মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

সাধারণ মানুষের পরামর্শ নেবেন তারেক রহমান

দেশের সর্বস্তরের মানুষের পরামর্শ নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী নির্বাচন, দল পরিচালনা, এমনকি নির্বাচনে বিজয়ী হলে সরকার পরিচালনাসহ সব বিষয়েই পরামর্শের ভিত্তিতে কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। দল ও সরকারের প্রতিটি কার্যক্রমে যাতে গণমানুষের আশা-আকাক্সক্ষা ও মতামতের প্রতিফলন এবং বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ঘটে সে লক্ষ্যেই তাদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণের এই উদ্যোগ নিয়েছেন বিএনপির কর্ণধার।

শিগগিরই তিনি সর্বস্তরের মানুষের কাছ থেকে মতামত আহ্বান করবেন।
এজন্য চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে সর্বস্তরের মানুষের জন্য কিউ আর কোড চালু করা হবে। এই কিউ আর কোড সিস্টেমে একজন নাগরিক যেকোনো বিষয়ে তার মতামত দিতে পারবেন। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই ‘ম্যাচ মাই পলিসি ডট নেট’ নামের একটি ওয়েবসাইট চালু করেছে বিএনপি। দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দেশের সর্বস্তরের মানুষের মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতেই বিএনপি দল পরিচালনা থেকে শুরু করে নির্বাচন, জনরায়ে সরকারের গেলে রাষ্ট্র পরিচালনা পর্যন্ত সব ধরনের কাজ করতে চায়। যাতে করে বিএনপি এবং ভবিষ্যৎ সরকারের প্রতিটি কার্যক্রমেই দেশের জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটে। এজন্যই আমাদের চেয়ারম্যান এই উদ্যোগ নিয়েছেন।’

জানা গেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী নতুন বাংলাদেশে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, পলিসিভিত্তিক আলোচনা এবং তারুণ্যের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে বিএনপি ম্যাচ মাই পলিসি নামে নতুন ওয়েব অ্যাপ চালু করেছে।
যেখানে দলটির নীতি নিয়ে তরুণ ও সাধারণ মানুষ মতামত দিতে পারবে। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, www.matchmypolicy.net’ এই ওয়েবসাইটে গিয়ে যেকোনো নাগরিক তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারবেন। যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রথমবারের মতো একটি ইন্টার‌্যাকটিভ ডিজিটাল পলিসি প্ল্যাটফর্ম। ম্যাচ মাই পলিসি একটি সোয়াইপভিত্তিক ওয়েব অ্যাপ, যার ইন্টারফেস সহজ ও পরিচিত। এখানে ম্যাচ হবে বিএনপির পলিসির সঙ্গে যে কারও মতামত।
প্রতিটি স্ক্রিনে বিএনপির কিছু পলিসি বা পরিকল্পনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থাকবে, যা সোয়াইপ করেই নিজ অবস্থান জানা যাবে।

এ ছাড়া অ্যাপে একটি ‘Opinion’ অপশন রাখা হয়েছে, যেখানে পলিসি বিষয়ে লিখিতভাবে পরামর্শ দেওয়া যাবে।

দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো জেন-জি, তরুণ ও সাধারণ জনগণকে পলিসি নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা। জনগণের প্রত্যক্ষ মতামতের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে আরও গণমুখী, কার্যকর ও বাস্তবসম্মত করা। অ্যাপটির শেষ অংশে ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষ কিছু কনটেন্ট রাখা হয়েছে। যা পলিসি ও বিএনপির ভবিষ্যৎ ভাবনার সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে সাহায্য করবে। এ প্রসঙ্গে বিএনপির সহ তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এইচ এম সাইফ আলী খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিএনপি মনে করে, ম্যাচ মাই পলিসি কেবল একটি প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নয়-এটি পলিসিনির্ভর রাজনীতি, অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরির একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা।

সিলেট থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করবেন : বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করবেন। দলের মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তারেক রহমান হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে নির্বাচনি প্রচারে নামবেন। এরপর বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও জনসভায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে, শনিবার ভোটের প্রচারণা শুরুর বিষয়ে রাজধানীর একটি হোটেলে গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, ‘সামনে নির্বাচন। আমি একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য। স্বাভাবিকভাবেই আমরা ২২ জানুয়ারি থেকে আমাদের সব রকম পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের সামনে যাব।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তফশিল অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের দিন। এরপর ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা। ওই দিনই তারেক রহমান সিলেট সফর শেষে সড়কপথে ঢাকায় ফেরার পথে বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনের প্রচার কার্যক্রম চালাবেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি মৌলভীবাজারে জনসভায় অংশগ্রহণ এবং শ্রীমঙ্গলে নির্বাচনি সভায় বক্তব্য রাখবেন। এর আগে গত সপ্তাহে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে তাঁর উত্তরবঙ্গ সফর স্থগিত করা হয়।

এল ক্লাসিকোয় রিয়ালকে উড়িয়ে আবারও চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা

উত্তেজনা, নাটকীয়তা আর গোলের লড়াইয়ে ভরপুর এল ক্লাসিকোয় ফের রিয়াল মাদ্রিদকে পরাজিত করে শিরোপা ঘরে তুলেছে বার্সেলোনা।

জেদ্দায় অনুষ্ঠিত স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে ৩-২ গোলের জয় পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় কাতালানরা। হ্যান্সি ফ্লিকের অধীনে এটি বার্সেলোনার আরও একটি স্মরণীয় সাফল্য।

রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল জমজমাট। দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে সমানে সমান লড়াই করে। তবে ম্যাচের প্রথম ৩৫ মিনিট পর্যন্ত কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।

অবশেষে ৩৬তম মিনিটে গোলের খাতা খুলে দেন ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনহা। তার দুর্দান্ত ফিনিশে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। প্রথম গোলের পর ম্যাচের গতি আরও বেড়ে যায় এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে মাঠজুড়ে।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে রীতিমতো গোলের ঝড় ওঠে। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ভিনিসিউস জুনিয়রের চোখধাঁধানো গোলে সমতায় ফেরে রিয়াল মাদ্রিদ। ডি-বক্সে ঢুকে বার্সার দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নেওয়া তার নিখুঁত শট ম্যাচে নতুন মাত্রা যোগ করে।

তবে সমতা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি রিয়াল। মাত্র দুই মিনিট পর পেদ্রির বাড়ানো বল থেকে গোল করে বার্সেলোনাকে আবার এগিয়ে দেন রবার্ট লেভানডোভস্কি। কিন্তু পিছিয়ে থেকেও হাল ছাড়েনি রিয়াল। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই স্ট্রাইকার গঞ্জালো গার্সিয়ার গোলে ফের ২–২ সমতায় ফিরে আসে মাদ্রিদ শিবির।

দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের উত্তাপ কমেনি। ৭১তম মিনিটে বার্সেলোনার হয়ে গোলের সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট হয়, যখন লামিনে ইয়ামালের কাছ থেকে নেওয়া নিচু শট ১০ গজ দূর থেকে দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া।

তবে তার এক মিনিট পরই ভাগ্য সহায় হয় বার্সার। বক্সের ভেতরে পড়ে যাওয়ার সময় রাফিনহার নেওয়া শট রিয়াল ডিফেন্ডার আসেন্সিওর পায়ে লেগে জালে ঢুকে পড়ে। এই গোলেই শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দেয় বার্সেলোনা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বার্সার হয়ে শেষ পাঁচ ম্যাচে এটি ছিল রাফিনহার সপ্তম গোল।

ম্যাচের শেষ দিকে রিয়াল মাদ্রিদ কিছু আক্রমণ শানালেও বার্সেলোনার গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় আর সমতায় ফিরতে পারেনি তারা। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে মেতে ওঠে বার্সা শিবির।

হ্যান্সি ফ্লিকের কোচিংয়ে এটি বার্সেলোনার চতুর্থ ট্রফি, যা নতুন কোচের অধীনে দলের ধারাবাহিক সাফল্যেরই প্রমাণ দিল।

রাজধানী ঢাকার আকাশ আজ সাময়িকভাবে আংশিক মেঘে ঢাকা থাকতে পারে

রাজধানী ঢাকার আকাশ আজ সাময়িকভাবে আংশিক মেঘে ঢাকা থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

পাশাপাশি দিনের তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও আশপাশের এলাকার আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অফিসের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সময়ে ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং সামগ্রিকভাবে আবহাওয়া শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এ সময় দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় আনুমানিক ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার গতিতে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে রাজধানীতে আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকালবেলায় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৭২ শতাংশ। গতকাল ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

অন্যদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ ১২০ ঘণ্টার সারাদেশব্যাপী পূর্বাভাসে বলা হয়েছে- আজ সারা দেশে আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে।

বর্তমানে যে শৈত্যপ্রবাহ চলছে, তা অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া শেষরাত থেকে ভোর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রাও প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

স্বৈরাচারের দোসররা ভোট ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: প্রধান উপদেষ্টা

পতিত স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

রোববার (১১ জানুয়ারি) আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসেবে আসা ইউরোপীয় প্রতিনিধিদলের প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন তিনি।

পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা পর্যবেক্ষকদের জানিয়েছেন- নারী ও তরুণদের মধ্যে ভোটের বিষয়ে খুব আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুব ভালো ভোটার উপস্থিতি থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

শফিকুল আলম বলেন, এ আলোচনায় আওয়ামী লীগ বা তাদের (নির্বাচনে) অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

প্রেস সচিব বলেন, প্রধান উপদেষ্টা গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে বলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকদের আশ্বস্ত করেছেন। ড. ইউনূস বলেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত।

শফিকুল আলম আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানোর জন্য ইইউকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের জন্য সমান লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ।

‘এখন তোমার সব হয়েছে, পর হয়েছি আমি’

বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, জনগণ তার পাশে থাকায় শত প্রতিকূলতার মাঝেও নির্বাচনে দাঁড়ানোর সাহস পেয়েছেন।

তিনি বলেন, তার নির্বাচনে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্য একটাই—৫২-এর ভাষা আন্দোলন কোনো নেতা বা জমিদার করেনি, তা করেছেন সাধারণ ছাত্র ও খেটে খাওয়া মানুষ। তাঁর বাবা সেই আন্দোলনের একজন অবদানশীল সদস্য ছিলেন। যখন তোমার কেউ ছিল না, তখন ছিলাম আমি; এখন তোমার সব হয়েছে, পর হয়েছি আমি।

শনিবার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে নিজ বাসভবনের সামনে কেন্দ্রীয় নির্বাচনি অফিস উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের ৫ আগস্ট রাজপথে সাধারণ মানুষ আমাকে দেখেছে। তখন আমার দলের অন্য কোনো নেতাকে রাজপথে দেখা যায়নি। তাই আমি বলি—যখন তোমার কেউ ছিল না তখন ছিলাম আমি, এখন তোমার সব হয়েছে পর হয়েছি আমি। আমি কোনো গোষ্ঠীর আপন হতে চাই না, আমি আমার এলাকার মানুষের আপন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, যারা কিছুদিন আগেও কচুক্ষেতের নিচে ছিল, হ্যাজাক বাতি দিয়েও যাদের খুঁজে পাওয়া যেত না, তারাই আজ আমার নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে ভয় দেখায়। মাত্র ১৫ মাসে এত চর্বি হয়েছে যে তারা হুমকি দেয়। আমি হুমকি দিচ্ছি না, বিনীতভাবে অনুরোধ করছি—আমার কোনো নেতাকর্মীর গায়ে একটি পশমও স্পর্শ করলে তার জবাব দিতে হবে।

রুমিন ফারহানা বলেন, শেখ হাসিনার মতো শক্তিশালী প্রশাসনকেও আমি এক মুহূর্তের জন্য ভয় পাইনি। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অঙ্গীকার সুষ্ঠু নির্বাচন। তাই ব্যালটবাক্স ভরে কোনো বিশেষ মার্কাকে জেতানোর সুযোগ নেই। কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের গায়ে হাত দেওয়ার আগে আমাকে জবাব দিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠান শেষে প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আবজাল হোসেন, সরাইল সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি মো. ওসমান, উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আকবর হোসেনসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী। দোয়া পরিচালনা করেন শাহবাজপুর পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মুফতি শহিদুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবিব মনোনীত হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় রুমিন ফারহানাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।

ছাত্রদল রাজনীতি করতে না পারলে মেডিকেল বন্ধ: জুলফিকার জুয়েল

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার পরও রাজনৈতিক কর্মসূচি ও হুমকিসূচক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতার বক্তব্য ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠানটি ডাক্তার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাপ) আয়োজিত, ছাত্রদল সরাসরি আয়োজক ছিল না।

তবে অভিযোগ উঠেছে, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও এ কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে সাধারণ মেডিকেল শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল না বলেও দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের নজর এড়াতে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নার্সদের উপস্থিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফরিদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল মেডিকেল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হুমকিসূচক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, “ছাত্রদল রাজনীতি করতে না পারলে মেডিকেল কলেজ বন্ধ হয়ে যাবে।”

এ বক্তব্যের পরপরই মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য ও হুমকি দেওয়া অনভিপ্রেত এবং উদ্বেগজনক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা এখানে পড়াশোনা করতে এসেছি, রাজনীতির মাঠ বানাতে নয়। জোর করে রাজনীতিতে জড়ানোর চেষ্টা আমাদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ দুটোর জন্যই হুমকি।”

অভিযোগের বিষয়ে ফরিদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন জুয়েল বলেন, মেডিকেল প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের নামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, “ছাত্র রাজনীতি যদি বন্ধ হয়, তাহলে সেটা সবার জন্যই হতে হবে। কিন্তু আমরা দেখছি একটি গোষ্ঠী নির্বিঘ্নে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, অথচ প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। গণতান্ত্রিক দেশে এটা গ্রহণযোগ্য নয়। তাই বাধ্য হয়েই আজ প্রতিবাদ জানিয়েছি।”

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ ঘোষণা করে। সেই সিদ্ধান্তের পর এই বক্তব্য ও কর্মসূচি ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত বা মৌখিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শান্ত পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

দাঁড়িপাল্লার পক্ষে না থাকলে কোরআনের মাহফিল শোনার দরকার নেই: জামায়াত প্রার্থী

সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা জামায়াতের আমির মো. মিজানুর রহমান বলেছেন, ‘যারা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে থাকবে না তাদের কোরআনের মাহফিল শোনার কোনো দরকার নেই।’

সম্প্রতি উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের স্বরুপপুর কাশিনাথপুর আব্দুল মজিদ হাফিজিয়া ও দাখিল মাদ্রাসার উন্নয়নকল্পে আয়োজিত মসজিদের ইসলামি জলসায় বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) তার এমন একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে জামায়াত নেতা মিজানুর রহমানকে বলতে শোনা যায়, ‘যারা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে থাকবে না তাদের কোরআনের মাহফিল শোনার কোনো দরকার নাই। আমি অনুরোধ করতে চাই— কোরআন আর আল্লাহর আইনকে প্রতিষ্ঠার জন্য সবাই দাঁড়িপাল্লার পক্ষে থাকবেন।

তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। মুহূর্তের মধ্যে পক্ষে-বিপক্ষে হাজার মন্তব্য চলে আসে।

তবে জামায়াত নেতা মিজানুর রহমান তার এ বক্তব্যের বিষয়ে বলেন, ‘আমি মাস দুয়েক আগে ওই জলসায় বক্তব্য দিয়েছি। তবে ভিডিওতে বক্তব্যটি যেভাবে কেটে জোড়া লাগিয়ে এসেছে আমি সেভাবে বলিনি। আমি বলেছি সবাইকে কোরআনের পথে আসা বাঞ্চনীয়’।

সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, জামায়াতে ইসলামী বরাবরই ধর্মকে ব্যবহার করে, যেহেতু দলটির নামের সঙ্গে ইসলাম, সেহেতু তারা ইসলামকে ব্যবহার করে। যারা দ্বীনি আলেম তারা এ জন্যই জামায়াতে ইসলামীকে পছন্দ করে না। তারা মওদুদীবাদ কায়েম করতে চায়। আমাদের দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলমান, এটা একটা দুর্বলতম জায়গা। তারা এটা ব্যবহার করতে চায়। আর ইসলামি জলসায় মানুষ কোরআন-হাদিসের আলোচনা শুনতে যায়। সেখানে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া সমীচীন নয় বলে আমি মনে করি।

রুল খারিজ, সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া আরেকটি বিয়ে নয়

কোনো ব্যক্তির বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় সালিশি কাউন্সিলের লিখিত পূর্বানুমতি ব্যতীত ওই ব্যক্তি কোনো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন না —এমন বিধান বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে রায় দিয়েছেন বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। সম্প্রতি এ রায় প্রকাশিত হয়েছে।

২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়। মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর বহু বিবাহ সংক্রান্ত ৬ ধারায় বলা হয়েছে—

১) কোনো ব্যক্তির বিবাহ বলবৎ থাকিতে সে সালিশি কাউন্সিলের লিখিত পূর্বানুমতি ব্যতীত কোনো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইতে পারিবে না বা ঐরূপ অনুমতি ছাড়া অনুষ্ঠিত কোনো বিবাহ ১৯৭৪ সনের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেকরণ) আইনের অধীনে রেজিস্ট্রিকৃত হইবে না।

২) ১ নং উপধারা অনুযায়ী অনুমতির ও দরখাস্ত নির্ধারিত ফিস-সহ চেয়ারম্যানের নিকট নির্দিষ্ট দফতরে দাখিল করিতে হইবে ও উহাতে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণসমূহ এবং এই বিবাহের ব্যাপারে বর্তমানে স্ত্রী অথবা স্ত্রীগণের সম্মতি লওয়া হইয়াছে কিনা উহার উল্লেখ থাকিবে।

৩) ২ নং উপধারা অনুযায়ী দরখাস্ত গ্রহণ করিবার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারীকে ও বর্তমান স্ত্রী অথবা স্ত্রীগণের প্রত্যককে একজন করিয়া প্রতিনিধি মনোনীত করিতে বলিবেন। উক্তরূপে গঠিত সালিশি কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিবাহ প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত বলিয়া মনে করিলে যুক্তিযুক্ত বলিয়া মনে হইতে পারে এমন সকল শর্ত থাকিলে তৎসাপেক্ষে প্রার্থিত আবেদন মঞ্জুর করিতে পারেন।

৪) দরখাস্তের বিষয় নিষ্পত্তি করিবার নিমিত্ত সালিশি কাউন্সিল নিষ্পত্তির কারণাদি লিপিবদ্ধ করিবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে কোনো পক্ষ নির্দিষ্ট ফিস প্রদানক্রমে নির্দিষ্ট দফতরে সংশ্লিষ্ট সহকারী জজের নিকট পুনর্বিবেচনার নিমিত্ত দরখাস্ত দাখিল করিতে পারে; তাঁহার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে ও কোনো আদালতে এই সম্বন্ধে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।

৫) কোনো ব্যক্তি যদি সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত অন্য বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তবে সে—

ক) বর্তমান স্ত্রী অথবা স্ত্রীগণের তলবি ও স্থগিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করিতে হইবে। উক্ত টাকা উক্তরূপে পরিশোধ না করা হইলে বকেয়া ভূমি রাজস্বরূপে আদায়যোগ্য হইবে; এবং

খ) অভিযোগে অপরাধী সাব্যস্ত হলে এক বৎসর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা দশ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় প্রকার দণ্ডীয় হইবে।

২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি পারিবারিক জীবন রক্ষার বৃহৎস্বার্থে বহুবিবাহ আইনের বিষয়ে নীতিমালা কেন করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে স্ত্রীদের মধ্যে সম অধিকার নিশ্চিত করা ছাড়া আইন অনুসারে বহু বিবাহের অনুমতির প্রক্রিয়া কেন অবৈধ হবে না তাও জানতে চান হাইকোর্ট।

ওই রুলের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল খারিজ করে দেন। ফলে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত ধারা বহাল থাকল বলে জানিয়েছেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। তবে তিনি এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার কথা বলেছেন।

বিএফডিসি পরিদর্শনে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) পরিদর্শন করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

রবিবার উপদেষ্টা সেখানে গেলে বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি বিভিন্ন কার্যক্রম ও বিভাগভিত্তিক সুযোগ-সুবিধা- ডিজিটাল সার্ভিস, শ্যুটিং ফ্লোর, সাউন্ড স্টুডিও, এডিটিং ল্যাব উপদেষ্টাকে ঘুরিয়ে দেখান।

তিনি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রজেক্ট সম্পর্কেও উপদেষ্টাকে অবহিত করেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে গৃহীত বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা জানান।

উপদেষ্টা পরিদর্শন শেষে বিএফডিসির পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দেন।

তিনি চলমান অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিকল্পনাধীন কবিরপুর ফিল্ম সিটি প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন।

পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা অনলাইন শিডিউল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম অব বিএফডিসির উদ্বোধন করেন।

এ সময় মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের সদস্য তালিকা চেয়েছে ইসি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে গঠিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সদস্যদের তালিকা জরুরি ভিত্তিতে পাঠানোর জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

রবিবার ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন নির্দেশনাটি পাঠিয়েছেন।

এতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠান এবং নির্বাচন পূর্ব অনিয়ম রোধকল্পে সূত্রোক্তে পরিপত্রের মাধ্যমে (পরিপত্র-৯) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে উল্লিখিত সেলের কার্যপরিধি অনুযায়ী সেল কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রমের প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানো জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, সেলের কার্যক্রম অধিকতর গতিশীল করার লক্ষ্যে সদস্যদের তালিকা (মোবাইল নম্বরসহ) জরুরিভাবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়-১ শাখায় পাঠানোর জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

তফসিল অনুযায়ী, ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল শুনানি করবে ইসি। এরপর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি।

নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোট হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।