বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

তারেকের আমজনতার দলে যোগ দিলেন হিরো আলম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত ব্যক্তি আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম এবার আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে যোগ দিলেন। মো. তারেক রহমানের হাতে ফুল দিয়ে তিনি ‘আমজনতার দল’-এ যোগদান করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হিরো আলম নিজেই।

রবিবার সন্ধ্যায় আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম বলেন, আমি যেহেতু আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি তাই এবার স্বতন্ত্র নয়, রাজনৈতিক দলের অধীনেই নির্বাচন করব বলে আগে থেকেই ঠিক করেছিলাম।

এরইমধ্যে কয়েকটি দলের সঙ্গে কথা হয়েছে। তবে আদর্শগত মিল না থাকায় আমি যোগ দিইনি। তারেক রহমান ভাইয়ের সঙ্গে আলাপ হয়েছে বেশ কয়েকবার। শেষে আমি তার আমজনতার দলেই যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।
হিরো আলম আরো বলেন, আজ সন্ধ্যায় আমি আনুষ্ঠানিকভাবে তারেক ভাইয়ের আমজনতার দলে যোগ দিয়েছি। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে এই দল থেকেই প্রার্থী হব। আজকেই সংবাদ সম্মেলন করে সব কিছু জানাব।

সামি থেকে রানা, বিপিএলে হ্যাটট্রিক করেছেন যারা

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলমান দ্বাদশ আসরে চারটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। চতুর্থ ম্যাচেই আসরের প্রথম হ্যাটট্রিকের সাক্ষী হয়েছেন ক্রিকেটভক্তরা। গতকাল (শনিবার) সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসের ১৮তম ওভারে হ্যাটট্রিক করেন নোয়াখালী এক্সপ্রেসের পেসার মেহেদি হাসান রানা। এ নিয়ে বাংলাদেশের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে নবম হ্যাটট্রিকের দেখা মিলল।

শনিবার দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক সিলেটকে ১৪৪ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল নোয়াখালী। রান তাড়ায় মেহেদী হাসান মিরাজের দল সিলেট কক্ষপথেই ছিল। জয় পেতে তাদের দরকার ছিল ১৮ বলে ২৫ রান। ১৮তম দৃশ্যপট বদলে দেন বাঁ–হাতি পেসার রানা। যার শুরুটা হয় সিলেট অধিনায়ক মিরাজকে দিয়ে। ওভারের চতুর্থ বলে উইকেটের পেছনের দিকে চতুর্থ স্টাম্পে করা ডেলিভারিতে তাকে ফাঁদে ফেলেন রানা। যা মিরাজের ব্যাট ঘেঁষে উইকেটরক্ষক জাকের আলির হাতে ধরা পড়ে।

অবশ্য জোরালো আবেদনেও প্রথমে নোয়াখালীর সাড়া দেননি আম্পায়ার, পরে টিভি রিপ্লেতে স্পাইক (বল ব্যাটে স্পর্শ) দেখে সিদ্ধান্ত বদলে আউট দেওয়া হয় মিরাজকে। এরপর ক্রিজে এসে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন নাসুম আহমেদ। আর ওভারের শেষ বলে চূড়ান্ত বোকামিটা করেছেন খালেদ আহমেদ। মেহেদি রানার স্লো ডেলিভারি উড়িয়ে মারতে গিয়ে তিনি লং অনে হাসান ইসাখিলকে ক্যাচ দিয়েছেন। যদিও পরে খালেদ বলেছেন– তার আশা ছিল সেটি ছয় হবে। সেই আশা পূর্ণ না হলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের প্রথম হ্যাটট্রিক পেয়ে যান রানা।

যদিও নাটকীয় ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত জিততে পারেনি নোয়াখালী। শেষ বলে নিষ্পত্তি হওয়া খেলায় তাদের ১ উইকেটে হারিয়েছে সিলেট। দল হারলেও, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে রেকর্ডবুকে নাম উঠল মেহেদি রানার। ২৮ বছর বয়সী এই পেসার ৪ ওভারে ৩৪ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট শিকার করেছেন। তার আগে বিপিএলে আরও ৮ বোলার হ্যাটট্রিকের নজির গড়েন, ওই তালিকার ৫ জন বাংলাদেশি এবং ৪ জন বিদেশি ক্রিকেটার।

বিপিএলের যাত্রা শুরু হয় ২০১২ সালে। এর মধ্যে একাধিক হ্যাটট্রিক দেখা যায় দুই আসরে, ২০১৯ বিপিএলে সর্বোচ্চ তিনটি হ্যাটট্রিক এবং ২০২৪ সালে দুটি হ্যাটট্রিক হয়েছে। অভিষেক আসরেই ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের বিপক্ষে দুরন্ত রাজশাহীর পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ সামি প্রথম হ্যাটট্রিক করেছিলেন। এরপর ২০১৫ আসরে সিলেট সুপারস্টারসের বিপক্ষে বরিশাল বুলসের আল-আমিন হোসেন। ২০১৯ আসরে তিনটি হ্যাটট্রিকে নাম লেখান– রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ঢাকা ডায়নামাইটসের আলিস আল ইসলাম, খুলনা টাইটান্সের বিপক্ষে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ওয়াহাব রিয়াজ ও চিটাগাং ভাইকিংসের বিপক্ষে ঢাকা ডায়নামাইটসের আন্দ্রে রাসেল।

এ ছাড়া ২০২২ বিপিএলে অভিষেক ম্যাচেই মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের জার্সিতে হ্যাটট্রিক করেন, প্রতিপক্ষ ছিল সিলেট সানরাইজার্স। ২০২৪ আসরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে দুর্দান্ত ঢাকার শরিফুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে কুমি ভিক্টোরিয়ান্সের মঈন আলি একই কীর্তি গড়েন। ২০২৫ আসরের চতুর্থ ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে ওই তালিকার সর্বশেষ নামটি মেহেদি হাসান রানার।

মেসির শেষ বিশ্বকাপের বুট দেখতে কেমন

পরের বিশ্বকাপে খেলার ব্যাপারে এখনো নিশ্চয়তা দেননি লিওনেল মেসি। তবে এতটুকু নিশ্চিত যে, খেললে এবারের বিশ্বকাপই হতে যাচ্ছে তার ক্যারিয়ারের শেষ। আর এই বিষয়টি মাথায় রেখে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে অ্যাডিডাস এফ৫০। খেলোয়াড়দের কিটস ও বুটসের তথ্য দেওয়ার ওয়েবসাইট ফুটি হেডলাইন্স মেসির বুট প্রকাশ্যে এনেছে।

৩৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের বুটের নামকরণ করা হয়েছে ‘এল উলতিমো ট্যাঙ্গো’, যার অর্থ ‘দ্য লাস্ট ট্যাঙ্গো’। আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী নাচ ট্যাঙ্গো। এটি অত্যন্ত হালকা ওজনের ম্যাটেরিয়াল দিয়ে তৈরি যাতে ফুটবলাররা দ্রুত গতিতে দৌড়াতে পারেন। আগামী জুনে বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই বুট প্রকাশ্যে আসবে।

বুটটির উপরের অংশ মূলত ধবধবে সাদা রঙের। অ্যাডিডাস লোগো, জুতার ফিতার ডিটেইলস এবং স্টাডের নিচের দিকের মাথায় নীল রঙ ব্যবহার করা হয়েছে। ডিজাইনে সোনালি রঙ ব্যবহার করা হয়েছে যা আর্জেন্টিনার পতাকার মাঝের সূর্যকে নির্দেশ করে এবং একই সাথে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মেসির গৌরবকে ফুটিয়ে তুলেছে। সাদা এবং নীল রঙের এই সংমিশ্রণটি সরাসরি আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকাকে সম্মান জানিয়ে তৈরি করা।

মেসির ষষ্ঠ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা গ্রুপে পেয়েছে আলজেরিয়া, জর্ডান ও অস্ট্রিয়াকে। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে তারা। মেসিরও চোখ থাকবে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার। ২৬ ম্যাচে ১৩ গোল করে তিনি যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে। মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছুঁতে আর তিন গোল চাই তার। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে ১২ গোল করে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী।

ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকের আগে ইউক্রেনে ব্যাপক হামলা চালাল রাশিয়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি ওয়াশিংটনের পথে রওনা হওয়ার পর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। শনিবার রাতে ঘটেছে এ ঘটনা।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনীর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবার রাতভর প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে কিয়েভ এবং তার আশপাশের অঞ্চলগুলোকে লক্ষ্য করে প্রায় ৫০০ ড্রোন ও ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রুশ সেনাবাহিনী। এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহারের মাধ্যমে বেশ কিছু ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। তবে যেগুলো ঠেকানো সম্ভব হয়নি— সেগুলোর আঘাতে অন্তত ২ জন নিহত এবং ৪৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

কিয়েভের বিদ্যুৎ পরিষেবা ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে এ হামলা পরিচালনা করেছিল রাশিয়া। যে উদ্দেশ্যে এই হামলা পরিচালিত হয়েছে, তাও অনেকটাই সফল। কারণ রুশ ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের জেরে কিয়েভ ও তার আশপাশের বিশাল অঞ্চল বিদ্যুৎবিহীন হয়ে গেছে। কিয়েভের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১০ লাখেরও বেশি পরিবার পবর্তমানে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। হামলার প্রাথমিক পর্যায়ে অর্থাৎ সন্ধ্যারাতেই ৭৫ হাজারেরও বাড়িঘরের বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।

এক বার্তায় ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ওলেক্সিয়ে কুলেবা জানিয়েছেন, রুশ বাহিনীর হামলায় কিয়েভের ৪০ শতাংশ আবাসিক ভবন বিদ্যুৎশূন্য হয়ে পড়েছে।

শীতকালে ইউক্রেনে তীব্র শীত পড়ে। কিয়েভের বর্তমান তাপমাত্রা বর্তমানে শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। এই অবস্থায় বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় রাজধানীর বাসিন্দারা ব্যাপক ভোগান্তিতে পরেছেন বলে জানিয়েছেন কুলেবা।

ওয়াশিংটন পৌঁছানোর পর সংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে রাশিয়ার হামলা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে জেলেনস্কি বলেন, “যুদ্ধ থামানোর জন্য ইউক্রেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার শান্তিপূর্ণ আলোচনার ব্যাপারে রাশিয়ার মনোভাব কী, তা এই হামলার মধ্যে দিয়ে আরও একবার প্রমাণিত হলো।”

সূত্র : রয়টার্স

চট্টগ্রামে প্রথম মনোনয়নপত্র জমা দিলেন মীর হেলাল

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। চট্টগ্রামে তিনিই প্রথম মনোনয়নপত্র জমা দিলেন।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীনের হাতে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি।

চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে গতকাল শনিবার পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন ১৯২ প্রার্থী। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামীকাল ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন।

ত্রয়োদশ নির্বাচনে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার পাঁচটি আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে আছেন।

বিভাগীয় কমিশনারের হাতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া শেষে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘তারেক রহমান যেদিন বাংলাদেশে আসার ঘোষণা দিয়েছেন, ওই দিন থেকেই নির্বাচনী মাঠে যে অস্থিতিশীলতা ছিল, সেটি অনেকটা কাটতে শুরু করে। যেদিন উনি দেশে নেমেছেন ওই দিন থেকে সব ধরনের অস্থিতিশীলতা-অনিশ্চয়তা কেটে গেছে। দেশ নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে এবং সুষ্ঠু-সুন্দর একটি নির্বাচন হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী দলের প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণবিধি ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে জানান মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দলের ইশতেহারের পাশাপাশি নির্বাচনী আসনের স্থানীয় সমস্যা-সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে আলাদা ইশতেহার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১৫টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। আজ রোববার সকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম-১৪ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। গতকাল শনিবার চট্টগ্রামের দুটি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়। সীতাকুণ্ড আসনে উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সালাউদ্দিনের পরিবর্তে বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। হালিশহর-ডবলমুরিং আসন থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সরিয়ে বন্দর-পতেঙ্গা আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। ডবলমুরিং আসনে দেওয়া হয় বিএনপির প্রয়াত নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমানকে।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৯ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে পরদিন ২১ জানুয়ারি। ২২ জানুয়ারি প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা। চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত।

বিএনপি ছাড়া অন্য দল ক্ষমতায় এসে দেশ চালাতে পারবে না : নুরুল হক নুর

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি এবং পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী নুরুল হক নুর বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি ব্যতীত অন্য কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এসে দেশ পরিচালনা কিংবা রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল রাখতে পারবে না।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে গলাচিপা উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে কী পেলাম কিংবা আমার দল কয়টি আসন পেল এগুলো আমার কাছে মুখ্য নয়। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দেশের মানুষ, দেশের ভবিষ্যৎ এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা। তাই এখানে কোনো ভাগ-বাটোয়ারা বা চাওয়া-পাওয়ার প্রশ্ন নেই। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী দিনে বিএনপিকেই রাষ্ট্রক্ষমতায় বসাতে হবে।”

এ সময় আসনটি থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী শিপলু খান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুনের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি আপনাদের মনের ব্যথা বুঝি। দুঃসময়ে আপনারা দলের জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তবে বিএনপি আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনার বৃহত্তর স্বার্থে এখানে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে আমাকে সমর্থন দিয়েছে। আমি যদি এই আসন থেকে নির্বাচিত হই, তাহলে আপনারা যেভাবে আগে দলের জন্য কাজ করেছেন, সেভাবেই এমপির কার্যক্রমেও সম্পৃক্ত থাকবেন। কারণ আমি জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতি করি। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এই পিছিয়ে পড়া জনপদকে এগিয়ে নিতে চাই।

তিনি আরও বলেন, দলের চেয়ারম্যান মআমাকে ঢাকার কোনো একটি আসন থেকে নির্বাচন করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তখন আমি বলেছিলাম, আল্লাহ তায়ালা কিছু মানুষকে অন্য মানুষের উপকার করার সুযোগ দেন। আমি আমার চরাঞ্চলের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। তাই আমি ওই অঞ্চল থেকেই নির্বাচন করতে চাই। অন্তত একবার পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে এমপি হয়ে মানুষের হক আদায় করতে চাই।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম নেতা ইখতিয়ার রহমান কবির, পটুয়াখালী জেলা যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শিপলু খানসহ স্থানীয় বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই এই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশা করে আসছিলেন।

শরিকদের জন্য কত আসন ছাড়ছে জামায়াত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জোট বা আসন সমঝোতা করার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে। রোববার কিংবা সোমবারের মধ্যে জোট ঘোষণা করা হবে বলে এনসিপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির এবং ৮ দলের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানাচ্ছে, এনসিপির জন্য ৩০টি এবং ৮ দলসহ অন্য শরিকদের সর্বমোট ১১০ আসন ছাড় দিচ্ছে জামায়াত। তবে জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতা প্রশ্নে ইতোমধ্যে এনসিপিতে বিদ্রোহ শুরু হয়েছে।

সূত্র জানায়, জামায়াত ও এনসিপির শীর্ষ নেতাদের আলোচনায় আসন সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও ঘোষণা আজকের মধ্যেই আসতে পারে।

শুক্রবার রাতেই বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে। এনসিপিকে ৩০ আসন ছেড়ে দিচ্ছে জামায়াত। নতুন এ দলটি আসন চেয়েছিল ৫৬টি। এ ছাড়া এনসিপির সঙ্গীয় জোট এবি পার্টি পাচ্ছে ৩টি আসন। এ দলটি ১২ আসন চেয়েছিল বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শরিকদের জন্য উদারভাবেই আসন ছাড় দিচ্ছে।

সর্বশেষ দলটির সঙ্গে সমঝোতায় আসা এনসিপির দাবিকৃত ৫২ আসনের মধ্যে ৩০টি আসন দিতে রাজি হয়েছে জামায়াত। এবি পার্টিকে ৩টি আসন দেওয়া হচ্ছে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আমাদের সমঝোতা আসলে জামায়াতের সঙ্গে নয়, ৮ দলের সঙ্গে হচ্ছে। তার দলের ৩টি আসন প্রাপ্তির বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা তো একটা জোটে আছি। এই জোট থেকে নাহিদ ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনিই জানেন।

৮ দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দরকষাকষি করছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দলটিকে ৩৫টি আসন দেওয়ার কথা ৮ দলের বৈঠকে চূড়ান্ত হলেও দলটি এখন তা মানতে রাজি হচ্ছে না। দলটি ১২০ আসন দাবি করছে।

ইসলামী আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মারুফ বলেন, ন্যূনতম ৫০টি আসন ছাড়া হয়তো মীমাংসা হবে না। তিনি বলেন, আমরা আশা করি খুব শিগগিরই বিষয়টির সমাধান হয়ে যাবে।

জামায়াত যে ১১০ আসন ছাড়ছে বলে আলোচনা হচ্ছে, তার মধ্যে খেলাফত মজলিস ১৫টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১০টি, এলডিপি ৩টি, লেবার পার্টি ৩টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ২টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ৩টি, খেলাফত আন্দোলন ৪টি এবং নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব যোবায়ের বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক খবর আসছে যা সত্য নয়।

তবে ৮ দলের মধ্যে এবং এনসিপিসহ আরও কয়েকটি দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই আমরা জানাতে পারব। আসন সমঝোতায় জামায়াতের সঙ্গে আসতে চায় এমন দলের সংখ্যা এখন ১২টি হতে পারে বলে তিনি জানান।

ঢাকা-১৭ আসনে বেস্ট প্রার্থী তারেক রহমান, ভোলা-১ মনোনয়ন জমা দিয়েছি: পার্থ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিকদের সঙ্গে সমঝোতার অংশ হিসেবে ঢাকা-১৭ আসন প্রাথমিকভাবে বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থকে ছেড়ে দিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু রোববার (২৮ ডিসেম্বর) এই আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার পক্ষ থেকে মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করা হয়েছে।

ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচনের ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছিল আন্দালিভ রহমান পার্থ। তারেক রহমানের নির্বাচনের ঘোষণার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পার্থ ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঢাকা-১৭ আসনের বেস্ট প্রার্থী তারেক ভাই (তারেক রহমান)। আমি তার সম্মানে এই আসন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করিনি।

তিনি আরও বলেন, আমি গতকাল ভোলা-১ আসন থেকে মনোনয়ন সাবমিট করে দিয়েছি।

এদিকে, ঢাকা-১৭ আসন থেকে তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে বিএনপি চেয়ারপার্সনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার রোববার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে যান। সেখানে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

যেসব আসনে এনসিপিকে ছাড় দিলো জামায়াত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলো সংসদে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের জন্য অপেক্ষাকৃত ছোট, নতুন কিংবা সমমনা দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন কিংবা আসন সমঝোতার মাধ্যমে কৌশলে প্রার্থী দাড় করানোর চেষ্টা করছে।

এ প্রেক্ষিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ কয়েকটি দলকে কাছে পেতে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

তবে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির বড় একটা অংশ চাইলেও একটা অংশ চাচ্ছে তাদের দল জামায়াতের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় না যাক। বিষয়টি বর্তমানে টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে।

আজ রোববার (২৮ ডিসেম্বর) এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হতে পারে।

জামায়াত ও এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, দল দুটির জোট নিয়ে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে। জোট হলে তারা কীভাবে কাজ করবে এবং কোন আসনে কে বা কারা প্রার্থী হবেন, কোন দলের কতজন প্রার্থী থাকবে, সে সব বিষয়ে নতুন ঘোষণা আসতে পারে আজ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে জামায়াত এনসিপির জন্য অন্তত ২০টি আসন ছেড়ে দিতে পারে।

এর মধ্যে এনসিপির আহ্বায়ক মো: নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ, দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদসহ অন্যান্য জনপ্রিয় কয়েকজন নেতার আসন উল্লেখযোগ্য।

এর আগে, জামায়াতের সঙ্গে জোটের আলোচনা ওঠার পরপরই প্রতিবাদে গত ২৫ ডিসেম্বর এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও নির্বাহী কাউন্সিলের সদস্য মীর আরশাদুল হক পদত্যাগ করেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির মনোনয়ন পেলেও নির্বাচন করবেন না বলে জানান।

এরপর গত ২৭ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব পদে থাকা ডা. তাসনিম জারা। তার সঙ্গে সম্মতি জানিয়ে জোটের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, জ্যেষ্ঠ সদস্য সচিব নাহিদ সারোয়ার নিভা, যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনুভা জাবীন এবং যুগ্ম সদস্য সচিব নুসরাত তাবাসসুমসহ কয়েক জন কেন্দ্রীয় সদস্য।

শুধু তাই নয়, জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট বা আসন সমঝোতায় আপত্তি জানিয়ে দলের ৩০ জন নেতা গত শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দেন।

তাদের মধ্যে যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীন, কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসাইন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মো. মুরসালীন, সংগঠক রফিকুল ইসলাম আইনীসহ অনেকেই রয়েছেন।

এর বিপরীতে শনিবারই আবার দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ১৭০ জন নেতা জামায়াতের সঙ্গে জোট করা বা সমঝোতার পক্ষে অবস্থান জানিয়ে নাহিদ ইসলামকে চিঠি দেন। চিঠিদাতাদের মধ্যে সারোয়ার তুষার, ড. আতিক মুজাহিদ, আরিফুল ইসলাম আদীব, জাভেদ রাসীন, আরিফুর রহমান তুহিন, সাইফুল্লাহ হায়দার, আলাউদ্দিন মোহাম্মদসহ অনেকেই রয়েছেন।

এদিকে, সমঝোতা বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় সদস্য সচিব আখতার বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশনে সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির সাথেই অন্য দলগুলোর মতভিন্নতা পরিলক্ষিত হতো। সেখানে সংস্কারের পয়েন্টগুলোতে ন্যাচারালি (স্বাভাবিকভাবেই) এনসিপি, জামায়াত এবং অন্য দলগুলো একমত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সেক্ষেত্রে সংস্কারের বিষয়, দেশটাকে নতুন করে গড়া, নতুনভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোকে গড়ে তোলার জন্য যে রাজনীতি, সে রাজনীতির প্রতি যে কমিটমেন্ট সেটাকেই নির্বাচনী রাজনীতিতে জোটের বা সমঝোতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রধানতম বিবেচ্য বিষয় হিসেবে এটাকে মূল্যায়ন করছি।’

গত ২৫ ডিসেম্বর এ বিষয়ে আখতার হোসেন বলেছেন, আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী জোট, আসন ও সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছি। সেই ধারাবাহিকতায় জামায়াতের সঙ্গে হওয়া আলোচনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।

এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ বলেছিলেন, আমাদের চেষ্টা রয়েছে, সংস্কারপন্থি বা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে যারা তাদের সঙ্গে বোঝাপড়া করার। আমরা সে বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিচ্ছি।

একই দিনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সহকারী জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছিলেন, আমাদের শরীক ৮ দলের বাইরেও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় এনসিপির সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে আমরা বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাব।

ঢাকা-১৭ আসন থেকেও নির্বাচন করবেন তারেক রহমান

বগুড়া-৬ আসনের পাশাপাশি ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসন থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে তার পক্ষ থেকে এই আসনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ঢাকা-১৭ আসন থেকে তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে বিএনপি চেয়ারপার্সনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার আজ সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে যান। সেখানে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর অফিস থেকে মনোনয়নপত্রটি সংগ্রহ করা হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ঢাকা-১৭ আসনটি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থকে ছেড়ে দিয়েছিল বিএনপি। তবে এখন এই গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে তারেক রহমান নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন আসছে। এই আসনে তারেক রহমান প্রার্থী হওয়ায় আন্দালিভ রহমান পার্থকে ভোলা-১ আসন ছেড়ে দেবে বিএনপি।

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের নিজ এলাকা বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচন করার বিষয়টি আগেই চূড়ান্ত ছিল। দলের পক্ষ থেকে তাকে ওই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।