শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬

এই বিজয় তারেক রহমানের প্রতি আস্থার প্রতিফলন: শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েক।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়া‌রি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট লেখেন, গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা পুনর্ব্যক্ত করার জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রতি শুভকামনা। নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তারেক রহমানকে অভিনন্দন। এই বিজয় তারেক রহমানের প্রতি আস্থার প্রতিফলন।

ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার করতে নিজের আগ্রহের কথাও উল্লেখ করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট।

১৬ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পড়াতে পারেন প্রধান বিচারপতি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে পারে। শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। জাতীয় সংসদ সচিবালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে ৫ ফেব্রুয়ারি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এ বিষয়ে ইঙ্গিত দেন। পূর্ববর্তী সংসদের কোনো স্পিকার না থাকায় নতুন সদস্যদের শপথ গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হয়েছিল।

তখন বলা হয়েছিল, ‘আইনে আছে, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার শপথ গ্রহণ করাতে না পারলে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করাবেন। এই মনোনয়ন প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে হবে।’

আরও বলা হয়েছিল, ‘তিন দিনের মধ্যে শপথ অনুষ্ঠিত না হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও শপথ গ্রহণ করাতে পারবেন।

তারেক রহমানের সঙ্গে বিজয়ী প্রার্থীদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের বিপুল বিজয়ের পর শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিএনপি চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়।

এবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি একাই জয় পেয়েছে ২০৯টি। জোটের শরিকেরা পেয়েছে আরও ৩টি আসন। সব মিলিয়ে পরবর্তী সংসদে বিএনপি জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২১২। তবে আরও দুটি আসনে জয়লাভের সম্ভাবনা আছে বিএনপির।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবার প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ঢাকা ও বগুড়া থেকে দুটি আসনে জয়ী হয়েছেন।

এর আগে ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছিল বিএনপি। ওই নির্বাচনে বিএনপি একাই পেয়েছিল ১৯৩টি আসন। আর জোটের শরিকসহ তাদের মোট আসন ছিল ২১৬। তখন প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

দেড় বছর ধরে এই দিনটার অপেক্ষায় ছিলাম: সেনাপ্রধান

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, দেড় বছর ধরে এই দিনটার অপেক্ষায় ছিলাম। একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। আমি মনে করি, আমাদের জাতির জীবনে একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের দিন। বৃহস্পতিবার ঢাকা-১৭ আসনে ঢাকা আদমজী কলেজে নিজের ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন সেনাপ্রধান।

সেনাপ্রধান বলেন, সারা বাংলাদেশে কোথায় কী হচ্ছে সকালে তার খবর নিয়েছি। আমার কাছে যে খবর আছে, সেটা হচ্ছে যে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন চলছে। মিডিয়ার লোকজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। সারা দেশের পরিস্থিতি জনগণকে জানাচ্ছেন, জনগণ আশ্বস্ত হচ্ছে এবং তারা এই ভোট দিতে যাওয়ার জন্য উৎসাহী হচ্ছে।

এদিকে বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বিএএফ শাহীন কলেজ ভোটকেন্দ্রে তার ভোট দিয়েছেন বলে জানিয়েছে আইএসপিআর। ভোট দেওয়া শেষে তিনি দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা ও জাতীয় উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে এ দেশে নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগের আহবান জানান। তিনি ভোটকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

জয়ী হয়ে শাহি মসজিদে দুই রাকাত জুমার নামাজ পড়ে ৩০ বছর আগের নিয়ত পূরণ করলেন ফজলুর রহমান কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে ৭৪ হাজার ৬৪৩ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপির নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। জয় পাওয়ার পর ৩০ বছর আগে করা একটি নিয়ত পূরণ করেছেন তিনি। শুক্রবার দুপুরে ইটনা উপজেলার বড়হাটি গ্রামের ঐতিহ্যবাহী শাহি মসজিদে জুমার নামাজ শেষে তিনি বলেন, ‘৩০ বছর আগে আমি নিয়ত করেছিলাম, যদি পাস করতে পারি, তাহলে এই মসজিদে দুই রাকাত জুমার নামাজ আদায় করব। আজ আপনাদের সহযোগিতা ও দোয়ায় আল্লাহ আমার সেই ইচ্ছা পূরণ করেছেন।’ আরও দেখুন ভিডিও ঢাকা এ সময় তিনি বলেন, ‘আমার এলাকার জনগণ, যাঁরা শত নির্যাতন সহ্য করে আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন, তাদের প্রতি সালাম ও কৃতজ্ঞতা। আপনাদের জন্য যা করার দরকার, উন্নয়নের জন্য যতটুকু আমার দ্বারা সম্ভব ও দেশের জন্য সংগতিপূর্ণ, সব কাজ করার চেষ্টা করব।’ ৫ আগস্টের পরের পরিস্থিতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকে অন্ধকারে নিক্ষেপ করার চেষ্টা হয়েছিল। বাংলাদেশ যখন নিশ্চুপ ছিল, তখন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের পক্ষে আমি কণ্ঠ উচ্চকিত করেছি।’ সংসদে ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িকতা, ধর্মনিরপেক্ষতা ও মানুষের কর্মসংস্থানের পক্ষে আমি একমুহূর্তও বিরত হব না। বিষয়গুলো সংসদে তুলে ধরে বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।’ দল ও দলের নেতাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। বেসরকারি ফল অনুযায়ী, ১৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৫৪ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের রোকন রেজা পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৩২৬ ভোট।

কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে ৭৪ হাজার ৬৪৩ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপির নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। জয় পাওয়ার পর ৩০ বছর আগে করা একটি নিয়ত পূরণ করেছেন তিনি।

শুক্রবার দুপুরে ইটনা উপজেলার বড়হাটি গ্রামের ঐতিহ্যবাহী শাহি মসজিদে জুমার নামাজ শেষে তিনি বলেন, ‘৩০ বছর আগে আমি নিয়ত করেছিলাম, যদি পাস করতে পারি, তাহলে এই মসজিদে দুই রাকাত জুমার নামাজ আদায় করব। আজ আপনাদের সহযোগিতা ও দোয়ায় আল্লাহ আমার সেই ইচ্ছা পূরণ করেছেন।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘আমার এলাকার জনগণ, যাঁরা শত নির্যাতন সহ্য করে আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন, তাদের প্রতি সালাম ও কৃতজ্ঞতা। আপনাদের জন্য যা করার দরকার, উন্নয়নের জন্য যতটুকু আমার দ্বারা সম্ভব ও দেশের জন্য সংগতিপূর্ণ, সব কাজ করার চেষ্টা করব।’

৫ আগস্টের পরের পরিস্থিতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকে অন্ধকারে নিক্ষেপ করার চেষ্টা হয়েছিল। বাংলাদেশ যখন নিশ্চুপ ছিল, তখন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের পক্ষে আমি কণ্ঠ উচ্চকিত করেছি।’

সংসদে ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িকতা, ধর্মনিরপেক্ষতা ও মানুষের কর্মসংস্থানের পক্ষে আমি একমুহূর্তও বিরত হব না। বিষয়গুলো সংসদে তুলে ধরে বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।’ দল ও দলের নেতাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

বেসরকারি ফল অনুযায়ী, ১৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৫৪ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের রোকন রেজা পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৩২৬ ভোট।

রমজানে আল-আকসায় প্রবেশ সীমিত করার পরিকল্পনা ইসরায়েলের

আসন্ন রমজান মাসে পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে মুসলিমদের প্রবেশ সীমিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে ইসরায়েল। আনাদোলু এজেন্সিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফিলিস্তিনের গ্র্যান্ড মুফতি এবং সুপ্রিম ইসলামিক কাউন্সিলের প্রধান শেখ একরিমা সাবরি।

এক সাক্ষাৎকারে আনাদোলুকে শেখ একরিমা সাবরি বলেছেন, “ইসলাম ধর্মের পবিত্র মাস রমজান। মুসলিমরা হযরত মুহম্মদ (স.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে রমজান মাসকে স্বাগত জানায়; কিন্তু বিশ্বস্ত সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি যে দখলদার শক্তি আসন্ন রমজান মাসে আল-আকসা মসজিদে আসতে ইচ্ছুক মুসলিমদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবে না। তাদের এই পদক্ষেপ দুঃখজনক।”

ইসরায়েলি পুলিশ ইতোমধ্যে আল-আকসা চত্বরের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করেছে উল্লেখ করে আনাদোলু এজেন্সিকে শেখ একরিমা সাবরি বলেন, “গত কয়েক দিনে বেশ কয়েক ডজন মুসলিম তরুণকে আল-আকসায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং ইসরায়েলের পুলিশসূত্রে আমরা জানতে পেরেছি যে সামনের রমজান মাসে এই বিধিনিষেধ আরও কঠোর করা হবে।”

পৃথক এক প্রতিবেদনে একই তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজও। দৈনিকটির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রমজানে আল-আকসা মসজিদে মুসলিমদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। গত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মেজর জেনারেল আভশালোম পেলেড ইসরায়েলি পুলিশের অবরুদ্ধ পূর্ব জেরুজালেম শাখার শীর্ষ কমান্ডারের পদে আসার পর থেকেই এ পরিকল্পনা নিয়েছিলেন সার্বভৌম এই ভূখণ্ডটির জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গিভির।

হারেৎজের প্রতিবেদনে বেন-গিভির সম্পর্কে বলা হয়েছে, “জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রীর গতিবিধি দেখে মনে হচ্ছে যে আগুন জ্বালানোর জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন।”

উল্লেখ্য, প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুসলিমদের নামাজের কেবলা ছিল। ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন যে হযরত মুহম্মদ (স.) মেরাজে (আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ) যাওয়ার আগে এই মসজিদে নামাজ আদায় করেছিলেন। গুরুত্বের বিচারে মুসলিমদের কাছে মক্কার কাবা এবং মদিনার মসজিদে নববির পর তৃতীয় স্থানে রয়েছে আল-আকসা মসজিদ। আল আকসা মসজিদের কাছাকাছি ইহুদিদের পবিত্র তীর্থস্থান টেম্পল মাউন্ট অবস্থিত।

১৯৫৭ সালের আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী হওয়ার পর পূর্ব জেরুজালেম দখল করে ইসরায়েল। সেই থেকে আল-আকসা মসজিদ ইসরায়েলের দখলে আছে। – সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

ত্রয়োদশ সংসদ: নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে ২৯৭ আসনের বিজয়ীদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে, সেই সব নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

এ এম এম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন কমিশন ফল অনুমোদন দেওয়ার পর ইসি সচিব আখতার আহমেদ শুক্রবার রাতে এ গেজেট জারি করেন।

নির্বাচিতদের নাম, মা-বাবার নাম ও ঠিকানা গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। এখন নির্বাচিতদের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথের আয়োজন করা হবে।

দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোট হয় বৃহস্পতিবার। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফল গোনা হলেও আদালতের নির্দেশনা থাকায় ফল ঘোষণা করা হয়নি।

আর শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে নতুন তফসিলে ভোট হবে।

নতুন সাংসদদের শপথ অনুষ্ঠান সামনে রেখে জাতীয় সংসদ ভবনে পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও অবকাঠামোগত সংস্কারের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর মেরামতও করা হয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, শপথের আনুষ্ঠানিকতা, প্রটোকল, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দপ্তর কাজ করছে। স্পিকার ও রাষ্ট্রপতির অফিসকক্ষ, সরকারি ও বিরোধীদলের সভাকক্ষ, অধিবেশন কক্ষ ও শপথ কক্ষ ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে।

২৯৭ আসনের ফল-

বিএনপি ২০৯

জামায়াতে ইসলামী ৬৮

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১

গণঅধিকার পরিষদ ১

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ১

গণসংহতি আন্দোলন ১

খেলাফত মজলিস ১

স্বতন্ত্র ৭

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সম্প্রতি বলেছেন, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতির কারণে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন ‘রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি’।

তিনি এও বলেন, নির্বাচিত হওয়ার তিন দিনের মধ্যে কেউ শপথ না পড়ালে সেক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারবেন।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ শুক্রবার বলেন, “১৪৮ এর ৩ ধারায় বলা হয়েছে, স্পিকার অথবা ডেপুটি স্পিকার যদি না পড়ান বা তারা পড়াতে অসমর্থ হন বা না থাকেন, তাহলে তিন দিন পরেও চতুর্থ দিন থেকে পরবর্তী দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারই শপথ পাঠ করাবেন।”

তিনি বলেন, “সামনে রোজা থাকায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইসির কাজ গেজেট প্রকাশ করা। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সরকার। দ্রুত শপথ করে রমজানের আগেই চাইলে সরকার গঠন করতে পারে।”

ইসি সচিব আখতার আহমেদ শুক্রবার জানান, যে ২৯৭ আসনে ফল ঘোষণা করা হয়েছে, সেই সব আসনে ভোট পড়েছে ৫৯.৪৪ শতাংশ। আর গণভোটে ভোটের হার ৬০.২৬ শতাংশ (২৯৯ আসনের)।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা শুক্রবার বলেন, “আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে, এটা আমাদের সাধারণ দায়িত্ব।

“শপথের তারিখ নির্ধারণ সংসদ সচিবালয়ের বিষয় নয়; আমরা প্রস্তুত। যেদিন বলা হবে, সেদিনই শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারব।”

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৮(২ক) অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলের গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নিতে হয়।

এদের তো ভোট নাই, এত ভোট ওরা পেল কিভাবে: মির্জা আব্বাস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ এনেছেন ঢাকা-৮ আসনে বিজয়ী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, ‘এদের তো ভোট নাই। এত ভোট ওরা পেল কিভাবে।’

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জুমার নামাজের পর রাজধানীর শাহজাহানপুরে নিজ পারিবারিক কবরস্থান জিয়ারত করে মির্জা আব্বাস উপস্থিত সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে বিজয়ী হয়েছেন মির্জা আব্বাস। তিনি পেয়েছেন ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট। অন্যদিকে, এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট।

প্রতিপক্ষের এত ভোট পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘ভোট-পূর্ববর্তী তাদের যে প্রস্তুতি ছিল… আমি বারবার বলতাম যে ওরা ইঞ্জিনিয়ারিং করবে। সেই ইঞ্জিনিয়ারিংটা ওরা করে ফেলেছে। এটা আমরা বুঝতে পারি নাই। কোন কায়দায় (ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং) করেছে, এখন বুঝতে পারছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এদের তো ভোট নাই। এত ভোট ওরা পেল কিভাবে!’

এ সময় বিএনপির ভূমিধস জয় নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আব্বাস বলেন, ‘আমি আনন্দিত ব্যক্তিগতভাবে। দেশবাসীও আনন্দিত। দেশবাসী আনন্দের সঙ্গে ভোট দিয়ে বিএনপিকে বিজয়ী করেছে। আমি আশা করছি জনগণ এই রায়ের প্রতিফলন পাবেন।’

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন—এ বিষয়টি কেমন লাগছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার ভাল্লাগছে এ কারণে যে আমি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে রাজনীতি শুরু করেছিলাম। তারপর দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাজনীতি করেছি। এখন তাদের পরবর্তী প্রজন্মের সঙ্গে রাজনীতি করছি।’

সকল প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষায় কাজ করবে বিএনপি: সালাহউদ্দিন আহমদ

সকল প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষায় কাজ করবে বিএনপি বলে জানিয়েছে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এবারের নির্বাচনে বিএনপির বিজয় প্রত্যাশিত ছিল। তারেক রহমানের উপস্থিতি ঘিরে মানুষের অংশগ্রহণ লক্ষণীয় ছিল। নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে শক্তিশালী গণতন্ত্রের ভিত্তি রচিত হয়েছে। জুলাই সনদ রাজনৈতিক সমঝোতার প্রতীক, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা অনুযায়ী মেধানির্ভর, প্রযুক্তিনির্ভর দেশ গঠন করা হবে। সেজন্য সবার সহযোগিতারও আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, তিনটি বিষয় খুব স্পষ্টভাবে বলতে চাই—আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দেশে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। আর গেজেটের মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণার পর, সাংবিধানিক নিয়মে শপথ অনুষ্ঠিত হবে।

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি ও জোটের প্রার্থীরা জয় পেয়েছে ২১৩ আসনে। দুই দশক পর দল হিসেবে ফের এককভাবে সরকার গঠনের পথে জাতীয়তাবাদী দল। জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্য ৭৭ আসনে জয় পেয়েছে। স্বতন্ত্র ৬ প্রার্থী বিজয়ী। এদিকে, আদালতের নিষেধাজ্ঞায় ফলাফল ঘোষণা করা যাচ্ছে না শেরপুর-৩, চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনে। তাই, ২৯৬ আসনের বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ করা হচ্ছে।

দিন শেষে জনতার আস্থাই এখানে বিজয়ী হয়েছে: হাসনাত আবদুল্লাহ

ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ও এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করতে চান বলে জানিয়েছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর গণমাধ্যমে তিনি এ কথা বলেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এই নির্বাচন ছিল হাসনাত আব্দুল্লাহ বনাম বিএনপি প্লাস আওয়ামী লীগ প্লাস ইন্ডিয়া প্লাস লুটারা ব্যবসায়ী প্লাস চাঁদাবাজ প্লাস মাদক সম্রাট প্লাস মাটিখোর প্লাস প্লাস ডট ডট ডট। তো আমি হাসনাত আব্দুল্লাহ। আমার সঙ্গে জনতা ছিল। দিন শেষে জনতার আস্থাই এখানে বিজয়ী হয়েছে।’

এনসিপির এ নেতা বলেন, জয় পেয়েছি। এখন ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। শত্রুর সঙ্গেও তা-ই। এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করতে চাই।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সব কটি ভোটকেন্দ্রেই জয় পেয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

ফলাফলে দেখা গেছে, ১১৬টি কেন্দ্রের সব কটিতেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন।

এর মধ্যে ১ লাখ ৭২ হাজার ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শাপলা কলির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ এবং ট্রাক প্রতীকের জসীমউদ্দীন পেয়েছেন ২৬ হাজার।