রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

ভারতের পক্ষপাতিত্ব থেকেই আইসিসির এমন সিদ্ধান্ত : নাজাম শেঠী

ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা দেখিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। আইসিসির পক্ষে থেকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হলেও ভ্রুক্ষেপ করেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ফলে ভারতের প্রভাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের স্থালাভিষিক্ত হয়েছে সহযোগী দেশ স্কটল্যান্ড। সিদ্ধান্তের আগেই অবশ্য আইসিসিতে ভারতের দাদাগিরি নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সাবেক চেয়ারম্যান নাজাম শেঠি। একই সঙ্গে আইসিসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও সুপারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাজাম শেঠি বিসিবির সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ বয়কট করে বাংলাদেশ একেবারে সঠিক ও শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছে। তাদের এই সিদ্ধান্তের পেছনে যথার্থ কারণ ছিল। কারণ সেখানে (ভারতে) উত্তেজনা ও হুমকির বিষয় জড়িত। কিন্তু আইসিসি বিষয়টাকে গুরুত্ব দেয়নি। ভারতের প্রতি তাদের পক্ষপাত ছিল এবং সিদ্ধান্তটাও এসেছে ভারতের পছন্দ অনুযায়ী।’

আইসিসির ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে পিসিবির সাবেক এই চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রতিটি ইস্যুতে ভারতের পক্ষ নেওয়া বন্ধ করা উচিত আইসিসির। অন্য দেশগুলোকেও এখন রুখে দাঁড়াতে হবে। একবার সেটা হলে আইসিসি বুঝতে পারবে, এটা শুধু ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল নয়, এটা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল।’

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছিল, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বর্জন করলে পাকিস্তানও একই পথে হাঁটতে পারে। যদিও পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানায়নি। তবে নাজাম শেঠি বর্তমান পিসিবি চেয়ারম্যান মহসীন নাকভিকে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ বয়কট করা পিসিবির জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত হবে। তবে আমি এমন সিদ্ধান্তের পক্ষে থাকব। মহসীন নাকভি ক্রিকেটটা ভালো বোঝেন। তিনি যদি বাংলাদেশের দেখানো পথে হেঁটে বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেন, তবে আমি তার পাশে থাকব। তার সেই সিদ্ধান্তে অটল থাকা উচিত।’

জামায়াত মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামায়াত ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল । পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল। আমরা দেশ ছেড়ে যায়নি। যুদ্ধ করে স্বাধীন করেছি। জামায়াত দাঁড়িপাল্লা নিয়ে ভোটের জন্য আসছে। তারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। আপনাদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল। তারা লুটও করেছে। আমরা স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলি।

শনিবার দুপুর ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কান্দপাড়া এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগে এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আগে দুটা পক্ষ থাকত নৌকা আর ধানের শীষ। এবার নৌকাটা আর নাই। রাজনীতিতে বিভিন্ন সমস্যার কারণে নৌকা আমাদের কাছে নাই। নতুন একটা দল এসছে।

তিনি বলেন, আমরা ধানের শীষের ভোট চাই। আমরা কাজে বিশ্বাস করি। আমরা আপনাদের ফ্যামিলি কার্ড দেব। কার্ড হবে মা-বোনদের অস্ত্র, যা দিয়ে চাল-ডাল পাওয়া যাবে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবা পাওয়া যাবে। কৃষি কার্ডের মাধ্যমে ন্যাযমূল্যে সার-বিষ পাওয়া যাবে।

আমাদের সন্তানেরা আধিপত্যবাদকে লালকার্ড দেখিয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান

পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা সব দেশের সাথে বন্ধুত্ব চাই। কেউ আমাদের প্রভু হয়ে আসুক তা আমরা চাই না। আমাদের সন্তানেরা আধিপত্যবাদকে লালকার্ড দেখিয়েছে। এ কার্ড সবুজ ও হলুদও হবে না। এইটা লালকার্ড হিসেবেই থাকবে।

শনিবার দুপুরে বগুড়ার শেরপুরে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা যদি আপনাদের ভালোবাস, সমর্থন দিয়ে আমাদের সঙ্গে নেন তাহলে আমরা আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে আপনাদের আমানতের হেফাজত করব ইনশাআল্লাহ। আমরা কথা দিচ্ছি, আল্লাহ যদি সরকার গঠনের সুযোগ দেন, তাহলে জনগণের একটি টাকার ওপরে আমরা হাত বসাবো না। আমরা কথা দিচ্ছি আল্লাহ যদি আমাদের সরকার গঠনের সুযোগ দেন, তাহলে চাঁদাবাজদের অস্তিত্ব বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলে সহ্য করব না। দুর্নীতিকে মাটির নিচে চাপা দেয়ার চেষ্টা করব। চাঁদাবাজদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভয় পেয়ো না চাঁদাবাজ। আমরা তোমাদের হাতেও সম্মানের রুজির কাজ তুলে দেবো, ইনশাআল্লাহ। তোমরাও গর্বের সাথে বাংলাদেশে বসবাস করবে। লোভের বশবর্তী হয়ে হয়ত খারাপ করেছো, তোমরা তওবা করে ভালোভাবে চলবে।

সাংবাদিকদের সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা আমাদের দিকে খাড়া দৃষ্টি রাখুন। আপনারা ওয়াচডগ হিসেবে অত্যন্ত তীর্যকভাবে দেখবেন। তবে সাদাকে সাদা বলবেন। কালোকে কালো বলবেন। তবে সাদার গায়ে কোনো কালো প্রলেপ লাগাবেন না। কোনো কালোকে গ্রহণ করবেন না। তাহলে দেশ ভালো চলবে এবং আপনাদের অবদানের জন্য দেশবাসী কৃতজ্ঞ থাকবে। আমরা মিডিয়াকে সেই জায়গায় দেখতে চাচ্ছি।

তরুণ তরুণীদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, আমরা যুবক-যুবতীদের বলছি, আমরা তোমাদের কোনো বেকার ভাতা দেবো না। তোমাদের বেকার বানিয়ে রাখতে চাই না। তোমাদের দুই হাতকে দেশ গড়ার কারিগর বানাতে চাই। তোমাদের কাছে মর্যাদার কাজ তুলে দিতে চাই। দেশে কিংবা বিদেশে তোমরা মর্যাদার সাথে অবদান রাখবে। আমরা তোমাদের শিক্ষা দিয়ে সেইভাবেই গড়ে তুলবো। শিক্ষা শেষ কাজ তোমাদের হাতে চলে আসবে, ইনশাআল্লাহ। বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে ঘুরতে হবে না, সে দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে। যার জন্য যে শিক্ষা প্রযোজ্য, যার মেধা যেখানে প্রযোজ্য তার মেধা বিকাশে রাষ্ট্র হবে সেখানে সঙ্গী। সেই মর্যাদার বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাচ্ছি।

চাঁদাবাজ, দখলবাজ, মামলাবাজদের বিরুদ্ধে জনগণকে ভূমিকা রাখার এবং গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানান আমীরে জামায়াত।

শেরপুর-ধুনট আসনে জামায়াতের এমপি প্রার্থী মাওলানা দবিবুর রহমানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমির।

ট্রাম্পের মন্তব্য অপমানজনক, আমি হলে ক্ষমা চাইতাম: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শুক্রবার বলেছেন, আফগানিস্তানে ন্যাটো সেনাদের সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য অপমানজনক।

লন্ডনে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময়, স্টারমার বলেন ন্যাটের সেনাদের ভূমিকা কম দেখানোর বিষয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য অপমানজনক এবং স্বাভাবিকভাকে তা আতঙ্কজনক এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষমা চাওয়া উচিত। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

তিনি আরো বলেন, ‘যদি আমি এমন ভুল বলতাম, তবে আমি অবশ্যই ক্ষমা চাইতাম।’
ইসরাইলের অস্ত্র পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বেলজিয়ামইসরাইলের অস্ত্র পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বেলজিয়াম

এসময় যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার গভীর সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষার জন্য এই সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ।

শুক্রবারের শুরুতে, ব্রিটিশ সরকার বলেছিল যে ট্রাম্পের দাবি ‘ভুল’ যে ন্যাটো সেনারা আফগানিস্তানের ফ্রন্টলাইন এড়িয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৮ হাজার ফ্লাইট বাতিলযুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৮ হাজার ফ্লাইট বাতিল

এর আগে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, আফগানিস্তানে যুদ্ধের সময় ন্যাটো সৈন্যরা সামনের সারির থেকে কিছুটা পিছিয়ে, কিছুটা দূরে ছিল।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার পর, ন্যাটোর যৌথ নিরাপত্তা ধারা প্রয়োগের পর, আফগানিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগদানকারী বেশ কয়েকটি মিত্রের মধ্যে যুক্তরাজ্যও ছিল। এই সংঘাতে ৪৫৭ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন।

দেড় দশক পর সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে: নাহিদ

দীর্ঘ ১৬ বছর পর নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে আসে সেই প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন ১০ দলীয় জোট মনোনীত ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর ভাটারা এলাকায় নির্বাচনি গণসংযোগ শুরুর আগে এ কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে একটি দল। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ভোট কেনার কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, এমন আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে যা বাস্তবায়ন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এই আশ্বাসে জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের ভয় তৈরি করে রাখা হয়েছে। কোনোভাবেই ভোটাররা যাতে ভয় না পায় সেই আহ্বান জানান এনসিপির আহ্বায়ক।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু হয়, সেজন্য কর্মীদের কেন্দ্রে গিয়ে পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে খুতবায় বয়ানের আহ্বান

কিশোরগঞ্জে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা ও মসজিদের খুতবায় বয়ান রাখার আহ্বান জানিয়েছেন, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আসলাম মোল্লা। তিনি বলেছেন, ‘ জুলৈাই আন্দোলনের সফলতার পর আমরা একটি সনদের কথা বলছি। এই সনদকে বৈধতা দিতে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের বিধান রাখা হয়েছে। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে রাষ্ট্র আবার গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে যাবে।

শনিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের হলরুমে জেলা ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন তথা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় রূপান্তরিত হতে চাই, আর এটাই সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা। এ লক্ষ্যেই জুলাই আন্দোলন হয়েছিল।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, ‘তফসিলে বর্ণিত ৩০টি বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জুলাই সনদে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের সঙ্গে একযোগে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।’ কিশোরগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইমাম সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, প্রেসক্লাব সভাপতি নাসিম খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিজাবে রহমত। অনুষ্ঠানে জেলার সাত শতাধিক ইমাম সম্মেলনে অংশ নেন।

আইসিসিতে ভারতের কূটচাল, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বদলি স্কটল্যান্ড

অবশেষে গুঞ্জনই সত্যি হলো। আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলছে না বাংলাদেশ। তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে আইসিসি। এক বিজ্ঞপ্তিতে এমনটাই জানিয়েছে ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজ। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসরে খেলবে স্কটিশরা।

বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলার ব্যাপারে নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিল বাংলাদেশ। শত চাপেও অবস্থান একইভাবেও ধরে রাখে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড। বাংলাদেশকে কোনোভাবেই রাজি করাতে না পেরে আল্টিমেটাম দেয় আইসিসি। শেষমেশ আইসিসির আল্টিমেটামও দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখান করে বিসিবি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জবাব না পাওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে তারা।

এই পরিবর্তনের ফলে প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্বে গ্রুপ ‘সি’-তে জায়গা পাচ্ছে স্কটল্যান্ড। তারা কলকাতায় ৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালি এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের মুখোমুখি হবে তারা।

এর আগে, গত ৪ জানুয়ারি নিরাপত্তা শঙ্কায় বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা আইসিসিকে জানায় বিসিবি। বিকল্প হিসেবে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কার মাটিতে বাংলাদেশের সব ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ করেছিল। প্রথমদিকে শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশ দলের সব ম্যাচ হবে- এমনটাই ধারণা করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সেই আবেদনে আর সাড়া দেয়নি আইসিসি।

বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গী হিসেবে থাকা ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজও শ্রীলঙ্কায় ভ্রমণে অপারগতা প্রকাশ করে। বিকল্প হিসেবে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ পরিবর্তনের সম্ভাব্যতা নিয়েও হয় আলোচনা। কিন্তু ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড আইসিসির দেওয়া সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। সে কারণে শেষ পর্যন্ত আর শ্রীলঙ্কার মাটিতে বাংলাদেশ দলের ম্যাচ আয়োজনে পুরোপুরি অপারগতা জানায় আইসিসি। জানা গেছে, আয়ারল্যান্ড যাতে বাংলাদেশের সঙ্গে গ্রুপ অদল-বদল করতে সম্মত না হয়, সে জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে তাদের লোভনীয় আর্থিক প্রস্তাবনাও দেওয়া হয়। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনের মুলো ঝুলিয়ে আয়ারল্যান্ডকে বশীভূত করে রাখে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।

নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার জন্য সরকারের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পায়নি বিসিবি। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল একাধিকবার জানিয়েছেন, ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না বাংলাদেশ দল। এছাড়া বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল গত ১০ জানুয়ারি সিলেটে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, কলকাতার বদলে ভারতের অন্য কোনো ভেন্যুতে খেলা দিলেও বাংলাদেশ যাবে না। ভারতের অন্য ভেন্যু ভারতই। শুধু শ্রীলঙ্কায় নিজেদের ম্যাচ যদি আয়োজন হয়, তাহলেই এবারের বিশ্বকাপে খেলবে বাংলাদেশ।

আইসিসির বোর্ড সভার আগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেয়। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন জানায় তারা। পাশাপাশি বাংলাদেশের নিরাপত্তা শঙ্কার কথা আমলে নিয়ে ভেন্যু পরিবর্তনের আহ্বানও জানানো হয়। বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কা কিংবা পাকিস্তানের মাটিতে আয়োজনের আহ্বান ছিল তাদের। তবে পিসিবির সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি আইসিসি।

ইশতেহার ঘোষণা করলেন তাসনিম জারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৯ আসনে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন তাসনিম জারা। শনিবার ফেসবুকে তিনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। তার ইশতেহারটি পাঠকদের জন্য তুলো দেওয়া হলো। তাসনিম জারা লেখেন,

‘নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬

ডা. তাসনিম জারা | ঢাকা ৯ | মার্কা ⚽

ঢাকা-৯ এই শহরের প্রাণ, অথচ আমাদের সাথেই বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়। আমরা গুলশান-বনানীর সমান ট্যাক্স দেই, সমান বিল দেই, কিন্তু সেবা পাই তৃতীয় শ্রেণীর। ভোটের সময় নেতারা আসেন, ভোট নেন, তারপর উধাও হয়ে যান। রাষ্ট্র আমাদের এটিএম মেশিন ভাবেন। টাকা নেওয়ার সময় আছেন, সেবা দেওয়ার সময় নেই।

আমি পেশাদার রাজনীতিবিদ নই, আমি এই এলাকার মেয়ে। আমার কথা পরিষ্কার: ঢাকা ৯-কে অবহেলার দিন শেষ। আমরা সমান ট্যাক্স দেই, আমাদের অধিকারও সমান। আমাদের ন্যায্য পাওনা এবার আমরা বুঝে নিবো।

১. গ্যাস, রাস্তা ও জলাবদ্ধতা: বাসযোগ্য ঢাকা-৯ চাই

সমস্যা: প্রতি মাসে আমরা গ্যাসের জন্য বিল দিচ্ছি। কিন্তু চুলা জ্বালালে কী বের হয়? বাতাস। গ্যাস নেই, কিন্তু বিল ঠিকই দিতে হচ্ছে। এটা একধরনের প্রতারণা। এর সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে আমাদের জিম্মি করে ফেলে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে জলাবদ্ধতা ও বর্জ্য অব্যবস্থাপনা। যত্রতত্র ময়লা ফেলার কারণে বাসার পাশে ও রাস্তায় দুর্গন্ধে টেকা দায়। রাস্তাগুলো বছরের পর বছর ভাঙ্গাচোরা বা কাজ চলমান অবস্থায় পড়ে থাকে।

সমাধান:

ক) ন্যায্য বিল: সংসদে আমার প্রথম কাজ হবে “সেবা না দিলে বিল নেই” (No Service, No Bill) নীতির জন্য খসড়া আইন প্রস্তাব করা এবং চাপ সৃষ্টি করা। তিতাস যদি গ্যাস দিতে না পারে, তারা টাকা নিতে পারবে না। গ্যাস না থাকলে মাসিক বিল মওকুফ করার প্রস্তাব থাকবে এই বিলে।

খ) সিন্ডিকেট ভাঙবো: পাইপলাইন গ্যাসের ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরকারকে এই এলাকায় ভর্তুকি মূল্যে বা ন্যায্যদামে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাধ্য করব। সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে চাপ দেব।

গ) জলাবদ্ধতা নিরসন: ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বর্ষার আগেই খাল ও নর্দমা পরিষ্কার নিশ্চিত করতে আমি ওয়াসা ও সিটি কর্পোরেশনের ওপর কঠোর নজরদারি রাখব।

ঘ) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পার্ক: ঘরের সামনে বা রাস্তায় ময়লার স্তূপ জমতে দেওয়া হবে না। আধুনিক বর্জ্য অপসারণ (Secondary Transfer Station) ব্যাবস্থা নিশ্চিত করতে ও এলাকার পার্কগুলোতে হাঁটার পরিবেশ উন্নত করতে সিটি কর্পোরেশন ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয়ে কাজ করবো।

ঙ) সমন্বয় ও জবাবদিহিতা: রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রাখা চলবে না। ওয়াসা বা সিটি কর্পোরেশন, যে-ই রাস্তা কাটবে, কাজ শেষ করার নির্দিষ্ট ‘ডেডলাইন’ থাকবে। ডেডলাইন মিস করলে ঠিকাদারকে জরিমানা গুনতে হবে।

২. স্বাস্থ্য: চিকিৎসায় অবহেলা আর মানব না

সমস্যা: ঢাকা-৯ এলাকায় আমরা ৭-৮ লাখ মানুষ বাস করি, অথচ আমাদের জন্য বড় হাসপাতাল মাত্র একটি, মুগদা মেডিক্যাল। এটা একটা নিষ্ঠুর কৌতুক। ৫০০ বেডের এই হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ডাক্তার-নার্সরা অমানবিক চাপে কাজ করছেন, আর রোগীরা সেবা না পেয়ে ধুঁকছেন। সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো ডেঙ্গু। প্রতি বছর বর্ষা এলেই লোক দেখানো মশার ওষুধ ছিটানো হয়, অথচ আমাদের প্রিয়জনরা মারা যায়।

সমাধান: একজন ডাক্তারের হাতেই সমাধান হবে ঢাকা-৯ এর স্বাস্থ্য সমস্যা। আমি একজন ডাক্তার। আমার দেশ-বিদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতার আলোকে আমি এই সমস্যা সমাধানে কাজ করবো।

ক) মুগদা হাসপাতালে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি সচল রাখতে আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করব এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনব। এটি যেন একটি আদর্শ সেবাকেন্দ্র হয়, সেই উদ্যোগ আমি নেব।

খ) কমিউনিটি ক্লিনিক হবে ‘মিনি-হাসপাতাল’: পাড়ার ক্লিনিকগুলোকে আধুনিকায়নে বিশেষ বরাদ্দ আনার উদ্যোগ নেব, যাতে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বড় হাসপাতালে ছুটতে না হয়।

গ) ডেঙ্গু টাস্কফোর্স (সারা বছর): বৃষ্টি আসার পর ওষুধ ছিটিয়ে লাভ নেই। আমরা একটি ‘স্থায়ী মশা নিধন স্কোয়াড’ গঠন করবো যারা সারা বছর ড্রেন পরিষ্কার ও লার্ভা নিধনের কাজ করবে। ডেঙ্গু মৌসুম আসার আগেই আমরা মশা মারব।

ঘ) নারী স্বাস্থ্য: গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং হাসপাতাল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নারী-বান্ধব টয়লেট ও ব্রেস্টফিডিং নিশ্চিত করতে কাজ করবো।

৩. নিরাপত্তা: মাদক সিন্ডিকেট হটিয়ে রাস্তা হবে জনগণের

সমস্যা: আমাদের এলাকার রাস্তাঘাট এখন সাধারণ মানুষের নেই, চলে গেছে মাদক সিন্ডিকেটের দখলে। সন্ধ্যার পর খিলগাঁও বা বাসাবোর অলিগলি দিয়ে মা-বোনেরা হাঁটতে ভয় পান। যে শহর নারীকে নিরাপত্তা দিতে পারে না, সে শহর উন্নত হতে পারে না। আমরা ট্যাক্স দিই রাস্তার বাতির জন্য, আর সেই বাতি নষ্ট থাকে যাতে অপরাধীরা অন্ধকারে রাজত্ব করতে পারে।

সমাধান:

ক) ‘নিরাপদ করিডোর’: স্কুল, কলেজ এবং গার্মেন্টসের রাস্তায় আমি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিসি ক্যামেরা এবং উচ্চ-ক্ষমতার ল্যাম্পপোস্ট বসাব। অন্ধকার রাস্তা মানেই অপরাধের আখড়া। আমি ঢাকা-৯ এর কোনো কোণা অন্ধকার থাকতে দেব না।

খ) মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ: মাদকাসক্তদের আমরা ঘৃণা করব না, তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করব। কিন্তু যারা মাদক ব্যবসা করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে, তাদের আমরা এক বিন্দু ছাড় দেব না। প্রশাসনকে সাথে নিয়ে এলাকা মাদক-ব্যবসায়ী মুক্ত করব।

গ) নারীবান্ধব পরিবহন: বাসে নারীদের সিট পাওয়া যুদ্ধজয়ের মতো। আমি পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের সাথে বসে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যাবস্থা তৈরি করব।

৪. শিক্ষা: আমাদের সন্তানদের নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ হোক

সমস্যা: অপরিকল্পিত কারিকুলাম আর ঘন ঘন নীতি পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের ‘গিনিপিগ’ বানিয়ে ফেলেছে। তার ওপর আছে স্কুলের ‘ভর্তি বাণিজ্য’। টাকা বা সুপারিশ ছাড়া ভালো স্কুলে ভর্তি হওয়া যায় না। এই দুর্নীতি আমাদের মেধাবী সন্তানদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিচ্ছে।

সমাধান: আমি বিশ্বমানের শিক্ষা লাভ করার সুযোগ পেয়েছি। আমি চাই আমার এলাকার প্রতিটি সন্তান যেন বিশ্বমানের শিক্ষার সুযোগ পায়। তা নিশ্চিত করার জন‍্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

ক) এমপির কোনো কোটা থাকবে না: আমি কথা দিচ্ছি, স্কুল ভর্তিতে এমপির কোনো সুপারিশ বা কোটা থাকবে না। ভর্তি বাণিজ্য আমি কঠোর হাতে দমন করব। মেধা ও স্বচ্ছতাই হবে একমাত্র যোগ্যতা।

খ) স্কুল হবে ল্যাবরেটরি: আমার বরাদ্দের টাকা দিয়ে আমি স্কুলগুলোতে আধুনিক সায়েন্স ল্যাব, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব এবং কোডিং শেখানোর ব্যবস্থা করব। এতে আমাদের ছেলেমেয়েরা ফ্রিল্যান্সিং বা উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুত হতে পারবে। প্রত্যেকটি স্কুলে লাইব্রেরি গড়ে তোলা হবে যাতে আমাদের শিশু কিশোরদের মানসিক বিকাশ যথাযথভাবে ঘটে।

গ) স্মার্ট প্রজন্ম: শুধু বইয়ের পড়া নয়, মানসিক স্বাস্থ্য, সহ-শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং এআই (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শেখার ওপর জোর দেব। আমাদের তরুণরা যেন বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করার উপযুক্ত হয়ে গড়ে উঠতে পারে।

ঘ) অভিভাবক-শিক্ষক ফোরাম: শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সংসদে লড়ব। একই সাথে, স্কুলে বুলিং বা হয়রানি বন্ধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করব। স্কুলগুলোতে যেন অভিভাবক-শিক্ষক ফোরাম তৈরি হয় এবং তা যথাযথ ভাবে কাজ করে তা নিশ্চিত করব।

৫. অর্থনীতি ও জীবিকা: মেধা আমাদের সবার, সুযোগ কেন কেবল ধনীদের?

সমস্যা: আমাদের অনেক তরুণ-তরুণীরা বেকার, কারণ সিস্টেম তাদের পক্ষে নেই। তাদের মেধা আছে, কিন্তু পুঁজি নেই। রাষ্ট্র কেবল বড় শিল্পপতিদের ঋণ মওকুফ করে, কিন্তু আমাদের ছোট ব্যবসায়ী বা নতুন উদ্যোক্তারা ব্যাংকের বারান্দায় ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে যায়। আমাদের মায়েরা কাজ করতে চান, কিন্তু ডে-কেয়ার সেন্টার না থাকায় সন্তানকে ঘরে রেখে তারা কাজে যেতে পারেন না। এটা অর্থনীতির ব্যর্থতা।

সমাধান:

ক) ‘স্টার্ট-আপ ঢাকা-৯’ ফান্ড: আমি এমপি হলে আমার বিশেষ বরাদ্দ থেকে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ‘সিডিং ফান্ড’ বা প্রাথমিক পুঁজির ব্যবস্থা করব। জামানত ছাড়া সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার জন্য আমি ব্যাংকের সাথে লড়াই করব।

খ) কর্মজীবী মায়েদের মুক্তি: প্রতিটি ওয়ার্ডে সরকারি খরচে বা ভর্তুকি দিয়ে ‘কমিউনিটি ডে-কেয়ার সেন্টার’ চালু করব। যাতে মায়েরা নিশ্চিন্তে কাজে যেতে পারেন।

গ) শ্রমিকের মর্যাদা: গৃহকর্মী থেকে শুরু করে অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক, সবার জন্য ‘ন্যায্য মজুরি’ ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমি সংসদে কথা বলব। কেউ যেন তাদের দুর্বলতার সুযোগ না নিতে পারে।

ঘ) স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য ই-কমার্স প্রশিক্ষণ ও অনলাইন মার্কেট অ্যাক্সেস নিশ্চিত করবো। যেন তারা শুধু দোকানে নয়, মোবাইলেও ব্যবসা করতে পারেন। আরও বেশী কাস্টোমারকে আকৃষ্ট করতে পারেন।

৬. এমপির জবাবদিহিতা: আমি ‘অতিথি পাখি’ নই, আমি আপনাদের ঘরের মেয়ে

সমস্যা: ভোটের আগে নেতারা পায়ে ধরেন, আর ভোটের পরে তাদের টিকিটিও দেখা যায় না। এমপি সাহেব থাকেন গুলশানে বা সংসদে, আর আপনারা থাকেন সমস্যায়। এমপিকে পাওয়া যেন ভাগ্যের ব্যাপার। এই সংস্কৃতি আর কতদিন?

সমাধান:

ক) এলাকায় স্থায়ী কার্যালয়: আমি নির্বাচিত হওয়ার এক মাসের মধ্যে এলাকার প্রাণকেন্দ্রে আমার স্থায়ী অফিস চালু করব। কর্মজীবীদের সুবিধার্থে এটি সন্ধ্যায়ও খোলা থাকবে। আমি এবং আমার অফিসের স্টাফরা আপনাদের জানানো সমস্ত সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করবো।

খ) ওপেন ড্যাশবোর্ড: আপনার অভিযোগ কোনো ফাইলে চাপা পড়ে থাকবে না। আমরা ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড করব, যেখানে আপনারা দেখতে পাবেন আপনার অভিযোগের বর্তমান অবস্থা কী।

গ) কোনো প্রটোকল নয়: আমাদের সাথে কথা বলতে কোনো “ভাই” বা “নেতা” ধরার প্রয়োজন পড়বে না।

আমার এলাকাবাসী, আপনাদেরকে একটা কথা বিশেষভাবে বলতে চাই। আমি কোনো পেশাদার রাজনীতিবিদ নই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর স্বচ্ছভাবে রাজনীতি করার ও দেশ গড়ার একটা সুযোগ এসেছে তাই রাজনীতিতে এসেছি। আমার এই ইশতেহার কোনো গতানুগতিক ‘ফাঁকা বুলি’ নয়। এটি আপনাদের সাথে আমার চুক্তি। আমি যা লিখেছি, তা কীভাবে বাস্তবায়ন করব, সেই পরিকল্পনা করেই মাঠে নেমেছি।

আপনারা অনেক নেতা দেখেছেন, অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছেন। এবার একজন ডাক্তারকে সুযোগ দিন, যে ডাক্তার জানে রোগ কোথায় আর ওষুধ কোনটা, যে ডাক্তার কথা রাখে, যে ডাক্তার বিপদে পাশে এসে দাঁড়ায়। এমন একজন শিক্ষিত সন্তানকে সুযোগ দিন, যে আপনাদের মাথা নত হতে দেবে না।

ঢাকা ৯ এর ভাগ্য বদলাতে, গ্যাস-পানির অধিকার আদায় করতে এবং মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়তে, আসন্ন নির্বাচনে ‘ফুটবল’ ⚽ মার্কায় ভোট দিন।

আপনারা আমার শক্তি হোন, আমি আপনাদের কণ্ঠস্বর হব। বিজয় আমাদের হবেই, ইনশাআল্লাহ।’

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড নিয়ে কবীর ভূঁইয়ার গণসংযোগ

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় গণসংযোগ ও মতবিনিময় করেছেন কবীর আহমেদ ভূঁইয়া।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দিনব্যাপী উপজেলার কুটি ইউনিয়নের রানীয়ারা, বিষ্ণুপুর, মাইজখারসহ বিভিন্ন গ্রামে এই গণসংযোগ করেন তিনি।

কবীর ভূঁইয়া পরিবারের কর্তা, নারী সদস্য, অভিভাবক এবং কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে কর্মসূচির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সুবিধাসমূহ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিএনপির সামাজিক নিরাপত্তা ও কৃষি পুনর্গঠন ধারণার একটি বাস্তবায়নযোগ্য রূপরেখা। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও জরুরি সহায়তায় অগ্রাধিকার পাবেন। অপরদিকে কৃষক কার্ড কৃষি উৎপাদন খরচ কমানো, ভর্তুকিযুক্ত উপকরণ প্রাপ্তি, ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং ঋণপ্রণোদনা সহজীকরণের মাধ্যমে কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করবে।

তার মতে, দেশের পরিবারব্যবস্থা ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে টেকসই ভিত্তিতে দাঁড় করাতে এই দুটি কার্ড অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এতে করে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমবে, বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়া সহজ হবে—যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে নতুন গতি দেবে।

গণসংযোগে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে কবীর ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী ও স্বাধীনতার চেতনায় অনুপ্রাণিত একটি রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে তারেক রহমানের নেতৃত্বের বিকল্প নেই। তাই উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিন।

রানীয়ারা, বিষ্ণুপুর, মাইজখারসহ বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ মানুষ এই কর্মসূচিকে স্বাগত জানান। বিশেষ করে কৃষকরা জানান, বর্তমান আর্থিক চাপে কৃষক কার্ড তাদের জন্য বাস্তব সহায়তা হিসেবে কাজ করবে। ফ্যামিলি কার্ড পরিবারভিত্তিক নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় তথ্যসেবা পাওয়াকে সহজ করবে।

এবার যে কোনো হামলাকে সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করবে ইরান

এবার যে কোনো ধরনের হামলাকে নিজেদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক হামলা হিসেবে বিবেচনা করবে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীসহ অন্যান্য ভারী নৌযান ও যুদ্ধজাহাজ আসছে। এমন পরিস্থিতিতে এ মন্তব্য করেছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) তিনি বলেন, “(যুক্তরাষ্ট্রের) এই রণপ্রস্তুতি— আমরা আশা করি বাস্তব যুদ্ধের জন্য নয়। কিন্তু আমাদের সেনাবাহিনী সবচেয়ে খারাপ প্রেক্ষাপটের জন্য প্রস্তুত। এ কারণে ইরানে সবকিছু উচ্চসতর্কতায় রয়েছে।”

ছোট-বড় বা যে হামলাই হোক না কেন এবার আর ইরান সংযম প্রদর্শন করবে না। উল্টো এটিকে সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করে ইরান সবচেয়ে কঠোরভাবে পাল্টা হামলা চালাবে বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, “এবার যে কোনো ধরনের হামলা— সীমিত, অসীমিত, সার্জিক্যাল, আকাশ হামলা- তারা এটিকে যাই বলুক। আমরা এ ধরনের হামলাকে সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করব এবং এটির জবাব দিতে আমরা সবচেয়ে কঠোরভাবে প্রতিক্রিয়া জানাব।”

‘আমাদের আঙুল ট্রিগারে’ ট্রাম্পকে সতর্কবার্তা ইরানের শীর্ষ কমান্ডারের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ফের ইরানকে সংলাপের জন্য আহ্বান জানিয়ে সেই সংলাপ চলাকালীন অবস্থায় দেশটিতে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও তা মিত্র ইসরায়েলকে ‘যন্ত্রণাদায়ক’ ও ‘মর্মান্তিক’ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের শীর্ষ সেনা কমান্ডার মোহম্মদ পাকপৌর।

ইরানের সেনাবাহিনীর অভিযাত শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কমান্ডার জেনারেল মোহম্মদ পাকপৌর গতকাল বৃহস্পতিবার এক লিখিত বিবৃতিতে বলেন, “আইআরজিসি মনে করে যে ইরানে হামলার ব্যাপারে যাবতীয় বিভ্রান্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র ইসরায়েলের মুক্ত থাকা উচিত এবং গত বছর জুন মাসে তাদের চাপিয়ে দেওয়া ১২ দিনের সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান স্মরণে রাখা উচিত। তারা যদি সেই স্মৃতি ভুলে যায়— তাহলে খুবই দুঃখজনক ও মর্মান্তিক পরিণতি ভোগ করছে তাদের জন্য।”

“আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে বলতে চাই— ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস এবং আমাদের প্রিয় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আঙুল তাদের বন্দুকের ট্রিগারে আছে। অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ইরান অনেক বেশি প্রস্তুত এবং আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ও শীর্ষ কমান্ডার ইন চিফের আদেশ পালনের জন্য তৈরি।”