মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

ভারতে বাংলাদেশের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে, স্বীকার করল আইসিসি

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে গিয়ে খেলবে না বাংলাদেশ, এই অবস্থানে অনড় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে দু’দফায় আইসিসির কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বিসিবি। এবার সেই দাবির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকারোক্তি এলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) পক্ষ থেকেই।

বাংলাদেশ সরকারের স্পষ্ট অবস্থান হলো—বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটার, সমর্থক ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের বাইরে অন্য কোনো দেশে বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজনের দাবি জানানো হয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের ম্যাচগুলো আয়োজনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে বিসিবির পক্ষ থেকে।

এর আগে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর থেকেই ভারতে গিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। সরকারের নির্দেশে বিসিবিও স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ভারতে গিয়ে খেলা সম্ভব নয়। ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল তখন প্রশ্ন তুলেছিলেন, যেখানে একজন মুস্তাফিজুর রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না, সেখানে পুরো দল ও বিপুলসংখ্যক সমর্থকের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে?

আইসিসির কাছে নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরা হলেও শুরুতে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি সংস্থাটি। তবে আইসিসির ‘সিকিউরিটি টিম’ বিসিবির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সরাসরি তিনটি নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছে। বিষয়টি আজ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করেন ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

তিনি জানান, আইসিসির নিরাপত্তা টিমের চিঠিতে বলা হয়েছে-
১) দলে মুস্তাফিজুর রহমান থাকলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে,
২) বাংলাদেশি সমর্থকেরা জাতীয় দলের জার্সি পরে চলাফেরা করলে তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে,
৩) বাংলাদেশে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, নিরাপত্তা ঝুঁকিও তত বাড়বে।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে কার্যত আইসিসিই স্বীকার করে নিয়েছে যে, ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ দল ও সমর্থকদের জন্য বাস্তব নিরাপত্তা শঙ্কা রয়েছে। এমনকি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনকেও ঝুঁকির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা।

ড. আসিফ নজরুল বলেন,‘আইসিসির এই বক্তব্যই প্রমাণ করে যে বর্তমানে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার মতো পরিবেশ নেই। সেরা বোলারকে বাদ দিয়ে দল গঠন করা বা সমর্থকদের জার্সি না পরার শর্ত দেওয়া, এগুলো অবাস্তব ও অগ্রহণযোগ্য।’

তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, এই পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই ভারতে গিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলা সম্ভব নয়।

আইসিসি নিশ্চিত করলো ভারত সফরে উগ্রপন্থীদের দ্বারা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে

মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এর জেরে অন্তর্বর্তী সরকার দেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়।

শুধু তাই নয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানায়, নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারত গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে না।

আইসিসির নিরাপত্তা টিম বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) যে তিনটি পরামর্শ দেয়-

এক. বাংলাদেশ দলের তারকা পেস বোলার মোস্তাফিজুর রহমানকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে অন্তর্ভুক্ত না করা।

দুই. বাংলাদেশ দলের জার্সি ও পতাকা নিয়ে দর্শকদের চলাফেরায় ঝুঁকিপূর্ণ।

তিন. বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা ততটা ঝুঁকিপূর্ণ।

আজ সোমবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল, আইসিসির পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে তিনটি নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানান।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনে বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে : প্রধান উপদেষ্টাকে ইইউ ইওএম চিফ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশে একটি বড় সংখ্যক পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস আইজাবস এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

প্রেস সচিব বলেন, বৈঠকে নির্বাচন প্রস্তুতি, সমতা ভিত্তিক মাঠ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড), গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।

শফিকুল আলম বলেন, ইভারস আইজাবস বৈঠকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ঐতিহাসিক হিসেবে দেখছে। এ কারণেই তারা বড় আকারের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনেক দেশেই নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠায় না; কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের বড় বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব রয়েছে এবং বাংলাদেশকে তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু দেশ হিসেবে বিবেচনা করে।

প্রেস সচিব জানান, শেখ হাসিনার প্রায় সাড়ে ১৬ বছরের শাসনামলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একবারও বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠায়নি। ইভারস আইজাবস মনে করেন, আগের তিনটি সংসদ নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য হয়নি। তবে এবার নির্বাচনকে ঘিরে সর্বত্র ইতিবাচক মনোভাব ও উৎসাহ দেখা যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বৈঠকে আওয়ামী লীগ বা দলটির নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে গণভোট বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রেস সচিব বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে। তারা বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গেও কথা বলবে এবং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আশ্বস্ত করেছেন যে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট হবে অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সর্বত্র এখন নির্বাচনের জোয়ার চলছে।

নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা জানান, দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। এসব ক্যামেরা একটি কেন্দ্রীয় অ্যাপের মাধ্যমে উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও ঢাকা থেকে সরাসরি মনিটর করা যাবে। সব কেন্দ্রেই থাকবে সিসিটিভি ক্যামেরা। দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী থাকবে র‌্যাপিড রেসপন্স স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট চাওয়ার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার আইনগত মতামত নিয়েছে জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, শীর্ষ আইন বিশেষজ্ঞরা লিখিতভাবে জানিয়েছেন—এ বিষয়ে কোনো আইনগত বাধা নেই। তাই সরকার এ বিষয়ে প্রচার ও জনসচেতনতা কার্যক্রম চালাবে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক পাঠানো বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য একটি বড় স্বীকৃতি।

তবে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারের কথা উল্লেখ করেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, পতিত স্বৈরাচারের সমর্থকেরা নির্বাচন বিঘ্নিত করার চেষ্টা করতে পারে। এসব মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, নারী ও তরুণদের মধ্যে ভোট নিয়ে উচ্চমাত্রার উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। ফলে আসন্ন নির্বাচনে ভালো ভোটার উপস্থিতির আশা করছে সরকার।

ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশে কৃষির টেকসই উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হচ্ছে : কৃষি সচিব

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেছেন, বাংলাদেশের কৃষির টেকসই উন্নয়নে ২০৫০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হচ্ছে।

রংপুরের রোকেয়া কনভেনশন হলে রোববার আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।

কৃষি খাতকে আধুনিক ও টেকসইভাবে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল প্রণয়নের লক্ষ্যে রংপুরে বাংলাদেশের কৃষির রূপান্তর, আউট লুক ২০৫০ শীর্ষক আঞ্চলিক এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যােগে জাতিসংঘের এফএও’র সহায়তায় রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কৃষি সচিব বলেন, বাংলাদেশের কৃষির টেকসই উন্নয়নে ২০৫০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হচ্ছে। বর্তমান সরকার কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে চায়। এই লক্ষ্যে কৃষিক্ষেত্রে সব স্টেকহোল্ডারদের মতামত সংগ্রহ এবং সব সীমাবদ্ধতা বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

সচিব বলেন, আপনাদের সহযোগিতার আমরা যে পরিকল্পনাটি তৈরি করব সেটি আমাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে দিকনির্দেশনা দেবে।

তিনি বলেন, আমাদের আগামীর কৃষির সকল উন্নয়ন প্রকল্প এই পরিকল্পনাকে ভিত্তি করেই তৈরি করা হবে। এফএও’র প্রতিনিধি মার্টিন মাওগাসটিন বলেন, কৃষির পরিকল্পনায় প্রকৃতি ও পরিবেশকে বিবেচনায় আনতে হবে এবং কৃষির উন্নয়ন হতে হবে টেকসই উন্নয়ন।

কর্মশালায় সরকারি বেসরকারি সংস্থা, গবেষক, কৃষি কর্মকর্তা, উদ্যােক্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কৃষক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের কৃষির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।

প্রধান অতিথি কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান ছাড়াও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় জাতিসংঘের খাদ্য, কৃষি সংস্থা ফাওর প্রতিনিধি মার্টিন মাওগাসটিন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ রংপুরের জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার বক্তব্য রাখেন।

ভারতের সাথে পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করা হবে : বিএনপি মহাসচিব

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ভারতের সাথে পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে আলোচনার ভিত্তিতে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করা হবে। এছাড়াও তিস্তা পদ্মাসহ অভিন্ন নদী থেকে ভারতের কাছে হিস্যা আদায় করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টায় ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়িতে তার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

নির্বাচনের জন্যে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রয়েছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হলে পরে মাঠের পরিস্থিতি বুঝা যাবে।

অস্ত্র উদ্ধারসহ দেশের সার্বিক আইন শৃঙ্খলা বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা আশাবাদী যে নির্বাচনের আগেই আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফেরানোর সবরকম পদক্ষেপ নেয়া হবে।

তিনি বলেন, দেশের একজন ক্রিকেটারকে অপমানের মাধ্যমে দেশকে অপমান করা হয়েছে। আমরা ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তের সাথে একমত। তবে ছোটোখাটো বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার পথ খোলা রাখা উচিত।

তিনি আরও বলেন, আমি আগে ক্রিকেট খেলতাম ও বোর্ডের মেম্বারও ছিলাম। এখন ক্রিকেট খেলি না, রাজনীতি করি। এই ক্রিকেটের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক বিষয় জড়িত আছে। ক্রিকেটের সাথে আমাদের দেশের সম্মান জড়িয়ে আছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারেক জিয়া উত্তরাঞ্চল সফরে আসবেন এবং রংপুরের শহীদ আবু সাইদসহ গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের কবর জিয়ারত করবেন।

এক দশক পর জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু

প্রায় এক দশক পর মিয়ানমারের ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের গণহত্যা মামলার বিচার শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজি)। জাতিসংঘের এই আদালত ‘বৈশ্বিক আদালত’ (ওয়ার্ল্ড কোর্ট) নামেও পরিচিত।

নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে জাতিসংঘের আদালতের অবস্থান। আজ সোমবার দেশটির স্থানীয় সময় বেলা ১০টা থেকে (বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা) মামলার শুনানি শুরু হবে। আগামী ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে এই শুনানিপর্ব।

জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত যে মামলাটি নথিবদ্ধ করা হয়েছিল, সেই মামলার তদন্তকারী দল ‘ইউএন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’-এর প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

২০১৭ সালের জুলাই মাসে বাংলাদশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কয়েকটি পুলিশ স্টেশন ও সেনা ছাউনিতে বোমা হামলা হয়েছিল। সশস্ত্র রোহিঙ্গাগোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-কে এই হামলার জন্য দায়ী করে মিয়ানমারের সরকার। পরে এ হামলার জের ধরে ওই মাসেই বাংলাদেশ- মিয়ানমার সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

অভিযানের নামে সাধারণ রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে বর্মী সেনাবাহিনীর লাগাতার হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের সামনে টিকতে না পেরে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশসহ আশপাশের বিভিন্ন দেশে পালাতে শুরু করে। বাংলাদেশ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন সে সময়। তারা এখনও বাংলাদেশেই আছেন।

২০১৭ সালে বেসামরিক রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযানের পরপরই জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধানী দল এ ঘটনার তদন্ত করেছিল। সেই দলের তদন্ত প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর অভিযানকে ‘গণহত্যামূলক তৎপরতা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের অনুসন্ধানী দলের সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই ২০১৯ সালে বৈশ্বিক আদালতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলা করেছিল পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিায়া। সেই মামলারই শুনানি শুরু হচ্ছে সোমবার।

মিয়ানমারে যখন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছিল, সে সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অং সান সুচি। জাতিসংঘের অনুসন্ধানি দলের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি। গাম্বিয়া যখন মামলা করে, তখনও সেই মামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সুচি বলেছিলেন, গাম্বিয়ার অভিযোগ ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’।

২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হন সুচি এবং তার নেতৃত্বাধীন সরকার। বর্তমানে মিয়ানমারের কারাগারে আছেন তিনি এবং দুর্নীতির অভিযোগে সেনাবাহিনীর আদালতে তার বিচার চলছে।

বৈশ্বিক আদালতে দায়ের কৃত রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা নিকোলাস কৌজিমান রয়টার্সকে বলেন, “গণহত্যার প্রকৃত সংজ্ঞা কী, কীভাবে গণহত্যা সম্পর্কিত অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করা যায়ে এবং কীভাবে এ ধরনের অপরাধের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়— এসবের নিষ্পত্তিতে এই মামলা একটি নজির হয়ে থাকবে।”

গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে দেশজুড়ে ব্যাপক কর্মসূচি

গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে সরকারের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে ব্যাপক কর্মসূচির বাস্তবায়ন চলছে। তৃণমূলে গণভোটের বিষয়ে অস্পষ্টতা দূর করার জন্য মাঠ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃস্থানীয় প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে।

এর অংশ হিসাবে রোববার (১১ ডিসেম্বর) বরিশালে পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত হয় বিভাগীয় কর্মকর্তা সম্মেলন ও ইমাম সম্মেলন। এতে গণভোট বিষয়ে প্রশিক্ষণমূলক বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং অপর বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। আগামী কয়েক দিনে অন্য সব বিভাগেও একই ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে এসব কর্মসূচিতে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় এবং ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

আজ ১২ জানুয়ারি রাজশাহী, ১৪ জানুয়ারি রংপুর, ১৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম, ১৭ জানুয়ারি ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি ময়মনসিংহ , ২২ জানুয়ারি সিলেটে এবং ২৪ জানুয়ারি খুলনা বিভাগে বিভাগীয় পর্যায়ে ইমাম সম্মেলন ও বিভাগীয় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে।

মতবিনিময় সভায় বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ অন্যান্য সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দ, বিশিষ্ট সাংবাদিক, প্রেসক্লাবের সভাপতি/সম্পাদক, দোকান মালিক সমিতির সভাপতি/সম্পাদক, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সমিতি, এনজিও প্রধানগণ বা এনজিও অ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি/সম্পাদক, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।

মতবিনিময় সভায় গণভোট বিষয়ে ভোটারদেরদের মধ্যে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করতে বিভাগীয়-জেলা-উপজেলা ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সচেতন করা হবে।

রাফিনিয়ার নৈপুণ্যে সুপার কাপ জিতল বার্সেলোনা

রাফিনিয়ার জোড়া গোলে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে বার্সেলোনা। সৌদি আরবের জেদ্দায় রোববার রাতে অনুষ্ঠিত রুদ্ধশ্বাস এই ক্লাসিকো ফাইনালে শেষ হাসি হাসে কাতালানরা।

ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার রাফিনিয়া। শট নেওয়ার সময় পা হড়কে গেলেও বলটি রিয়াল ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকে পড়ে।
এতে অসহায় হয়ে পড়েন রিয়াল গোলরক্ষক থিবু কোর্তোয়া।

ফাইনালের প্রথমার্ধের শেষ সময় ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। যোগ করা সময়ে তিন মিনিটের ব্যবধানে তিনটি গোল হয়। ৩৬তম মিনিটে রাফিনহার একক আক্রমণে বার্সেলোনা এগিয়ে গেলেও যোগ করা সময়ে দুর্দান্ত ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় সমতা ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
এরপর রবার্ট লেভানদোস্কি বার্সেলোনাকে আবার এগিয়ে নিলেও প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে গোল করে ম্যাচ ২-২ করেন গঞ্জালো গার্সিয়া।

দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করে। শেষ পর্যন্ত রাফিনিয়ার দ্বিতীয় গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত রাফিনহা বলেন, ‘আমরা সবটুকু দিয়েছি।
এমন একটি জয়ের খুব প্রয়োজন ছিল আমাদের।’

এই জয়ের মাধ্যমে ১৬তমবারের মতো স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতল বার্সেলোনা, যা এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ। শিরোপা সংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের সংগ্রহ ১৩টি।

চোট কাটিয়ে ম্যাচের শেষ দিকে নামেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে বদলি হিসেবে নেমেও তিনি দলকে সমতায় ফেরাতে পারেননি।

ম্যাচ শেষে রিয়াল কোচ জাবি আলোনসো বলেন, ‘এটা শুধু একটি ম্যাচ। আমাদের দ্রুত সামনে তাকাতে হবে এবং মনোবল ফিরে পেতে হবে।’

সেমিফাইনালে বার্সেলোনা ৫-০ গোলে অ্যাথলেটিক বিলবাওকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। অন্যদিকে রিয়াল ২-১ ব্যবধানে জয় পায় অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে।

এই শিরোপা জয়ের মাধ্যমে লা লিগা চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আট মৌসুম পর আবারও সুপার কাপ জয়ের স্বাদ পেল বার্সেলোনা। বর্তমানে লিগেও চার পয়েন্ট ব্যবধানে রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে এগিয়ে শীর্ষে রয়েছে কাতালান ক্লাবটি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের তথ্য ইসিতে পাঠানোর নির্দেশ

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠান এবং নির্বাচন পূর্ব অনিয়ম রোধকল্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রমের প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল রবিবার ইসি সচিবালয়ের উপসচিব নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠিতে এ কথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠান এবং নির্বাচন পূর্ব অনিয়ম রোধকল্পে সূত্রোক্ত পরিপত্রের মাধ্যমে (পরিপত্র-৯) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে উল্লিখিত সেলের কার্যপরিধি অনুযায়ী সেল কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রমের প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে প্রেরণের জন্যও নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

ইসির নির্দেশনার আলোকে গঠিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের কার্যক্রম অধিকতর গতিশীল করার লক্ষ্যে সদস্যদের তালিকা (মোবাইল নম্বরসহ) জরুরিভাবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে প্রেরণের জন্য সকল রিটার্নিং অফিসারকে অনুরোধ করা হয়েছে।

ইসির পরিপত্র-৯ এ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠনের বিষয়ে বলা হয়েছে, নির্বাচনী এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠন হবে। এতে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন অফিসার, পুলিশ সুপার বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের প্রতিনিধি, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর মনোনীত কর্মকর্তা থাকবেন।

এই সেল নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে অবহিত করবে।

ভোটকেন্দ্র এবং ভোটকক্ষের বাহিরে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাসহ সকল বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার পরিচালনা জোরদার করতে হবে। চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রণয়নপূর্বক চাঁদাবাজ, মাস্তান ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা করতে হবে।

জামায়াত আমিরের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক স্টেট সেক্রেটারি অ্যালবার্ট টি গম্বিসের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। গতকাল জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মোর্স এইচ ট্যান, নর্থ আমেরিকার মুসিলম উম্মাহর সেক্রেটারি জেনারেল ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট ফার্মের পরিচালক আরমান চৌধুরী ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্যবসায়ী নেতা ফয়সাল আলম।

এ সময় জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার ড. জুবায়ের আহমদ, ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক সাইফুল্লাহ মানছুর, ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার আরমান আহমদ বিন কাসেম।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র প্রচার সহকারী মুজিবুল আলম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশে বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে আলোচনা করেন। এ ছাড়াও এ সময় বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরাজমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ এবং সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

নাহিদ ইসলামের সাক্ষাৎ : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। গতকাল সকালে জামায়াতের আমিরের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় তাঁরা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

সাক্ষাৎ শেষে নাহিদ ইসলামের ফেসবুক পেজে এডমিন পোস্টে জানানো হয়, ‘আজ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এ সময় তাঁরা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির সামগ্রিক চালচিত্র নিয়ে আলোচনা করেন।’

এর আগে গত শনিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান নির্বাচন পর্যবেক্ষক আইভার্স ইজাবসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের নাহিদ ইসলাম বলেছিলেন, ১২ জানুয়ারির মধ্যেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জোটের চূড়ান্ত আসন বণ্টনের ঘোষণা আসবে।