বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

কারা গানম্যান পান, আবেদন করতে হয় যেভাবে

বাংলাদেশে গানম্যান বা সশস্ত্র দেহরক্ষী পাওয়া কোনো সাধারণ অধিকার নয়। এটি মূলত ব্যক্তির নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের ভিত্তিতে সরকার বিশেষ বিবেচনায় দিয়ে থাকে। অর্থাৎ, কারও প্রতি হুমকি বা ঝুঁকি যদি বাস্তব ও গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলেই সরকার এ ধরনের নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অনেক সময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গুরুত্বপূর্ণ মামলার সাক্ষী হওয়া কিংবা বিশেষ ঝুঁকির কারণেও রাষ্ট্র নিজ উদ্যোগে গানম্যান বরাদ্দ দেয়।

পুলিশ সদরদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাধারণ কোনো ব্যক্তি যদি নিরাপত্তার প্রয়োজন অনুভব করেন, তাহলে তাকে লিখিতভাবে পুলিশের কাছে বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হয়। আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা স্পেশাল ব্রাঞ্চ বিষয়টি তদন্ত করে দেখে আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি বাস্তব কি না, নাকি প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে আবেদন করা হয়েছে। এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া দীর্ঘ এবং বেশ কঠোর।

সাধারণত মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রোটেকশন ইউনিট বা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ থেকে গানম্যান বা বডিগার্ড নিয়োগ দেওয়া হয়। বডিগার্ডরা সাধারণত প্রোটেকশন ইউনিট থেকে এবং গানম্যানরা বিশেষ শাখা থেকে দেওয়া হয়ে থাকে।

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন আহাম্মেদের ভাষ্য অনুযায়ী, সব ধরনের যাচাই শেষে প্রশিক্ষিত পুলিশ সদস্যকে গানম্যান হিসেবে নিয়োজিত করা হয়। যদিও নিয়োগটি রাষ্ট্রীয়ভাবে হয়, তবে যাকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে তার মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। কারণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সমন্বয় ও বিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

একজন সরকারি গানম্যান রাষ্ট্রীয় অস্ত্র ব্যবহার করেন এবং তার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ গুলি বরাদ্দ থাকে। যেহেতু তিনি সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত, তাই তার সব ব্যয় সরকারই বহন করে। তবে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আনসার ভিডিপির সদস্যদের নির্ধারিত পারিশ্রমিকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

কারা সাধারণত গানম্যান পান

রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের আওতায় কিছু পদে থাকা ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারি গানম্যান বা সশস্ত্র নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন। এই তালিকায় রয়েছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, সচিব বা সমপর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানরা।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নুরুল হুদা বলেন, কেউ চাইলে পুলিশের কাছে নিরাপত্তার আবেদন করতে পারেন, তবে ব্যক্তিগত গানম্যান বা বডিগার্ড দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই নেয়। বিশেষ করে নির্বাচনের সময় বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে নিরাপত্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকির বাস্তবতা অবশ্যই নিশ্চিত করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ জানান, আদালতের কাছেও পুলিশি নিরাপত্তা বা গানম্যান চেয়ে আবেদন করা যায়। কোনো নাগরিক যদি মনে করেন তার জীবন হুমকির মুখে, তাহলে তিনি রাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা চাইতে পারেন। সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব, তবে কাকে কীভাবে নিরাপত্তা দেওয়া হবে সে সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নেয়।

এছাড়া কেউ চাইলে ব্যক্তিগত খরচে নিজস্ব লোককে গানম্যান হিসেবে রাখতে পারেন। সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির নিজের নামে আগ্নেয়াস্ত্রের বৈধ লাইসেন্স থাকতে হবে অথবা নিয়োগকর্তার অস্ত্রের লাইসেন্সে তাকে ব্যবহারকারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

সরকার অনুমোদিত বেসরকারি সিকিউরিটি কোম্পানি থেকেও নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে গানম্যান নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

উল্লেখ্য, অতীতেও বিভিন্ন সময় নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সরকার বিশেষ বিবেচনায় বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি, লেখক, বুদ্ধিজীবী ও গুরুত্বপূর্ণ নাগরিকের জন্য গানম্যান বা দেহরক্ষী নিয়োগ দিয়েছিল।

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মেসি পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির বোন মারিয়া সোল মেসি। দুর্ঘটনার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। এই ঘটনার কারণে তার নির্ধারিত বিয়ের অনুষ্ঠানও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় মারিয়া সোল নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। হঠাৎ করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি একটি দেয়ালে ধাক্কা খায়। এতে গাড়িটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তিনি গুরুতরভাবে আহত হন।

আর্জেন্টিনার এক সাংবাদিকের বরাতে গোলডটকম জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় মারিয়া সোলের শরীরের একাধিক স্থানে আঘাত লেগেছে। তার মেরুদণ্ডের দুটি হাড় ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি একটি গোড়ালি ও একটি কবজির হাড়েও চোট লেগেছে। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।

আর্জেন্টিনার পরিচিত সাংবাদিক দে ব্রিতো জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তিনি মেসির মা সেলিয়া কুচ্চিত্তিনির সঙ্গে কথা বলেছেন। সেলিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, মারিয়া সোল এখন আশঙ্কামুক্ত হলেও পুরোপুরি সুস্থ হতে সময় লাগবে।

এই দুর্ঘটনার প্রভাব পড়েছে তার ব্যক্তিগত জীবনেও। আগামী ৩ জানুয়ারি আর্জেন্টিনার রোসারিও শহরে মারিয়া সোলের বিয়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে শারীরিক অবস্থার কারণে সেটি আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মারিয়া সোলের বাগদত্তা জুলিয়ান ‘তুলি’ আরেয়ানো যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মিয়ামির অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচিং স্টাফের সঙ্গে যুক্ত।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আপাতত সব আয়োজন বাতিল রেখে তার চিকিৎসা ও সুস্থতাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এদিকে মেসি পরিবারের এই কঠিন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তরা মারিয়া সোলের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন।

আ.লীগের ভোট নেয়ার প্রতিযোগিতা করছে বিএনপি ও জামায়াত: নাহিদ

বিএনপি ও জামায়াত আওয়ামী লীগের ভোট নেয়ার প্রতিযোগিতা করছে। আওয়ামী লীগ প্রশ্নে সব দলগুলো একমত হতে পারে নাই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ডেইলি স্টার আয়োজিত নির্বাচন ডায়লগ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য থেকে শুধু একটি দলের পতন নয়, রাষ্ট্র ও জীবন ব্যবস্থার পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা লক্ষ্য ছিল। যেভাবে পুনর্গঠন হওয়ার কথা সেরকম হয়নি। তবু বাস্তবতা মেনে নিয়ে নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি। আগামী নির্বাচনে গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে থাকবে এনসিপি। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ইতিহাস। তাতে ভালো কিছু হয়নি। ভবিষ্যতের জন্য নির্বাচনের পর ঐক্যমত কমিশনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন রাজনৈতিক দলগুলো করবে বলে আশা করি।

তিনি বলেন, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে না পারলে দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব না। সরকারের তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। হিসাব দাও নামে একটি কর্মসূচি করতে দেয়া যেতে পারে। সেখানে সরকার সব কিছুর হিসাব জনগণকে দেবে।

নির্বাচন ডায়লগ অনুষ্ঠানে নির্বাচনে বিজয়ী হলে দলের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে দলগুলো।

এ সময়ে র‌্যাব বিলুপ্তির বিষয়ে এনসিপি একমত হলেও ভিন্নমত জানান বিএনপি ও জামায়াত

যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের সময় গ্রেটা থুনবার্গ গ্রেপ্তার

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রচার সংগঠন ডিফেন্ড আওয়ার জুরিজ জানিয়েছে, ফিলিস্তিনপন্থী এক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় মঙ্গলবার লন্ডনে সুইডিশ জলবায়ুকর্মী গ্রেটা থুনবার্গকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ পুলিশ।

সংগঠনটি জানায়, প্যালেস্টাইন অ্যাকশন-সম্পর্কিত বন্দিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে লেখা একটি প্ল্যাকার্ড বহনের অভিযোগে সন্ত্রাসবাদ আইনের অধীনে থুনবার্গকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে ব্রিটিশ সরকার একটি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

সিটি অব লন্ডনের এক মুখপাত্র বলেন, একটি ভবনে লাল রং নিক্ষেপের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এর কিছুক্ষণ পর ২২ বছর বয়সী এক নারী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের (এ ক্ষেত্রে প্যালেস্টাইন অ্যাকশন) সমর্থনে কোনো বস্তু (এ ক্ষেত্রে একটি প্ল্যাকার্ড) প্রদর্শনের অভিযোগে সন্ত্রাসবাদ আইন, ২০০০-এর ধারা ১৩ অনুযায়ী গ্রেপ্তার হয়েছেন।’

ডিফেন্ড আওয়ার জুরিজ জানায়, তারা ভবনটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, কারণ সেটি এমন একটি বীমা প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত, যা তাদের দাবি অনুযায়ী ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসের ব্রিটিশ শাখাকে সেবা দিয়ে থাকে।

সরকার ও ইসিকে কড়া হুঁশিয়ারি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর

সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ড দেখে ‘নতুন করে অনেক কিছু শিখেছেন’ বলে কটাক্ষ করেছেন জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। নির্বাচন কমিশনের সংলাপে ডাক না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেছেন, ‘হালার পো হালারা কী মনে করছে বাংলাদেশটাকে। ইলেকশন কমিশনের প্রধান সবাইকে ডাকছে, আমাদের ডাকে নাই কেন? রাস্তাঘাটে চলবেন না? আমরা দেখছি তো। যখন যারা ক্ষমতায় থাকে তারা সবচেয়ে বেশি শক্তিধর হয়।

মঞ্জুর জেপি এবং আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির একাংশের নেতৃত্ব ২০টি রাজনৈতিক দল নিয়ে গঠিত জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এনডিএফ মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) ১১৯ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে।

বনানীর হোটেল শেরাটনে সেই সংবাদ সম্মেলনে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের কঠোর সমালোচনা করেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।

সরকারকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। সেখানে এমন কোনো অবস্থা যেন সৃষ্টি করতে না হয়, যে জান বাঁচাবার জন্য প্রতিহত প্রতিরোধ করে ফেলতে হয়।
আমরা এখানে সমাবেত হয়েছি নির্বাচন অংশগ্রহণ করার জন্য। যদি নির্বাচন করার মতো পরিবেশ থাকে, পরিবেশ সৃষ্টি করা হয় এবং যাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে… মামলা সব মিথ্যা, সময়ের ব্যাপার মাত্র।’

তিনি বলেন, ‘মামলা যারা খায়, তারা পরবর্তীকালে দেশ এবং জাতির নেতা হয়। তারা পুনরায় আসে।
তারা পুনরায় দেশবাসীকে উপদেশ দেন। আমাদের জীবন কেটে গেছে।’

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পিরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে মঞ্জু বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগামীতে পরিবর্তন হবে, তার কোনো লক্ষণ আমরা দেখছি না। বরং অবনতি হওয়ার সুনির্দিষ্ট সংকেত আমরা পাচ্ছি। আমরা নির্বাচনমুখী রাজনীতিতে বিশ্বাস করি।
গণতন্ত্র বিশ্বাস করি। সে জন্য নির্বাচন বয়কটের কথা আমরা চিন্তা করি না। কিন্তু নির্বাচন বয়কটের অবস্থা যদি আমাদের চাপিয়ে দেওয়া হয়, আমাদের কোনো উপায় নাই।’

তিনি বলেন, ‘আসেন আমরা এটা সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন করি, একটা পরিবেশ সৃষ্টি করি, যাতে দেশের মানুষ সুখে-শান্তিতে ও নির্ভয়ে জীবন যাপন করতে পারে। সবাই কিন্তু আপনাদের পেছনে এই লাড্ডু খাওয়ার জন্য ঘোরে না। সাধারণ মানুষ, ১৮ কোটি মানুষ তারা কী চায়? তারা চায় নির্ভয়ে জীবনযাপন। কর্মীরা আছেন, তাদের একটাই চিন্তা যে অ্যারেস্ট করবে না। বাকিটা আমরা দেখব। সে জন্য বলি আসেন সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করি।’

সরকারের সমালোচনা করে মঞ্জু বলেন, ‘কী বলে কী বিপদে পড়ব…। আমি তো বিপদে পড়ব না, আপনারা বিপদে পড়বেন। সে জন্য বলি, আসেন দেশটাকে গড়ি, আসেন একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করি।’

কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘কার কাছে নির্বাচন চাব, এরা কারা? আপনারা চেনেন? আমি তো চিনি না। আপনারা চেনেন? কারা আইসা কী কইতাছে! নির্বাচন সুষ্ঠু করার কথা, শান্তিপূর্ণ-উৎসবমুখর করার কথা! এটা আমেরিকায় দেখা যায়, পশ্চিম দেশে দেখা যায়। আমি আইছি ভাণ্ডারিয়া থেকে। দেখলাম, ভালোই লাগল। নতুন নতুন জিনিস, শিখলাম।’

সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট আয়োজনের সমালোচনা করে জেপি নেতা বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে যারা যাবে, দুইটা ভোট দেবে। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষ এমনিতে মাথা খারাপ থাকে অভাব-অনটন ও অশান্তির কারণে। এখন নির্বাচনকেন্দ্রে যাইয়া কী অবস্থা করবে আল্লাহ জানে। আমি জানি, কারণ তারা একটাই দিতে পারত না ঠিকমতো, এখন দেখবে ওটা (গণভোটের ব্যালট)।’

মঞ্জু বলেন, ‘নির্বাচন হবে, নির্বাচন হলে আমরা অংশগ্রহণ করব। যদি আমাদের নির্বাচন করতে দেয়। এই মুহূর্তে কিন্তু আমরা দাওয়াত পাইনি, দুই-তিনটা দলকে দাওয়াত করছে। তারপরে বলছে যার যার ইচ্ছা আসুক।’

দেশের জন্য সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই : জাইমা রহমান

একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। আজ মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কথা জানান। তার সেই পোস্ট বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে শেয়ার করা হয়।

পোস্টে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে জাইমা রহমান বলেন,‘ দাদুকে নিয়ে আমার সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতিগুলোর একটি হলো, পরিবারকে আগলে রাখা একজন অভিভাবক হিসেবে তিনি কতটা মমতাময়ী ছিলেন! আমার বয়স তখন এগারো।
আমাদের স্কুলের ফুটবল টিম একটা টুর্নামেন্ট জিতেছিল, আর আমি মেডেল পেয়েছিলাম। আম্মু আমাকে সরাসরি দাদুর অফিসে নিয়ে গিয়েছিলেন, আমি যেন নিজেই দাদুকে আমার বিজয়ের গল্পটা বলতে পারি; তাঁকে আমার বিজয়ের মেডেলটা দেখাতে পারি। আমি খুব উচ্ছ্বসিত হয়ে গোলকিপার হিসেবে কী-কী করেছি, সেটা বলছিলাম; আর স্পষ্ট টের পাচ্ছিলাম, দাদু প্রচণ্ড মনোযোগ নিয়ে আমাকে শুনছেন। তিনি এতটাই গর্বিত হয়েছিলেন যে, পরে সেই গল্পটা তিনি অন্যদের কাছেও বলতেন।

‘আমি সব সময়ই জানতাম, আমার দাদুর কাঁধে একটা দেশের দায়িত্ব। তবুও আমার স্মৃতিতে দাদু হলেন পরিবারকে আগলে রাখা একজন মমতাময়ী অভিভাবক। লাখো মানুষের কাছে তিনি ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু আমার আর আমার কাজিনদের কাছে তিনি ছিলেন ‘দাদু’।
আমাদের ‘দাদু’। তিনি সব সময় আমাদের খেয়াল রাখতেন, আমাদের জন্য সময় বের করতেন, আর যেসব মুহূর্ত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সেগুলোতে আমাদের সাহস দিতেন, উজ্জীবিত করতেন।
এই ছোট-ছোট মুহূর্তগুলো থেকেই আমি নেতৃত্বের প্রথম শিক্ষা পাই। সেটি হলো, নম্রতা, আন্তরিকতা আর মন দিয়ে শোনার মানসিকতা।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বাইরে কাটানো সতেরোটা বছর আমার জীবন অনেকভাবে বদলে দিয়েছে।
কিন্তু আমি কখনোই আমার শিকড় ভুলে যাইনি। কারণ, আমাদের সত্তার যে ভিত্তি, আমাদের যে সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ; সেটিই আমাদেরকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে, পরিচয় বহন করে। প্রবাসে থাকা দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের অনেক বাংলাদেশির মতো আমিও নিজ দেশের বাইরে, ভিন্ন দেশে অনেকগুলো বছর কাটিয়েছি। লন্ডনের দিনগুলো আমাকে বাস্তববাদী করেছে, একটা বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে। যদিও আমার হৃদয়-মন সব সময় বাংলাদেশেই ছিল।’

ব্যারিস্টার জাইমা বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আমাকে শৃঙ্খলা ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান শিখিয়েছে। তবে মানুষের সঙ্গে কাজ করা আমাকে শিখিয়েছে আরও অনেক বেশি; শিখিয়েছে দায়িত্বশীল হতে, বিপদগ্রস্তের পাশে দাঁড়াতে। আইন পেশায় কাজ করার সময় কাছ থেকে দেখা মানুষগুলোর গল্প, আর সেই গল্পগুলোর যৌক্তিক এবং আইনগত সমাধান খোঁজার দায়িত্ব আমাকে আলোড়িত করে। প্রত্যেক ক্লায়েন্ট, প্রতিটি মামলা, প্রতিটি মানুষের সমস্যা, কারো না কারো জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। যারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, অবহেলার শিকার হয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সেই বিশ্বাস দিতে হয় যে, তাদের বিষয়টি দেখা হচ্ছে, শোনা হচ্ছে, সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। কারো জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিনে তার পাশে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা যে শিক্ষাটা দেয়, সেটা কোনো ক্লাসরুম দিতে পারে না। এই প্রতিটা ধাপ আমাকে ভাবতে শিখিয়েছে, মানুষ হিসেবে কেমন হতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘‘আমি আমার ‘দাদা’কে কখনো দেখিনি। কিন্তু তাঁর সততা আর দেশপ্রেমের কথা সব সময় শুনে এসেছি। ‘দাদু’ আর ‘আব্বু’ সেই আদর্শটাই বয়ে নিয়ে চলেছেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় এবং ৫ আগস্টের আগে-পরের সময়টাতে আমি যতটুকু পেরেছি, নেপথ্যে থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। অধিকাংশ সময় বলেছি কম, বরং শুনেছি বেশি। ছোট-ছোট কাজের মাধ্যমে তাঁদের বোঝা একটু হালকা করার চেষ্টা করেছি।’’

দেশে ফেরা নিয়ে জাইমা রহমান বলেন, ‘‘অনেকগুলো বছর পর দেশে ফিরছি। দেশে ফেরা মানে আবেগ আর অনুভূতির এক অনন্য সংমিশ্রণ। দেশে ফিরে ইনশাআল্লাহ, আমি ‘দাদু’র পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। নিজের চোখে, নিজের অভিজ্ঞতায় প্রিয় বাংলাদেশকে নতুন করে জানতে চাই; মানুষের সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলতে চাই। যেভাবে এগুনো দরকার, আমি চাই বাংলাদেশ আবারো সেভাবে সামনে এগিয়ে যাক, গর্জে উঠুক।’’

‘আমি জানি, আমার পরিবারকে ঘিরে দেশের জনগণের কৌতূহল রয়েছে, প্রত্যাশা রয়েছে। সেটি কখনো আশার, কখনো প্রশ্নের। সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়ভারও রয়েছে। জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণের চাপ আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে অনুভব করি; পরিবারে, বন্ধুত্বে, সমাজে। সংক্ষেপে, আমার নিজের ভাষায়, এই হলো আমার গল্প। আমাদের প্রত্যেকের জীবনে একটা নিজস্ব গল্প আছে। এই গল্পগুলোকে ধারণ করে, আমরা সবাই হয়তো একসঙ্গে বাকি পথটা হাঁটতে পারি।’

দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে আবারও তলব

কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ফের দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করেছে ভারত।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে ডেকে পাঠায়। ভারতে বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশন লক্ষ্য করে একাধিক ঘটনার বিষয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ জানাতে তাকে তলব করা হয়েছিল।

চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি দ্বিতীয়বারের মতো দুই দেশের কূটনীতিকদের তলব করার ঘটনা।

এদিকে নিরাপত্তা জোরদার করতে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে প্রায় ১৫ হাজার নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করেছে ভারত।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে কাজ করছে সরকার : অর্থ উপদেষ্টা

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক আছে। রাজনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সরকার কাজ করছে।’

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘ভারতের রাজনৈতিক সম্পর্ক খুব যে খারাপ হয়ে গেছে তা নয়।
তবে আমরা চেষ্টা করছি কোনোভাবে যেন অস্বাভাবিক না হয়।’

ভারতে সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে প্রধান উপদেষ্টা নিজেও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে অর্থ উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘কোনো প্রতিবেশীর সঙ্গেই তিক্ত সম্পর্ক চায় না বাংলাদেশ।’

আগামীকাল আমার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হবে : রুমিন ফারহানা

দল মনোনয়ন না দিলেও ভোটের মাঠে থাকছেন বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আগামীকাল দুপুর ১২টায় সরাইল উপজেলার সহকারী রিটার্নি অফিসারের কার্যালয় থেকে আমার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হবে। আমিও দুপুরের মধ্যে এলাকায় যাব।’

এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘অবশ্যই নির্বাচন করব।
’ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে আপনার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দল দলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি আমার সিদ্ধান্ত নেব। আমি নির্বাচন করব।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসন থেকে নির্বাচনে লড়বেন রুমিন ফারহানা।
তবে বিএনপি তাকে মনোনয়ন দেয়নি। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কাছে বিএনপির ছেড়ে দেওয়ার চারটি আসনের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে চারটি আসন ছেড়ে দেওয়ার কথা জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে দেওয়া হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার মনোনয়ন। ৩ নভেম্বর ২৩৭ আসনে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে বিএনপি। সেই তালিকায় তখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে কারো নাম ঘোষণা করেনি দলটি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মোট ভোটার আছেন চার লাখ ৯৯ হাজার ৪৪৮ জন। এর মধ্যে সরাইল উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ভোটার দুই লাখ ৮৮ হাজার ৬০৯টি, আশুগঞ্জ উপজেলার আটটি ইউনিয়নে এক লাখ ৫৩ হাজার ৯৯ ও বিজয়নগর উপজেলার দুটি ইউনিয়নে ভোট আছে ৫৭ হাজার ৭৪০টি।
বিজয়নগর উপজেলার দুটি ইউনিয়ন ওই আসনের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করতে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সামনে থেকে কাজ করেছেন।

গত ২০ ডিসেম্বর বিকেলে উপজেলার সৈয়দটুলা গ্রামের খেলার মাঠে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া ও আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে দল থেকে মনোনয়ন না পেলেও নির্বাচন করার বিষয়টি স্পষ্ট করেন। নিজের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না বাপের মতো বেটিরও কপাল আছে কি না। বাপ স্বতন্ত্র ছিলেন, বেটিও স্বতন্ত্র—সময়ই এর উত্তর দেবে। মনোনয়ন আমি কিনব না। এই মনোনয়ন আমার এলাকার ভোটারদের। তারা যদি মনে করেন, তবেই সেটা আমার হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমার বাবা ১৯৭৩ সালে আপনাদের বাপ-দাদার ভোটে স্বতন্ত্র নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু তখন শেখ হাসিনার বাপ শেখ মুজিবুর রহমান আমার বাপকে জিততে দেননি।’

জোটের স্বার্থে দল এ আসনটি ছেড়ে দেওয়ার পর রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বিএনপি এত বড় দল। তাদের ভালো-মন্দ দেখতে হয়। যেহেতু জমিয়তে উলামায়ের সঙ্গে তারা জোট করেছে, আসন না দিলে কেমন করে জোট হবে? দল বাধ্য হয়ে তাদের আসন দিয়েছে।’

প্রায় সাড়ে ৪৮ কোটি ডলারে নতুন মালিকানায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা

পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের (পিআইএ) সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ার বিক্রির নিলামে মঙ্গলবার ৪৮ কোটি ২০ লাখ ডলারের দর দিয়ে বিজয়ী হয়েছে একটি পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠান। লোকসানে জর্জরিত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারীকরণের সরকারি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এ চুক্তিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরেই অতিরিক্ত জনবল ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার অভিযোগে সমালোচিত পিআইএ নগদ সংকটে ভুগছে, এমন এক সময়ে যখন পাকিস্তান সরকার তীব্র বৈদেশিক লেনদেন সংকট মোকাবেলা করছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত নিলামে তিনটি পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।
একাধিক দফা দরপত্রের সময় প্রতিনিধিরা স্বচ্ছ একটি বাক্সে তাদের প্রস্তাব জমা দেন।

নিলামে ৭৫ শতাংশ শেয়ারের জন্য ১৩৫ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি দর দিয়ে শীর্ষে উঠে আসে আরিফ হাবিব ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির আগামী মাসগুলোতে অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ শেয়ার কেনারও সুযোগ থাকবে।

নিলাম শুরু হওয়ার সময় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, ‘এই প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখা অত্যন্ত জরুরি ছিল, কারণ পাকিস্তানের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লেনদেনটি হতে যাচ্ছে।

প্রতিদ্বন্দ্বী দরদাতাদের মধ্যে ছিল লাকি সিমেন্টের নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়াম, যারা ১৩৪ বিলিয়ন রুপির দর দেয় এবং বেসরকারি বিমান সংস্থা এয়ার ব্লু, যারা ২৬.৫ বিলিয়ন রুপি প্রস্তাব করে।

এর আগে গত বছর পিআইএ বেসরকারীকরণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। সে সময় মাত্র একটি দরপত্র পাওয়া গিয়েছিল, যার মূল্য ছিল তিন কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা সরকারের প্রত্যাশিত ৩০০ থেকে ৩০৫ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় অনেক কম।

পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে তালিকাচ্যুত হওয়ার আগে, ২০২২ অর্থবছরে পিআইএ ৮৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার আয়ের বিপরীতে ৪৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারের নিট লোকসান দেখিয়েছিল।