শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে চাই, তবে তদন্ত চলবে: ট্রুডো

কানাডার নাগরিক ও সেখানকার খালিস্তানপন্থী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জারের হত্যাকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক টানাপোড়েন চলছে কানাডা ও ভারতের মধ্যে। এ প্রসঙ্গে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, তার দেশ ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও গভীর করতে আগ্রহী, তবে হরদীপ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কানাডিয়ান পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে দেওয়া এক ভাষণে ট্রুডো বলেন, ভারত একটি উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি ও ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর আমরা ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলের সঙ্গে কানাডার কূটনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক নীতি উপস্থাপন করেছি। সেই নীতি অনুসারে দেশের স্বার্থেই ভারতের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক বন্ধন আরও দৃঢ় করতে হবে ও আমরা এ বিষয়ে মনযোগী।

‘তবে কানাডার আইন ও সংবিধানকে লঙ্ঘন করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড আমরা সমর্থন করতে পারি না। যা ঘটেছে, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত আমরা চাই ও এক্ষেত্রে ভারতের উচি কাজ করা প্রয়োজন।’

গত জুনে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া রাজ্যের রাজধানী ভ্যানকুভারে একটি গুরুদুয়ারার (শিখ ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়) সামনে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন খালিস্তানপন্থী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার। ১৯৭৭ সালে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের জলন্ধর জেলা থেকে কানাডা গিয়েছিলেন হরদীপ, পরে তিনি সেখানাকার নারিকত্বও অর্জন করেন।

এদিকে, শিখদের ঘোষিত রাষ্ট্র খালিস্তান কায়েমের জন্য তৎপর দুই রাজনৈতিক গোষ্ঠী খালিস্তান টাইগার ফোর্স এবং শিখস ফর জাস্টিস কানাডা শাখার একজন জ্যেষ্ঠ নেতা হরদীপ ছিলেন ভারতের একজন তালিকাভুক্ত আসামি। হরদীপকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করাতে আগ্রহী ছিল ভারত।

বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতার কারণে খালিস্তান টাইগার ফোর্স ও শিখস ফর জাস্টিস, এ দুই সংগঠনই ভারতে নিষিদ্ধ। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় উভয় সংগঠনই বেশ সক্রিয়।

ভারতের পরেই সবচেয়ে বেশিসংখ্যক শিখ বসবাস করেন কানাডায়। দেশটির মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশই শিখ। গত কয়েক বছরে ভারতের একাধিক আহ্বান সত্ত্বেও খালিস্তান টাইগার ফোর্স ও শিখস ফর জাস্টিসের কর্মকাণ্ডে কখনো বাধা দেয়নি কানাডার সরকার।

এই ইস্যুতে কানাডা বক্তব্য হলো, যেহেতু দেশটির সংবিধানে শান্তিপূর্ণ অহিংস আন্দোলন বৈধ, তাই এক্ষেত্রে কানাডিয়ান সরকারের পক্ষে সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়।

ভারতের সঙ্গে কানাডার সাম্প্রতিক যে দ্বন্দ্ব, তার সূত্রপাত এখান থেকেই। গত ৯-১০ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনেও দুই দেশের শীতল কূটনৈতিক সম্পর্কের আঁচ পাওয়া গিয়েছিল।

সম্মেলন শেষে নয়াদিল্লি থেকে ফেরার এক সপ্তাহ পর, ১৮ সেপ্টেম্বর ১৮ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে ট্রুডো বলেন, তার দেশের গোয়েন্দারা হরদীপ হত্যায় ভারত সরকারের সংশ্লিষ্টতার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পেয়েছেন।

কানাডার জন্য এই ঘটনাটি যে তীব্র অবমাননাকর, তা বোঝাতে গিয়ে পার্লামেন্ট ভাষণে ট্রুডো বলেন, কানাডার মাটিতে একজন কানাডীয় নাগরিককে হত্যার সঙ্গে বিদেশি সরকারের জড়িত থাকার বিষয়টি আমাদের সার্বভৌমত্বের অগ্রহণযোগ্য লঙ্ঘন।

ভারতের সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, স্বাধীন, মুক্ত ও গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা যেভাবে কাজ করে, হরদীপ হত্যা সেই মৌলিক নিয়মনীতির পরিপন্থী।

ট্রুডোর এমন অভিযোগের পরদিনই কানাডায় নিযুক্ত ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (আরএডব্লিউ বা র) কানাডা শাখার প্রধানকে বহিষ্কার করে ট্রুডো সরকার।

অন্যদিকে, শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে বহিষ্কারের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষুব্ধ ভারত পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে পরদিনই দিল্লির কানাডা দূতাবাসের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে ভারত ত্যাগের নির্দেশ দেয়। পর থেকেই নজিরবিহীন টানাপোড়েনে জড়িয়ে পড়েছে কানাডা ও ভারত।

সূত্র: বিবিসি

আমার নির্বাচন আমি করবো, তুমি বলার কে?

নিষেধাজ্ঞা দিয়ে লাভ নেই, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। নিষেধাজ্ঞা ও ভিসানীতির দিয়েও লাভ নেই। ৭১’র নিষেধাজ্ঞা পেয়ে ভয় করলে দেশ স্বাধীন হতো না। আজকেও নিষেধাজ্ঞাকে ভয় করলে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে পারবো না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই নির্বাচন হবে। কোনো ছাড় হবে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৭তম জন্মদিন উপলক্ষে শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, মজার ব্যাপার হচ্ছে— নিষেধাজ্ঞা দেয় ওয়াশিংটন, ভয় দেখায় মির্জা ফখরুল। অদ্ভুত কাণ্ড। আমার নির্বাচন আমি করবো, তুমি বলার কে?

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘জো বাইডেন আজকেও বলেছেন, গণতন্ত্র হুমকির মুখে। ট্রাম্পকে সামলাতে পারে না আর বাংলাদেশেকে ধমক দেয়। ওয়াশিংটন হিলে ৬ জানুয়ারি ৬টি প্রাণ ঝরলো, এ কেমন গণতন্ত্র? আপনাদের দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। এমন দিন নেই, যেদিন যুক্তরাষ্ট্রে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় না। তাহলে আমাদের ভয় দেখান কেন? আবার দালাল লাগিয়েছেন ফখরুলকে।’

বিএনপিকে উদ্দেশ্যে করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তাদের ৪৮ ঘণ্টা শেষ। আলটিমেটাম শেষ। খেলা হবে। ক্যাপ্টেন আমেরিকায়, তিনি এলে জোরদার খেলা হবে। আমাদের নির্বাচন আমাদের সংবিধান নির্ধারণ করবে। আমরা কীভাবে চলবো, আমরাই ঠিক করবো। আমরা তত্ত্বাবধায়ক মানি না। ওটা মরা লাশ। ওটা আমাদের কাছে এনে লাভ নেই। ২০০১ সালে দেখিছি, ফখরুদ্দীন-মঈন উদ্দিনেরটাও দেখেছি। সেই তত্ত্বাবধায়ক চালু করে বাংলাদেশে অস্বাভাবিক সরকার করবেন, সেটা আর হবে না।

মির্জা ফখরুলকে কাদের বলেন, কী করবেন? ৪৮ ঘণ্টা তো চলে গেলো। আন্দোলনে পাবলিক নেই। আন্দোলন আর দফা সবই ভুয়া। এ ভুয়া আন্দোলন এ দেশের মানুষ মানে না। কোনো ছাড় নেই। হুমকি দিয়ে লাভ নেই। বৃহৎ শক্তির হুমকিই শেখ হাসিনা পরোয়া করেন না। আপনারা? কী আশায় বাধি খেলাঘর? এ খেলাঘর ভেঙে সবই হবে বেদনার বালুচর। থাকবে আসল বঙ্গবন্ধুকন্যা।

তিনি বলেন, অনুমতি নেবেন না। আইন মানবেন না। জনগণ যখন ধাওয়া দেবে, কর্ণফুলী গিয়ে পড়বেন। আগুন নিয়ে আসবেন, নাশকতা করবেন? নাশকতার কালো হাত ভেঙে দেবো। মাঠ ছাড়বো না। ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবো।

সংসদ উপনেতা ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাহজাহান খান, কামরুল ইসলাম, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

সভায় প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, শেখ হাসিনা থাকলে বাংলাদেশ নিরাপদে থাকে। শেখ হাসিনা ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকি। দীর্ঘদিন লড়াই সংগ্রাম করেছি, নেত্রী আপসহীন নেতৃত্বের কারণে।

তিনি বলেন, আজকে বিএনপি বার বার দফা দেয়। ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে, অথচ ৫দিন হয়ে গেছে খবর নেই। ১৫ বছরে আন্দোলন করে কিছু করতে পারেনি। আগামী এক মাসে নাকি তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে আসবে।

প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ আফগানিস্তান বা পাকিস্তান না। আফগানিস্তানে বার বার পুতুল সরকার বসানো সম্ভব। পাকিস্তানেও আপনাদের ইচ্ছার প্রতিফলন সম্ভব। এটা বাংলাদেশে সম্ভব নয়। এখানে দেশের জনগণ যেটা চাইবে, সেটাই হবে।

তিনি বলেন, সব দিক থেকে বাংলাদেশ এখন এগিয়ে গেছে। এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবারও সরকার গঠনের জন্য কাজ করতে হবে।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, আমরা লড়াই-সংগ্রাম করে আজ এ পর্যন্ত এসেছি। আওয়ামী লীগ ভিসানীতি পরোয়া করে না। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। আর সেই নির্বাচন যদি কেউ বাধাগ্রস্ত করতে আসে, তাদের আমরা রাজপথে প্রতিহত করবো। আমরা শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে আপসহীন।

এসময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ভিসানীতিসহ সব অসম্মানের জন্য দায়ী বিএনপি: হানিফ

বাংলাদেশের ওপর বিদেশি রাষ্ট্রের ভিসানীতি ও স্যাংশনসসহ সব অসম্মানের জন্য বিএনপি দায়ী বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।

শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৭তম জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি করেন।

হানিফ বলেন, লবিস্ট নিয়োগ করে বিএনপি র‌্যাবের ওপর স্যাংশনস দেওয়ার জন্য কাজ করেছিল। ভিসানীতিসহ বাংলাদেশের সব অসম্মানের জন্য বিএনপি দায়ী। এমনকি বাংলাদেশকে ধ্বংস করার জন্য তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

তিনি বিএনপি মহাসচিব মিজা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভিসানীতি সম্পর্কে বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, ফখরুল সাহেব বললেন মার্কিন ভিসানীতির কারণে বাংলাদেশের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরাও সেটা বলেছি। একটা স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের জন্য ভিসানীতি অসম্মানজনক। কিন্তু তিনি কি ভুলে গেছেন, তাদের নেতা খালেদা জিয়া ২০১২ সালে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিলের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে চিঠি লিখেছিলেন।

হানিফ বলেন, ৭৫-এর হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ঘাতকেরা মনে করেছিল স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে নিশ্চিত করতে পারবে। কিন্তু সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে শেখ হাসিনার জন্য। তিনি ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার রক্ষার লড়াই শুরু করেন। সেজন্য বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল।

নির্বাচনে বাধা দিতে এলে বিএনপি-জামায়াতকে রাজপথে মোকাবিলার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে এই নেতা বলেন, আমরা লড়াই-সংগ্রাম করে আজ এ পর্যন্ত এসেছি। ভিসানীতি নিয়ে আওয়ামী লীগ কোনো পরোয়া করে না। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। আর সেই নির্বাচন যদি কেউ বাধাগ্রস্ত করতে আসে, তাদের আমরা রাজপথে প্রতিহত করবো। আমরা শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে আপসহীন।

সংসদ উপনেতা ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাহজাহান খান, কামরুল ইসলাম, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, ইঞ্জি. মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি।

এছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সাকিববিহীন বাংলাদেশের দাপুটে জয়

একদিকে মাঠের পারফরম্যান্সে সাম্প্রতিক সময়টা ভালো কাটেনি বাংলাদেশের। অন্যদিকে, দুই সিনিয়র ক্রিকেটারের দ্বন্দ্বে টালমাটাল অবস্থা। আগে থেকেই বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নেই তামিম ইকবাল, চোটের কারণে প্রস্তুতি ম্যাচে নামা হলো না সাকিব আল হাসানেরও। দুজনের অনুপস্থিতিতে টাইগারদের সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় ওপেনিংয়ে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত পাওয়া। লিটন দাস ও তরুণ তানজিদ হাসান তামিমই যে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছেন। এরপর মেহেদী মিরাজ ও মুশফিকুর রহিমরা বাকি কাজ সেরেছেন, ফলে বাংলাদেশ ৭ উইকেটের দাপুটে এক জয় পেয়েছে।

সর্বশেষ এশিয়া কাপে দুবারের মুখোমুখি দেখায় লঙ্কানদের হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শেষবারের মতো ঝালিয়ে নিতে এসে কাঙ্ক্ষিত জয় তুলে নিয়েছে। সাকিববিহীন ম্যাচে অধিনায়কত্ব পাওয়া মিরাজ আজ ব্যাটে-বলে দারুণ অবদান রেখেছেন। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের (৩২/১) পর ব্যাট হাতেও পেয়েছেন ব্যক্তিগত অর্ধশতক। তার আগে প্রতিভা দেখিয়ে জাতীয় দলে ডাক পাওয়া তানজিদ তামিম ম্যাচটিতে সেঞ্চুরির আশাও জাগিয়েছিলেন। একইসঙ্গে রানে ফিরেছেন আরেক ওপেনার লিটন দাস। তিনিও দীর্ঘ সময় পর ফিফটি পেয়েছেন, যা মূল ম্যাচের আগে অনেকটা ফুরফুরে রাখবে বাংলাদেশকে।

ভারতের গুয়াহাটিতে লঙ্কানদের দেওয়া ২৬৪ রানের জবাবে শুরু থেকেই দারুণ বোঝাপড়া দেখিয়েছেন লিটন-তামিম। দুজনের ওপেনিং কেমন করবে, সর্বত্র যখন এই আলোচনা চলছিল তখন তারা জবাবটা দিলেন মাঠে। যা বিশ্বকাপের মতো মূল আয়োজনেও নিশ্চয়ই তারা ধরে রাখতে চাইবেন। কাসুন রাজিথা ও মাথিশা পাথিরানাদের এশিয়া কাপে খেলতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল টাইগার ব্যাটারদের। তাদের সঙ্গে লাহিরু ‍কুমারা ও দিলশান মাদুশাঙ্কা যোগ দিলেও লিটন-তামিমদের ভড়কে দিতে পারেননি।

প্রথম পাওয়ার-প্লের ১০ ওভারে এই ওপেনিং জুটি ৫৪ রান এনে দেয়। লঙ্কান পেসারদের একের পর এক সীমানাছাড়া করে সেটি টিকে থাকে দলীয় ১৩১ রান পর্যন্ত। এরপর স্পিনার দুশান হেমন্থের বলে লেগে উড়িয়ে মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন লিটন। ব্যাট হাতে সাম্প্রতি সময়ে নড়বড়ে দেখানো এই ক্রিকেটার এদিন প্রায় সবদিকে বাউন্ডারি খেলেছেন, ১০ চারের মারে করেছেন ৬১ রান।

ওপেনারদের ব্যাটে বাংলাদেশের দারুণ শুরু

অন্যদিকে, তামিম ইকবালের অনুপস্থিতিতে তার মতোই ক্ল্যাসিকাল সব শট খেলেছেন তাকে আইডল মানা তানজিদ তামিম। জাতীয় দলে প্রথমবারের মতো নিজের আত্মবিশ্বাস অর্জনের ম্যাচে তিনি থেমেছেন ৮৪ রানে। ৮৮ বলের ইনিংসটি তিনি ১০টি চার ও দুটি ছক্কায় সাজিয়েছেন। লিটনের বিদায়ের পর এদিন ওয়ানডাউনে নেমে যান অধিনায়ক মিরাজ। অবশ্য তার প্রতিদানও দিয়েছেন তিনি। মুশফিকের সঙ্গে ৭৬ রানের জুটিতে তিনি দলের জয় নিশ্চিত করেছেন। এদিন কেবল রান পাননি তরুণ ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়। প্রথম বলেই রাউন্ড দ্য উইকেটে অনেক দূর এগিয়ে গিয়ে তিনি আউট হয়েছেন।
ম্যাচে নামার আগে তামিমের বাদ পড়া নিয়ে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে হাসান মাহমুদ বলেছিলেন, ‘দলের বাইরে কী ঘটছে না ঘটছে, সেটা নিয়ে আমরা ভাবি না। ভালো পারফরম্যান্সের জন্য আমরা রুটিন মেনে অনুশীলন করি যেন নিজেদের সেরাটা দিতে পারি। ব্যক্তিগতভাবে আমি (তামিমের বাদ পড়া) এটা নিয়ে বেশি ভাবি না, কারণ, আমি এখানে নিজের ভূমিকা পালন করতে এসেছি।’

সেটাই প্রমাণের যেন সর্বোচ্চ চেষ্টা ছিল ক্রিকেটারদের নিবেদনে। বোলিংয়ের পর ব্যাটেও মিরাজকেও প্রবল আত্মবিশ্বাসী দেখা গেছে লঙ্কানদের বিপক্ষে। ৫টি চার ও দুটি চারে তিনি ৬৭ রানের (৬৪ বল) ইনিংস খেলেছেন। আরেক অপরাজিত ব্যাটার মুশফিক করেছেন ৩৫ রান (৪৩ বল)। ফলে বাংলাদেশ ৮ ওভার হাতে রেখেই ৭ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে।

এর আগে আজ (শুক্রবার) দুপুর আড়াইটায় গুয়াহাটিতে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে শ্রীলঙ্কা। শুরু থেকেই লঙ্কান ব্যাটাররা টাইগার বোলারদের ওপর বেশ চড়ি ঘুরিয়েছেন। ফলে মাত্র ১৪ ওভারেই তারা দলীয় একশ রানের সংগ্রহ পেয়ে যায়। রানের গতি দেখে মনে হয়েছিল, অনায়াসে-ই তিনশ পার করবে দাসুন শানাকার দল।

এদিন বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে খরুচে ছিলেন পেসার হাসান মাহমুদ। তিনি আক্রমণে আসলেই যেন বাউন্ডারির নেশা পেয়ে বসত লঙ্কান ব্যাটারদের। লঙ্কান ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা ও কুশল পেরেরা ৯.১ ওভারেই ৬৪ রান তোলেন। এরপর হাতের পেশীতে অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়েন পেরেরা। তার আগে আক্রমণাত্মক মেজাজে এই বাঁ-হাতি ব্যাটার করেন ৩৪ রান (২৪ বল)। এরপর ক্রিজে আসা কুশল মেন্ডিসের সঙ্গে ওপেনার নিশাঙ্কা জুটি গড়েন ৪০ রানের। মেন্ডিসকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম উইকেটের সূচনা করেন নাসুম আহমেদ। নাজমুল হোসেন শান্ত’র হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে এই ডানহাতি ব্যাটার ২০ রান করেন।

অন্যপ্রান্তে থাকা ইনফর্ম ব্যাটার নিশাঙ্কা ব্যক্তিগত অর্ধশতক তুলে নেন এরই মধ্যে। শেখ মেহেদীর বলে তারই হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে তার ব্যাটে আসে ৬৮ রান (৬৪ বল)। তার আউটের পরই নিয়মিত বিরতিতে আরও দুই উইকেট হারায় লঙ্কানরা। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ ধারাবাহিক সাদিরা সামারাবিক্রমা এদিন মাত্র ২ রানেই ফিরেন, তিনি মেহেদীর শিকার। টাইগার এই স্পিনারের বলে এরপর চারিথ আসালাঙ্কাও ফেরেন ১৪ রানে। ফলে তাদের রানের চাকা ধীরগতির হয়ে পড়ে।

সাকিবের অনুপস্থিতিতে ম্যাচে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। পুরো ম্যাচজুড়ে তার বলে অস্বস্তিতে ছিলেন লঙ্কান ব্যাটাররা। যে কারণে চাপে পড়ে তাদের উইকেট পড়েছে নিয়মিত বিরতিতে। সর্বশেষ এশিয়া কাপেও রানখরায় ভোগা লঙ্কান অধিনায়ক শানাকা এদিন মাত্র ৩ রানে শরীফুলের বলে ক্যাচ আউট হয়েছেন। এরপর ইনিংস বড় করার চেষ্টা চালান ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ও দিমুথ করুণারত্নে। করুণারত্নে (১৮ রান) আউট হতেই ২১৮ রানে ৬ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা।

এরপর ডি সিলভার অর্ধশতকের সুবাদে আড়াইশ রান পেরোয় তারা। মাঝে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ দুটি রান-আউটে বড় অবদান রাখেন। করুণারত্নকে তিনি আউট করেন সরাসরি থ্রোতে স্টাম্প ভেঙে দিয়ে। এরপর আর কোনো লঙ্কান ব্যাটার বলার মতো রান পাননি। পেরেরা আগেই রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়ায় ৪৯.১ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস।

বাংলাদেশের হয়ে ৯ ওভারে ৩৪ রানে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন শেখ মেহেদী। সবচেয়ে সাশ্রয়ী বোলিং করা মিরাজ ১০ ওভারে ৩২ রানে নেন এক উইকেট। এছাড়া শরীফুল, নাসুম ও তানজিম সাকিব একটি করে শিকার করেছেন।

বাঁধনের ‘খুফিয়া’ সিনেমায় শাহরুখ

প্রথমবারের মতো বলিউডে কাজ করেছেন বাংলাদেশি অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ‘খুফিয়া’ নামের একটি সিনেমায় ভারতীয় জনপ্রিয় অভিনেত্রী টাবুর সঙ্গে স্ক্রিনশেয়ার করেছেন তিনি।

এবার জানা গেল, ওই সিমেনায় ‘ইনডিরেক্ট ক্যামিও’ চরিত্রে দেখা যাবে বলিউড বাদশা শাহরুখ খানকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্মাতা বিশাল ভরদ্বাজ।

নিউজ১৮-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘‘আমরা একসঙ্গে কাজ করার জন্য দীর্ঘ দিন ধরে চেষ্টা করছি। এমনকি ‘জওয়ান’ সিনেমার পরও আমাদের মাঝে দীর্ঘ সময় আলোচনা হয়েছে। ভক্তরা যখন আমাদের একসঙ্গে দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন, তখন সুপারস্টারকে (শাহরুখ) ‘খুফিয়া’ সিনেমায় ‘ইনডিরেক্ট ক্যামিও’ চরিত্রে দেখতে পাবেন।’’

শাহরুখকে নিয়ে নতুন সিনেমা নির্মাণের বিষয়ে বিশাল ভরদ্বাজ বলেন, ‘খুফিয়া সিনেমায় ক্যামিও তো হয়ে গেছে। কিন্তু আমরা এখন একসঙ্গে একটি সিনেমা নির্মাণের আশা করছি। আমার মন বলছে, এটি হবে। এমনকি শাহরুখ খানও বলেছেন, হয়তো এটি হবে।’

আগামী ৫ অক্টোবর ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাবে ‘খুফিয়া’। মুক্তিকে সামনে রেখে গত ১৮ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটির ট্রেইলার। ২ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ট্রেইলারের ভাঁজে ভাঁজে রহস্য, অ্যাকশন এবং রোমান্স। পুরো ট্রেইলার জুড়ে টাবুর উপস্থিতি নজর কেড়েছে। মাঝামাঝি সময়ে পর্দায় বাঁধনের আগমন, শেষভাগে তার ঝলক কৌতূহল তৈরি করে দর্শক মনে।

গুপ্তচরবৃত্তি নিয়ে অমর ভূষণের বিখ্যাত উপন্যাস ‘এস্কেপ টু নো হোয়্যার’। এই উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। এতে বাংলাদেশি একজন মেয়ের চরিত্রে আজমেরি হক বাঁধন অভিনয় করেছেন।

টাবু ও বাঁধন বাদেও সিনেমাটির বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন— আশিষ বিদ্যার্থী, আলি ফজল, ওয়ামিকা গাব্বি প্রমুখ।

ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৭৯৩

দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু ৯৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৭৯৩ জন।
আজ শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ মো. জাহিদুল ইসলামের সই করা ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে ২০২২ সালে ডেঙ্গুতে ২৮১ জন মারা যান। ওই বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে ডেঙ্গুতে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে আলোচ্য বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৬২ হাজার ৩৮২ জন।
২০২০ সালে করোনা মহামারিকালে ডেঙ্গু সংক্রমণ তেমন একটা দেখা না গেলেও ২০২১ সালে সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। একই বছর দেশব্যাপী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

৩১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে মোংলায় ভিড়েছে জাহাজ

রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ৩১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন নিয়ে মোংলা বন্দরে ভিড়েছে এমভি বসুন্ধরা ম্যাজিস্ট্রি নামে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ।
আজ শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে মোংলা বন্দরের হাড়বাড়িয়ায় নোঙর করে ওই বাণিজ্যিক জাহাজটি। ইতোমধ্যে জাহাজের কয়লা খালাস শুরু হয়েছে।

ওই জাহাজের শিপিং এজেন্ট সের্সাস টগি শিপিং অ্যান্ড লজিষ্টিক লিমিটেডের ব্যবস্থাপক খন্দকার রিয়াজুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ৯ সেপ্টেম্বর ৫১ হাজার মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে ছেড়ে আসে জাহাজটি। এর পর চট্রগ্রাম বন্দরে ১৯ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন খালাস করে। বাকি ৩১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে আজ মোংলা বন্দরে পৌছায় জাহাজটি। হারবাড়িয়া এলাকায় অবস্থান রেখে জাহাজ থেকে কয়লা খালাস করে লাইটার যোগে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছানো হবে।
এদিকে এর আগে রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আমদানী করা ৩১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর মোংলা বন্দরে এসেছিল এমভি বসুন্ধরা ইমপ্রেস নামক একটি বাণিজ্যিক জাহাজ। তার আগে ১০ সেপ্টেম্বর রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ৫৩ হাজার ৬৩০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে এমভি জুয়েল অফ শোয়ার নামক একটি জাহাজ মোংলা বন্দরে আসে।

বিয়ে করছেন পূজা হেগড়ে

বলিউডে বাজছে একের পর এক বিয়ের সানাই। এবার সামনে আসল আরেক বলিউড অভিনেত্রী বিয়ের খবর। তিনি হলেন সালমান খানের নায়িকা পূজা হেগড়ে। শোনা গিয়েছিল ‘কিসি কা ভাই কিসি কা জান’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় ভাইজানের সঙ্গে প্রেম করছিলেন পূজা। তখন সালমান বা পূজা কেউ কোনো কথা বলেনি এই খবরে।
এতে অনেকেই ধরে নিয়েছিল প্রেমের গুঞ্জন সত্য। কিন্তু গুঞ্জনে জল ঢেলে দিলো পূজার বিয়ের খবর। নাহ! সালমান খান নয়, পূজা বিয়ে করতে যাচ্ছেন মুম্বাইয়ের এক ক্রিকেটারকে। শোনা যাচ্ছে, এই ক্রিকেটারের সঙ্গে বেশ কয়েক দিন ধরে মেলামেশা করছেন পূজা। তারসঙ্গে নাকি সবকিছু পাকাপাকি হয়ে আছে। বাকি শুধু বিয়ের পিড়িতে বসার। বিয়ে বা প্রেম কোন বিষয়েই এখন মুখ খুলছেন না অভিনেত্রী।
কে এই ক্রিকেটার? তা এখনো জানা যায়নি। অভিনেত্রীও প্রকাশ করেননি তার নাম। তবে বিভিন্ন সূত্র বলছে ভারতের জাতীয় দলের এক ক্রিকেটারের নাম। তিনি হলেন ভারতের টপ অর্ডার ব্যাটার শ্রেয়াস আইয়ার। এই সুত্র সঠিক কিনা তাও বলতে নারাজ অভিনেত্রী। তবে খুব শিগগিরই জীবনসঙ্গীর নাম প্রকাশ করবেন বলে জানান পূজা হেগড়ে।
সিনেমার ক্যারিয়ারে এখনো পর্যন্ত খুব একটা সফল নন পূজা। হৃতিকের সঙ্গে ‘মহেঞ্জোদারো’ দিয়ে বলিউডে পা রাখেন পূজা। এর পর ‘রাধে শ্য়াম’, ‘সার্কাস’, ‘বিস্ট’-এর মতো চলচ্চিত্রে দেখা গেছে অভিনেত্রীকে। দক্ষিণের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী বর্তমানে বলিউডেও নিয়মিত কাজ করছেন।
খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া

ক্ষণে ক্ষণে বিদেশিদের কাছে গিয়ে লাভ নেই : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত বিদেশিদের কাছ থেকে সাহায্য চাচ্ছে। বিদেশিরা তাদের বাতাস দিচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত হলো ছাগলের ৩ নম্বর বাচ্চা। ফখরুল সাহেব লাফায়, আমীর খসরু লাফায়। সঙ্গে শ্যামা ওবায়েদ, নিপুণ রায়ও লাফায়। আপনারা লাফাতেই থাকেন। নির্বাচন যথাসময়ে হবে। সেই নির্বাচনে আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে।
তিনি বলেন, কেউ কোলে করে আপনাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে না। ক্ষণে ক্ষণে বিদেশিদের কাছে গিয়ে লাভ নেই। আপনাদের কোলে বসিয়ে ফিডার খাইয়ে ক্ষমতায় বসতে দেওয়া হবে না। জনগণ তা হতে দেবে না। আওয়ামী লীগ তা হতে দেবে না।

আজ শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৭তম জন্মদিন উপলক্ষে কৃষক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আগামী নির্বাচন নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচনে আপনারা এলেও ভালো না এলেও ভালো। আপনারা ভেবেছেন ২০১৪ সালে নির্বাচন বর্জন করেছেন, আওয়ামী লীগ টিকতে পারবে না। কিন্ত আমরা পাঁচ বছর থেকেছি। ২০১৮ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছি। এই নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে।
হাছান মাহমুদ বলেন, শেখ হাসিনা কখনো ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেননি, তাহলে তিনি ১৯৮২ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন। শুধু শেখ হাসিনা নন, বঙ্গবন্ধুরও কখনো ক্ষমতার লোভ ছিল না। গণঅভ্যুত্থানের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অফার তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন।
দেশের উন্নতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশ এখন স্বল্পোন্নত হয়েছে, দারিদ্র্য কমেছে, ২০০৯ সালে বিশ্বে ৬০তম অর্থনীতির দেশ ছিল, আজ ৩১তম। বাংলাদেশ ২৫টি দেশ পেছনে ফেলে এসেছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে ভারত সরকার, জাতিসংঘ মহাসচিব প্রশংসা করেছেন।

বাংলাদেশ কৃষকলীগের সভাপতি সমীর চন্দ্রের সভাপতিত্বে ও কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলিসহ প্রমুখ।

শেখ হাসিনার রাষ্ট্র পরিচালনার যে দক্ষতা, বিএনপির কোনো নেতার নেই : শেখ পরশ

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি ফজলে শামস্ পরশ বলেছেন, শেখ হাসিনার যেই রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতা রয়েছে সেটা নিশ্চয়ই বিএনপির কোনো নেতার নেই। বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব ও সংকটের গভীরতার সঙ্গে বিএনপি কোন নেতারা ওয়াকিবহাল না। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল পাঁচটি অর্থনীতির মধ্যে অন্যতম।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি জ্ঞানভিত্তিক স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তিত করবে এবং এসব কাজে সুফল একমাত্র শেখ হাসিনার সাহসী দক্ষ নেতৃত্বই সম্পন্ন করতে পারবে। অতএব, বিএনপি নেতাদের বলব, ক্ষমতায় যাওয়ার লিপ্সা পরিহার করেন এবং যোগ্যতা বাড়ান। প্রতিযোগিতায় আসেন। ভোটে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। যোগ্যতার মাপকাঠিতে শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়ানোর দক্ষতা অর্জন করুন। নিশ্চয়ই অনুকম্পা করে, বা সমঝোতা করে আপনাদের গদিতে বসানো হবে না। বিদেশিদের কাছে নালিশের রাজনীতি করে কোনো লাভ হবে না, বরং নিজেদের যোগ্যতা বাড়ান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৭তম জন্মদিন উপলক্ষে যুবলীগের উদ্যোগে আজ শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায়, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, সভাপতিম-লীর সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, উপ-উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সঞ্চালনা করেন আলহাজ মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ।
শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেন, একাধিক দুর্লভ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী আমাদের নেত্রী তাঁর অন্যতম হল, পিতার প্রতি বিরল ভালবাসার উদাহরণ স্থাপন করা। এই রকম একজন মানবিক এবং সংবেদনশীল ব্যক্তি, যে সারা জীবন দেখেছে তাঁর পিতাকে এদেশের মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করতে, যে শিশু বয়সে নিজে পিতৃ¯েœহ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সেই মানুষটির ১৫ আগস্টের শোক বহন করতে হয় আজীবন ধরে। বঙ্গবন্ধু পরিবার রক্ত দিয়ে ১৫ আগস্টে যে মূল্য দিয়েছে তাতে আজীবন জাতি বঙ্গবন্ধুকন্যার প্রতি ঋণী থাকবে। ১৫ আগস্টের অভিজ্ঞতা থেকে ফিরে এসে এদেশের মানুষের প্রতি আমাদের নেত্রীর যেই ভালবাসা দেখিয়েছেন, তা তাঁর উদারতা আর মহত্বের প্রমাণ বহন করে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা জন্ম না নিলে আমরা গণতন্ত্র পেতাম না, সামাজিক ন্যায় বিচার পেতাম না, অর্থনৈতিক মুক্তি পেতাম না, ভোট ও ভাতের অধিকার পেতাম না, একটা মর্যাদাশীল দেশও পেতাম না এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হত না। আমরা এখন গর্ব করে বলি যে এ দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রায় ৪০ বিলিয়ন টাকা বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন, বাঙালি জাতি পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন আমাদের নেত্রী, শেখ হাসিনা। তিনি বাংলাদেশকে মর্যাদাশীল আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা এখন কেবল কথার ফুলঝুরি না, বাস্তবতা। তাঁর দক্ষতার কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শুধু জাতীয় নেতাই নন, তিনি আজ তৃতীয় বিশ্বের একজন বিচক্ষণ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছেন। অসাম্প্রদায়িকতা, উদার প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক বিজ্ঞানমনস্ক জীবনদৃষ্টি তাকে করে তুলেছে এক আধুনিক এবং অগ্রসর রাষ্ট্রনায়ক।

যুবলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ফজলে শামস্ পরশ বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা এমন এক নেত্রীকে অনুসরণ করি যিনি আজীবন ধরে এ দেশের মানুষের জন্য ত্যাগ-তিতিক্ষা করে যাচ্ছেন। আমাদের প্রজন্মকে তাঁর কাছ থেকে ত্যাগের দীক্ষা নিতে হবে। আমি আশঅর করি এদেশের যুবসমাজ জননেত্রীর দেখানো পথ অনুসরণ করে জনগণের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে সর্বদা সোচ্চার থাকবে এবং প্রয়োজনে প্রতিবাদী থাকবে। একই সাথে সমসাময়িক ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা নিজেদের দক্ষ যুবশক্তি হিসাবে গড়ে তোলার ব্যাপারে মনোনিবেশ করবো। একটা রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংগঠন হিসাবে একটা মর্যাদাশীল বাংলাদেশের স্বপ্ন যুবলীগের লাখ লাখ নেতা-কর্মীদের প্রাণের স্পন্দনে পরিণত হয়েছে। সেই স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে আজকের যুবলীগ ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি জ্ঞানভিত্তিক উন্নত দেশে রূপান্তরিত করার সংগ্রামে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে অবর্তীণ হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম বলেন, বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীরা কাদের ভয় দেখায়। ওদের কি কোন আক্কেল নাই। বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করার জন্য যুবলীগই যথেষ্ঠ। যুবলীগকে দেখলে ভয়ে শয়তানও পালিয়ে যায়, আবার আপনাদের মত শয়তানরা এক দফার ভয় দেখান। তিনি বলেন, ’৭৫-এর খুনি ও ২১ আগস্টের খুনিরা সব এক। জিয়াউর রহমান ২১ বার সেনাবাহিনীতে ক্যু করেছেন। এই দলটি খুনির দল। বঙ্গবন্ধু ও জেলখানায় জাতীয় ৪ নেতার হত্যার মুল পরিকল্পনাকারী জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্র হলো বিএনপি-জামাতের মুল লক্ষ্য। তারা জানে ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তারা ভোট ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। দেশকে বাঁচাতে হলে শেখ হাসিনাকে আবারও হক্ষমতায় আসতে হবে।
সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে পরিণত হয়েছে। কিভাবে মানুষের অধিকার আদায় করতে হয় সেই দীক্ষা শেখ হাসিনা দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার প্রতিষ্ঠিত অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশকে স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিরা ধ্বংস করতে চায়। ’৭৫-এর ঘাতকচক্র ও ২০০৪ সালের খুনিরা এক ও অভিন্ন। শেখ হাসিনা আমাদের প্রেরণার উৎস, আমাদের বাতিঘর। সেই ঘাতক চক্র আবারও, ষড়যন্ত্র করছে দেশের বিরুদ্ধে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে, বাংলাদেশকে পাকিস্তানী করার ষড়যন্ত্র করছে। এই ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে আমরা দেশ ছেড়ে দিতে পারি না। দেশকে যারা ধ্বংস করতে চায় তাদের সাথে বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা, শেখ হাসিনার সৈনিকেরা বসতে পারে না। এই ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তাদেরকে রাজপথে প্রতিহত করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্খার প্রতীক, বাংলাদেশের মর্যাদাকে যিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুপরিচিত করেছেন, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৭তম জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানায়। তিনি যুবলীগের উদ্দেশ্যে বলেন, সামনে যে নির্বাচন, এই নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের উন্নয়নমূলক কাজ ও তথ্য বহুল চিত্র যদি তুলে ধরতে পারেন তাহলে মানুষের মনোজগতে বড় ধরণের পরিবর্তন নিয়ে আসা যাবে। স্লোগানের পাশাপাশি বিপ্লবী পরিবর্তনের পাশাপাশি, তথ্য বহুল বক্তব্যই হবে আমাদের আগামী দিনের হাতিয়ার।

সঞ্চালকের বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. মাইনুল হোষেন খান নিখিল বলেন, আমরা স্মরণ করে দিতে চাই জাতিকে, স্মরণ করে দিতে চাই, যুবসমাজকে স্মরণ করে দিতে চাই বিদেশি শক্তি ও প্রভুদের যারা বাংলাদেশকে নিয়ে নাড়া-চারা করছেন। বাংলাদেশকে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের কথা বলে আপনারা জাতিকে বিভ্রান্ত করছেন। গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের নামে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে যারা ভূলুণ্ঠিত করলো, পদদলিত করলো সেই বিএনপি-জামাতকে আপনারা বাংলার মানুষের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। আপনাদের ও জাতির উদ্দেশ্যে বলেত চাই-১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এদেশে প্রথম গণতন্ত্রকে হত্যা ও মানবাধিকারকে লঙ্ঘন করেছে জিয়াউর রহমান। হ্যাঁ না ভোটের মাধ্যমে জাতির ভোটের অধিকার কেরে নিয়েছিল বিয়াউর রহমান। আপনাদের চোখ সে দিকে পাড়ে না। জিয়াউর রহমান কার্ফু জারি করে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা ও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাকে রাতে আধারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে। জামাতকে রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়ার জন্যই জিয়াউর রহমান বহু দলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। তিনি যুবলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা বিএনপি-জামাতকে আর জনগণের ওপর অত্যাচার করার সুযোগ দিতে পারি না। পেট্রোল বোমা মারার সুযোগ দিতে পারি না। কারণ দেশ এগিয়ে গেছে, এই দেশের অগ্রগতিকে দাবিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র যুবসমাজ মানতে পারে না।
আর ও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন বাবুল, দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইন উদ্দিন রানা, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন, দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এইচ এম রেজাউল করিম রেজা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. খালেদ শওকত আলী, মো. এনামুল হক খান, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার মৃনাল কান্তি জোদ্দার, তাজউদ্দিন আহমেদ, মো. জসিম মাতুব্বর, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল, মো. রফিকুল আলম জোয়ার্দার সৈকত, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুর রহমান সোহাগ, মোঃ জহির উদ্দিন খসরু, মশিউর রহমান চপল, প্রফেসর ড. মো. রেজাউল কবির, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, দপ্তর সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. জহুরুল ইসলাম মিল্টন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক কাজী সারোয়ার হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. সাদ্দাম হোসেন পাভেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিপ্লব মুস্তাফিজ, ধর্ম সম্পাদক মাওলানা মো. খলিলুর রহমান সরদার, উপ-দপ্তর সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন শাহজাদা, উপ-তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক এন আই আহমেদ সৈকত, উপ-স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সম্পাদক ডা. মাহফুজার রহমান উজ্জ্বল, উপ-ক্রীড়া সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান, উপ-মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. মো. গোলাম কিবরিয়া শামীম, উপ-ধর্ম সম্পাদক হরে কৃষ্ণ বৈদসহ কেন্দ্রীয় মহানগর ও বিভিন্ন ওয়ার্ড যুবলীগের নেতারা।