রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ-রুপা ও তেলের দামে বড় ধস

আন্তর্জাতিক পণ্যবাজারে স্বর্ণ, রুপা, অপরিশোধিত তেল ও তামাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।

বৈশ্বিক রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমে আসা এবং মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে বিনিয়োগকারীদের আচরণে পরিবর্তন আসায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় ধস নেমেছে রুপার দামে। এক পর্যায়ে রুপার মূল্য প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

একই সময়ে স্বর্ণ, অপরিশোধিত তেল এবং তামার দাম গড়ে প্রায় ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সাম্প্রতিক যোগাযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য বৈঠকের খবর বিশ্ববাজারে উত্তেজনা কমিয়েছে।

এর ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত স্বর্ণ ও রুপার প্রতি আগ্রহ কিছুটা কমে যায় এবং অনেক বিনিয়োগকারী লাভ তুলে নিতে এসব সম্পদ বিক্রি করতে শুরু করেন।

ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান আইজি’র বিশ্লেষক টনি সাইকামোর জানান, চলতি সপ্তাহে মূল্যবান ধাতুসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে অস্বাভাবিক ওঠানামা দেখা গেছে। তার মতে, বর্তমান দরপতন মূলত সেই অস্থির বাজার পরিস্থিতিরই প্রতিফলন।

ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান আইজি’র বিশ্লেষক টনি সাইকামোর জানান, চলতি সপ্তাহে মূল্যবান ধাতুসহ বিভিন্ন পণ্যে অস্বাভাবিক দামের ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। তার মতে, বর্তমান দরপতন মূলত সেই অস্থির বাজার পরিস্থিতিরই প্রতিফলন।

এদিকে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের আগে এশীয় লেনদেনে ডলার স্থিতিশীল ছিল। ডলার সূচক দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছে। শক্তিশালী ডলারের ফলে অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের জন্য পণ্য কেনা ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, যা দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সপ্তাহের শুরুতেও পণ্যের দামে চাপ দেখা দেয়, যখন ট্রাম্প কেভিন ওয়ার্শকে সম্ভাব্য ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়নের ইঙ্গিত দেন। কঠোর মুদ্রানীতির আশঙ্কায় ডলার আরও শক্তিশালী হয় এবং সুদহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ও রুপার আকর্ষণ কমে যায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শুক্রবার ওমানে বৈঠকে বসতে সম্মত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতের শঙ্কা হ্রাস পেয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে তেলের দামে। ফলে তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে।

তামার বাজারেও চাপ অব্যাহত রয়েছে। চাহিদা নিয়ে উদ্বেগ এবং লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জের গুদামে মজুত বৃদ্ধির খবরে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। যদিও এর আগে চীন কৌশলগতভাবে তামার মজুত বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছিল।

ওসিবিসি ব্যাংকের কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওং বলেন, বাজারে তারল্য কম থাকায় একটি খাতে বিক্রি শুরু হলে তা দ্রুত অন্য খাতেও ছড়িয়ে পড়ছে, যার ফলে দরপতন আরও তীব্র হচ্ছে। এর প্রভাব মূল্যবান ধাতু, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং আঞ্চলিক শেয়ারবাজারেও পড়েছে।

তবে অন্যান্য পণ্যের তুলনায় সয়াবিনের দাম বেড়ে দুই মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ট্রাম্পের মন্তব্য—চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানির বিষয়টি বিবেচনা করছে-এই প্রত্যাশায় বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত মজুতের কারণে লৌহ আকরিকের দামও প্রায় ২ শতাংশ কমেছে।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা আজ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে আজ নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সাড়ে ৩টায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করবেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং পরিচালনা করবেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। এটিই তার প্রথম নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা।

এর আগে পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম সংসদ নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেন তৎকালীন চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। সেই সময়ে তিনিই প্রতিটি নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন।

এছাড়া ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অংশ নিলেও সেই সময় বিএনপি চেয়ারপার্সন ছিলেন কারাবন্দি। এই নির্বাচনে ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গুরুতর আহত ৪৭৪ জুলাই যোদ্ধার গেজেট প্রকাশ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এ গুরুতর আহত জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে ৪৭৪ জনের গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেট অধিশাখার এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫ (অধ্যাদেশ নং ৩০, ২০২৫) এর ১১ (৪) ধারা অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এ আহত জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে ‘জুলাই যোদ্ধা’ গেজেট সরকার নিম্নোক্তভাবে প্রকাশ করিল, যথা: শ্রেণি- ‘খ’ (গুরুতর আহত)।’

যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ আদেশ জারি করা হলো।

নির্বাচনে অপতথ্য বা তথ্যের অপপ্রচারই বড় চ্যালেঞ্জ : ইসি সচিব

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অপতথ্য বা তথ্যের অপপ্রচারকে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ইইউ ডেলিগেশন চিফ মূলত নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং আমাদের দিক থেকে কোনো শঙ্কা আছে কি না, তা জানতে চেয়েছিলেন। তারা জানতে চেয়েছেন এই মুহূর্তে আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ কোনটা? আমরা আগাগোড়াই যে চ্যালেঞ্জটার কথা বলে আসছি, তাদের আবারও সেটাই বলেছি। নির্বাচনে আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অপতথ্য বা তথ্যের অপপ্রচার। আমরা চেষ্টা করছি এবং আশা করি এটাকে একটা সম্মানজনক পরিস্থিতিতে নিয়ে যেতে পারবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মেটার সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং তাদের সহযোগিতা চেয়েছি। তবে আমরা ইন্টারনেটের গতি কমানো বা অন্য কোনো পদ্ধতিতে যাওয়ার পরিবর্তে বরং বিদ্রুপাত্মক, আক্রমণাত্মক কন্টেন্ট বা অপপ্রচারগুলো যাতে সরিয়ে নেওয়া (ডাউন করা) হয়, সেভাবেই তাদের অনুরোধ করেছি।’

ইসি সচিব বলেন, ‘ইইউ প্রতিনিধিদল আমাদের কাছে ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। আমরা তাদের জানিয়েছি যে, নির্বাচনে সাত দিন সেনাবাহিনী এবং আট দিন আনসার সদস্যরা মাঠে থাকবেন। পুলিশ ও সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে মাঠে আছে, তবে নির্বাচনের জন্য বিশেষ ডেপ্লয়মেন্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা কাজ করবেন।’

রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোকে আমরা অতীতেও বলেছি, এখনো বলছি, আপনারা লোকাল ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড এডজুডিকেশন কমিটির কাছে অভিযোগ করুন। আর যদি অতিরিক্ত কিছু বলার থাকে, আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট করে জানান। অনেকে আশ্বস্ত হতে পারছেন না, তবে আমরা আইনগত কাঠামোর মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’

তিনি উল্লেখ করেন, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে অর্থাৎ ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হয়ে যাবে। এদিকে বিএনসিসি সদস্যরাও এবারের নির্বাচনী কাজে সহায়তা করবেন বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

এবারের ভোটে জালিয়াতি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই : মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এবারের ভোটে কোনো ধরনের ছলচাতুরি, জালিয়াতি বা কারচুপির সম্ভাবনা নেই।

তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। গত তিনটি নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি, আর একটিতে অংশ নিলেও ভোটের ফল আগেই নির্ধারিত ছিল। ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় আমরা সবাই কারাগারে ছিলাম। কিন্তু এবার পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে, সুযোগ এসেছে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের। তাই এবারের ভোটে কোনো ধরনের ছলচাতুরি, জালিয়াতি বা কারচুপির সম্ভাবনা নেই।’

আজ বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনী এলাকা আকচা ইউনিয়নের ফারাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক পথসভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে যে সরকার দায়িত্বে রয়েছে তারা একটি নিরপেক্ষ সরকার এবং তারা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে আগ্রহী। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফলেই আজ জনগণের ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এবারের নির্বাচনে জোরজবরদস্তি বা রাতের ভোট আর হবে না, একটি সুন্দর ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, হিন্দু-মুসলমান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। আমাদের শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকতে আপনাদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না।

তিনি আরও বলেন, এটি তার জীবনের শেষ নির্বাচন। তাই হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাইকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে তাকে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘আপনাদের আমানতের খেয়ানত করা হবে না’।

শুক্রবার বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবেন তারেক রহমান

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামীকাল শুক্রবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৩টায় হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে এই ইশতেহার ঘোষণা করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং পরিচালনা করবেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবারের ভোটে বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। সেই হিসেবে তারেক রহমানের এটি প্রথম নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা।

এর আগে পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম সংসদ নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেন বেগম খালেদা জিয়া। ওই সময়ে দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে প্রতিটি নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন তিনি। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অংশ নিলেও সেসময়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন কারাবন্দি ছিলেন। সে কারণে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর গুলশানের লেকশোরে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইশতেহার ঘোষণা করেন।

তবে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার অধীনে দশম ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বয়কট করেছিল বিএনপি।

নির্বাচনী ইশতেহার প্রসঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ‘বিএনপি গণমানুষের দল, তৃণমূলের ক্ষমতায়নের দল। আমাদের চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে আমরা কাজ করেছি। প্রাথমিকভাবে ৩১ দফা নিয়ে আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত কর্মসূচি নিয়েছি। সেই জনসম্পৃক্ততার আলোকে দল, অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠন সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতের ওপর ভিত্তি করে কিন্তু সংযোজন বিয়োজন পরিবর্তন, পরিবর্তনের আলোকে যুগের চাহিদা মিলিয়ে জনমানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য, তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে আসছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখানে আমাদের দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে উনাদের যে ভিশন রয়েছে, যে রূপকল্প রয়েছে— সেটিকে যেমন প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। একই সাথে সেখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে একদম সাধারণ মানুষের যে সমস্যাগুলো রয়েছে, তারা কী চাচ্ছে? আমাদের মূল লক্ষ্য এমনভাবে পরিকল্পনাগুলো সাজানো— যেটি বাস্তবভিত্তিক হয়, যেটা টেকসই হয়।’

মাহদী আমিন বলেন, ‘আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমান যখন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করলেন, সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তিনি বলেছিলেন, হি হ্যাজ এ প্ল্যান। এই প্রত্যেকটা প্ল্যান মানুষের এমপাওয়ারমেন্টের জন্য, এই প্রত্যেকটা প্ল্যান মানুষের স্বাধীনতা এবং স্বনির্ভরতার জন্য, এই প্রত্যেকটা প্ল্যান মানুষের স্বনির্ভরতার পাশাপাশি সুরক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তার জন্য।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে জনগণের ক্ষমতায়ন হবে। আমাদের ইশতেহারের প্রতিটি পর্যায়ে সেই জনগণের ক্ষমতায়ন, জনগণের রাষ্ট্রীয় মালিকানা, স্বাধীনতা, অধিকার, নিরাপত্তা সুরক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন থাকবে। যেখানে মানুষ তার পরিবার নিয়ে এখন থেকে অনেকটা ভালো থাকবে। প্রতিটি সেক্টরে সুনির্দিষ্ট সুবিস্তৃত যে পরিকল্পনা রয়েছে, তার মাধ্যমে দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।’

প্রবাসী আয় প্রবাহে ঊর্ধ্বগতি, চলতি অর্থবছরে ২১ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে দেশে মোট ১ হাজার ৯৯৩ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ১ হাজার ৬৩৮ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের ১ থেকে ৪ তারিখ পর্যন্ত চার দিনে দেশে ৫০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে ৩ ও ৪ ফেব্রুয়ারি-এই দুই দিনে এসেছে ১৮ কোটি মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের একই সময়ে অর্থাৎ ১ থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৪২ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। সে হিসেবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম চার দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রায় ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসীদের বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারে আগ্রহ বৃদ্ধি, প্রণোদনা অব্যাহত থাকা এবং আর্থিক লেনদেনে স্থিতিশীলতা ফেরায় রেমিট্যান্স ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এই প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তারা মনে করছেন।

মানুষ অনেক কষ্টে, রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে ভোটের অধিকার অর্জন করেছে : মির্জা আব্বাস

বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, এই দেশের মানুষ অনেক কষ্টে, রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে ভোটের অধিকার অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, আশা করি, ভোটাররা ভোটের অধিকার যথাযথভাবে প্রয়োগ করবেন। ভোটিং সেন্টারে রেজাল্ট পাওয়া পর্যন্ত আমাদের উপস্থিতি বজায় থাকবে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর মোতালেব প্লাজা ফ্ল্যাট মালিক সমিতির উদ্যোগে নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, নির্বাচনে প্রতিপক্ষের সমালোচনা করা স্বাভাবিক হলেও, মিথ্যা বা প্রতারণামূলক বক্তব্য দেওয়া স্বাভাবিক বিষয় নয়। আমরা সাচ্চা মুসলমান, মিথ্যা কথা বলি না। আমাদের ঈমান আছে, আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করি। তাই নির্বাচনে মিথ্যা কথা বলবো না।

তিনি বলেন, তিনি নির্বাচন প্রচারণায় নিজের করা কাজ এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। অন্য কোনো দলের নেতাদের বা প্রার্থীদের নিয়ে অশুভ বা নোংরা ভাষা ব্যবহার করবেন না। তিনি জনগণকে সততা ও সত্যনিষ্ঠার সঙ্গে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

মির্জা আব্বাস আরও বলেন, তিনি কোন প্রকার গন্ডগোল বা ঝগড়ায় জড়াবেন না। তবে নির্বাচনের পরে প্রয়োজনে লড়াই করতে তিনি প্রস্তুত আছেন। শেষ পর্যন্ত তিনি এলাকাবাসীকে নিজের পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ভোটের জন্য সমর্থনের আহ্বান জানান।

ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে ন্যায্যতা ও নৈতিকতার চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ

এলডিসি উত্তরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অর্জনের জন্য দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ন্যায্যতা ও নৈতিকতার চর্চা নিশ্চিতকরণসহ নীতি ও কাঠামোগত সংস্কার জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে ব্যবসায়িক পরিবেশ: নৈতিক চর্চার ইস্যু ও চ্যালেঞ্জসমূহ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব মতামত উঠে আসে।

দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি) যৌথভাবে এ সভা আয়োজন করে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

তিনি বলেন, সফলভাবে এলডিসি উত্তরণ এবং টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে ‘বিজনেস প্রসেস রি-ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাস এবং সরকারি সংস্থাগুলোর সেবার মান ও কার্যগত গতি বৃদ্ধি করতে হবে। তিনি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে নৈতিকতার চর্চা প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন।

ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম উদ্যোক্তাদের লাইসেন্স প্রাপ্তি, নবায়ন, নিবন্ধন, কাস্টমসসহ বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতার একটি সার্বিক চিত্রও উপস্থাপন করেন।

উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে সরকারি এজেন্সিগুলোর কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে ডিজিটালাইজেশন, অটোমেশন এবং সিঙ্গল উইন্ডো ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তাঁরা।

আইবিএফবি’র পরিচালক এম এস সিদ্দিকী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক প্রণীত আইন ও বিধিমালা ব্যবসা সহজীকরণ নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ে, যা বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম বলেন, সরকারি দপ্তরগুলোর পদ্ধতিগত কিছু জটিলতা রয়েছে। তবে সেগুলো সহজীকরণের যথেষ্ট সুযোগও আছে। সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিলের জন্য তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান ।

এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার একটি জটিল প্রক্রিয়া হলেও অন্তর্র্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে বেশকিছু সংস্কার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে এখন আচরণগত সংস্কার নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বেশি জরুরি।

সভায় স্বাগত বক্তব্যে আইবিএফবি’র সভাপতি লুৎফুন্নিসা সাউদিয়া খান বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে নৈতিক ব্যবসায়িক চর্চা অপরিহার্য। উদ্যোক্তারা যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হচ্ছেন, তা কেবল আইন দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা, উন্মুক্ত সংলাপ এবং অংশীদারিত্বমূলক দায়বদ্ধতা।

সমাপনী বক্তব্যে এফবিসিসিআই-এর প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান বলেন, ব্যবসার পরিবেশ সহজীকরণে বেসরকারি খাত থেকে যেসব সুপারিশ উঠে এসেছে, সেগুলো এফবিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে তিনি উদ্যোক্তাদের ন্যায্য মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি সামাজিক, নৈতিক ও মানবিক দায়বদ্ধতা পালনের এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালকবৃন্দ, সাধারণ পরিষদের সদস্যবৃন্দ, এফবিসিসিআই-এর মহাসচিব মো. আলমগীর, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স উইংয়ের প্রধান মোঃ জাফর ইকবাল এনডিসি, এফবিসিসিআই সেইফটি কাউন্সিলের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবু নাঈম মো. শাহিদউল্লাহ, আইবিএফবি’র নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিবৃন্দ।

নিলামে ১৭১ মিলিয়ন ডলার ক্রয় করল বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল মঙ্গলবার ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে একাধিক নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে ১৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে।

মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন রোধ এবং প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাতকে পুনরুদ্ধার করার চলমান কৌশলের অংশ হিসেবে এ ডলার ক্রয় করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে কেনা হয়েছে।

এ নিয়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ৩৮ কোটি ৯০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার ক্রয় করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৩২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করা হয়েছে।