রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

থাইল্যান্ডে সংসদ নির্বাচন, চলছে গণভোটও

দক্ষিণ পূর্ব- এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডে শুরু হয়েছে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও ক্রমবর্ধমান জাতীয়তাবাদী আবহের মধ্যে সংস্কারপন্থি, সামরিক-সমর্থিত রক্ষণশীল এবং জনতাবাদী এই তিন ধারার রাজনৈতিক দল বহুল আলোচিত এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। এবারের নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে সংবিধান বদলের প্রশ্নে একটি গণভোটও হচ্ছে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে ভোটকেন্দ্রগুলো খুলে দেয়া হয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া আগাম ভোটগ্রহণ পর্বে ইতোমধ্যে ২২ লাখের বেশি ভোটার তাদের ভোট দিয়েছেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থাইল্যান্ডে এবারের সাধারণ নির্বাচনে মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ৫ কোটি ৩০ লাখ এবং ধীরগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং তীব্র জাতীয়তাবাদী আবহের প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

যদিও ৫০টিরও বেশি দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তবে এদের মধ্যে পিপলস পার্টি, ভূমজাইথাই এবং ফেউ থাই দেশজুড়ে সংগঠন ও জনপ্রিয়তার কারণে সরকার গঠনের মতো ম্যান্ডেট পাওয়ার অবস্থানে রয়েছে।

নির্বাচনের আগে জরিপ অনুযায়ী, ৫০০ আসনের এই সংসদে কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জোট সরকার গঠনের আলোচনা প্রায় নিশ্চিত। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভোটেই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন।

এদিকে রোববারের ভোটগ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে একটি গণভোটও হচ্ছে। এতে ভোটারদের জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, ২০১৭ সালে সামরিক বাহিনী প্রণীত সংবিধান পরিবর্তন করা হবে কি না। গণতন্ত্রপন্থি গোষ্ঠীগুলো মনে করছে, নতুন সংবিধান সামরিক বাহিনী ও বিচার বিভাগের মতো অনির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের প্রভাব কমানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে রক্ষণশীলদের আশঙ্কা, এতে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে

প্রসঙ্গত, থাইল্যান্ডে মূলত নির্ধারিত সময়ের চেয়ে আগে ভোট হচ্ছে। এর আগে ২০২৩ সালে দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সময় যারা নির্বাচিত হয়েছিলেন তাদের আগামী চার বছর সংসদের নিম্নকক্ষে থাকার কথা ছিল। তবে চার বছর আগেই হচ্ছে নতুন নির্বাচন।

ঝামেলা ছাড়া যেভাবে ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে পারবেন ভোটাররা

আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারগণের ভোটপ্রদানের সুবিধার্থে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানার জন্য চারটি সহজ পদ্ধতি চালু করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।

এসব পদ্ধতির মাধ্যমে ভোটারগণ দ্রুত ও নির্ভুলভাবে ভোটার নম্বর এবং ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে পারবেন। পদ্ধতিগুলো হলো-

পদ্ধতি-১ (Smart Election Management BD অ্যাপ)

ভোটারগণ এই অ্যাপের মাধ্যমে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে পারবেন। এজন্য ভোটারকে Play Store বা App Store থেকে Smart Election Management BD অ্যাপ ডাউনলোড করে ইনস্টল করতে হবে।

অ্যাপটি ইনস্টলের পর ড্যাশবোর্ড থেকে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ সিলেক্ট করে ‘ভোট কেন্দ্র খুঁজুন’ অপশনে ক্লিক করতে হবে।

এরপর এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ ইনপুট দিয়ে অনুসন্ধান করলে ভোটার নম্বর, ভোটার ক্রমিক নম্বর, ভোটকেন্দ্রের নাম ও কেন্দ্রের ঠিকানা প্রদর্শিত হবে।

পদ্ধতি-২ (হটলাইন নম্বর ১০৫)

এই পদ্ধতিতে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে ভোটারের এনআইডি এবং জন্মতারিখের প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশের যেকোনো ভোটার হটলাইন ১০৫-নম্বরে কল করে তার ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে পারবেন। প্রতিদিনি ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সময়ের ভেতরে এ সেবা নিতে পারবেন।

পদ্ধতি-৩ (১০৫-এ এসএমএস-এর মাধ্যমে)

এসএমএস-এর মাধ্যমে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে PC NID লিখে ১০৫ নম্বরে মেসেজ পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএস-এর মাধ্যমে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে।

পদ্ধতি-৪ (নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে)

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট ব্যবহার করেও ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানা যাবে। এ জন্য ল্যাপটপ, ডেক্সটপ কম্পিউটার বা মোবাইলের যেকোনো ব্রাউজার থেকে ecs.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।

এরপর ওয়েবসাইটের ‘ভোটকেন্দ্র’ মেনুতে ক্লিক করলেই ভোটকেন্দ্র অনুসন্ধানের অপশন পাওয়া যাবে। ওয়েবসাইটে দুটি উপায়ে ভোটকেন্দ্র খোঁজা যাবে।

প্রথমত, নির্বাচনি এলাকা, উপজেলা/থানা নির্বাচন করে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের তালিকা দেখা যাবে।

দ্বিতীয়ত, এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে অনুসন্ধান করলে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানা যাবে।

এছাড়া ওয়েবসাইটে ভোটকেন্দ্রের অবস্থান সরাসরি গুগল ম্যাপে দেখার সুবিধা রয়েছে। গুগল ম্যাপের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রের দূরত্ব এবং যাওয়ার পথ সম্পর্কেও বিস্তারিত জানা যাবে।

বিয়ে করলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর স্মিতা, প্রকাশ করেননি স্বামীর নাম

আলোচিত উপস্থাপিকা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর স্মিতা চৌধুরী জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। গত শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের কয়েকটি ছবি শেয়ার করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি, যা মুহূর্তেই ভক্তদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়।

স্মিতা নিজেই বিয়ের খবর নিশ্চিত করলেও তার জীবনসঙ্গীর পরিচয় এখনো প্রকাশ করেননি। তবে ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাস নেটিজেনদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সেখানে তিনি লেখেন, ‘এক চট্টগ্রামের ছেলের কারণে কষ্ট পেয়ে চট্টগ্রামের ছেলে কখনো বিয়ে করবো না বলেছিলাম।

কিন্তু যদি কেউ এমন যত্ন করে আর ভালোবাসে, পুরোনো ক্ষত সারিয়ে তোলে এবং তার যদি কোনো অহেতুক মিথ্যা ইগো না থাকে, তাহলে তাকে চট্টগ্রামের ছেলে বলে বিয়ে করবো না কেন?’

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, সম্পূর্ণ হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। লাল বেনারসি শাড়ি, ভারী গয়না ও কপালে চন্দনের ফোঁটায় স্মিতাকে একেবারেই ভিন্ন রূপে দেখা যায়।

প্রসঙ্গত, স্মিতা চৌধুরী বর্তমানে দেশের জনপ্রিয় উপস্থাপকদের একজন। পড়াশোনায় মেধাবী স্মিতা কলেজ জীবন থেকেই শুদ্ধ উচ্চারণ ও সাবলীল উপস্থাপনার জন্য পরিচিতি পান। ২০১৭-১৮ সালের দিকে তিনি চট্টগ্রামের শীর্ষ উপস্থাপিকাদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

বর্তমানে তিনি শুধু উপস্থাপকই নন, একজন সফল উদ্যোক্তা, ব্র্যান্ড প্রমোটর ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবেও পরিচিত। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অনুসারীর সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। চট্টগ্রাম থেকে শুরু হওয়া স্মিতার এই পথচলা এখন বিশ্বজুড়ে বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে প্রশংসিত।

রাজধানীর ৬ স্থানে আজ তারেক রহমানের জনসভা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীতে নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর উত্তরের ৬টি সংসদীয় আসনে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি।

শনিবার গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

তিনি জানান, প্রথম দিন ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর উত্তরের ৬টি সংসদীয় আসনে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান। দুপুর ২টায় ঢাকা-১৭ আসনে নিজ নির্বাচনী এলাকা ইসিবি চত্বরে তিনি প্রথম জনসভায় যোগ দেবেন।

তিনি জানান, এরপর ঢাকা-১৬ আসনে পল্লবী ২ নম্বর ওয়ার্ডের লাল মাঠে ২টা ৪০ মিনিটে, ঢাকা-১৫ আসনে মিরপুর-১০ গোলচত্বর-সংলগ্ন সেনপাড়া আদর্শ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সাড়ে ৩টায়, ঢাকা-১৪ আসনে ন্যাশনাল বাংলা উচ্চবিদ্যালয় গেটে বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে, ঢাকা-১৩ আসনে শ্যামলী সিনেমা হলের পশ্চিম পাশে শ্যামলী ক্লাব মাঠে ৫টা ১০ মিনিটে এবং ঢাকা-১১ আসনে বাড্ডা সাতারকুলের সানভ্যালি মাঠে সন্ধ্যা ৬টায় তারেক রহমান জনসভায় বক্তব্য দেবেন।

জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি, জোট সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তার দল আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী। একই সঙ্গে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট বা জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ে সরকার গঠন করব, তাহলে বিরোধী দলে কে থাকবে?’ জামায়াতে ইসলামীর জোট সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি একথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের আসন সংখ্যা কত হবে আমি জানি না, তবে যদি তারা বিরোধী দলে থাকে, আমি আশা করি তারা একটি ভালো বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে।’

তবে রয়টার্স স্মরণ করিয়ে দেয়, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে বাংলাদেশ শাসন করেছিল।

সংবাদ সংস্থাটি জানায়, ২০২৪ সালে কয়েক মাসের অস্থিরতায় দেশের বৃহৎ তৈরি পোশাক শিল্প মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পর জামায়াত সম্প্রতি দেশকে স্থিতিশীল করতে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের লক্ষ্যে অংশীদারিত্ব পুনর্নবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

পরিস্থিতি বর্ণনা করে রয়টার্স জানায়, ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত থাকার পর গত ডিসেম্বর দেশে ফেরেন। ছাত্র-যুব নেতৃত্বাধীন এক গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের নেতা শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।

সংবাদ সংস্থাটি আরও জানায়, বিএনপির সহযোগীরা বলছেন, ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ের বিষয়ে দলটি আত্মবিশ্বাসী। বিএনপি ২৯২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এবং বাকি আসনে এর মিত্ররা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

তবে তারেক রহমান নির্দিষ্ট সংখ্যা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন আমরা পাব।’

বিভিন্ন জনমত জরিপে বিএনপির বিজয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হলেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের কাছ থেকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। ওই জোটে ছাত্র-যুব আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা একটি ‘জেন জেড’ দলও রয়েছে।

বিশ্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক

রয়টার্স মন্তব্য করে, গত বছর ঢাকার একটি আদালত দমন-পীড়নে ভূমিকার জন্য শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিলে ভারতের তাকে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং এতে চীনের বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়।

জয়ী হলে ভারত থেকে সরে গিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ (১৭৫ মিলিয়ন) মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সক্ষম এমন অংশীদার বাংলাদেশের প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশে ব্যবসা আনা এবং মানুষের জীবনমান উন্নত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে দেশ আমার জনগণ ও দেশের জন্য উপযোগী প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্ব থাকবে, কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে নয়।’

নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গারা থাকতে পারবে

বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এবং উচ্চ দারিদ্র্যহারসম্পন্ন দেশ বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ (১.২ মিলিয়ন) রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। এদের অনেকেই প্রতিবেশী বৌদ্ধপ্রধান মিয়ানমারে একাধিক দমন অভিযানের মুখে পালিয়ে এসেছে, যেখানে তাদের বহিরাগত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার গত বছর জানিয়েছিল, নানা চ্যালেঞ্জের কারণে শরণার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সম্পদ বরাদ্দ দেওয়ার সক্ষমতা তাদের নেই এবং তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়েছে।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, তিনিও রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পক্ষে, তবে তা অবশ্যই নিরাপদ পরিস্থিতিতে হতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব যেন এই মানুষগুলো তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে পারে। তবে সেখানে পরিস্থিতি নিরাপদ হতে হবে। যত দিন নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তত দিন তারা এখানে থাকতে স্বাগত।’

ইসলামী আন্দোলনই ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের সংগ্রামে একমাত্র দল : চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম বলেছেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশই একমাত্র দল-যারা কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক সমাজ ও ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ইসলামের বিজয় অবশ্যম্ভাবী, ইনশাআল্লাহ।

আজ শনিবার দুপুরে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সৈয়দ রেজাউল করিম।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি আব্দুল মালেক আনোয়ারীর পক্ষে বাউফল পাবলিক মাঠে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।

সেখানে আরও বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতা নাসির আহমেদ কাউসার, হাবিবুর রহমান মিসবাহ, ইসলামী আন্দোলনের বাউফল উপজেলার আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব আলহাজ আবুল হোসেন হাওলাদার এবং মাওলানা নুরুল আমিন।

ভোট কিন্তু নেতার কাছে নেই, ভোট জনগণের কাছে: হাসনাত আব্দুল্লাহ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ভোট কিন্তু নেতার কাছে নেই, ভোট জনগণের কাছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা মুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছি। নীরবে একটা বিপ্লব ঘটে গেছে।’

আজ শনিবার যশোর শহরের দড়াটানা ভৈরব চত্ত্বরে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পথসভায় এনসিপি যশোরের প্রধান সমন্বয়ক নূরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে যশোর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল কাদের, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক শাকিব শাহরিয়ারসহ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি যশোরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তৃতা করেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ এ সময় বলেন, বিএনপির তৃণমূলের নেতা-কর্মী যারা বেগম জিয়ার আদর্শে বিশ্বাস করে, তারা চাঁদাবাজি করে না। তারা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশকে ভোট দেয়ার জন্য অপেক্ষা করছে।

হাসনাত আব্দুল্লাহ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, প্রত্যেকটা মানুষের দ্বারে দ্বারে আপনাদের যেতে হবে। মনে রাখতে হবে, ভোট কিন্তু নেতার কাছে নেই, ভোট জনগণের কাছে। যদি জানেন কেউ আপনার বিরুদ্ধে ভোট করছে, তার কাছেও দাঁড়িপাল্লা, শাপলাকলির দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে।

পুলিশের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি যে পোশাক পরে আছেন, সেটা আপনার মেধা ও যোগ্যতায় অর্জন করা। আপনি সিদ্ধান্ত নেন আগামীর বাংলাদেশ ও আপনার সন্তানদের ন্যায় ও ইনসাফের হাতে তুলে দেন।’

তিনি আরও বলেন, পুলিশ ভাইয়েরা বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকুন, কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে না। আমরা চাই, আমরা ভাই-ভাইয়ের মতো একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশকে সুখী সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে চাই।

প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এই নির্বাচন আপনাদের জন্য অগ্নি পরীক্ষা। বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের বিশ্বাস করবে কি করবে না, আস্থায় আনবে কি আনবে না, তার অগ্নি পরীক্ষা হচ্ছে ১২ তারিখ।

তিনি নেতা-কর্মীদের সকাল সাড়ে সাতটায় কেন্দ্রগুলোতে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত সবাইকে কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান করতে হবে।

বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ যশোর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল কাদেরকে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে তাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।

জুনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করতে ইউক্রেন ও রাশিয়াকে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র : জেলেনস্কি

ইউক্রেন ও রাশিয়াকে আগামী জুনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করতে এবং এ লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে ফ্লোরিডায় দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা আয়োজনের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগগুলো সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গতি পেয়েছে। তবে, ভূখণ্ড ইস্যুতে মস্কো ও কিয়েভের অবস্থান এখনো পরস্পর বিরোধী।

ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড দখলে রাখা রাশিয়া যেকোনো চুক্তির অংশ হিসেবে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করছে। আলোচনা ব্যর্থ হলে বলপ্রয়োগে অঞ্চলটি দখলের হুমকিও দিয়েছে মস্কো।

অন্যদিকে ইউক্রেনের বক্তব্য, ভূখণ্ড ছাড় দিলে মস্কো আরো আগ্রাসী হবে। ফলে, ভবিষ্যতে রাশিয়ার পুনরায় আগ্রাসন ঠেকাতে ব্যর্থ এমন কোনো চুক্তিতে কিয়েভ স্বাক্ষর করবে না।

শনিবার ভোরে প্রকাশিত এক বক্তব্যে সাংবাদিকদের জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো ইউক্রেন ও রাশিয়াকে এক সপ্তাহের মধ্যে সম্ভবত মিয়ামিতে বৈঠকে বসতে প্রস্তাব দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, তারা বলছে, জুনের মধ্যে সবকিছু সম্পন্ন করতে চায়।

জানুয়ারি থেকে আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বড় ধরনের বন্দি বিনিময় হলেও ভূখণ্ড প্রশ্নে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

মস্কো ও কিয়েভ—উভয় পক্ষই জানিয়েছে, আলোচনা কঠিন ছিল।

জেলেনস্কি একাধিকবার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, রাশিয়ার তুলনায় ইউক্রেনকে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ছাড় দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে।

ইউক্রেন বর্তমান যুদ্ধরেখা বরাবর সংঘাত স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে।

ভোটকেন্দ্র ধূমপানমুক্ত এলাকা নিশ্চিত করার নির্দেশ ইসির

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণ চলাকালে ভোটদান কেন্দ্রগুলোকে ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি সম্প্রতি সকল রিটার্নিং অফিসারকে দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণ চলাকালে ভোটদান কেন্দ্রগুলোকে ধূমপানমুক্ত এলাকা মর্মে নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। বর্ণিতাবস্থায়, উল্লিখিত সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’

গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান প্রধান তথ্য কর্মকর্তার

প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. নিজামূল কবীর বলেছেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণস্বরূপ। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে গণমাধ্যমকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাষ্ট্রকে সঠিক পথ দেখায়।

প্রধান তথ্য কর্মকর্তা আজ সিলেট আঞ্চলিক তথ্য অফিসে তথ্য অধিদফতর আয়োজিত গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে কর্মশালায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

নিজামূল কবীর বলেন, তথ্য অধিদফতর গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতকৃত সচেতনতামূলক বিভিন্ন কনটেন্ট, টিভিসি, থিম সং, আটটি বিভাগের আটটি আঞ্চলিক ভাষায় গানসহ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, গণভোট ও পোস্টাল ব্যালট সম্পর্কিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

এছাড়া গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন বিভাগে সেমিনার, কর্মশালা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করছে তথ্য অধিদফতর।

তিনি আরো বলেন, গণভোট নিয়ে তরুণরা উচ্ছ্বসিত। তরুণদের এ উচ্ছ্বাসকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি গ্রামের সাধারণ জনগণ ও নারীদের ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। গণভোট কী, কেন এবং কীভাবে ভোট দিতে হবে- এসব বিষয়ে জনগণের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। তাই গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুবিধা এবং আচরণবিধি সহজভাবে জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে।

উপপ্রধান তথ্য অফিসার হাছিনা আক্তারের সভাপতিত্বে কর্মশালায় অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ইয়াকুব আলী, উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা নাসরীন জাহান লিপি ও মোল্লা আহমদ কুতুবুদ- দ্বীন বিভিন্ন বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন।

কর্মশালায় ইলেকট্রনিক মিডিয়া, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিকগণ তাদের মতামত ও নির্বাচন বিষয়ক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।