শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

অলি আহমদ বীর বিক্রম চন্দনাইশ ভোট দিলেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে থাকা লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম তার নিজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। চন্দনাইশ সদর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে তিনি আজ ভোট প্রদান করেন।

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা ও সাতকানিয়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৪ সংসদীয় আসনে বিএনপি, এলডিপি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী ফ্রন্ট, ইনসানিয়াত বিপ্লব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীসহ মোট ৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে বিএনপির দুইজন বিদ্রোহীও রয়েছেন।

২০০৮ সাল পর্যন্ত টানা ছয়বার এ আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। এবার আসনটিতে এলডিপির প্রার্থী হয়েছেন তার ছেলে মো. ওমর ফারুক।

সারা দেশে একটি প্রাণবন্ত এবং সর্বজনীন পরিবেশ বিরাজ করছে : জামায়াতে ইসলামী

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, এবারই প্রথম ভোট সুন্দর, উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য তিনি দেশবাসীকে আহ্বান জানান।

আজ বৃহস্পতিবার মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সারা দেশে একটি প্রাণবন্ত এবং সর্বজনীন পরিবেশ বিরাজ করছে। সব বয়স ও পেশার মানুষ ভোটে অংশগ্রহণ করছে। নির্বাচন এখন একটি উৎসবে পরিণত হয়েছে।

জুবায়ের জানান, সরকারের সাধারণ ছুটির ঘোষণা ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। মিডিয়া প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিপুল সংখ্যক ভোটার পুরুষ, মহিলা ও বিশেষ করে যুবক-তরুণরা ভোট কেন্দ্রের সামনে সুন্দরভাবে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

তিনি বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। জাতীয় সংসদের ২৯৯টি আসনে ভোট হচ্ছে, অর্থাৎ ২৯৯ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন। ফলাফল আজ রাত বা আগামীকাল জানা যাবে। এ নির্বাচনের পাশাপাশি একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের প্রস্তাব।

জুবায়ের ভোটারদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “আমরা দৃঢ় বিশ্বাস করি জনগণ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উভয়েই মহাভোটে বিজয়ী হবেন।”

জুবায়ের বলেন, “সব দিক বিবেচনা করলে দেখা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক দুই-দেড় দশকের মধ্যে এটি সবচেয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট প্রদান। নতুন প্রজন্ম এই অংশগ্রহণমূলক ভোটের অভিজ্ঞতা প্রথমবার পাচ্ছে। আমাদের জেনজিরা, মা ও বোনেরা সবাই বিপুলভাবে অংশগ্রহণ করছেন।”

তবে তিনি অভিযোগ করেন, ভোলা. কুমিল্লা, বরগুনা ও নোয়াখালীর কিছু কেন্দ্রে নেতৃবৃন্দ ও এজেন্টদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

জুবায়ের নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ও তৎপর থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যাশা করছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে ভোটদানের চিত্র পর্যবেক্ষণ করলেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আজ পুলিশ সদর দপ্তরে স্থাপিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সারাদেশের ভোটদান চিত্র পর্যবেক্ষণ করেছেন।

এ সময় তাঁর সঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

আজকের ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে : ড. মঈন খান

উন্নত দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের প্রশ্নে বেশি সচেতন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ড. আব্দুল মঈন খান।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন। তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, ভোটের অধিকারে বিশ্বাস করে। আমরা না খেয়ে থাকতে রাজি আছি, কিন্তু ভোট না দিয়ে থাকতে রাজি নই।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরনগরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ভোটের মধ্য দিয়ে দেশে নতুন করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে ধানের শীষের এই প্রার্থী বলেন, বিগত চারটি প্রহসন ও সাজানো নির্বাচনের পর আজ দেশের মানুষ সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট দিতে পারছে। ২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচারের পতনের মাধ্যমে এ সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নিজেকে ‘রাজনৈতিক নেতা নয়, কর্মী’ হিসেবে উল্লেখ করে মঈন খান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে রাজনীতি করছেন তারা। রাজনীতি যদি মানুষের কল্যাণে না আসে, তবে তার কোনো অর্থ নেই।

ভোট শেষে জনগণের ইচ্ছায় দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পলাশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার, যুগ্ম সম্পাদক বাহাউদ্দীন ভূঁইয়া মিল্টন, পৌর বিএনপির সভাপতি আলম মোল্লা, থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান পাপন।

আজ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ দিন : ইইউ প্রধান নির্বাচন পর্যবেক্ষক

বাংলাদেশে চলমান জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের (ইইউ ইওএম) প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস বলেছেন, আজকের দিনটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ইইউ-এর পর্যবেক্ষক দল বর্তমানে সারাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছে।

রাজধানীর নিউ বেইলি রোডের সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজে ভোটগ্রহণ শুরুর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য এটা একটা বড় দিন।’ ইইউ-এর পর্যবেক্ষক দল বর্তমানে সারাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছে।

এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক, নির্ভরযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করে ইভার্স ইজাবস জানান, দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ ছাড়াও তারা দিন শেষে ভোট গণনার প্রক্রিয়াও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন।

ইইউ প্রধান পর্যবেক্ষক আরও জানান, বেলা ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল পরিদর্শনের পর তিনি গণমাধ্যমকে আরও বিস্তারিত তথ্য জানাবেন।

নির্বাচন উপলক্ষে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইইউ ইওএম) বাংলাদেশের ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় ৯০ জন স্বল্পমেয়াদী পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। এই পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্র খোলা, ভোটগ্রহণ, কেন্দ্র বন্ধ করা এবং পরবর্তীতে ব্যালট গণনা ও ফলাফল তৈরির প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।

ইভার্স ইজাবস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের স্বল্পমেয়াদী পর্যবেক্ষকরা দেশের প্রায় প্রতিটি সংসদীয় আসনের শহর ও গ্রামের কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত রয়েছেন। সারাদিন তাদের পাঠানো তথ্য ও প্রতিবেদনগুলো এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের একটি নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

তিনি আরও জানান, সারাদেশে ইইউ-এর মোট ২০০ জন পর্যবেক্ষক নিয়োজিত রয়েছেন, যারা এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করায় অবদান রাখছেন।

উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান তারেক রহমানের

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি বলেন, গণতন্ত্রকামী জনগণের উচিত নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী প্রার্থীকে ভোট দেয়া এবং রাষ্ট্রীয় অধিকার ও মালিকানা নিশ্চিত করা।

ভোটারদের উদ্দেশে তিনি লিখেন, যাকে উপযুক্ত মনে করেন তাকেই ভোট দিন এবং নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দায়িত্ব পালন করুন।

তারেক রহমান আরও বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের দায়িত্ব নেবেন এবং তাদের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন- এ প্রত্যাশা সবার।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বিজয়ী হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবেন এবং সে দায়িত্ব নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও করেন।

ফেইসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও ভালোবাসায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত হবে, ইনশাআল্লাহ। পাশাপাশি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ।’

কক্সবাজারের পেকুয়া জি এম সি ইনিস্টিউট কেন্দ্রে ভোট দিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজারের পেকুয়া জি এম সি ইনিস্টিউট কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন।

এসময় সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভোট দিতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত। আমার এই অনুভূতি প্রকাশ করার মতো না। ইনশাআল্লাহ, আমি আশাবাদী, এই এলাকার মানুষ উন্নয়নের স্বার্থে, সমৃদ্ধির স্বার্থে ধানের শীর্ষের পক্ষে রায় দেবে।’

তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ এই আসনে যতবার নির্বাচন করেছি, এই এলাকার মানুষ আমাকে বিজয়ী করেছেন। এই এলাকার মানুষ আমাকে ভালোবাসে, আমার ওপর আস্থা রাখে, আমাকে বন্ধু মনে করে। আমার প্রতি জনগণের অকৃত্রিম ভালোবাসা রয়েছে, তাদের প্রতিও আমার একই রকম ভালোবাসা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর এরকম একটা মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। যাতে সবাই উৎসবমুখর পরিবেশে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যখন কারাগারে ছিলাম, তখন আমার স্ত্রী ২০০৮ সালে এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আমার চেয়েও বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছে।

ভোট নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হলে আমরা ফল মেনে নেব : জামায়াত আমীর

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এবারের ভোট শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু, সন্ত্রাস ও দখলমুক্ত এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ সুষ্ঠ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে ফলাফল আসবে, সেটি সবাই মেনে নেবে। ভোট যদি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়, আমরা সেই ফল মেনে নেব। অন্যদেরও তা মানতে হবে। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।”

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভোট দেয়ার সুযোগ পাওয়ায় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, এই ভোটের মাধ্যমে দেশে একটি নতুন দিনের সূচনা হোক এ কামনা। বিশেষ করে যেসব তরুণ-তরুণী আগে কখনো ভোট দেয়ার সুযোগ পায়নি, তাদের জন্য দিনটি তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ভোট দেয়ার পর তিনি অন্য কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন এবং সারাদেশের খবর নেবেন বলে জানান। ছোটখাটো বিষয় উপেক্ষা করা হলেও বড় কোনো অনিয়ম হলে তা সহ্য করা হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

দেশ গঠনে সবার সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, দেশ সবার, দেশ গড়তে হবে সম্মিলিতভাবে। মিডিয়াকে সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ উল্লেখ করে তিনি দেশ গঠনের কাজে গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।

সকল ভোটারকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান। নারীুপুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্র গঠনে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই সংবাদ বিভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়। কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অপরাধ নয় এমন বিষয়কে জোর করে অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করাও অন্যায়।

বিএনপির ভিপি জয়নাল এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মঞ্জু ভোট দিয়েছেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ফেনী- ২ (সদর) আসনে ভোট দিয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অধ্যাপক জয়নাল আবদীন ভিপি ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

আজ সকাল ০৭:৪৩ মিনিটে শহরের ফেনী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের উপাধ্যক্ষ আবুল বশর ভবনে ভিপি জয়নাল তার স্ত্রী শাহানা আক্তার, দুই পুত্র রাশেদ ইকবাল ও জাবেদ ইকবাল এবং পুত্রবধুদের সাথে নিয়ে ভোট দেন।
এদিকে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার শর্শদী বালিকা বিদ্যানিকেতন কেন্দ্রে মা রাহেলা আক্তার ও-স্ত্রী হোসনে আরা রিজুকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দেন মজিবুর রহমান মঞ্জু।

ভোটকেন্দ্রগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, ফেনী ল্যাবরেটরি হাই স্কুল কেন্দ্রে ৭টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে যান ভোটাররা। সকাল ০৭:২৪ মিনিটে ৫ জন নারী ও উপাধ্যক্ষ আবুল বশর ভবনে পুরুষদের ৪টি লাইনে ৫৬ জন ভোটার ছিলেন।

ভোট দেওয়ার পর জয়নাল আবদীন ভিপি বলেন, ধানের শীষের বিজয়ে আমি আশাবাদী। ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, বুধবার রাত থেকে বিভিন্ন স্থানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে। এগুলো সামলাতে প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হয়েছে। জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের জবাব দেবে।

উল্লেখ্য, ফেনী ২ (সদর) আসনে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ভোট দিলেন বিএনপি মহাসচিব, গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরুর প্রত্যাশা

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে আজ সকাল সাড়ে ৭ টার পরপরই ভোট দেন।

ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনের এ প্রার্থী এর আগে সেনুয়া গোরস্থানে তাঁর বাবা-মার কবর জিয়ারত করেন। ভোট দেয়ার পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হলো। আমরা প্রত্যাশা করি এ পথ মসৃন হবে, আমাদের রাজনীতিকে, অর্থনীতিকে, দেশকে তার অভিষ্ট লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, জাতির অনেক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে, অনেক রক্তপাতের বিনিময়ে আমরা এ দিনটি পেয়েছি। ১৭ বছরে লাখ লাখ মানুষ খুন হয়েছে, গুম হয়েছে, জেল জুলুমের শিকার হয়েছে। আজ মানুষ ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে। এই নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

গতরাতের কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, যারা নির্বাচন বানচাল করতে চায় সে রকম কিছু অপশক্তি এসব কাজ করছে। আমরা আশা করি তারা পরাজিত হবে।

নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারেক জিয়ার নেতৃত্বে আমরা জয়লাভ করবো ইনশাআল্লাহ। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।