বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

ভারত থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি করবে সরকার

ভারত থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন আতপ চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানান।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বাইরে চালের দাম কিন্তু বাড়ছে। কারণ, চীন প্রচুর চাল কিনছে।
চীনের চাহিদা বেশি। চীন মূলত ভিয়েতনাম থেকে কিনছে। এটা কিছুটা প্রভাব ফেলছে। তবু এবার আমাদের ৫০ হাজার টন (চালের দাম) গতবারের চেয়ে একটু কম।
এটা আমাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বিষয়।

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ৯০ হাজার টন টিএসপি সার আমরা মরক্কো থেকে নিয়ে আসছি। আরো ৪০ হাজার মেট্রিক টন সার আসবে। সারের দাম মোটামুটি ভালোই পাচ্ছি।
এ ছাড়া আমরা ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল আনব। আমরা এখন থেকেই রোজার প্রস্তুতি নিচ্ছি। অনেক রাইস ব্র্যান অয়েল আসবে, যা তুষ থেকে তৈরি হয়।

ভারতের সঙ্গে আমাদের ট্রেড এবং পলিসি আলাদা করে দেখতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ভারত থেকে চাল না এনে ভিয়েতনাম থেকে আনতে গেলে আরো ১০ টাকা বেশি লাগবে। আমি বিশ্বাস করি, ভারতের সাথে সম্পর্ক খুব খারাপ হবে না।
ভারতের সাথে রাজনৈতিক সম্পর্ক ইস্যুতে কাজ হচ্ছে। বিস্তারিত বলা যাবে না। ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সাথে আমার নিজের কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ‘উই আর ট্রাইং হার্ড’।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, কিছু কিছু বক্তব্য আসে সেগুলো সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। পার্শ্ববর্তী দেশসহ অন্য কোনো দেশের সাথে খারাপ সম্পর্ক হোক, সেটি আমরা কেউই চাই না। ভারত নিয়ে অনেকের বক্তব্য রেটোরিক। আমরা অবশ্যই ভারতের সাথে ভালো সম্পর্ক করতে চাই। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। ভারতের সাথে সম্পর্ক বিষয়ে যেসব দেশ ভারতের সাথে সম্পৃক্ত আছে তাদের সাথে প্রধান উপদেষ্টার কথা হচ্ছে।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ভবনের জন্য ১০৫ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছি। স্থানীয় সরকারের চারটি রাস্তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিদ্যুতের ১৯টি সাবস্টেশন বিতরণের বিষয় আছে, যার সবগুলোই ময়মনসিংহে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ক্যানবেরাতে দূতাবাসের জন্য একটি ভবন হবে। অস্ট্রেলিয়া খুব কঠোর সময়সীমা (টাইম লিমিট) দিয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে কাজ না করলে তারা অনুমতি প্রত্যাহার করে নেবে।

রিটার্ন দাখিলের সময় আরও একমাস বাড়ছে!

দ্বিতীয় দফায় অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় একমাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে করদাতাদের সুবিধার্থে এই রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানো হতে পারে। অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা বাড়াতে এই সময় বাড়ানো হতে পারে বলে এনবিআরের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এর আগে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সময় একমাস বাড়ানো হয়েছিল, যা ৩১ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। আয়কর আইন অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বর আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষদিন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে করদাতাদের আরো সুবিধা দিতে রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানো হতে পারে। আর অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করায় করদাতাদের প্রস্তুতিরও সময় দিতে হয়। সে জন্য সময় বাড়ানো হতে পারে।

রিটার্ন জমার সময় বাড়বে কী না, রোববার (২১ ডিসেম্বর) এমন প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, সময় বাড়ানোর ব্যাপারটা এখনই বলা যাবে না। এটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত, যেহেতু প্রথমবারের মতো আমরা অনলাইনটাকে বাধ্যতামূলক করেছি। আমি এখনই কিছু বলতে পারছি না।

চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ২৬ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে তাদের ই-রিটার্ন জমা দিয়েছেন। গত আগস্টে সব করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করে এনবিআর।

‘গেম চেঞ্জার’ সালাহ, ইনজুরি টাইমের গোলে মিশরের জয়

লিভারপুলে টানা চার ম্যাচ পুরোপুরি বেঞ্চে ছিলেন মোহাম্মদ সালাহ। তারপর ক্লাব ও কোচ আর্নে স্লটের সঙ্গে তার রেষারেষি এসেছিল আলোচনায়। ভেঙে পড়া মনোবল নিয়ে আফ্রিকা নেশন্স কাপ খেলতে মরক্কোতে পা রাখেন মিশরীয় ফরোয়ার্ড। গতকাল (সোমবার) জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ‘গেম চেঞ্জার’ হয়ে উঠলেন তিনি। ইনজুরি টাইমে তার গোলেই তিন পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করল মিশর।

সাতবারের রেকর্ড চ্যাম্পিয়ন মিশর। কিন্তু সালাহ কখনো এই শিরোপার স্বাদ পাননি। ২০১৭ ও ২০২২ সালে দুইবার খুব কাছে গিয়েও ছোঁয়া হয়নি ট্রফি। ফাইনালে হেরে রানার্সআপ হয় দল। এবার দলের অষ্টম ও নিজের প্রথম শিরোপার খোঁজে সালাহ।

‘বি’ গ্রুপে মিশর প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল। ৩৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড চার ম্যাচের মধ্যে প্রথমবার শুরুর একাদশে ছিলেন। অ্যানফিল্ডের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎকে একপাশে সরিয়ে রেখে জেতালেন দলকে। ৯১তম মিনিটে সতীর্থের হেডে বক্সের ভেতরে আলগা বল পেয়ে লক্ষ্যে শট নেন সালাহ। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েও তার বাঁ পায়ের শট ঠিক জাল খুঁজে নেয়। উজ্জীবিত ৪০ বছর বয়সী জিম্বাবুয়ে কিপার ওয়াশিংটন আরুবি বলের গতিপথের দিকে ঝাঁপালেও পারেননি ঠেকাতে। দলের ৩৫তম শটে জয়ের আনন্দে মাতে মিশর।

শুরু থেকে দাপট দেখিয়ে খেলেছে মিশর। কিন্তু প্রিন্স ডুবে তাদের নিস্তব্ধ করে দেন। ২০তম মিনিটে আগাদিরে তার গোলে লিড নেয় জিম্বাবুয়ে। সমতা ফেরাতে মরিয়া ছিল মিশর। কিন্তু ফিনিশিংয়ের অভাব ও আরুবির অসাধারণ দক্ষতায় গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। মোট ৯টি সেভ করেন জিম্বাবুয়ে গোলকিপার।

শেষ পর্যন্ত ৬৩ মিনিটে ম্যানসিটি ফরোয়ার্ড ওমর মারমৌশ উঁচু শটে জাল কাঁপালে স্বস্তি ফেরে মিশরের মনে। সতীর্থদের বেশ কয়েকবার গোলের সুযোগ করে দিয়েছিলেন সালাহ। ইনজুরি টাইমে নিজেই দায়িত্ব নিলেন। ম্যাচ শেষে আর্নে স্লটকেও যেন বার্তা দিলেন, ‘আমি ফুরিয়ে যাইনি।’ এদিন একই গ্রুপের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ২-১ অ্যাঙ্গোলাকে হারিয়েছে।

ইউক্রেনের ওডেসায় হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ওডেসাতে হামলা আরো জোরদার করেছে রাশিয়া। সাম্প্রতিক এসব হামলার ফলে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট সৃষ্টি হয়েছে এবং অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক অবকাঠামো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ওলেক্সি কুলেবা জানিয়েছেন, রাশিয়া ওডেসা অঞ্চলে ‘পদ্ধতিগত (সিস্টেম্যাটিক) হামলা’ চালাচ্ছে। তিনি গত সপ্তাহে সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়তো এখন ওডেসার দিকে সরে এসেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, এই ধারাবাহিক হামলার উদ্দেশ্য হলো ইউক্রেনকে সামুদ্রিক লজিস্টিকস ও বাণিজ্যিক নৌপথ থেকে বিচ্ছিন্ন করা।

চলতি ডিসেম্বরের শুরুতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর ট্যাংকারে ড্রোন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইউক্রেনের সমুদ্রপথে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

উল্লেখ্য, ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বলতে রাশিয়ার এমন শত শত ট্যাংকারকে বোঝানো হয়, যেগুলো ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর আরোপিত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সোমবার সন্ধ্যায় ওডেসার বন্দর অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন হামলা চালানো হয়।
এতে একটি বেসামরিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন অঞ্চলটির গভর্নর। এটি সাম্প্রতিক কয়েক দিনে চালানো শতাধিক হামলার সর্বশেষ ঘটনা, যার ফলে ওডেসা অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন।

রবিবার রাতে চালানো হামলায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে একটি প্রধান বন্দরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যেখানে ময়দা ও ভোজ্যতেলের ডজনখানেক কনটেইনার পুড়ে যায়।
এর আগের সপ্তাহে ওডেসার পূর্বে অবস্থিত পিভদেননি বন্দরে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৮ জন নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হন।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে আরেকটি হামলায় তিন সন্তানসহ গাড়িতে ভ্রমণরত এক নারী নিহত হন। একই সঙ্গে সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ওডেসা অঞ্চলের ইউক্রেন ও মলদোভাকে সংযুক্তকারী একমাত্র সেতু।

বিশ্লেষকদের মতে, ওডেসাকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করা ইউক্রেনের অর্থনীতি ও রপ্তানি ব্যবস্থার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ এই অঞ্চল দেশটির অন্যতম প্রধান সমুদ্রবন্দর কেন্দ্র।

বিভাগীয় কমিশনার, ডিসি ও এসপিদের সঙ্গে ইসির বৈঠক আজ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি)-সহ মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আজ ব্রিফিং করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা) মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, উপমহাপুলিশ পরিদর্শক, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সিনিয়র জেলা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ব্রিফিং মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে।

ব্রিফিংটি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অডিটরিয়ামে (বেইজমেন্ট-২) অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন- প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এছাড়া নির্বাচন কমিশনারগণ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

এ ব্রিফিংয়ে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন- মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি)।

বাড়িতে ‘যৌনকর্মীদের’ আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে জামায়াত নেতা বহিষ্কার

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিজ বাড়িতে যৌনকর্মীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে কুয়াকাটা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আব্দুল হালিমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত বিশেষ রোকন বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

বহিষ্কৃত আব্দুল হালিম উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের মুসুল্লিয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা।

বৈঠকে পৌর এবং উপজেলা জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সন্ধ্যায় কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদস ম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুয়াকাটা পৌর জামায়াতের আমির মো. শহীদুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, এ ঘটনায় বিশেষ রোকন বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে কলাপাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম, কুয়াকাটা পৌর জামায়াত ইসলামের আমির মো. শহিদুল ইসলাম, কুয়াকাটা পৌর সভার সাবেক আমির মাওলানা মাঈনুল ইসলাম মান্নান সহ শীর্ষ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উত্থাপিত অভিযোগ ও প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে মো. আ. হালিমের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
পরে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়।

স্থানীয় ও দলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নিজ বাড়িতে ফ্যামিলি বাসা ভাড়া দেওয়ার নামে এমন অসামাজিক কাজ করে আসছেন আব্দুল হালিম। তিনি একসময় নিজেকে ওলামা লীগ হিসেবে দাবি করতেন। গত বছরের ৫ আগস্টের পরে সক্রিয়ভাবে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল হালিম বলেন, ‘আমার বাসায় ছয়টি ফ্যামিলি বাসা ভাড়া দেওয়া হয়। তার মধ্যে একটিতে মা-মেয়ে পরিচয়ে চারজন নারী দুই মাস আগে বাসা ভাড়া নেন। এখন তারা কোথায় কী কাজ করে সেটা আমার জানার বিষয় না। আমাকে কিছু না বলেই জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমি মনে করি বিষয়টি নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলে তারপর তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।

কলাপাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম বলেন, একটি অভিযোগের ভিত্তিতে বিশেষ রুকন বৈঠক ডেকে আব্দুল হালিমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী করতে হলে সাংগঠনিক নিয়ম-কানুন মানতে হবে।

এখন সময় রুখে দাঁড়াবার : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সংবাদপত্রের ওপর হামলা গণতন্ত্র এবং জুলাই বিপ্লবের ওপর আঘাত।’ তিনি বলেন, ‘এখন শুধু সচেতন হলে চলবে না। সময় এখন রুখে দাঁড়াবার। অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
’ রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সম্পাদক পরিষদ আয়োজিত ‘মব ভায়োলেন্স’ বা সংঘবদ্ধ সহিংসতাবিরোধী প্রতিবাদ সভায় তিনি এ কথা বলেন।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি জানি না আমরা এ মুহূর্তে কোন বাংলাদেশে আছি। সারা জীবন সংগ্রাম করেছি একটা স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য। আজকে যে বাংলাদেশ দেখছি, এই বাংলাদেশের স্বপ্ন আমি কোনো দিন দেখিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখানে এসেছি আমি আমার বিশ্বাস ও হৃদয়ের টানে। অত্যন্ত পরিষ্কার, এখানে কথা বলার কিছু নেই।’ দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার নিন্দা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে ডেইলি স্টার বা প্রথম আলো নয়, আজকে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত এসেছে। আমার স্বাধীনভাবে চিন্তা করার যে অধিকার, আমার কথা বলার যে অধিকার তার ওপরে আবার আঘাত এসেছে।
’ তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই যুদ্ধের ওপরে আঘাত এসেছে। জুলাই যুদ্ধ ছিল এ দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ। আজকে সেই জায়গায় আঘাত এসেছে।’

রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে গণতন্ত্রকামী সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন নয়, সব গণতন্ত্রকামী মানুষের এখন এক হওয়ার সময় এসে গেছে।
আমরা যারা অন্ধকার থেকে আলোয় আসতে চাই, বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থেই একটা স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই, তাদের এখন শুধু সচেতন হলে চলবে না, রুখে দাঁড়াতে হবে। এখন রুখে দাঁড়াবার সময় এসে গেছে।’ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

রাজধানীতে ১৪ তলা ভবনে আগুন

রাজধানীর বাবুবাজার ব্রিজ এলাকায় একটি ১৪ তলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ৯ ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর বাবুবাজার ব্রিজ সংলগ্ন আরমানিটোলার হাজী টাওয়ার (১৪ তালা) ভবনের ৬ তালায় আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়।

এতে আরও বলা হয়, সদরঘাট ফায়ার স্টেশনের ২টি, সিদ্দিকবাজার ফায়ার স্টেশনের ৫টি ও সূত্রাপুর ফায়ার স্টেশনের ২টিসহ মোট ৯টি ইউনিট কাজ করছে। সকাল ৭টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে প্রাণচাঞ্চল্য

দীর্ঘ দেড় যুগের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতার এ ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন কেন্দ্র করে বিএনপির সর্বত্রই এখন বইছে আনন্দের জোয়ার। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে চলায় তৃণমূল থেকে কেন্দ্র—সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে; দেখা দিয়েছে সাজ সাজ রব। সব মিলিয়ে নির্বাচন ও তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে বিএনপিতে বেড়েছে প্রাণচাঞ্চল্য, দল হয়েছে আরও চাঙ্গা।

এদিকে দলের শীর্ষ এই নেতার প্রত্যাবর্তন নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার আশ্বাস দিলেও দলীয় স্বেচ্ছাসেবক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে অতিরিক্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপিও। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে সদস্য সচিব করে একটি সংবর্ধনা প্রদান কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও পৃথকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল করেছেন। রংবেরঙের টি-শার্ট ও ক্যাপ এবং ব্যানার-ফেস্টুনও তৈরি করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকার পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় তারেক রহমানকে দেওয়া হবে ঐতিহাসিক সংবর্ধনা। এ নিয়ে মহাব্যস্ত বিএনপির নীতিনির্ধারক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাকর্মীরা। তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে অপেক্ষায় লাখ লাখ নেতাকর্মী। এরই মধ্যে প্রস্তুত হয়েছে তারেক রহমানের বাসা ও কার্যালয়। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে স্বাগত জানাতে বিএনপি নেতাকর্মীরা এরই মধ্যে ঢাকামুখী। দেশ-বিদেশের অনেক নেতাকর্মী আসছেন ঢাকায়। বিএনপি আগেই বলেছে, ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যেই ঢাকায় আসবেন দলের নেতাকর্মীরা।

৩০০ ফিটে বিশাল গণসংবর্ধনার প্রস্তুতি: তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় বিশাল গণসংবর্ধনার আয়োজন করছে বিএনপি। দলের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে ইতিহাসের স্মরণীয় এক মুহূর্তে পরিণত করতে দিনরাত কাজ চলছে। ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিট পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে লাখ লাখ নেতাকর্মী অবস্থান নিয়ে তাদের প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানাবেন। এরই মধ্যে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষ থেকে এ সংবর্ধনার অনুমতিও মিলেছে।

নেতাকর্মীদের ঢাকামুখী স্রোত: তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর দেশে প্রত্যাবর্তন করলেও এর আগেই ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা এমনকি প্রবাস থেকেও বিএনপি নেতাকর্মীরা ঢাকায় পৌঁছাতে শুরু করবেন। তারেক রহমানকে এক নজর দেখতে সারা দেশ থেকে আসা মানুষের ঢলে ঢাকা এক জনসমুদ্রে পরিণত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বিদেশে থাকেন এমন অনেক নেতাকর্মী ঢাকার পথে রয়েছেন। কেউ কেউ চলেও এসেছেন বলে জানা গেছে। ওমান প্রবাসী বিএনপি নেতা প্রকৌশলী আমিনুর ইসলাম জানান, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের খবর শোনার পর তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাংলাদেশে আগমন এবং ঐতিহাসিক গণসংবর্ধনার সাক্ষী হতে গতকাল রাতে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, তারেক রহমান আগামী দিনের বাংলাদেশ ও বিএনপির কান্ডারি। তার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সময়কে স্মরণীয় করতে ঢাকায় লাখ লাখ লোকের আগমন ঘটবে। এ ব্যাপারে বিএনপি ও অন্যান্য সংগঠন ব্যাপক প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন করেছে।

চাঙ্গা হচ্ছে নির্বাচনমুখী বিএনপি: বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন শুধু একটি আগমন নয়; বরং এটি বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন গতির সঞ্চার করেছে। ‘মা, মাটি ও মানুষের নেতা’র শারীরিক উপস্থিতি দলটিকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করবে। সব মিলিয়ে তারেক রহমানের দেশে ফেরা ঘিরে বিএনপির রাজনীতিতে এক নতুন বসন্তের সূচনা হয়েছে, যার প্রভাব আগামী জাতীয় নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ গতকাল কালবেলাকে বলেন, ‘আগামী দিনে একটি সুখী-সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে তারেক রহমানের মতো দক্ষ নেতৃত্ব অপরিহার্য। বহু বছর পর নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৫ ডিসেম্বর তিনি তার মাতৃভূমি প্রিয় বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করবেন। এর চেয়ে খুশি এবং আনন্দের খবর কী হতে পারে। ইনশাআল্লাহ, তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে এবং তাকে সংবর্ধনা দিতে সেদিন ঢাকার রাজপথে লাখ লাখ মানুষের ঢল নামবে। দেশের সব পথ গিয়ে মিলবে বিমানবন্দর-তিনশ ফিট-এভারকেয়ার হয়ে রাজধানীর গুলশানে।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও তারেক রহমানকে সংবর্ধনা জানানো কমিটির সদস্য সচিব রুহুল কবির রিজভী কালবেলাকে বলেন, ‘কয়েক বছরের জুলুম-নিপীড়ন সহ্য করা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরবেন। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়েই দীর্ঘ দেড় দশকের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটবে। স্বাভাবিকভাবেই তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে নেতাকর্মীরা এখন আরও বেশি উচ্ছ্বসিত এবং উদ্দীপ্ত।’

নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি: তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন নির্বিঘ্ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, তারেক রহমানের নিরাপদ আগমন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকেও নিজস্ব নিরাপত্তা স্কোয়াড গঠন করা হয়েছে। বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেশে প্রত্যাবর্তন ঘিরে নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি তাই দলীয়ভাবেও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান ঢাকায় পা রাখার পর চেয়ারপারসনের সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ) তার নিরাপত্তার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেবে। এজন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় নিয়োজিত সিএসএফ পুনর্গঠন করার পাশাপাশি সদস্য সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামকে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ভোটার হচ্ছেন ২৭ ডিসেম্বর: গতকাল বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় সংশোধন নিয়ে সিইসির সঙ্গে কথা বলে বিএনপির প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, দেশে ফেরার দুদিন পর ভোটার তালিকায় নিজের নাম ওঠানোর পদক্ষেপ নেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যিনি আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হতে যাচ্ছেন। অর্থাৎ ১৭ বছর পর ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে দেশে ফিরবেন তারেক রহমান। এরপর ২৭ ডিসেম্বর ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়া-সংক্রান্ত সব কাজ করবেন। তবে তারেক রহমান কোথায় ভোটার হতে চাইছেন, তা বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো জানানো হয়নি।

এক-এগারো পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালে বাংলাদেশে প্রথম ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরি হয়। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান কারামুক্ত হয়ে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর লন্ডনের উদ্দেশে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন। বিদেশে থাকায় তখন ভোটার তালিকায় তিনি অন্তর্ভুক্ত হননি। এরপর আওয়ামী লীগের শাসনকালে তিনি দেশে আসেননি, ভোটারও হননি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পথে এগোচ্ছে। ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হবে ভোটগ্রহণ। এরই মধ্যে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে ভোটার তালিকা আইনে বলা আছে—ইসি যে কোনো সময় ভোটার হওয়ার যোগ্য যে কোনো ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। লন্ডনে যাওয়ার পর তারেক রহমানের পাসপোর্টের মেয়াদও ফুরিয়ে যায়। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে তিনি পাসপোর্ট নবায়নের সুযোগ পাননি। তাই তিনি সরকারের কাছ থেকে ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে যাচ্ছেন। গত শুক্রবার তিনি ট্রাভেল পাস হাতে পেয়েছেন।

১০টি ট্রেন পাচ্ছে বিএনপি: বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢাকায় যাতায়াতের উদ্দেশে বিশেষ ট্রেন ও অতিরিক্ত কোচ বরাদ্দ করতে যাচ্ছে রেলওয়ে। অন্যদিকে সেদিনের বিশেষ ট্রেন চলাচলের সুবিধার্থে নিয়মিত চলাচলকারী তিনটি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করেছে রেলওয়ে। গতকাল রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএনপির কর্মী ও সমর্থকদের যাতায়াতের জন্য ১০টি রুটে স্পেশাল (বিশেষ) ট্রেন পরিচালনা করা হবে এবং নিয়মিত চলাচলকারী একাধিক ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে। এ কারণে স্বল্প দূরত্বের রাজবাড়ী কমিউটার (রাজবাড়ী-পোড়াদহ), ঢালারচর এক্সপ্রেস (পাবনা-রাজশাহী) এবং রোহনপুর কমিউটার (রোহনপুর-রাজশাহী) ট্রেনের আগামী ২৫ ডিসেম্বরের যাত্রা স্থগিত রাখা হবে। ট্রেনগুলো এক দিনের জন্য যাত্রা স্থগিত করায় ওই রুটের যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার কারণে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

বিএনপির চাহিদার ভিত্তিতে কক্সবাজার-ঢাকা-কক্সবাজার, জামালপুর-ময়মনসিংহ-ঢাকা-জামালপুর, টাঙ্গাইল-ঢাকা-টাঙ্গাইল, ভৈরববাজার-নরসিংদী-ঢাকা-নরসিংদী-ভৈরববাজার, জয়দেবপুর-ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট-জয়দেবপুর (গাজীপুর), পঞ্চগড়-ঢাকা-পঞ্চগড়, খুলনা-ঢাকা-খুলনা, চাটমোহর-ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট-চাটমোহর, রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী এবং যশোর-ঢাকা-যশোর রুটে বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করা হবে। এ ছাড়া নিয়মিত চলাচলকারী একাধিক ট্রেনে চাহিদার ভিত্তিতে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে।

এ বাবদ রেলওয়ে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা রাজস্ব পাবে। বিশেষ ট্রেন এবং অতিরিক্ত কোচে দলীয় নেতাকর্মীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে শর্ত হিসেবে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা-২০২৫ প্রতিপালন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের আনন্দ মিছিল: তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে গতকাল রাজধানীতে বিশাল আনন্দ মিছিল ও মহড়া দিয়েছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ। মিছিলটি জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হয়ে পুরানা পল্টন ও দৈনিক বাংলা হয়ে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ের সামনে শেষ হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা তারেক রহমানের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে নিয়ে স্লোগানে স্লোগানে রাজপথ মুখর করে তোলেন। মিছিলে অংশ নেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এ এ জহির উদ্দিন তুহিন, সাধারণ সম্পাদক সাদ মোর্শেদ পাপ্পা শিকদার, সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন রাসেল ও মনির হোসেন মৃধা, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন রিন্টু, যুগ্ম সম্পাদক কাজী মহিউদ্দিন মহী, হাসান আলীসহ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের অন্তর্গত বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সব স্তরের নেতাকর্মী।

জকসুতে শিবির প্যানেলের ভিপি-জিএসসহ চার প্রার্থীর ছবি বিকৃতি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি ও জিএসসহ চার প্রার্থীর ছবি বিকৃত করার ঘটনা ঘটেছে।

আজ সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বোটানিক্যাল গার্ডেনের লোহার রেলিংয়ে বিকৃত ছবি সংবলিত এসব পোস্টার পাওয়া যায়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, বিকেল ২টার দিকে বোটানিক্যাল গার্ডেনে ঝুলানো অবস্থায় শিবির–সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মো. রিয়াজুল ইসলাম, জিএস প্রার্থী আব্দুল আলিম আরিফ, কার্যনির্বাহী সদস্য প্রার্থী সালেম হোসেন সিয়াম এবং অপর কার্যনির্বাহী সদস্য প্রার্থী মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুকের বিকৃত করা পোস্টার দেখা যায়। এরপর মুহূর্তের মধ্যেই বিকৃত ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলোতে দেখা যায়, পোস্টারে থাকা প্রার্থীদের ছবিগুলো লাল ও কালো কালি দিয়ে বিকৃত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক জিলন লেখেন, যারা এই কাজটি করেছেন, এটি নিছক নোংরামি।

এসব কাজ শাহবাগী ঘরানার লোকদের কাজ। নিজেরা ওই পর্যায়ে নামবেন না। সুন্দর একটি জকসুকে নোংরা করবেন না, আল্লাহর ওয়াস্তে। প্লিজ।

এ বিষয়ে শিবির সমর্থিত প্যানেলের কার্যনির্বাহী সদস্য প্রার্থী সালেম হোসেন সিয়াম বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আমরা সব সময় সহাবস্থান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রত্যাশা করি।

যারা ছবি বিকৃত করার মতো নিকৃষ্ট পন্থার আশ্রয় নিয়েছে, আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা আশা করি, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে শিক্ষার্থীরা এসব কাজের সমুচিত জবাব দেবে।

এ প্রসঙ্গে শিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি চাই।

এভাবে পোস্টার ও ছবি বিকৃতি করে শিবিরকে দমিয়ে রাখা যাবে না। যারা এসব কাজ করেছে, তাদের প্রতি নিন্দা জানানো ছাড়া আমাদের আর কোনো ভাষা নেই।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, পোস্টার বিকৃত করার বিষয়ে কেউ আমাদের কাছে এখনো অভিযোগ দেয়নি। তাছাড়া আমি নিজেও বিষয়টি নিয়ে অবগত না। তাই এ নিয়ে কোন মন্তব্য করতে পারছি না।