শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬

ডেঙ্গু : ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৫ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তিতে রেকর্ড

এডিস মশাবাহী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে দেশে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪৩ জনে।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিন হাজার ১২৩ জন। যা একদিনে হাসপাতালে ভর্তিতে সর্বোচ্চ। এর আগে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর একদিনে হাসপাতালে ভর্তি হয় তিন হাজার ১২২ জন। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৯৩ হাজার ৮৮১ জনে।
মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ১০ হাজার ১৫৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঢাকার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ৩ হাজার ৫৮১ জন এবং অন্যান্য বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৬ হাজার ৫৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮৮১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ৮০ হাজার ৪৯০ জন এবং ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ৩১৯ জন। আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৮২ জন। ঢাকায় ৭৬ হাজার ২৯২ এবং ঢাকার বাইরে ১ লাখ ৬ হাজার ৪৯০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

বিশ্বকাপ দল ঘোষণা বাংলাদেশের

শেষ মূহুর্তে বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে সাকিব-তামিমের বিরোধ। যে উত্তাপ গতকাল মাঝরাতেও গড়িয়েছে বিসিবি সভাপতির বাসায়। অবশেষ সব উত্তাপ ও ঝড় শেষে ভারত বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
আগামীকাল ভারতের বিমান ধরবে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণায় আইসিসির বেঁধে দেওয়া সময় ছিল ২৮ সেপ্টেম্বর। এর মধ্যে স্কোয়াড ঘোষণা করতে হবে। সেই নিয়ম মেনে আজ কাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করল টাইগার ক্রিকেট বোর্ড।

আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডে শেষে বিসিবি এক ভিডিও বার্তায় ১৫ সদস্যের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করে। যেখানে প্রতি ক্রিকেটার তাদের বিশ্বকাপ জার্সি গ্রহণ করেন। তামিমকে ছাড়াই চূড়ান্ত হয়েছে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল।যেখানে বড় চমক দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবালের না থাকা। হেড কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে ও অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের ইচ্ছাতেই শতভাগ ফিট না থাকায় বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে বাদ পড়লেন তামিম। তার বদলে বিশ্বকাপের বিমান ধরবেন তরুণ ক্রিকেটার তানজিদ হাসান তামিম।
এছাড়াও বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিয়েছেন দীর্ঘ দিন ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। নিউজিল্যান্ড সিরিজ দিয়ে প্রত্যাবর্তন করা এই ক্রিকেটার নানা গুঞ্জনের পর অবশেষে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন। অপরদিকে নিজের অভিষেকে নজর কাড়া তানজিম হাসান সাকিবও জায়গা করে নিয়েছেন ১৫ সদস্যের দলে।

তবে বিশ্বকাপের আগে বিসিবিতে এমন অস্থিরতা ক্রিকেট ভক্তদের ভাবিয়ে তুলেছে। একের পর এক নতুন সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে কতটা প্রভাব ফেলবে তা সময়ই বলে দিবে।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্কোয়াড:
সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), লিটন দাস, নাজমুল শান্ত, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী মিরাজ, তাওহীদ হৃদয়, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, নাসুম আহমেদ, শেখ মাহেদী, তানজিদ তামিম, তানজিম সাকিব।

নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল, ভোট জানুয়ারির শুরুতে

নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান। এছাড়া জানুয়ারির শুরুতে ভোটগ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
আজ মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) গাজীপুরে এই তথ্য জানান ইসি আনিছুর।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেয় কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। এরপর কয়েকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু ভোট হবে না দাবি করে সব নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি।
২০১৯ সালের ৩০ জানুয়রি একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। সে ক্ষেত্রে ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে পরের বছর জানুয়ারির মধ্যে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারির মধ্যে আগামী সংসদ নির্বাচন শেষ করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে ইসির।
কিন্তু বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো সরকারের পদত্যাগ ছাড়া নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার দাবিতে অনড় অবস্থানে আছেন। অন্যদিকে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে আয়োজনে অনড় অবস্থানে আওয়ামী লীগও। ফলে সঠিক সময়ে নির্বাচন হবে কি না, তা শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থার মধ্যে তফসিল ও নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়ের কথা জানান ইসি আনিছুর রহমান।

কারও নিষেধাজ্ঞা পরোয়া করি না : কাদের

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি ও নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশ চলবে সংবিধান অনুযায়ী। কোনো দেশের নিষেধাজ্ঞা মানি না। ৭১ সালে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আমাদের হারাতে পারেনি, আজও নিষেধাজ্ঞা দিয়ে শেখ হাসিনাকে থামানো যাবে না। আমরা কারও নিষেধাজ্ঞা পরোয়া করি না।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কেরানীগঞ্জে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা কেউ শোনে না। ভেনিজুয়েলা, গ্যাবন, সুদান কেউ শোনেনি। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাও প্রথম সারির মোড়ল অনেক দেশ মানে না। নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আমরা পাল্টা নিষেধাজ্ঞা দেব। আস্তে আস্তে অন্ধকার কেটে যাবে, কুয়াশা কেটে যাবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ কারও কাছে মাথা নত করবে না। বিএনপি কীভাবে ঢাকা দখল করে তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। লাল সবুজের পতাকা নিয়ে আওয়ামী লীগ সারা দেশ দখল করবে।
তিনি বলেন, আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা দেয়, আর নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখায় বিএনপি। কি আশ্চর্য! মনে হয় আমেরিকা বিএনপিকে ভয় দেখানোর এজেন্ট দিয়েছে।
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, কত মায়ের বুক খালি করে, কতজনকে স্বামীহারা, বাবাহারা করে বিএনপি এখন নিজেই কাঁদছে। ফখরুল সাহেব কাঁদতে কাঁদতে বাংলাদেশ কান্নার দরিয়া হয়ে যাবে তবুও আপনাদের ক্ষমা নেই। পিতৃহত্যা, মাতৃহত্যার প্রতিশোধ আমরা নেব। আপনাদের ক্ষমা নেই। বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকে ক্ষমা করবে না।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের ক্যাপ্টেন (শেখ হাসিনা) আমেরিকায় আছেন, বাংলাদেশে আসলে খেলা হবে। মির্জা ফখরুল ইসলামের চোখে কত কান্না। সামনে আরও কান্না আছে। মির্জা আব্বাসসহ কিছু মানুষ চাঁদ রাতের স্বপ্ন দেখে। আপনাদের স্বপ্ন বেলুনের মতো চুপসে যাবে।

হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কোনো কর্মীর গায়ে আঘাত করলে পাল্টা আঘাত করা হবে। কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না। এবার ফাইনাল খেলা হবে। কেরানীগঞ্জের মানুষ সংগ্রাম করতে জানে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, খালেদা জিয়ার আমলে ঘনঘন লোডশেডিং হতো। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য ৪৮ ঘণ্টা আল্টিমেটাম দিয়েছে বিএনপি। কিন্তু ৪৮ মিনিটও দাঁড়াতে পারেনি ফখরুল ইসলাম আলমগীররা। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার চেয়ে রাজনীতি করছে বেশি।
বিএনপির উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, খেলা হবে জোরদারভাবে। ফাইনাল খেলার জন্যে রেডি হয়ে যান। নভেম্বর প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা হবে।
ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ এমপির সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান তরুনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আযম, বিদুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এমপি, কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাজি সাকুর হোসেন, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ম ই মামুন, হাজি ইকবাল হোসেন প্রমুখ।

ভিসা নীতি কারও পক্ষ নেওয়ার উদ্দেশ্যে নয় : যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার জানিয়েছেন, বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতির উদ্দেশ্য জাতীয় নির্বাচনে কারও পক্ষ নেওয়া নয়। এ ভিসা নীতির উদ্দেশ্য, বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা।
সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

ভিসা নীতি নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে মিলার বলেন, ‘আমি বলব, যেমনটা আমরা আগেও বলেছি, যেমনটা গত মে মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এ নতুন নীতি ঘোষণা করেছিলেন, তখনো আমরা বলেছিলাম, এর উদ্দেশ্য বাংলাদেশে নির্বাচনে কারও পক্ষ নেওয়া নয়। এর উদ্দেশ্য বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করা বা সমর্থন করা। আমি বলব, গত শুক্রবার যখন আমরা এ নতুন ভিসা বিধিনিষেধ কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছিলাম, তখন আমরা উল্লেখ করেছি, এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ক্ষমতাসীন দল ও রাজনৈতিক বিরোধীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’
বিএনপি চেয়ারপারসনকে মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে মিলার জানান, এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য নেই।
ব্রিফিংয়ে মিলারের কাছে প্রশ্ন করা হয়, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ২৪ সেপ্টেম্বর নতুন ভিসা নীতিতে গণমাধ্যম ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন বলে উল্লেখ করেন, যা ব্যাপক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা গণমাধ্যমে কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন সাবেক সম্পাদক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার পরিপন্থী।
প্রশ্নকারী মিলারের কাছে জানতে চান, এ নিষেধাজ্ঞা যদি গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, তাহলে তা মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানের গুরুত্বকে ক্ষুণ্ন করবে বলে তিনি মনে করেন কি না।
জবাবে মিলার জানান, ভিসা-সংক্রান্ত রেকর্ড গোপনীয় হওয়ায় সুনির্দিষ্ট সদস্য বা ব্যক্তি- কার জন্য এ নীতি প্রযোজ্য হবে, তার ঘোষণা তারা দেননি। তবে তারা এ বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে এ নীতি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য, ক্ষমতাসীন দল ও রাজনৈতিক বিরোধীদের জন্য প্রযোজ্য হবে।

লন্ডন পুলিশে ‘বিদ্রোহ’, মোকাবিলায় প্রস্তুত সেনাবাহিনী

লন্ডন পুলিশে বিদ্রোহের আগুন! পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুত দেশটির সেনাবাহিনী। তৈরি থাকতে বলা হয়েছে এসএএস কমান্ডোদেরও। ব্রিটেনের প্রাণকেন্দ্রে এহেন ঘটনায় অশনি সংকেত দেখছে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট।
আচমকা কেন বিদ্রোহী হয়ে উঠল লন্ডনের মেট্রোপলিটান পুলিশ?

জানা গেছে, এক পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হতেই সমস্যার সূত্রপাত হয়। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ক্রিস কাবা নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি। সাইথ লন্ডনের স্ট্রেথাম হিল এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
জানা যায়, ক্রিস গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় তাকে এক পুলিশ অফিসার গুলি করে হত্যা করেন। কাবার কাছে অস্ত্র ছিল না। অভিযোগ, বর্ণবিদ্বেষের কারণে ওই কৃষ্ণাঙ্গকে গুলি করে মারা হয়েছিল। গোটা ঘটনা সম্পর্কে ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র সচিব সুয়েলা ব্রেভারম্যান পুলিশকে সমর্থন জানিয়ে বলেছিলেন, ‘‘পুলিশকে সেকেন্ডের ভগ্নাংশ সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।’’
পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র জানান, প্রথমে কয়েক জন অফিসার সশস্ত্র অবস্থায় কাজে যোগ দিতে অস্বীকার করেন। তার পরে এই সংখ্যা সমানে বাড়ছে। সহকর্মীর বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হওয়ায় চরম ক্ষুব্ধ তাঁরা। তার পরই পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে সেনাবাহিনীকে। তৈরি থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এসএএস কমান্ডোদেরও। ব্রিটেনের প্রাণকেন্দ্রে এহেন ঘটনায় অশনি সংকেত দেখছে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট।
উল্লেখ্য, ব্রিটেনে সব পুলিশের হাতে অস্ত্র থাকে না। যাঁদের কাছে হাতিয়ার থাকে, তাঁদের বিশেষ প্রশিক্ষিণ থাকে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট, ১০০ জনের মতো পুলিশ অফিসার কাজে যোগ দিতে অস্বীকার করেছেন। ব্রিটেনের অন্য অংশের পুলিশ আধিকারিকরাও লন্ডনে আসতে চাইছেনা না।স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সাতটি ‘কাউন্টার টেররিজম ফায়ার আর্মস ইউনিট’ বা সন্ত্রাসবিরোধী সশস্ত্র দলের মধ্যে মাত্র একটি কার।ক্ষম রয়েছে। সবমিলিয়ে, পুরিস্থিতি জটিল।

এবার পরীমণি ও বুবলীর ‘খেলা হবে’

কয়েক বছর ধরেই দেশের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করছে ‘খেলা হবে’ স্লোগানটি। প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতার সৃষ্ট এ স্লোগান পরে দেশের বিভিন্ন নেতাদের কণ্ঠ শোনা গেছে। সমাদর পেয়েছে ওপার বাংলায়ও।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়সহ পশ্চিমবঙ্গের বাঘা বাঘা নেতৃবৃন্দ এখনও রাজনীতির মাঠ কাঁপাচ্ছেন এই স্লোগান দিয়ে। রাজনীতির ময়দান থেকে স্লোগানটি সোজা উড়াল দিয়েছিল বলিউডে। বি-টাউনের তারকা আলিয়া ভাটের কণ্ঠে শোনা গিয়েছিল, ‘খেলা হবে’। এবার ‘খেলা হবে’ নামে হচ্ছে চলচ্চিত্র। এতে একসঙ্গে অভিনয় করবেন পরীমণি ও শবনম বুবলী।

ছবিটি নির্মাণ করবেন তানিম রহমান। প্রযোজনা করছে টিএম ফিল্মস। গত ২ আগস্ট প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটির পেজে জানানো হয়, তানিম রহমান একটি ছবি বানাবেন। তবে সে সময় সিনেমার নাম কিংবা কলাকুশলী সম্পর্কে কিছুই প্রকাশ করা হয়নি।
জানা গেছে, আগামী অক্টোবরে ছবিটির শুটিং শুরু হবে। তিন সপ্তাহ শুটিং হবে ভারতে। এরইমধ্যে শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিয়ে দেশটিতে যেতে আবেদন করেছেন টিএম ফিল্মসের ফারজানা মুন্নী। পেয়েছেন অনুমতিও। অনুমতি প্রাপ্ত শিল্পীদের তালিকায় পরীমণি, বুবলী ছাড়াও রয়েছেন শহীদুল আলম সাচ্চু, আবুল কালাম আজাদ, মিশা সওদাগর, মুশফিকুর রহমান, সাইফুল ইসলাম মজুমদারসহ ১২ জন।

১০০০ কোটির গণ্ডি টপকে গেল জওয়ান

১০০০ কোটির গণ্ডি টপকে গেল শাহরুখ খান অভিনীত জওয়ান। কিন্তু জানেন কি এই বিপুল পরিমাণ অর্থ থেকে কারা কত টাকা পাবেন? প্রযোজক, ডিস্ট্রিবিউটর বা অভিনেতারা কারা কতটুকু পেল?
২৫ সেপ্টেম্বর ১০০০ কোটির গণ্ডি টপকে গেল শাহরুখ খান অভিনীত জওয়ান। এই নিয়ে তৃতীয় বার কোনও হিন্দি ১০০০ কোটির গণ্ডি টপকাল। ২০২৩ -এ এটা দ্বিতীয় ছবি যা এই বেঞ্চমার্ক ক্রস করল। আমির খান অভিনীত দঙ্গল প্রথমবার ২০১৬ সালে ১০০০ কোটির ক্লাবে প্রবেশ করে। এরপর ২০২৩ সালে শাহরুখ খানের পাঠান এবং জওয়ান সেই তালিকায় নাম লেখাল।

কিন্তু জানেন কি গ্লোবাল বক্স অফিসে জওয়ান যে এই বিপুল অর্থ রোজগার করল তার কত টাকা কে পাবে? মানে প্রযোজকরা কত টাকা পাবেন, ডিস্ট্রিবিউটরদের ভাগ্য কত টাকা আছে? চলুন দেখে নেওয়া যাক।
প্রযোজকরা কত পাবেন?বক্স অফিসের ৪৫-৫০ শতাংশ আয় প্রযোজকদের কাছে যায়। ফলে জওয়ান বক্স অফিসে কত টাকা আয় করছে তার সিংহভাগটাই যাবে রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্টের কাছে।
খবর হিন্দুস্তান টাইমস

ট্রেনে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে ফরিদপুরের জনসভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ১০ অক্টোবর ঢাকা-ভাঙ্গা ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করবেন। এ দিন প্রধানমন্ত্রী ট্রেনে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে ফরিদপুরের জনসভায় যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার।
সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভায় তিনি এসব তথ্য জানান।

জনসভার আয়োজন করা হয়েছে ভাঙ্গা স্টেডিয়ামে। বিকেল ৫টায় স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। এ সময় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রস্তুতি সভায় জেলা প্রশাসক জানান, প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর রেল প্রকল্প উদ্বোধনের পর মুন্সীগঞ্জে একটি সুধী সমাবেশে যোগ দেবেন। সেখান থেকে ট্রেনে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা জংশনে কিছুক্ষণ অবস্থান করবেন। এরপর জনসভায় অংশ নেবেন। এ সময় তার সফরসঙ্গী হিসেবে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা থাকবেন।
জনসভায় প্রায় ৫ লাখ মানুষের জনসমাগম হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
প্রস্তুতি সভায় পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ইশতিয়াক আরিফ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মোল্লাসহ জেলা ও উপজেলার সব দফতরের প্রধানরা এবং আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

২৪তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন ওবায়দুল হাসান

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বাংলাদেশের ২৪তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন মঙ্গলবার বেলা ১১টার পর বঙ্গভবনের দরবার হলে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে শপথবাক্য পাঠ করান।

এর আগে শপথ নিতে সকাল ১১টার আগে বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন নতুন প্রধান বিচারপতি।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী, বিমান ও নৌ-বাহিনীর প্রধান ও বেশ কয়েকজন বিচারপতি বঙ্গভবনে উপস্থিত ছিলেন।
গত ২১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয় ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার মুহাম্মদ মামুনুল হক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ২৪তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এই নিয়োগ শপথ গ্রহণের পর থেকে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।
গতকাল ২৫ সেপ্টেম্বর অবসরে গেছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর শপথগ্রহণের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতি পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। টানা ২০ মাস বিচারিক দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তার ৬৭ বছর পূর্ণ গতকাল ২৫ সেপ্টেম্বর। তাই সংবিধান অনুসারে গতকাল তিনি অবসরে যান।

১৯৫৯ সালের ১১ জানুয়ারি নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। তার পিতা মরহুম ডা. আখলাকুল হোসাইন আহমেদ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। তিনি গণপরিষদ সদস্য হিসাবে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সংবিধান রচনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং সংবিধান রচনার পর তাতে স্বাক্ষর প্রদান করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে এম.এস.এস. ডিগ্রি লাভ করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি এলএল.বি. ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৮৬ সালে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে এবং ২০০৫ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
১৯৯১ সালে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান নিয়মিত আইনজীবী হিসেবে হংকংয়ে অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ল’ ইয়ারস কনফারেন্স’-এ অংশগ্রহণ করেন। চীনের প্রসিকিউরেটর জেনারেলের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের সফরসঙ্গী হিসেবে ১৯৯৭ সালে বেইজিংসহ বেশ কিছু নগরী ভ্রমণ করেন।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত ৫ বছর দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এবং আপিল বিভাগে অনেক সাংবিধানিক মোকদ্দমা পরিচালনা করেন।
বিচারপতি হিসেবে যোগদানের পূর্বে তিনি দেওয়ানি, ফৌজদারি এবং সাংবিধানিক বিষয়াদি সম্পর্কিত মোকদ্দমার একজন দক্ষ আইনজীবী হিসেবে ব্যাপক পরিচিত লাভ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধানমন্ডি ল’ কলেজে একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ২০০৯ সালের ৩০ জুন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০১১ সালের ৬ জুন একই বিভাগে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।
তিনি ২০১২ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২-এর একজন সদস্য হিসেবে যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে একই বছরের ১৩ ডিসেম্বর থেকে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিচারপতি হাসান অনেক দেশ ভ্রমণ করেছেন। যার মধ্যে অন্যতম পাকিস্তান, নেপাল, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং, চীন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, সৌদি আরব ইত্যাদি। তার একমাত্র ছেলে আহমেদ শাফকাত হাসান আইন বিষয়ক একজন গবেষক। তিনি যুক্তরাজ্যের ইনার টেম্পল থেকে বার-এট-ল করার পর ইউনিভার্সিটি অব ডারহাম থেকে আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে এলএল.এম. ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত। তার স্ত্রী নাফিসা বানু বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের নির্বাহী বোর্ডের সদস্য (অর্থ) হিসেবে কর্মরত।