বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে মালয়েশিয়া থেকে নিবন্ধন করেছেন ৩৯ হাজারের বেশি প্রবাসী

বিদেশে থেকে দেশের ত্রয়োদেশ নির্বাচনে ভোট দিতে পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে নিবন্ধন করছেন প্রবাসী ভোটাররা। এরইমধ্যে মালয়েশিয়া থেকে নিবন্ধন করেছেন ৩৯ হাজার ৬শ’র বেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা। এর মধ্য দিয়ে প্রবাসীদের কণ্ঠস্বর জাতীয় রাজনীতিতে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিফলিত হবে বলে প্রত্যাশা প্রবাসীদের।

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরা। এরজন্য নির্বাচন কমিশনের বিশেষ অ্যাপ পোস্টাল ভোট বিডিতে নিবন্ধনের হিড়িক পড়েছে মালয়েশিয়া সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীদের। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে নিবন্ধন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে, ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট নিবন্ধিত প্রবাসী ভোটার সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ ২০ হাজার। দেশ ভিত্তিক সংখ্যার হিসেবে চতুর্থ স্থানে আছে মালয়েশিয়া। দেশটি থেকে নিবন্ধন করেছেন ৩৯ হাজার ৬৩৮ প্রবাসী। মালয়েশিয়া নিবন্ধন করা ভোটারদের মধ্যে নারী ভোটার ৪৮৫ জন। এর মধ্য দিয়ে প্রবাসীদের কণ্ঠস্বর জাতীয় রাজনীতিতে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিফলিত হবে বলে প্রত্যাশা প্রবাসী ভোটারদের।

প্রবাসী ভোটাররা জানান, ১৭ বছর পর তারা ভোটারের জন্য আবেদন করেছেন অনলাইনে। তবে ভোট সুষ্ঠু হবে কী না, কিভাবে পৌঁছাবেতা নিয়ে এখনো সংশয় রয়েছে প্রবাসীদের মনে।

ভোট দেয়ার তথ্য গোপন থাকবে কিনা এনিয়েও সংশয় প্রকাশ করছেন কেউ কেউ। তবে এসবের মাঝেও ভোটদানে আগ্রহের কমতি নেই প্রবাসীদের। পোস্টাল ভোট বিডিতে নিবন্ধনের জন্য সাধারণ প্রবাসীদের সহায়তা করছেন সচেতন প্রবাসীরা।

নিবন্ধনের জন্য সহায়তা করা প্রবাসীরা জানান, দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষায় আমরা প্রবাসীদের কাছে নিজ উদ্যোগে গিয়ে তাদের নিবন্ধন করিয়ে দিচ্ছি।

নিবন্ধিত প্রবাসীদের ঠিকানায় এরইমধ্যে ব্যালটও পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যা পূরণ করে ডাকযোগে দেশে পাঠাবেন প্রবাসীরা। বিপুলসংখ্যক মালয়েশিয়া প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

১৮ থেকে ২৫ ডিসেম্বর যৌথবাহিনীর অভিযানে সারা দেশে গ্রেপ্তার ২১

সারা দেশে ১৮ থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত যৌথবাহিনীর অভিযানে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকাসক্ত, ডাকাত সদস্য, কিশোর গ্যাং, চোরাকারবারিসহ মোট ২১ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্দেশ্যে যৌথবাহিনী গত ১৮ থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২১ জন সন্দেহভাজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এদের মধ্যে ছিল সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকাসক্ত, ডাকাত সদস্য, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ও চোরাকারবারি।

আরও জানানো হয়, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে ১৩টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ১১৪ রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ, ককটেল, মাদকদ্রব্য ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। আটকদের প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ এবং আইনি কার্যক্রম সম্পন্নের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক কার্যকলাপ পরিলক্ষিত হলে তা নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে অবহিত করার জন্য জনগণকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ ঝড় ও ভারি বৃষ্টি, ৩ জনের মৃত্যু

বড়দিনের রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন এলাকায় টানা ভারি বৃষ্টি ও ঝড়ের ফলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, এসব ঘটনায় অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

ঝড়টি শুক্রবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির কিছু এলাকায় প্রায় ১১ ইঞ্চি (২৭ সেন্টিমিটার) বৃষ্টি হয়েছে।
এর ফলে বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে, বন্ধ হয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক।

বন্যার পানিতে গাড়ি আটকে পড়াসহ নানা পরিস্থিতিতে জরুরি উদ্ধারকর্মীদের একাধিক উদ্ধার অভিযান চালাতে হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম বুধবার লস অ্যাঞ্জেলেসসহ দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে প্রায় এক লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েদার প্রেডিকশন সেন্টার বৃহস্পতিবার সতর্ক করে জানায়, একাধিক আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটতে পারে। অনেক ছোট নদী ও খাল উপচে পড়তে পারে, যা বড় নদীগুলোকেও প্রভাবিত করতে পারে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন— সান দিয়েগোর ৬৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, যিনি বুধবার সকালে একটি গাছ পড়ে মারা যান বলে পুলিশ জানিয়েছে; রেডিং শহরে ৭৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, যিনি বন্যার পানিতে গাড়ির ভেতর আটকা পড়ার পর উদ্ধার প্রচেষ্টার সময় মারা যান; মেনডোসিনো কাউন্টির ম্যাককেরিচার স্টেট পার্কে এক নারী (সত্তরের কোঠায়), যিনি বড় ঢেউয়ের আঘাতে পাথর থেকে পড়ে সাগরে ভেসে যান এবং প্রাণ হারান বলে শেরিফ কার্যালয় জানিয়েছে।

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির কিছু এলাকায় বাসিন্দাদের জন্য সরিয়ে নেওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
পাশাপাশি সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকায় বৃহস্পতিবার সকালে আকস্মিক বন্যার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

বড়দিনে পুতিনের ‘মৃত্যু কামনা’ করলেন জেলেনস্কি

বড়দিনে দেশবাসীর জন্য বার্তা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এ বার্তা তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মৃত্যু কামনা করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ক্রিসমাস বার্তায় পুতিনকে ইঙ্গিত করে কঠোর মন্তব্য জেলেনস্কির, শান্তির আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত

ক্রিসমাসের আগের দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া ওই বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া যত কষ্টই চাপিয়ে দিক না কেন, তারা ইউক্রেনীয়দের হৃদয়, পারস্পরিক বিশ্বাস ও ঐক্য ধ্বংস করতে পারবে না।

পুতিনের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে তিনি বলেন, আজ আমরা সবাই একটি স্বপ্ন ভাগ করে নিচ্ছি। আর সবার জন্য আমাদের একটি ইচ্ছা—‘সে ধ্বংস হোক’, যেটা সবাই মনে মনে বলে থাকে। তার এই বক্তব্যকে অনেকেই রুশ নেতার বিরুদ্ধে কঠোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

বক্তব্যে একই সঙ্গে জেলেনস্কি শান্তির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যখন আমরা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, তখন আমরা আরও বড় কিছু চাই। আমরা ইউক্রেনের জন্য শান্তি চাই। আমরা এর জন্য লড়ছি, প্রার্থনা করছি এবং আমরা তা পাওয়ার যোগ্য।

ক্রিসমাস বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, ক্রিসমাসের প্রাক্কালে রাশিয়া আবারও দেখিয়েছে তারা আসলে কারা। ব্যাপক গোলাবর্ষণ, শত শত শাহেদ ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, কিনঝাল হামলা—সবকিছুই ব্যবহার করা হয়েছে।

এদিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে জেলেনস্কি যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি ২০ দফা পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, শান্তি প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে ইউক্রেন দেশের পূর্বাঞ্চলীয় শিল্পাঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারে প্রস্তুত থাকতে পারে। তবে শর্ত হলো—রাশিয়াকেও একইভাবে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে এবং ওই অঞ্চলকে আন্তর্জাতিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে একটি নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চলে পরিণত করতে হবে।

ঢাকার বাতাস আজ ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’

বিশ্বের ১২৭টি দেশের মধ্যে বায়ুদূষণে শীর্ষে উঠে এসেছে ভারতের দিল্লি। এই তালিকায় রাজধানী ঢাকার অবস্থান তৃতীয়।

শুক্রবার সকাল ৯টা ১৩ ‍মিনিটে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার প্রকাশিত বায়ুগুণমান সূচক অনুযায়ী, শীর্ষে উঠে আসা দিল্লির বায়ুর মান ৩৪২, যা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ মানদণ্ডে পড়ে।

এ ছাড়া ৩৩৭ স্কোরে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে পাকিস্তানের লাহোর।

এই শহরের বাতাসও ‘দুর্যোগপূর্ণ’। তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে উঠে আসা ঢাকার স্কোর হচ্ছে ২৪৮, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পড়ে। এ ছাড়া ২৩০ স্কোরে কাতারের দোহা চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। এই শহরের বাতাসও ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ আজ।

একই স্কোরে পঞ্চম অবস্থানে উঠে এসেছে ভারতের কলকাতা। আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো বলে বিবেচিত হয়।

৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয় বায়ুর মান। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর।

১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচনা করা হয়।

এ ছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

রেকর্ড গড়ার পর কমল স্বর্ণের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর স্বর্ণ, রুপা ও প্লাটিনামের দামে সাময়িক স্থিতি এসেছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তোলায় স্বর্ণের দামে সামান্য পতন ঘটে। দিনের শুরুর দিকে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৫০০ ডলার অতিক্রম করে নতুন রেকর্ড গড়লেও পরে তা নেমে যায়। একইভাবে দীর্ঘ ঊর্ধ্বগতির পর রুপা ও প্লাটিনামের দামেও সংশোধন দেখা গেছে।

স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৭৯.৩৮ ডলারে লেনদেন হয়। সেশনের একপর্যায়তে দাম উঠে যায় ৪ হাজার ৫২৫.১৮ ডলারে, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ। অপরদিকে ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার ০.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫০২.৮ ডলার হয়।

কিটকো মেটালসের সিনিয়র বিশ্লেষক জিম উইকফ বলেন, রেকর্ড উচ্চতার পর বাজারে স্বাভাবিক সংহতি ও মুনাফা তোলার প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। তার মতে, নিম্ন সুদের হার ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময় স্বর্ণের চাহিদা সাধারণত শক্তিশালী থাকে।

মার্কিন অর্থনীতিতে সুদ কমানোর প্রত্যাশাও স্বর্ণবাজারকে সমর্থন দিচ্ছে। মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে তিনি এমন একজন ফেড চেয়ারম্যান চান, যিনি সুদের হার কমাতে আগ্রহী হবেন। চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তিনবার সুদ কমিয়েছে এবং বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী বছর আরও দুই ধাপ সুদ কমতে পারে।

এদিকে রুপা সর্বোচ্চ ৭২.৭০ ডলার স্পর্শ করার পর কিছুটা কমলেও শেষ পর্যন্ত ০.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭১.৯৪ ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস, বছরের শেষ নাগাদ রুপার দাম ৭৫ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। এ বছর এখন পর্যন্ত রুপার দাম বেড়েছে প্রায় ১৪৯ শতাংশ, যেখানে স্বর্ণ বেড়েছে ৭০ শতাংশেরও বেশি।

প্লাটিনাম সেশনে এক পর্যায়ে প্রতি আউন্স ২ হাজার ৩৭৭.৫০ ডলারে ওঠে, তবে পরে মুনাফা তুলতে যাওয়ায় ২.৪ শতাংশ কমে ২ হাজার ২২০.৪৪ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে প্যালাডিয়াম তিন বছরের সর্বোচ্চ স্পর্শ করার পর ৯ শতাংশের বেশি কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৮৩.৫৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

দেশীয় বাজারেও নতুন করে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৮৩ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮১ হাজার ৭২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি ১ লাখ ৫১ হাজার ৩৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

মহাসমাবেশের ডাক দিলো ইসলামী আন্দোলন

শহীদ ওসমান হাদীর প্রকৃত খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে এবং জুলাই সনদের পক্ষে জনমত তৈরির লক্ষে ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
আগামী (৯ জানুয়ারি) শুক্রবার ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

আজ ২৫ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার বিকালে পুরানা পল্টনস্থ কার্যালয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিয়মিত মিটিংয়ে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

শহীদ ওসমান হাদিসহ সকল হত্যায় জড়িত প্রকৃত খুনিদের গ্রেফতার, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির দাবিতে এবং গণভোটে জুলাই সনদের পক্ষে জনমত তৈরির লক্ষ্যে এই মহাসমাবেশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর পীর সাহেব চরমোনাই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ওসমান হাদী হত্যার সাথে সম্পৃক্ত অপরাধীদের এখনো আইনের আওতায় আনতে না পারার ব্যর্থতা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন।

মিটিংয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ, সহকারী মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিকসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ছুটির দিনেও রিটার্ন জমা নেবে এনবিআর

ছুটির দিনেও রিটার্ন জমা নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী প্রার্থীরা যেন নির্বিঘ্নে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারেন তাই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে এনবিআর।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উদ্যোগে এবং ই-ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের সহযোগিতায় ‘হেল্পডেস্ক’ চালু করা হয়েছে, যেখানে প্রার্থীরা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল সংক্রান্ত সেবা নিতে পারবেন।

হেল্পডেস্কের কার্যক্রমের বিস্তারিত সময়সূচি অনুযায়ী :

২৬ ডিসেম্বর (শুক্রবার) দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। স্থান : কর কমিশনারের কার্যালয়, ই-ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট ইউনিট, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ঢাকা।

২৭ ডিসেম্বর (শনিবার) সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। স্থান : ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি), লেভেল-৭, রমনা, ঢাকা।

উল্লেখ্য, আগামী ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর অফিস চলাকালীন সময়ে প্রার্থীদের জন্য একই সেবা চালু থাকবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আশা করছে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহী প্রার্থীরা তাদের আয়কর রিটার্ন সহজে দাখিল করতে পারবেন।

তারেক রহমানের পরিকল্পনার বিষয়ে নজর রাখবে জামায়াত : শফিকুর রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে স্বাগত জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। আজ বৃহস্পতিবার দলটির আমির শফিকুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘তার একজন রাজনৈতিক সহকর্মী দীর্ঘ ১৭ বছর পর সরাসরি রাজনীতির মাঠে ফিরছেন, এটিকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।’

একই সঙ্গে শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ঐক্যের ব্যাপারে তারেক রহমান কী ভূমিকা রাখেন, অথবা কী পরিকল্পনা আছে তার এবং বাস্তবায়ন কিভাবে করবেন—এসব বিষয়ে জামায়াত নজর রাখবে।’

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও বলেছেন, ‘তিনিও ইতিবাচক হিসেবে দেখেন তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘটনাটিকে।

তবে তিনিও মনে করেন, ‘তারেক রহমান কিভাবে ভূমিকা রাখেন, তার ওপর নির্ভর করে জাতীয় রাজনীতিতে তার অবস্থান তৈরি হবে।’

জামায়াত জোটে থাকছে না চরমোনাই পীর-মামুনুলের দল!

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আসন সমঝোতা নিয়ে চাপে পড়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী ঘরানার আটটি দল। একাধিক দফা বৈঠক হলেও একক প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। বিশেষ করে চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন এবং মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উচ্চ আসন দাবি এই অচলাবস্থার প্রধান কারণ বলে জানা গেছে।

জোটসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রত্যাশা অনুযায়ী আসন না পেলে ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সমঝোতা প্রক্রিয়া থেকে সরে এসে আলাদা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের কথাও ভাবছে। এই সম্ভাবনার পেছনে কোনো বিশেষ মহলের নীরব আশ্বাস থাকতে পারে—এমন আলোচনাও রাজনৈতিক অঙ্গনে শোনা যাচ্ছে।

এর মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় যেতে তারা প্রায় ৫০টি আসনের প্রত্যাশা করছে বলে জানা গেছে। এনসিপি যুক্ত হলে অন্য দলগুলোর জন্য ছাড় আরও বাড়াতে হবে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি দলও সমঝোতার আগ্রহ দেখাচ্ছে। সব মিলিয়ে জামায়াতকেন্দ্রিক এই নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাগপা ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি—এই দলগুলো সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। লক্ষ্য ছিল ইসলামী দলগুলোর ভোট এক জায়গায় এনে সরকার গঠনের পথে এগোনো। তবে শেষ সময়ে এসে আসন বণ্টন নিয়ে মতবিরোধ সেই উদ্যোগকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।

সূত্র জানায়, ইসলামী আন্দোলন শতাধিক আসনের দাবি জানিয়েছে, আর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চাইছে অন্তত ২৫ থেকে ৩০টি আসন। খেলাফত মজলিসের অন্য অংশ এবং আরও কয়েকটি দলও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন দাবি করায় জামায়াতের জন্য নিজের কাঙ্ক্ষিত আসন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। জামায়াত যেখানে প্রায় ২০০ আসনে প্রার্থী দিতে চায়, সেখানে অন্যদের দাবি মানলে তাদের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।

তবে প্রকাশ্যে জোট ভাঙার কথা কেউই স্বীকার করছেন না। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও আট দলের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ দাবি করেছেন, আলোচনা ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে। তার ভাষায়, “কোনো দলের জন্য নির্দিষ্ট আসন নেই, আসন সবার। সবাই ছাড় দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে যাবে।”

তিনি আরও জানান, এনসিপিসহ আরও কয়েকটি দলের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে এবং খুব শিগগিরই সমঝোতার চূড়ান্ত রূপ স্পষ্ট হবে।

অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের নেতারা বলছেন, আলোচনা চলমান থাকায় এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা বলা যাবে না। দলটির মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমদ জানিয়েছেন, নতুন দল যুক্ত হওয়ায় আলোচনা স্বাভাবিকভাবেই সময় নিচ্ছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত জটিলতা তৈরি হয়নি।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এক শীর্ষ নেতা বলেন, তারা ঐক্য ধরে রাখতে চান, তবে সেটি অবশ্যই দলের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে। সম্মানজনক আসন না পেলে বিকল্প পথ ভাবা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

দলটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ জানান, শীর্ষ পর্যায়ে আরও বৈঠকের মাধ্যমে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।

সবশেষে খেলাফত মজলিসের আরেক নেতা ড. আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, এখনো আলোচনার সময় আছে এবং মনোনয়ন জমার পরও কিছু আসনে সমঝোতা হতে পারে। তার মতে, কিছু মতভেদ থাকলেও এই ঐক্য ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা আপাতত কম।

সূত্র, আমার দেশ