রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

ওসমান হাদি হত্যা : সিআইডি’র তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ২৫ জানুয়ারি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এই তারিখ ধার্য করেন।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে আনুমানিক দুপুর ২টা ২০মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুষ্কৃতকারীরা ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১২০(বি)/৩২৬/৩০৭/১০৯/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। আহত ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে গত ২০ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ।

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ১৭ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ। তবে ডিবির দেওয়া চার্জশিটে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করেন মামলার বাদী। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

ডিবির দাখিল করা চার্জশিটে মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে এবং বাকি ৬ জন পলাতক রয়েছেন।

মামলার পলাতক আসামিরা হলেন- প্রধান শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ, তার সহযোগী আলমগীর হোসেন, রাজধানী মিরপুরের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফিলিপ স্মাল পিলিপস, মুক্তি আক্তার ও ফয়সালের বোন জেসমিন আক্তার।

অন্যদিকে, কারাগারে আটক থাকা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা এবং শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু।

এছাড়া রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের সহযোগী মো. কবির, অভিযুক্তদের ভারতে পালাতে সহায়তাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম, কাউন্সিলর বাপ্পির বোনজামাই আমিনুল ইসলাম রাজু এবং সিপুর ঘনিষ্ঠ ফয়সালও (ফয়সাল করিম মাসুদ নন) বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, ডিবির দাখিল করা চার্জশিটে মোট ৭৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছিল। বর্তমানে সিআইডি মামলাটির অধিকতর তদন্ত করছে।

শিক্ষাকে আনন্দময় করতে পাঠ্যক্রম সংস্কারের ওপর জোর শিক্ষা উপদেষ্টার

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেছেন, মেধা মানে কেবল অংক কষা বা বিজ্ঞানের জটিল সমস্যার সমাধান নয়, বরং মানুষের অন্তর্নিহিত সুপ্ত গুণের বিকাশ ঘটানোই শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য।

তিনি শিক্ষাকে কেবল বই ও পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একে আনন্দময়, বাস্তবমুখী ও জীবনঘনিষ্ঠ করে তোলার জন্য পাঠ্যক্রম ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব পুনর্বিবেচনার ওপর জোর দিয়েছেন।

তিনি আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬’ এর পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে বইয়ের চাপে শিশুরা ভারাক্রান্ত। এর ফলে তাদের অন্যান্য গুণাবলী বিকাশের সুযোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এখন সময় এসেছে বই ও পরীক্ষার ওপর অতি-নির্ভরশীলতা কমিয়ে সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার।

তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন আকর্ষণীয় পরিবেশে গড়ে তুলতে হবে যেন শিক্ষার্থীরা সেখানে যেতে মুখিয়ে থাকে।

শহর ও গ্রামের স্কুলের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে উপদেষ্টা বলেন, সুযোগের সমতা প্রতিটি শিক্ষার্থীর অধিকার। একেক শহরে কেবল একটি বা দুটি স্কুলই ভালো হবে—এই ধারণা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি স্কুলকেই উন্নত ও মানসম্মত করা হবে যাতে গ্রাম বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেধাবীরা তাদের প্রতিভার পূর্ণ বিকাশের সুযোগ পায়।

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পরিসংখ্যান তুলে ধরে ড. রফিকুল আবরার জানান, এবারের বিজয়ীদের মধ্যে ৫৭ শতাংশই নারী এবং ৪৩ শতাংশ পুরুষ।

বিশেষ করে ভাষা, রচনা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় মেয়েদের এই নিরঙ্কুশ আধিপত্যের প্রশংসা করে তিনি বলেন, নারীরা আজ নিজের যোগ্যতায় দৃঢ় অবস্থান করে নিচ্ছে। আমাদের মন-মানসিকতা থেকে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতে হবে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতেই সবাইকে মূল্যায়ন করতে হবে।

বক্তৃতার এক পর্যায়ে উপদেষ্টা নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, স্কুল জীবনে সহপাঠীদের অনুপ্রেরণাতেই তিনি আবৃত্তির প্রতি আগ্রহী হয়েছিলেন। বক্তব্যের শেষে তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কতিপয় চরণ আবৃত্তি করে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম ও আত্মমর্যাদাবোধে উজ্জীবিত করেন।

অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে আগত শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। এতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক প্রতিনিধি এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

কুষ্টিয়ায় জামায়াত আমিরের মৃত্যুতে বিএনপির শোক

কুষ্টিয়ায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে জেলা জামায়াতের আমির আবুল হাশেমের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে বিএনপি।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার স্বাক্ষরিত এক শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়।

শোকবার্তায় বলা হয়, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলা শাখার আমির অধ্যাপক মাওলানা আবুল হাশেম আজ বিকাল আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটের সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুতে আমরা কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। আমরা মনে করি, তাঁর মৃত্যুতে কুষ্টিয়াবাসী একজন সজ্জন রাজনীতিবিদকে হারালো।

এতে আরও বলা হয়,কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

এরআগে, সোমবার বিকেলে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি আমির হামজাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে অসুস্থ হয়ে মারা যান অধ্যাপক আবুল হাশেম। তার আকস্মিক মৃত্যুতে কুষ্টিয়া জেলা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এনসিপি নেতা পরিচয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, আটক ৩

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) খুলনা জেলা শাখার সদস্য পরিচয় দিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকরা হলেন- মেহেদী হাসান মিরাজ, আল নাঈম ও মিরাজ গাজী।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে সোনাডাঙ্গা থানাধীন নেসার উদ্দিন সড়কের একটি বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোনাডাঙ্গা মডেল থানাধীন নেসার উদ্দিন সড়কের বাসিন্দা শাহনাজ পারভীনের বাবা এস এম শফিকুল ইসলাম সানা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য কয়েকদিন আগে কয়রা থেকে খুলনায় আসেন।

সোমবার দুপুরে তিন যুবক ওই বাড়িতে যান। তাদের একজন নিজেকে এনসিপির নেতা পরিচয় দিয়ে ঐ বাড়িতে আওয়ামী লীগের এক নেতা আত্মগোপনে রয়েছেন দাবি করেন ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

এ সময় তারা শাহনাজ পারভীন নামের ঐ নারী পরিস্থিতি বুঝতে পেরে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

এ বিষয়ে সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়েছে। আটক তিনজনের মধ্যে মিরাজ নামের একজন নিজেকে এনসিপি খুলনা জেলা শাখার সদস্য বলে পরিচয় দিয়েছেন। তারা ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জুলাই অভ্যুত্থান: চানখারপুলে ৬ শিক্ষার্থী হত্যা মামলার রায় আজ

শেখ হাসিনার পতনের দিন চব্বিশের ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখারপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় ঘোষণা করা হবে। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের এটিই প্রথম মামলা। তবে রায়ের দিক থেকে দ্বিতীয়। এ মামলায় মোট আসামি আটজন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার চারজন। বাকিরা পলাতক।

গ্রেপ্তাররা হলেন- শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ‍ও মো. নাসিরুল ইসলাম।

পলাতক চার আসামি হলেন- ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।

প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়। রায়ের পুরো কার্যক্রম বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ২৬ জন। মোট ২৩ কার্যদিবসে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন ট্রাইব্যুনাল। সাফাই সাক্ষ্য হিসেবে আরশাদসহ আরও তিনজনের জবানবন্দি নেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় যুক্তিতর্ক।

জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও এ মামলায় জবানবন্দি দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনালের সাক্ষীর ডায়াসে দাঁড়িয়ে আসামিদের শাস্তি চেয়েছেন তিনি।

গত বছরের ১১ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ আনাসের বাবা সাহরিয়ার খান পলাশ। পর্যায়ক্রমে শহীদ শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদের বাবা শেখ জামাল হাসান, আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি, প্রত্যক্ষদর্শী রাব্বি হোসেন, ব্যবসায়ী আবদুল গফুর, রাজধানীর নিউমার্কেটের দোকানের কর্মচারী মো. টিপু সুলতান, নৌবাহিনীতে মালামাল সরবরাহকারী মো. মনিরুজ্জামান, শহীদ রাকিব হোসেন হাওলাদারের বাবা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, বড় ভাই রাহাত হাওলাদার, শহীদ ইয়াকুবের মা রহিমা আক্তার, তার প্রতিবেশী চাচা শহীদ আহমেদ ও শহীদ মো. ইসমামুল হকের ভাই মহিবুল হকও সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্রাইব্যুনালে এসে। তারা সবাই হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন।

যুক্তিতর্কে সব আসামির সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে প্রসিকিউশন। তবে প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে নিজের মক্কেলদের বেকসুর খালাস চেয়েছে আসামিপক্ষ। এ মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামি নিজেদের খরচে আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন। পলাতক থাকায় হাবিবুরসহ চারজনের হয়ে লড়ছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গুলি চালায় পুলিশ। এতে বহু হতাহতের ঘটনার পাশাপাশি শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন।

২০০৮ এর মতো না, নির্বাচন হবে ১৯৯১ সালের মতো: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হলে মেনে নেওয়া হবে না। প্রতিহত করা হবে। ২০০৮ এর মতো না, নির্বাচন হবে ১৯৯১ সালের মতো।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সবার আস্থা অর্জন করতে না পারলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। জনগণ সব দেখছে। কমিশন প্রভাবিত হলে আমরা ১০ দলীয় জোট মাঠে নামতে বাধ্য হব।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে এর দায় সরকারকে নিতে হবে। আমরা নির্বাচনের মাঠে থাকতে চাই, কমিশন যেন আন্দোলনের মাঠে নামতে বাধ্য না করে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, অনিয়ম চলতে থাকলে দল ও জোটের পক্ষ থেকে ভিন্ন পথে যাব। আগের মতো পরিকল্পিত নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না।

আমরা আবারও নির্বাচন কমিশনের কাছে যাব। দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপিদের প্রার্থিতা বৈধ রেখেছে। বিএনপি কমিশনে গিয়ে ও ছাত্র সংগঠন সামনে গিয়ে চাপ প্রয়োগ করে রায় প্রভাবিত করেছে। একটা দলের চাপে পড়ে আইন থেকে সরে এসেছে। আদালতে যাব।

আদালতেও চাপ প্রয়োগ করছে। আমরা চাই ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকরা আইন খেলাপ করে সংসদে যাবে না। এনসিপি নেতা বলেন, তারেক রহমান ও অন্য দল ছবি দিয়ে প্রচারণা করছে সেখানে। আমরা গণভোটের প্রচার করছিলাম। সরকারও সংস্কারের পক্ষে প্রচার করছে। শোকজ দিয়ে ইসি গণভোটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। আমরা চাইনা কারোর ওপর চাপ দিয়ে প্রভাবিত করতে। দলের পক্ষ থেকে অতীতে নির্বাচন কমিশনের কি হয়েছিল তা ইসি দেখেছে।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি তারেক রহমানের প্রশাসনকে চাপ করা, সংস্কার বিপক্ষে থাকা তার পরিকল্পনার অংশ কি না। ঋণখেলাপি দ্বৈত নাগরিকদের সংসদে নেওয়া তার পরিকল্পনার অংশ কিনা স্পষ্ট করা দরকার।

তারেক রহমানের সঙ্গে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা ৫৬ মিনিটে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এসে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ড. মাহদী আমিন এবং বিএনপির চেয়ারম্যানের প্রেসসচিব সালেহ শিবলী।

এ সময় ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সৌজন্য সাক্ষাতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

‘গণভোটের বিষয়ে যারা প্রশ্ন তুলছে, তারা ফ্যাসিবাদী পলাতক শক্তি’

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, ‘গণভোটের পক্ষে সরকারের প্রচারণা বিষয়ে যারা প্রশ্ন তুলছে, তারা ফ্যাসিবাদী পলাতক শক্তি।

তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোট আয়োজন করা হয়েছে। যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, তারাই এখন গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের জনগণ জুলাইয়ের সনদের সঙ্গেই রয়েছে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সেই অবস্থান স্পষ্ট করবে’।

শিল্প এবং স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে কিশোরগঞ্জ শহরের গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠে স্থাপিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকার গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের সরকার। সংগ্রামী ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। আগামী ১২ তারিখের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জনগণের সমর্থন প্রতিফলিত হবে’।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো: রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যবৃন্দ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ।

নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্য হচ্ছে কি না খতিয়ে দেখবে দুদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্য হচ্ছে কি-না তা খতিয়ে দেখবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংস্থাটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ তথ্য জানিয়েছেন দুদক মহাপরিচালক আক্তার হোসেন।

এসময় তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে কাজ করে দুদক। এ বিষয় (মনোনয়ন বাণিজ্য) নিয়ে কেউ অভিযোগ দিলে সংশ্লিষ্ট কমিটি খতিয়ে দেখা হবে।

৩ ফেব্রুয়ারি পবিত্র শবেবরাত

দেশের আকাশে আজ পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। সে ক্ষেত্রে আগামী বুধবার (২১ জানুয়ারি) শাবান মাস শুরু হবে।

দেশের আকাশে পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আগামী বুধবার (২১ জানুয়ারি) থেকে শাবান মাস শুরু হবে। সে হিসাবে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান ও মাঠপর্যায়ের কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করা হয়।

সব তথ্য বিশ্লেষণ শেষে কমিটি নিশ্চিত করে যে, সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের কোনো অঞ্চলে শাবান মাসের চাঁদ দৃশ্যমান হয়নি। এ কারণে শাবান মাস শুরু হবে বুধবার থেকে।

হিজরি বর্ষপঞ্জির শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত। এ রাতকে কল্যাণ ও ক্ষমার রাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এ রাতে মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমত বর্ষণ করেন।

পবিত্র শবে বরাতকে পবিত্র রমজান মাসের আগমনী বার্তা হিসেবেও ধরা হয়। কারণ শাবান মাসের পরেই আসে সিয়াম সাধনার মাস রমজান। এ কারণে অনেক মুসলমান শবে বরাত থেকেই রমজানের প্রস্তুতি শুরু করেন।