শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬

ইরানে টানা কয়েক সপ্তাহ হামলা চালাবে মার্কিন সেনারা: অপেক্ষা ট্রাম্পের নির্দেশের

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি নির্দেশ দেন তাহলে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানে হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। এবারের হামলা দীর্ঘস্থায়ী হবে সেই অনুযায়ী তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গতকাল শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। তারা বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে এরআগে যেমন সংঘাত দেখা গিয়েছিল এবার সংঘাত শুরু হলে এটি আগেরগুলোর তুলনায় গুরুতর হবে।

বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় তারা তাদের নাম প্রকাশ করেননি। তবে হামলার এ পরিকল্পনা ফাঁসের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলা কূটনৈতিক আলোচনা ঝুঁকিতে পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

আগামী মঙ্গলবার জেনেভায় ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফের বৈঠক করবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফয় এবং জার্ড ক্রসনার। সেখানে ওমানের প্রতিনিধিরা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবেন। গতকাল শনিবার মার্কির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্কতা দিয়ে বলেন্, ইরানের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চুক্তি করতে চান। তবে এটি করা অনেক কঠিন হবে।

ইরানে সম্ভাব্য শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শিগগিরই ‌‘‘অসাধারণ ক্ষমতা’’ দেখা যাবে। এদিকে, ইরানে ওপর চাপ তৈরি করার লক্ষ্যে ওই অঞ্চলে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছে পেন্টাগন।

ইরানে শাসন পরিবর্তন চান কি না, সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, মনে হচ্ছে, এটাই সবচেয়ে ভালো বিষয়; যা ঘটতে পারে। তবে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটলে দেশটি কারা নিয়ন্ত্রণ করবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘‘লোকজন আছে।’’

সূত্র: রয়টার্স

সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব কমলো

জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাত্র সাতজন নারী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬৮ নারী প্রার্থীর মধ্যে ২২ জন বিজয়ী হন। ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ৯৬ নারী প্রার্থীর মধ্যে জয় পান ১৯ জন।

কিন্তু দ্বাদশ সংসদ ভেঙে দেওয়ার প্রায় দেড় বছর পর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা এবং বিজয়ের হার– দুটিই কমেছে। এবার ১ হাজার ৯৮১ প্রার্থীর মধ্যে নারী ছিলেন মাত্র ৮১ জন, যা মোট প্রার্থীর ৪ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। এর আগে ২০১৪ সালের দশম সংসদে ২৯ নারী প্রার্থীর মধ্যে ১৮ জন সরাসরি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে ৫৯ নারী প্রার্থীর মধ্যে জয়ী হন ১৯ জন। ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৮ প্রার্থীর মধ্যে ছয়জন, ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনে ৩৮ জনের মধ্যে ছয়জন এবং ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ৩৬ জনের মধ্যে আটজন নারী জয়ী হয়ে সংসদে যান। ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদে ৩৯ নারী প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজন জয়ী হয়েছিলেন। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। বেসরকারিভাবে নির্বাচিত সাত নারী এমপির মধ্যে ছয়জনই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। আরেকজন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী।

বেসরকারিভাবে নির্বাচিত নারী প্রার্থীরা হলেন– মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আফরোজা খান রিতা, ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ, ফরিদপুর-৩ আসনে নায়াব ইউসুফ কামাল, ঝালকাঠি-২ আসনে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদীর লুনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে রুমিন ফারহানা এবং নাটোর-১ আসনে ফারজানা শারমিন পুতুল। মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আফরোজা খান রিতা ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদ সাঈদ নূর পান ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট। আফরোজা সাবেক মন্ত্রী হারুনুর রশীদ খান মুন্নুর কন্যা। ফরিদপুর-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে শামা ওবায়েদ পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৪ ভোট। তাঁরও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. আকরাম আলী, যিনি পান ৮৯ হাজার ৩০৫ ভোট।

ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ কামাল ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুত তাওয়াব, যিনি পান ১ লাখ ২৪ হাজার ১১৫ ভোট।
ঝালকাঠি-২ আসনে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ১ লাখ ১৩ হাজার ৪১৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর এসএম নেয়ামুল করিম পেয়েছেন ৭০ হাজার ৫৫৬ ভোট। সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদীর লুনা পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৬ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের মুনতাছির আলী পান ৩৮ হাজার ৬৩৫ ভোট।ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রুমিন ফারহানা ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তিনি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়ে ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। জোট মনোনীত প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবিবের চেয়ে ৩৭ হাজার ৫৬৮ ভোট বেশি পান তিনি। নাটোর-১ আসনে বিএনপির ফারজানা শারমিন পুতুল ১ লাখ ২ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদ পান ৯০ হাজার ৫৬৮ ভোট।

সাকিবের ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে আজ

বিসিবির সবশেষ বোর্ডসভায় আলোচনা হয়েছিল সাকিব আল হাসানকে দলে ফেরানোর ব্যাপারে। সাকিবকে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় কতটুকু এগিয়েছে বিসিবি? সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মনে। শেষ পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে আজ। এমনটাই নিশ্চিত করেছেন বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর। তিনি জানান, সাকিবের সঙ্গে নিয়মিত কথা হচ্ছে তার। এখনও নিশ্চিত নয় কবে নাগাদ ফিরবেন সাকিব। তবে তার ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে আজ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আসিফ আকবর বলেন, ‘সাকিবের যে পেপারওয়ার্কগুলো ছিল তার ব্যাংকের কাগজ, মামলার কাগজ আরও কিছু কাগজপত্র আছে। ওইগুলা তার আইনজীবী সব রেডি করে ফেলেছে। আগামীকাল (আজ) রবিবার সাকিবের মামলার কাগজগুলি সরকারের কাছে জমা হবে। তার আইনজীবী কাগজগুলো জমা দিবে।’ সাকিবের মামলার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে সরকারের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে জানিয়ে আসিফ আকবর বলেন, ‘আমরা সরকারকে বলেছি সাকিবকে আমরা চাই। যদি আমাদের নির্বাচকরা জানায় যে হ্যাঁ সাকিব খেলতে পারে। তাহলে খেলবে।’

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ায় এখন দায়িত্ব নিবে রাজনৈতিক সরকার। তাতে সাকিবের ফেরার প্রক্রিয়া কোনভাবেই জটিল হবে না বলে নিশ্চিত করে আসিফ আকবর। তার কথায়, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিবৃতিতে যতটুকু মনে হয়েছে সাকিবের যদি জটিল কোনো কিছু না থাকে, সে যদি সরাসরি কোনো খুন বা অন্যান্য অভিযোগ না থাকে বিএনপি সরকারও তার প্রতি নমনীয়। এটা বিএনপির চেয়ারপারসন আগেও বলেছেন যে খেলাধুলায় বা মিউজিকে এসব বেলাতে রাজনীতি আমরা ঢুকাতে চাই না। আর না ঢুকুক আমরা সেটা চাই। তো সুতরাং বিষয়টা পরিস্কার।’

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তা ; নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে উন্মুখ যুক্তরাষ্ট্র

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করায় বিএনপি ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণকেও শুভেচ্ছা জানিয়ে নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত শুক্রবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এসব কথা বলেন। বিএনপি ও দলনেতা তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে মার্কো রুবিও লিখেছেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং দলটির প্রধান তারেক রহমানের পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন। ওই অঞ্চলের সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা এগিয়ে নিতে নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র উন্মুখ। এই বার্তার মাধ্যমে রুবিও বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির লক্ষ্যে এই অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

নির্বাচন ও গণভোটের জন্য অভিনন্দন জাতিসংঘের : এদিকে নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠানের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছে জাতিসংঘ। গতকাল জাতিসংঘ এক বার্তায় এই অভিনন্দন জানায় সংস্থাটি। শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি। জাতিসংঘ উল্লেখ করে, দেশ যখন রূপান্তরের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সংস্কার কার্যক্রম অনুসরণ করছে, তখন সেই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংস্থাটি।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক গত শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব সব রাজনৈতিক অংশীজনকে আহ্বান জানিয়েছেন, এই গতি ধরে রেখে জাতীয় সংহতি জোরদার করতে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে।

বইমেলা পেছাতে তারেক রহমানকে ‘প্রকাশক ঐক্যের’ খোলা চিঠি

আসন্ন অমর একুশে বইমেলা রমজান মাসে আয়োজনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে প্রকাশকদের সংগঠন ‘প্রকাশক ঐক্য’ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে একটি খোলা চিঠি দিয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ১৪ জন প্রকাশকের স্বাক্ষরযুক্ত ওই চিঠিতে বলা হয়, আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজানে বইমেলা আয়োজনের সিদ্ধান্তে তারা গভীর উদ্বেগে রয়েছেন।

চিঠিতে প্রকাশকরা উল্লেখ করেন, রোজার সময় স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে, ফলে মেলা পাঠকশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ প্রকাশক মনে করছেন রমজান মাসে মেলায় অংশ নেওয়া তাদের জন্য ‘ব্যবসায়িক আত্মহত্যা’র সমান হবে। ইতোমধ্যে মূলধারার তিন শতাধিক প্রকাশক মেলায় অংশ নিতে অপারগতার কথা জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকাশকরা জানান, গত দেড় বছরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রকাশনা শিল্প মারাত্মক সংকটে পড়েছে। কাগজের দাম বৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা তীব্র আর্থিক চাপে রয়েছেন। পাশাপাশি, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত দুই মাস ছাপাখানাগুলো ব্যস্ত থাকায় নতুন বই প্রকাশ কার্যত স্থবির হয়ে ছিল।

এ অবস্থায় তাদের দাবি উপেক্ষা করে কেন বাংলা একাডেমি মেলা আয়োজনের বিষয়ে অনড় রয়েছে, সে প্রশ্নও তোলা হয়েছে চিঠিতে। প্রকাশকরা স্পষ্ট করেন, তারা মেলা বর্জনের পক্ষে নন; বরং একটি সফল ও সবার অংশগ্রহণে সমৃদ্ধ বইমেলা চান। তাই রমজান ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মেলাটি ঈদের পর আয়োজনের প্রস্তাব দেন তারা। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের কাছে তারা দুটি দাবি তুলে ধরেন—প্রথমত, ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্ধারিত বইমেলা স্থগিত করা; দ্বিতীয়ত, ঈদের পর উৎসবমুখর পরিবেশে পূর্ণাঙ্গভাবে বইমেলার আয়োজন করা।

চিঠিতে প্রকাশকরা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত প্রকাশনা শিল্পকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করবে এবং একুশে বইমেলার ঐতিহ্য অটুট রাখবে।

সংঘাত ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ভোট, প্রশংসায় সেনাবাহিনী

নানা ধরনের আশঙ্কা, জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে, বিশেষ করে সেনাবাহিনী মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনে কঠোর থাকার কারণেই কোনো ধরনের সংঘাত-প্রাণহানি হয়নি। এমনকি যেখানে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, সেখানেই সেনাবাহিনী অবস্থান নিয়ে উত্তেজিত জনতাকে নিবৃত্ত করেছে। সেনাবাহিনী ছাড়াও নৌ ও বিমান বাহিনী, আনসার, কোস্ট গার্ড, পুলিশ, র‌্যাবসহ সব বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন।

ভোটকেন্দ্রের বাইরে নির্বিঘ্নে ভোটারদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী, বিশেষ করে সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার কারণে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যেই সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করা হচ্ছে।

ভোটের দিন সকাল সাড়ে ১০টায় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন। আমি মনে করি যে আজকে আমাদের জাতির জীবনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন, আনন্দের দিন। আমরা গত দেড় বছর ধরে এ দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম। এটা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন। আজকে আলহামদুলিল্লাহ, সে নির্বাচন হচ্ছে।’

নির্বাচনের আগে সেনাপ্রধান সব পদাতিক ডিভিশনে মিটিং করে নির্বাচন নিয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি সব ইউনিট পরিদর্শন করে সেনা সদস্যদের দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। ফলে সেনাবাহিনী নির্বাচনের দিন এবং আগে ও পরে মাঠে থেকে যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করেছে। সেনাবাহিনী ছাড়াও বিমান বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজধানীর বিএএফ শাহীন কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার এবং নির্বাচন কমিশন অনেক কাজ করেছেন এই নির্বাচনের জন্য। এটা আমরা উত্সবমুখরভাবে করতে চেয়েছিলাম। আজকে অনেক বছর ধরে ভোট দিচ্ছি। অনেক বছর পর একটা সত্যি উত্সবমুখর ভোট দেখছি, যেটা হয়তো-বা আমি একদম ছোটবেলায় দেখেছিলাম। আমরা একটা সুন্দর নির্বাচনের আশা করছি।’

রাজধানীর বারিধারা স্কলার্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘সকাল থেকেই আনন্দঘন পরিবেশে নির্বাচন শুরু হয়েছে। জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে সক্ষম হয়েছে। তবে বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার কথা জানতে পেরেছি। আমরা তাত্ক্ষণিকভাবে সেখানে ব্যবস্থা নিয়েছি। আমার বিশ্বাস সুন্দর একটি নির্বাচন জনগণকে উপহার দিতে পারব।’

নির্বাচনের আগে বুধবার রাত থেকেই সারা দেশের কেন্দ্রগুলোর বাইরে পাহারায় ছিল সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। ভোট শুরুর আগে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনায় তাৎক্ষণিক সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে সমাধান হয়। এছাড়াও মুন্সীগঞ্জসহ কয়েকটি স্থানে ককটেল ও কেন্দ্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করার সময় সেনাবাহিনী তাত্ক্ষণিক গ্রেপ্তার করে। ফলে বড় ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি।

এবারের নির্বাচনী মাঠে শান্তিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভোটকেন্দ্রগুলোতে গড়ে তোলা হয়েছিল কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল ও তল্লাশি চৌকি বসিয়েও দায়িত্ব পালন করছেন যৌথ বাহিনীর সদস্যরা। সার্বিক এই নিরাপত্তাব্যবস্থায় মোতায়েন করা হয় সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১০ লাখ সদস্য। পাশাপাশি এই সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ মাঠে বিশেষ দায়িত্ব পালন করছেন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

তথ্যমতে, ভোটের মাঠে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ দায়িত্ব পালন করছেন বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থার মোট প্রায় ১০ লাখ সদস্য।

সার্কভুক্ত দেশ ও মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানাবে বিএনপি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের আসন্ন শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত সব রাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা—South Asian Association for Regional Cooperation (সার্ক)–এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছেও আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাঠানো হবে।

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।

তোশাখানা-২; মামলা সাজা স্থগিত ও চিকিৎসার জন্য জামিন চাইলেন ইমরান খান

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)–এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তোশাখানা-২ মামলায় দেওয়া সাজা স্থগিত এবং চিকিৎসা ও মানবিক কারণ দেখিয়ে জামিন চেয়ে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট–এ আবেদন করেছেন।ব্যারিস্টার সালমান সাফদার ও সালমান আকরাম রাজার মাধ্যমে দায়ের করা আবেদনে কারাবন্দী পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা আদালতের কাছে সাজা স্থগিত করে জামিন মঞ্জুরের অনুরোধ জানান।

গত বছরের ডিসেম্বরে একটি বিশেষ আদালত তোশাখানা-২ মামলায় ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছর করে কারাদণ্ড দেন। মামলাটি রাষ্ট্রের বিলাসবহুল উপহার কম দামে ক্রয় এবং পরে তা বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ইতালির বিলাসবহুল ব্র্যান্ড বুলগারির একটি ‘জুয়েলারি সেট’ কেনার সঙ্গেও মামলাটির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ২০২১ সালের মে মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইমরান খান সরকারি সফরে সৌদি আরবে গেলে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইমরানকে বুলগারির ওই জুয়েলারি সেটটি উপহার দিয়েছিলেন। এই মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, ইমরান মাত্র ২৯ লাখ রুপির বিনিময়ে ওই জুয়েলারি সেটটি নিয়ে নেন। অথচ এটির বাজারমূল্য প্রায় ৮ কোটি রুপি। ২০২২ সালের এপ্রিলে পার্লামেন্টে বিরোধী দলগুলোর আনা অনাস্থা ভোটে হেরে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারান ইমরান খান। এদিকে আলোচিত আল-কাদির ট্রাস্ট মামলা বা ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ড দুর্নীতি মামলায় সাজা স্থগিতের আবেদনের দ্রুত শুনানির আবেদনও পৃথকভাবে করা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, ‘আবেদনকারী (ইমরান) তার ডান চোখের গুরুতর রোগে ভুগছেন।’ এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘মামলার মেরিট এবং চিকিৎসার কারণে সাজা স্থগিতের জন্য আবেদনকারীর অত্যন্ত শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে, যা সম্প্রতি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় সামনে এসেছে।’ আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রক্ত জমাট বাঁধার কারণে ইমরান খানের ডান চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি ওই চোখে মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি পাচ্ছেন। আবেদনে আরও বলা হয়, ‘চিকিৎসাজনিত জটিলতা এতটাই গুরুতর যে কারাগারের ভেতরে এর যথাযথ চিকিৎসা সম্ভব নয়।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নিয়োগ বাতিল

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৮ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে প্রজ্ঞাপনমূলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকৃত ড. শেখ আব্দুর রশীদের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ এতদ্বারা বাতিল করা হলো। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

বিসিএস ৮২ ব্যাচের কর্মকর্তা শেখ আব্দুর রশীদ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অতিরিক্ত সচিব থেকে অবসরে যান গিয়েছিলেন। চব্বিশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাকে চুক্তিভিত্তিক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব করা হয়েছিল। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে নিয়োগ পান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুইদিনের মাথায় নতুন সরকার গঠনের আগ মুহূর্তে শেখ আব্দুর রশীদের নিয়োগ বাতিল করা হলো।

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর নড়াইল-২ আসনে জামায়াতের জয়

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর নড়াইল-২ আসনে প্রথমবারের মতো বিজয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও জেলা আমির মো. আতাউর রহমান (বাচ্চু)। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে লোহাগড়া উপজেলার কুমড়ি এলাকায় এক গণসংবর্ধনায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই বিজয়কে জনগণের ভালোবাসার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।

নির্বাচন-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়ের অংশ হিসেবে শুক্রবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য।

কুমড়ি এলাকায় আয়োজিত সংবর্ধনায় তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর প্রথম বারের মতো জামায়াতকে এই আসনে আপনারা বসিয়েছেন। শুধু তা নয়, প্রথমবার এই আসনে বিরোধী কোনো দলের সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। আপনারা যে ভালোবাসা দিয়ে আমাকে সম্মানের চেয়ারে বসিয়েছেন, আমি আপনাদের সেবক হয়ে থাকবো ইনশাআল্লাহ।’

আতাউর রহমান আরও বলেন, তিনি গত দেড় বছর ধরে প্রতিটি মহল্লায় ঘুরে জনগণের সমস্যা চিহ্নিত করেছেন। এলাকার গুরুত্ব অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সকল সমস্যার সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি নিজেকে নড়াইল-২ আসনের জনগণের ‘ক্লিনার’ বা পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি একটি উন্নত, আধুনিক ও স্মার্ট নড়াইল গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নির্বাচনী খরচ ও স্বচ্ছতা নিয়ে নবনির্বাচিত এমপি বলেন, ‘এই নির্বাচনে আপনারা প্রমাণ করেছেন পেশিশক্তি ও কালো টাকার চেয়ে ভালোবাসার শক্তি অনেক বেশি। আমি আপনাদের একটি টাকাও দিতে পারিনি, কিন্তু আপনারা অগাধ ভালোবাসা দিয়ে আমাকে বিজয়ী করেছেন। আমি কথা দিচ্ছি, সরকারি বরাদ্দের প্রতিটি পয়সার হিসাব আপনাদের সামনে থাকবে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ আসনে মোট ১৪৮টি কেন্দ্রের (পোস্টাল ভোটসহ) বেসরকারি ফলাফলে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন জেলা জামায়াতের আমির মো. আতাউর রহমান (বাচ্চু)। তিনি মোট ১ লাখ ১৮ হাজার ১৪২ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মো. মনিরুল ইসলাম (কলস প্রতীক), যিনি পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৪৫৭ ভোট। অন্যদিকে, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি প্রার্থী এ জেড এম ফরিদুজ্জামান পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৬৩ ভোট। ফলে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৩৯ হাজার ৬৮৫ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আতাউর রহমান।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে নড়াইল-২ আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের হারিয়ে মো. আতাউর রহমানের এই জয়কে জেলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।