রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

স্বাধীনতাবিরোধীদের হাতে দেশ নিরাপদ নয় : মির্জা ফখরুল

স্বাধীনতাবিরোধীদের হাতে দেশ নিরাপদ নয় মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল তাদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের পশ্চিম আকচা এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগে এ কথা বলেন তিনি।

জামায়াতকে উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আরেকটা দল ভোটের জন্য এসেছে। তাদের মার্কা হলো দাঁড়িপাল্লা।

৭১ সালে তারা স্বাধীনতা যুদ্ধকে সমর্থন করেনি। অনেক লোককে মেরে ফেলেছে। মা-বোনদের ইজ্জত নষ্ট করেছে। তারা এখনো মাফ চাননি।

তিনি বলেন, ‘বিকাশ নম্বর কাউকে দেবেন না এসব ভাঁওতাবাজি আর ধান্দাবাজি। ভোট দিলে নাকি জান্নাতে যাওয়া যাবে। এসব কথা সঠিক নয়। আগামী নির্বাচনে ভোট দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন।

গত ১৫-১৬ বছর দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে। ব্যাংকগুলো শূন্য হয়ে গেছে। সব টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। সেগুলো ঠিক করতে হবে। ঝগড়াঝাঁটি না করে সঠিক মানুষটিকে নির্বাচিত করতে হবে।

মহাসচিব বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি দেশের মানুষের উন্নতির জন্য। শান্তিতে থাকার জন্য। বিগত সময়ে আমরা শান্তিতে থাকতে পারিনি। ১৫ বছর পর খারাপ সময় পার করেছি। এখন সুসময় এসেছে। দেশে একটা ভালো নির্বাচন হবে। সবাই ভোট দিতে পারবে। এরকম একটা আশা জেগেছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দীর্ঘ সময় আপনার সঙ্গে থেকেছি। আমার বাবা এলাকায় ভালো কাজ করেছেন। ওনার ছেলে হিসেবে আমিও আপনাদের কাছে এসেছি। আমি মন্ত্রীও ছিলাম, কেউ বলতে পারবে না এক কাপ চা খেয়েছি। নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে আমি প্রার্থী। ভোট চাওয়ার জন্য এসেছি। মার্কা হলো ধানের শীষ। এটাই আমার শেষ নির্বাচন। আপনারা আমাকে কাজ করার সুযোগ করে দেবেন।’

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এলে ১০ হাজার পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মাফ করে দেওয়া হবে। এনজিও-এর যত টাকা ঋণ আছে তার দায় সরকার নেবে। মায়েদের মওকুফ করে দেয়া হবে। এছাড়া মায়েদের ফ্যামিলি কার্ড আর কৃষকদের কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। শিক্ষিত বেকারের জন্য ১৮ মাসে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। শান্তি, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে। সব ধর্মের মানুষেরা শান্তিতে থাকবেন।’

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সবাই বিনা মূল্যে ইন্টারনেট পাবে : মাহদী আমিন

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সবার জন্য বিনা মূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। সেই সঙ্গে দলটি জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিতেও কাজ করবে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীতে ‘আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আইসিটি সেক্টরের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জয়লাভ করলে বাংলাদেশের জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কাজ করবে বিএনপি।

যারা মেধাবী তাদের জন্য জুতসই সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার পরিকল্পনায় এ বিষয়গুলো রেখেছেন।

ফ্রিল্যান্সারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে পেপাল আনতে এরই মধ্যে বিএনপি কাজ শুরু করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বিএনপি ১০ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করবে।

তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করবে।

আমরা জাতীকে আর দ্বিধা, বিভক্ত দেখতে চাই না : ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতী, বর্ণ, ধর্মের উপর বিভক্ত করে এই দেশকে, দেশের মানুষকে অনেক পিছিয়ে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক দলমতের ভিত্তিতে নির্মমভাবে অত্যাচার করা হয়েছে, খুন গুমের স্বীকার হতে হয়েছে। আমরা আর এসব চাই না। এবারের বন্দোবস্ত হবে জনগনের সেবার জন্য সরকার গঠন করা। আমরা নির্বাচিত হলে এই জাতীকে আর কোন দ্বিধা বিভক্ত করতে দিব না ইনশাআল্লাহ।

আজ শনিবার দূপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে যেই বাংলাদেশ গঠন করা হবে সেটি হবে তারুন্যের বাংলাদেশ, যৌবন দিপ্ত বাংলাদেশ। সকল বাঁধা ডিঙ্গিয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে আমরা এগিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ। আমরা তরুনদের নিয়ে এবার এগিয়ে যাচ্ছি।

জামায়াত আমীর বলেন, যারা আমাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদেরকেও আমরা ডাকবো, আমাদের সঙ্গে মিলে কাজ করুন। তবে কোন অপরাধ করা যাবে না, ব্যাংক ডাকাতি করা যাবে না, চাঁদাবাজি করা যাবে না, অন্যায়কারীকে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না, বিচারিক কাজে হস্তক্ষেপ করা যাবে না। এটা মেনে নিতে হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে জুলাইয়ের কারনে আমরা আজ জনগণকে প্রতিনিধিত্ব করতে চাই সেই জুলাইকে সম্মান করতে হবে। জুলাইকে ধারন করে ১৮ কোটি মানুষের স্বার্থে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, এদেশে মুসলমান ছাড়া আরো তিনটি দলের মানুষ বসবাস করে। আপনাদের সকল ধর্মীয় অধিকার, পূর্ণ স্বাধীনভাবে পালন করবেন ইনশাআল্লাহ। রাষ্ট্রের দায়ীত্ব পালনে কারো ধর্ম দেখা হবে না। সেই ক্ষেত্রে দেখা হবে কর্মকর্তা সেই কাজের যোগ্য কিনা, তার মধ্যে দেশ প্রেম আছে কিনা।

তিনি আরও বলেন, আমরা শিক্ষার অমূল পরিবর্তন করতে চাই। এই শিক্ষা দিয়ে আমরা এগুতে পারবো না। ‘বেটার এডুকেশন, বেটার নেশন’। এডুকেশন ভাল না হলে একটা ভাল জাতি আমরা গঠন করতে পারবো না। আগামীতে যারাই সরকার গঠন করবে তাদেরকে জুলাই সংস্কারের সকল প্রস্তাব বাস্তবায়নে অঙ্গিকার দিতে হবে। আমরা আর এই জাতির বিবেদ করতে চাই না। ধর্ম বর্ণ গোষ্ঠী পরিবার, কারো স্বার্থ দেখব না, স্বার্থ দেখব শুধু জনগণের ইনশাআল্লাহ।

দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর এ্যাড. শাহজাহানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল এটিএম মাসুম, খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক, শিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, কুমিল্লা ১০ আসনের প্রার্থী ইয়াসিন আরাফাত, কুমিল্লা মহানগর সেক্রেটারী মাহবুবুর রহমানসহ ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ।

জাতীয় নির্বাচনে নিরাপত্তা দিতে সারাদেশে ৩৭ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সারাদেশে ৩৭ হাজারেরও বেশি সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।

শনিবার সকালে রাজধানীর মিরপুর জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে নির্বাচনী বেজ ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিজিবি ঢাকা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম আবুল এহসান।

তিনি জানান, দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টিতে বিজিবি নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। এর মধ্যে সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। তবে ঝুঁকি বিবেচনায় দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনেই বিজিবি সদস্যরা মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে নিয়োজিত থাকবেন।

কর্নেল এস এম আবুল এহসান বলেন, ‘প্রতিটি উপজেলায় গড়ে দুই থেকে চার প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া নির্বাচনের পুরোটা সময় দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত জুড়ে কঠোর নজরদারি চলবে।’

তিনি আরও জানান, কেবল ঢাকা সেক্টরের অধীনেই ৪২টি অস্থায়ী বেজ ক্যাম্পের মাধ্যমে ৯টি জেলা ও ৪টি সিটি কর্পোরেশনের ৫১টি নির্বাচনী এলাকায় মোট ১৩৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হচ্ছে। ঢাকা ব্যাটালিয়ন (৫ ও ২৬ বিজিবি), নারায়ণগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৬২ বিজিবি) এবং গাজীপুর ব্যাটালিয়ন (৬৩ বিজিবি) এই দায়িত্ব পালন করবে।

যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি’র র‌্যাপিড অ্যাকশন টিম (জঅঞ), কুইক রেসপন্স ফোর্স (ছজঋ) এবং হেলিকপ্টার ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।

এছাড়া বিশেষ তল্লাশি অভিযান ও নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষজ্ঞ ‘কে-নাইন’ (কে-৯) ডগ স্কোয়াডও নিয়োজিত থাকবে।

বিজিবি কর্তৃপক্ষ জানায়, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বডি ওর্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস, মেটাল ডিটেক্টর এবং সাঁজোয়া যানসহ (এপিসি) অত্যাধুনিক যোগাযোগ সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে।

নির্বাচনী পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যাটালিয়ন ও সেক্টর সদর দপ্তরে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। ভোটের দিন নাশকতা ঠেকাতে টহল জোরদার, চেকপোস্ট স্থাপন এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চালাবে বিজিবি।

রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বিজিবি। সংস্থাটি সকল দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

বিজিবি আশা করছে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে।

আত্মমর্যাদাশীল দেশ গড়ার আহ্বান তারেক রহমানের

বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘ধানের শীষ যতবার দেশ পরিচালনা করেছে ততবার দেশের উন্নয়ন হয়েছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সারাদেশের মানুষ জানে বগুড়ার মাটি বিএনপি’র ঘাঁটি। আপনারা প্রমাণ করে দেখাবেন বগুড়ার মাটি শুধু বিএনপি’র ঘাঁটি নয়, বগুড়ার মাটি বিএনপি’র শক্তিশালী ঘাঁটি। আমি আপনাদেরই সন্তান। বহু বছর পর মোকামতলায় এসেছি। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।’

গতকাল শুক্রবার বিকেলে বগুড়া থেকে রংপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রাকালে মোকামতলা বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমানের আগমনের সংবাদে জুম্মার নামাজের আগে থেকেই স্থানীয় হাজার হাজার নেতা-কর্মী আর উৎসুক জনতার উপস্থিতিতে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় মোকামতলা চত্বর।

বন্দর এলাকাসহ মহাসড়কের দু’ধারে নারী-পুরুষ অপেক্ষা করতে যায়। তারেক রহমানও তার গাড়ি বহর থেকে হাত নাড়িয়ে উপস্থিত জনতাকে শুভেচ্ছা জানান।

এরআগে বগুড়া-২ আসনের বিএনপি দলীয় এমপি প্রার্থী ও শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলমকে সাথে নিয়ে তিনি মহাস্থানগড়ে আরেকটি পথসভায় দাঁড়িয়ে হযরত শাহ্ সুলতান বলখী মাহীসওয়ার (রহঃ) এর মাজার জিয়ারত করেন। এছাড়াও তারেক রহমান শিবগঞ্জ এলাকার

মহাস্থানগড় থেকে বগুড়ার সীমান্তপথ রহবল পর্যন্ত যাওয়ার পথে মীর শাহে আলমের সমর্থক ও জনসাধারণ দাঁড়িয়ে যান।

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর নিজ জেলা বগুড়ায় ফিরেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে তিনি দাঁড়িয়েছেন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পাশে। সাধারণ মানুষের কাতারে মিশে গিয়ে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার, যেখানে প্রতিটি মানুষ আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারবে।

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে বগুড়া শহরের একটি হোটেলে সিএসএফ গ্লোবালের আয়োজনে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু-কিশোরদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটির উদ্যোক্তা ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন আমরা সকলে মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা করি। যে বাংলাদেশে কমবেশি প্রতিটি মানুষের মর্যাদা তৈরি হবে এবং আত্মমর্যাদা নিয়ে প্রত্যেকে বেঁচে থাকতে পারবে।’

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি সমাজের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের অনেকের মধ্যে এমন অনেক গুণ আছে, যা আমাদের অনেকের নেই। সামাজিক, রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রীয় সকল অবস্থান থেকে যদি আমরা এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াই, তবে আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশ তাদের মধ্যে থেকে অনেক প্রতিভাবান মানুষ বের করে আনতে পারবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের জন্য খুব বেশি কিছু করার প্রয়োজন নেই, শুধু একটু সুযোগ করে দেয়া যাতে তারা আর দশজনের মতো স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারে এবং নিজেদের বিকশিত করতে পারে। কারণ, তারা আমাদের বাইরের কেউ নয়, তারা আমাদেরই অংশ। আমাদের প্রত্যেকের পরিবারের মধ্যেই হয়তো এমন কেউ না কেউ আছে।’

এ সময় তারেক রহমান উপস্থিত সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আসুন আজকের এই দিনে আমরা শপথ নিই, আমাদের যার যার অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াব এবং তাদের সহযোগিতা করব।’

অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো বগুড়ায় বক্তব্য রাখেন ডা. জুবাইদা রহমান। আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ১০ শিশুকে হুইলচেয়ার উপহার দেয়া হয়। তারেক রহমান শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজ খবর নেন এবং শিশুদের পরিবেশনায় গান উপভোগ করেন। এ সময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

পরে তিনি মহাস্থানগড়ে হজরত শাহ সুলতান বলখী মাহী সওয়ার (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন।

দেশের ৫ লাখ ১৮ হাজার ভোটারের কাছে পোস্টাল ব্যালট প্রেরণ করেছে ইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে পোস্টাল ভোট বিডি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে (আইসিপিভি) নিবন্ধনকারী সারা দেশের ৫ লাখ ১৮ হাজার ৬০৩ জন ভোটারের কাছে ব্যালট প্রেরণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আজ শনিবার প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, শনিবার বেলা সাড়ে সকাল ১১টা পর্যন্ত পোস্টাল ভোট বিডি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে (আইসিপিভি) অবস্থিত ৫ লাখ ১৮ হাজার ৬০৩ জন ভোটের কাছে ব্যালট প্রেরণ করা হয়েছে।

৭ হাজার ৩৬৭ জন ভোটার ব্যালট গ্রহণ করেছেন।

এছাড়া ৪ হাজার ৯০২ জন ভোটার কর্তৃক ভোটদান সম্পন্ন হয়েছে।

অপর দিকে, ২ হাজার ৩৯৪ জন ভোটার কর্তৃক পোস্ট অফিস/ডাক বাক্সে জমা দেয়া হয়েছে।

৪ লাখ ৫৮ হাজার ০৫৯ জন প্রবাসী ভোটার ভোটদান সম্পন্ন করেছেন: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে পোস্টাল ভোট বিডি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৫৯ জন প্রবাসী ভোটার ভোটদান সম্পন্ন করেছেন বলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে জানানো হয়েছে।

ইসি’র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পোস্টাল ভোট বিডি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট সংশ্লিষ্ট প্রবাসী গন্তব্যের দেশে পৌঁছেছে। ৫ লাখ ১৮ হাজার ৩৪৫ জন প্রবাসী ভোটার ব্যালট গ্রহণ করেছেন।

ভোটদান সম্পন্ন করেছেন ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৫৯ জন প্রবাসী।

এছাড়া ৪ লাখ ১০ হাজার ৯২৮ প্রবাসী ভোটার কর্তৃক সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস/ডাক বাক্সে জমা দেওয়া হয়েছে।

অপর দিকে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৬০ জন প্রবাসী ভোটের ব্যালট বাংলাদেশে পৌঁছেছে।

সালীম আহমাদ খান জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে (দেশে ও প্রবাসী মিলে) মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন।

৭০ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যার কথা স্বীকার করল ইসরায়েল

গাজা যুদ্ধে ৭০ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যার কথা স্বীকার করল ইসরায়েল

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজারের মতো ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে মেনে নিয়েছে ইসরায়েল। জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দেশটির বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

এর আগে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত নিহতের সংখ্যার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল ইসরায়েল। যদিও জাতিসংঘ দীর্ঘদিন ধরেই গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নথিভুক্ত নিহতের সংখ্যা নির্ভরযোগ্য বলে স্বীকৃতি দিয়ে আসছে। তবে ইসরায়েল দাবি করে আসছিল, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হামাসের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তাদের দেয়া তথ্য বিশ্বাসযোগ্য নয়।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিহতদের নাম ও বয়স প্রকাশ করে থাকে। সর্বশেষ হিসাবে তারা জানিয়েছে, মোট নিহতের সংখ্যা ৭১ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অক্টোবরে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ৪৮০ জনের বেশি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, আরও বহু মানুষ গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধাদের আলাদা করে চিহ্নিত করা না হলেও অধিকাংশ নিহত নারী ও শিশু বলে উল্লেখ করেছে কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ের বরাত দিয়ে ইসরায়েলের ওয়াইনেট নিউজ ওয়েবসাইটসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানায়, সামরিক বাহিনীও প্রায় একই ধরনের একটি হিসাব মেনে নিয়েছে।

ওয়াইনেটকে এক সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধে প্রায় ৭০ হাজার গাজাবাসী নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে নিখোঁজ ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত নন। (হতাহতদের মধ্যে) কারা সন্ত্রাসী ছিলেন আর কারা সরাসরি জড়িত ছিলেন না—এটি নির্ধারণে আমরা এখন কাজ করছি।’

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, ‘এই বিষয়ে যেকোনো তথ্য বা প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিক ও নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।’

সূত্র: রয়টার্স

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখা বোকামি: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখা বোকামি হবে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) চীনের সাংহাইয়ে সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চীন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের বিষয়ে স্টারমার বলেন, আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ সরাসরি দেশের অভ্যন্তরে প্রভাব ফেলছে। তাই অস্থির বিশ্বে যুক্ত থাকতে হবে। উল্লেখ্য, ট্রাম্প চীনের সঙ্গে ব্যবসা করাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্য আমি দেখেছি। এই সফরের আগে আমরা তার টিমের সঙ্গে আলোচনা করেছি। ট্রাম্প নিজেও এপ্রিলে চীন সফরে আসতে পারেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যা ঘটছে, তার প্রভাব সরাসরি আমাদের ঘরোয়া পরিস্থিতিতে পড়ছে। তাই আমাদের যুক্ত থাকতে হবে।’

বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য ও চীনের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমন্বয় জরুরি, এমন মন্তব্য করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ক্রিস্টোফার পিসারিদিস। তিনি বলেন, বিশ্ব যখন আরও বিভক্ত হওয়ার ঝুঁকিতে, তখন এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ফাঁকে সিজিটিএনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন পিসারিদিস।

তিনি বলেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী যা করছেন, তা একেবারেই সঠিক। আমি খুবই উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা বার্তা ও নীতি সম্পর্কে। দেখা যাচ্ছে, বিশ্ব তিনটি পরাশক্তির মধ্যে ভাগ হয়ে যাচ্ছে, যেখানে তারা একেক জায়গা দখল করছে।

এ সময় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সাম্প্রতিক চীন সফরের গুরুত্বও তুলে ধরেন ক্রিস্টোফার পিসারিদিস। এছাড়া আট বছরের মধ্যে এটিই কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চীন সফর। এর পাশাপাশি লন্ডনে নতুন চীনা দূতাবাস নির্মাণের অনুমোদন দেয়াকেও ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন এই নোবেলজয়ী।

‘মেয়েদের মাস্টার্স পর্যন্ত পড়ালেখা ফ্রি করবে জামায়াত’: ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে মেয়েদের মাস্টার্স পর্যন্ত বিনা খরচে পড়ালেখার সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি আরও বলেন, কুমিল্লাকে বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করা হবে এবং দল ক্ষমতায় না এলেও কুমিল্লাকে বিভাগে উন্নীত করতে বাধ্য করা হবে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ৯টায় কুমিল্লা টাউন হল মাঠে ১১ দলীয় জোটের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, যুবসমাজ বেকার ভাতা পাওয়ার জন্য আন্দোলন করেনি, বরং সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, যারা নিপীড়িত হওয়ার পরিবর্তে নিপীড়ক হয়ে উঠেছে, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে জনগণ তাদের পরাজিত করবে। এ ছাড়া তিনি মায়েদের অপমান করা হলে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের আবারও মাঠে নামার আহ্বান জানান।

ডা. শফিক বলেছেন, বিভাগ গঠনের আগে কুমিল্লা বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করতে হবে এবং কুমিল্লা ইপিজেডকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা গেলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এখানে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন। তিনি বলেন, আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি করি না, প্রতিশোধ আমাদের নীতি নয়। আমরা সুনীতির রাজনীতি করি, রাজার নীতি নয়।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. শফিক বলেন, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দমন-পীড়নের শিকার হলেও ১/১১ পরবর্তী সময়ে কোনো দলের অফিস বন্ধ হয়নি বা প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, গুমের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা ৩৬ জুলাই সেজদায় শুকরিয়া আদায় করেছি। আমরা ঘোষণা দিয়েছি কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেব না।

তিনি আরও বলেন, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও জামায়াত চাঁদাবাজিতে জড়াবে না এবং খুব সীমিত আকারে মামলা করেছে। আমরা একজনকে আসামি করে মামলা করেছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। তাদের অবদানের কারণেই আজ আমরা কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি। তাদের চোখের পানি ও রক্ত আমরা দেখেছি।

ডা. শফিক অভিযোগ করে বলেন, দেশে চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে। শিল্পপতি থেকে শুরু করে ফুটপাতের ব্যবসায়ী, কেউই রেহাই পাচ্ছেন না। রাতে ফোন দিয়ে চাঁদা চাওয়া হয়, সকালে লোক পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়। সাড়ে ১৫ বছর আমরা নির্যাতনের শিকার হয়েছি। তবু দেশের মানুষের ভালোবাসার কারণে দেশ ছেড়ে যাইনি এবং যাবও না।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দলের আমির বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান জানাতে হবে। ভোটের আগে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমরাও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না। মা-বোনদের সম্মান নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেললে যুব সমাজ চুপ থাকবে না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে দাঁড়াতে হবে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় এক বৃদ্ধা মা তাকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন রাখেন, একজন মাকে জড়িয়ে ধরলে এত আপত্তি কেন? তাদের কি মা নেই?

কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাগপার সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমির মোহাম্মদ শাহজাহানসহ ১১ দলীয় জোটের দলীয় নেতাকর্মীরা।

ভারতে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে শঙ্কা, ভেন্যু বদলের গুঞ্জন

ভারতে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে অনিশ্চয়তা ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। দেশটিতে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে কেন্দ্র করে একাধিক ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করায় টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইংল্যান্ডের আপত্তির পর এবার উদ্বেগ জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়াও।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ড ইতিমধ্যে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে তাদের আপত্তির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে।

নিপাহ ভাইরাসে সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিকেই এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছে দেশটি। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল স্বাস্থ্যমন্ত্রী মার্ক বাটলার জানিয়েছেন, নিপাহ পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আপাতত অসুস্থ যাত্রীদের জন্য বিদ্যমান স্বাস্থ্যবিধিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই, তবে অস্ট্রেলিয়া সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এশিয়ার বিভিন্ন বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করা হলেও অস্ট্রেলিয়ার বিমানবন্দরগুলোতে এখনো নতুন কোনো বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়নি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নিপাহ ভাইরাস করোনাভাইরাসের চেয়েও বেশি প্রাণঘাতী হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (এনসিডিসি) স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য মাস্ক, গগলস ও পিপিই ব্যবহারের কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিপাহ ভাইরাসের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা জোরদার হওয়ায় অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যেও সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

পাকিস্তানি গণমাধ্যম আরো জানিয়েছে, ইংল্যান্ডের অবস্থানের পর ইউরোপের কয়েকটি দেশও ভারতে খেলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে। এমনকি পুরো টুর্নামেন্ট শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২০ দল নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপের মোট ৫৫টি ম্যাচের মধ্যে ২০টি শ্রীলঙ্কায় এবং বাকি ৩৫টি ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আছে।

তবে শেষ মুহূর্তে ভেন্যু পরিবর্তন করা আইসিসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

কারণ এর আগে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল আইসিসি, যা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।