শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু হওয়ায় জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রধান উপদেষ্টার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোট শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সমগ্র জাতিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে তিনি বলেন, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলসমূহের দায়িত্বশীল আচরণ, প্রার্থীদের সংযম ও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব—এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাই প্রমাণ করেছে যে গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটুট। জনগণ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, পর্যবেক্ষক দল, গণমাধ্যমকর্মী এবং ভোটগ্রহণে সম্পৃক্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জানাই। তাদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলেই এই বিশাল গণতান্ত্রিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাই— চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পরও যেন গণতান্ত্রিক শালীনতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অটুট থাকে। মতের ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ আবারও প্রমাণ করেছে— জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। আমরা সম্মিলিতভাবে একটি জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে এগিয়ে যাব।

তিনি বলেন, এই নির্বাচন আমাদের জন‍্য মহা আনন্দের ও উৎসবের। এর মধ‍্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের এক অভূতপূর্ব যাত্রা শুরু হলো। এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর ছিলো। এই ধারা ধরে রাখা সম্ভব হলে আমাদের গণতন্ত্র উৎকর্ষের শিখরে যাবে। আসুন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার এই অভিযাত্রায় আমরা একসঙ্গে কাজ করি।

তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানা‌লেন নরেন্দ্র মোদি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ে বিএনপির নেতৃত্ব দেওয়া দল‌টির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগা‌যোগ মাধ‌্যম ফেসবু‌কের এক পো‌স্টে তা‌রেক রহমান‌কে অভিনন্দন জানান মো‌দি।

মো‌দি ব‌লেন, এই বিজয় আপনার (তা‌রেক রহমান) নেতৃত্বের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের আস্থার পরিচয় দেয়। ভারত একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের সমর্থনের সঙ্গে থাক‌বে।

ভার‌তের প্রধানমন্ত্রী ব‌লেন, আমি আমাদের বহুমুখী সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে এবং আমাদের সাধারণ উন্নয়ন লক্ষ্যগুলোকে এগিয়ে নিতে আপনার (তা‌রেক রহমান) সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ।

বিএনপি ও তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে মার্কিন দূতাবাস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য বিএনপি ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়া‌রি) ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই শুভেচ্ছা জানানো হয়।

পোস্ট উ‌ল্লেখ করা হয়, একটি সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন। বিএনপি এবং তারেক রহমানকে তাদের ঐতিহাসিক বিজয়ের শুভেচ্ছা। আমাদের দুই দেশের সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার অভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে আপনাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী।

শুক্রবার দেশব্যাপী শোকরানা দোয়া আয়োজনের অনুরোধ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় শুক্রবার দেশব্যাপী শোকরানা দোয়া আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অবাধ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচন সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য ও প্রশংসিত হয়েছে। এরূপ একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করে দেশব্যাপী সকল মসজিদে শোকরানা দোয়া এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে স্ব-স্ব ধর্মমতে প্রার্থনা আয়োজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, এ পরিপ্রেক্ষিতে আগামীকাল শুক্রবার বাদ জুম’আ দেশের প্রতিটি মসজিদে শোকরানা দোয়া এবং সুবিধা মতো সময়ে মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় স্ব-স্ব ধর্মমতে বিশেষ প্রার্থনা আয়োজনের জন্য অনুরোধ করা হলো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক এবং হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিবদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২০ বছর পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি, প্রথমবার বিরোধী দলে জামায়াত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর পর চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। ২৯৯টি আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত বেসরকারি ফলাফলে ১৭৫টি আসনে জয় পেয়েছে দলটির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থীরা। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা ৫৬টি আসনে জয়লাভ করেছেন। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা ১১টি আসনে জয় পেয়েছেন। বাকি ৪২টি আসনের ফলাফল এখনো প্রক্রিয়াধীন।

শীর্ষ নেতাদের জয় ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে, ঢাকা-১৫ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বিএনপির ক্ষমতার ইতিহাস সর্বশেষ ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছিল। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতির কাছে ইস্তফাপত্র প্রদানের মাধ্যমে সেই মেয়াদের সমাপ্তি ঘটে। এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গড়া এই দলটিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যান। দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ১৯৯৬ সালেও স্বল্প সময়ের জন্য সরকার গঠন করেছিল বিএনপি।

তারেক রহমানের অভিষেক ও নেতৃত্ব বিএনপির পক্ষ থেকে আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল, দল ক্ষমতায় গেলে বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হবেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। এবারই তিনি প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন এবং ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬—উভয় আসনেই জয়লাভ করেন।

বিগত ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে গত বছরের ২৫ নভেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান এবং ২৭ নভেম্বর ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। বিএনপির ওয়েবসাইট ও মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, আশির দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে তাঁর আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। ১৯৯৩ সালে বগুড়ায় গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচনের সংস্কৃতি চালু করে তিনি তৃণমূল রাজনীতিতে সাড়া ফেলেন। ২০০২ সালে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারান্তরীণ হওয়ার পর তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।

উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ৯ জানুয়ারি দলের স্থায়ী কমিটি তারেক রহমানকে চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়।

সংসদীয় সমীকরণ বাংলাদেশে সরকার গঠনের জন্য ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে অন্তত ১৫১টি আসনে জয়ের প্রয়োজন হয়। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী বিএনপি এককভাবেই সেই সংখ্যা অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে, এবারই প্রথমবারের মতো সংসদে প্রধান বিরোধী দল হতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। এর আগে জামায়াত বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হিসেবে সরকার ও বিরোধী দলে থাকলেও এবারই প্রথম তারা প্রধান বিরোধী শক্তির মর্যাদা পেতে যাচ্ছে।

তিন আসনের ফল ঘোষণা স্থগিত রাখবে নির্বাচন কমিশন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ হয়ে গেলেও তিনটি আসনের ফল ঘোষণা স্থগিত রাখবে নির্বাচন কমিশন। আসনগুলো হলো— শেরপুর-২, চট্টগ্রাম-২ এবং চট্টগ্রাম-৪।

মূলত এসব আসনে জয়ী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা থাকায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মামলাগুলো নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এগুলোর ফলাফল ঘোষণা স্থগিত থাকবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ইসির এ সংক্রান্ত তিনটি আলাদা চিঠি জারি করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-৪ (আসলাম চৌধুরী) ইসির জারি করা চিঠিতে বলা হয়েছে, আপিল বিভাগে দায়েরকৃত সিপিএলএ নং ৪৪১/২০২৬ (মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ১১৭৪/২০২৬ হতে উদ্বৃত) এর ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আদেশের আলোকে নির্বাচনী এলাকা ২৮১, চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে যথারীতি অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তবে ওই মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকায় কমিশন ফলাফল স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে।

চট্টগ্রাম-২ (সরোয়ার আলমগীর) একইভাবে চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের বিষয়ে জানানো হয়েছে, আপিল বিভাগে দায়েরকৃত সিপিএলএ নং ৪৪০/২০২৬ (রিট পিটিশন নং ১০৫৩/২০২৬ হতে উদ্বৃত) এর ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আদেশের প্রেক্ষিতে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ স্থগিত থাকবে বলে কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শেরপুর-২ (মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী) এদিকে শেরপুর-২ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরীর বিষয়ে জারি করা চিঠিতে বলা হয়েছে, আপিল বিভাগে দায়েরকৃত সিপিএলএ নং ৪৪২/২০২৬ (রিট পিটিশন নং ১১৮৬/২০২৬ হতে উদ্বৃত) এর ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আদেশের আলোকে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। তবে ওই মামলার চূড়ান্ত আদেশের ওপরই মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরীর নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভরশীল হবে মর্মে সিদ্ধান্ত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

নিরঙ্কুশ বিজয়ে দেশবাসীকে বিএনপির শুভেচ্ছা, আনন্দ মিছিল-সভায় বারণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক আসনে নির্বাচিত হওয়ায় দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনা আনন্দ মিছিল কিংবা কোনো সভা করা যাবে না বলেও দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে বিএনপির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি বিপুল সংখ্যক আসনে নির্বাচিত হওয়ায় ঢাকা মহানগরসহ দেশব্যাপী বিএনপির পক্ষ থেকে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানানো হয়েছে।

এ উপলক্ষে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও দেশবাসীর প্রতি শুভ কামনায় বিএনপির উদ্যোগে ঢাকাসহ দেশব্যাপী মসজিদে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।

তবে উল্লেখ থাকে যে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ায় বিএনপির পক্ষ থেকে কোনা আনন্দ মিছিল কিংবা কোনো সভা করা যাবে না।

বিএনপি জানায়, ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে দেশব্যাপী মসজিদে মসজিদে অনুষ্ঠিতব্য দোয়ায় অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।

একই সঙ্গে সারাদেশে মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে স্ব স্ব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষদের সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

ঝিনাইদহ-১ আসনে বিপুল ভোটে বিএনপির আসাদুজ্জামান বেসরকারিভাবে নির্বাচিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ ভোট। তার বিপরীতে
দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট পড়েছে ৫৫ হাজার ৫৭৭।

একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনটি। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা
৩ লাখ ২৫ হাজার ২৭০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৯৯৫ জন ও নারী
ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ২৭৫ জন।

ভোট গণনা শুরু

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শেষ হওয়ার পর অনেক স্থানে ইতোমধ্যে ভোট গণনা শুরু হয়ে গেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে গণনার জন্য ব্যালট বাক্স নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এই বছরে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট একই বাক্সে দেওয়া হয়েছে। সংসদ নির্বাচনের ব্যালট সাদা কালো রঙের, অন্যদিকে গণভোটের ব্যালট গোলাপি রঙের।

প্রথমে এই রঙের ব্যালট পেপার আলাদা করা হবে। এরপরে আলাদা আলাদাভাবে গণনা করা হবে।

সারা দেশের বেশকিছু কেন্দ্রে ছোট ছোট কয়েকটি সহিংসতার মধ্যে দিয়ে শেষ হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ৯ ঘণ্টা ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ চলে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে মোট ভোট পড়েছে ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ। বিকেল সোয়া ৪টার দিকে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানান।

এর আগে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩২ হাজার ৭৮৯ কেন্দ্রে ৩২ দশমিক ৮৮ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।

ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ইসি সচিব জানান, এখন পর্যন্ত দেশের কোনো প্রান্তেই ভোটগ্রহণ স্থগিত করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
সারা দেশে কোনো ভোটকেন্দ্রে ভোট স্থগিত হয়নি।

ভোটগ্রহণ শেষ, ফলাফলের অপেক্ষা

সারা দেশের বেশকিছু কেন্দ্রে ছোট ছোট কয়েকটি সহিংসতার মধ্যে দিয়ে শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ। এবার ফলাফলের অপেক্ষা। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ৯ ঘণ্টা ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ চলে। সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয় ভোটগ্রহণ।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রে বাড়তে থাকে ভোটারের উপস্থিতি। দুপুরের পর থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের ভোটারের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া।

এদিকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নির্বাচনে ভোট প্রদানের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ।

এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৯ লাখ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। এর পাশাপাশি ১ লাখেরও বেশি সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
নির্বাচন উপলক্ষে পুরো দেশকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হয়েছে।

এবার দেশের মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ ছিল।

এই নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী।
এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী সংখ্যা ১ হাজার ৭৫৫ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী ৮৩ জন (দলীয় ৬৩ জন এবং স্বতন্ত্র ২০ জন)। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। তাদের প্রার্থী সংখ্যা ২৯১ জন। এই নির্বাচনে নিবন্ধিত ১০টি রাজনৈতিক দল কোনো প্রার্থী দেয়নি।

অন্যদিকে গণভোট ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুপুর পর্যন্ত ১১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪৫টি পোস্টাল ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার হাতে পৌঁছেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশে মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট পৌঁছেছে। প্রবাসীরা ৫ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৮টি ব্যালট সংগ্রহ করেছেন এবং এর মধ্যে ভোটদান সম্পন্ন করেছেন ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৭৫১ জন। ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫৪ জন ভোটার তাদের ভোট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাকবাক্সে জমা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ২৬৬টি ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে এবং ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫৫১টি ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তারা হাতে পেয়েছেন।

ইসি সূত্র জানায়, নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার সেনাসদস্য, ৫টি জেলার ১৭টি আসনে ৫ হাজার নৌসদস্য, ৩ হাজার ৫০০ জন বিমান বাহিনীর সদস্য, ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য, ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য, ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন বিজিবি সদস্য, ৩ হাজার ৫৮৫ জন কোস্টগার্ড সদস্য, ৯ হাজার ৩৪৯ জন র‌্যাব সদস্য, বিএনসিসির ১২৮টি সেকশনের ১ হাজার ৯২২ সদস্য এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ১৩ হাজার ৩৯০ জন ফায়ার সার্ভিসের সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেন ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন-সংক্রান্ত অপরাধ আমলে নেওয়া এবং সংক্ষিপ্ত বিচার সম্পন্নের লক্ষ্যে ২৯৯টি আসনে মোট ৬৫৭ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন। তারা ভোট গ্রহণের আগে দুই দিন, ভোটের দিন ও ভোটের পরের দুই দিন- মোট পাঁচ দিন দায়িত্বে থাকবেন। এ সময়সীমা ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

এদিকে তফসিল ঘোষণার পর থেকে আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে প্রতি উপজেলা ও নির্বাচনী থানায় ন্যূনতম দুই জন করে মোট ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনে ৮১টি দেশি নিবন্ধিত সংস্থার মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয়ভাবে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয়ভাবে সংসদীয় আসনভিত্তিক পর্যবেক্ষণ করছেন।

নির্বাচন কমিশন জানায়, এই নির্বাচনে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এবং সংবাদ সংগ্রহের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা থেকে ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক বাংলাদেশে এসেছেন। আগতদের মধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে বিভিন্ন দেশের নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে আসছেন প্রায় ৬০ জন প্রতিনিধি।

এ ছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা থেকে প্রায় ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং ৪৫টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১৫০ জন বিদেশি সাংবাদিক এসেছেন।