শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬

ঢাকা থেকে পদ্মা পাড়ি দেওয়া যাবে ৬টি ট্রেনে

আগামী ১০ অক্টোবর পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার রেলপথের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিন ট্রেনে চেপে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা স্টেডিয়াম মাঠে জনসভায় যোগ দেবেন সরকারপ্রধান। এর সাত দিন পর এই পথে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হবে।
প্রাথমিকভাবে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে এই সেতু পাড়ি দিয়ে ওপার যাবে ছয়টি যাত্রীবাহী ট্রেন। তবে এই ৬টি ট্রেনের একটিও নতুন নয়। রুট পরিবর্তন করে চলবে পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলো।

ট্রেনের রুট পরিবর্তন করতে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. কামরুল আহসানের কাছে একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছেন। সেই প্রস্তাবনায় দেখা গেছে, ঢাকা-খুলনা-ঢাকা রুটের সুন্দরবন এক্সপ্রেস (৭২৫/৭২৬) ও চিত্রা এক্সপ্রেস (৭৬৩/৭৬৪), ঢাকা-বেনাপোল-ঢাকা রুটের বেনাপোল এক্সপ্রেস (৭৯৫/৭৯৬) ট্রেনকে যমুনা সেতুর পরিবর্তে পদ্মা সেতু দিয়ে চালানো হবে। এছাড়া ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা রুটের আন্তর্জাতিক মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনও এই রুটে চালানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া ভাঙ্গা-রাজশাহী-ভাঙ্গা রুটের আন্তঃনগর মধুমতি এক্সপ্রেস (৭৫৫/৭৫৬) এবং খুলনা-গোয়ালন্দ ঘাট-খুলনা রুটের মেইল নকশীকাঁথা এক্সপ্রেস (২৫/২৬) ট্রেন নতুন রুট দিয়ে ঢাকা পর্যন্ত আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী ৩ অক্টোবরের মধ্যে এই প্রস্তাবনা পাস হতে পারে বলে রেলওয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে আপাতত ছয়টি ট্রেন ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যাবে।
প্রস্তাবনার বিষয়ে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার জানান, আমরা একটি প্রস্তাবনা বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক বরাবর পাঠিয়েছি। যমুনা সেতু দিয়ে চলাচল করা কিছু ট্রেন পদ্মা সেতু হয়ে চলবে।
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকার কমলাপুর থেকে যশোর পর্যন্ত মোট ১৭২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে। ৩৪ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা ব্যয় ধরে প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ৩ মে অনুমোদন করা হয়।
পরবর্তীকালে ২০১৮ সালের ২২ মে সংশোধনী প্রস্তাবে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। জিটুজি (সরকারের সঙ্গে সরকারের) ভিত্তিতে প্রকল্পের কাজ করছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ (সিআরইসি)।
১৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন রেলপথের মধ্যে ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ৮২ কিলোমিটার রেলপথের উদ্বোধন হবে ১০ অক্টোবর। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের এক সপ্তাহ পর থেকে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হতে পারে।

বিচারবহির্ভূত হত্যা ভারতের নীতিতে নেই : জয়শঙ্কর

তথ্য থাকলে তা যেন ভারতকে দেওয়া হয়। বিষয়টি দিল্লি খতিয়ে দেখবে বলে জানান ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার আগে নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। কানাডায় ভারতীয় শিখ নেতা হারদীপ সিং হত্যাকাণ্ডে ভারতের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ অটোয়ার।

এ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, ‘আমরা কানাডাকে জানিয়েছে এমন বিচারবহির্ভূত হত্যা ভারতের নীতিতে নেই। আমরা তাদের এও বলেছিলাম দেখুন, যদি আপনাদের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রাসঙ্গিক কিছু থাকে তবে আমাদের জানান। ঘটনাটি আমরা খোলামেলাভাবে খতিয়ে দেখব।’
নিউইয়র্কে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘গত কয়েক বছরে কানাডায় অনেক সংগঠিত অপরাধ দেখা গেছে, যা বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি ও উগ্রপন্থার সঙ্গে জড়িত।’
জয়শঙ্কর বলেন, কানাডায় জঙ্গি নেতারা সংগঠিত অপরাধ করছে, ‘গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আপনারা যদি কোনও নির্দিষ্ট তথ্যের বিষয়ে কথা বলেনৃ. আমরা বহু তথ্য দিয়েছি।’
কানাডার নাগরিক ও ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কেটিএফ প্রধান নিজ্জারকে গত ১৮ জুন গুলি করে হত্যা করা হয়। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের পাঞ্জাবি অধ্যুষিত শিখদের ধর্মীয় উপাসনালয়ের পার্কিংয়ে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় তাকে। দীর্ঘদিন ধরে তাকে খুঁজছিল ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। তার মাথার দাম ১০ লাখ রুপি ঘোষণা করেছিল নয়াদিল্লি। এই হত্যাকাণ্ডে সম্প্রতি ভারতকে কাঠগড়ায় তোলেন কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। তিনি বলেছিলেন, কানাডার নাগরিক নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে ভারত সরকারের গুপ্তচরদের হাত থাকতে পারে। যদিও ট্রুডোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই অভিযোগ অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এ নিয়ে দুই দেশ পাল্টাপাল্টি কূটনীতিকদের বহিষ্কারের পাশাপাশি নাগরিকদের উদ্দেশে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
খবর বিবিসি

দেশকে আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরিয়ে আনেন শেখ হাসিনা

‘বাংলার মানুষের পাশে থেকে মুক্তির সংগ্রামে অংশ নেয়ার জন্য আমি দেশে এসেছি। আমি আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই।’
দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে তৎকালীন কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানানোর জন্য উপস্থিত প্রায় ১৫ লাখ মানুষের হৃদয় ছোঁয়া ভালোবাসার জবাবে শেখ হাসিনা এভাবেই তাঁর অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছিলেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আজকের জনসভায় লাখো লাখো চেনামুখ আমি দেখছি। শুধু নেই আমার প্রিয় পিতা বঙ্গবন্ধু, মা আর ভাইয়েরা এবং আরও অনেক প্রিয়জন। শেখ হাসিনা বলেন, ভাই রাসেল আর কোনো দিন ফিরে আসবে না, আপা বলে ডাকবে না। সব হারিয়ে আজ আপনারাই আমার আপনজন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হন। এ সময় তাঁর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রবাসে থাকায় ঘাতকদের হাত থেকে রেহাই পান। ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
একই বছরে ১৭ মে তিনি বাংলার মাটিতে ফিরে আসেন। এদিন বিকেল সাড়ে ৪টায় ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ৭৩৭ বোয়িং বিমানে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লী থেকে কলকাতা হয়ে তৎকালীন ঢাকা কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে পরদিন ১৯৮১ সালের ১৮ মে দৈনিক ‘সংবাদ’ ‘লাখো জনতা অকৃপণ প্রাণঢালা অভ্যর্থনার মধ্যদিয়ে বরণ করে নেয় তাদের নেত্রীকে’ শিরোনামে লেখা হয়, রাজধানী ঢাকা গতকাল (১৭ মে) মিছিলের শহরে পরিণত হয়েছিল। প্রচন্ড ঝড়বৃষ্টিও মিছিলের গতিরোধ করতে পারেনি। স্লোগানেও ভাটা পড়েনি। লাখো কণ্ঠের স্লোগান নগরীকে প্রকম্পিত করেছে।’
সংবাদ আরও লেখে, বিকেল সাড়ে চারটায় আকাশে যখন শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানটি দেখা যায় তখন সকল নিয়ন্ত্রণ আর অনুরোধ আবেদন অগ্রাহ্য করে হাজার হাজার মানুষ বিমানবন্দরের ভেতরে ঢুকে যায়। অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই বিমানটি অবতরণ করে। জনতাএকেবারেই বিমানের কাছে চলে যায়। বহু চেষ্টার পর জনতার স্রোতকে কিছুটা সরিয়ে ট্রাকটি ককপিটের দরজার একেবারে সামনে নেয়া হয়। এই সময়ে শেখ হাসিনা ভেতর থেকে জনতার উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন।

বেলা ৪টা ৩২ মিনিটে শেখ হাসিনা কাঠের সিঁড়ি দিয়ে ট্রাকে নেমে আসেন। এই সময় লাখো জনতার কণ্ঠে ছিল গগন বিদারী স্লোগানÑ ‘হাসিনা তোমায় কথা দিলামÑমুজিব হত্যার বদলা নেব।’ এ সময় অনেকের চোখে ছিল অশ্রুধারা। প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রাজ্জাক যখন মালা পরিয়ে দেন তাঁকে, তখন শেখ হাসিনাও অঝোর ধারায় কাঁদছিলেন।
রাস্তাঘাট স্বাভাবিক জীবন যখন ব্যাহত তখন এখানে অপেক্ষা করে কয়েক লাখ মানুষ। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তিনি গণসংবর্ধনা মঞ্চে উপস্থিত হন। সেদিন তিনি বলেছিলেন, বাংলার মানুষের পাশে থেকে মুক্তির সংগ্রামে অংশ নেয়ার জন্য তিনি দেশে এসেছেন।
শুধু তাঁর দল নয়, শেখ হাসিনার সেদিনের সেই বক্তব্যে নতুন করে উজ্জ্বেবিত হয়ে উঠে সারা দেশের মানুষ। দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত মেঘের মধ্যে যেন নতুন সূর্যের প্রকাশ ঘটে। হতাশ বাঙ্গালীর জীবনে এক সঞ্জীবনী আলো ছড়িয়ে পড়ে। সেদিন তিনি যে সুরের আগুন লাগিয়ে ছিলেন, সে আগুন যেন ছড়িয়ে পড়ে সব খানে। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়ায় আবার ধ্বণিত হয় মুক্তিযুদ্ধের সেই রণহুংকার ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।’ বঙ্গোপসাগরের ঢেউয়ের গর্জনের মতো মুহুমুহু স্লোগান ঢাকা কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে সীমাবদ্ধ থাকে না। সেই ঢেউ আরও প্রবল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে, অলিতে-গলিতে এমনকি গৃহিণীর রান্না ঘরেও। বীর বাঙ্গালী যেন আবার জেগে উঠে। স্বপ্ন দেখে আবার নতুন সূর্যের। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি যেন খুঁজে পায় নতুন অভিভাবকের।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু বলেন, ‘আমরা যেমন বলি বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। তেমনই শেখ হাসিনার জন্ম না হলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণের কাজ জাতি চোখে দেখতো না। শেখ হাসিনার জন্মের সফলতা ও স্বার্থকতা তাঁর কর্মের মধ্য দিয়ে।’
ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘শেখ হাসিনা তাঁর সব কর্মকান্ডে বঙ্গবন্ধুকে অনুসরণ করছেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনাও সেটা অনুসরণ করছেন। তাঁরই ধারাবাহিকতায় দেশে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনগণের উন্নয়নের ও নারীর ক্ষমতায়নসহ অন্যান্য সব ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছেন। বাংলাদেশের মাটিতে পা দিয়ে জনগণকে দেয়া সেই প্রতিশ্রুতি তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করে যাচ্ছেন। তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে যে বাংলাদেশ অনেকটাই আবার পাকিস্তান হয়ে গিয়েছিল, সেই দেশকে আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরিয়ে আনা।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে। তাঁর সাহসিকতা, বলিষ্ঠ পদক্ষেপ এবং যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলেই বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পদ্মা সেতু আজ উত্তাল পদ্মার বুকে জাতির গৌরবের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তিনিই আমাদেরকে বিশ্বদরবারে আত্মবিশ্বাসের সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস এনে দিয়েছেন। পদ্মা সেতুর সফল বাস্তবায়নের পথ ধরে কর্ণফুলী টানেল, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো বৃহৎ প্রকল্পের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। দেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত করতে তিনি রূপকল্প ‘ভিশন ২০২১’ এর সফল বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় ‘ভিশন ২০৪১’ কর্মসূচিসহ বাংলাদেশ বদ্বীপ মহাপরিকল্পনা (ডেল্টা প্ল্যান ২১০০) গ্রহণ করেছেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদর্প বিচরণ দেশের সম্মান ও মর্যাদাকে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত ও নির্যাতিত লাখ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে দেশে আশ্রয় দিয়ে তিনি বিশ্বমানবতার ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এ জন্য তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ অভিধায় ভূষিত হয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা, তথ্যপ্রযুক্তি, নারীর ক্ষমতায়নসহ দারিদ্র্যবিমোচনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দেশি-বিদেশি অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৬-এ তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান ও ভূমিকা বিশ্বে আমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে যখন আওয়ামী লীগের হাল ধরেন তখন থেকেই প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী তাঁকে হত্যা করতে সক্রিয় হয়ে উঠে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হত্যা অপচেষ্টাগুলো হচ্ছে-১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর স্বৈরাচারবিরোধী অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে সচিবালয়ের সামনে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ কর্মী নূর হোসেন মারা যান।
শেখ হাসিনাকে হামলার বড় চেষ্টা চালানো হয়, পরের বছর ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি। তিনি জনসভা করতে চট্টগ্রাম গিয়েছিলেন। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে মিছিল করে জনসভাস্থলে যাওয়ার পথে মিছিলে হামলা হয়। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। সেদিন প্রায় ১৪ জন নেতাকর্মী নিহত হন। প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ২০০০ সালের ২০ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় জনসভাস্থলের কাছে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল। এই বোমা গোয়েন্দাদের কাছে ধরা পড়ে। বোমাটি বিস্ফোরিত হলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত জনসভাস্থল। সর্বশেষ ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শান্তি সমাবেশস্থলে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা অল্পের জন্য এই ভয়াবহ হামলা থেকে বেঁচে গেলেও অপর ২৪ জন নিহত হন।
বেশ কয়েক বছর আগে প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম হাফিংটন পোস্টের অস্ট্রেলীয় সংস্করণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্বের সবচেয়ে সুখী নারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের টাইগারদের ঐতিহাসিক টেস্ট বিজয়ের পর হাফিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।
প্রতিবেদনটিতে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা করা হয় প্রধানমন্ত্রীর ক্রীড়ানুরাগের। যে অনুরাগে সব ব্যস্ততা সামলেও লাল-সবুজের পতাকাবাহীদের উৎসাহ যোগাতে মাঠে ছুটে যান তিনি। সাফল্যে ক্রিকেটারদের কাছে ডেকে পরম স্নেহে পিঠ চাপড়ে দেন। অনুপ্রেরণা যোগান, সাফল্যের সিঁড়ি আরও ঊর্ধ্বমুখী করতে।
খবর বাসস

বাংলাদেশ সফরে আসছেন সৌদি যুবরাজ

আগামী বছর বাংলাদেশ সফরে আসছেন সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদ। ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ঈশা ইউসেফ ঈশা আল-দুহাইলান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় সৌদি দূতাবাসে ৯৩তম সৌদি জাতীয় দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান তিনি।

ঈশা ইউসেফ ঈশা আল-দুহাইলান বলেন, আগামী বছর বাংলাদেশে আসবেন ক্রাউন প্রিন্স। তাকে স্বাগত জানাতে দূতাবাস অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
বাংলাদেশের স্থিতিশীল সরকার ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে সৌদির সঙ্গে সম্পর্কটি জোরদার হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সৌদি রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে সৌদি কোম্পানির উপস্থিতি ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ সময় বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশ সুবিধা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসাও করেন তিনি।
এর আগে সৌদির মক্কায় এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে দেশটির যুবরাজ বলেছিলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে সর্বদা আগ্রহী।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অত্যন্ত মধুর সম্পর্ক রয়েছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। কিন্তু কিছু গোষ্ঠী তিক্ততা সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং বাংলাদেশ নিয়ে মিথ্যাচার করছে।
আজ বুধবার ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সোমবার নিউইয়র্কের বাঙালি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, যুক্তরাষ্ট্র শাখা আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আমরা যে নীতি ও মূল্যবোধে বিশ্বাস করি, যুক্তরাষ্ট্র সেই নীতি ও মূল্যবোধে বিশ্বাস করে। বাংলাদেশ হচ্ছে সেই দেশ যেখানে গণতন্ত্রের জন্য আমরা লড়াই সংগ্রাম করেছি। আমরা জনগণের ভোটে জয়লাভ করলেও ১৯৭০ সালে আমাদের সরকার গঠন করতে দেয়া হয়নি। বরং আমাদের উপর গণহত্যা চালানো হয়েছিল আর তখন বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলাম গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। এজন্য স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের ত্রিশ লাখ মানুষের প্রাণ দিতে হয়েছে। পৃথিবীর কোথাও গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য এতো অল্প সময়ে এতো মানুষ আত্মত্যাগ করেনি। আমরা পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র জাতি যারা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য এত বড় ত্যাগ স্বীকার করেছি।’

ড. মোমেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্রে ও মানবাধিকারে বিশ্বাস করে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের মতের, চিন্তার মিল আছে। নীতিগতভাবে আমাদের দুই দেশের মধ্যে মিল রয়েছে। তবে তাদের কোনো কোনো ব্যক্তি বিশেষ হয়তো আমাদের উন্নয়ন পছন্দ করছেন না, তাদের ব্যাপারে সজাগ থাকতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহবান জানান তিনি। কেউ বাংলাদেশ নিয়ে মিথ্যাচার করলে তাদের মিথ্যাচারকে চ্যালেঞ্জ করতে দলমত নির্বিশেষে প্রবাসী বাংলাদেশিদের রুখে দাঁড়ানোর আহবান জানান তিনি।
ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট সংশোধনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে যেসব ভালো পরামর্শ দেয় আমরা সেটা গ্রহণ করি। যুক্তরাষ্ট্র অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করে আর আমরাও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু আমাদের দেশের কিছু লোক আছে যারা নির্বাচন বয়কট করতে চায়, নির্বাচন ভয় পায়। নির্বাচন বানচাল করতে তারা সব রকমের চেষ্টা করে থাকেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ড. মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে আমরা ২৬তম বড় অর্থনীতিতে পরিণত হব। আমাদের রয়েছে ১৭ কোটি মানুষ, তাই আমাদের নিজস্ব বাজারও অনেক বড়। সেজন্য আমাদের দেশের প্রতি অনেকেরই আগ্রহ বেড়েছে, কারণ আমাদের মাথাপিছু আয় ৫ গুন বেড়েছে। দারিদ্রের হার অর্ধেকের বেশি কমেছে। এসবই শেখ হাসিনার সরকারের লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ বাস্তবায়নের কারণে সম্ভব হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিজয়ীর জাতি। আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের একটি সুন্দর পররাষ্ট্রনীতি দিয়ে গেছেন। আর এই নীতি হচ্ছে ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়।’ আমরা এই নীতিতে বিশ্বাস করি। আমরা একটা ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করি।’
বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সভাপতি ড. মসিউর মালেক। অন্যান্যের মধ্যে কবি ও সাহিত্যিক ফকির ইলিয়াস, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আব্দুল খালেক মিয়া, বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার নিউইয়র্ক প্রতিনিধি লাভলু আনসার, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন যুক্তরাষ্ট্র শাখার নেতৃবৃন্দ এবং নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মাদকবিরোধী অভিযানে ঢাকায় গ্রেফতার ৫০

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ৫০ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ১৫০৯২ পিস ইয়াবা, ৯ কেজি ৬৭০ গ্রাম গাঁজা ও ৩৫২ গ্রাম ২০০ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার ৫০ জনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩৮টি মামলা হয়েছে।

মিডল অর্ডারে খেলার শর্তে তামিমকে দলে নেয়ার প্রস্তাব!

তামিম ইকবালকে কেন্দ্র করে গত কয়েকমাস ধরেই বেশ কয়েকবার উত্তাল হয়েছে দেশের ক্রিকেটাঙ্গণ। হয়েছে নানা রকম আলোচনা-সমালোচনা, সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন নাটকীয়তার। আর বিশ্বকাপ দল ঘোষণার আগে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে ফের জমে ওঠে এ নাটকীয়তা যা শেষ হয়েছে দেশসেরা ওপেনারকে ছাড়াই দল ঘোষণার মাধ্যমে।
গতকাল রাতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে শেষ হবার পর বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঘোষিত ১৫ সদস্যের দলে রাখা হয়নি তামিমকে। দল ঘোষণার পর এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচক কমিটি জানিয়েছেন দেশসেরা ওপেনারের চোট নিয়ে দুঃশ্চিন্তা থাকার কারণেই তাকে রাখা হয়নি দলে।

এদিকে তামিমকে দলে রাখার কারণ তাঁর চোট নয় বলে গুঞ্জণ ওঠেছে। টিম ম্যানেজম্যান্টের সিদ্ধান্তের কাছেই তামিম হেরে গেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। গতকাল দল ঘোষণার পর দেশের জনপ্রিয় একটি স্পোর্টস প্ল্যাটফর্মের জেষ্ঠ্য ক্রীড়া সাংবাদিক এক ভিডিও বার্তায় এমন অভিযোগের কথাই বলেছেন।
উক্ত ভিডিও বার্তায় বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে তামিমকে ওপেনিংয়ে নয় বরং মিডল অর্ডারে খেলার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। আর দেশসেরা ওপেনারকে এমন প্রস্তাব দিয়েছিলেন স্বয়ং বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন নিজে, এমন কথাও বলা হয়েছে উক্ত ভিডিও বার্তায়।
সেখানে বলা হয়েছে, কৌশলগত কারণেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটিতে তামিমকে মিডল অর্ডারে খেলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বোর্ড সভাপতি। আফগান স্পিনার মুজিব উর রহমানের বোলিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে ওপেনিংয়ে দুজন ডান হাতি ব্যাটার খেলানোর পরিকল্পনা ছিল। এ কারণেই তামিমকে পজিশন বদল করে মিডিল অর্ডারে খেলার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।
বিশ্বকাপের কয়েক সপ্তাহ আগেই ভেন্যুতে না গিয়ে, উইকেট না দেখে টিম ম্যানেজম্যান্ট কীভাবে এমন একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে। একই সঙ্গে বাঁহাতি ব্যাটার হলেই যে ডানহাতি অফ স্পিনারের বল খেলতে পারবেন না, আধুনিক ক্রিকেটে এমন চিন্তা-ভাবনা কতটা যৌক্তিক তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে। এক সময় এডাম গিলক্রিস্টরা দাপটের সঙ্গেই হরভজন সিং, মুত্তিইয়া মুরালিধরনের মত বোলারদের বল দাপটের সঙ্গেই খেলেছেন। সেখানে দেশসেরা ওপেনার তামিম আফগান স্পিনারকে মোকাবেলা করতে পারতেন না -এ ধরণের ধারণা পোষণও যৌক্তিক নয় বলেই মনে করছেন অনেকেই।

বিশ্বকাপে টাইগারদের সহ-অধিনায়ক শান্ত

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অধিনায়ক থাকছেন সাকিবই। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের দলে থাকছেন দুই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন তানজিদ তামিম এবং তানজিম সাকিব। ২০২০ সালে বাংলাদেশের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল এই দুই ক্রিকেটার।
এদিকে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের সহকারী অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ব্যাট হাতে দীর্ঘদিন ধরেই বেশ ফর্মে আছেন তিনি।

তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটে শান্তর উত্থান খুব একটা সহজ ছিল না। জাতীয় দলে আসার পর ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে দর্শকদের ট্রলের শিকার হয়েছেন তিনি। তাকে নিয়ে বেশ বাজেভাবেই হয়েছে সমালোচনা। তবে দমে না গিয়ে শান্ত দুর্দণ্ড প্রতাপে ফিরে এসেছেন।
সবশেষ বিপিএলে মাশরাফি মুর্তজার সিলেট সিক্সার্সের হয়ে ব্যাট হাতে দাপুটে ছিলেন শান্ত। ছিলেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক, হয়েছেন টুর্নামেন্ট সেরা। টি-টোয়েন্টির সেই ফর্ম তিনি টেনে এনেছেন জাতীয় দলেও।
এরপর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও বেশ ফর্মে ছিলেন তিনি। এ বছর দেশের জার্সিতে প্রায় সব সিরিজেই রানের দেখা পেয়েছেন তিনি। এমনকি সেই ফর্ম তিনি ধরেও রেখেছেন। কদিন আগে শেষ হওয়া এশিয়া কাপে মাত্র দুইটি ম্যাচে খেলেছেন তিনি। দুইটি ম্যাচের মধ্যে একটিতে তিনি পেয়েছেন সেঞ্চুরির দেখা, অপরটিতেও খেলেছেন দুর্দান্ত এক পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস।
এরপর চোটে পড়লেও সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরেই আবার হেসেছে তাঁর ব্যাট। গতকাল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে অধিনায়ক হিসেবে খেলতে নেমেই করেছেন ৭৬ রান।
এদিকে এই শান্তকে নিয়েই এক সময় ট্রল হতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এমনকি তাকে ব্যঙ্গ করে ‘লর্ড’ নামেও ডাকা হতো। ভক্ত থেকে ক্রিকেট বিশ্লেষক সবার মুখে ট্রলের শিকার হয়ে লর্ড শান্ত হিসেবে পরিচিত লাভ করেছিলেন। তবে সময়ের প্ররিক্রমায় আজ ঘুরে দাঁড়িয়েছেন টাইগার ব্যাটার। তাঁর সহ-অধিনায়িকত্বেই এবার বিশ্বকাপে শিরোপার লক্ষ্যে লড়বে বাংলাদেশ।

ন্যাটো সম্প্রসারণ নিয়ে পুতিনকে খোঁচা হিলারি ক্লিনটনের

সামরিক জোট ন্যাটোর সম্প্রসারণ নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে খোঁচা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্ট লেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। পুতিনকে উদ্দেশ করে হিলারি বলেছেন, ‘খুব খারাপ, ভ্লাদিমির। আপনি এটি নিজের ওপর নিয়ে এসেছেন।’

এই কথার মাধ্যমে হিলারি মূলত ন্যাটোর সম্প্রসারণ ও ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহায়তাকে একপাশে রাখার দায় পুতিনের ওপর চাপিয়েছেন। বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজের অফিসিয়াল প্রতিকৃতি উন্মোচনের জন্য স্থানীয় সময় মঙ্গলবার মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টে যান হিলারি ক্লিনটন। সেখানে উপস্থিত হয়ে ক্লিনটন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে খোঁচা দেওয়ার পাশাপাশি সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রতিও বিতৃষ্ণা প্রদর্শন করেন।

মূলত ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের কাছেই পরাজিত হয়েছিলেন হিলারি।

সাবেক এই মার্কিন ফার্স্ট লেডি এদিন ইঙ্গিত দেন, মার্কিন মিত্রদের বিচ্ছিন্ন করার যে কাজ ট্রাম্প তার শাসনামলে করেছিলেন, সেটির কারণে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য কিয়েভের পক্ষে সমর্থন জোগাড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে।

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এদিন বলেন, ‘আমরা আমাদের মিত্র এবং আমাদের বন্ধুদের সাথে বন্ধুত্বের অনেক সেতু পুড়িয়ে দিয়েছি, আর তাই লোকেরা এই বিষয়ে সন্দেহ করতেই পারে।’

তিনি বলেন, ‘বৈদেশিক নীতি পুনঃস্থাপন করা … যা আসলে মানুষকে আমাদের কাছে নিয়ে আসে, তাদের দূরে ঠেলে দেয় না, এটি অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করা হতো। এবং প্রকৃতপক্ষে এটি আসলেই কঠিন, কিন্তু (ট্রাম্পের আমলে) সেটিই সম্পন্ন করা হয়েছিল।’

এসময় বর্তমান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনকে ধন্যবাদও জানান হিলারি। তার মতে, বিশ্বজুড়ে আমেরিকার অবস্থান পুনরুদ্ধারে সহায়তা করছেন ব্লিংকেন।

হিলারি ক্লিনটন বলেন, সহকর্মী ডেমোক্র্যাট মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ওবামা প্রশাসনের অনেক অগ্রাধিকারমূলক নীতি অনুসরণ করে চলেছেন। মূলত প্রেসিডেন্ট বাইডেন ছিলেন ওবামা প্রশাসনের শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিক এবং তিনি বারাক ওবামার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

সাবেক এই মার্কিন ফার্স্টলেডি বলেন, ‘ইউক্রেনে গণতন্ত্র রক্ষা করা, ন্যাটোর সম্প্রসারণ করা – এটি এখন এক বিষয় হয়ে উঠেছে। খুব খারাপ ভ্লাদিমির, আপনি এটি নিজেই সামনে নিয়ে এসেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবসময় বলেছি, মানুষকে ন্যাটোতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয় না। মানুষ নিজেই সিদ্ধান্ত নেয় এবং ন্যাটোতে যোগ দিতে চায়।’

এসময় ‘ন্যাটো সম্প্রসারণ, রুশ আগ্রাসন মোকাবিলা এবং চীনের পক্ষ থেকে আসা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার’ ক্ষেত্রে ওবামা ও বাইডেন প্রশাসনের অভিন্ন অগ্রাধিকার নীতি হিসাবে ক্লিনটন যা দেখেছেন সেগুলোও বর্ণনা করেন তিনি।

ইরাকে বিয়ের অনুষ্ঠানে আগুন: বর-কনেসহ নিহত ১০০

ইরাকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ভয়াবহ আগুনে অন্তত ১০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৫০ জন। অগ্নিকাণ্ডে বর-কনেও নিহত হয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ইরাকের নিনেভেহ প্রদেশের হামদানিয়া জেলায় এ ঘটনা ঘটে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোরেও বিয়ের সেই অনুষ্ঠানে পুড়ে যাওয়া ভবনে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন জরুরি কর্মীরা।
তবে ইরাকের নিনেভেহ প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর হাসান আল-আলাক রয়টার্সকে বলেছেন- অগ্নিকাণ্ডে ১১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিবিসি জানায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় নিনেভেহ প্রদেশের আল-হামদানিয়া জেলায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অবশ্য ঠিক কী কারণে আগুন লেগেছে তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আতশবাজি ফাটানোর পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
ইরাকি নিউজ এজেন্সি নিনা’র পোস্ট করা একটি ছবিতে দমকলকর্মীদের আগুন নেভাতে লড়াই করতে দেখা যায় এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া স্থানীয় সাংবাদিকদের ছবিগুলোতে বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলের পুড়ে যাওয়া অংশ দেখা যাচ্ছে।
ইরাকের বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, পুড়ে যাওয়া ভবনে থাকা দাহ্য প্যানেল আগুন আরও ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করে থাকতে পারে। অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের ফলে ইভেন্ট হলের কিছু অংশ ধসে পড়ে, স্বল্পমূল্যের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের ফলে আগুন লাগার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি ধসে পড়ে। ’