বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

তারেক রহমানের কাছে ভারতের শোকবার্তা হস্তান্তর করেন জয়শঙ্কর

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় পৌঁছেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স‌ঙ্গে সাক্ষাৎ ক‌রে‌ছেন। এ সময় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে দেশ‌টির শোকবার্তা হস্তান্তর করেছেন।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শোকবার্তা হস্তান্তর করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিএনপির ভে‌রিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

পোস্টে বলা হয়, ‘গণতন্ত্রের মা’, ‘সাহস ও সংগ্রামের প্রতীক’—স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অঙ্গীকারাবদ্ধ আপসহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকবার্তা পাঠিয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত। বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে শোকবার্তা হস্তান্তর করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

বুধবার দুপুর ১১টা ৫৫ মি‌নিটে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন জয়শঙ্কর। আজ বিকেলে তার ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা।

খালেদা জিয়ার জানাজার কাতার ছাড়িয়ে গেছে মগবাজার-কারওয়ান বাজার-জাহাঙ্গীর গেইট ও মিরপুর

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টা ৪ মিনিটে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে খালেদা জিয়ার জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নামে।

খালেদা জিয়ার জানাজা পড়িয়েছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন তার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্য, বিএনপির শীর্ষ নেতারা, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এবং বিদেশি অতিথিরা। পুরো আয়োজন পরিচালনা করেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা। এছাড়া প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন জানাজায়। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানরাও খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় উপিস্থিত ছিলেন।

এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা খালেদা জিয়ার জানাজায় উপস্থিত হয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ লোকে লোকারণ্য। জানাজার কাতারে জায়গা না পেয়ে পেছনের দিকে ফিরতে থাকে মানুষ। এসময় বিভিন্ন ভবনের গ্যারেজ, গলি, ছোট বড় ফাঁকা জায়গাগুলোতে অবস্থান নিতে থাকেন তারা, দাঁড়িয়ে যান কাতার সোজা করে।

বেলা ১টার দিকে সরেজমিনে রাজধানীর শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, খামারবাড়ি, খেজুরবাগান, ফার্মগেট, আড়ং মোড়, ধানমন্ডি ২৭ ও কারওয়ান বাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি। দূর দূরান্ত থেকে মানুষ পায়ে হেঁটে আসছে জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য। মানুষের চোখে-মুখে একজন আপসহীন দেশনেত্রীকে হারানোর বেদনা। কাতার ছাড়িয়ে গেছে মগবাজার-কারওয়ান বাজার-জাহাঙ্গীর গেইট ও মিরপুর

জানাজা উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন ছিল। সার্বিক নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

এর আগে, গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়ার মরদেহ আনা হয় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে। সেখানে সকাল থেকেই নেমে আসে শোকার্ত মানুষের ঢল। ভোর থেকেই লাখো মানুষ অবস্থান নেয় জাতীয় সংসদ ভবনসংলগ্ন এলাকায়। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনস্রোত রূপ নেয় জনসমুদ্রে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাক, বাস, ট্রেনযোগে ছুটে আসেন সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীরা। কারও হাতে কালো ব্যাজ, কারও চোখে অশ্রু—সবার বুকে একটাই বেদনা, একজন আপসহীন দেশনেত্রীকে হারানোর শোক।

বেগম জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে গেলে কোনো ব্যাগ বা ভারী সামগ্রী সঙ্গে নেয়া যাবে না

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা আগামীকাল বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবন মাঠ ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হবে। তার জানাজায় অংশ নিতে গেলে কোনো ব্যাগ বা ভারী সামগ্রী সঙ্গে নেয়া যাবে না।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) জানাজা ও দাফনের সময়সূচি জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বুধবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবন মাঠ ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিএনপি চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।

জানাজার সময় কোনো ব্যাগ বা ভারী সামগ্রী বহন করা যাবে না। দাফনের কার্যক্রম রাষ্ট্রীয়ভাবে হবে বলে সেখানে সাধারণ জনগণের প্রবেশাধিকার থাকবে না।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) তার জানাজার দিনে এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

খালেদা জিয়ার জানাজা চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, সংসদ ভবন এলাকায় জনতার ঢল

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আজ (বুধবার) বাদ জোহর দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হবে। খালেদা জিয়ার প্রতি সর্বস্তরের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে সম্মান জানাতে পারেন এবং তার জানাজায় অংশ নিতে পারেন সেজন্য সব প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। জানাজা উপলক্ষে আজ সাধারণ ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে জানাজা আয়োজনে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের এক ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, বুধবার জানাজার সময় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজার বদলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তে খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী কফিন রাখা হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউজুড়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

জানাজার পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে। এ সময় খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্য, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, বিদেশি অতিথি, রাষ্ট্রদূত ও বিএনপি মনোনীত রাজনীতিকেরা উপস্থিত থাকবেন।

খালেদা জিয়ার দাফন নির্বিঘ্নে শেষ করার জন্য জিয়া উদ্যানে নির্ধারিত ব্যক্তিদের ছাড়া আর কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দাফন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে জনসাধারণের চলাচল সীমিত রাখা হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আজ বুধবার থেকে তিন দিন রাষ্ট্রীয় শোক পালন শুরু হবে। এ ছাড়া আজ সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে, রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে নেওয়ার জন্য একটি নির্ধারিত রুট ঘোষণা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপি জানায়, খালেদা জিয়ার মরদেহ এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে কুড়িল ফ্লাইওভার অতিক্রম করে নৌ সদর দপ্তরের পাশ দিয়ে গুলশান-২ এলাকার বাসভবন ফিরোজায় নেওয়া হবে।

এরপর সেখান থেকে কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ ধরে এয়ারপোর্ট রোডে উঠে মহাখালী ফ্লাইওভার পার হয়ে জাহাঙ্গীর গেট ও বিজয় সরণি দিয়ে অগ্রসর হওয়ার কথা রয়েছে। পরে উড়োজাহাজ ক্রসিংয়ে বামে মোড় নিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের ৬ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করে দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার মরদেহ পৌঁছানো হবে।

এদিকে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হবে। ডিএমপি অর্ডিন্যান্সের ধারা ২৮ ও ২৯ অনুযায়ী এ সময় মহানগর এলাকায় কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শোক পালনের সময় ঢাকা মহানগর এলাকায় সব ধরনের আতশবাজি, পটকা ফোটানো, ফানুস ও গ্যাস বেলুন ওড়ানো নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে উন্মুক্ত স্থানে কোনো ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ডিজে পার্টি, র‍্যালি বা শোভাযাত্রা করা যাবে না। এ ছাড়া উচ্চ শব্দে গাড়ির হর্ন বাজানো বা জন–উপদ্রব সৃষ্টি করতে পারে— এমন কোনো কর্মকাণ্ডও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেওয়ার সুবিধার্থে আজ অতিরিক্ত ট্রেন চালাবে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশগ্রহণের সুবিধার্থে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ডিএমটিসিএল নিয়মিত সময়সূচির অতিরিক্ত বিশেষ মেট্রো ট্রেন সার্ভিস পরিচালনা করবে।

বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা পড়াবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। এদিকে, তার জানাজায় অংশ নিতে মঙ্গলবার রাত থেকেই সংসদ ভবন এলাকায় দলীয় নেতাকর্মী ভিড় করছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা গতকাল মঙ্গলবার তার মৃত্যুর খবর পেয়েই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। শেষবারের মতো খালেদা জিয়াকে একনজর দেখার আশায় নেতাকর্মীরা যে যার মতো গণপরিবহন, ট্রেন, লঞ্চ ও ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন।

জেলা প্রতিনিধিরা জানান, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই নেতাকর্মীরা ঢাকার পথে ছুটছেন। মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই সেই সংখ্যা বাড়তে থাকে। অনেকেই রাতের বাসে রাজধানীর পথে রওনা দিয়েছেন। এ ছাড়া, ভোলা, বরিশাল, চাঁদপুর থেকে নদীপথেও নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকামুখী ট্রেনেও নেতাকর্মীর ভিড় দেখা গেছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ রাজধানীতে ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন কার্যক্রমকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে এভারকেয়ার হাসপাতাল, জাতীয় সংসদ ভবন ও জিয়া উদ্যান এলাকায় ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব শোকের দিনে নেতাকর্মীদের বিশৃঙ্খলা না করার অনুরোধ করেন।

খালেদা জিয়ার জানাজা: আজ সকাল থেকে বন্ধ থাকবে বেশ কয়েকটি সড়ক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বাদ জোহর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে।

আপসহীন এই নেত্রীর জানাজায় অংশ নেবে অসংখ্য মানুষ। তাই নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থার জন্য সংসদ ভবনের চারপাশে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই কথা জানানো হয়।

বুধবার সকাল ৭টা থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে বলে জানানো হয়।

জানাজা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত এলাকাগুলোতে ডাইভারশন কার্যকর থাকবে।

যান চলাচল সংক্রান্ত বিধিনিষেধ

১. এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ইন্দিরা রোড র‍্যাম্প দিয়ে নামা বন্ধ থাকবে; এর পরিবর্তে এফডিসির র‍্যাম্প ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

২. সোনারগাঁও মোড় থেকে ফার্মগেট বা বিজয় সরণি অভিমুখে যান চলাচল সীমিত থাকবে।

৩. কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ সড়কটি যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার অনুরোধ করা হয়েছে।

৪. প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ক্রসিং থেকে দক্ষিণ বিজয় সরণি/ফার্মগেটে সীমিত গাড়ি চলাচল করবে।

৫. বনানী-মহাখালী-গুলশান বা এয়ারপোর্ট রোড থেকে রমনা-শাহবাগ-মতিঝিল-পল্টন-গুলিস্তানগামী গাড়িগুলোকে মহাখালী-জাহাঙ্গীরগেট-কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ সড়ক এড়িয়ে মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনের রাস্তা ও মগবাজার ফ্লাইওভার ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

৬. মিরপুর অঞ্চল থেকে ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুরগামী গাড়িগুলো মানিক মিয়া এভিনিউ ও এর আশপাশের এলাকা এড়িয়ে মিরপুর-টেকলিক্যাল-শ্যামলী রং রোড ধরে চলাচলের অনুরোধ করা হলো।

৭. মিরপুর অঞ্চল থেকে রমনা-মতিঝিলগামী যানগুলো মিরপুর রোডের শ্যামলী থেকে বামে টার্ন নিয়ে আগারগাঁও ক্রসিং হয়ে ফকরুদ্দিন রোড/লিংক রোড হয়ে জাহাঙ্গীরগেট-মহাখালী-তেজগাঁও-মগবাজার ফ্লাইওভার হয়ে চলাচল করবে।

৮. পান্থপথ ক্রসিং থেকে সোনারগাঁও হোটেল ক্রসিংয়ের দিকে গাড়ি চলাচল সীমিত করা হবে।

৯. ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ক্রসিং ও প্রয়োজনে সায়েন্সল্যাব ক্রসিং থেকে গাড়ি ডাইভারশন হবে।

১০. প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ক্রসিং থেকে দক্ষিণ দিকে সীমিত গাড়ি চলবে।

জানাজাস্থলকে খালি রাখার জন্য যেসব ক্রসিংয়ে যান চলাচল বন্ধ থাকবে—

ক. ফার্মগেট পুলিশ বক্স ক্রসিং

খ. ফার্মগেট ইন্দিরা রোড ক্রসিং

গ. বিজয় সরণি ক্রসিং

ঘ. উড়োজাহাজ ক্রসিং

ঙ. আসাদগেট ক্রসিং

চ. রাপা প্লাজা ক্রসিং

ছ. গণভবন ক্রসিং

অর্থাৎ রাপা প্লাজা থেকে গণভবন ক্রসিং, ফার্মগেট থেকে মানিক মিয়া এভিনিউ পশ্চিম/আড়ং পর্যন্ত, বিজয় সরণি ক্রসিং থেকে লেক রোড হয়ে গণভবন ক্রসিং এবং উড়োজাহাজ ক্রসিং হয়ে খেজুরবাগান ক্রসিং হয়ে ফার্মগেট পুলিশ বক্স পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ থাকবে।

যেসব জায়গায় গাড়ি পার্কিং করা যাবে—

১. ঢাকা মহানগরের যানবাহন পার্কিং করতে হবে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে।

২. ঢাকার বাইরে থেকে আগত জনসাধারণের বাসসহ অন্যান্য যানবাহন পার্কিং করতে হবে—

মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, শাহবাগ থানা এলাকা, উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরের বৌবাজার/গরুর হাট এলাকা এবং পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ের ৩০০ ফিট সার্ভিস রোড।

‘ফিরোজায়’ নেওয়া হয়েছে খালেদা জিয়ার মরদেহ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মরদেহ তাঁর গুলশানস্থ বাসভবন ‘ফিরোজায়’ নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে তাকে বহনকারী বাংলাদেশের পতাকায় মোড়ানো একটি গাড়িটি ফিরোজায় প্রবেশ করে।

সকাল ৯টার একটু আগে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর মরদেহ বের করা হয়। ফিরোজা ভবনে তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাবেন স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা।

পরে তাঁকে জানাজার জন্য নেওয়া হবে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে। সেখানে জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হবে তাঁর স্বামী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নির্বাচনী তফসিলে কোনো পরিবর্তন হবে না : ইসি মাছউদ

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নির্বাচনী তফসিলে কোনো পরিবর্তন হবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

আজ মঙ্গলবার আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশনার মাছউদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাই এখনো হয়নি। উনি এর আগেই ইন্তেকাল করেছেন।
কাজেই ওনার মৃত্যুতে নির্বাচনের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। নির্বাচনের সময়সূচি সঠিক থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘উনি যেসব আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন, সেখানে ওই দলেরই বিকল্প প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। কাজেই আমার মনে হয় যে এই বিষয়টা এমনিই সুরাহা হয়ে যাবে।

তিনি জানান, ‘এসব কারণে খালেদা জিয়ার মনোনয়ন জমা দেওয়া আসনগুলোতে নতুন করে তফসিলে কোনো পরিবর্তন করতে হবে না।’

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে বগুড়া, ফেনী ও দিনাজপুরের তিনটি আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন খালেদা জিয়া। গত সোমবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে তার দলের নেতাকর্মীরা ওই আসনগুলোতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।

আজ মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা পেছাল

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা পিছিয়েছে। আগামী ২ জানুয়ারি এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। আগামী ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলে সেটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।

আজ মঙ্গলবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে ২ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরীক্ষার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে শিগগিরই জানানো হবে। আমরা এখনো চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করিনি।
তবে সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে আগামী ৯ জানুয়ারি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন রাকিব জানান, ২ তারিখের পরীক্ষার সম্ভাব্য নতুন তারিখ খুব শিগগিরই জানিয়ে দেয়া হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আগামী তিন দিন রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার।
আগামীকাল বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। এ ছাড়া আগামীকাল বুধবার নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

দলের সব পদ থেকে রুমিন ফারহানাকে বহিষ্কার

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোটেক রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বেসরকারি অফিসও বন্ধ বুধবার, খোলা থাকবে যেসব প্রতিষ্ঠান

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আগামীকাল বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

আজ মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব এ বি এম আবু বাকার ছিদ্দিক স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) নির্বাহী আদেশে এক দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হলো। ছুটিকালীন সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জরুরি পরিষেবা যেমন—বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং এ সংশ্লিষ্ট সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীগণ এই ছুটির আওতাবহির্ভূত থাকবে।
একই সঙ্গে হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এবং এ সেবার সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মীগণ এই ছুটির আওতাবহির্ভূত থাকবে।

চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মীগণ এবং ওষুধসহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন ও কর্মীগণ এই ছুটির আওতাবর্হিভূত থাকবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ আছে। জরুরি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত অফিসসমূহ এদিন খোলা থাকবে।

ব্যাংক কার্যক্রম চালু ও আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

এদিকে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। আগামীকাল বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

এই তিন দিন বাংলাদেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিতসহ সব সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।