রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

আজ রাত থেকে ব্যালট ছাপা শুরু

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের সবকটি আসনেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

নির্বাচন কমিশনের সচিবের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রেসসচিব বলেন, পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসন নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে সমাধান হয়েছে। ফলে ৩০০ আসনেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও জানান, বুধবার মধ্যরাত থেকেই ব্যালট পেপার ছাপানোর কাজ শুরু হবে

শফিকুল আলম বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট গণনার ক্ষেত্রে কিছুটা সময় বেশি লাগতে পারে। সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের ব্যালট একসঙ্গে গণনা করতে হওয়ায় ভোটকেন্দ্রগুলোতে ফল ঘোষণা বিলম্বিত হতে পারে বলেও জানান তিনি।

বডি অন ক্যামেরার ছবি পেয়ে কুইক রেসপন্স করা হবে বলেও জানান তিনি। শফিকুল আলম বলেন, ‘২৫ হাজার ৫০০ বডি অন ক‍্যাম থাকবে পুলিশের কাছে। এর ফুটেজ সুরক্ষা অ‍্যাপে যুক্ত হবে, যা দেখে কুইক রেসপন্স নিশ্চিত করা হবে।’

ভোটের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশনা দিয়েছেন এবং লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারেও তিনি তাগিদ দিয়েছেন বলে জানান প্রেসসচিব।

বুধবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে আইন-শৃঙ্খলা সম্পর্কিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আত্মসমর্পণ করতে ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধী মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জামায়াতের সাবেক নেতা আজাদ

মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জামায়াতের সাবেক রোকন (সদস্য) আবুল কালাম আজাদ আত্মসমর্পণ করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়েছেন। বুধবার সকালে তিনি হাজির হন।

এর আগে গত বছরের ২২ অক্টোবর পলাতক আসামি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু মিয়ার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (কারা-২) শাখা থেকে জারি করা এক আদেশে সাজা স্থগিতের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে তার বিরুদ্ধে প্রদত্ত দণ্ডাদেশ আদালতে আত্মসমর্পণপূর্বক আপিল দায়েরের শর্তে এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।

মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল-২ এর তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ওই সময় থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।

ভারত-পাকিস্তান পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছিল, আমার হস্তক্ষেপে থেমে গেছে: ট্রাম্প

গত বছরের মে মাসে তীব্র ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়ায় ভারত ও পাকিস্তান। টানা চারদিন লড়াইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এ যুদ্ধ থামে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারত-পাকিস্তান ওই সময় পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু তার হস্তক্ষেপে এটি থামানো গেছে।

দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর প্রথম বছর সম্পন্ন করেছেন ট্রাম্প। এই এক বছর তিনি কি কি করেছেন সেগুলো তুলে ধরেছেন ট্রাম্প। গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প বলেন, “আমি ১০ মাসে ৮টি অসমাপ্তযোগ্য যুদ্ধ থামিয়েছি। পাকিস্তান এবং ভারত, তারা সত্যিই পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে আগাচ্ছিল। আটটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে।”

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ওয়াশিংটনে গিয়ে যুদ্ধ থামানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছিল বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, “পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এখানে ওয়াশিংটনে ছিলেন এবং বলেছেন ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ১ কোটি বা তারও বেশি মানুষের জীবন রক্ষা করেছেন’।”

এদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্প সহায়তা করেছেন এমন দাবি অস্বীকার করে ভারত। তাদের দাবি, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ থামানো হয়েছে। এখানে তৃতীয় কোনো পক্ষ যুক্ত হয়নি।

গত বছরের ২৬ এপ্রিল ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মিরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ পর্যটক নিহত হন। সন্ত্রাসীরা সেখানে বেঁছে বেঁছে পুরুষদের হত্যা করে। এর দায় পাকিস্তানের ওপর চাপিয়ে ভারত গত ৭ মে পাকিস্তানে মিসাইল ছোড়ে। এরপর দুই দেশের মধ্যে আকাশ যুদ্ধ বেধে যায়। পাকিস্তান দাবি করে, তারা ভারতের অন্তত সাতটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।

এই অন্তর্বর্তী সরকার আবরার ফাহাদের হত্যার রায় কার্যকর করতে পারলো না: আবরার ফাইয়াজ

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের মামলার রায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে কার্যকর না হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাতে নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ হতাশা প্রকাশ করেন। আবরার ফাইয়াজ লিখেছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে এই সরকার আর ক্ষমতায় আছে ২৩ দিন। এই সময়ে দাঁড়িয়ে মোটামুটি নিশ্চিত যে, আবরার ফাহাদ হত্যার রায় এই সরকার কার্যকর করতে পারলো না।

তিনি লেখেন, গত বছরের সেই ১৬ই মার্চ হাইকোর্ট থেকে আপিলের রায় প্রদান করে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ধন্যবাদ হাইকোর্টের পার্ট দ্রুত শেষ করায়। বর্তমানে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির জন্য অপেক্ষ্যমান আছে। আব্বু গত কিছুদিন এরওর কাছে ছোটাছুটি করেও ব্যর্থ হয়ে আজ কুষ্টিয়া ফিরে গেলো।

ফাইয়াজ আরও লিখেছেন, বিভিন্নজনের কাছে শুনি, ১৫ দিন নাকি লাগবে সুপ্রিমকোর্টে শুনানি শেষ হতে। কিন্তু তাও কেন হলো না? সোজা বাংলায় যদি বলতে হয়, তাহলে কারণ হলো রাজনৈতিক মামলাগুলো শেষ করে বা বাদ দিয়ে এই মামলায় দেওয়ার মতো ১৫দিন সময় হয়নি গত ১০ মাসে।

সম্ভবত বাংলাদেশ সরকারের ক্ষমতাসীন কোনো ব্যক্তির কাছেই আমরা এই সরকারের সময়ে এই মামলা শেষ করার অনুরোধ করতে বাদ রাখিনি। অন্তত একটা শুনানি হলেও আবার জিরো থেকে শুরু করা লাগতো না। কিন্তু বার বার আশ্বাস দিয়েও শেষে এসে এখন, পরবর্তী সরকারকে বলে যাবোতে থামলো।

তিনি লিখেছেন, কখনো শুনলাম, বেশি তাড়াতাড়ি মামলা শেষ করলে সমস্যা, কখনো আপিল করে নাই কিছুদিন পরে আসেন, কখনো আপিল করেছে কিন্তু যেভাবে করা লাগবে তা করে নাই, কখনো ভ্যাকেশনের পরে আসেন, কখনো পেপার বুক তৈরি করতে সময় লাগবে, আর শেষে এসে সরকারের সময় নাই। আব্বু যে ঠিক কতদিন ছোটাছুটি করে এসে আমাকে এগুলো বলেছে ঠিক নাই, কিন্তু আমারই আর কী করার ক্ষমতা।

যাই হোক, আশায় বাঁচে মানুষ। দেখি পরের সরকার এসে একটু সময় দেয় কি না…

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ শুরু

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রতীক বরাদ্দ শুরু হয়। প্রতীক হাতে পাওয়ার পরদিন বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকেই আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নামবেন প্রার্থীরা।

নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হয়েছে। সারা দেশে ৩০৫ প্রার্থী ভোটের মাঠ ছেড়েছেন। ফলে ২৯৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মোট ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঢাকা-১২ আসনে এবার সর্বোচ্চ ১৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ১৩ জন প্রার্থী নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে। আর সর্বনিম্ন প্রার্থী রয়েছেন দুজন। তবে এবারের ভোটে থাকছে না একক প্রার্থী।

ইসি সূত্রে জানা যায়, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল ২৯ ডিসেম্বর। নির্ধারিত সময়ে এবার ৩০০ সংসদীয় আসনে ২৫৮৫ মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ে ৭২৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিলের পর বৈধ প্রার্থী ছিলেন ১৮৫৮ জন।

ইসির রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে পৃথক ব্যালটে। এবারের নির্বাচনে এখন পর্যন্ত দুই হাজারেরও বেশি প্রার্থী বৈধ তালিকায় রয়েছেন। স্বচ্ছ ব্যালট পেপারের মাধ্যমে অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনে দেশের প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

ভোট থেকে সরে দাঁড়ালেন ৩০৫ জন, প্রতীক নিয়ে প্রার্থীরা মাঠে নামছে আজ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮টি আসনে চূড়ান্ত লড়াইয়ে থাকছেন ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৩০৫ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে। আজ বুধবার প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নামবেন।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানায়, এবারের নির্বাচনে ২৯৮টি আসনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। অধিকাংশ প্রার্থী দলীয় হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন শতাধিক। এর আগে ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৮৯৬ জন। সেই তুলনায় এবার প্রার্থীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে আদালতের নির্দেশনায় নতুন তফসিল হওয়ায় ওই দুই আসনের হিসাব আপাতত এই তালিকার বাইরে রয়েছে।

এর আগে, গত ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৫৮৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত বাছাই শেষে ৭২৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বাতিলের বিরুদ্ধে ৬৪৫ জন আপিল করেন, যার মধ্যে শুনানি শেষে ৪৩১ জন তাদের প্রার্থিতা ফিরে পান। এছাড়া মঙ্গলবার শেষ দিন পর্যন্ত ৩০৫ জন সরে দাঁড়ানোয় এখন ভোটের মাঠে থাকছেন ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী।

রিটার্নিং অফিসারদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করার কঠোর নির্দেশনা দিয়ে কমিশন বলছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা প্রচারণায় নামতে পারলেও সেখানে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়, সেদিকে কড়া নজরদারি থাকবে।

উল্লেখ্য, পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনায় সংশোধিত তফসিলে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে। নতুন তফসিল অনুযায়ী, গত রোববার এই দুটি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে পাবনা-১ আসনে ৭টি এবং পাবনা-২ আসনে ৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এই দুই আসনের প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ে মূল প্রতিযোগিতায় যুক্ত হবেন।

ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের পাঠানো মেসেজ ফাঁস করে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ডেনমার্কের স্বায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সাম্প্রতিক অবস্থান ইউরোপজুড়ে তীব্র অস্বস্তি তৈরি করেছে। কূটনীতির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের হাতে না এলে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি, এ ইস্যুতে বাধা দেওয়ায় ইউরোপের আটটি দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন তিনি।

এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপের নেতারা ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করেন। ব্যক্তিগত বার্তায় তাকে বোঝানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও, সেসব বার্তার বেশ কয়েকটি নিজেই প্রকাশ করে দেন ট্রাম্প—যা কূটনৈতিক অঙ্গনে বিস্ময় ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ম্যাক্রোঁর বার্তা

১৯ জানুয়ারি নিজের সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প প্রকাশ করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ-এর পাঠানো একটি ব্যক্তিগত মেসেজের ছবি। সেখানে ম্যাক্রোঁ লেখেন,

‘আমার প্রিয় বন্ধু (ট্রাম্প)
আমরা সিরিয়া নিয়ে সঠিক পথে আছি
আমরা ইরান নিয়ে অসাধারণ কিছু করতে পারি
কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আপনি কি করছেন
চলুন ভালো কিছু গড়ার চেষ্টা করি-

১) ডাভোসের অর্থনৈতিক সম্মেলন শেষে আমি প্যারিসে বৃহস্পতিবার একটি জি-৭ বৈঠক আয়োজন করতে পারি। আমি সেখানে ইউক্রেনীয়, ড্যানিস, সিরীয় এবং রুশদের সেখানে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে পারি।

২) বৃহস্পতিবার ডাভোস থেকে ফিরে যাওয়ার আগে চলুন আমরা একসঙ্গে প্যারিসে ডিনার করি।’

বিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশ্যে এই মেসেজ ফাঁস হওয়ায় ম্যাক্রোঁ বিব্রত অবস্থায় পড়েছেন। কারণ, এতে ট্রাম্পের আচরণ নিয়ে তার ব্যক্তিগত সংশয় প্রকাশ হয়ে পড়েছে—যা প্রকাশ্যে তিনি বলেননি।

ন্যাটোপ্রধানের বার্তা

পরদিন, ২০ জানুয়ারি, ট্রাম্প প্রকাশ করেন ন্যাটো-র মহাসচিব মার্ক রুট্টে-এর পাঠানো আরেকটি ব্যক্তিগত বার্তা। রুট্টে সেখানে সিরিয়া, গাজা ও ইউক্রেন নিয়ে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে “সমাধানের পথ” খুঁজতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার কথা জানান।

সাবেক ন্যাটো মুখপাত্র ও বিশ্লেষকদের মতে, রুট্টের বার্তাটি তার প্রকাশ্য অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হলেও, এমন ব্যক্তিগত বার্তা প্রকাশ করা স্বাভাবিক কূটনৈতিক রীতির বাইরে।

বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে—উচ্চপর্যায়ের কূটনীতিতে গোপনীয়তা দ্রুত ক্ষয় হচ্ছে। আগে যেখানে ব্যক্তিগত বার্তা ছিল নিছক আড়ালের আলাপ, এখন সেগুলোই সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশ পেয়ে ‘মেগাফোন কূটনীতি’র রূপ নিচ্ছে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এতে ভুল বোঝাবুঝি ও উত্তেজনা বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, আর সংকটকালে গোপন ও দ্রুত সমাধানের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে গ্রিনল্যান্ড ইস্যু শুধু ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনই নয়, বরং বিশ্ব কূটনীতির ধরন বদলে যাওয়ার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিতও দিচ্ছে। সূত্র: বিবিসি

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও সিরিয়ায় ড্রোন হামলা

সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাসাকাহ প্রদেশের কামিশলি শহরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) দুটি অবস্থানে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) স্থানীয় সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে শাফাক নিউজ।

সূত্র জানায়, প্রথম ড্রোন হামলাটি এসডিএফের ‘অপারেশনস ফোর্সেস’ ব্যবহৃত একটি স্থাপনায় আঘাত হানে। দ্বিতীয় হামলাটি চালানো হয় আফরিন গোলচত্বরের কাছে এসডিএফ-সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী আসায়িশের একটি অবস্থানে।

একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, ড্রোনটি সম্ভবত তুরস্কের হতে পারে। তিনি আরও বলেন, অপারেশনস ফোর্সেসের ওই স্থাপনাটি সম্প্রতি খালি করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে শুধু অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে, হতাহতের খবর নেই।

শাফাক নিউজের প্রতিবেদক জানান, ১০ মিনিটেরও কম ব্যবধানে কামিশলি শহরে দুটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। একই সময়ে শহরের আকাশে ড্রোন উড়তে দেখা গেছে। হামলার পর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পায়।

এর আগে মঙ্গলবার সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফের সঙ্গে চার দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কথা জানায়। এসডিএফও এই যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি মেনে চলার অঙ্গীকার করে।

একই সঙ্গে সিরিয়ার প্রেসিডেন্সি হাসাকাহ প্রদেশের জন্য একটি প্রাথমিক কাঠামো প্রকাশ করে। এতে প্রশাসনিক ও সামরিক সমন্বয়ের রূপরেখা তুলে ধরা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, এসডিএফকে চার দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন পরিকল্পনা জমা দিতে হবে। এতে হাসাকাহ ও কামিশলির কেন্দ্রীয় এলাকাগুলোতে সিরীয় সেনাবাহিনী মোতায়েন না করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া কুর্দি গ্রামগুলোর নিরাপত্তা স্থানীয়ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত বাহিনীর হাতে রাখার বিধান রাখা হয়েছে।

রাজনৈতিক হীনমন্যতা থেকে বিএমডিসিকে দিয়ে শোকজ: জামায়াত প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান

রাজনৈতিক হীনমন্যতা থেকে বিএমডিসিকে দিয়ে ভুয়া চিকিৎসকের মতো দুঃখজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১৭ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামান।

তিনি বলেন, আমি বিএমডিসি রিকগনাইজড একজন ডাক্তার। কিন্তু আনফরচুনেটলি মিডিয়াতে কিছু ক্ষেত্রে এমনভাবে উপস্থাপিত হয়েছে যে, আমি একজন ভুয়া ডাক্তার। এটা খুবই দুঃখজনক। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমোদনহীন ডিগ্রি ব্যবহার নিয়ে করা শোকজের বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডা. খালিদুজ্জামান বলেন, বিএমডিসি একটি স্বায়ত্তশাসিত সংগঠন, তারপরও আনফরচুনেটলি কোনো একটা প্ল্যানের থাবায়, প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে যেয়ে এরকম প্রতিদ্বন্দ্বির বিপক্ষে কিছু কথা আমাদের মনে হচ্ছে চলে আসছে। আমরা অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে বিষয়টি অবজার্ভ করছি। আমরা এটার উত্তর দেব।

তিনি বলেন, ২০টা দেশের মানুষ আমার কাছে ট্রিটমেন্ট নিতে আসে। আমি তো একদিনের ডাক্তার না। আমি এভারকেয়ারে কাজ করছি, যেখানে জয়েন্ট কমিশন ইন্টারন্যাশনাল (জেআইসি) আমার সিভি তিন বছর অন্তর অন্তর ভেরিফাই করছে। সুতরাং ১৮ বছরে সমস্যা হল না, হঠাৎ করে কেন হল? রাজনৈতিক হীনমন্যতা থেকেই এটা আমার ওপরে করা হয়েছে। এটা টিকবে না। আমার জনপ্রিয়তা এখানে অনেক বেশি। আমি বিপুল ভোটে পরাজয় করে সংসদে যাব।

এই সংসদ প্রার্থী আরও বলেন, এটি খুব সামান্য একটা ব্যাপার, একটা এপ্লিকেশন করতে বলছে, আমরা তার জবাব দেব। এটা নিয়ে এরকম বিশাল তুলকালাম করার দরকার ছিল না। আমি চাই না যে ভবিষ্যতে সংসদে এসএসসি পাস, ইন্টারমিডিয়েট পাস বা মমতাজ, গায়ক, নায়করা আবার সংসদে যাক। কিন্তু অনেক কিছু বের হয়ে আসছে কিনা? কে এসএসসি পাস করতে যেয়েও দুই-তিনবার ফেল করছে এমনও তথ্যও চলে আসছে। সাংবাদিক এবং শিক্ষক যদি তাদের নৈতিকতা কোনো দলের কাছে বন্ধক রেখে ময়দানে আসে, তাহলে সেখানে কিন্তু স্বৈরাচার আবার জন্ম নিবে। আমরা সবাই মিলে এই দেশটাতে গড়ার চেষ্টা করছি। আপনি আমি না হয় না খেয়ে থাকব, না হয় ঘাস-পাতা খেয়ে থাকব। তারপরও নিজের নৈতিকতাকে বিক্রি করব না। এই প্রতিজ্ঞা করেন আপনারা।

এ সময় ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. একেএম ওয়ালিউল্লাহ বলেন, আমাদের চিকিৎসা পেশার রেগুলেটরি বডি বিএমডিসির জন্য এটা দুঃখজনক। প্রথম কথা হল, মেডিকেল বিষয়ের এমন অনেক সাবজেক্ট আছে যেগুলোর আমাদের দেশে কোন কোর্স নাই। আর যে সমস্ত বিষয়ের কোর্স আমাদের দেশে নাই, সেগুলোকে বিএমডিসিতে ইভালুয়েট করা, এটাকে সনদ দেওয়া, এটার ব্যবস্থাও নাই। এখন আপনারাই বলেন, যে সমস্ত বিষয়ে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন কিন্তু ওই বিষয়ের আমাদের দেশে নাই, কোন একজন ডাক্তার তার নিজের চেষ্টায় বিদেশ থেকে গিয়ে অনেক টাকা খরচ করে, অনেক পরিশ্রম করে একটা ডিগ্রি এনে যদি চিকিৎসার কাজ শুরু করে, আর আমরা যারা বিএমডিসিতে আছি, আমরা যারা এই দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করব, আমরাই যদি এটার জন্য বাধার কারণ হয়ে দাঁড়াই— এর চাইতে আর দুঃখের কথা কি হতে পারে? আমাদের ছোট ভাই খালিদের ক্ষেত্রে এরকমই একটা ঘটনা ঘটেছে।

তিনি বলেন, যে বিষয়ের উচ্চতর ডিগ্রির ব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করতে পারি নাই, আমাদের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হোক বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে হোক সেই ধরনের একটা বিষয়ে যখন একজন ডাক্তার নিজ দায়িত্বে, নিজের খরচে বিদেশ থেকে শিক্ষা নিয়ে এসে কাজ শুরু করেছে, তখন বিএমডিসির উচিত ছিল এই বিষয়টাকে কিভাবে তাড়াতাড়ি একটা রিকগনিশনের আওতায় আনা যায়, এটার জন্য কিভাবে একটা ফর্মুলা তৈরি করা যায় সেটা তৈরি করা। কিন্তু উল্টা কাজটা করা হল এই ভাইয়ের কাজকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য এবং তার পেশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটা ব্যবস্থা করা হল।

এনডিএফ’র এই সিনিয়র নেতা আরও বলেন, “জেসিআই আন্তর্জাতিকভাবে চিকিৎসা পেশা এবং চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক্রিডেশন দেওয়ার একটা অথরিটি। জেসিআইয়ের অথরিটি বাংলাদেশে এক-দুইটা প্রতিষ্ঠানের মাত্র আছে। এর মধ্যে এভারকেয়ার একটা। জেসিআইয়ের এক্রিডেশন দেওয়া মানে সারা পৃথিবীতে এটাকে এক্রিডেশন দেওয়া। সেই জেসিআইয়ের এক্রিডেশনে যে ডাক্তার খালিদুজ্জামান ইনফার্টিলিটিতে কনসালটেন্ট হিসেবে স্বীকৃত, তাকে বিএমডিসির পক্ষ থেকে শোকজ করাটা অত্যন্ত নিন্দনীয় একটা কাজ।”

তিনি বলেন, আমাদের বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ২৫ বছরে এই ধরনের মাত্র একটা বাচ্চা জন্ম লাভ করেছে। এতে ডাক্তার খালিদুজ্জামানের সহযোগিতা নিতে হয়েছে। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সহযোগিতায় একটা এই ধরনের বাচ্চা প্রসবের ব্যবস্থা যেখানে করা হল, সেইখানে এটি এই ধরনের একটা পটেনশিয়াল এবং হাইলি কোয়ালিফাইড ডাক্তারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটা অপপ্রয়াস। এমন একটা সময়ে এই কাজটা করা হল যখন ডাক্তার খালিদুজ্জামান বাংলাদেশের একজন সবচাইতে আলোচিত প্রার্থী। এই ধরনের একজন আলোচিত ব্যক্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এই ধরনের একটা দু-নম্বরি প্রক্রিয়া অবলম্বন করাটা, যারা এই প্রক্রিয়াটা অবলম্বন করেছে তাদের জন্য কতটুকু সহায়ক হবে? আমি মনে করি এটা খালিদুজ্জামানের পপুলারিটিকে আরও আকাশচুম্বি করতে সহায়ক হবে। এইটা প্রার্থীর ইমেজ ক্ষুন্ন করার একটা অপপ্রয়াস। কিন্তু আমি মনে করি যেই প্রক্রিয়ায় আমাদের ছোট ভাই খালিদুজ্জামানের ইমেজ ক্ষুন্ন করার জন্য অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, এটা বুমেরাং হবে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কমপক্ষে এক হাজার ব্যক্তি এরকম বিদেশি উচ্চতর ডিগ্রিধারী চিকিৎসক পাবেন। এর মধ্যে একই বিষয়ের ডিগ্রিধারী চিকিৎসক রয়েছেন অন্তত ২৫ জনের বেশি। তাহলে তাদের নামে কোন ধরনের কোন শোকজ নাই, খালিদুজ্জামানের জন্য কেন শোকজের ব্যবস্থা হল, এটা আপনারাই জাতির কাছে ক্লিয়ার করবেন।

বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিক পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নিচ্ছে ভারত

নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশে কর্মরত নিজেদের কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার পর্যায়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা পিটিআই।

ভারতের প্রধান দূতাবাস বা হাইকমিশন ঢাকায়। এছাড়া সহকারী হাইকমিশনগুলো রয়েছে খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও সিলেটে। সবগুলো মিশন থেকেই কূটনীতিক ও অন্য কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে দেশটির হাইকমিশন, সহকারী হাইকমিশন এবং এসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর যথারীতি খোলা থাকবে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে। তবে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে আমলে নিয়ে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেশটিতে কর্মরত সব ভারতীয় কূটনীতিক ও কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যদের ভারতে ফিরিয়ে আনতে চাইছেন তারা।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। তার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে এ পদক্ষেপ নিলো ভারত।