শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

মহা আনন্দের ও মুক্তির দিন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার ঐতিহাসিক সুযোগ : প্রধান উপদেষ্টা

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার এক ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি দিনটিকে জাতির জন্য ‘মহা আনন্দের দিন’ ও ‘মুক্তির দিন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

আজ সকালে রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আজ যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, এর মধ্য দিয়ে আমরা অতীতকে সম্পূর্ণভাবে বর্জন করেছি। প্রতিটি ধাপে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ পেয়েছি। আসুন, আজ আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশের জন্মদিন পালন করি। সারা দেশ দিনভর উৎসব করুক।’

তিনি বলেন, প্রার্থীদের ভোট দেওয়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গণভোটও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গণভোটে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন।’

নিজের অনুভূতি জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এটি আমার জীবনের এক মহা আনন্দের দিন। বাংলাদেশের মানুষের জন্যও এটি মহা আনন্দের এবং মুক্তির দিন।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আজকের এই যাত্রা অতীতের দুঃস্বপ্নের অবসান এবং নতুন করে পথচলার সূচনা।

অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, দেশের মানুষ দিনটিকে জাতীয় উৎসবের মতো করে গ্রহণ করেছে। অনেকেই ঈদের দিনের মতো দিনটি উদ্যাপন করছেন।

এবারের ঐতিহাসিক নির্বাচন জাতির কাছে উদাহরণ হয়ে থাকবে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, এবারের ঐতিহাসিক নির্বাচন জাতির কাছে উদাহরণ হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আজ দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, চামেলীবাগ গোল্ডেন ইরা কিডস স্কুল, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ, মতিঝিল এজিবি কলোনী কমিউনিটি সেন্টার, টিএন্ডটি উচ্চ বিদ্যালয় ও তেজগাঁও কলেজ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

উপদেষ্টা এসময় বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ভোটের সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

নারী এশিয়ান কাপে ‘নতুন ইতিহাস’ গড়ার লক্ষ্য জাপানের

আগামী মাসের নারী এশিয়ান কাপের শিরোপা জিতে “নতুন ইতিহাস” গড়তে চায় জাপান, এমনটাই জানিয়েছেন দলের কোচ নিলস নিয়েলসেন। বৃহস্পতিবার ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন নিয়েলসেন। যেখানে তিনি ইংল্যান্ডভিত্তিক ১৬ জন খেলোয়াড়কে দলে রেখেছেন।

জাপান এশিয়ার একমাত্র দেশ যারা নারী বিশ্বকাপ জিতেছে, তবে এ পর্যন্ত খেলা ২০ আসরের এশিয়ান কাপে তারা মাত্র দু’বার শিরোপা জিতেছে। সর্বশেষ শিরোপা আসে ২০১৮ সালে।

জাপান নারী দলের প্রথম বিদেশী কোচ গ্রিনল্যান্ডে জন্ম নেওয়া নিয়েলসেন মনে করেন, আগামী ১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হওয়া টুর্নামেন্টে এবারই জাপানের সামনে সেরা সুযোগ।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দায়িত্ব নেয়া ৫৪ বছর বয়সী এই কোচ বলেন, “ঐতিহাসিকভাবে এই টুর্নামেন্ট জাপানের জন্য সহজ ছিল না। আমরা নতুন ইতিহাস গড়তে চাই। আমাদের এমন একটি দল আছে যারা শিরোপা জিততে সক্ষম। তাই ট্রফি না জেতা পর্যন্ত আমরা সন্তুষ্ট হতে পারছি না।”

২৬ সদস্যের দলে জায়গা পেয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হিনাতা মিয়াজাওয়া, যিনি ২০২৩ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন। এছাড়া ম্যানচেস্টার সিটির ইউই হাসেগাওয়া ও আওবা ফুজিনোও রয়েছেন।

২০১১ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য এবং ১৬৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ডিফেন্ডার সাকি কুমাগাই এখনও দলে আছেন।

জাপানের ঘরোয়া ডব্লিউই লিগ থেকে মাত্র চারজন খেলোয়াড় দলে সুযোগ পেয়েছেন।

নিয়েলসেন জানান, চোট-আঘাতের সমস্যা না থাকায় চূড়ান্ত দল নির্বাচন খুব কঠিন ছিল না।

তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি দল পেয়েছি যেখানে সব ধরনের বৈচিত্র্য আছে। প্রায় সব পরিস্থিতির জন্য আমরা প্রস্তুত। একই ধরনের অনেক খেলোয়াড় আমরা নেইনি। কারণ মাঠে কাউকে বদলি করলে আমরা ভিন্ন কিছু যোগ করতে চাই।”

প্রথম রাউন্ডে তাইওয়ান, ভিয়েতনাম ও ভারতের সঙ্গে একই গ্রুপে থাকা জাপান ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নামবে।

নিয়েলসেন বলেন, “প্রতিপক্ষ যে কৌশল নিয়ে আসুক না কেন, আমাদের স্কোয়াডে তার জবাব দেওয়ার মতো সমাধান আছে বলেই আমি বিশ্বাস করি।”

এডিবির দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের নতুন মহাপরিচালক সোনা শ্রেষ্ঠা

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) তাদের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক হিসেবে সোনা শ্রেষ্ঠাকে নিয়োগ দিয়েছে। এ পদে তিনি বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় এডিবির কৌশল ও কার্যক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেবেন।

শ্রেষ্ঠা বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি। এ অঞ্চলের উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নে এডিবির সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করতে আমি আগ্রহী।’

শ্রেষ্ঠা একজন অভিজ্ঞ উন্নয়ন নেতা। তার পেশাগত অভিজ্ঞতা ২৭ বছরের বেশি, যার মধ্যে ২৩ বছরই এডিবিতে কর্মরত ছিলেন।

বর্তমান নিয়োগের আগে তিনি দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের উপ-মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি এডিবির স্বাধীন মূল্যায়ন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক, সহকারী সচিব, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আর্থিক খাত ও বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক এবং ইন্দোনেশিয়ার উপ-কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
আজ এডিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে এডিবিতে বিভিন্ন দায়িত্বে থেকে তিনি মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে বিস্তৃত কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

নেপালের নাগরিক শ্রেষ্ঠা যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অর্থনীতিতে ডক্টরেট ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া ম্যাসাচুসেটসের স্মিথ কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

সদস্য দেশ ও অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এডিবি উদ্ভাবনী আর্থিক উপকরণ ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, মানসম্মত অবকাঠামো নির্মাণ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।

একটি সচেতন ভোটই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে : তারেক রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি সচেতন ভোটই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক স্ট্যাটাসে ভোটারদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান লেখেন, ‘আপনার একটি সচেতন ও দায়িত্বশীল ভোটই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

স্ট্যাটাসে তিনি জানান, যারা ইতোমধ্যে ভোট দিয়ে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন, তাদের প্রত্যেককে তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

একই সঙ্গে যারা এখনো ভোট দেননি, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।

সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘আসুন, সবাই মিলে একসাথে দেশ গড়ি, ইনশাআল্লাহ।’

ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে ফলাফল অবশ্যই মেনে নেবো: তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিতর্কহীন হলে তার দল ফলাফল অবশ্যই মেনে নেবে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ঢাকার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচন যদি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিতর্কহীন হয়, তাহলে কেন মেনে নেবো না? আমরা সব দলই মেনে নেবো। তবে একটি শর্ত আছে- নির্বাচন নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হতে হবে। জনগণ ভোট দিলে আজ থেকেই দেশে গণতান্ত্রিক সূচনা হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘আমি ঢাকা শহরের কিছু জায়গায় (কেন্দ্র) ঘুরে এসেছি। গত রাতেও তারা চেষ্টা করেছে, আজও নিশ্চয়ই সেই চেষ্টা অব্যাহত রাখবে- যাতে জনগণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ভোট প্রদান করতে পারে। কারণ, গত এক যুগের বেশি সময় ধরে মানুষ এ অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা আছে।’

তিনি সবাইকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা সকলে মিলে চেষ্টা করি, যাতে শান্তিপূর্ণ ও সুন্দরভাবে মানুষ তাদের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। আমরা সকলে মিলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারি।’

জয়ের ব্যাপারে বিএনপি কতটা আশাবাদী- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা কনফিডেন্ট। আলহামদুলিল্লাহ, আশাবাদী বিজয়ের ব্যাপারে।’

কত আসন পাওয়ার প্রত্যাশা- জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা এতটুকু প্রত্যাশা করছি- যত আসন পেলে সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারবো।’

বিএনপি জয়ী হলে জাতীয় সরকার গঠনের সম্ভাবনা আছে কিনা- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যাদেরকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, কমবেশি সবাইকে নিয়ে দেশ পরিচালনা করতে চাই।’

সারাদেশে ভোটের পরিবেশ কেমন? প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি এতক্ষণ বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরেছি। এখনো সারাদেশের খবর পাইনি। এই মাত্র অফিসে এলাম। পাঁচ ঘণ্টা কেন্দ্র পরিদর্শনে ছিলাম, তাই খবর নিতে পারিনি। তবে ঢাকা শহরে যে পরিবেশ দেখেছি, তাতে মনে হয়েছে মানুষ অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘মোবাইলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর দেখছিলাম। দেখলাম, এখন বিভিন্ন জায়গায় অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটছে। কোন একটি রাজনৈতিক দল কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা বারবার ঘটিয়ে যাচ্ছে। কাজেই আমরা চায় না, এমন ঘটনা ঘটুক।’

তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের মালিক জনগণ। তারা যদি বেরিয়ে আসে এবং অধিকার প্রয়োগ করে, ভোটের সংখ্যা যতবেশি বাড়বে, সব দলের ষড়যন্ত্র তত প্রতিহত করা যাবে।’

তিনি অভিযোগ করেন, যারা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাচ্ছে, তাদের প্রতি মানুষের বিরূপ ধারণা বাড়বে। এগুলো ভালো নয়। তারা বিভিন্নভাবে অনৈতিক কাজ করার চেষ্টা করছে।

ভোটের ফল গণনায় দেরির আশঙ্কা আছে দেখছেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, ‘ফল গণনায় দেরির কোনো কারণ দেখি না। সমগ্র দেশের মানুষ যেখানে ভোট দিয়েছে, সেখানে তারা তো ফল দ্রুতই চাইবে। নির্বাচন কমিশন চেষ্টা করবে যত দ্রুত সম্ভব ফল মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে।”

তিনি বলেন, ‘১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখেছি। ফল ঘোষণায় একটি স্বাভাবিক সময় তো লাগেই। আমরা প্রত্যাশা করবো এবারও যত দ্রুত সম্ভব মানুষ ফল জানতে পারবে।’

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেখছি। মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের বিষয় মেনে নেওয়া যাবে না। কেউ মেনে নেবে না।’

নেত্রকোণায় সপরিবারে ভোট দিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর

নেত্রকোণা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসনের বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর দীর্ঘ সাড়ে ১৭ বছর পর নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে তিনি তার নিজ উপজেলার মদন কোর্ট ভবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সপরিবারে উপস্থিত হয়ে ভোট প্রদান করেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভোট দিতে পেরে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন এবং উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

ভোট প্রদান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, “আমি যে আজ ভোট দিতে পারছি এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছি, এর চেয়ে বড় রহমত আর কী হতে পারে? এজন্য আমি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে কৃতজ্ঞ।”

তিনি আরও জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তার সন্তানরাও আজ নিজ এলাকায় এসে প্রথমবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে।

এ সময় তিনি তরুণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রশংসা করে বলেন, “এখানে অনেক তরুণই প্রথমবার ভোট দিচ্ছে, এটি দেশের আগামীর জন্য একটি বিরাট আশার ব্যাপার। আমাদের এলাকা সবসময়ই শান্তিপূর্ণ ছিল এবং এখনও সেই পরিবেশ বজায় আছে। আশা করি সারাদেশেই এমন শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।”

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে বাবর বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অত্যন্ত শক্ত অবস্থান নিয়েছে। তবে যারা ভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা করছে, তারা মূলত গর্হিত কাজ করছে। আমাদের দলের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।”

এসময় নির্বচনী পরিবেশ সুষ্ঠ রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক এবং ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিরোধের আহ্বান জানান তিনি। প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্টসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলকে নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করেন।

উল্লেখ, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে এখন নাগাদ কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই নির্বিঘ্নে ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন।

জেলায় মোট ভোট কেন্দ্র ৬৭৬টি, মোট ভোটার ২০ লাখ ৪৪ হাজার ৭ শত ৩৬ জন, তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ লাখ ৩৭ হাজার ২২৫ জন, মহিলা ভোটার ১০ লাখ ৭ হাজার ৪ শত ৭১ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪০ জন এবং পোস্টাল ভোটার ১৭ হাজার ৮ শত ২০ জন।

জেলায় মোট ৬৭৬ টি ভোট কেন্দ্র সিসিটিভির আওতায় রয়েছে, তার মধ্যে ২৬১ টি সাধারণ, ২৭৩ টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ১৪২ টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ৬৭৬ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৩৮৪৩ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ৭৬৮৬ জন পোলিং অফিসার নিয়োজিত রয়েছেন।

দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোট প্রদানের হার ৩২.৮৮ শতাংশ : ইসি সচিব

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত নির্বাচনে ভোট প্রদানের হার ৩২ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

আজ দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তিনি বলেন সকাল সাড়ে সাতটা থেকে ২৯৯ টি আসনের সবকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। কোনো একটা কেন্দ্রেও বিলম্বের কারণ ঘটেনি।

ধানমন্ডির একটি কেন্দ্রে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে নিজে ভোট দিয়েছেন উল্লেখ করে ইসি সচিব বলেন, ‘দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ৪২ হাজার ৬৫১ টা কেন্দ্রের মধ্যে ৩২ হাজার ৭৮৯ টা কেন্দ্রের খবর পেয়েছি সে অনুযায়ী ভোট প্রদানের হার ৩২ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

তিনি জানান, এবার তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি একটু চেঞ্জ করা হয়েছে। সে কারণে আমাদের লিড টাইমটা একটু বেশি লাগছে। কারণ আমরা অতীতে দেখেছি যে আপনার প্রিজাইডিং অফিসারের থেকে এটা তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সমস্যা হতো। সেই কারণে এবার এসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছি।

বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার কথা জানা গেছে উল্লেখ করে সচিব বলেন, বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কোন ভোট কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হয়নি। সেগুলো এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন।

তিনি জানান, মেহেরপুরে ভোট দিয়ে ফেরত যাওয়ার পথে একটা মারামারির ঘটনা ঘটেছে। দু’জন আহত হয়েছেন, প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে তারা বাসায় চলে গেছেন। এখন পর্যন্ত হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি।

স্বতঃস্ফূর্ততার জন্য ভোটারদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি এখনো যারা ভোট দেননি তাদের ভোট কেন্দ্রে এসে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।

গতকাল ভোররাতে ময়মনসিংহের একটি আসনের এক ভোট কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ইন্তেকাল করেছেন জানিয়ে সচিব তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। সেখানে আরেকজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এবং ভোট গ্রহণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি জানান।

জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট প্রদান করছে : তথ্য উপদেষ্টা

তথ্য ও সম্প্রচার, পরিবেশ,বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, সব চ্যালেঞ্জ, অনর্থক বিতর্ক ও প্রচারণা পিছনে ফেলে আজকে আমরা ভোটের দিনে চলে এসেছি। জনগণ আজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘দেখেন এখানকার ভোটের আমেজ এবং ভোটারদের উপস্থিতি। মানুষ সত্যিকার অর্থেই ক্ষমতায়িত হয়েছে। তিনি তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে আনন্দিত। সুশৃঙ্খলভাবে সবাই ভোট দিচ্ছে। লেটস সেলিব্রেট দিস। আসুন আমরা এই নির্বাচনটাকে,সরকারের এই প্রয়াসটাকে সেলিব্রেট করি।’

তিনি আজ ধানমন্ডির সেন্ট্রাল রোডে আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘গতকাল পর্যন্ত শুনেছি ইলেকশন কি হবে? অনেকে এসএমএস করে জানতেও চেয়েছে। দেশের মানুষের শঙ্কা ছিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনটা হচ্ছে কি না।’

তিনি বলেন, ক্ষমতায় তো কখনই ছিলাম না। ছিলাম দায়িত্বে। দায়িত্বতো সারাজীবনের ব্যাপার। এটাকে প্রলম্বিত করা না করার ব্যাপার নাই। আগে বেলা’র প্রধান নির্বাহী হিসেবে পরিবেশ নিয়ে কাজ করেছি, এখন উপদেষ্টা হিসেবে পরিবেশের কাজ করেছি। আবার যখন চলে যাবো তখন বেলা’য় গিয়ে আবার পরিবেশ নিয়ে কাজ করবো। দেশটা নেতিবাচকতা ও সন্দেহের ভিত্তিতে এতোটা বছর রয়ে গেছে। আজকে ইলেকশনের দিনে, শান্তিপূর্ণ ভোটের দিনে এটা প্রমাণিত হলো যে যতরকমের কথাবার্তা ছিল নেতিবাচক, সেগুলো আসলে একটাও আমাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পর ফলাফল ঘোষণার বিষয়টা আমাদের নয়,নির্বাচন কমিশনের। সুতরাং যখনই গেজেট নোটিফিকেশন হয়ে যাবে, শপথ হয়ে যাবে,তাক্ষৎনিকভাবেই আমরা দায়িত্ব হস্তান্তর করবো। আর এখনো পর্যন্ত আমরা দায়িত্বেই রয়েছি। প্রতিদিন রাষ্ট্রের কিছু না কিছু কাজ থাকেই। ফলে দায়িত্বে রয়েছি। যে মুহূর্তে শপথ হয়ে যাবে, সেই মুহূর্ত থেকে আমরা আর দায়িত্বে নাই।’

যমুনা থেকে ভোটদান চিত্র পর্যবেক্ষণ প্রধান উপদেষ্টার

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আজ রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় স্থাপিত অস্থায়ী পর্যবেক্ষণ কক্ষ থেকে সারাদেশের ভোটদানের সার্বিক চিত্র পর্যবেক্ষণ করেছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।