতকে। বিষয়টি ঘিরে তখন আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন শ্রীদেবীর কন্যা জাহ্নবী কাপুর।

জাহ্নবী লিখেছিলেন, “‘কলঙ্ক’ আমার মায়ের হৃদয়ের খুব কাছের একটি সিনেমা। বাবা, খুশি (কাপুর) এবং আমি মাধুরীজির কাছে কৃতজ্ঞ—এই ছবির অংশ হওয়ার জন্য।”

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ে আকস্মিকভাবে প্রয়াত হন শ্রীদেবী। তাঁর মৃত্যুর পর বলিউডে নেমে আসে শোকের ছায়া।

এদিকে কাজের দিক থেকে মাধুরী দীক্ষিত এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া তাঁর নতুন সিরিজ ‘মিসেস দেশপান্ডে’ নিয়ে।
সিরিজটিতে তিনি এমন এক বন্দি চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি একটি খুনের মামলায় পুলিশকে সহায়তা করেন।

গানম্যান প্রত্যাখ্যান করলেন নুরুল হক নুর

নিরাপত্তা শঙ্কায় থাকা ২০ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে গানম্যান দেওয়ার সিন্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ২০ জনের এই তালিকায় গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের নাম থাকলেও সরকারের দেওয়া গানম্যান প্রত্যাখ্যান করেছেন নুরুল হক নুর।

আজ সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনের সামনে ডাকসু হামলার ৬ বছর উপলক্ষে এক প্রতিবাদ সভায় যোগ দিয়ে নুরুল হক নুর এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘যেই সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জনসমক্ষে পোশাক পরিহিত অবস্থায় নিজ কার্যালয়ের সামনে হামলা করেছে সেই হামলাকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত সরকারের দেওয়া গানম্যান আমি প্রত্যাখ্যান করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘একক ব্যক্তিকে গানম্যান দিয়ে গোটা দেশকে নিরাপদ করা সম্ভব নয়। জনগণের নিরাপত্তায় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ঢেলে সাজাতে হবে। শুধু নির্বাচনের প্রার্থীদের নিরাপত্তা দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ও নিরাপদ ভোটের পরিবেশ তৈরি না হলে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যাবে না।’

পুলিশ ও সেনাবাহিনীর দুর্বৃত্তরা পোশাক পরিহিত অবস্থায় চলতি বছরের ২৯ আগস্ট জনসমক্ষে হামলা চালিয়েছিল উল্লেখ করে নুর বলেন, ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এই হামলার ঘটনা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে চলতি বছরের ৪ সেপ্টেম্বর বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও এখন পর্যন্ত এই হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত ও বিচার করা হয়নি। এতে বোঝা যায় সেদিনের হামলার ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের মৌন সমর্থন রয়েছে।

এই ঘটনার জন্য সরকারের দায় রয়েছে জানিয়ে নুর বলেন, হামলার ঘটনার বিচার না হওয়ায় প্রধান উপদেষ্টাসহ বাকি উপদেষ্টাদেরও আমি দায়ী করব।
তাই গানম্যান প্রত্যাখ্যান করে নিজের ওপর কোনো ধরনের হামলা হলে তার দায় বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের নিতে হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডাকসু সাবেক ভিপি ও গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক বিশেষ দূত নিয়োগ ট্রাম্পের, ডেনমার্কের ক্ষোভ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে গ্রিনল্যান্ডের জন্য নিজের বিশেষ দূত হিসেবে মনোনীত করেছেন। এর ফলে খনিজসম্পদসমৃদ্ধ এই বিশাল আর্কটিক দ্বীপটি নিয়ে ওয়াশিংটনের পরিকল্পনা ঘিরে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

ডেনমার্কের অধীন হলেও বর্তমানে ব্যাপকভাবে স্বশাসিত গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করা উচিত—নিরাপত্তা ও দ্বীপটির খনিজসম্পদের স্বার্থে—এমন কথা ট্রাম্প বহুবার বলেছেন। ল্যান্ড্রিও এই ধারণার প্রশংসা করেছেন।

ডেনিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন সোমবার জানান, তিনি কোপেনহেগেনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করবেন। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার ট্রাম্পের লক্ষ্যকে ল্যান্ড্রির সমর্থন দেওয়ায় তিনি বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীও পুনর্ব্যক্ত করেছেন, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ তারাই নির্ধারণ করবেন।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে রবিবার ট্রাম্প লেখেন, ‘জেফ বুঝতে পারেন গ্রিনল্যান্ড আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং আমাদের মিত্রদের—এবং প্রকৃতপক্ষে সারা বিশ্বের—নিরাপত্তা ও অস্তিত্ব রক্ষায় তিনি আমাদের দেশের স্বার্থ জোরালোভাবে এগিয়ে নেবেন।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে লুইজিয়ানার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া ল্যান্ড্রি এক্সে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার এই স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্বে কাজ করতে পারা আমার জন্য সম্মানের… এতে লুইজিয়ানার গভর্নর হিসেবে আমার অবস্থানে কোনো প্রভাব পড়বে না!’
গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক বরাবরই এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

ডেনমার্কের টিভি চ্যানেল টিভি ২-কে রাসমুসেন বলেন, ‘বিশেষ দূত নিয়োগের এই সিদ্ধান্তে আমি গভীরভাবে ক্ষুব্ধ। আর তার বক্তব্যে আমি বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ, যা আমরা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করি।

এর আগে রয়টার্সকে ই-মেইলে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমরা জোর দিয়ে বলছি, যুক্তরাষ্ট্রসহ সবাইকে ডেনমার্ক রাজ্যের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।’

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন ফেসবুকে এক পোস্টে বলেন, ‘আমরা আবারও মার্কিন প্রেসিডেন্টের নতুন একটি ঘোষণা নিয়ে ঘুম থেকে উঠলাম। এটি বড় মনে হতে পারে, কিন্তু আমাদের জন্য এতে কিছুই বদলায় না। আমরা নিজেরাই আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করি।’

ডেনিশ পার্লামেন্টে গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধি আজা কেমনিৎস বলেন, একজন মার্কিন দূত নিয়োগ করাই নিজে কোনো সমস্যা নয়।

তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘সমস্যা হলো তাকে গ্রিনল্যান্ড দখল করা বা গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে—এমন কোনো ইচ্ছাই গ্রিনল্যান্ডে নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের যে ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষা—নিজেদের দেশ হিসেবে থাকা এবং ধীরে ধীরে স্বাধীনতা বিকাশ—তা সম্মান করার ইচ্ছাই এখানে রয়েছে।’

গত এক বছরে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো মিত্র ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষা জোরদারে মনোযোগ দিয়েছে, কারণ নিরাপত্তা ঘাটতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা ছিল।

প্রায় ৫৭ হাজার জনসংখ্যার গ্রিনল্যান্ড একটি সাবেক ডেনিশ উপনিবেশ। ২০০৯ সাল থেকে ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতা ঘোষণার অধিকার রয়েছে তাদের। দ্বীপটির অর্থনীতি মূলত মাছ ধরার ওপর এবং কোপেনহেগেনের ভর্তুকির ওপর নির্ভরশীল। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মধ্যে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত পথের ওপর অবস্থিত হওয়ায় গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।