বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬

মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আবুল কালাম আযাদের আপিলের শুনানি মুলতবি

মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে আবুল কালাম আযাদের করা আপিলের ওপর শুনানি মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ।বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ আজ মঙ্গলবার শুনানি মুলতবি করেন। সুপ্রিম কোর্টের অবকাশের পর চার সপ্তাহের জন্য শুনানি মুলতবি করা হয়েছে।সুপ্রিম কোর্টের বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি ১৬ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে। সাপ্তাহিক ছুটিসহ অবকাশ শেষে ২৫ অক্টোবর নিয়মিত আদালত বসবেন। এ হিসেবে নভেম্বরে আপিলের ওপর শুনানি হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।.আবুল কালাম আযাদের আইনজীবীর তথ্য অনুসারে, মানবতাবিরোধী অপরাধের ওই মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ১৩ বছর আগে দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে বিলম্ব মার্জনাসহ গত ৬ জুলাই আপিলটি করেন আবুল কালাম আযাদ। এতে ৪ হাজার ৯১৫ দিন বিলম্ব মার্জনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের সাজা স্থগিতও চাওয়া হয়।আগের ধারাবাহিকতায় আপিল ও সাজা স্থগিত চেয়ে আযাদের করা আবেদন শুনানির জন্য গত ১৭ আগস্ট আপিল বিভাগে ওঠে। আযাদের করা আপিল খারিজ চেয়ে সেদিন আবেদন দাখিল করে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি আদালতের আজকের কার্যতালিকায় ৬ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।.আদালতে আবুল কালাম আযাদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিকী, ইমরান এ সিদ্দিকী এবং আইনজীবী মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (নাজিব মোমেন) ও মীর ওসমান বিন নাসিম। অন্যদিকে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।অবকাশের পর চার সপ্তাহ, অর্থাৎ আদালত খোলার (২৫ অক্টোবর) পর থেকে চার সপ্তাহের জন্য শুনানি মুলতবি করা হয়েছে বলে জানান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিকী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এখন মূল আপিল ও আবেদনের ওপর একসঙ্গে শুনানি হবে।আযাদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা স্থগিত করা হয়েছিল, যার মেয়াদ ২২ অক্টোবর শেষ হচ্ছে, তাহলে কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিকী বলেন, এই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিতে বলেছেন আদালত।.এর আগে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি রায় দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার আগে থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের অক্টোবরে আবুল কালাম আযাদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগেই তাঁর দেশে ফেরার খবর আসে।মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের ১৩ বছর পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আত্মসমর্পণ করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হন আবুল কালাম আযাদ। সেদিন শুনানি নিয়ে ট্রাইব্যুনাল এক আদেশে আসামিকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সত্যায়িত কপি সরবরাহ করা ও যতক্ষণ না আপিল বিভাগ যথাযথ আদেশ দেন, ততক্ষণ আবুল কালাম আযাদ যেমন আছেন, তেমনই থাকবেন বলে উল্লেখ করেন।.৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে গ্রহণযোগ্য হবে না, সেটা হোক শেখ হাসিনা বা আবুল কালাম আযাদ.২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারের উদ্যোগ নেয়। সেই বিচার শুরুর পর প্রথম রায়ে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে সেই রায় দেওয়া হয়েছিল।.মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত আবুল কালাম আযাদ যেভাবে আছেন, সেভাবে থাকবেন

‘মেরে ফেলার হুমকি পেয়েছি’—বরখাস্তের ৪ দিন পর বাংলাদেশ কোচের বিস্ফোরক দাবি

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে টানা দুই হারে বাংলাদেশের মূল পর্বে ওঠার আশা শেষ হয়ে যাওয়ার পরই দায়িত্ব হারান অনূর্ধ্ব-২০ দলের প্রধান কোচ জেরার্ড জোনস। সিরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারের পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর তাঁর সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।বরখাস্তের চার দিন পর বাংলাদেশ অধ্যায় নিয়ে মুখ খুলেছেন জোনস। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি থেকে ফেসবুকে দেওয়া দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশে কাজ করার সময় ব্যক্তিগত আক্রমণের পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস এবং মেরে ফেলার হুমকিও পেয়েছেন।.জোনস লিখেছেন, ‘ফুটবলের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করা ন্যায্য। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস এবং মেরে ফেলার হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি কিছু অত্যন্ত বাজে বার্তা পেয়েছি, আমার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করা হয়েছে এবং মেরে ফেলার হুমকিও পেয়েছি। আমি একজন স্বামী, একজন বাবা এবং একজন সন্তান।’জোনসকে দায়িত্ব থেকে সরানোর নির্দিষ্ট কারণ অবশ্য বাফুফের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়নি। বিজ্ঞপ্তিতে শুধু বলা হয়, এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের দায়িত্ব থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করেছে বাফুফে।.তবে বাফুফের একটি সূত্র জানিয়েছিল, গত ১৯ আগস্ট টিম হোটেলে সহকারী কোচ আতিকুর রহমানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনা এবং ফল বিপর্যয়ের জেরেই জোনসকে সরানো হয়েছে। সেদিন সহকারী কোচের সঙ্গে কথা–কাটাকাটির এক পর্যায়ে পরিস্থিতি ধাক্কাধাক্কি পর্যন্ত গড়ায়। পরে জোনস নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকেন।.এদিকে জোনস তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের হয়ে কাজ করার সময়টাকে শুধু ফলাফলের দৃষ্টিতে দেখতে রাজি নন। তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে আমি শুধু জাতীয় দলের ফলাফল নিয়ে কাজ করতে যাইনি। যুব উন্নয়ন, কোচ তৈরি, প্রতিভা শনাক্তকরণ এবং প্রবাসী খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করার মতো বৃহত্তর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সময় ছিল খুব কম।’বাংলাদেশ দলের সঙ্গে প্রায় ৯ সপ্তাহ কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন জোনস। এরপরই তাঁকে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে খেলতে হয়। তাঁর মতে, প্রস্তুতির সময়ের দিক থেকে বাংলাদেশ এমন দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে, যাদের ফুটবলার তৈরির কাঠামো অনেক বেশি প্রতিষ্ঠিত।.তবে অনুশীলনে দলের উন্নতিও দেখেছিলেন জোনস। বল দখল, আক্রমণে বৈচিত্র্য, বক্সে প্রবেশ, হাই প্রেসিং ও কাউন্টার প্রেসিংয়ে দল ভালো করছিল বলে দাবি জোনসের। কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে সেই পরিকল্পনা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। জোনস দাবি করেন, ‘অনুশীলনে আমরা যে ফুটবল তৈরি করেছিলাম, মাঠে সেটি ধারাবাহিকভাবে খেলতে পারিনি। দলটি আমাদের প্রস্তুতির সময় যে নীতিগুলো তৈরি করেছিল, তার তুলনায় অনেকটাই অচেনা হয়ে গিয়েছিল।’.চ্যাম্পিয়নস লিগের এ মৌসুমে যে নতুন নিয়মগুলো চালু হচ্ছে.তবে দুটি ম্যাচের ফল দিয়ে নিজের দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারকে বিচার করতে চান না জোনস। প্রায় দুই দশকের কোচিং অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ‘এই সময়ের কাজ ও অর্জন দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ফলাফলে মুছে যাওয়ার নয়।’বাংলাদেশের ফুটবলের কাঠামো নিয়েও নিজের মূল্যায়ন দিয়েছেন তিনি। জোনসের মতে, ‘এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে খেলোয়াড় বাছাই, অবকাঠামো, ফুটবল সংস্কৃতি ও উচ্চপর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরিতে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন।’বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও ফুটবলের জন্য শুভকামনাও জানিয়েছেন তিনি। জোনসের বিশ্বাস, বাংলাদেশে প্রতিভা আছে, মানুষের ফুটবলের প্রতি আবেগ আছে। এখন সেই প্রতিভাকে কাজে লাগাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সঠিক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।.আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে কোনো দিন খেলেননি, কিন্তু বিশ্বকাপ জিতেছেন এই গোলরক্ষক

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ১৫ শিক্ষার্থী আহত

উপজেলা প্রতিনিধি, দাউদকান্দি (কুমিল্লা)

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ১৫ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার জিংলাতলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি প্রেমদাস জানান, বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা সেন্টমার্টিন পরিবহনের একটি বাসে করে বার্ষিক শিক্ষাসফরে (ট্যুর) কক্সবাজারে যাচ্ছিলেন। ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে বাসটি জিংলাতলী এলাকা অতিক্রম করার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে বাসটি মহাসড়ক থেকে ছিটকে পাশের নিচু স্থানে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং মহাসড়কে যান চলাচলেও কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। বর্তমানে ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

গুগল ম্যাপে এখন ঢাকাসহ ৩৪ জেলার বায়ুর মান, দেখবেন কীভাবে

গুগল ম্যাপে এখন বাংলাদেশের ৩৪টি জেলার বায়ুর মানসংক্রান্ত তথ্য দেখা যাচ্ছে। গুগল ম্যাপের ‘এয়ার কোয়ালিটি’ স্তরটি চালু করে কোনো স্থানের ওপর চাপ দিলে সেখানকার বায়ুমান সূচক বা একিউআই জানা যাচ্ছে।বাংলাদেশ থেকে এ উদ্যোগে তথ্য ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের বসানো পর্যবেক্ষণযন্ত্র থেকে পাওয়া তথ্য গুগলের ব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে।বায়ুর মান সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে সহজে পৌঁছে দেওয়া এবং বায়ুদূষণের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে ক্যাপস।.গতকাল ৭ সেপ্টেম্বর ছিল বিশ্ব নির্মল বায়ু দিবস। এ দিবসে বায়ুদূষণের তথ্য জানার সহজ উপায়ের সন্ধান দিল ক্যাপস।রাজধানী ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত নগরীগুলোর একটি। সাধারণত অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ঢাকায় বায়ুদূষণ খুব বেশি থাকে। এ সময় বৃষ্টি কম থাকে, তাই দূষণের মাত্রা হয় অত্যধিক। তবে শুধু ঢাকা নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি শহরেই বায়ুদূষণ কমবেশি আছে। আর শুধু শুষ্ক মৌসুমে নয়, দূষণ এখন থাকে প্রায় সারা বছরই। যেমন আজ মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৯টায় বিশ্বের ১২৭টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ছিল ষষ্ঠ। বায়ুর মান ছিল ১৫৭, অর্থাৎ অস্বাস্থ্যকর। বর্ষা পরের এই শরতে সাধারণত বায়ুর মান ভালো থাকে, কিন্তু এখন তা–ও থাকছে না।.মুঠোফোনে গুগল ম্যাপ খুলে ‘লেয়ারস’ বা স্তরচিহ্নে চাপ দিতে হবে। এরপর ‘এয়ার কোয়ালিটি’ নির্বাচন করলে মানচিত্রের বিভিন্ন স্থান রং ও সংখ্যার মাধ্যমে চিহ্নিত হবে। নির্দিষ্ট কোনো স্থানের ওপর চাপ দিলে সেখানে বায়ুর মান কেমন, তা দেখা যাবে। বায়ুমান সূচক বা একিউআই হচ্ছে বিভিন্ন দূষকের মাত্রাকে একটি সংখ্যার মাধ্যমে প্রকাশের পদ্ধতি। সংখ্যা ও রং দেখে কোনো এলাকার বায়ু ভালো, মাঝারি, অস্বাস্থ্যকর বা ঝুঁকিপূর্ণ কি না, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।.ক্যাপস জানিয়েছে, বায়ুর মান সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রতিষ্ঠানটি দেশজুড়ে পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। বর্তমানে ৩৪ জেলায় তাদের লাইভ মনিটরিং স্টেশন চালু হয়েছে। অর্থাৎ দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে প্রায় ৫৩ শতাংশ জেলায় ক্যাপসের পর্যবেক্ষণযন্ত্র রয়েছে।জেলাগুলো হলো নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, শেরপুর, জামালপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, ঢাকা, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট ও মৌলভীবাজার।.পর্যায়ক্রমে বাকি জেলাগুলোতেও স্টেশন বসিয়ে ৬৪ জেলা এই নেটওয়ার্কে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।প্রতিটি পর্যবেক্ষণযন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের সেন্সর রয়েছে। এগুলো দিয়ে তাপমাত্রা, আপেক্ষিক আর্দ্রতা, অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা পিএম২.৫, বস্তুকণা পিএম১০, মোট উদ্বায়ী জৈব যৌগ বা টিভিওসি, বায়ুমান সূচক এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা পরিমাপ করা হচ্ছে। কয়েকটি জেলার যন্ত্রে সালফার ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড পরিমাপের ব্যবস্থাও রয়েছে। ক্যাপসের তথ্য অনুযায়ী, স্টেশনগুলো সপ্তাহের ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা সচল থাকে। এসব স্টেশন থেকে পাঁচ মিনিট পরপর তথ্য পাঠানো হয়। তবে গুগল বিভিন্ন উৎসের তথ্য সমন্বয় করে সাধারণত ঘণ্টাভিত্তিক বায়ুমান সূচক হিসাব ও প্রদর্শন করে।দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে স্টেশনগুলো বসানো হয়েছে। ক্যাপস মনে করছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এভাবে কাজ করার ফলে বায়ুদূষণ নিয়ে গবেষণা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়বে।.বাংলাদেশে বায়ুদূষণের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষতি কতটা গুরুতর, তার একটি চিত্র পাওয়া যায় আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের (ক্রিয়া) গবেষণায়।‘বাংলাদেশে সূক্ষ্ম কণাদূষণের জনস্বাস্থ্য প্রভাব’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি প্রকাশ করা হয়। গবেষণাটি পরিচালনা করেন ড্যানিয়েল নেসান, হুবার্ট থিয়েরিও ও জেমি কেলি। প্রতিবেদনটির সম্পাদক ছিলেন জোনাথন সাইডম্যান।গবেষণায় দেখা যায়, বর্তমান পিএম২.৫ দূষণের কারণে বাংলাদেশে বছরে ১ লাখ ২ হাজার ৪৫৬ জনের অকালমৃত্যু ঘটে। এসব মৃত্যুর বড় অংশ হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ, নিম্ন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ও ফুসফুসের ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে শুধু নিম্ন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণেই বছরে প্রায় ৫ হাজার ২৫৮ জনের মৃত্যু হয়। পিএম২.৫ বলতে বাতাসে ভাসমান ২ দশমিক ৫ মাইক্রোমিটার বা তার চেয়ে কম ব্যাসের অতিক্ষুদ্র কণাকে বোঝায়। এসব কণা শ্বাসের সঙ্গে মানুষের ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে। এমনকি রক্তপ্রবাহেও মিশে যেতে পারে।ক্রিয়ার হিসাবে, পিএম২.৫ দূষণের কারণে বাংলাদেশে বছরে হাঁপানিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৪৮২ বার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যেতে হয়। একই কারণে প্রতিবছর প্রায় ২৬ কোটি ৩০ লাখ কর্মদিবস নষ্ট হয়।সূক্ষ্ম কণাদূষণের সঙ্গে বছরে প্রায় ৯ লাখ ৪৮৫টি অপরিণত বা সময়ের আগে জন্ম এবং ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৩৮৯টি কম ওজনের শিশুর জন্মের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষকেরা বলেছেন, বায়ুদূষণের এই প্রভাব এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মেও ছড়িয়ে পড়ছে।.ক্যাপসের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল হক। তিনি বর্তমানে অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) আছেন। তিনি বলেন, গুগল ম্যাপের মাধ্যমে বায়ুদূষণের তথ্য আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে। এর ফলে মানুষের মধ্যে সচেতনতাও বাড়তে পারে।তবে পর্যবেক্ষণযন্ত্রের মান ও তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জিয়াউল হক। তিনি বলেন, ‘যেসব যন্ত্র বসিয়ে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, সেগুলোর মান কেমন, তা দেখতে হবে। সাধারণত তুলনামূলক কম দামের যন্ত্র দিয়ে এ ধরনের কাজ করা হয়। এসব যন্ত্র তিন থেকে চার বছর পরপর বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে। যন্ত্র নিয়মিত বদলানো, রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্যালিব্রেশনের ব্যবস্থা আছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।’পরিবেশ অধিদপ্তরও দেশের বিভিন্ন স্থানে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ করে উল্লেখ করে জিয়াউল হক বলেন, মাঝেমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ক্যাপসের সংগৃহীত তথ্য পাশাপাশি রেখে মিলিয়ে দেখা উচিত। এতে ক্যাপসের যন্ত্রের পাঠ কতটা নির্ভরযোগ্য, তা যাচাই করা সম্ভব হবে।.গুগলের তথ্য অনুযায়ী, মানচিত্রে দেখানো বায়ুর মান শুধু একটি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের সরাসরি পাঠানো তথ্য নয়। বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ স্টেশন ও বাণিজ্যিক সেন্সরের তথ্যের পাশাপাশি স্যাটেলাইটের উপাত্ত, আবহাওয়ার ধরন, যানবাহনের চাপ, অগ্নিকাণ্ড এবং ভূমির আচ্ছাদনসংক্রান্ত তথ্য সমন্বয় করে বায়ুর মান নির্ধারণ করা হয়।ফলে গুগল ম্যাপে কোনো স্থানের জন্য দেখানো বায়ুমান সূচক এবং নিকটবর্তী কোনো পর্যবেক্ষণ স্টেশনের সরাসরি পাঠের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। একটি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের তথ্য দিয়ে পুরো জেলার সব এলাকার বায়ুর মানও একই রকম বলে ধরে নেওয়া যায় না। বায়ুর মান অল্প দূরত্বের মধ্যেও বদলে যেতে পারে।.ক্যাপসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সাতটি ধাপ অনুসরণ করা প্রয়োজন। এগুলো হচ্ছে বায়ুদূষণের বর্তমান ও ঐতিহাসিক তথ্য সংগ্রহ, সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ, দূষণের উৎস চিহ্নিত করা, দূষণ বাড়া বা কমার কারণ অনুসন্ধান, নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য পদ্ধতি নির্ধারণ, সময় ও ব্যয়ের ভিত্তিতে পদ্ধতিগুলোর তুলনামূলক ছক তৈরি এবং নির্বাচিত পদ্ধতি প্রয়োগের পাশাপাশি আইনের বাস্তবায়ন।আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার আরও বলেন, ‘দূষণের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য না থাকলে এসব কাজের কোনোটিই ঠিকভাবে করা সম্ভব নয়। স্বাধীনতার এত বছর পরও দেশের জেলা শহরগুলোয় বায়ুর মান সম্পর্কে পর্যাপ্ত তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে দূষণের উৎস ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়ে।’ ক্যাপসের চেয়ারম্যান বলেন, ভূমিতে থাকা পর্যবেক্ষণ স্টেশন থেকে সংগৃহীত তথ্য স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ও অন্যান্য উপাত্তের সঙ্গে সমন্বয় করে মানচিত্রে যুক্ত করছে গুগল। এতে এসব তথ্য সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে।.ক্যাপস জানিয়েছে, তারা কয়েকটি সরকারি, বেসরকারি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে। পর্যবেক্ষণযন্ত্র থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথ গবেষণা পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা এসব তথ্য নিয়ে থিসিস করতে পারবেন। পাশাপাশি তাঁদের জন্য ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরির কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।দেশের সব জেলায় নির্ভরযোগ্য পর্যবেক্ষণ স্টেশন স্থাপন করা গেলে বায়ুদূষণের স্থান ও সময়ভিত্তিক পরিবর্তন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। এসব তথ্য দূষণের উৎস চিহ্নিত করা, স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করা এবং নীতিনির্ধারণে কাজে লাগতে পারে। তবে তার জন্য যন্ত্রের মান, নিয়মিত ক্যালিব্রেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ, তথ্য যাচাই এবং সংগৃহীত উপাত্তের উন্মুক্ততা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এই ব্রাজিলের কি আসলেই বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা আছে, কী বলেছেন সাবেক ব্রাজিল মিডফিল্ডার

পাঁচবারের বিশ্বজয়ী সেই হলদে জার্সির ভেতর এখন যেন আর কোনো স্বপ্ন উঁকি দেয় না; বরং জমাট বেঁধে আছে একবুক হাহাকার। সর্বশেষ বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া ব্রাজিল যখন দিগ্‌বিদিক হারিয়ে ধুঁকছে, তখন বুকে দীর্ঘশ্বাস চেপে রাখারও কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না সাবেক ব্রাজিল মিডফিল্ডার পাওলো সিলাস।১৯৮৯ সালে ব্রাজিলের হয়ে কোপা আমেরিকা জেতা এই মিডফিল্ডার সাফ জানিয়ে দিলেন তেতো সত্যটা। কার্লো আনচেলত্তির বর্তমান দলটিকে নিয়ে তিনি কোনো আশার আলো দেখছেন না। কড়া সুরেই উচ্চারণ করলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের আবারও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা খুব কঠিন হবে।’.১৯৮৬ মেক্সিকো ও ১৯৯০ ইতালি—দুটি বিশ্বকাপে সেলেসাওদের হয়ে খেলা এই মিডফিল্ডার ব্রাজিলের কথা বলতে গিয়ে তুলে ধরেছেন নির্মম বাস্তবতা। সর্বশেষ বিশ্বকাপে লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে হয়নি বলে যেন একরকম হাঁপ ছেড়েই বেঁচেছেন সিলাস। তাঁর ভাষায়, ‘আর্জেন্টিনা এখন আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। কোনো বড় শিরোপা না জিতেও পর্তুগাল আমাদের চেয়ে ভালো অবস্থানে আছে। নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নেওয়াটাই ভালো হয়েছে, তা না হলে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়ে হারতে হতো। সেটা হতো আরও বেশি লজ্জার।’.কিন্তু ব্রাজিলের ফুটবলে এই ভরাডুবির কারণটা কী? রোগটা ঠিক কোথায় বাসা বেঁধেছে? সিলাস তা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন। আক্রমণভাগ থেকে শুরু করে রক্ষণের দৈন্য তুলে ধরে বললেন, ‘ব্রাজিলে অনেক দিন ধরে আসল নাম্বার টেন বা নাম্বার নাইন নেই। সবাই ডান উইংয়ে খেলছে। ভালো ফুলব্যাকও নেই। এখন কেউ ফুলব্যাক হতে চায় না। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি দিয়ে লাইক পাওয়ার সুযোগ নেই বলে।’সমাধান দিতে পারেননি ৬১ বছর বয়সী সিলাস। তবে তাঁর ক্ষোভ ব্রাজিলিয়ান ক্লাবগুলোকে নিয়ে। উদাহরণ হিসেবে বললেন গ্রেমিওর কথা। যেখানে ১৩ জন বিদেশি ফুটবলার খেললেও তাঁদের কেউ নিজের জাতীয় দলের একাদশে স্থান পাওয়ার মতো নন। অথচ তাঁদের কারণে ব্রাজিলের উদীয়মান তরুণদের উঠে আসার পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।.‘নেপাল, তোমরা একা নও’—বার্তায় শুরু হবে চ্যাম্পিয়নস লিগ.ব্রাজিল কি তবে ফুটবল খেলাটাই ভুলে গেছে? একসময়ের সেই শৈল্পিক বল ট্র্যাপিং, চেনা সেই সাম্বা নাচ, সব কি ইতিহাস? সিলাসের উত্তরটা বেশ ধারালো, ‘হ্যাঁ, আমরা পিছিয়ে পড়েছি। একসময় হাভেলাঞ্জের যুগে মাঠ ও মাঠের বাইরে—দুই জায়গাতেই আমাদের শক্ত অবস্থান ছিল। এখন কোথাও কিছু নেই। অন্যরা যাকে বলে “ফলস নাইন”, আমাদের তো আসল নাম্বার নাইনই নেই, ফলস নাইন আসবে কোত্থেকে!’.ব্রাজিলের হয়ে ৩৮ ম্যাচ খেলা সাবেক এই প্লেমেকার অবশ্য ইতালিয়ান কোচ আনচেলত্তিকে দোষ দিতে নারাজ। তাঁর মতে সমস্যাটা আরও গভীরে। মিলানে একসঙ্গে খেলার স্মৃতি মনে করে তিনি বললেন, ‘আমি আনচেলত্তিকে পছন্দ করি। মিলানে তাঁর সঙ্গে খেলার সময় থেকেই তাঁকে চিনি, দারুণ একজন মানুষ। সমস্যাটা তাঁর নয়; সমস্যা আমাদের দেশের তৃণমূল ফুটবলে। কারণ, আজকের বাচ্চারা তো জানেই না তাদের আসল আদর্শ কে!’সিলাসের চোখে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ‘দারুণ ফুটবলার’, কিন্তু এখনো ‘সুপারস্টার’ নন। আর ব্রাজিল ফুটবলের সর্বশেষ সুপারস্টার নেইমার সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন, ব্রাজিলে তাঁকে ‘অর্ধেক মানুষ ভালোবাসে আর বাকি অর্ধেক অপছন্দ করে’।.পিএসজির চোখ রিয়ালের রেকর্ডে, রিয়ালের সামনে আজ ইন্টার

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে ১৪ হাজার কেজি সোনা, কোথায় ও কীভাবে আছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে বর্তমানে প্রায় ১৪ হাজার ২৭৮ কেজি সোনা রয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১৩ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা। মজুত এই সোনার বড় অংশই সংরক্ষিত আছে যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে। বাকি সোনা রাখা আছে কয়েকটি আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অর্থবছর বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে থাকা সোনার পরিমাণে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভে থাকা সোনার মূল্যমানও অনেকটা বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে মোট ৪ লাখ ৫৯ হাজার ১৬৩ দশমিক ৫২ ট্রয় আউন্স সোনা মজুত ছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষেও সোনার সেই পরিমাণ অপরিবর্তিত রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে থাকা সোনার মোট আর্থিক মূল্য ছিল ১১ হাজার ১৪ কোটি ১০ লাখ টাকা। গত অর্থবছর শেষে সেই মূল্যমান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৪৩৬ কোটি ৬২ লাখ টাকায়। অর্থাৎ পরিমাণ একই থাকলেও মজুত সোনার বাজারমূল্য বেড়েছে প্রায় ২ হাজার ৪২২ কোটি ৫২ লাখ টাকা।বিশ্ববাজারে সোনা, রুপা ও প্লাটিনামের মতো মূল্যবান ধাতুর ওজন সাধারণত ট্রয় আউন্সে পরিমাপ করা হয়। এক ট্রয় আউন্স সমান ৩১ দশমিক ১০৩৫ গ্রাম। ট্রয় আউন্সের হিসাব আর সাধারণ আউন্সের হিসাব এক নয়। সাধারণ আউন্সের ওজন ২৮ দশমিক ৩৫ গ্রাম। খাদ্যসহ দৈনন্দিন পণ্যের ওজন মাপতে এই হিসাব ব্যবহৃত হয়।.বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় সোনা মাপার জন্য সাধারণত ভরি বা তোলা ব্যবহার করা হয়। ১ ভরি সমান ১১ দশমিক ৬৬ গ্রাম। সেই হিসাবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রায় ১৪ হাজার ২৮২ কেজি (১৪ দশমিক ২৮ টন) বা ১২ লাখ ২৪ হাজার ৫৮৮ ভরি সোনা আছে।ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতির কারণে বিশ্বজুড়ে গত দুই বছরে বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে বেশি ঝুঁকছেন। ফলে বিশ্ববাজারে সোনার দাম লাগামহীনভাবে বেড়েছে। গোল্ড প্রাইজ ডট অর্গের তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালের জুন মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে এক আউন্স সোনার দাম ছিল ৩ হাজার ২৯৭ মার্কিন ডলার। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি সেই দাম বেড়ে ৫ হাজার ৬০০ ডলারে ওঠে। এরপর অবশ্য দাম কমেছে। গত ৩০ জুন বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ৪ হাজার ২৪ ডলার। সর্বশেষ গত রোববার প্রতি আউন্স সোনা বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৪৩০ ডলারে।বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশেও সোনার দাম বেড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশেও সোনার দাম বাড়তে থাকে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে প্রথমবারের মতো সোনার ভরি এক লাখ টাকা ছাড়ায়। ২০২৫ সালের জুন মাসে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৭০ হাজার ২৩৬ টাকা। চলতি বছরের জুনে সেই দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকায়। সর্বশেষ গত রোববার দেশে ভালো মানের প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা।.সোনা সব সময়ই একটি ভালো জামানত ও নিরাপদ বিনিয়োগ। যেহেতু আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সোনার রিজার্ভ থাকাটা একটি ইতিবাচক ও লাভজনক বিনিয়োগমোস্তাফিজুর রহমান, সম্মাননীয় ফেলো, সিপিডি.কোথায় জমা দেশের সোনাকেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, মজুত সোনা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে জমা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৯২৭ ট্রয় আউন্স সোনা জমা আছে যুক্তরাজ্যের ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে, যা লেন্ডিং বা ঋণ কার্যক্রমে নিয়োজিত। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক এসব সোনা কেবল ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে ফেলে না রেখে তা থেকে অতিরিক্ত আয় করার জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ঋণ হিসেবে ধার দিতে পারে। তার বিনিময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দিষ্ট হারে সুদ বা ফি আদায় করে।অন্যদিকে প্রায় ৮৩ হাজার ৯৬১ ট্রয় আউন্স সোনা সরাসরি বাংলাদেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব ভল্টে সংরক্ষিত রাখা আছে। অবশিষ্ট সোনা যুক্তরাজ্যভিত্তিক দুটি বড় আন্তর্জাতিক ব্যাংক—লন্ডনের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও এইচএসবিসিতে আমানত বা বিনিয়োগ হিসেবে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে গত জুন পর্যন্ত স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে ৯২ হাজার ৭৩৯ ট্রয় আউন্স সোনা এবং এইচএসবিসিতে ৯৩ হাজার ৫৩৫ ট্রয় আউন্স সোনা জমা রাখা হয়েছে।.অন্যদিকে সোনার পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব ভল্টে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭২৮ ট্রয় আউন্স রুপা মজুত আছে। গত এক বছরে রুপার পরিমাণেও কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে দাম বৃদ্ধির কারণে এক বছরের ব্যবধানে রুপার বাজারমূল্য ৭৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে প্রায় ১২১ কোটি টাকা।ব্যাংক খাত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বেড়েছে। এর ফলে সোনার দামও অনেক বেড়েছে, যার ইতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থমূল্যে প্রতিফলিত হয়েছে।জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কীভাবে রিজার্ভ রাখা হচ্ছে, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশীয় ও বৈদেশিক ব্যাংকে রিজার্ভ হিসেবে যে সোনা রেখেছে, তা সুবিবেচনা থেকেই করেছে। কারণ, সোনা সব সময়ই একটি ভালো জামানত ও নিরাপদ বিনিয়োগ। যেহেতু আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সোনার রিজার্ভ থাকাটা একটি ইতিবাচক ও লাভজনক বিনিয়োগ।’

ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলা নিষিদ্ধ আ.লীগের সন্ত্রাসের আন্তর্জাতিক বহিঃপ্রকাশ: এবি পার্টি

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ও তার পরিবারের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটি বলেছে, এ ঘটনা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সন্ত্রাসের আন্তর্জাতিক বহিঃপ্রকাশ।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এ প্রতিক্রিয়া জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, একজন নারী শিল্পী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিদেশে বেড়াতে গিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনা শুধু নিন্দনীয় নয়, এটি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভয়ংকর বহিঃপ্রকাশ।

তারা বলেন, দেশে ক্ষমতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে বিরোধী মত দমন, হামলা, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের যে সংস্কৃতি আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করেছিল, ভেনিসের ঘটনা তারই আন্তর্জাতিক বহিঃপ্রকাশ। দেশ ছাড়লেও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী মানসিকতা তাদের ছাড়েনি। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে একজন নাগরিক ও তার পরিবারের ওপর বিদেশের মাটিতে হামলা কোনো সভ্য সমাজেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

মঞ্জু ও ফুয়াদ বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের চরিত্র হারিয়ে সহিংসতা, দমন-পীড়ন ও ভয়ভীতির রাজনীতির প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। বিদেশের মাটিতে গিয়েও একজন স্বনামধন্য অভিনয়শিল্পীর ওপর হামলার ঘটনা তাদের সেই সহিংস ও অসহিষ্ণু রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভয়াবহতাই প্রকাশ করে।

তারা আরও বলেন, ইতালিতে বসবাসরত কিংবা সফররত কোনো বাংলাদেশি রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে অন্যের ওপর হামলা, হুমকি বা শারীরিকভাবে হেনস্তা করলে তার পরিচয় যা-ই হোক, সে একজন সন্ত্রাসী। ভেনিসের ঘটনাটি ইতালির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত তদন্ত করে হামলায় জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

এবি পার্টির নেতৃদ্বয় বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সহিংসতা ও ফ্যাসিবাদী আচরণ প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন বিদেশের মাটিতেও তাদের সেই সন্ত্রাসী আচরণকে বাংলাদেশি প্রবাসীসহ বিশ্ববাসী ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ব্যক্তির মর্যাদা ও পরিবারের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে এবি পার্টি সোচ্চার থাকবে বলেও জানান তারা।

তারা অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ও তার পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। হামলায় জড়িত ব্যক্তিরা যত বড় সন্ত্রাসীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

একই সঙ্গে ইতালিতে বাংলাদেশের দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এগিয়ে এসে বাঁধন ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

এর আগে ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। বাংলাদেশ সময় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় তিনি এ অভিযোগ করেন।

বাঁধন জানান, স্থানীয় একটি পার্কে ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর হামলা করেন। এ সময় তার গায়ে কোক ও ডিম ছোড়া হয় এবং তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়। তার মোবাইল ফোনও ছুড়ে ফেলা হয় বলে জানান তিনি।

হামলাকারীরা তাকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে হামলা চালান বলেও অভিযোগ করেন বাঁধন। তার দাবি, তাঁরা তাঁকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বলেন এবং সেই দৃশ্য ভিডিও করেন। এ সময় তাঁকে গালাগালিও করা হয়।

বাঁধন বলেন, ‘আমার গায়ে হাত তোলা হয়েছে। আমার ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। আপনাদের এ ধরনের অসংলগ্ন আচরণ থেকে বের হয়ে আসা উচিত। আপনারা এভাবে নিজেদের ফেরাতে পারবেন না।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায় একদল ব্যক্তিকে নিজেদের ছাত্রলীগ কর্মী দাবি করে বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিতে এবং তাঁর ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের বাঁধনের দিকে পানি ও পচা ডিম ছুড়তেও দেখা যায়।

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য

অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এডওয়ার্ড মিলিব্যান্ড মঙ্গলবার (আজ) এ নিষেধাজ্ঞার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।হোয়াইট হলের সূত্রের বরাতে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, অবৈধ ইসরায়েলি বসতি নিয়ে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে নির্দেশনা দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। এখন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্য সেটা মেনে চলবে বলে আশা করা হচ্ছে।.আইসিজের ওই নির্দেশনায় ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারত্বকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এতে যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশকে বসতি স্থাপনের বিরোধিতা করে পদক্ষেপ নেওয়ার বাধ্যবাধকতাও আরোপ করা হয়েছিল।ওই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য এখন যুক্তরাজ্য সরকারের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার আওতায় অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোর ব্যবসায়িক খাতে যেকোনো ধরনের বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করা হতে পারে।অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের জন্য নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার ফ্রান্সেসকা আলবানিজ সোমবার বলেন, সব দেশেরই বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তারা এ পরিস্থিতিকে (বসতি স্থাপন) বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে না। এটি শুধু পছন্দের বিষয় নয়। এটি টিকিয়ে রাখতে কোনো সহযোগিতাও করা যাবে না।ফ্রান্সেসকা আলবানিজ আরও বলেন, অবৈধ বসতির সঙ্গে বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ ইসরায়েল-ফিলিস্তিন নীতির ক্ষেত্রে একটি ‘প্রকৃত পরিবর্তনের’ অংশ হতে হবে। মূল লক্ষ্য হতে হবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা।.লেবার মুসলিম নেটওয়ার্ক (এলএমএন) ও ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার অব জাস্টিস ফর প্যালেস্টিনিয়ানস (আইসিজেপি) গত সপ্তাহে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্রিটিশ নাগরিক বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে যাতে অর্থনৈতিক আর আর্থিক কার্যক্রম চালাতে না পারে, সে জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের ‘পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা’ আরোপ করা উচিত। সেই সঙ্গে অবৈধ বসতির অর্থনীতিকে সহায়তা করে এমন কোনো কাজ করতে দেওয়াও ঠিক হবে না।এতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের শুধু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের প্রতি সম্মান দেখালেই চলবে না, বরং জেনেভা সনদের আওতায় যেকোনো পরিস্থিতিতে এর প্রতি সম্মান নিশ্চিত করতে হবে।জেরুজালেমের পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলিদের নতুন ই-ওয়ান বসতি স্থাপনের প্রকল্প নিয়ে বেশ আলোচনা–সমালোচনা চলছে। এ প্রকল্প অধিকৃত পশ্চিম তীরকে কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত করতে চলেছে বলে মত বিশ্লেষকদের। ঠিক এমন একটি সময়ে যুক্তরাজ্য সরকারের নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি সামনে এল।সম্ভাব্য বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এরই মধ্যে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল। পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাজ্য যদি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কাজ করে, তাহলে ইসরায়েলও দেশটির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে।.ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বড় ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে ইঙ্গিত দেন, বিরোধপূর্ণ ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ যুক্তরাজ্যের নয়; বরং আর্জেন্টিনার।ইয়ার নেতানিয়াহু ইসরায়েলের কোনো মন্ত্রী নন, প্রভাবশালী রাজনীতিবিদও নন। তারপরও ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ইয়ারের মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর যুক্তরাজ্যের সার্বভৌমত্বের বিষয়ে ওয়াশিংটন তাদের অবস্থান আবার ভেবে দেখতে পারে।গত বৃহস্পতিবার জিবি নিউজকে ট্রাম্প বলেন, আর্জেন্টিনা যদি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে আক্রমণ করে বসে, সেই পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যকে সমর্থন করবেন না তিনি। ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে আরও বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যখন ইরানের ভূখণ্ডে হামলা শুরু করেছিল, তখন আপনাদের দেশ আমাকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসেনি।’.আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে সম্প্রতি কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর মতে, দ্বীপপুঞ্জে তাঁর দেশের ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত’ হয়েছে। মিলেই বলেন, তাঁর দেশ সর্বশক্তি দিয়ে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবে।জাতির উদ্দেশে গত শুক্রবার সকালে দেওয়া ভাষণে হাভিয়ের মিলেই বলেন, যেসব তেল কোম্পানি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের চারপাশে খনন করতে চাইবে, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। বর্তমানে আর্জেন্টিনার দাবির পক্ষে সেখানে ‘পরিবর্তনের হাওয়া’ বইছে।এর আগে গত এপ্রিলে ফাঁস হওয়া পেন্টাগনের একটি মেমো থেকে জানা যায়, লন্ডনের সঙ্গে দর–কষাকষিতে ফকল্যান্ডকে ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে ওয়াশিংটন।.এমন পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির বিরুদ্ধে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য।এডওয়ার্ড মিলিব্যান্ড গত সপ্তাহের শেষের দিকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি মাত্র একটি বৈঠক থেকে বের হলাম। যাঁরা গাজায় গিয়েছেন এবং এখনো সেখানে সরাসরি কাজে যুক্ত আছেন; তাঁদের সঙ্গে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বললাম। সত্যি বলতে, সেখানে যা ঘটছে সেটা ভয়াবহ।’দৃঢ় কণ্ঠে এডওয়ার্ড মিলিব্যান্ড আরও বলেন, ‘যুক্তরাজ্য সরকারকে, যেমনটা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আগের চেয়ে জোরালোভাবে কাজ করতে হবে।’.প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েলও। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে মিলিব্যান্ডের সমালোচনা করা হয়েছে। সেখানে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে বলা হয়, ‘রাজনৈতিক দর্শকদের জন্য ভিডিও বানানোর সময় সত্যের দাম কমই থাকে।’ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই পোস্ট শেয়ার করে লেখেন, ‘ব্রিটিশরা পাগল হয়ে গেছে। যুক্তরাজ্য সরকারের ইহুদিবিদ্বেষ সীমা ছাড়িয়েছে এবং তারা কোনো সত্য মানছে না।’উল্লেখ্য, এডওয়ার্ড মিলিব্যান্ড নিজেও একজন ইহুদি। মিলিব্যান্ডের মা ও বাবা হলোকাস্টে (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদিদের ওপর চালানো হত্যাযজ্ঞ) পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছেন।

সাত জনের গণছাঁটাই কেন? পিসিবির ‘আসল পরিকল্পনা’ ফাঁস করলেন শোয়েব আখতার

পাকিস্তান ক্রিকেটে বিশাল পরিবর্তনের ঝড়। একটি টেস্ট সিরিজ চলাকালীনই দলে বড় ধরনের রদবদল, সাতজন নতুন ক্রিকেটারকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং একের পর এক সিনিয়র ক্রিকেটারকে ছাঁটাই- সব মিলিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে ক্রিকেটবিশ্বে।

তবে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে অন্যভাবে দেখছেন পাকিস্তানের সাবেক তারকা পেসার শোয়েব আখতার। তার দাবি, পিসিবির এই ব্যাপক রদবদল কোনো হঠাৎ সিদ্ধান্ত নয়; বরং পাকিস্তান ক্রিকেটের পুরো দলটিকেই ধীরে ধীরে সরিয়ে তরুণদের নিয়ে নতুন দল গড়ার পরিকল্পনার অংশ।

আর এই কারণেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের মাঝপথে এত বড় পরিবর্তন দেখে তিনি মোটেও অবাক হননি।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে পাকিস্তানের টানা পরাজয়ের পরই দলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে পিসিবি। তৃতীয় ও শেষ টেস্টের আগে স্কোয়াডে যোগ করা হয় সাতজন নতুন ক্রিকেটারকে।

এমন সিদ্ধান্তে সাবেক ক্রিকেটার থেকে শুরু করে ক্রিকেট বিশ্লেষক- অনেকেই পিসিবির সমালোচনা করেছেন। তাদের প্রশ্ন, একটি সিরিজ চলাকালীন এত বড় পরিবর্তন কীভাবে দলের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে? কিন্তু শোয়েব আখতার বলছেন, পিসিবির পরিকল্পনাটা আরও বড়।

‘পিসিবি নিজেই এই খেলোয়াড়দের নিয়ে খুব হতাশ ছিল। তারা এই পাকিস্তান দল থেকে আর কিছু প্রত্যাশা করে না। পরিকল্পনাই হলো এই দলটিকে সরিয়ে তরুণ ও নতুন ক্রিকেটারদের দিয়ে প্রতিস্থাপন করা,’ বলেন শোয়েব। তার মতে, পাকিস্তান এখন ভবিষ্যতের দিকে তাকাচ্ছে এবং জাতীয় দলের জন্য নতুন প্রজন্ম প্রস্তুত করার কাজ শুরু করেছে।

পুরো দল পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথা বললেও বর্তমান স্কোয়াডের মাত্র তিনজন ক্রিকেটারকে ভবিষ্যতের জন্য ধরে রাখতে চান শোয়েব আখতার। তারা হলেন- শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ ও হারিস রউফ। শোয়েবের মতে, এই তিন পেসারের সামনে এখনো অনেক ক্রিকেট বাকি। তাই পরিবর্তনের এই সময়ে তাদের ক্যারিয়ার রক্ষা করা জরুরি।

তিনি বলেন, ‘এই পরিবর্তনের সময়ে আমি শুধু শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ ও হারিস রউফের ক্যারিয়ার বাঁচাতে চাই। এই ছেলেদের সামনে অনেক ক্রিকেট পড়ে আছে।’ শোয়েবের এই বক্তব্যের সবচেয়ে বড় চমক অবশ্য অন্য জায়গায়।

পাকিস্তানের অন্যতম বড় তারকা ও সাবেক অধিনায়ক বাবর আজমের নাম এই তিনজনের তালিকায় নেই। অর্থাৎ শোয়েব আখতারের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান দল থেকে ভবিষ্যতের জন্য যে ক্রিকেটারদের ধরে রাখার কথা তিনি বলছেন, সেখানে বাবরকে রাখেননি তিনি।

বাবরকে পাকিস্তানের ক্রিকেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার হিসেবে বিবেচনা করা হলেও শোয়েবের বক্তব্যে স্পষ্ট- পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়ায় তিনি কেবল পাকিস্তানের তিন পেসারকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় নিরাপদ দেখতে চান।

পিসিবি কর্মকর্তার সঙ্গে কী কথা হয়েছিল শোয়েবের?

শোয়েব আখতার জানিয়েছেন, দ্বিতীয় টেস্টের পর পাকিস্তান দলে এত বড় পরিবর্তন কেন আনা হলো, সেটি বোঝার জন্য তিনি পিসিবির একজন কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছিলেন। নতুন করে যারা দলে আসছেন, তাদের কাছ থেকে পিসিবি কী প্রত্যাশা করছে- এমন প্রশ্নও করেছিলেন তিনি। কিন্তু কর্মকর্তার উত্তর নাকি ছিল বেশ চমকপ্রদ, ‘কিছুই না।’

অর্থাৎ, নতুন ক্রিকেটারদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক ফল বা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের প্রত্যাশা করছে না পিসিবি। বরং তাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। শোয়েবের দাবি, ওই কর্মকর্তা তাকে বলেছেন, পরবর্তী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের নিয়েই মূল প্রত্যাশা- যাদের বড় মঞ্চের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

শোয়েবের সঙ্গে ওই পিসিবি কর্মকর্তার কথোপকথনে পাকিস্তান ক্রিকেটের বর্তমান পরিস্থিতির একটি কঠিন চিত্রও উঠে এসেছে। শোয়েবের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তা পাকিস্তান ক্রিকেটকে ‘ভেন্টিলেটরে’ থাকা অবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছেন। অর্থাৎ, বর্তমান পরিস্থিতি এতটাই সংকটপূর্ণ যে তা থেকে বের হতে রাতারাতি কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়।

নতুন প্রকল্পের ফল পেতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলেও ধারণা দিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। শোয়েবের বক্তব্য অনুযায়ী, পিসিবি জানে যে নতুন প্রজন্মকে তৈরি করে ফল পাওয়ার জন্য সময় প্রয়োজন।

‘তুমি একা নও নেপাল’, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সংহতি

সাত জনের গণছাঁটাই কেন? পিসিবির ‘আসল পরিকল্পনা’ ফাঁস করলেন শোয়েব আখতার

‘এবার চ্যাম্পিয়নস লিগ আমরাই জিতব’- ভিনিসিয়ুসের হুংকার

অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নাইজেরিয়া

আমি সবসময় নিজেকে বিশ্বের সেরা মনে করি: এমবাপে

স্পেনকে হারিয়ে আবারও হকির বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানি

ইতিহাসে প্রথমবার বার্সার অধিনায়ক হলেন কোনো ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার

অস্ট্রেলিয়ায় শাবনূরের সঙ্গে দারুণ সময় কাটলো তাসকিনের

প্রতিশোধের জয়ে ফাইনালে এক পা অনূর্ধ্ব-২৩ দলের

এবার ইমরান খানের হয়ে মুখ খুললেন ব্রায়ান লারা

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চলন্ত বাসের নিচে মোটরসাইকেল, দুই আরোহী নিহত

ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় কেক কাটায় ৩ জনকে শোকজ

স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া, প্রেমিককে কুপিয়ে জখম করলেন স্বামী

সম্পত্তি হস্তান্তরের নতুন আইন নিয়ে কেন এত ‘বিরোধিতা’

বিনিয়োগ আকর্ষণে হংকংয়ের সঙ্গে চুক্তি করবে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে বিনিয়োগের প্রসার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন অ্যান্ড প্রোটেকশন এগ্রিমেন্ট’ শীর্ষক চুক্তি সইয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয় চুক্তিটি সইয়ের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, হংকং বিশ্বের অন্যতম উন্নত ও উন্মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল। বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগকারী দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে হংকংয়ের অবস্থান ষষ্ঠ। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন খাতে হংকংয়ের বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করেছেন।

সরকার মনে করছে, প্রস্তাবিত চুক্তি দুই পক্ষের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণেও এটি সহায়ক হবে। যা শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

চুক্তির আওতায় উভয় পক্ষের বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ার পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়াতে একটি কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হবে।

এ ছাড়া চুক্তিটি বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রস্তাবিত চুক্তির মেয়াদ হবে ১০ বছর। তবে চুক্তি সইয়ের তিন বছর পর উভয় পক্ষ চুক্তিটি সংশোধন করতে পারবে। এ সংক্রান্ত বিধান খসড়া চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সম্পত্তি হস্তান্তরের নতুন আইন নিয়ে কেন এত ‘বিরোধিতা’

গাড়ি থেকে মানিব্যাগ নিয়ে পালাচ্ছিল তরুণ, দৌড়ে আটক করলেন পুলিশ সদস্য

বিনিয়োগ আকর্ষণে হংকংয়ের সঙ্গে চুক্তি করবে বাংলাদেশ

৬ মাস শুল্ক-কর ছাড়ে সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রপাতি আমদানি করা যাবে

এপিবিএনকে সাইবার অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দিয়ে নতুন আইন

শাহজালালে সড়ক দুর্ঘটনা, বিমানবাহিনীর ৩ সদস্য নিহত

দর্শক সারিতে বসে জাসাসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চালককে অচেতন করে রিকশা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

ঢাকায় ব্যবসায়ীকে গুলি, হামলাকারীকে ধরে পুলিশে দিলো জনতা

আমিনবাজারে পুলিশের এসবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা

উচ্চ সুদ ও ব্ল্যাকমেইল, বন্ধ হচ্ছে অবৈধ ঋণদাতা অ্যাপের পেমেন্ট