রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

তারেক রহমান উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন আজ

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন আজ। সফরের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) তিনি রাজশাহী ও নওগাঁয় নির্বাচনি সমাবেশে ভাষণ দেবেন।

রাজশাহী থেকে বগুড়া যাওয়ার পথে কয়েকটি পথসভায়ও অংশ নেবেন তিনি। রাতে নিজ জেলা বগুড়ায় অবস্থান করবেন তারেক রহমান।

এই সফরকে ঘিরে উচ্ছ্বসিত বিএনপির নেতাকর্মীরা। রাজশাহীতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

মহানগরের মাদ্রাসা মাঠে তৈরি করা হচ্ছে বিশাল সমাবেশ মঞ্চ। দীর্ঘ ২২ বছর পর প্রিয় নেতাকে কাছে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

সফর উপলক্ষে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। গতকাল বুধবার সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেন বিএনপির স্থানীয় নেতারা।
এ সময় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাজশাহীর সমাবেশে তিনটি জেলার মোট ১৩ জন বিএনপি প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেবেন তারেক রহমান।

রাজশাহীর কর্মসূচি শেষে তিনি নওগাঁ হয়ে বগুড়ায় যাবেন। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর এই প্রথম রাজশাহীতে কোনো কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন সম্প্রতি বিএনপির হাল ধরা তারেক রহমান।

আবারও রাজনীতি করতে গিয়ে খুন হতে হবে কল্পনা করিনি : হাসনাত আবদুল্লাহ

কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে ১০-দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘জুলাই আগস্টে দুই হাজার মানুষ শহীদ হওয়ার পর, একটা ভয়ংকর স্বৈরতন্ত্রের পতন ঘটানোর পর, আবারও রাজনীতি করতে গিয়ে কাউকে খুন হতে হবে, এমন কথা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।’

বুধবার দিবাগত রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত আরো বলেন, ‘এই ঘটনার দায় অবশ্যই বিএনপির পাশাপাশি সরকারকেও নিতে হবে। বিশেষ করে তারেক রহমান দেশে ফেরার পর যেভাবে সরকার আর প্রশাসন একটা নির্দিষ্ট দলকে সকল ক্ষেত্রে সুবিধা দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে, আজ শেরপুরের ঘটনা সেটারই ফলাফল।’

হাসনাত বলেন, ‘গত দেড় বছরে বিএনপি নিজেদের মধ্যে মারামারি করে বহু মানুষ খুন করেছে, আমরা বারবারই সাবধান করেছি, কিন্তু বিএনপি আমাদের কথা কানে নেয় নাই। কানে নিলে আজ মাওলানা রেজাউল করিমকে এভাবে খুন হতে হত না।’ সবশেষে তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান দেশের সব জায়গায় গিয়ে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড নিয়ে কথা বলছেন। বলছেন, আই হ্যাভ আ প্ল্যান। কিন্তু নিজের নেতাকর্মীদের মানুষ খুন থেকে দূরে রাখার জন্য তারেক রহমানের প্ল্যান কী, আমরা জানি না।

বিএনপি নেতাকর্মীদের হাত থেকে মানুষ জানেই যদি না বাঁচতে পারে, তাহলে সে ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে কী করবে?’

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের তিক্ততার মধ্যেই বাংলাদেশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ছে

ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং উচ্চমূল্য নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি বাড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানির মালিকানাধীন আদানি পাওয়ার। দুই দেশের সরকারি উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশে গ্যাসের তীব্র সংকট এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে আদানির ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরবরাহ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

উভয় দেশের তথ্যের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত বছরের শেষ তিন মাসে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) আদানির গোড্ডা কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। এই তিন মাসে আদানি প্রায় ২২৫ কোটি কিলোওয়াট (ঘণ্টা) বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে।

২০২৫ সাল জুড়ে আদানি রেকর্ড ৮৬৩ কোটি কিলোওয়াট (ঘণ্টা) বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে, যা বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ সরবরাহের ৮ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে ভারতের অংশ ছিল ১২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে বেড়ে রেকর্ড ১৫ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষ করে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম ২৭ দিনেই বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ একাই সরবরাহ করেছে আদানি গ্রুপ।

এদিকে বাংলাদেশে বর্তমানে প্রাকৃতিক গ্যাসের তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। দেশীয় উৎপাদন কমে যাওয়া এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এলএনজি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন রেকর্ড সর্বনিম্ন ৪২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। অথচ গত এক দশকে এটি ছিল মোট উৎপাদনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ।

গ্যাসের এই ঘাটতি মেটাতে সরকার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রয়টার্সকে বলেন, ২০২৬ সালে বিদ্যুতের চাহিদা ৬ থেকে ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই চাহিদা সামাল দিতে এ বছর কয়লা আমদানির পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালেই কয়লা আমদানি ৩৫ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ১ কোটি ৭৩ লাখ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। আদানি গ্রুপ ২০২৩ সালের শুরুতে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে। তবে মজার বিষয় হলো, দুই দেশের মধ্যে যখন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত এবং নিরাপত্তা উদ্বেগে কূটনীতিকদের তলব করার মতো টানাপোড়েন চলছে, তখন বিদ্যুৎ বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত একটি জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তিতে ‘অস্বাভাবিক অসংগতি’ খুঁজে পেয়েছে এবং দাম অতিরিক্ত (প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি) বলে উল্লেখ করেছে, তবুও গ্রিডের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই বিদ্যুৎ অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেন বলেন, ‘গ্যাসের অভাবে বাংলাদেশকে ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে হচ্ছে। সেই তুলনায় আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ এখনো সাশ্রয়ী।’

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয় হবে : সালাহউদ্দিন আহমদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ তথা বিএনপির বিজয় হবে। জনগণের বিপুল সমর্থন ও জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে বিএনপি এমন একটা সরকার পরিচালনা করবে যে সরকারের মালিক হবে সকল জনগণ।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় চকরিয়ার সাহারবিল ইউনিয়নের বিএমএস উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনগণ তাদের রাষ্ট্রের মালিকানা ফেরত পাবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।

আপনার ভোট আপনি দিবেন, যাকে খুশি তাকে দিবেন। আপনার পছন্দের প্রার্থীকে দিবেন। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবেন। বাংলাদেশে যেন আর কোনদিন এই কথা শুনতে না হয় কেউ গুম হয়েছে।
কোন মাকে যেন তার সন্তান হারানোর বেদনা অনুভব করতে না হয়। বিএনপি এমন একটা বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবে যে বাংলাদেশে আর কোন মানুষ গুম হবেনা। যারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন তাদের মর্যাদাবান করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি কর্মসূচি, বিএনপির প্ল্যান, পরিকল্পনা এবং রাষ্ট্র চিন্তা যদি মানুষের পছন্দ হয় তাহলে অবশ্যই তারা বিএনপিকে ভোট দিবে।

অন্য যে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন করছেন তারাও তাদের কর্মসূচি, পরিকল্পনা প্রকাশ করবে। জনগণ তাদেরটা পছন্দ করলে তাদেরই ভোট দিবে। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য্য। এমনই হওয়া উচিত। কিন্তু একটা দল তা না করে তাদের ভোট দিলে মরলে পরে জান্নাত পাবেন বলে ধোঁকাবাজি করছে তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।

আমি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে আপনাদের সাথে আছি। আমি জেলে থাকার কারণে ২০০৮ সালে নির্বাচন করতে পারিনি জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, সেবার আমার স্ত্রী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমদকে আমার চাইতে বেশি ভোটে নির্বাচিত করেছিলেন। এ কারণে আমি এবং আমার পরিবার আজীবন আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। সুতরাং এতে করে বুঝতে পারি আপনারা আমাকে ভালোবাসেন। এ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করতে গিয়ে আমার জীবন বিপন্ন হতে বসেছিল। আমরা গণতন্ত্রকে হারিয়ে ফেলেছিলাম। কেউ মুক্ত পরিবেশে কথা বলতে পারেনি। তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহীম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হেফাজতুর রহমান টিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক শোয়াইবুল ইসলাম সবুজসহ অসংখ্য নেতাকর্মী।

প্রতিভাবান দ্রোকে দলে ভেড়াল পিএসজি ; বার্সা সভাপতির ক্ষোভ

পিএসজি সোমবার বার্সেলোনা থেকে প্রতিভাবান কিশোর দ্রো ফের্নান্দেজকে দলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনায় কাতালান জায়ান্টদের সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বিষয়টিকে ‘অস্তস্তিকর’ পরিস্থিতি বলে আখ্যা দিয়েছেন।

বার্সা সভাপতি লাপোর্তা জানান, দ্রো আগে কাতালান ক্লাবটির সঙ্গে নতুন চুক্তিতে সম্মত হয়েছিলেন, কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত বদলে ক্লাব ছাড়ার পথ বেছে নেন।

লিগ ওয়ান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘প্যারিস সেইন্ট জার্মেই আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছে যে, তারা দ্রো ফের্নান্দেজকে দলে নিয়েছে। ১৮ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ২৭ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামবেন। ২০৩০ সাল পর্যন্ত ফরাসি ক্লাবটির সাথে চুক্তিতে তিনি স্বাক্ষর করেছেন। এই পদক্ষেপ ক্লাবের ক্রীড়া কৌশল এবং তরুণ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের প্রতি জোরালো মনোযোগের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।’

পিএসজি দ্রোর জন্য কত অর্থ পরিশোধ করেছে তা জানায়নি। তবে স্প্যানিশ গণমাধ্যম জানিয়েছে, সৌহার্দ্যরে নিদর্শন হিসেবে তারা খেলোয়াড়টির ছয় মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৭ মিলিয়ন ডলার) রিলিজ ক্লজের চেয়ে সামান্য বেশি অর্থ দিয়েছে। প্রতিবেদনে ৮.২ মিলিয়ন ইউরোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্রোর দলবদল নিয়ে লাপোর্তা রোববার রাতে কাতালুনিয়া রেডিওকে বলেন, “এটি ছিল একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। কারণ আমরা তার ১৮ বছরে পা দেওয়ার পর কিভাবে বিষয়টি সামলানো হবে, সে বিষয়ে ভিন্ন একটি সমাধানে একমত হয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই তার প্রতিনিধি আমাদের জানালো যে, তারা আর সেই চুক্তি অনুসরণ করতে পারবে না।”

স্পেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল গালিসিয়ার বাসিন্দা দ্রো ২০২২ সালে বিশ্বের অন্যতম সেরা একাডেমি হিসেবে বিবেচিত বার্সেলোনার লা মেসিয়া একাডেমিতে যোগ দেন এবং ক্লাবটির হয়ে আটটি ম্যাচ খেলেন।

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় দ্রো বলেন, “প্রায় চারটি অবিস্মরণীয় মৌসুমের পর আজ আমাকে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর একটি নিতে হচ্ছে। যে ক্লাবটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমার ঘর ছিল, তাকে বিদায় জানাতে হচ্ছে।”

চলতি মাসের শুরুতে বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিকও দ্রোর চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন।

নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না যুক্তরাষ্ট্র সরকার : মার্কিন রাষ্ট্রদূত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট, ২০২৬-এ যুক্তরাষ্ট্র সরকার কোনো দলের পক্ষ নেবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

সেইসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচিত সরকারের সাথে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রস্তুত রয়েছে।

আজ দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

কেবল বাংলাদেশী জনগণেরই নির্বাচনে প্রতিনিধি চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি জনগণ যে সিদ্ধান্ত নেবে তার প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে।’

বৈঠকের বিষয়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সরকারের প্রস্তুতি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এছাড়াও, গত সপ্তাহে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেদিন প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন যে এবার বাংলাদেশে একটি উৎসবমুখর নির্বাচন উৎসব হবে। তার কথায় আমিও অত্যন্ত উৎসাহ বোধ করছি।

তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আমি খুবই উৎসাহিত। দেশের জনগণ তাদের মূল্যবান ভোট দিচ্ছেন এটি এবং আপনাদের মত আমিও নির্বাচনের ফলাফল দেখার জন্য খুব অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।

‘আশা করি এটি একটি সত্যিকার অর্থেই উৎসবমুখর নির্বাচন হবে, যেখানে দেশের সকল ভোটার নিজেদের মতামত প্রকাশ করবেন এবং আমি আশা করছি আসন্ন নির্বাচন অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হবে,’ তিনি বলেন।

আজকের এ বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার- আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ (অবসরপ্রাপ্ত, ইসি সচিব আখতার আহমেদ, মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা ডেভিড মু এবং রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদ।

নির্বাচনের সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখবে যুক্তরাষ্ট্র : ইসি সচিব

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন যে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গণভোট, ২০২৬ উপলক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যবেক্ষক না পাঠালেও নিজ উদ্যোগে, অনানুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বিষয়ে সার্বিক খোঁজ খবর রাখবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

আজ সকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনসহ চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এম নাসির উদ্দিনের এক বৈঠক চলাকালে এ আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ব্রিফিং করার সময় জানান তিনি।

ইসি সচিব বলেন, তারা আমাদেরকে জানিয়েছেন যে নির্বাচন উপলক্ষে তাদের কোন পর্যবেক্ষক দল আসবে না। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্বাধীন একটা দল আসবে এবং মার্কিন দূতাবাস থেকে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও খুলনায় নিজ উদ্যোগে, নিজেদের মতো করে তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যাবেন।

তিনি আরো বলেন, তবে এটা আনুষ্ঠানিক কোনো পরিদর্শন নয়। তাঁরা এমনিতেই দেখতে যাবেন ভোটের অবস্থাটা কি। এ বিষয়ে আমাদের তাদের ইচ্ছাটা জানিয়েছেন এবং নির্বাচন কমিশন সাদরে তাদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।

তিনি বলেন, বৈঠকে তারা ইলেকশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। সার্বিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে ওনাদের বেশি কৌতুহল ছিল পোস্টাল ব্যালট নিয়ে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ আরও বলেন, আমরা পোস্টাল ব্যালট এর বিষয়ে আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে তাদেরকে জানিয়েছি, সেইসঙ্গে নমুনা ব্যালট দেখিয়েছি। তারা বলেছেন যে এটা একটা জটিল, বেশ কষ্টসাধ্য একটা ব্যাপার। তবে তারা আমাদের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের সার্বিক সফলতা কামনা করেছেন।

ইসি সচিব আরও বলেন, তারা জানতে চেয়েছিলেন যে কোড অফ কন্ডাক্ট এর বিষয়গুলো সম্পর্কে আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি। আমরা তাদেরকে জানিয়েছি যে আমাদের ইলেক্টরাল ইনকোয়ারি কমিটি আছে কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সেল আছে। এখানে যারা কর্মরত আছেন তাদের সাথে যোগাযোগ করে এই জিনিসগুলোকে সমন্বয় করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তারা এটাও জানতে চেয়েছিলেন যে আমরা আমাদের আইনশৃংখলা ব্যবস্থাপনা কি হতে যাচ্ছে। আমরা বলেছি যে আমরা প্রায় সাড়ে নয় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মী বিভিন্ন স্তরে কাজ করবেন।

এটা শুনে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ইসি সচিব বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত আমাদের জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে সন্তুষ্ট। তারা একটি সফল নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী।

আজকের বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার— আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ (অবসরপ্রাপ্ত), ইসি সচিব আখতার আহমেদ, মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা ডেভিড মু ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদ।

ভোটের দিন নৌযান চলাচলে ইসির নিষেধাজ্ঞা: জরুরি সেবা ও দূরপাল্লা আওতামুক্ত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে ভোটগ্রহণের দিন এবং তার আগে ও পরে নির্দিষ্ট কিছু নৌযান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

মঙ্গলবার ইসি সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে ভোটগ্রহণের নির্ধারিত দিবসের পূর্ববর্তী মধ্যরাত অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত লঞ্চ এবং ইঞ্জিন বোট (নির্দিষ্ট রুটে চলাচলকারী ব্যতীত) চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

তবে রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী এজেন্ট এবং পরিচয়পত্রধারী দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিলযোগ্য হবে।

একইসঙ্গে, নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত পরিচয়পত্রধারী দেশি-বিদেশি সাংবাদিক, নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং জরুরি সেবা যেমন- অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক ও টেলিযোগাযোগ কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

এছাড়া, প্রধান প্রধান নৌপথে বন্দর ও জরুরি পণ্য সরবরাহসহ অন্যান্য বিশেষ প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, ভোটার ও জনসাধারণের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত নৌযান এবং দূরপাল্লার নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে স্থানীয় প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবতা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা শিথিল করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।

পোস্টাল ভোট : ৪ লাখ ৩২ হাজার প্রবাসী ভোটদান সম্পন্ন করেছেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে পোস্টাল ভোট বিডি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী ৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৮৯ জন প্রবাসী ভোটার ভোটদান সম্পন্ন করেছেন।

আজ বুধবার প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা’কে (বাসস) এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পোস্টাল ভোট বিডি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট সংশ্লিষ্ট প্রবাসী গন্তব্যের দেশে পৌঁছেছে। ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৩২৮ জন প্রবাসী ভোটার ব্যালট গ্রহণ করেছেন। ভোটার কর্তৃক ভোটদান সম্পন্ন করেছেন ৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৮৯ প্রবাসী ভোটার। ভোটার কর্তৃক সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস/ডাক বাক্সে জমা দেয়া হয়েছে ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৫৭৯ টি ব্যালট। বাংলাদেশে পৌঁছেছে ২৯ হাজার ৭২৮ টি পোস্টাল ব্যালট।

তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে (দেশে এবং প্রবাসী মিলে) মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন।

অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ালেও সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে : পরিকল্পনা উপদেষ্টা

পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ালেও সামনে বড় বড় কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। পাচার ও অব্যবস্থাপনার ফলে ব্যাংক খাতের অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। তবে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে।

আজ রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পরবর্তী সরকারের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনার ও ‘ইআরএফ শিক্ষাবৃত্তি-২০২৬ প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, শিল্পের কাঁচামাল আমদানি বেড়েছে, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে এবং বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। রিজার্ভও ধীরে ধীরে বাড়ছে। এছাড়া জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের কাছাকাছি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ে তিনি বলেন, গভর্নর চেয়েছিলেন মূল্যস্ফীতি দ্রুত কমাতে, কিন্তু এটি ধীরগতিতে কমবে। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে এটি ১১ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।

উপদেষ্টা বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এ অবস্থায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের স্বার্থে দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে পর্যালোচনা করা উচিত।

জ্বালানি খাতকে ভবিষ্যতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদনের একটি বড় অংশ অব্যবহৃত থাকছে। সৌরবিদ্যুৎ খাতে সম্ভাবনা থাকলেও পরিকল্পনাহীনতার কারণে অতীতে কিছু প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি জানান, সরকার একটি অধ্যাদেশ জারি করেছে, যার ফলে বেসরকারি খাতে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

দুর্নীতি রোধে বর্তমান সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, সরকারি ক্রয়নীতি সংশোধন করে এখন সব সরকারি টেন্ডার শতভাগ অনলাইনে হচ্ছে। যার ফলে প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কমছে।

বাজেট পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, রাজস্ব আদায়ের হার জিডিপির তুলনায় এখনো খুবই কম। রাজস্ব আয় দিয়ে মূলত পরিচালন ব্যয় মেটানো হচ্ছে। আর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন ব্যয় করা হচ্ছে ঋণের ওপর নির্ভর করে, যা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ।

উপদেষ্টা সতর্ক করে বলেন, অর্থ পাচার ও ব্যাংক খাতের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করতে দীর্ঘ সময় লাগবে।

বৈদেশিক ঋণ নিয়ে সামাজিক খাত উন্নয়নের ধারা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অহেতুক বিদেশি পরামর্শক নির্ভর প্রকল্প বাতিল করা হচ্ছে।

শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ছাড়া শুধু অবকাঠামো নির্মাণ টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে না। ভৌত অবকাঠামো দিয়ে কঙ্কাল তৈরি করা যায়, কিন্তু মানবসম্পদ ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

তিনি জানান, বছরের পর বছর শিক্ষার মান নিম্নমুখী হওয়ায় প্রশাসনের দক্ষতা কমেছে। বর্তমান যুব সমাজের নিরাশা দূর করতে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগাতে কারিগরি ও মানসম্মত শিক্ষার বিকল্প নেই।

উপদেষ্টা বলেন, সব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সরকার অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে কাজ করছে, যার ফলাফল ভবিষ্যতে আরও স্পষ্ট হবে।