মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সাক্ষাৎ

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে দলটির নতুন চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের হাইকমিশনার।

এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তবে, কী বিষয় নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে– তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি বিএনপি।

এরপর বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাতে আসেন বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মুস্তাফা ওসমান। শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি তারেক রহমানের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন তিনি।

এদিকে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ড. ইভারস আইজাবস সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

প্রায় ঘণ্টা ধরে চলা বৈঠক শেষে বিকাল ৪টার একটু আগে কার্যালয় থেকে বের হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল।

সকল সরকারি অফিসের জন্য জরুরি নির্দেশনা

নির্বাচন পর্যন্ত সরকারি যোগাযোগে গণভোটের লোগো ব্যবহার এবং এ সংক্রান্ত ব্যানার দৃষ্টিনন্দন স্থানে প্রদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব/সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এর আগে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে গত ৫ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় হতে প্রাপ্ত নিম্নবর্ণিত লোগো সব ধরনের পত্র যোগাযোগে (পত্রের উপরে ডান পাশে) ব্যবহার করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

আবারও বাড়ল সোনার দাম

দেশের বাজারে এক দফা কমার পর ফের বাড়ল সোনার দাম। এবার সোনার দাম ভরিতে এক হাজার ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এখন থেকে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (২২ ক্যারেটের) সোনা বিক্রি হবে দুই লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকায়। আগামীকাল রবিবার থেকে সারা দেশে সোনার নতুন এ দর কার্যকর হবে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোনার এ দাম বাড়ার তথ্য জানায়।

এতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী (পিওর গোল্ড) সোনার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সে কারণে সোনার দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে দুই লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এক লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম এক লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে অপরিবর্তীত রয়েছে সোনার দাম। ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি পাঁচ হাজার ৫৪০ টাকা।
২১ ক্যারেটের রুপার দাম ভরি পাঁচ হাজার ৩০৭ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ভরি চার হাজার ৫৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম তিন হাজার ৩৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আমরা এখন একসঙ্গে থাকছি না : তাহসান খান

গেল বছরের শুরুতেই কোনো ধরনের পূর্বাভাস বা গুঞ্জন ছাড়াই হঠাৎ করে বিয়ের খবর দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা তাহসান খান। মেকওভার আর্টিস্ট হিসেবে পরিচিত রোজা আহমেদের সঙ্গে জীবনের এই নতুন অধ্যায় শুরু করেছিলেন তিনি।

এর মধ্যেই খবর, বিয়ের কয়েক মাস থেকেই দুজনের মধ্যে সম্পর্কটা ভালো যাচ্ছে না। গায়কের নব্য গড়া সংসার ভাঙতে চলেছে।
শুধু তা-ই নয়, কয়েক মাস ধরেই আলাদা থাকছেন এই দম্পতি।

এই দুঃসংবাদটি নিশ্চিত করেছেন তাহসান খান নিজেই।

তাহসান খান বলেন, ‘খবরটি সত্য। দীর্ঘদিন ধরেই, অর্থাৎ জুলাইয়ের শেষ থেকে আমরা বিচ্ছিন্ন এবং আলাদা থাকছি।
সঠিক সময় এলে তখনই এই বিষয়ে বিস্তারিত বলব।’

জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে আগ্রহী ছিলেন না তিনি।

তাহসান বলেন, ‘ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাইনি। কিন্তু বিবাহবার্ষিকী নিয়ে কিছু ভুয়া খবর দেখলাম, সে কারণেই বলতে হচ্ছে যে আমরা এখন একসঙ্গে থাকছি না।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি মাত্র চার মাসের পরিচয়ে রোজা আহমেদকে বিয়ে করেন তাহসান খান। রোজা আহমেদ একজন পেশাদার মেকআপ আর্টিস্ট। তিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্রাইডাল মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করছেন এবং নিউইয়র্কে তাঁর নিজস্ব একটি মেকআপ প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এর আগে ২০০৬ সালের ৩ আগস্ট অভিনেত্রী রাফিয়াথ রশিদ মিথিলার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তাহসান খান। দীর্ঘ ১১ বছরের সেই সংসারের ইতি ঘটে ২০১৭ সালে।
তারও দুই বছর আগে থেকে তারা আলাদা থাকছিলেন। সেই সংসারে তাহসানের এক কন্যাসন্তান রয়েছে—আইরা তাহরিম খান।

তিন জেলায় চালু হচ্ছে স্টার সিনেপ্লেক্সের নতুন শাখা

যেখানে একের পর এক সিনেমাহল বন্ধ হওয়ার খবরে হতাশ সিনেসংশ্লিষ্ট থেকে ভক্তরা, সেখানে নতুন প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ করে চমক দিচ্ছে স্টার সিনেপ্লেক্স। চলতি বছর ঈদকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ, শরীয়তপুর ও বগুড়ায় নতুন তিনটি মাল্টিপ্লেক্স চালু হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ও বগুড়ার দুটি প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ করছে স্টার সিনেপ্লেক্স। নারায়ণগঞ্জের জালকুঁড়ির সীমান্ত টাওয়ারে অবস্থিত স্টার সিনেপ্লেক্সটি আগামী ঈদুল ফিতরে উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্টার সিনেপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (বিপণন) মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের জালকুঁড়ির সীমান্ত টাওয়ারে সিনেপ্লেক্সের কাজ চলমান। ঈদুল ফিতরে উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ শাখায় তিনটি হল থাকবে।

তিনি আরো বলেন, ‘বগুড়ার পুলিশ প্লাজায় স্টার সিনেপ্লেক্সের আরেকটি শাখার কাজও চলছে। সেখানে দুটি হল থাকবে। সেটিও চলতি বছরেই উদ্বোধন করা হবে।’

মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, স্টার সিনেপ্লেক্স এরই মধ্যে ১০০টি পর্দা চালুর ঘোষণা দিয়েছিল।
নারায়ণগঞ্জ ও বগুড়ার শাখার কাজ অনেক আগেই শুরু হলেও শেষ হতে কিছুটা সময় লেগেছে।
প্রাথমিকভাবে বড় শহরগুলোতে মাল্টিপ্লেক্স চালুর ওপর জোর দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও প্রেক্ষাগৃহ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার পাশে নির্মাণাধীন পদ্মা সিনেপ্লেক্স-এর কাজও প্রায় শেষের পথে। এই মাল্টিপ্লেক্সটির মালিক চলচ্চিত্র প্রযোজক মোহাম্মদ ইকবাল জানান, প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী ঈদুল আজহায় এটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

গুলির মুখে বুক পেতে দিচ্ছেন ইরানিরা, রক্তে লাল রাজপথ

ইরানে চলমান বিক্ষোভ আরও সহিংস রূপ নিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের জাহেদান শহরে শুক্রবার সরাসরি বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। এতে একাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বালুচ মানবাধিকারভিত্তিক ওয়েবসাইট হালভশ।

হালভশের তথ্য অনুযায়ী, জুমার নামাজের পর বালুচ নাগরিকদের বড় বিক্ষোভ শুরু হলে মাক্কি মসজিদের আশপাশে এই গুলির ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতেই নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়।

এদিকে উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। ইরান ইন্টারন্যাশনালকে স্টারলিংক কলের মাধ্যমে যোগাযোগ করা এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, শুক্রবার ভাকিলাবাদ বুলেভার্ডে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। তার দাবি, বিক্ষোভের আগে রাতেই ওই সড়কের সব নজরদারি ক্যামেরা অকার্যকর করে দেওয়া হয়। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, উত্তর খোরাসান প্রদেশের এসফারায়েন শহরে সহিংসতায় একজন ইরানি কৌঁসুলি ও কয়েকজন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। প্রদেশটির বিচার বিভাগের প্রধান শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে অস্থিরতার সময় আলী আকবর হোসেইনজাদেহ নামে ওই সরকারি ও বিপ্লবী কৌঁসুলি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে মাঠপর্যায়ে তদারকিতে ছিলেন। তখন বিক্ষোভকারীরা তাদের অবস্থানরত ট্রেইলারে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং জরুরি উদ্ধারকর্মীদের সেখানে পৌঁছাতে বাধা দেয়।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন বিক্ষোভকারী এবং দুজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া দেশজুড়ে দুই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দমন করতে ইরানের বিভিন্ন শহরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে সহিংসতা ও প্রাণহানির মধ্যেও রাজপথ ছাড়তে নারাজ অনেক বিক্ষোভকারী, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ: এনসিপির ৭ ও বিএনপির ২ জন আহত

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের দরবেশ বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চানন্দী ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী করিম বাজার–দরবেশ বাজার এলাকার একটি পিচঢালাই রাস্তার ইট তুলে নেওয়ার অভিযোগ এনে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করে এনসিপির এক নেতা ফেসবুকে পোস্ট দেন। ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সন্ধ্যার পর এনসিপির ওই নেতা ও তার সহযোগীরা দরবেশ বাজার এলাকায় লিফলেট বিতরণ করতে গেলে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। সংঘর্ষে এনসিপির ৭ জন ও বিএনপির ২ জন আহত হন।

এনসিপির আহতরা হলেন চানন্দী ইউনিয়ন এনসিপির আহ্বায়ক জাকের হোসেন, হাতিয়া উপজেলা জাতীয় যুবশক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ হোসেন, ছাত্রশক্তির রবিন, এনসিপি নেতা জাফের, দুলাল ও শাহাদাত।

বিএনপির আহতরা হলেন সারওয়ার ও শারীরিক প্রতিবন্ধী সাইফুল ইসলাম সারু।

এনসিপির পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, চানন্দী ইউনিয়নের নদীর তীরে করিম বাজার এলাকার একটি পিচঢালাই রাস্তা কেটে ইট, বালু ও পাথর বিক্রি করছিল স্থানীয় বিএনপির নেতা সারোয়ার মাঝি, চানন্দী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সারোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক রবি আলম শান্তসহ কয়েকজন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে বাসায় ফেরার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপির সশস্ত্র লোকজন এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও দাবি করা হয়, সংঘর্ষের সময় এনসিপির অন্তত ৮টি মোটরসাইকেল লুট করা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তারা চিকিৎসাধীন।

একই ভাবে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দরবেশ বাজার এলাকার বালু ব্যবসায়ী জাকের ব্যাপারী ও ইঞ্জিনিয়ার তানবিরের লোকজন স্থানীয়দের দাবির মুখে বালু পরিবহনে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামত করছিল। এ সময় এনসিপির লোকজন ভিডিও ধারণ করে বিএনপির নেতাকর্মীরা মাটি বিক্রি করছে এমন মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ায়।

বিএনপির অভিযোগ, প্রতিবাদ জানালে এনসিপি সমর্থিত লোকজন দরবেশ বাজার এলাকায় সড়কের বিভিন্ন মুরুব্বিদের ওপর মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করে। এতে স্থানীয় জনগণ উত্তেজিত হয়ে ধাওয়া দিলে পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় চানন্দী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি, বর্তমানে এনসিপি নেতা নূর আলম রিপনের নেতৃত্বে এনসিপির লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিএনপির নেতা সারওয়ার ও প্রতিবন্ধী সাইফুল ইসলাম সারুকে আহত করে।

এ বিষয়ে হাতিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুক্ত বিশ্বকোষের রুদ্ধ দুয়ার-১: জুলাই শহীদদের নাম-নিশানা মুছে ফেলছে উইকিপিডিয়া

মুক্ত অনলাইন বিশ্বকোষ হিসেবে পরিচিত উইকিপিডিয়া স্বেচ্ছাসেবকদের দ্বারা সম্মিলিতভাবে সম্পাদিত হওয়ার কথা। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই প্ল্যাটফর্মকে বাংলাদেশ ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের ব্যাপক অপতৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত জুলাই বিপ্লবের পর এই গোষ্ঠী বিশেষভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

অভিযোগ উঠেছে, একটি সংঘবদ্ধ আদর্শিক গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আন্দোলনের নেতাদের নাম মুছে ফেলা, বিকৃত করা ও বিতর্কিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। একই সঙ্গে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও ভারতপন্থি বয়ান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলা উইকিপিডিয়াকে কার্যত জিম্মি করে ফেলা হয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীদের অনুসন্ধানে এসব বিষয় উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা সরকারের কাছে এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। এতে আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মিলিত হামলায় দেশের তিন জেলায় ছয়জন নিহত হন। এই ঘটনাই বাংলাদেশে এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক গণবিস্ফোরণের সূচনা করে এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থাকে বদলে দেয়।

হাসিনা সরকারের পতনের আগে ও পরে এই ছয় শহীদ ব্যাপকভাবে আলোচিত হন এবং বর্তমানে রাষ্ট্রীয় প্রায় সব অনুষ্ঠানেই তাদের স্মরণ করা হয়। তাদের মধ্যে চট্টগ্রামে নিহত ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম ও ছাত্রশিবির নেতা ফয়সাল আহমেদ শান্ত অন্যতম। দুটি ছাত্র সংগঠনই ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে তাদের আদর্শিক অবস্থান থেকে এই শহীদদের সম্মান ও মর্যাদায় ভূষিত করে আসছে।

যারা দেশের জন্য জীবন দেন এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলোচনায় উঠে আসেন, তাদের বিষয়ে উইকিপিডিয়ায় পেজ থাকা স্বাভাবিক বিষয়। ব্যাপক তথ্য-উপাত্ত ও কয়েক ডজন সূত্রের ভিত্তিতে ওয়াসিম আকরাম ও ফয়সাল আহমেদ শান্তের নামে উইকিপিডিয়ায় দুটি পেজ তৈরি করা হয়। এক্ষেত্রে উইকিপিডিয়ার সব নীতিমালা মেনে প্রতিটি তথ্য যথাযথ সূত্রসহ উপস্থাপন করা হয়। তবুও পেজ দুটি মুছে ফেলা হয় ‘নি৭’ ধারা ব্যবহার করে, যাতে বলা হয়েছে—‘অগুরুত্বপূর্ণ (ব্যক্তি, প্রাণী, সংস্থা, ওয়েব) বিষয়বস্তু বা ঘটনা’।

যিনি ওয়াসিম আকরাম ও ফয়সাল আহমদের লেখা দুটি লিখেছেন, তিনি দীর্ঘ ৬ বছর ধরে উইকিপিডিয়ায় শতাধিক কনটেন্ট সম্পাদনা করেছেন। যাদের মৃত্যু বাংলাদেশের ইতিহাস বদলে দিয়েছে এবং লেখার প্রতিটি তথ্য সূত্রসহ উপস্থাপন করা হয়েছে, সেই লেখা কীভাবে ‘নি৭’-এর আওতায় পড়ে সে বিষয়ে জানতে চাইলেও মুছে ফেলা প্রশাসক (অ্যাডমিন) কোনো জবাব দেননি। উইকিপিডিয়ার নিয়মানুসারে কোনো প্রশাসকের যদি মনে হয় লেখাটি উন্নত করা দরকার, তিনি সেটা সবার আলোচনার জন্য উন্মুক্ত করতে পারেন। কিন্তু কাউকে কোনো আলোচনার সুযোগ না দিয়ে একটি অপ্রাসঙ্গিক ধারা যুক্ত করে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ শহীদদের কনটেন্ট দ্রুত অপসারণ করা হয়েছে। লেখক বারবার পেজ ফিরিয়ে আনার দাবি জানালে তাকে বিরক্ত না করতে হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

জুলাই শহীদ ইমতিয়াজ আহমেদ জাবিরের পেজও একইভাবে ‘নি৭’ ধারায় মুছে ফেলা হয়। তার মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যদের ঠিকভাবে জানাজাও পড়তে দেওয়া হয়নি। ঢাকা থেকে লাশ যশোরে নেওয়ার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন কার্যত মাটিচাপা দিয়ে রেখে আসে তাকে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওয়াসিম, শান্ত বা জাবিরই নন—জুলাই বিপ্লবে ইতিহাস সৃষ্টিকারী প্রায় সব শহীদের পেজই একই অপ্রাসঙ্গিক ধারা ব্যবহার করে মুছে ফেলা হয়েছে। হাতে গোনা কয়েকজন শহীদ, যারা শুধু বাংলাদেশ নয় বরং পুরো বিশ্বজুড়ে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনায় রয়েছেন এবং এখনো সারা দুনিয়ায় বিপ্লবের মুখ হয়ে রয়েছেন, তাদের কয়েকটি পেজ এখনো টিকে আছে। তবে সেগুলোও নিয়মিত সম্পাদনা ও মুছে ফেলার চেষ্টার মুখে রয়েছে।

জুলাই বিপ্লবের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা বিভিন্ন দল, প্ল্যাটফর্ম ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পেজও মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে। জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের গড়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পেজেও সংঘবদ্ধভাবে বিতর্ক তৈরি ও অপসারণের চেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে।

সাদিক কায়েম, শরীফ ওসমান হাদি, আলী আহসান জুনায়েদ, রাকিবুল ইসলাম রাকিব, নাছির উদ্দিন নাছির, নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাহিদুল ইসলাম, রাশেদ খান, আব্দুল হান্নান মাসুদসহ আরো অনেকে শেখ হাসিনার সরকারের পতনে এবং পতনের পরেও এদের সবাই জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কার্যক্রম ও আলোচনায় রয়েছেন। হাসিনা-পরবর্তী রাজনীতিতে তাদের ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই দেখা হয়। তাদের প্রত্যেকের নামে করা উইকিপিডিয়ার পেজ একাধিকবার মুছে ফেলা হয়েছে এবং প্রতিবারই ‘নি৭’ ধারা ব্যবহার করে দ্রুত অপসারণ করা হয়েছে। এসব ব্যক্তি বর্তমান বাংলাদেশের বাস্তবতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হওয়ায় ‘নি৭’ এখানে প্রযোজ্য নয়। তারপরও এমন একটি অপ্রাসঙ্গিক ধারা ব্যবহার করে তাদের পেজ বারবার মুছে ফেলা হয়েছে।

ইনকিলাব মঞ্চের শরীফ ওসমান হাদি ছাত্রলীগের সশস্ত্র হামলায় নিহত হওয়ার পর তার পেজ ফিরিয়ে আনা হয়। অথচ এর আগে বহুবার তার পেজ মুছে ফেলা হয়েছিল। ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের পেজ অন্তত ১৩ বার মুছে ফেলার পর সম্প্রতি ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

তবে ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবে অবিস্মরণীয় ভূমিকার জন্য ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া এনসিপির আব্দুল হান্নান মাসুদ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আপ বাংলাদেশের আলী আহসান জুনায়েদ, ছাত্রদলের রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাছির উদ্দিন নাছির, ছাত্রশিবিরের সদ্য সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বা ২০১৮ সালের ঐতিহাসিক কোটা ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের নেতা রাশেদ খানদের মতো জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের পেজ এখনো ‘নি৭’ ধারায় বারবার মুছে ফেলা হচ্ছে। অথচ তারা সবাই বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে জাতির কাছে স্বীকৃত।

এছাড়া শহীদ আনাসের শাহরিয়ার খান আনাসের নামে থাকা নিবন্ধটিও একাধিকবার মুছে ফেলা হয়েছে। তবে কয়েক মাস আগে কিছু সম্পাদনাসাপেক্ষে সেটি ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সর্বশেষ গত ৪ জানুয়ারি বিকেলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নামে লেখা নিবন্ধটির অংশবিশেষ ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

এর বিপরীতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের নামে বাংলা ও ইংরেজিতে তিনটি পেজ বহাল রয়েছে, যেখানে তার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। যেখানে তার পক্ষে বলা হয়েছে তিনি ‘নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের ছয় শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দের পক্ষে সওয়াল করতেন’। তার বিরুদ্ধে ডাকসু অফিসে হামলা করে সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ থাকলেও ওই পেজে তা উল্লেখ নেই। পতিত আওয়ামী লীগের আরো অসংখ্য ব্যক্তির নামে উইকিপিডিয়ায় এ ধরনের বানোয়াট প্রশংসা স্থান পাচ্ছে। এর বিপরীতে ফ্যাসিবাদবিরোধী নেতা ও শহীদদের পেজ মুছে ফেলা, বিতর্কিত করার চেষ্টা চোখে পড়ার মতো। এসব বিষয়ে আপত্তি জানালে সংশ্লিষ্ট লেখকদের অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেওয়া হচ্ছে, যা উইকিপিডিয়ার মতো প্ল্যাটফর্মে অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন সম্পাদকরা।

বাংলাদেশের নবইতিহাসে ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি রাকিব হাসান ও ছাত্রশিবিরের সদ্যসাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলামের ভূমিকা ঐতিহাসিক। দুজনেরই দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। এর বিপরীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাদের ইতিহাস বিতর্কিত ও নিপীড়নমূলক হলেও উইকিপিডিয়ায় সম্পূর্ণ তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে।

জুলাই বিপ্লবের শহীদ, সংগঠন বা সংগঠনগুলো উইকিপিডিয়ার প্রশাসকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ না হলেও সমকামী ও বাংলাদেশবিদ্বেষী ব্যক্তিদের ব্যাপক কদর রয়েছে তাদের কাছে। অভিজিৎ রায়, আসিফ মহিউদ্দীন, আহমেদ রাজীব হায়দার, জুলহাজ মান্নান, তসলিমা নাসরিন, রেজাউল করিম সিদ্দিকীসহ সমকামিতাকে উৎসাহিত করা ব্যক্তিদের নিয়ে উইকিপিডিয়ায় প্রশংসার শেষ নেই। তারা দেশের জন্য জীবন দেওয়া শহীদদের চেয়েও কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেল তার কোনো ব্যাখ্যা উইকিপিডিয়ার প্রশাসকরা দিতে রাজি নন।

জুলাই শহীদদের পক্ষে লেখা ও মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে আপত্তি তোলার কারণে একাধিক অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রশাসক ইয়াহইয়াকে ইমেইলে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে প্রশ্নকারীর অ্যাকাউন্টও সাসপেন্ড করেন। ফলে এ বিষয়ে উইকিপিডিয়ায় অপতৎপরতা চালানো এসব প্রশাসকের কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

উইকিপিডিয়ার নিয়মিত লেখক মামুন হোসেন বলেন, একটি উন্মুক্ত বিশ্বকোষ হলেও বাংলাদেশ ও ভারতীয় উপমহাদেশের সংশ্লিষ্ট ধর্ম ও আদর্শিক বিষয়গুলো একটি সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মাধ্যমে পরিচালিত হয় এখানে, যা সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। এতে ভারতের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর বিশ্বাস ও আদর্শিক মনঃপূত লেখালেখির বিশেষ কদর রয়েছে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও আদর্শিক অবস্থানবিরোধী প্রচুর লেখালেখিও পাবেন। সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই বিপ্লবীদের পক্ষে বেশকিছু লেখালেখি এবং এর আগে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট লেখালেখির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া পেয়েছি বাংলা উইকিপিডিয়ার বর্তমান প্রশাসকদের কাছ থেকে, যা প্রমাণ করে এটি সুস্পষ্টভাবে সাম্প্রদায়িক ও আদর্শিক গোষ্ঠীর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।

হাসনাত সিদ্দিকী মুরাদ নামের আরেক লেখক বলেন, বাংলা উইকিপিডিয়াকে কোনো অবস্থাতেই উন্মুক্ত বিশ্বকোষ বলা যায় না। এটা একটি সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে এবং সেই গোষ্ঠী বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ধর্ম ও আদর্শিক অবস্থানের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ভারত থেকে আমাদের দেশের বিরুদ্ধে যেসব অপপ্রচার হয়েছে, সেখানেও উইকিপিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিষয়টির দিকে রাষ্ট্রের নজর দেওয়া সময়ের দাবি। আরেক লেখক সৌরভ অভিযোগ করেন, বাংলা উইকিপিডিয়া পতিত হাসিনা সরকার ও ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর প্রভাবাধীন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালের বিনা ভোটের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ফেসবুক, ইউটিউবসহ তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন মাধ্যমকে কবজা করতে শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিবেশী দেশের যোগসাজশে উইকিপিডিয়াতেও নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালায় তারা। তখন থেকেই উইকিপিডিয়া বাংলার অ্যাডমিনদের মধ্যে ভারতীয়, আওয়ামী ও ইসলামবিদ্বেষী ব্যক্তিদের অনুপ্রবেশ ঘটে। তারাই বিভিন্ন সময়ে উইকিপিডিয়াকে নিজেদের স্বার্থে ও উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে আসছেন। তাদের কারণেই মাধ্যমটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

উইকিপিডিয়া বাংলার অ্যাডমিন প্যানেলের তিনজনকে ইমেইল করে অভিযোগের বিষয়ে তাদের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়। গত ১১ ডিসেম্বর নাহিদ সুলতান, এমডিএস শাকিল ও ইয়াহইয়া নামের তিন অ্যাডমিনকে দেওয়া সেই ইমেইলের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া উইকিপিডিয়া ফাউন্ডেশনের অধীনে কাজ করা লেখক ও সম্পাদকদের প্ল্যাটফর্ম উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের যোগাযোগের ঠিকানায় দেওয়া মোবাইল ফোন নম্বরে বারবার কল দিলেও সাড়া মেলেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জুলাই বিপ্লবের অন্যতম সংগঠক ও ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ বলেন, ১৫ বছর আওয়ামী লীগ যে কাজ করে গেছে, সেটা ব্যক্তিউদ্যোগে মোকাবিলা করা কঠিন। সরকারের দায়িত্ব ছিল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। আমার মনে হয় এখনো সময় আছে। অন্তর্বর্তী সরকার যদি উদ্যোগ নেয়, তাহলে নির্ধারিত যেসব আইডি থেকে এই কাজগুলো করা হয় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। সেই সঙ্গে আমাদের যেসব হিরো আছে, জাতির যাদের স্মরণ করা দরকার। তাদেরও এখানে তুলে ধরা দরকার। আগের এই ব্যর্থতা থেকে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিবে সেটা আমরা আশা করছি।

সার্বিক বিষয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘উইকিপিডিয়া ব্যক্তিবিশেষের দ্বারা পরিচালিত, সরকার দ্বারা নয়। তাই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হবে উইকিপিডিয়া কমিউনিটির সঙ্গে কথা বলে একটি করণীয় নির্ধারণ করা। এ বিষয়ে করণীয় নিয়ে আমাদের উপদেষ্টাদের সঙ্গে কথা বলব।’

হবিগঞ্জ-১ আসন: জামায়াত প্রার্থীর মামলা অনেক, সম্পদ নগণ্য

হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহজাহান আলীর সম্পদ স্বল্প, কিন্তু মামলা অনেক। তার নামে মোট মামলা রয়েছে ৩৭টি। এর মধ্যে একটিতে জামিনে আছেন তিনি। আর বাকিগুলোর কোনোটি প্রত্যাহার, কোনোটিতে অব্যাহতি পেয়েছেন আবার কোনোটি থেকে খালাস পেয়েছেন।

তিনি পেশায় স্বকর্মজীবী আর স্ত্রীর পেশা শিক্ষকতা। স্ত্রীর ১৮ ভরি স্বর্ণ সেগুলোও বিয়ের উপহার। নিজের সম্পদও নগণ্য। নির্বাচন কমিশনে দেয়া তার হলফনামা পর্যালোচনা করে এসব তথ্য মিলেছে।

হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন, আয়ের উৎস কৃষি খাত। শেয়ার, বন্ড, ব্যাংক আমানত থেকে আয় হয় বছরে পাঁচ লাখ, চাকরির আয় বছরে তিন লাখ ২০ হাজার এবং ব্যাংক থেকে মুনাফা পান ৮৮৫ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তি নগদ ২১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৬ টাকা, ইসলামী ব্যাংক সিলেট শাখায় জমা ৬১ হাজার ৯৮৫ টাকা, আসবাবপত্র ৩০ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পত্তি ১৭.৩২ শতাংশ কৃষি জমি। যার অর্জনকালীন মূল্য এক লাখ ৭৩ হাজার ৯৭৪ টাকা। বর্তমানে মূল্য কমে হয়েছে ৮৬ হাজার ৬০০ টাকা।

শাহজালালে অকার্যকর আইএলএস-২: ঘন কুয়াশায় বিপাকে এয়ারলাইনস, দুর্ভোগের শিকার যাত্রীরা

ঘন কুয়াশার মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (আইএলএস)- ক্যাটাগরি ২ কাজ করছে না। বাড়ছে বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ব্যয়। দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রীরা। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষও উদাসীন। আইএলএস কার্যক্রম না থাকায় কুয়াশার সময় প্রতিদিন ৫ থেকে ৮টি ফ্লাইট ডাইভার্ট করা হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী অনেক দেশ আইএলএস ক্যাটাগরি-৩ ব্যবহার করলেও শাহজালাল বিমানবন্দর তার ক্যাটাগরি-২ ধরে রাখতে পারছে না।

বাংলাদেশ সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৯ অক্টোবর অবতরণের সময় থাই এয়ারওয়েজের একটি বিমান দুর্ঘটনাবশত হাই অ্যান্টেনা অ্যাপ্রোচ লাইট ভেঙে ফেলে। শতকরা ৯৫ ভাগ এপ্রোচ লাইট কাজ না করলে আইএলএস ক্যাটাগরি-২ থেকে ক্যাটাগরি ১ এ নেমে আসে। বর্তমানে সাপ্লিমেন্ট অ্যাপ্রোচ লাইট ৭৯ থেকে ৮৬টি রয়েছে। রানওয়ে ভিজিবিলিটি রেঞ্জ ৭০০ মিটার। আগামী ৩ মাস সময় লাগবে ক্যাটাগরি-২-এ ফিরে যেতে।

সূত্র জানায়, আইএলএস ক্যাটাগরি-২ সুবিধা বজায় রাখতে হলে একসঙ্গে কয়েকটি বাধ্যতামূলক টেকনিক্যাল শর্ত পূরণ করতে হয়। এর মধ্যে তিনটি প্রধান প্যারামিটার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, আইএলএসের নিজস্ব যন্ত্রপাতি অবশ্যই ক্যাটাগরি-২ মানসম্পন্ন হতে হবে। দ্বিতীয়ত, রানওয়ের পুরো লাইটিং সিস্টেম— অ্যাপ্রোচ লাইট, সেন্টারলাইন লাইট ও এজ লাইটসহ কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ কার্যকর থাকতে হবে। তৃতীয়ত, রানওয়ের ভিজুয়াল রেঞ্জ পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত আবহাওয়াসংক্রান্ত যন্ত্রপাতি নির্ভুলভাবে কাজ করতে হবে। বর্তমানে এসব শর্তের মধ্যে দ্বিতীয়টি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

প্রতিবছর শীত মৌসুম এলেই শাহজালাল বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের নিরাপদ অবতরণ ও উড্ডয়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় ঘন কুয়াশা। এ বছরও এ কারণে বিমান চলাচল পড়েছে চ্যালেঞ্জের মুখে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ঘন কুয়াশার কারণে রানওয়ের দৃশ্যমানতা নেমে গেছে ন্যূনতম নিরাপদ সীমার নিচে। বাধ্য হয়ে গত দুসপ্তাহে অন্তত অর্ধশত ফ্লাইট কলকাতা, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। আর এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষকে পড়তে হচ্ছে অপারেশনাল জটিলতায়; লন্ডভন্ড হয়ে যাচ্ছে শিডিউল।

ঘন কুয়াশাকালে শাহজালাল বিমানবন্দরের রানওয়ের পূর্ণাঙ্গ লাইটিং সিস্টেম কার্যকর রাখতে না পারায় বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক মানের আইএলএস (ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম) ক্যাটাগরি-২ সুবিধা হারিয়ে আবার ক্যাটাগরি-১-এ নেমে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিমান চলাচলে। ভোররাত ও গভীর রাতে কুয়াশা ঘন হলেই একের পর এক ফ্লাইট ডাইভার্ট করতে হচ্ছে।

ক্যাটাগরি-২ সুবিধা না থাকায় সর্বাধিক ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে রাত ও ভোরের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আকাশে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে ফ্লাইট ঢাকায় নামতে না পেরে বিকল্প বিমানবন্দরে অবতরণ করছে। সেখান থেকে আবার বাস বা অন্য ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরতে হচ্ছে, যা সময় ও অর্থ— দুদিক থেকেই বাড়তি চাপ তৈরি করছে। যাত্রীদের অভিযোগ, অনেক সময় ডাইভার্টের তথ্য দেরিতে জানানো হয়। ফলে অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তি আরো বাড়ে।

আইএলএস হলো এমন একটি প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে পাইলটরা কম দৃশ্যমানতার মধ্যেও রানওয়ের সঠিক অবস্থান নির্ণয় করে নিরাপদে উড়োজাহাজ অবতরণ করতে পারেন। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও) এ ব্যবস্থাকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে— ক্যাটাগরি-১, ক্যাটাগরি-২ এবং ক্যাটাগরি-৩ (এ, বি ও সি)। ক্যাটাগরি-১ ব্যবস্থায় সাধারণত বিমান অবতরণের জন্য ন্যূনতম ১০০০ মিটার দৃশ্যমানতা প্রয়োজন হয়। ক্যাটাগরি-২ সুবিধা থাকলে ৫০০ থেকে ৭৫০ মিটার দৃশ্যমানতার মধ্যেও নিরাপদ অবতরণ সম্ভব। আর ক্যাটাগরি-৩ থাকলে অত্যন্ত ঘন কুয়াশা বা প্রায় শূন্য দৃশ্যমানতার মধ্যেও বিমান নিরাপদে অবতরণ করতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে বিমানবন্দরটি কেবল আইএলএস ক্যাটাগরি-১ সুবিধার আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। অথচ ঘন কুয়াশার সময় নিরাপদ ও স্বাভাবিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ক্যাটাগরি-২ সুবিধা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সুবিধা না থাকায় অনেক ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ে ঢাকায় অবতরণ করতে পারছে না। বিকল্প হিসেবে কখনো চট্টগ্রাম, কখনো কলকাতা কিংবা অন্য নিকটবর্তী বিমানবন্দরে ফ্লাইট ডাইভার্ট করা হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে প্রায় অর্ধশত ফ্লাইট ঘন কুয়াশার কারণে অন্য বিমানবন্দরে নামতে বাধ্য হয়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ট্রানজিট যাত্রীরা। ফ্লাইট ডাইভার্ট মানেই অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ, গুনতে হয় জরিমানা, ক্রুদের সময়সূচি পুনর্বিন্যাস এবং পরবর্তী ফ্লাইট পরিচালনায় জটিলতা দেখা দেয়। একজন পাইলট জানান, একটি ফ্লাইট ডাইভার্ট হলে এর প্রভাব পরবর্তী কয়েকটি ফ্লাইটের শিডিউলেও পড়ে। এতে অপারেশনাল ক্ষতির পাশাপাশি যাত্রী অসন্তোষও বাড়ে। তার মতে, শীত মৌসুমে এ সমস্যা নিয়মিত হলে পুরো নেটওয়ার্ক পরিকল্পনাই চাপে পড়ে।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন বলেন, রানওয়ের আইএলএসের লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে ঘন কুয়াশায় কিছু ফ্লাইট ডাইভার্ট করতে হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব ঠিক করতে। এছাড়া কক্সবাজার রানওয়ে অনেক বড়, আমরা চেষ্টা করছি শাহজালালে ফ্লাইট না নামতে পারলে কক্সবাজার অবতরণ করবে। শাহজালালে আইএলএস-৩ ক্যাটাগরি করা সম্ভব নয়। কারণ রানওয়ের উত্তরদিকে অনেক হাইরাইজ বিল্ডিং রয়েছে যেগুলো ভেঙে ফেলতে হবে।

বেসরকারি এয়ারলাইনেস ইউএস বাংলার জনসংযোগ বিভাগের জিএম কামরুল ইসলাম বলেন, ঘন কুয়াশায় পাইলটরা যথাযথভাবে রানওয়ে দেখতে পান না। ঝুঁকি এড়াতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, কলকাতা, মিয়ানমার ল্যান্ডিং করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে শিডিউল লন্ডভন্ড হয়ে যায়, দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রীরা। এ ছাড়া এয়ারলাইনসগুলোর খরচও বেড়ে যায়। ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে বিমানবন্দরের রেগুলেটরি বডির কাছে আমাদের চাওয়া দ্রুত রানওয়ের সংস্কার করে আইএলএস ক্যাটাগরি-২-তে ফিরে যাওয়া ও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ কাউসার মাহমুদ বলেন, গত ২৯ অক্টোবর থাই এয়ারওয়েজের একটি বিমান ল্যান্ডিংয়ের সময় লাইটিং সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ কারণে বর্তমানে ক্যাটাগরি ২ থেকে ১-এ অবনমন করা হয়। এ লাইটগুলো ব্যয়বহুল এবং বিদেশ থেকে আনতে হয়। টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। অতিদ্রুত তা স্থাপন করা হবে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান নামতে না পারায় ডাইভার্ট করা হচ্ছে।

অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক বিমান পরিচালনা পর্ষদের সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, বিমানবন্দর ক্যাটাগরি-২ শুধু যন্ত্র বসালেই হয় না। এটি ধরে রাখতে হলে প্রতিদিনের মনিটরিং, নিরবচ্ছিন্ন রক্ষণাবেক্ষণ এবং দ্রুত ত্রুটি সমাধান জরুরি। এখানে সামান্য অবহেলাও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। শীত মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই যদি লাইটিং সিস্টেমের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা ও সংস্কার সম্পন্ন করা যেত, তাহলে এহেন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো।