বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬

আসিয়ানের আগে প্রবাসীদের মেলা বসিয়েছেন টমাস ডুলি, কোন দেশ থেকে এসেছেন কে

আসিয়ান কাপের আগে জাতীয় ফুটবল দলে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, জায়ান আহমেদ ও ফাহামিদুল ইসলামদের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার আগেই অন্য প্রবাসী ফুটবলারদের পরখ করে দেখছেন বাংলাদেশ দলের কোচ টমাস ডুলি। প্রথম দফায় পাঁচজনকে ডেকেছেন তিনি। তাঁদের পারফরম্যান্স দেখে আরও কয়েকজনকে সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা আছে কোচের।.গত ২৮ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে জাতীয় দলের প্রস্তুতি ক্যাম্প। গতকাল দশম দিনে কিংস অ্যারেনায় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রবাসীদের ট্রায়াল নিয়ে ডুলি বলেছেন, ‘এই দলে তাদের (প্রবাসী ফুটবলার) অনেকেরই সুযোগ পাওয়ার সামর্থ্য আছে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে পারফরম্যান্সের ওপর। প্রত্যেক খেলোয়াড়ই জানে যে মূল বিষয়টা হলো পারফর্ম করা।’.প্রবাসীদের মধ্যে প্রথম দফায় ট্রায়ালে ডাক পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাইফ কেরাওয়ালা, ইংল্যান্ডের ইউসুফ আহমেদ, কানাডার ইয়াসার তাহমিদ, ইতালির দেবজিৎ সরকার ও জাপানের শুকি ইতোফুসা। তাঁদের মধ্যে সবার আগে ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেমি-প্রো ক্লাব ওয়াশিংটন অ্যাথলেটিকে খেলা কেরাওয়ালা। পরশু যোগ দিয়েছেন রোমানিয়ার চতুর্থ স্তরের ক্লাব সোমেসুল ওদোরেউয়ের ডিফেন্ডার ইয়াসার তাহমিদ। গতকাল যোগ দেওয়ার কথা ইতালির চতুর্থ স্তরের ক্লাব এফসি সার্নিসের উইঙ্গার দেবজিৎ সরকারের। ইউসুফ ও শুকিও দ্রুতই ক্যাম্পে যোগ দেবেন।. এই পাঁচজনের বাইরে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল থেকে দুজন প্রবাসী ফুটবলারকে ডাকতে পারেন ডুলি। দলসূত্রের খবর, সব মিলিয়ে ট্রায়ালে প্রবাসী ফুটবলারের সংখ্যা আট থেকে নয়জনে দাঁড়াতে পারে।.অবশ্য শুধু প্রবাসীদের নয়, আসিয়ান কাপের আগে পুরো দলকেই নতুন করে যাচাই করছেন ডুলি। গত জুনে অনুষ্ঠিত সান মারিনো ম্যাচের ক্যাম্পে অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ৪০ জন নতুন মুখকে দেখে দল বাছাই করতে হয়েছিল তাঁকে। এবার তাই খেলোয়াড়দের আরও সময় নিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে চান কোচ, ‘বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় এবার চমৎকার পারফর্ম করছে, যা আগেরবার দেখিনি। এসেই অল্প কয়েক দিনের মধ্যে ৪০ জন নতুন মুখ দেখে দল বাছাই করা কঠিন ছিল। কখনো খেলোয়াড়দের শতভাগ ফিটনেস থাকে না বা হালকা চোট থাকে। যারা যুব দল থেকে বা নতুন করে ফিরে এসেছে, তাদের মধ্যে কয়েকজন বেশ ভালো করছে।’. ক্লাব ফুটবলের ব্যস্ততার কারণে ক্যাম্পে এখনো সবাইকে একসঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে না। ক্লাব ফুটবলে খেলার কারণে হামজা ও শমিতরাও যোগ দেবেন পরে। খেলোয়াড়েরা আরও আগে ক্যাম্পে এলে প্রস্তুতি ভালো হতো বলে মনে করেন ডুলি। তবে খেলোয়াড়দের ক্লাব ফুটবলের ব্যস্ততাকে বাস্তবতা হিসেবেই দেখছেন তিনি। তা ছাড়া ইংলিশ ফুটবলে দীর্ঘদিন খেলা মিডফিল্ডার হামজাকে নতুন করে কিছু শেখানোর প্রয়োজন নেই বলেও মনে করেন ডুলি, ‘হামজার মতো পেশাদার খেলোয়াড়েরা জানে এই পর্যায়ের ফুটবলে তাদের ভূমিকা কী। তাদের নতুন করে কিছু শেখাতে হয় না। ও আসার সঙ্গে সঙ্গেই নিজের সেরাটা দেবে, কারণ সে একজন নেতা।’.কিংস অ্যারেনায় এখন চলছে প্রস্তুতির শেষ ধাপ। দীর্ঘ বিরতির পর খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফিট করে তোলা, চোটের ঝুঁকি কমানো এবং শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পরিকল্পনা সাজানোই ক্যাম্পে ডুলির মূল লক্ষ্য। মাঝে দুই মাসের বিরতি থাকায় খেলোয়াড়দের ওপর চাপ বাড়াতে সময় নিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কোচ, ‘জাতীয় দলের মতো পর্যায়ে খেলোয়াড়দের শারীরিকভাবে প্রস্তুত করতে সময় দিতে হয়। এতে খেলোয়াড়েরা ধীরে ধীরে অনুশীলনের চাপ নিতে পারে এবং চোটের ঝুঁকিও কমে আসে।’. চোটের কারণে সোহেল রানা ও তপু বর্মণ পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই। কুঁচকির চোটে ভুগছেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াও। তাঁকে নিয়ে সতর্ক ডুলি, ‘জামালের কুঁচকিতে ছোট একটা টিয়ার আছে। তাকে নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এটি বাড়লে সে কয়েক সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে চলে যাবে। আমরা অবশ্যই তাকে দলে চাই।’২৪ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়া ও হংকংয়ে শুরু হবে ফিফা আসিয়ান কাপ। বাংলাদেশ দল ইন্দোনেশিয়ায় যাবে ১৯ সেপ্টেম্বর। গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ তিন দলই র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে—সিঙ্গাপুর ৩৩ ধাপ, মালয়েশিয়া ৪৫ ধাপ ও স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া ৬৩ ধাপ। এর আগে ক্যাম্পের খেলোয়াড়দের যাচাই-বাছাই করেই ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত দল প্রস্তুত করতে চান ডুলি। সেই দলে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে প্রবাসীদের ট্রায়াল তাই হতে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এক পরীক্ষা।

অগ্ন্যুৎপাতের ছাই ছড়িয়েছে ২০ থেকে ৫০ হাজার ফুট উঁচুতে, ইন্দোনেশিয়ায় বন্ধ ৮ বিমানবন্দর

মাউন্ট আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকে ছড়িয়ে পড়া ছাইয়ের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় আটটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে। স্থানীয় সময় আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত বিমানবন্দরগুলো বন্ধ ছিল বলে জানিয়েছেন দেশটির পরিবহনমন্ত্রী দুদি পুরওয়াগান্ধী।আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরিটি ইন্দোনেশিয়ার জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মাঝামাঝি অবস্থানে। গত শুক্রবার গভীর রাত আগ্নেয়গিরিটি থেকে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। রাজধানী জাকার্তা ও আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকার আকাশ আগ্নেয়গিরি থেকে বের হওয়া ছাইয়ে ঢেকে গেছে। এর ফলে নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই আটটি বিমানবন্দর একে একে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।.পরিবর্তনশীল এই আবহাওয়ার কারণে এ পরিস্থিতি কখন ঠিক হবে, তা আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না।দুদি পুরওয়াগান্ধী, পরিবহনমন্ত্রী.গতকাল রোববার সকালে সবার আগে জাকার্তার সুকর্ণ-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করা হয়। এরপর একে একে বাকি বিমানবন্দরগুলো বন্ধ করা হয়।পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এর ফলে অনেক ফ্লাইটের যাত্রা বাতিল হয়ে গেছে। দুর্ভোগে পড়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি যাত্রী।.পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৫৮টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। কার্যক্রম বন্ধ রাখার কারণে মূলত সিঙ্গাপুরগামী ও সিঙ্গাপুর থেকে আসা ফ্লাইটগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া দোহা, সিডনি, কুয়ালালামপুরসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট চলাচলেও এর প্রভাব পড়েছে।পরিবহনমন্ত্রী দুদি পুরওয়াগান্ধী আজ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘পরিবর্তনশীল এই আবহাওয়ার কারণে এ পরিস্থিতি কখন ঠিক হবে, তা আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না।’.সবার আগে জাকার্তার সুকর্ণ-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করা হয়। এরপর একে একে বাকি বিমানবন্দরগুলো বন্ধ করা হয়। পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এর ফলে অনেক ফ্লাইট বাতিল হয়ে গেছে। দুর্ভোগে পড়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি যাত্রী।.জাকার্তার কাছাকাছি লামপুং ও পশ্চিম জাভা প্রদেশে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত একটি বিমানবন্দরসহ মোট আটটি বিমানবন্দর অন্তত আজ সকাল ৮টা ৫৯ মিনিট (গ্রিনিচ মান সময় ১টা ৫৯ মিনিট) পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলেও জানান তিনি।আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থার ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, আনাক ক্রাকাতোয়ার সর্বশেষ স্থানীয় সময় গতকাল রাত ৮টা ২৩ মিনিটে অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে।ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূকম্পনবিষয়ক সংস্থা বিএমকেজি তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ছাই আগ্নেয়গিরিটির জাভা দ্বীপের দিকের আকাশে ২০ হাজার ফুট (৬ হাজার মিটার) এবং সুমাত্রা দ্বীপের দিকের আকাশে ৫০ হাজার ফুট (১৫ হাজার মিটার) উঁচুতে ছড়িয়ে পড়েছে। জাভার বানটেন প্রদেশের কিছু অংশের আকাশেও ছাই ছড়িয়ে পড়েছে।.পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৫৮টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। কার্যক্রম বন্ধ রাখার কারণে মূলত সিঙ্গাপুরগামী ও সিঙ্গাপুর থেকে আসা ফ্লাইটগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া দোহা, সিডনি ও কুয়ালালামপুরসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট চলাচলেও এর প্রভাব পড়েছে।.গতকাল দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ছাইয়ের কারণে বাইরে চলাফেরার সময় লোকজনকে মাস্ক পরার আহ্বান জানিয়েছে।রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনতারা জানিয়েছে, স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় জাকার্তা ও ল্যাম্পুংয়ের স্কুলগুলোতে দূরশিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে।ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।.ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূকম্পনবিষয়ক সংস্থা বিএমকেজি তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ছাই আগ্নেয়গিরিটির জাভা দ্বীপের দিকের আকাশে ২০ হাজার ফুট (৬ হাজার মিটার) এবং সুমাত্রা দ্বীপের দিকের আকাশে ৫০ হাজার ফুট (১৫ হাজার মিটার) উঁচুতে ছড়িয়ে পড়েছে। জাভার বানটেন প্রদেশের কিছু অংশের আকাশেও ছাই ছড়িয়ে পড়েছে।.আনাক ক্রাকাতোয়ার অর্থ ক্রাকাতোয়ার সন্তান। প্রায় এক শতাব্দী আগে ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরি যে এলাকায় ছিল, সেখান থেকে এটি নতুন করে জেগে উঠতে শুরু করে। পুরোনো ক্রাকাতোয়া ১৮৮৩ সালে ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের ধারাবাহিকতায় নিজেই ধ্বংস হয়ে যায়। ওই অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট একাধিক সুনামিতে ৩৬ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।.আনাক ক্রাকাতোয়ার অগ্ন্যুৎপাত, ইন্দোনেশিয়ার পাঁচ বিমানবন্দরের তিন শতাধিক ফ্লাইট স্থগিত

৫ গোলেও তৃপ্ত নন ফ্লিক, চান আরও নিখুঁত ফুটবল

ভ্যালেন্সিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে লা লিগায় টানা চতুর্থ জয় তুলে নিয়েছে বার্সেলোনা। মেস্তায়ায় দলের এমন দাপুটে পারফরম্যান্সে দারুণ খুশি হান্সি ফ্লিক। পাঁচ গোলের প্রতিটিতেই ডাগআউট থেকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন জার্মান কোচ। তবে বড় ব্যবধানে জয়ের পরও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে রাজি নন তিনি। বরং এই ম্যাচেও উন্নতির জায়গা খুঁজে পেয়েছেন ফ্লিক। বিশেষ করে আরও বেশি পাস দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

'৫-০ জয়ের পর এসব বলা দরকার কি না জানি না, তবে আমরা সব সময়ই আরও ভালো করতে পারি। আরও বেশি পাস দিয়ে ম্যাচটা কীভাবে আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেটা নিয়ে আমাদের চেষ্টা করতে হবে। সামনে অনেক ম্যাচ। তাই সব সময় নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হবে,' ম্যাচ শেষে বলেন ফ্লিক।

ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল বার্সেলোনার হাতে। লামিনে ইয়ামালের জোড়া গোলের সঙ্গে ফেরমিন লোপেজ, রাফিনিয়া ও পেদ্রির গোলে বড় জয় নিশ্চিত করে তারা। এমন পারফরম্যান্সের পরও ফ্লিকের বার্তা পরিষ্কার, এখানেই থেমে গেলে চলবে না।

ফ্লিক বলেন, 'দারুণ একটি ম্যাচ ছিল। শুরু থেকেই আমরা ম্যাচটা নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। আধিপত্য দেখিয়েছি, আর আমি ঠিক এটাই দেখতে চাই। আমরা যা করেছি, তাতে আমি অবাক নই। কারণ অনুশীলনে আমরা যে মানের ফুটবল নিয়ে কাজ করি, সেটাই মাঠে দেখিয়েছি। প্রায় নিখুঁত একটি ম্যাচ ছিল।'

গোল করার ক্ষেত্রেও দলের সামর্থ্যে সন্তুষ্ট ফ্লিক। লিগের প্রথম চার ম্যাচে কোনো স্বীকৃত স্ট্রাইকার ছাড়াই ১৭ গোল করেছে বার্সেলোনা। তবে এই পরিসংখ্যান নিয়ে খুব বেশি ভাবতে চান না কোচ। তার কাছে জয় এবং তিন পয়েন্টই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্লিকের ভাষায়, 'আমার কাছে বিষয়টা শুধু তিন পয়েন্টের। তবে মাঠে আমাদের যথেষ্ট মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে। জায়গাও পাওয়া যায়, আর প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ করলে আমরা ভালোভাবে সেই জায়গাগুলো কাজে লাগাতে পারি। এটা দেখতে ভালো লাগে। বিশেষ করে ৩৪ ডিগ্রি তাপমাত্রার মধ্যেও আমরা ম্যাচটা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। আমরা খুশি।'

তবে দলের আক্রমণভাগ ভালো করলেও একজন স্বীকৃত স্ট্রাইকারের প্রয়োজন রয়েছে, এই অবস্থান থেকে সরে আসছেন না ফ্লিক, 'এতে আমাদের পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। আমাদের একজন স্ট্রাইকার দরকার। তবে আমি খুশি যে পেদ্রিও গোল করেছে। মাঠে থাকা প্রত্যেক খেলোয়াড়ই গোল করতে পারে। আমরা জায়গাগুলো কাজে লাগাই এবং গোলের সুযোগের অপেক্ষায় থাকি।'

দলের তরুণ খেলোয়াড়দের ক্ষুধাই ফ্লিকের সন্তুষ্টির আরেকটি কারণ। তবে মৌসুমের শুরুতেই বড় কিছু অর্জন হয়ে গেছে, এমন আত্মতুষ্টি যাতে দলে না আসে, সেদিকেও সতর্ক তিনি, 'সমর্থকেরা আমাদের পাশে আছে। আমরা তাদের জন্যই খেলি। আমরা কয়েকজন ভালো খেলোয়াড়ও দলে এনেছি। তবে খেলোয়াড়েরা খুবই ক্ষুধার্ত, আর তারা তরুণ। এটা কেবল শুরু। সামনে এখনও অনেক দীর্ঘ পথ যেতে হবে।'

ফুটবল খেলা দেখতে গ্যালারি ছাপিয়ে মাঠে, এমনকি গাছের ডালেও দর্শক

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলায় মানুষের ফুটবল উন্মাদনা ছিল দেখার মতো। ফুটবলপ্রিয় মানুষদের সেই বহিঃপ্রকাশই দেখা গেল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে।ম্যাচ ঘিরে স্টেডিয়ামের গ্যালারি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। বাউন্ডারির গ্রিলের ওপর, বাউন্ডারির বাইরে গাছের ডালে ডালে ফুটবলপ্রিয় দর্শকদের উপস্থিতি প্রমাণ করে ফুটবলের প্রতি মানুষের দারুণ ভালোবাসা।খেলার প্রথমার্ধেই সেই বাউন্ডারির গ্রিল টপকে মাঠের মধ্যে দৌড়ে এসে সাইড লাইনের পাশেও বসে পড়তে দেখা যায় বহু দর্শককে। পুলিশ ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মীরা তাঁদের ঠেকাতে ব্যর্থ হন। হাজার হাজার দর্শকে মুখর ছিল স্টেডিয়ামের পরিবেশ। টান টান উত্তেজনা ও আনন্দ–উল্লাসে ফেটে পড়ছিলেন দর্শকেরা। দর্শকদের সামাল দিতে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের হিমশিম খেতে হয়। .রোববার বিকেলে জেলা স্টেডিয়ামে (নতুন স্টেডিয়াম) জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার যৌথ আয়োজনে এ খেলা হয়। খেলায় পৃষ্ঠপোষকতা করে এরফান গ্রুপ। ফাইনাল খেলায় অংশ নেয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা ও গোমস্তাপুর উপজেলা দল। এতে চ্যাম্পিয়ন হয় গোমস্তাপুর উপজেলা দল। নির্ধারিত সময়ে কোনো দলই গোল দিতে পারেনি। খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। টাইব্রেকারে গোমস্তাপুর উপজেলা দল ৪-৩ গোলে সদর উপজেলা দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। গোমস্তাপুর দলের হয়ে গোল করেন আসমাউল, আবু বক্কর, মসিউর রহমান ও সাদ্দাম আলী। সদর উপজেলা দলের হয়ে গোল করেন উমর আলী, আহাদ আলী ও রহমতুল্লাহ।.খেলা দেখতে আসা ৬৮ বছর বয়সী চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার টিকরামপুর মহল্লার আশরাফুল হক বলেন, ‘ফুটবল হামাদের মনে ঢুইক্যা আছে। হামার প্রিয় খেলা ফুটবল। আইজ ফাইনাল খ্যালা। মন মানেনি হামার। তাই তো ছুইট্যা আইস্যাছি খ্যালা দেখতে। ছোরাগালাদের (তরুণ-যুবকদের) মধ্যে হুড়িয়া পারিনি, তাই মাঠের বাইরে গ্রিলের ধারে খেলা দেখছি। বয়সের লাইগ্যা গ্রিলের ওপরও উঠতে পারছি না। কিন্তু খ্যালা দেখ্যা হামি খুশি।’গোমস্তাপুর উপজেলার দোসিমনি কাঁঠাল গ্রাম থেকে ১০ বন্ধু মিলে মাইক্রোবাস ভাড়া করে খেলা দেখতে এসেছিলেন ব্যবসায়ী শাহজাহান আলী। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘নিজ উপজেলার সঙ্গে খেলা। নিজেকে কি আর ধরে রাখতে পারি? ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা আছে বলেই তো আমরা বন্ধুরা মিলে চলে এসেছি খেলা উপভোগ করতে। একটি দিন না হয় ব্যবসা করলাম না। কিন্তু ফুটবল খেলা ছাড়া যাবে না। খেলায় যে দলই জিতুক না কেন, উপভোগ করাটাই বড় কথা। তবে আমাদের উপজেলা চ্যাম্পিয়ন হলে খুশি হব বেশি।’.সদর উপজেলার রেহাইচর মহল্লার বাসিন্দা ওষুধ ও বিকাশ দোকানমালিক মো. ইসমাইলও এসেছেন খেলা দেখতে। মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করতে না পেরে বাউন্ডারির দেয়াল ও গ্রিল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন। তিনি বলেন, বাড়ির পাশে স্টেডিয়ামে খেলা হচ্ছে, তা–ও আবার ফুটবল খেলা। কিসের ব্যবসা! আজ খেলা দেখতে হবে, এটাই বড় কথা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ ফুটবলপ্রিয়। এককথায় পাগলপনা রয়েছে ফুটবলের প্রতি। তার প্রমাণ মাঠজুড়ে দর্শক দেখেই বোঝা যায়। খেলায় যে–ই জিতুক, সবার জন্যই ভালোবাসা।খেলায় ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হন সদর উপজেলা দলের মো. নাসির। পাঁচটি করে গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পান যৌথভাবে সদর উপজেলার ওমর আলী ও গোমস্তাপুরের লয়। ম্যান অব দ্য ফাইনাল নির্বাচিত হয়েছেন গোমস্তাপুরের আবু বক্কর। সেরা গোলকিপার নির্বাচিত হয়েছেন শিবগঞ্জ উপজেলার আরিয়ান। সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতে নেন নাচোল উপজেলার আলবেনুস কিসকু।খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী। বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া, এরফান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব আলম প্রমুখ।

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে—কেন মনে করছেন অনেকে

চোখ তুলে তাকানোরও যেন জো নেই! বিশ্ব পরিস্থিতি একেবারে লন্ডভন্ড। যেকোনো মুহূর্তে মাথার ওপর আকাশ ভেঙে পড়তে পারে। অন্তহীন যুদ্ধ, ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকট, কর্তৃত্ববাদের উত্থান, ভঙ্গুর গণতন্ত্র, উগ্র বর্ণবাদ ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিস্তার এবং আইনকানুনকে বুড়ো আঙুল দেখানোর উন্মাদনা—পশ্চিমা বিশ্বের নতুন রাজনৈতিক বছরের শুরুতেই এক গভীর কালো মেঘ জমেছে।এর ওপর আবার যোগ হয়েছে পর্বতসম বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য, ব্যক্তিস্বার্থ ও করপোরেট লোভ, বিভিন্ন সরকারের সীমাহীন ঋণের বোঝা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে চরম ঝুঁকিপূর্ণ জুয়াখেলা, জলবায়ুর দ্রুত অবনতি এবং হু হু করে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার। সব মিলিয়ে একেবারে কেয়ামতের আগাম আবহ তৈরি হয়েছে।.খামেনির জানাজা: পশ্চিমা মিডিয়ার দ্বিচারিতা এবং ইরান যখন অচেনা জগৎ.যেসব গণতান্ত্রিক নেতা আরও সুন্দর, নিরাপদ ও আশাব্যঞ্জক ভবিষ্যতের বার্তা দেন—যেমনটা যুক্তরাজ্যের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, ‘সম্ভাবনার এক নতুন ভোর’—তাঁরাও কিন্তু আন্তর্জাতিক এই চরম বাস্তবতা থেকে দূরে থাকতে পারছেন না।গত সপ্তাহে বৈদেশিক নানা টানাপোড়েনে বিশ্ব বন্ড বাজারে যে বড় ধরনের ধস নেমেছে, তাতে বার্নহ্যাম সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করতে না করতেই সুদের অস্বাভাবিক বোঝা আর বাড়তি ঋণের ফাঁদে পড়েছে।অন্যদিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের প্রথম বিদেশ সফরে তিনি যখন ইউক্রেন বেছে নিলেন, সেটি প্রতীকী হিসেবে বড় বার্তা দিলেও এক নির্মম সত্যকে উসকে দিয়েছে। ভ্লাদিমির পুতিনের আগ্রাসনের জোরালো প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে যুক্তরাজ্য এখন মূলত রাশিয়ার সঙ্গে এক পরোক্ষ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে এবং সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকিতে আছে।সুযোগ বুঝে আর্জেন্টিনাও যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা–দুর্বলতার দিকে নজর দিচ্ছে। বার্নহ্যামের সম্ভাবনার স্বপ্নে নিশ্চয়ই এমন অপ্রিয় পরিস্থিতি ছিল না।.বিশ্বের ভবিষ্যৎ কোনো রাজনৈতিক গুন্ডা, খুনি, একনায়ক কিংবা অহংকারী একচ্ছত্র অধিপতিদের হাতে নেই—এর নিয়ন্তা পৃথিবীর কোটি কোটি সাধারণ মানুষ। বিশ্ব শান্তিতে থাকবে কি না, তা নির্ভর করছে লাখ লাখ মানুষের পারস্পরিক সহানুভূতি, আত্মত্যাগ, বিশ্বাস আর প্রতিদিনের সাহসিকতার ওপর।.অনেকে মনে করছেন, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। যাঁরা এটিকে নিছক বাড়িয়ে বলা মনে করছেন, তাঁরা ২০২৬ সালের বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির খণ্ডচিত্রগুলোর দিকে একবার চোখ বোলাতে পারেন।কিয়েভ থেকে খোররামশাহর, কিংবা কোরদোফান থেকে কাচিন—পৃথিবীর যেখানেই চোখ যাবেন, রক্তক্ষয়ী সংঘাত কোথাও সাময়িক কমলেও চিরতরে থামার কোনো লক্ষণ নেই।ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসন এখন পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে। ইরানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কৌশল ব্যর্থ হলেও সেখানে প্রতিনিয়ত বোমাবর্ষণ আর হামলা চালানো থেমে নেই। দক্ষিণ সুদানে নৃশংস সব মানবতাবিরোধী অপরাধ অবাধে চলছে। মিয়ানমারে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ যুদ্ধ আরও তীব্র হচ্ছে।২০২৩ সালে ইসরায়েল যে বিধ্বংসী যুদ্ধ শুরু করেছিল, তা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ফিলিস্তিন, লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক, ইরান এবং উপসাগরীয় দেশগুলোকে মারাত্মকভাবে গ্রাস করেছে। সংঘাতের জেরে গৃহহীন ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আজ ইতিহাসের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।.সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, ভৌগোলিক অবস্থান আলাদা হলেও এসব যুদ্ধ এখন একটার সঙ্গে অন্যটা যুক্ত হয়ে এক নিয়ন্ত্রণহীন বৈশ্বিক মহাদাবানলে রূপ নেওয়ার চরম আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশ্বযুদ্ধের পর নির্মিত বৈশ্বিক নিরাপত্তাকাঠামোর যে প্রধান ভিত্তি ছিল, সেই জোটব্যবস্থা এখন ভেতর থেকেই ভেঙে পড়ছে।ইউরোপ ও ন্যাটো যখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই ট্রাম্প শুল্কারোপ, সৈন্য প্রত্যাহার আর নানা কটূক্তিতে তাদের কোণঠাসা করে তুলছেন। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এখন তলানিতে, অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের এই প্রভাব বিস্তারের মনোভাব ভেনেজুয়েলা আক্রমণ কিংবা গ্রিনল্যান্ড দখলের মতো বিপজ্জনক পরিণতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।ওদিকে উত্তর কোরিয়াকে মদদ দিচ্ছে চীন, উত্তর কোরিয়া রসদ দিচ্ছে রাশিয়াকে, রাশিয়া আবার রসদ জোগাচ্ছে ইরানকে, আর ইরান সেই সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে হিজবুল্লাহ ও হুতিদের হাতে।অন্যদিকে এশিয়ার জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্যতা কমতে থাকায় চীনের প্রভাব চোখ রাঙাচ্ছ। আর তাইওয়ানে এখন চীনা আগ্রাসনের আতঙ্ক তুঙ্গে, যা ট্রাম্পের সি চিন পিং তোষণনীতির কারণে আরও জটিল রূপ নিয়েছে।.ট্রাম্পের কূটনৈতিক ব্যর্থতার খেসারত দিচ্ছে বিশ্ব.সবখানেই যুদ্ধ, জলবায়ু বিপর্যয় আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নজিরবিহীন মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে, যার মাশুল হিসেবে শুরু হয়েছে লাগামহীন শরণার্থী সমস্যা, চরম খাদ্যসংকট আর মহামারির প্রাদুর্ভাব। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক তহবিলে মারাত্মক কাটছাঁট করায় জাতিসংঘের ত্রাণ তৎপরতা কার্যত ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম তীরের উর্বর ভূমিতে উগ্রপন্থী ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের তাণ্ডবে অবরুদ্ধ প্রায় ৯ লাখ ফিলিস্তিনি এখন তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সোমালিয়ায় রেকর্ড খরা ও এল নিনোর প্রভাবে কোটি কোটি মানুষ না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। কলম্বিয়া ও আফগানিস্তানের চিত্রও প্রায় একই রকম।আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের লঙ্ঘনও ব্যক্তিগত পর্যায়ে চরম সীমায় পৌঁছেছে। যেমন হংকংয়ে মুক্তচিন্তার প্রবক্তা ও প্রবীণ সাংবাদিক জিমি লাইকে দিনে ২৩ ঘণ্টা নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। চীনের কমিউনিস্ট শাসনের গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারবিদ্বেষী নীতির এক নির্মম শিকার তিনি।.বিশ্বের অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংকটের তুলনায় শেয়ার ও বন্ড বাজারের এই অস্থিরতা একেবারেই তুচ্ছ। ২০০৮ সালের মতো, নাকি তার চেয়েও ভয়াবহ কোনো ধস আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে? লক্ষণগুলো কিন্তু একেবারেই ভালো নয়। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণের পরিমাণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জাপানসহ বিশ্ব মোড়লদের কোষাগারও এখন চরম দেনায় লাল হয়ে আছে।নিয়ন্ত্রণহীন বাণিজ্যঘাটতি, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি আর এআই প্রযুক্তি সংস্থাগুলোয় ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ নির্দেশ করছে—একটি বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয় স্রেফ সময়ের ব্যাপার। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের হিসাবমতে, কেবল এনভিডিয়া, অ্যামাজন, গুগল, মেটা ও মাইক্রোসফটের সম্মিলিত বাজারমূল্য এখন যুক্তরাষ্ট্রের পুরো শেয়ারবাজারের প্রায় ২৩ শতাংশ!তার ওপর মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের নতুন করে শুরু করা সংঘাতের কারণে আগামী শীতে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে যাবে। এর চরম পরিণতি হতে পারে এক বৈশ্বিক মহামন্দা এবং রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা।সম্প্রতি নেপাল ও তিব্বতের ভয়াবহ বন্যা বিপর্যয়ের পর জলবায়ু সংকট ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের অস্তিত্বজনিত হুমকি নিয়ে নতুন করে বলার কিছু থাকে না। মানুষ নিজের হাতে যেসব ধ্বংস ডেকে আনছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো পারমাণবিক অস্ত্রের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার।বিশেষ করে কৌশলগত বা ‘ব্যাটলফিল্ড’ পারমাণবিক অস্ত্রের প্রসার ইউক্রেন বা ইরানের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে এদের ব্যবহারের ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।.ট্রাম্প-নেতানিয়াহু-পুতিনের ক্ষমতায় কি তাহলে ক্ষয় ধরেছে?.পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন ৯টি দেশই তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের ভান্ডার আধুনিক ও প্রসারিত করছে, যার অগ্রভাগে রয়েছে চীন। দক্ষিণ কোরিয়া ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলোও এখন নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে।এমনকি পারমাণবিক অস্ত্রের এই প্রতিযোগিতার বিস্তার এখন মহাশূন্যেও পৌঁছে গেছে। মনে হচ্ছে, নিজের ধ্বংস ডেকে আনার যে উন্মাদনা মানবজাতির মধ্যে ভর করেছে, তার যেন কোনো শেষ নেই।আলোকায়ন-উত্তর জামানার যে উদার ও মানবিক মূল্যবোধগুলোর ওপর আধুনিক সমাজ দাঁড়িয়ে ছিল, তা আজ চারদিক থেকে আক্রমণের শিকার। আইনের শাসন এখন কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ। পুতিন ও নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনায়াসে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছেন, অন্যদিকে ট্রাম্প ও তাঁর অনুগতরা এই আন্তর্জাতিক আদালতকেই ধুলোয় মিশিয়ে দিতে উঠেপড়ে লেগেছেন।ইউরোপজুড়ে উগ্র ডানপন্থী, বর্ণবাদী ও গোঁড়া রাজনীতির বিষবাষ্প দ্রুত ছড়াচ্ছে, যার সাম্প্রতিক প্রমাণ মিলেছে পূর্ব জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে। আগামী বছর ফ্রান্সেও একই ধরনের এক চরম রাজনৈতিক পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প তাঁর অনুগত কংগ্রেস ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সহায়তায় এক ‘সাংবিধানিক একনায়কতন্ত্র’ কায়েম করছেন, যা ভবিষ্যৎ নির্বাচনব্যবস্থাকে পুরোপুরি নস্যাৎ করে দেওয়ার চক্রান্ত। সুতরাং বিপদের ঘণ্টা বাজিয়ে দেওয়া যাক—মার্কিন গণতন্ত্র তথা পুরো পশ্চিমা গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য এখন এক চরম অস্তিত্ব সংকটে।.তাহলে উপায় কী? আশা রাখার মতো কি কিছুই অবশিষ্ট নেই?প্রথমত, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর বিশ্বব্যবস্থার মূল স্তম্ভগুলো চরম আঘাতপ্রাপ্ত হলেও এখনো একেবারে ভেঙে পড়েনি। জাতিসংঘ ও এর সহযোগী সংস্থাগুলো, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ন্যাটো বা জি-সেভেনের মতো পশ্চিমা গণতান্ত্রিক জোটগুলো এই ঝোড়ো হাওয়ার মধ্যেও কোনোমতে টিকে আছে।দ্বিতীয়ত, এই স্বৈরাচার আর একনায়কদের শাসনকাল শেষ হওয়ার পথে। এই ক্রোধান্বিত বৃদ্ধদের গন্তব্য এখন হয় বৃদ্ধাশ্রম, নয়তো জেলখানা কিংবা কবরস্থান। আমাদের আশা রাখতে হবে, তাঁদের রেখে যাওয়া ঘৃণা ও ভয়ের রাজনীতিও যেন তাঁদের সঙ্গেই চিরতরে বিদায় নেয়।আর শেষ কথা হলো, ভারতসহ বিশ্বের উদীয়মান ‘মধ্যম শক্তি’ ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর তরুণ প্রজন্ম আজ বর্তমান ব্যবস্থার বিরুদ্ধে রাজপথে সোচ্চার হচ্ছে। ভারতের ‘ককরোচ আন্দোলন’ যার একটি বড় উদাহরণ। তারা এই পুরোনো পচা ব্যবস্থাকে ধিক্কার জানাচ্ছে। তারা বিশ্বাস করে, পরিবর্তন সম্ভব এবং তারা নতুন এক সম্ভাবনার বিশ্ব গড়তে বদ্ধপরিকর।বিশ্বের ভবিষ্যৎ কোনো রাজনৈতিক গুন্ডা, খুনি, একনায়ক কিংবা অহংকারী একচ্ছত্র অধিপতিদের হাতে নেই—এর নিয়ন্তা পৃথিবীর কোটি কোটি সাধারণ মানুষ। বিশ্ব শান্তিতে থাকবে কি না, তা নির্ভর করছে লাখ লাখ মানুষের পারস্পরিক সহানুভূতি, আত্মত্যাগ, বিশ্বাস আর প্রতিদিনের সাহসিকতার ওপর। তাই ধৈর্য হারানো যাবে না। আর কোনো অবস্থাতেই হতাশ হওয়া যাবে না।সাইমন টিসডল দ্য গার্ডিয়ানের পররাষ্ট্রবিষয়ক বিশ্লেষক। দ্য গার্ডিয়ান থেকে সংক্ষেপে অনূদিত

যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে একজন নিহত

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুর সরদার গলি এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে ইমরান হোসেন (৪০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মো. জাকারিয়া (৩৩) নামের আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ধলপুর সরদার গলিতে এ ঘটনা ঘটে।গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক রাত ১২টার দিকে ইমরানকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত জাকারিয়া বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন।ঢাকা মেডিকেল সূত্রে জানা গেছে, ইমরানের মাথায় গুলি লেগেছিল। আর জাকারিয়ার গুলি লেগেছে পায়ে।.আহত জাকারিয়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, ছয় থেকে সাতজন হেলমেট পরা ব্যক্তি সেখানে এক যুবককে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এ সময় ‘ইমরান, দৌড় দিবি না’ বলে চিৎকার করছিলেন তাঁরা। হঠাৎ একটি গুলি এসে তাঁর পায়ে লাগে। ঘটনাস্থল থেকে দুর্বৃত্তরা একটি মোটরসাইকেল নিয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।ঢাকা মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, নিহত ইমরানের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ও এমফিল ডিগ্রি পেলেন ৩২ গবেষক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে ১৬ জন গবেষক পিএইচডি এবং ১৬ জন এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া এক গবেষককে ডক্টর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিবিএ) ডিগ্রি অর্জন করেছেন।গত ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের এক সভায় তাদের এসব ডিগ্রি অনুমোদন দেওয়া হয়। ঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন।

পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্তরা হলেন বাংলা বিভাগের অধীনে জাহিদ হাসান সরকার ও সানজীদা মাসুদ, আরবী বিভাগের অধীনে মাসরুরুল হক ও মো. ইসমাঈল হোসেন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধীনে শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধীনে তানজিয়া সিদ্দিকা, গণিত বিভাগের অধীনে মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম্স বিভাগের অধীনে আবু সাদাত মুহাম্মদ আশিফ, লোক প্রশাসন বিভাগের অধীনে মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম, পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধীনে ফারহানা হক, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধীনে আমেনা খাতুন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধীনে বিপুল কৃষ্ণ দাস, জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের অধীনে নীলিমা বর্মন, ডিজাস্টার সায়েন্স এন্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধীনে মো. গোলাম কিবরিয়া, শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের অধীনে দেবাশীষ পাল এবং পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধীনে মোহাম্মদ রিজওয়ানুল আহসান।

এমফিল ডিগ্রিপ্রাপ্তরা হলেন ইংরেজি বিভাগের অধীনে সুমাইয়া আলম, আরবী বিভাগের অধীনে মুহাম্মদ বদরুদ্দীন সাদী, নূরুল্লাহ ও মোহাম্মদ সাজেদ, উর্দু বিভাগের অধীনে আলপনা আকতার, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধীনে মো. আবদুল্লাহ আল মুবাশ্বির, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধীনে সাথী খাতুন, তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধীনে রোমানা রহমান, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধীনে দেওয়ান আফরিদা হামিদ, কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডারস বিভাগের অধীনে মো. জাহিদ হোসাইন খান, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধীনে এইচডি. রাজু আহমেদ, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধীনে মুহাম্মদ কবির হোছাইন ও আবদুল মান্নান, পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধীনে মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধীনে সাবিকুন্নাহার এবং খন্দকার নাহিদ হাসানো।এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের অধীনে মুহাম্মদ তামজিদ আল আরাফাতকে ডিবিএ ডিগ্রি দেওয়া হয়েছে।

অবসর ভাতা না পাওয়া এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য সুখবর

প্রবাসীর সন্তানসহ ৪ ধরনের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কোটা

বদলি হতে সাড়ে ৭ হাজার মাদরাসা শিক্ষকের আবেদন, বাড়ছে না সময়

ভোকেশনালে শিক্ষার্থী বাড়াতে হাট-বাজারে মাইকিংয়ের নির্দেশ

র‍্যাব পরিচয়ে মেসে ঢুকে জবি ছাত্রীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা

ষষ্ঠ-নবমের মূল্যায়ন কাঠামো চূড়ান্ত, যুক্ত হচ্ছে যেসব প্রবন্ধ

ছাত্রদের দিয়ে আলিমের উত্তরপত্র মূল্যায়ন, শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

ঢাবিকে সবুজ ক্যাম্পাস করার প্রস্তাব, উপাচার্যকে স্মারকলিপি

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেতে যেসব কাগজপত্র লাগবে

১৩৫৪ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও সংশোধন, পদোন্নতি ২৯৫ জনের

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কি সত্যিই ‘আলাদিনের চেরাগ’ লাগবে?

মালিককে গাছে বেঁধে মোটরসাইকেল নিয়ে গেল ছিনতাইকারীরা

স্বামী হত্যার আসামির মামলায় সন্তানসহ কারাগারে মা, এতিমখানায় দুই মেয়ে

এবারের মতো বেঁচে গেলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে ‘ফেল মারা’ অজি ব্যাটার

কক্সবাজারে বসে চীনা-তাইওয়ানিজ চক্রের সাইবার প্রতারণার ফাঁদ

পর্যটকদের আবাসনের আড়ালে কক্সবাজারের হিমছড়ির একটি রিসোর্টে গড়ে উঠেছিল আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণার একটি ‘সাইবার ল্যাব’। রিসোর্টের ছয়টি শব্দরোধী কক্ষ ও বড় হলরুমে বসানো হয়েছিল কম্পিউটার, মনিটর ও প্রায় দুই হাজার আইফোন। কনস্ট্রাকশন কোম্পানি প্রতিষ্ঠার নামে চক্রটি শুধু রিসোর্টই ভাড়া নেয়নি, পুরো নিয়ন্ত্রণও হাতে নিয়ে নিয়েছিল তারা। নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল নিজস্ব লোকবল ও সিকিউরিটি ব্যবস্থাও। চীনা ও তাইওয়ানিজ নাগরিকদের পরিচালিত ওই চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের হিমছড়িতে মেরিনা বিচ ভিলা রিসোর্ট ছাড়াও উখিয়ার ইনানী এলাকার আরো দুটি রিসোর্ট ও একটি আবাসিক ভবন ভাড়া নিয়েছিল চক্রটি। পুলিশ বলছে, চলতি বছরের মার্চ থেকে এসব স্থানে তিন শতাধিক চীনা ও তাইওয়ানিজ নাগরিক অবস্থান করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে তাদের সবাই চক্রটির সঙ্গে জড়িত কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ, জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) ও ঢাকা মহানগর পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার রামু থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে একজন তাইওয়ানের ও পাঁচজন চীনের নাগরিক। এ সময় আরো চারজন পালিয়ে যান।

অভিযানে মেরিনা বিচ ভিলার সাইবার ল্যাব থেকে ১,৯৩৮টি পুরোনো মডেলের আইফোন, ৫০টি মনিটর, ৪৪টি সিপিইউ, ৩০টি কিবোর্ড, দুটি ল্যাপটপ, দুটি প্রিন্টার, ৪০টি মাউস, একটি আইপিএস ও ২৪টি কানেকশন বোর্ড জব্দ করা হয়।

এ ছাড়া চীনের দুটি জাতীয় পতাকা, চীনা পুলিশের দুটি র‌্যাংকব্যাজ, পুলিশ প্রতীকযুক্ত একটি টাই, চারটি গ্রামীণফোন ও একটি রবি সিম, ১৫টি নোটখাতা এবং একটি ডায়েরিও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য, রিসোর্টটি ভাড়া নেওয়ার পর চক্রটি নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী এর অভ্যন্তরীণ কাঠামো পরিবর্তন করে। বড় হলরুমে তৈরি করা হয় কম্পিউটার ল্যাব এবং ছয়টি শব্দরোধী কক্ষ। রিসোর্টের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনাও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় তারা।

পুলিশের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘বাবর আলী’ নামে এক চীনা নাগরিক রিসোর্টগুলো ভাড়া নেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পুলিশ বলছে, তার প্রকৃত নাম ঝান ইউয়ান ফান। তার সহযোগী পাই লেডিং রিসোর্ট মালিকদের সঙ্গে ভাড়ার চুক্তি করেন।

আরেক চীনা নাগরিক উ ওয়েইপিং নিজেকে ‘জিন শিন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি’র মালিক হিসেবে পরিচয় দেন। বাংলাদেশে নির্মাণ কোম্পানি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি দাবি করলেও পুলিশের অনুসন্ধানে ওই নামে কোনো কোম্পানির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

পুলিশের দাবি, বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান ও রিসোর্ট ভাড়ার তথ্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে জানানো হয়নি। বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশিদের পাসপোর্ট ও ভিসার কপি সংশ্লিষ্ট বিশেষ শাখায় জমা দেওয়ার বিধান থাকলেও এসব নাগরিকের ক্ষেত্রে তা পাওয়া যায়নি।

পুলিশ সূত্র জানায়, চক্রটির সন্ধান পেতে তিন দফা অভিযান চালাতে হয়েছে। প্রথম দফায় গত ২৫ আগস্ট মেরিনা বিচ ভিলায় অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা কয়েকজন বিদেশি নাগরিক পেছনের সৈকত দিয়ে পালিয়ে যান। পরে রিসোর্টের হলরুম থেকে বিপুলসংখ্যক আইফোনসহ অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। পরদিন ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাসের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রিসোর্টটি পরিদর্শন করে। তারা সাইবার ল্যাব, শব্দরোধী কক্ষ ও বিদেশি নাগরিকদের ব্যবহৃত বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন। ২৮ আগস্ট পুলিশের অপরাধ তদন্তের বিশেষায়িত ইউনিট সিটিটিসির উপমহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি দল রিসোর্টটি পরিদর্শন করে।

পুলিশের এজাহারে বলা হয়েছে, সিটিটিসির প্রাথমিক মতামত অনুযায়ী, চক্রটি কৃত্রিম বাজার বিশ্লেষণ, ভুয়া প্রলোভন দেখানো, নকল বা ভুয়া বাণিজ্য প্ল্যাটফর্মে অর্থ জমা নেওয়া, ‘এক্সিট ফ্রড’ ও অর্থ আত্মসাতের মতো অনলাইন আর্থিক প্রতারণায় জড়িত থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কর্মকাণ্ড নিশ্চিত করতে জব্দ করা আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা প্রয়োজন।

মেরিনা বিচ ভিলায় অভিযানের পর কয়েকজন বিদেশি নাগরিক কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করছেন—এমন তথ্য পায় পুলিশ। পরে কলাতলী এলাকার দুটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন, তাইওয়ানের ওয়েই ছিং ওয়েন এবং চীনের সু ইয়াংফান, ইয়ান চ্যাংশেং, সু হাইয়াং, উ চিয়ানশিয়ং ও ঝাং ঝেমিং। তাদের কাছ থেকে ছয়টি মোবাইল ফোন, পাঁচটি পাসপোর্ট ও তিনটি পরিচয়পত্র জব্দ করা হয়। পলাতক চারজন হলেন ঝান ইউয়ান ফান ওরফে বাবর আলী, পাই লেডিং, উ জিপিং ও জিয়ান ঝাং।

এই ঘটনায় রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক মিন্টু দত্ত বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার সাইবার অপরাধ আইনে মামলা করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার ছয়জন, পলাতক চারজনের পাশাপাশি ২৫০ থেকে ৩০০ জন চীনা ও তাইওয়ানিজ নাগরিককে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন কয়েকটি রিসোর্টে দুই থেকে তিন শতাধিক চীনা ও তাইওয়ানিজ নাগরিক অবস্থান করছিলেন। তাদের সবাই কথিত অপরাধের সঙ্গে জড়িত, নাকি একটি অংশকে ব্যবহার করে নেটওয়ার্ক পরিচালনা করা হচ্ছিল—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ বলছে, কক্সবাজার জেলা বিশেষ শাখার (ডিএসবি) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রামু উপজেলার হিমছড়ির মেরিনা বিচ ভিলা রিসোর্ট এবং উখিয়ার ইনানী এলাকার ড্রিম হলিডে রিসোর্ট, অর্কিড-ব্লু রিসোর্ট ও ইলিয়াস ব্রাদার্স নামের আবাসিক ভবনে বিপুলসংখ্যক চীনা ও তাইওয়ানের নাগরিকের অবস্থানের বিষয়টি সামনে আসে।

রামু থানার ওসি এ কে ফজলুল হক বলেন, বিদেশিরা কী উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে এসেছিলেন, রিসোর্টে কী ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন এবং ‘জিন শিন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি’র দাবির পক্ষে বৈধ কাগজপত্র আছে কি না—এসব বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) অহিদুর রহমান বলেন, ঢাকা থেকে পাওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্য ও রামু থানায় করা অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ ও আন্তর্জাতিক অনলাইন আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে মামলা হয়েছে।

গত শুক্রবার বিকেলে গ্রেপ্তার ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পলাতকদের গ্রেপ্তার এবং পুরো নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে সর্বশেষ অবস্থা জানতে কক্সবাজার পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) অহিদুর রহমানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ অহিদুর রহমান জানান, তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে পারবেন না। তার ওপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিষেধ রয়েছে।

চীনা নাগরিকদের হোটেল ভাড়া দেওয়া এবং তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে না জানানোর বিষয়ে জানতে মেরিনা বিচ ভিলাস রিসোর্ট ও ইনানীর ড্রিম হলিডে রিসোর্টের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের সব মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে, হোটেল অর্কিড ব্লু-এর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাদের হোটেলে ২৪ জন চীনা নাগরিক ছিলেন। তাদের বিষয়ে চুক্তিপত্রসহ সব কিছু ডিজিএফআইসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছিল। ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ওরা চীনা নাগরিক; আমাদের হোটেলে থাকতেন। এখানে তারা কোনো কাজকর্ম করতেন না। শুনেছি, অন্য কোনো হোটেলে নাকি কম্পিউটার ল্যাব করেছেন।

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

হরমুজের বাইরেও ‘নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল’ ঘোষণা করবে ইরান, জাহাজ ঢুকলেই নিষেধাজ্ঞা

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজাই বলেছেন, কয়েক দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালির বাইরে একটি নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল’ ঘোষণা করবে ইরান।রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনির এই সামরিক উপদেষ্টা এ কথা বলেন।মহসেন রেজাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেখান থেকে নৌ অবরোধ শুরু করেছে, সেখান থেকে এই নতুন নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল শুরু হবে। অঞ্চলটি উপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়ানো থাকবে।.সতর্ক করে দিয়ে মহসেন রেজাই আরও বলেন, কোনো জাহাজ নতুন এ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ঢুকলে সেটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হবে।হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন একটি আন্তর্জাতিক করিডর নির্ধারণ করা হয়েছে। ওমানের সঙ্গে আলোচনা করে এটা ঠিক করা হয়েছে বলে জানান মহসেন রেজাই।রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে মহসেন রেজাই বলেন, ‘নতুন করিডরটি পরিচালনা করবে ইরান। ওমানের ভাইদের সঙ্গে আলোচনা করেই এটা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে ঘোষণা আসবে।’.হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে পিছু হটবে না ইরান, নেপথ্যে কী.গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এর পর থেকেই তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক–পঞ্চমাংশ সাধারণত এ পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। এটার প্রভাব পড়েছে জ্বালানির বাজারে। বেড়ে গেছে দাম।এদিকে হরমুজ প্রণালির নাম পাল্টে ফেলার কথা ভাবছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর, প্রণালিটির নাম পাল্টে নিজের নামে, অর্থাৎ ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।.হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে না যে তিন কারণে.হরমুজ প্রণালির নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখতে চান ট্রাম্প

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ১০০ শিক্ষককে ১ লাখ করে পুরস্কার দেবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের উপযুক্ত সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উপলক্ষে ১০০ জন শিক্ষককে ১ লাখ টাকা করে পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আজ রোববার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে আয়োজিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম সভা শুরুর আগে সাংবাদিকদের এ পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।.শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন ও অগ্রগতির মূল চালিকা শক্তি আমাদের শিক্ষক সমাজ। যাঁরা মাঠে চমৎকার কাজ করছেন, তাঁদের কাজের সঠিক স্বীকৃতি দেওয়া, পুরস্কৃত করা এবং উৎসাহিত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে আমরা দেশের শিক্ষকদের এই অবদানকে স্মরণ ও সম্মানিত করতে চাই।’ তিনি জানান, এ জন্য সেরা শিক্ষক নির্বাচনে একটি নীতিমালা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। আগে মাত্র ১২ জন শিক্ষককে ২ লাখ টাকা করে মোট ২৪ লাখ টাকা দেওয়া হতো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করা। এরই আলোকে সরকার এই পরিধি বাড়িয়ে সারা দেশের দক্ষ ও গুণী শিক্ষকদের মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাছাইকৃত ১০০ জন শিক্ষককে ১ লাখ টাকা করে পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়া হবে।.একটানা এক ঘণ্টাও পড়তে না পারা আরিফের যুক্তরাষ্ট্র পড়ার স্বপ্ন পূরণ হুমায়ূন আহমেদের বইয়ে

.শিক্ষকদের আচরণবিধি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকেরা নিজেদের শিক্ষিত আচরণ দিয়েই সমাজকে আলোকিত করেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অযাচিত কর্মকাণ্ড রোধ ও শিক্ষাব্যবস্থার ভাবমূর্তি রক্ষায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও নির্দেশিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বকেয়া পাওনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০১৬ সাল থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত শিক্ষকদের নিজেদের কন্ট্রিবিউশনের বকেয়ার অংশ ইতিমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রদেয় বাকি অনুদানের অর্থও ক্রমান্বয়ে পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।.কলেজে ভর্তিতে আবেদন চলছে, করবেন যেভাবে.পে স্কেলে সরকারি কর্মচারীরা যে হারে সুবিধা পাবেন, শিক্ষকেরাও সেই অনুপাতেই পাবেনসভায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক জানান, নতুন পে স্কেলে বেসরকারি শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কাজ চলছে। সরকারি কর্মচারীরা যে হারে সুবিধা পাবেন, শিক্ষকেরাও সেই অনুপাতেই সুবিধা পাবেন।সভায় জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।.প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের বেতন কত হবে নতুন বেতনকাঠামোয়