বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ধৈর্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ধৈর্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে গত ২৩ নভেম্বর বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৭ নভেম্বর তার ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দিলে কেবিন থেকে ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে’ স্থানান্তর করা হয়।

৮০ বছর বয়সি বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। এর মধ্যে রয়েছে লিভার সংক্রান্ত জটিলতা, কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আথ্রাইটিস ও ইনফেকশনজনিত সমস্যা।

বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনী জেলার পরশুরামের শ্রীপুর গ্রামে। মা তৈয়বা বেগমের জন্ম পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ীতে। তাদের তিন মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে খালেদা জিয়া তৃতীয়।

শহিদ জিয়ার কবরের পাশে খালেদা জিয়ার দাফনের প্রস্তুতি

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তার দাফনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার জানাজা আগামী বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার পর তার মরদেহ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলের পাশে দাফন করা হবে।

খালেদা জিয়া মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

দেশ ও মানুষের কল্যাণে আমার মা নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন: তারেক রহমান

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তার জ্যেষ্ঠ পুত্র ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তার মা নিজের সমগ্র জীবন দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে উৎসর্গ করে গেছেন।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান তার বার্তায় উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক নেত্রীই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পথযাত্রার এক অনিঃশেষ পথপ্রদর্শক। আজ ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই মহীয়সী নেত্রীর জীবনাবসান ঘটে, যা দেশের রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।

তারেক রহমান তার পোস্টে বেগম খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের মা’ এবং ‘বাংলাদেশের মা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, আজ দেশ এমন একজন অভিভাবককে হারাল যিনি আজীবন স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তিনি মায়ের ত্যাগের কথা স্মরণ করে লেখেন, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বেগম জিয়ার নেতৃত্ব ছিল আপোষহীন।

তারেক রহমানের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় ছাপিয়ে তিনি ছিলেন পরিবারের এক মমতাময়ী অভিভাবক এবং কঠিনতম সময়ে শক্তির উৎস। বারবার গ্রেপ্তার হওয়া, সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং দীর্ঘ সময় কারাবাস ও নিপীড়ন সহ্য করার পরও তিনি কখনোই অদম্য সাহস ও দেশপ্রেম থেকে বিচ্যুত হননি।

মায়ের ব্যক্তিগত জীবনের ত্যাগের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে তিনি স্বামী ও সন্তান হারিয়েছেন। তার কাছে এই দেশ এবং দেশের মানুষই ছিল প্রকৃত পরিবার ও অস্তিত্বের অংশ। তিনি দেশের মানুষের জন্য জনসেবা ও সংগ্রামের যে অবিস্মরণীয় ইতিহাস রেখে গেছেন, তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিক্রমায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে তারেক রহমান বিশ্বাস করেন। শোকের এই মুহূর্তে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মাঝে ধৈর্য ও সাহস সঞ্চারের জন্য তিনি তার মায়ের আদর্শকে আলোকবর্তিকা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বার্তার শেষ অংশে তারেক রহমান দেশবাসীর কাছে তার মায়ের জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি দেশের সাধারণ মানুষের গভীর আবেগ, অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং বিশ্বজুড়ে যে শ্রদ্ধা প্রদর্শিত হচ্ছে, তার জন্য তিনি এবং তার পরিবার চিরকৃতজ্ঞ। তারেক রহমান তার মায়ের শেষ বিদায়ে শরিক হতে এবং পরিবারের পাশে থাকতে দেশবাসীর সমর্থন ও দোয়া কামনা করেছেন।

খালেদা জিয়ার দাফন পর্যন্ত গণভোটের প্রচার না করার নির্দেশ সরকারের

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট দিতে সরকারি প্রচারণা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার সকালে এ তথ্য জানিয়েছেন গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জানজা ও দাফন না হওয়া পর্যন্ত গণভোটের সব রকম প্রচার বন্ধ থাকবে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই সনদের বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের দিন গণভোট দিতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে সারা দেশে প্রচার করছে সরকার। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়সহ ১৯টি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এ প্রচার চলছে।

দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার ভোরে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি ঠিক করতে উপদেষ্টা পরিষদ বিশেষ বৈঠকে বসেছে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে। বেলা ১২টার পরে জাতির উদ্দেশে ভাষণে কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেন প্রধান উপদেষ্টা।

গণতন্ত্র অধিকার প্রতিষ্টায় আপসহীন ভূমিকা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে: রাষ্ট্রপতির শোক

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোক বার্তায় এ কথা জানান তিনি।

শোক বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্টায় তার আপসহীন ভূমিকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির মুহূর্তে আমি মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। সেই সাথে শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গ ও অনুসারীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। দেশবাসীকে মরহুমার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁর জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার আহ্বান জানাচ্ছি।

আজ ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত বেগম খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়া দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের প্রতিনিধি: জিএম কাদেরের শোক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকালে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের, গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের প্রতিনিধি ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনা ও বহুদলীয় রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন প্রবীণ ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারাল যা সহসাই পূরণ হবার নয়।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

রাজনৈতিক সাফল্যের কারণেই খালেদা জিয়া প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিলেন: প্রধান উপদেষ্টা

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি তার এক মহান অভিভাবককে হারাল। তাঁর মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।

শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, রাজনৈতিক সাফল্যের কারণেই বেগম খালেদা জিয়া চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিলেন। মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় তাঁকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং দীর্ঘদিন কারাবাস করতে হয়েছিল। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রীই ছিলেন না; তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর অবদান, তাঁর দীর্ঘ সংগ্রাম এবং তাঁর প্রতি জনগণের আবেগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার চলতি মাসে তাঁকে রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করে।

প্রফেসর ইউনূস বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর আপোষহীন নেতৃত্বের ফলে গণতন্ত্রহীন অবস্থা থেকে জাতি বারবার মুক্ত হয়েছে, মুক্তির অনুপ্রেরণা পেয়েছে। দেশ ও জাতির প্রতি তাঁর অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও জাতির কল্যাণে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, গণমুখী নেতৃত্ব এবং দৃঢ় মনোবল সব সময় পথ দেখিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত রাজনীতিককে হারাল।

তিনি আরও বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি’র চেয়ারপারসন, যিনি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রে ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন। খালেদা জিয়ার স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালে গৃহবধূ থেকে রাজনীতির মাঠে আসা বেগম খালেদা জিয়ার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব স্বৈরশাসক এরশাদের দীর্ঘ ৯ বছরের দুঃশাসনের পতন ঘটাতে প্রধান ভূমিকা রাখে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বহু কর্ম ও সিদ্ধান্ত দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। তিনি মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করেন, যা বাংলাদেশের নারী শিক্ষার অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

খালেদা জিয়ার সফলতার বিষয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া ভীষণভাবে সফল ছিলেন। তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনগুলোতে তিনি পাঁচটি পৃথক সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি যে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, সেখানেই তিনি জয়লাভ করেছিলেন।

অর্থনীতিতের অবদানের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর অর্থনৈতিক উদারীকরণের মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনীতির একটি মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সংগ্রাম ও প্রতিরোধের এক অনন্য প্রতীক। তাঁর আপোষহীন ভূমিকা দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামে জাতিকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার ও দলের নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তাছাড়াও, জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির দিনে তিনি দেশবাসীকে শান্ত থাকার ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান এবং যার যার অবস্থান থেকে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ করেন।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি হলো: মির্জা ফখরুল

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি হলো বলে মন্তব্য করেছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি হলো। শুধু তাই নয়, পৃথিবীর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে একটা বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি হলো।’

মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির পক্ষ থেকে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘এই সংবাদিটি নিয়ে আপনাদের সামনে দাঁড়াতে হবে, এটা কখনও ভাবিনি। আমরা আবারও আশা করছিলাম তিনি আগের মতোই সুস্থ হয়ে উঠবেন। আজ ভোর ৬টায় আমাদের গণতন্ত্রের মা, আমাদের অভিভাবক, আমাদের জাতীয় অভিভাবক আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেছেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। এই শোক, এই ক্ষতি অপূরণীয়, যা এই জাতি কখনও পূরণ করতে পারবে না।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘যে নেত্রী তার সারাটা জীবন জনগণের জন্য, কল্যাণের জন্য তার সমগ্র জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন, সেই নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মাঝে নেই। আমরা যারা তার রাজনৈতিক কর্মী এবং সহকর্মী, আমরা এটা ভাবতেও পারি না।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই কেয়ারটেকার সরকারের প্রধান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস আমাদেরকে ফোন করেছিলেন সঙ্গে সঙ্গে। ইতোমধ্যেই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সকাল দশটা-সাড়ে দশটার মধ্যেই তারা স্পেশাল ক্যাবিনেট মিটিং করবেন। সেই ক্যাবিনেট মিটিংয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে শেষ কাজগুলো, তার জানাজা, তার দাফন, তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা, তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া- এই বিষয়গুলো নিয়ে তারা দশটা-সাড়ে দশটায় একটা সভা করবেন। এরপর আমরা পুরো জিনিসটাকে কো-অর্ডিনেট করে সেটা আপনাদেরকে আবার জানাবো।’

আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।

শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় ২৩ নভেম্বর জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল খালেদা জিয়াকে। এর আগে ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রওনা দিয়ে গাড়িতে ওঠেই অস্বস্তি বোধ করছিলেন তিনি। বহু বছর ধরেই তিনি লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস এবং চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।

ঢাকায় নিজের বাসায় থাকা অবস্থাতেই ২০২১ সালের মে মাসে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেন তিনি। তখনও শ্বাসকষ্টে ভোগার কারণে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। এরপর ২০২৪ সালের জুনে তাঁর হৃদপিণ্ডে পেসমেকার বসানো হয়। তখনও তিনি মূলত হার্ট, কিডনি ও লিভারসহ বিভিন্ন ধরনের রোগে ভুগছিলেন, যা তার শারীরিক অবস্থাকে জটিল করে তুলেছিল।

এর আগে থেকেই তার হার্টে তিনটি ব্লক ছিল। আগে একটা রিংও পরানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের জুনে পোর্টো সিস্টেমেটিক অ্যানেসটোমেসির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার লিভারের চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছে বিদেশ থেকে ডাক্তার এনে।

আওয়ামী লীগ আমলে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল আদালত, তারপর থেকে প্রথমে কারাগারে বিশেষ ব্যবস্থায় ও পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। দুর্নীতির আরেকটি মামলাতেও তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে হাসপাতালে থাকা অবস্থাতেই নির্বাহী আদেশে বিশেষ শর্তে মুক্তির পর তিনি গুলশানের বাসায় উঠেন।২০২৪ সালে আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে তাকে সব দণ্ড থেকে পুরোপুরি মুক্তি দেওয়া হয়।

১৯৪৫ সালে জলপাইগুড়িতে জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়া দিনাজপুর মিশনারি স্কুলে পড়াশোনা করেন। ১৯৬০ সালে দিনাজপুর গার্লস স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ছিলেন ব্যবসায়ী। মা তায়েবা মজুমদার ছিলেন গৃহিণী। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন তিনি। তার ডাকনাম ছিল ‘পুতুল’।

১৯৬০ সালে তিনি তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন এবং ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত দিনাজপুরের সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন। এরপর তিনি স্বামীর সঙ্গে থাকার জন্য পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যান। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে জিয়াউর রহমান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহ করে যুদ্ধে অংশ নেন। সে সময় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানি বাহিনী। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয়ের পর তিনি মুক্তি পান।

১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর তীব্র নেতৃত্ব সংকটে পড়ে বিএনপি। ঠিক সেই সময় কখনও রাজনীতিতে না আসা খালেদা জিয়া দলটিতে যোগ দেন এবং ১৯৮৪ সালের ১২ জানুয়ারি সহসভাপতি হন। একই বছরের ১০ মে তিনি দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে তিনি পুনরায় চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৯৮৩ সালে সাতদলীয় জোট গঠন করে এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে বিএনপি। এরশাদ সরকার তার চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয় এবং বহুবার আটক করে। তবুও খালেদা জিয়া এরশাদবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে যান, হয়ে ওঠেন ‘আপসহীন নেত্রী’।

শেষ মুহূর্তে তারেক রহমান ছিলেন বেগম জিয়ার পাশে

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

বিএনপি মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং এক বার্তায় জানায়, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদটি নিশ্চিত করেন বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

এতে আরও জানানো হয়, এ সময় হাসপাতালে বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান, ছোট ছেলের বউ শামিলা রহমান সিঁথি, ছোট ভাই শামীম এসকান্দার, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী, বড় বোন সেলিনা ইসলামসহ সব আত্মীয়স্বজন এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সব চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস উইং থেকে আরও জানানো হয়, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার সময়সূচি পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে। এর আগে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ‘অত্যন্ত একটি সংকটময় সময় অতিক্রম করছেন’ বলে জানিয়েছিলেন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাত ২টার পর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন জাহিদ হোসেন। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সকালবেলা মেডিকেল বোর্ড হয়েছিল। কাজেই এই অবস্থায় (খালেদা জিয়া) অত্যন্ত সংকটময় একটি সময় অতিক্রম করছেন।’

খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।

দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা চলছিল। পরে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে ওনার শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকায় বিদেশ নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বেনজির ভুট্টোর পর মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় মহিলা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও দলনেত্রী।

১৯৮১ সালের ৩০ মে এক সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হন। এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীর আহ্বানে খালেদা জিয়া ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বিএনপির রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতা দখল করেন। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন।

বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৮৪ সালের ১০ মে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন তিনি। তার নেতৃত্বে কয়েক দশকে দেশের রাজনীতিতে বিএনপির পূর্ণ বিকাশ হয়।

খালেদা জিয়া ছিলেন আমাদের প্রতিরোধের প্রতীক : শফিকুল আলম

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন।

তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা ১৩ মিনিটে এক ফেসবুক পোস্টে প্রেস সচিব বলেন, ‘তিনি ছিলেন সব নেত্রীর মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাবান—আমাদের প্রতিরোধের প্রতীক এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের একজন দেশপ্রেমিক। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি ছিলেন এক অকুতোভয় যোদ্ধা, আমাদের সবচেয়ে কঠিন সময়ে আশার এক উজ্জ্বল বাতিঘর।’

তিনি বলেন, ‘আজীবনের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রকৃত আত্মাকে সংজ্ঞায়িত করেছেন। তিনি ছিলেন আমার নায়িকা। শান্তিতে ঘুমান, বেগম খালেদা জিয়া। আল্লাহ আপনাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ ও সবচেয়ে সুন্দর স্থান দান করুন। আপনি চিরশান্তিতে বিশ্রাম নিন।’