শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬

রমজান-ঈদ উপলক্ষে কলেজে ছুটি শুরু, স্কুলে কবে থেকে

পবিত্র রমজান ও ঈদ উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি কলেজে আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটি শুরু হচ্ছে। দীর্ঘ ৩৯ দিন ছুটি শেষে আগামী ২৯ মার্চ থেকে পুনরায় শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে।

অন্যদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল, ভোকেশনাল স্কুল-কলেজ, ডিপ্লোমা ইন্সটিটিউট, বিএমটি কলেজ ও ভোকেশনাল কলেজগুলোর ছুটির শুরু হবে ৮ মার্চ; ক্লাস শুরু হবে ২৯ মার্চ থেকে।

মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতর এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটি একত্রে সমন্বয় করা হয়েছে।
এতে দেখা যায়, ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত টানা ২৬ দিন কলেজগুলো বন্ধ থাকবে। এরপর ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এক দিনের সাধারণ ছুটি রয়েছে। পরবর্তী দুই দিন শুক্র ও শনিবার হওয়ায় সাপ্তাহিক ছুটির সাথে যুক্ত হয়ে এই বিরতি আরও দীর্ঘ হচ্ছে। ফলে আগামী ২৯ মার্চ, রবিবার থেকে শিক্ষার্থীরা পুনরায় শ্রেণিকক্ষে ফিরবেন।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৪ মে থেকে ৫ জুন পর্যন্ত মোট ১০ দিনের ছুটি বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ১৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত আরও ১০ দিন বন্ধ থাকবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

বছরের শেষ দিকে ১৭ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১১ দিন শীতকালীন অবকাশ পালন করা হবে।

সচিবালয়ে আজ প্রথম অফিস করবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী

দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে মন্ত্রিসভার শপথের পর আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রথম সচিবালয়ে অফিস করবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।

নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের আগ থেকেই সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দাপ্তরিক কার্যালয় প্রস্তুত করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দ্বিতীয়তলায় ২০১ নম্বর কক্ষটি প্রস্তুত করা হয়েছে নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য।
আর ২০০ নম্বর কক্ষটি সভাকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত প্রসাধনসামগ্রীর বর্ণনা অনুযায়ী প্রসাধনীরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রথম কার্যদিবসে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক ও সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবেন বলে জানা গেছে। আজ বুধবার সকাল ১০টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন তারেক রহমান।
সেখান থেকে ফিরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে তিনি অফিস করবেন। সেখানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। সভা শেষে সচিবালয়ে দুপুরের খাবার গ্রহণ করে বিকেল ৩টায় মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক করবেন। বৈঠক শেষে বিকেল ৪টায় সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি।
এজন্য সচিবালয়ে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনের গেজেটের পরই তুমুল ব্যস্ততা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে। নতুন ভবনের ছয়টি লিফটের সবকটিই ছিল ব্যস্ত। কর্মকর্তারা এক ফ্লোর থেকে আরেক ফ্লোরে উঠছেন, নামছেন। সবার হাতেই ফাইল।
রেওয়াজ ভেঙে এবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হয়েছে মন্ত্রিসভার শপথ। আর সেই শপথ অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা।

এমপিদের শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে ডিএমপির নির্দেশনা

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমপি) এবং নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মহানগর (ডিএমপি) ট্রাফিক। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ডিএমপি থেকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ট্রাফিক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যগণের এবং জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। এ উপলক্ষে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় বিপুল সংখ্যক লোকের সমাগম হবে। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান চলাকালীন খেজুর বাগান ক্রসিং হতে মানিক মিয়া এভিনিউ এবং জুলাই স্মৃতি জাদুঘর (গণভবন ক্রসিং) হতে উড়োজাহাজ ক্রসিং পর্যন্ত লেকরোডে যান চলাচল সীমিত করা হবে।

যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ফলে সৃষ্ট সাময়িক অসুবিধা নিরসনকল্পে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক ডাইভারশনের মাধ্যমে নিম্নোক্তভাবে যানবাহনের প্রবাহ সচল রাখা হবে।

ডাইভারশন পয়েন্ট এবং বিকল্প সড়কসমূহ-

১. মিরপুর রোড টু ফার্মগেট ভায়া মানিক মিয়া এভিনিউ
মিরপুর রোড হয়ে উত্তর দিক থেকে আগত ফার্মগেট/সোনারগাঁও অভিমুখী যানবাহন প্রতিরক্ষা গ্যাপ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিংয়ে ডানে মোড় নিয়ে ফার্মগেট এর দিকে গমন করবে।
বাংলাভিশনের গুগল নিউজ ফলো করতে ক্লিক করুন

২. ধানমন্ডি হতে ফার্মগেট
ধানমন্ডি ২৭ হতে আগত যানবাহন আসাদগেট-প্রতিরক্ষা গ্যাপ দিয়ে ডানে মোড় নিয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিং-ডানে মোড় নিয়ে ফার্মগেট ক্রসিং এর দিকে গমনাগমন করবে।

৩. আসাদগেট হতে ফার্মগেট ক্রসিং
আসাদগেট-বামে মোড় নিয়ে গণভবন ক্রসিং (জুলাই স্মৃতি জাদুঘর)-প্রতিরক্ষা গ্যাপ-ডানে মোড় নিয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র -উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিং-ডানে মোড় নিয়ে ফার্মগেট ক্রসিং এর দিকে গমন করবে।

৪. এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে/ ইন্দিরা রোড হতে ধানমন্ডি
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে/ইন্দিরা রোড হতে আগত যানবাহন খেজুর বাগান ক্রসিং-ডানে মোড় নিয়ে উড়োজাহাজ ক্রসিং-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র বামে মোড় নিয়ে প্রতিরক্ষা গ্যাপ-বামে মোড় নিয়ে আসাদগেট হয়ে ধানমন্ডির দিকে গমন করবে।

৫. মিরপুর রোড হতে ধানমন্ডি
মানিক মিয়া এভিনিউ হতে ব্লকেড সরিয়ে ফেলা হবে বিধায় মিরপুর রোড হতে দক্ষিণ অভিমুখী যানবাহন শ্যামলী-শিশুমেলা-গণভবন (জুলাই স্মৃতি জাদুঘর)-আসাদগেট হতে সোজা ধানমন্ডি ২৭ এর দিকে গমনাগমন করবে।

৬. এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান চলাকালীন যানজট/দূর্ভোগ এড়াতে ফার্মগেট এক্সিট র‌্যাম্প ব্যবহারের পরিবর্তে এফডিসি (হাতিরঝিল) র‌্যাম্প সচল থাকবে।

সকল প্রকার যানবাহন চালকদের মঙ্গলবার সকাল ৮টা হতে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত যানজট এড়ানোর লক্ষ্যে মানিক মিয়া এভিনিউ ও লেকরোড এড়িয়ে উল্লিখিত নির্দেশনা মোতাবেক চলাচলের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সম্মানিত নগরবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস্ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

নৃত্যকলার মর্যাদা রক্ষায় একুশে পদক পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান

একুশে পদক ২০২৬–এ নৃত্যকলা বিষয়ে ঘোষিত মনোনয়ন পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পীরা। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি উত্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে একুশে পদকে নৃত্যকলাকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে শিল্পীরা বলেন, এটি দেশের শিল্প-সংস্কৃতির জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ স্বীকৃতি। তবে চলতি বছরে ঘোষিত মনোনয়ন নিয়ে নৃত্যাঙ্গনে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

বক্তারা বলেন, একুশে পদক বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ভাষা ও মুক্তচিন্তার চেতনার প্রতীক। দীর্ঘ সাধনা, সুদীর্ঘ অবদান এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনস্বীকার্য প্রভাবের স্বীকৃতি হিসেবেই এ সম্মান প্রদান করা হয়। বিশেষ করে নৃত্যকলার মতো সাধনাভিত্তিক শিল্পক্ষেত্রে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ সতর্কতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।

তারা উল্লেখ করেন, ঘোষিত মনোনীত ব্যক্তির বয়স, অভিজ্ঞতার বিস্তার এবং দেশের নৃত্যচর্চা ও নৃত্যশিক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি অবদান নিয়ে নৃত্যাঙ্গনের একটি বড় অংশের মধ্যে সংশয় রয়েছে। দেশে বহু প্রবীণ ও স্বীকৃত নৃত্যশিল্পী রয়েছেন, যারা কয়েক দশক ধরে নৃত্যচর্চা, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন—তাদের অবদান যথাযথভাবে বিবেচনায় আনা প্রয়োজন বলে মত দেন শিল্পীরা।

সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কয়েকটি দাবি জানানো হয়। সেগুলো হলো— একুশে পদক প্রদানের নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কিনা তা যাচাই; ২০২৬ সালে নৃত্যকলায় মনোনয়ন প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা; প্রবীণ ও স্বীকৃত নৃত্যব্যক্তিত্বদের মতামত গ্রহণ; স্বচ্ছ, ন্যায্য ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন পদ্ধতি নিশ্চিত করা।

বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়, এই উদ্যোগ কোনো ব্যক্তিবিশেষকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে নয়; বরং নৃত্যকলার মর্যাদা রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সঠিক দৃষ্টান্ত স্থাপনের প্রয়াস।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের স্বনামধন্য গুরুজন, একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী এবং বিভিন্ন প্রজন্মের প্রায় শতাধিক নৃত্যশিল্পী অংশ নেন। শেষে নৃত্যশিল্পীরা নৃত্যকলার ন্যায্য স্বীকৃতি ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসন শূন্য ঘোষণা করলো ইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটিতেই জয় পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে তিনি বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা জ্ঞাপন করায় ওই আসনটি শূন্য ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ইসি সচিব আখতার আহমেদ এ সংক্রান্ত একটি গেজেট প্রকাশ করেন।

গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনি এলাকা ৪১ বগুড়া-৬ এবং ১৯০ ঢাকা-১৭ হইতে জাতীয় সংসদে নির্বাচিত প্রার্থী তারেক রহমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭১ অনুচ্ছেদের (২)(ক) দফার বিধান অনুসারে নির্বাচনি এলাকা ১৯০ ঢাকা-১৭ এর প্রতিনিধিত্ব করিবার ইচ্ছা জ্ঞাপন করিয়া ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নির্বাচন কমিশনের নিকট স্বাক্ষরিত ঘোষণাপত্র দাখিল করায় ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ হইতে নির্বাচনি এলাকা ৪১ বগুড়া-৬ আসন শূন্য বলিয়া ঘোষণা করা হইল।

ত্রয়োদশ নির্বাচনে বগুড়া-৬ ছাড়াও ঢাকা-১৭ আসন থেকে লড়াই করেন তারেক রহমান। দুটি আসনেই তিনি জয়ী হন। পাশাপাশি তার দল বিএনপি ২১২ আসনে জয়ী হয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে।

মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) শপথ নেবেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। সেখানেই আগামীর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তারেক রহমান।
বাংলাভিশনের গুগল নিউজ ফলো করতে ক্লিক করুন

ভারতের সঙ্গে সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর। ১৬ বছরের ক্ষতি ১৮ মাসে পূরণ করা সম্ভব নয়, তবে দেশ দৃঢ়ভাবে স্বৈরাচারী আচরণ ও ব্যবস্থা থেকে সরে এসে গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে এখন অগ্রসর হচ্ছে বলেও জানানো হয়।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, চব্বিশের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসা তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করে।
১৬ বছরের দমন-পীড়নের পর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। তখন রাষ্ট্র অর্থনৈতিক বিপর্যয়, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতায় জর্জরিত ছিল। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও দুঃশাসনে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়েছিল। লুটপাট ও অর্থপাচারে ব্যাংকিং খাত বিপর্যস্ত।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা ছিল না। বিচারব্যবস্থায়ও ছিল অবিশ্বাস।

এই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন করে এবং তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে পাশাপাশি নিজস্ব উদ্যোগে, বাস্তবসম্মত আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কার্যক্রম শুরু করে—যার লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও গণতান্ত্রিক ভিত্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে প্রেস উইং জানায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ১৮ মাসে প্রায় ১৩০টি আইন (নতুন ও সংশোধনী) প্রণয়ন এবং ৬০০টিরও বেশি নির্বাহী আদেশ জারি করেছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের জন্য জরুরি ছিল।
এর মধ্যে প্রায় ৮৪ শতাংশ ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

অর্থনীতি ও পররাষ্ট্র সম্পর্কেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তির ফলে প্রায় ৭ হাজার ৪০০টি বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে। চীনের সঙ্গে সহযোগিতায় ঋণের মেয়াদ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় শুল্কহার ৩৭ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নামানো হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হয়েছে এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে।

ব্যাংকিং তদারকি জোরদার করা হয়েছে। ৪২টি মন্ত্রণালয়ে ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে তথ্য প্রকাশে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীতে সংস্কারের অংশ হিসেবে ১২০০-রও বেশি কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং মানবাধিকারভিত্তিক প্রশিক্ষণ চালু হয়েছে।
র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে পুনর্গঠন করে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ নামকরণ করা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়েছে, মেধাভিত্তিক বিচারপতি নিয়োগ হয়েছে এবং নির্বাহী হস্তক্ষেপের অবসান হয়েছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার ও বন্ধ হওয়া গণমাধ্যম পুনরায় চালুর মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও ফিরেছে।

এই সংস্কারগুলোর মধ্য দিয়ে একটি নাগরিকবান্ধব কাঠামোর কেবল সূচনা ঘটল। ১৬ বছরের ক্ষতি ১৮ মাসে পূরণ সম্ভব নয়, তবে দেশ দৃঢ়ভাবে স্বৈরাচারী আচরণ ও ব্যবস্থা থেকে সরে এসে গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে দেশ এখন অগ্রসর হচ্ছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রমজানের ছুটিতে বৈষম্য, সিদ্ধান্ত নেবে নতুন সরকার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটি শেষে আজ সোমবার থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যথারীতি পাঠদান শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই শুরু হয়েছে রমজান মাসের ছুটির আলোচনা। এবারের রমজান মাসে কেউ পুরো মাস ছুটি পাচ্ছে আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে ছুটি কমানো হয়েছে।

প্রথমে রমজান মাসের শুরু থেকে মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তবে আজ সোমবার চেম্বার জজ আদালতের হাইকোর্টের দেওয়া সেই আদেশ স্থগিত করেছেন। এর ফলে আগে থেকেই মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্কুলের ছুটির যে সিদ্ধান্ত ছিল, সেটিই বহাল থাকছে।

এদিকে চলতি শিক্ষাবর্ষে রমজান উপলক্ষে মাদরাসাগুলোয় ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। অন্যদিকে মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলগুলোতে এবার ১৫ রমজান, অর্থাৎ আগামী ৭ মার্চ পর্যন্ত নিয়মিত ক্লাস চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু এটি বৈষম্যমূলক দাবি করে রমজানের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের ছুটি নিশ্চিত করতে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইলিয়াছ আলী মণ্ডল। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রিট আবেদনের শুনানিতে রোজায় সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখার আদেশ দেন।

হাইকোর্টের দেওয়া সেই আদেশের ফলে পুরো পুরো রমজান মাসে সব মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল ৮ মার্চের পরিবর্তে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই বন্ধ থাকার কথা ছিল। তবে এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করলে হাইকোর্টের সেই আদেশটি সোমবার স্থগিত করে দেওয়া হয়।
এর ফলে ছুটি নিয়ে আগের সিদ্ধান্তই বহাল থাকছে।

তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়ে আদালতের আদেশে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। ফলে রমজানে প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা থাকবে নাকি বন্ধ থাকবে—সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সরকারের দুই মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, এ সিদ্ধান্তটি মূলত নতুন সরকারের শিক্ষামন্ত্রীর ওপরই নির্ভর করছে। দায়িত্ব নিয়েই তাকে প্রথম দিনই এ সিদ্ধান্ত দিতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তারা একটি বাৎসরিক ছুটির তালিকা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। প্রস্তাবিত তালিকা অনুযায়ী ৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত রমজান, ঈদুল ফিতর ও অন্যান্য ছুটি মিলিয়ে মোট ১৯ দিন (শুক্র, শনিবারসহ) বিদ্যালয় বন্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশের সরকারি কলেজগুলোতে রোজার ছুটির জন্য গত বছরের ডিসেম্বরে একটি প্রজ্ঞাপন হয়। সেই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দেশের সব সরকারি বেসরকারি কলেজ ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

ঢাকার কয়েকটি ইংলিশ মিডিয়ামের ছুটির ক্যালেন্ডার থেকে জানা যাচ্ছে, বেশির ভাগ স্কুলের রমজানের মাঝামাঝি পর্যন্ত ক্লাস চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

চরমোনাই পীরের বাসায় তারেক রহমান

নির্বাচন-পরবর্তী সৌজন্য সাক্ষাতের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের আমির চরমোনাই পীর সৈয়দ রেজাউল করীমের বাসায় গেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী এলাকার সৈয়দ রেজাউল করীমের বাসায় প্রবেশ করেন তিনি।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দলের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম ও মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আহমাদ।

এর আগে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রথমে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ও পরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় যান তারেক রহমান।

নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পড়াতে সিইসিকে চিঠি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। শপথ পড়ানোর জন্য সিইসিকে চিঠি দিয়েছে সংসদ সচিবালয়। চিঠিটি পেয়েছেও ইসি।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠি একটু আগেই আমরা পেয়েছি।’

সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে শপথ পাঠ অনুষ্ঠিত হবে। কয়েক দফায় শপথ পাঠ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে গ্রুপ ধরে এলে গ্রুপভিত্তিক হবে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ২৯৭ জন সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

সংবিধান অনুযায়ী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সিইসিকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের শপথ পাঠ করাতে পারবেন। এবার প্রথমবারের মতো সেটি হতে যাচ্ছে।

ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় বিএনপি : সালাহউদ্দিন আহমদ

বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ম্যান্ডেট আছে নির্বাচন কমিশনের।’

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার না থাকায় সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াতে পারেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। সে হিসেবে আগামীকাল সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন সিইসি।

আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এমনটা জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।

সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিদ্যমান সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ পড়ানোর এখতিয়ার নেই সিইসির।’

সালাহউদ্দিন আহমদ আরো বলেন, ‘যদি সেটি সংবিধানে ধারণ করা হয়, সংবিধান সংশোধন করা হয় এবং কে শপথ পাঠ করাবে, তা নির্ধারিত হয়, তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ হতে পারে।’

দলের আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘দেশের সব বিভাগেই চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সব ব্যবস্থা ভেঙে গেছে। এগুলোকে নতুন করে পুনর্গঠন করতে হবে।’

মন্ত্রীদের মধ্যে কে কী হচ্ছেন, সে বিষয়ে তিনি এখনো কিছু জানেন না বলেও জানান আমীর খসরু।