শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬

কিছু মানুষ ছাদে পানি জমিয়ে রাখছে, বললে রিয়েক্ট করে : তাজুল ইসলাম

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘কিছু-কিছু মানুষ দেখা গেছে ছাদে পানি জমিয়ে রাখছে এবং সেখানে এডিস মশাল লার্ভা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু তারা নিজেরা পরিষ্কার করে না এবং বললে তারা রিয়েক্ট করে। কিছু কিছু বাড়িতে তারা বলে যে, আপনারা লার্ভা এনে রেখে দিয়েছেন। এরপর আমাদের জরিমানা করছেন– এরকম কিছু বিষয়ে আছে। তবে এদের সংখ্যা খুবই কম, এগুলো আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু হিসেবে আসে।’

রোববার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক জাতীয় কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘তবে বেশিরভাগ লোক কো-অপারেশন করে। কারণ মানুষ নিজেই তো আক্রান্ত হবে, সে নিজেই তো মারা যাবে। তো আমি মনে করি, এ ব্যাপারে আমাদের আর যে সমস্ত অপশন আছে অংশগ্রহণ করার জন্য, সেগুলোর সবগুলোই আমাদের কাজে লাগাতে হবে। আর আমরা আজ এখানে বসে কিছু আলোচনা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষরা অনেক সচেতন হয়েছে। আজ কলম্বিয়াতে ১১ লাখ লোক আক্রান্ত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে। আমাদের দেশে আমরা যদি সচেতন করতে না পারতাম, মানুষ যদি অংশগ্রহণ না করত, তাহলে এখানে অবস্থাটা আরও ভয়াবহ হতো। মানুষ অংশগ্রহণ করেছে এবং আমাদের পক্ষ থেকেও প্রচেষ্টা আছে। এখন পর্যন্ত আমরা যে ৭০টি সভা করেছি, সেখানে আমাদের কোথায় কোন ঘাটতি আছে– এটা খুব বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। তবে যেটা হচ্ছে, সেটা আমরা কাজে লাগাচ্ছি।’

কিছু এলাকার মানুষ কখনো মশা মারার মেশিন কখনো দেখেছে বলেও মনে হয় না– এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, ‘নির্ধারিত নামগুলো আমাদের দেন। অবশ্যই আমরা আমলে নেব।’

শেখ হাসিনা যেখানে আছেন সেখানে পেশিশক্তি টিকবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, পশ্চিমা শক্তি কত রকমের সবক দিচ্ছে, নিজেদের দেশে কি করছেন তার খবর নেই। আমাদের সবক দিয়ে লাভ নেই।
যেখানে শেখ হাসিনা আছে সেখানে কোন পেশিশক্তি টিকবে না।

দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা, সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন ও শান্তির ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয়ে ফেনীর ছাগলনাইয়ায় ১৪ দলের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা এই বাংলার অপরাজেয় শক্তি। তাকে কোন অপশক্তি দমাতে পারবে না। ১৪ দলের সকলে মিলে দেশবিরোধী শক্তিকে প্রতিহত করবে।
তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। বিএনপি কি ভুলে গিয়েছেন? দেড় কোটি ভুয়া ভোটার বানিয়ে আপনারা নির্বাচিত হতে চেয়েছেন। যারা ভোটকে ভয় পায় তারাই দেশে-বিদেশে ঘুরে ষড়যন্ত্র করেছে। আজ আলোকিত বাংলাদেশ থেকে আমরা আর অন্ধকারে যেতে চাই না৷
খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে হলে আইনের পক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, এটা ছাড়া বিকল্প কোন পথ খোলা নেই।
আজ রোববার (১ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার শহীদ মিনার চত্ত্বরে আয়োজিত জনসভায়, অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি, ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি, চট্টগ্রাম মহানগর ১৪ দলের সমন্বয়ক খোরশেদ আলম সুজন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, বাসদ সভাপতি রেজাউর রশীদ, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য কামরুল আহসান।

এতে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার।

‘খালেদা জিয়ার বিষয়ে সর্বোচ্চ উদারতা দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ উদারতা দেখিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
রোববার (১ অক্টোবর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ে ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের যৌথসভা শেষে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা খালেদা জিয়ার বিষয়ে সংবেদনশীল। তিনি (শেখ হাসিনা) খালেদা জিয়ার বিষয়ে সর্বোচ্চ উদারতা দেখিয়েছেন। তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।’
ভয়েস অব আমেরিকায় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সাক্ষাৎকারে খালেদার চিকিৎসার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী যে কথা বলেছেন তাতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে।’
বিএনপি প্রধানের চিকিৎসার বিষয়ে প্রচলিত আইনে সরকারের কিছু করার নেই জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আইন অনুযায়ী আদালতের দ্বারস্থ হয়ে নির্দেশে মেনে তাকে চিকিৎসা করাতে হবে।’
রাজনীতির মাঠে বিএনপিকে মোকাবিলায় নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘রাজনীতিতে কঠিন এক চ্যালেঞ্জে আছি। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই যৌথসভার আয়োজন।’

সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছে ১৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ডলার

সদ্য বিদায়ী সেপ্টেম্বর মাসে প্রবাসী আয় এসেছে ১৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় (এক টাকা সমান ১০৯.৫০ টাকা ধরে) এর পরিমাণ ১৪ হাজার ৭১২ কোটি টাকা। এটি গত ৪১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়।
এর আগে ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে এসেছিল ১০৯ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এরপর সেপ্টেম্বরের আগে আর কোনো মাসে এত কম রেমিট্যান্স আসেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, বিদায়ী সেপ্টেম্বর মাসের পুরো সময়ে ১৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার এসেছে, যা গত বছরের একই মাস (সেপ্টেম্বর) থেকে ১৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার কম। গত বছরের সেপ্টেম্বরে এসেছিল ১৫৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার।
এর মধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১১ কোটি ৮৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের মধ্যে এক ব্যাংকে এসেছে ৩ কোটি ৫১ লাখ ডলার। বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১১৮ কোটি ৪৮ লাখ ৪০ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৫০ লাখ ৬০ হাজার ডলার।
তবে আলোচিত সময়ে সাত ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। এসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)। বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, সিটিজেন্স ব্যাংক, বিদেশি খাতের হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।
এর আগে গত জুলাই মাসে ১৯৭ কোটি ৩০ লাখ ডলারের (১.৯৭ বিলিয়ন ডলার) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। আগস্টে এসেছিল ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ডলারের প্রবাসী আয়। গত জুন মাসে রেকর্ড ২১৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার (২.১৯ বিলিয়ন ডলার) প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে। একক মাস হিসেবে যেটি ছিল প্রায় তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এর আগে ২০২০ সালের জুলাই মাসে সর্বোচ্চ ২৫৯ কোটি ৮২ লাখ ডলারের রেকর্ড প্রবাসী আয় এসেছিল।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২০ সালে হুন্ডি বন্ধ থাকায় ব্যাংকিং চ্যানেলে সর্বোচ্চ সংখ্যক রেমিট্যান্স এসেছিল। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২ হাজার ১৬১ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স। এটি এ যাবৎকালের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে করোনাকালীন ২০২০-২১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে।

বিশ্বকাপে পাঁচ পেসারের ওপর নজর থাকবে স্টেইনের

ভারতের মাটিতে আসন্ন ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেরা পাঁচজন পেস বোলার বেছে নিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক পেসার ডেল স্টেইন। ইতিহাস বলছে, ভারতের উইকেট বরাবর স্পিন সহায়ক। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে পেসারদের উপর নজর রাখতে বলেছেন প্রোটিয়াদের হয়ে ৯৩ টেস্ট, ১২৫ ওয়ানডে ও ৪৭টি টি-টোয়েন্টি খেলা স্টেইন। পাঁচ দেশ থেকে সেরা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন পাঁচ পেস বোলার নিজের পছন্দের তালিকায় রেখেছেন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার কাগিসো রাবাদা, ভারতের মোহাম্মদ সিরাজ, পাকিস্তানের শাহিন শাহ আফ্রিদি, নিউজিল্যান্ডের ট্রেন্ট বোল্ট এবং ইংল্যান্ডের মার্ক উডকে নিজের পছন্দের তালিকায় রেখেছেন টেস্টে ৪৩৯, ওয়ানডেতে ১৯৬ ও টি-টোয়েন্টিতে ৬৪ উইকেট শিকার করা স্টেইন।

চলতি বছর দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খুব বেশি ম্যাচ খেলেননি রাবাদা। মাত্র ৫টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। উইকেট শিকার করেছেন ৯টি। গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার সিরিজে ৩ ম্যাচ খেলে ৭ উইকেট নেন রাবাদা। ৯২ ওয়ানডেতে ১৪৪ উইকেট আছে তার। রাবাদাকে নিয়ে স্টেইন বলেন, ‘আমার প্রিয় বোলারদের মধ্যে একজন রাবাদা। ভারতের কন্ডিশনে তার পেস ও বাউন্সার কাজে লাগবে।’
এ বছর ১৪ ওয়ানডেতে ৩০ উইকেট নিয়েছেন সিরাজ। সম্প্রতি শ্রীলংকার বিপক্ষে এশিয়া কাপের ফাইনালে ২১ রানে ৬ উইকেট নিয়ে এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের বোলারদের তালিকায় শীর্ষে উঠেন সিরাজ। সিরাজকে নিয়ে স্টেইন বলেন, ‘বিশ^কাপে ভারতের প্রধান অস্ত্র হবে সিরাজ। ইনিংসের শুরুতে সুইং দিয়ে প্রতিপক্ষ চাপে ফেলতে পারদর্শী সিরাজ।’
পাকিস্তানের পেস আক্রমণের নেতৃত্ব আছেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। সর্বশেষ এশিয়া কাপে সেরাটা দেখাতে না পারলেও প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের মাথা ব্যথার কারন আফ্রিদি। এ বছর ১২ ম্যাচে ২৪ উইকেট ঝুলিতে আছে তার। স্টেইন বলেন, ‘আফ্রিদির বোলিং দেখতে মুখিয়ে আছি। বিশেষ করে ভারতের রোহিতের বিপক্ষে যখন বল করবে।’

টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার জন্য নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের (এনজেডসি) কেন্দ্রীয় চুক্তিতে নেই বোল্ট। বিশ^কাপকে সামনে রেখে গত মাসে ইংল্যান্ড সফরে দীর্ঘদিন পর ওয়ানডে সিরিজের দলে ফিরেন তিনি। ইংলিশদের বিপক্ষে দুই ম্যাচে ৮ উইকেট এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ সফরে দুই ম্যাচে ২ উইকেট শিকার করেন বোল্ট। এ পর্যন্ত ১০৪ ওয়ানডেতে ১৯৭ উইকেট শিকার করেছেন বোল্ট। এবারের বিশ^কাপে বোল্টকে সর্বোচ্চ শিকারি মনে করছেন স্টেইন, ‘উইকেট শিকারে বেশ পারদর্শী বোল্ট। আমি মনে করি, এবারের বিশ^কাপে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হবে সে।’
জোফরা আর্চার না থাকায় ইংল্যান্ডের পেস আক্রমনের দায়িত্ব নিতে হবে মার্ক উডকে। এ বছর মাত্র ২টি ওয়ানডে খেলেছেন তিনি। মার্চে বাংলাদেশ সফরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২ ম্যাচ খেলে ২ উইকেট নেন উড। ইংল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট উড নিবেন বলে মনে করেন স্টেইন, ‘গতিময় বোলার উড। ইংল্যান্ডের হয়ে অনেক উইকেট নিবে সে।’
আগামী ৫ অক্টোবর ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে শুরুর হবে বিশ^কাপ লড়াই।

ভিসা নীতি নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে ১৯০ বিশিষ্ট নাগরিকের উদ্বেগ

গণমাধ্যমের ওপর ভিসা নীতি প্রয়োগ নিয়ে ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের বক্তব্যে হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করে নিন্দা জানিয়েছেন দেশের ১৯০ বিশিষ্ট নাগরিক।

 

শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তারা এ হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে পিটার হাসের বক্তব্যে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ জানিয়ে লেখা চিঠির বিষয় উল্লেখ করা হয়। গতকাল ওই চিঠি পাঠানো হয়।

 

গণমাধ্যমও ভিসা নীতির আওতায় পড়তে পারেন ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের এমন বক্তব্যে হতাশা প্রকাশ করে বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে ভিসা নীতি প্রয়োগের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নীতির পরিপন্থী। বাংলাদেশে সচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যম একটি বড় ভূমিকা রেখেছে। উগ্রবাদী শক্তি, জঙ্গি, জামায়াত ইসলামীর মতো যুদ্ধাপরাধীর দল, সন্ত্রাসী যা প্রগতিশীল ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলোকে নির্মূল করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে সোচ্চার ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশের গণমাধ্যম। এর ফলে বাংলাদেশ তালেবানের মতো একটি রাষ্ট্রে পরিণত হয়নি।

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণমাধ্যমের ওপর ভিসা নীতি নিয়ে হাসের বক্তব্যটি কট্টরপন্থী ও স্বাধীনতাবিরোধীরা স্বাগত জানিয়েছে। এই স্বাগত জানানো পক্ষটি অন্যান্য নীতিতে পশ্চিমাদের নিন্দা করে, মুক্তচিন্তকদের শত্রু মনে করে এবং ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধীদের দায়মুক্তির পক্ষে। হাসের বক্তব্যকে জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত ‘বাঁশের কেল্লা’ নামের ফেসবুক পেজ থেকে স্বাগত জানিয়ে পোস্ট করা হয়েছে। যেখানে হাসকে ‘একজন সত্যিকারের বন্ধু’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অতীতে এই পেজে ব্লগার ও মুক্তচিন্তকদের হত্যার পক্ষে নানা বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে। ফলে এই পেজে হাসের বিবৃতি নিয়ে উল্লাস আসলে ধর্মনিরপেক্ষ নাগরিকদের জন্য নিগূঢ় বার্তা দেয়।

 

এতে আরও বলা হয়, আমরা দেখেছি, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা ভিসা নীতিতে গণমাধ্যমের কথা উল্লেখ করা থেকে বিরত ছিলেন। কিন্তু হাস তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করায় ধারণা করা যায়, গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়তো চূড়ান্ত। এরই মধ্যে সম্পাদক ও সাংবাদিকেরা এটির নিন্দা করেছেন। হাসের এই বক্তব্যের কারণে সংবাদমাধ্যমগুলো সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশে বাধাপ্রাপ্ত হবে বলে মত দিয়েছেন অনেকেই।

 

হাসের বক্তব্যে দ্বৈতনীতির বিষয়টি উঠে এসেছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে আসার পর থেকে তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। কিন্তু তার এখনকার অবস্থান গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মৌলিক অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বাংলাদেশের সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের যে প্রতিশ্রুতি, আর সেখানে গণমাধ্যমের ভূমিকার যে সুযোগ ছিল, সেটিকে মারাত্মক বাধাগ্রস্ত করবে।

 

আমরা দেখেছি, জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের মুক্তিযুদ্ধকালের মানবতাবিরোধী অপরাধ, ধর্মনিরপেক্ষ নাগরিকদের কণ্ঠরোধ ও সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য নিয়ে ‘বাঁশের কেল্লা’ পেজে আস্ফালন চলছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক প্রচেষ্টা দেখেছি, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে বিপন্ন করার সম্ভাবনা রাখে। মার্কিন সরকার কর্তৃক র‌্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি উত্থাপনে বড় ভূমিকা রেখেছেন দেশটির বিতর্কিত মার্কিন সিনেটর বব মেনেন্ডেজ। এছাড়া ছয় মার্কিন কংগ্রেসম্যানের স্বাক্ষরে একটি বিবৃতি প্রদান করা, যেখানে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান সরকারের আমলে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা অর্ধেক হয়ে গেছে, যা একেবারে বাস্তবতা–বিবর্জিত এবং ন্যায়সংগত নয়। ফলে এই বিষয়গুলো আমাদের চিন্তা করতে বাধ্য করে যে এ ধরনের কার্যক্রমের পেছনে ভিন্ন কোনো ইচ্ছা রয়েছে কি না।

 

বিবৃতিতে সই করা ১৯০ বিশিষ্ট নাগরিকের মধ্যে রয়েছেন লেখক, অধিকারকর্মী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাপরাধবিরোধী প্রচারক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ মোট ১৯০ জন বিশিষ্ট নাগরিক সই করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, শহীদজায়া শিক্ষাবিদ শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, কথাশিল্পী অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, শহীদজায়া সালমা হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, আইনজীবী ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাণা দাশগুপ্ত, চলচ্চিত্রনির্মাতা নাসির উদ্দিন ইউসুফ, ক্যাপ্টেন (অব.) আলমগীর সাত্তার বীর প্রতীক, চিকিৎসক আমজাদ হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসক নূরন নবী, অধ্যাপক শিল্পী আবুল বারক আলভী, অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, চিকিৎসক শেখ বাহারুল আলম, চিকিৎসক ইকবাল কবীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা সমাজকর্মী সুব্রত চক্রবর্ত্তী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ভূতত্ত্ববিদ মকবুল-ই এলাহী চৌধুরী, অধ্যাপক আবদুল গাফ্ফার, কবি জয়দুল হোসেন, সমাজকর্মী কাজী লুৎফর রহমান, সমাজকর্মী কামরুননেসা মান্নান, আইনজীবী আজাহার উল্লাহ্ ভূঁইয়া, মি. নির্মল রোজারিও, সভাপতি বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশন, ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়, সাধারণ সম্পাদক বুড্ডিস্ট ফেডারেশন।

বিপুলসংখ্যক গ্রাহক হারাচ্ছে ‘এক্স’

টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অজানা কিছু তথ্য প্রকাশ করলেন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সর (সাবেক টুইটার) প্রধান নির্বাহী লিন্ডা ইয়াকারিনো। তিনি জানিয়েছেন, ইলন মাস্ক কিনে নেওয়ার পর থেকে বিপুলসংখ্যক সক্রিয় গ্রাহক হারিয়েছে এক্স।

 

সম্প্রতি ভক্স মিডিয়ার কোড ২০২৩ সম্মেলনে সিএনবিসির জুলিয়া বুর্স্টিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক্স সিইও জানিয়েছেন, প্ল্যাটফর্মটিতে বর্তমান দৈনিক সক্রিয় গ্রাহকের সংখ্যা ২২ কোটি ৫০ লাখ। ইলন মাস্ক অধিগ্রহণের আগের তুলনায় এটি অন্তত ১১ দশমিক ৬ শতাংশ কম।

 

৪৫ মিনিটের ওই সাক্ষাৎকারে ইয়াকারিনো বারবার বলেছেন, তিনি মাত্র ১২ সপ্তাহ হয়েছে এক্সের দায়িত্ব নিয়েছেন।

 

গত বছর টুইটার কিনে নেওয়ার সপ্তাহখানেক আগে ইলন মাস্কের শেয়ার করা পোস্টে দেখা গিয়েছিল, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মটিতে দৈনিক সক্রিয় গ্রাহকের সংখ্যা ২৫ কোটি ৪৫ লাখ।

 

সাক্ষাৎকারের প্রথমদিকে অবশ্য লিন্ডা ইয়াকারিনো এক্সের দৈনিক সক্রিয় গ্রাহকের সংখ্যা ২০ থেকে ২৫ কোটি বলেছিলেন। পরে নির্দিষ্ট করে এর সংখ্যা ২২ কোটি ৫০ লাখ বলে জানান তিনি।

 

সম্মেলনের পরে নিজেদের প্ল্যাটফর্মে দৈনিক সক্রিয় গ্রাহকের সংখ্যা ২৪ কোটি ৫০ লাখ বলে জানিয়েছে এক্স। সেই হিসাবেও মাস্কের অধিগ্রহণের পর প্রতিদিন ৩ দশমিক ৭ শতাংশ করে সক্রিয় গ্রাহক হারিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি।

 

এমনকি, ইলন মাস্ক দায়িত্ব দেওয়ার পর গত বছর যে তথ্য শেয়ার করেছিলেন, সেটি হিসাব করলেও বিপুল সংখ্যক সক্রিয় গ্রাহক কমতে দেখা যায় এক্সের। ২০২২ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝি এক টুইটে তিনি জানিয়েছিলেন, এক্সের (তৎকালীন টুইটার) দৈনিক সক্রিয় গ্রাহক ২৫ কোটি ৯৪ লাখ। সেই হিসাবে থেকে অন্তত দেড় কোটি গ্রাহক হারিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি।

 

এরপরও ২০২৪ সালে এক্স লাভজনক থাকবে বলে আশাবাদী লিন্ডা ইয়াকারিনো। তিনি জানিয়েছেন, গত ১২ সপ্তাহে শীর্ষ ১০০ বিজ্ঞাপনদাতার ৯০ শতাংশই ফিরে পেয়েছে প্ল্যাটফর্মটি।
সূত্র : এনডিটিভি

মার্কিন অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি রেনা বিটার ঢাকায়

ঢাকায় এসেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার ব্যুরোর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি রেনা বিটার।

 

আজ রোববার (১ অক্টোবর) সকালে তিনি মার্কিন দূতাবাস পরিদর্শন করেন। দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনার কথা রয়েছে তার। ঢাকায় তিনি কনস্যুলার বিষয়ে আলোচনা করবেন সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে।

 

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানায়, রেনা বিটারের সফরে বিদেশি মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ভ্রমণ ও অভিবাসনের সুবিধার্থে দেশটির গভীর ও টেকসই প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দেওয়া হবে।

 

সোমবার (২ অক্টোবর) সকালে ঢাকা ত্যাগ করবেন রেনা বিটার।

সরকার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে : কাদের

সংবিধান অনুযায়ী সরকার দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জাপানের রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

 

আজ রোববার সকালে সচিবালয়ে তার নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইয়োমা কিমিনোরির সঙ্গে সৌজন্যে সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেন।

 

ওবায়দুল কাদের জানান, জাতীয় নির্বাচন কেন্দ্র করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির প্রথম বৈঠক এরইমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও তিনি জাপানের রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেছেন।

 

তিনি জানান, সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে জাপানের সহায়তায় চলমান প্রকল্পের অগ্রগতিসহ দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো কিভাবে জোরদার করা যায় সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

মার্টিনেজের ৪ গোলে ইন্টারের বড় জয়

শনিবার সিরি-এ লিগে তলানির থেকে দ্বিতীয় স্থানে থাকা সালেরনিতানাকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে ইন্টার মিলান। অ্যাওয়ে ম্যাচটিতে ইন্টারের হয়ে চারটি গোলই করেছেন বদলী হিসেবে মাঠে নামা আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার লটারো মার্টিনেজ। এদিকে দিনের আরেক ম্যাচে ল্যাজিওকে ২-০ গোলে পরাজিত করে ইতালিয়ান লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে এসি মিলান।

 

সাসৌলোর বিপক্ষে সপ্তাহের মাঝামাঝিতে মৌসুমের প্রথম পরাজয়ের থেকে বেরিয়ে এসে মার্টিনেজের দ্বিতীয়ার্ধের দুর্দান্ত পারফরমেন্সে ইন্টারের জয় নিশ্চিত হয়। ৬২ মিনিটে মার্কোস থুরামের অসাধারন একটি বল থেকে স্বাগতিক গোলরক্ষক গুইলারমো ওচোয়ার মাথার উপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে ডেডলক ভাঙ্গেন মার্টিনেজ। সালেরনিতানা মাতেয়াজ লেগোভস্কির একটি গোল অফসাইডের কারনে বাতিল হয়ে যায়। নিকোলো বারেলার ক্রস থেকে মার্টিনেজ ব্যবধান দ্বিগুন করেন। ৮৫ মিনিটে পেনাল্টি স্পট থেকে হ্যাট্রিক পূরণ করেন মার্টিনেজ। থুরামের আদায় করা পেনাল্টি থেকে হ্যাট্রিক পূরণে মার্টিনেজকে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। কার্লোস অগাস্টোসের পাস থেকে ম্যাচের একেবারে শেষভাগে চতুর্থ গোলটি করেন মার্টিনেজ।

 

এ পর্যন্ত ৯ গোল করে সিরি-এ সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে থাকা মার্টিনেজ বলেছেন, ‘আমি খুশি কারণ আমি দলকে জিততে সহায়তা করেছি। দিনের শেষে এটাই গুরুত্বপূর্ণ। বুধবারের ম্যাচে হারের পর আমাদের নিয়ে যে সমালোচনা তৈরি হয়েছিল তাতে এই জয়টা জরুরি ছিল। আমি শিরোপা কিংবা সর্বোচ্চ গোলদাতার বিষয় নিয়ে ভাবছি না, আমি শুধু দলের জয়ে ভূমিকা রাখতে চাই।’

 

বড় এই হয়ে ইন্টার মিলানের সঙ্গে সমান ১৮ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে রয়েছে। দিনের শুরুতে ধুঁকতে থাকা ল্যাজিওকে ২-০ ব্যবধানে পরাজিত করে অল্প সময়ের জন্য পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ স্থান দখল করেছিল মিলান। সান সিরোতে ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ ৬০ মিনিটে মিলানকে এগিয়ে দিয়েছিলেন। রাফায়েল লিয়াওয়ের দারুন পাস থেকে পুলিসিচ স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন। চেলসি থেকে আসার পর এটা পুলিসিচের তৃতীয় গোল। ৮৮ মিনিটে মিলানের তিন পয়েন্ট নিশ্চিতের গোলেও জোগানদাতা ছিলেন লিয়াও। পর্তুগিজ এই উইঙ্গারের কাট-ব্যাকে নোয়া ওকাফোর ব্যবধান দ্বিগুণের পাশাপাশি স্বাগতিকদের জয় নিশ্চিত করেন।

 

ম্যাচ শেষে পুলিসিচ বলেছেন, ‘আমি মনে করি আজ আমরা অনেক বেশি চাপে ছিলাম। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। প্রথম গোলের পর আমরা সত্যিকার অর্থেই ল্যাজিওর ওপর আধিপত্য দেখিয়েছি। আমি এখানে অনেক দিন পরে খেলতে এসেছি, এই দলে এখন বেশ কিছু নতুন খেলোয়াড় এসেছে। মৌসুমে আমাদের শুরুটা ভাল হয়েছে। এখানকার সময়টা আমি দারুণভাবে উপভোগ করছি।’

 

উরুর ইনজুরির কারণে গত দুই ম্যাচ অনুপস্থিত থাকার পর আবারও মিলানে ফিরেছেন ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মেইগনান। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিউক্যাসলের সাথে গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচটিতে মেইগনান ইনজুরিতে পড়েছিলেন।

 

বদলী বেঞ্চ থেকে উঠে এসে লিসের বিপক্ষে নাপোলিকে চার দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় জয় উপহার দিয়েছেন তারকা স্ট্রাইকার ভিক্টর ওশিমেহ। এই জয়ে ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নরা লিগ টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে। টানা তিন ম্যাচে জয়বিহীন থাকার পর রুডি গার্সিয়ার দল রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে আগামী সপ্তাহে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের হোম ম্যাচের আগে কিছুটা হলেও আত্মবিশ^াস সঞ্চয় করতে পেরেছে। ১৬ মিনিটে সেন্টার-ব্যাক লিও ওস্টিগার্ড নাপোলিকে এগিয়ে দেন। ক্লাবের হয়ে এটি ওস্টিগার্ডের প্রথম গোল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার ওশিমেহ নামার আগ পর্যন্ত নাপোলি ম্যাচের নিয়ন্ত্রন নিজেদের করতে পারেনি। ৫১ মিসিটে কাভিচা কাভারাটসখেলিয়ার ক্রসে ওশিমেহ ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ম্যাচের শেষভাগে গিয়ানলুকা গায়েটানো ও মাত্তেও পলিটানো আরও দুই গোল করলে নাপোলির বড় জয় নিশ্চিত হয়।

 

স্পট কিক থেকে পলিটানো দলের হয়ে চতুর্থ গোলটি করেছে। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ওশিমেহ তার পেনাল্টি শ্যুটের দায়িত্ব পলিটানোর ওপর দিয়ে দিয়েছেন।

 

বড় এই জয়ের পরেও নাপোলি ইন্টার ও মিলানের থেকে চার পয়েন্ট পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

 

গার্সিয়া বলেছেন, ‘শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রত্যেকেই দারুণ খেলেছে। আমরা প্রথম ১৫ মিনিটেই গোল আদায় করে নিতে চেয়েছিলাম। ওস্টিগার্ডের জন্য আমি দারুণ খুশি। কারণ সে এমন একজন খেলোয়াড় যে প্রতিনিয়ত দলের জন্য নিজের সেরাটা দেবার চেষ্টা করে যাচ্ছে। জেনোয়ার সঙ্গে ২-২ গোলের ড্রয়ের ম্যাচটি থেকে আমরা অনেক শিক্ষা নিয়েছি। আজ সব খেলোয়াড়রই তাদের শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং তারা সফলও হয়েছে। এখন এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই মূল চ্যালেঞ্জ।’