শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬

এটা যুদ্ধ নয়, ধ্বংসযজ্ঞ : হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ প্রসঙ্গে এরদোগান

হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ নিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, যুদ্ধেরও এক ধরনের নৈতিকতা রয়েছে। এ ধ্বংসযজ্ঞ যুদ্ধের নৈতিকতাবিরোধী।
ফিলিস্তিনের গাজায় কয়েক দিন ধরে চলমান অবরোধ এবং বিরামহীন ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।
বুধবার পার্লামেন্টে ক্ষমতাসীন একে পার্টির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় এরদোগান ইসরাইলের প্রতি এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, প্রতিটি যুদ্ধের নীতিনৈতিকতা আছে। সপ্তাহজুড়ে গাজায় যা চলছে তাতে নৈতিকতার মারাত্মক লঙ্ঘন হচ্ছে।
অবরুদ্ধ গাজায় বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া এবং বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংসের প্রসঙ্গ টেনে এরদোগান বলেন, ‘মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে বাধা দেওয়া ও বেসামরিক মানুষজনের ঘরবাড়িতে বোমা হামলা করা যুদ্ধের লজ্জাজনক কৌশল। এটা যুদ্ধ নয়, এটি একটি ধ্বংসযজ্ঞ।’
এরদোগান আরও বলেন, ইসরাইলের ভূখণ্ডে বেসামরিক মানুষজনকে হত্যা করায় প্রকাশ্যে সমালোচনা করি আমরা। সেই সঙ্গে গাজার নিরীহ মানুষজনের ওপর চালানো ধ্বংসযজ্ঞ ও বিরামহীন বোমাবর্ষণের মাধ্যমে হত্যার ঘটনাকেও সমর্থন করা যায় না।
ইসরাইলের সঙ্গে ফিলিস্তিনের সংগঠন হামাসের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত গত শনিবার। ইসরাইলের ভূখণ্ডে ওই দিন নজিরবিহীন রকেট হামলা চালায় হামাস। মাত্র ২০ মিনিটে ৫ হাজারের মতো রকেট ছুড়ে নিজেদের শক্তির জানান দেয় সংগঠনটি। ভেদ করে ইসরাইলের নিশ্ছিদ্র সুরক্ষাবলয়।
শুধু তাই নয়, সীমান্ত পেরিয়ে ইসরাইলে ঢুকে পড়েন হামাসের যোদ্ধারা। শুরুতে হতবাক হলেও দ্রুত পালটা জবাব দেয় ইসরাইল। পালটা আক্রমণ করে গাজা উপত্যকায়। এর পর থেকে ফিলিস্তিনে মুহুর্মুহু বোমা পড়ছে। ইসরাইলি বিমান হামলায় গাজায় অসংখ্য ভবন ধসে পড়েছে। দেখা দিয়েছে খাবারের চরম সংকট। অনেক জায়গায় নেই বিদ্যুৎ। সুপেয় পানির সংকটে ভুগছেন গাজাবাসী।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গাজায় দুই শতাধিক জায়গায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য, ইসরাইলি হামলায় মৃতের সংখ্যা এক হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে হামাসের হামলায় ইসরাইলের মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ২০০।

ইসরায়েলে যুদ্ধকালীন জরুরি সরকার গঠন

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও মধ্যপন্থী বিরোধী দলের নেতা গ্যান্টজ তাদের দেশে জরুরি সরকার গঠনে সম্মত হয়েছেন।
বুধবার (১১ অক্টোবর) গ্যান্টজের জাতীয় ঐক্য পার্টি ও নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘোষণা দিয়েছে।
বিবৃতি অনুসারে, দুই পক্ষ যুদ্ধকালীন একটি মন্ত্রিসভা গঠন করবেন। এ সভায় অন্তর্ভুক্ত থাকবেন নেতানিয়াহু, গ্যান্টজ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট। হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় এ মন্ত্রিসভা কোনো সম্পর্কহীন নীতি বা আইন প্রচার করবে না।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুদ্ধ পরিচালনার বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এ ধরনের কোনো বিল বা সরকারি সিদ্ধান্ত নেসেটে (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) পাস হবে না। এবং যুদ্ধকালীন সময়ে সমস্ত সিনিয়র কর্তৃপক্ষ নিয়োগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানো।
প্রাক্তন আইডিএফ জেনারেল ন্যাশনাল ইউনিটি এম কে গাদি আইজেনকোট ও মন্ত্রী রন ডারমার যুদ্ধ মন্ত্রিসভায় পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করবেন।
যুদ্ধের সময়কালের জন্য ন্যাশনাল ইউনিটি পার্টির পাঁচ সদস্যকে বৃহত্তর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভায় যুক্ত করা হবে। এটি সব সরকারের সময় অধীনে কাজ করবে। সদস্যের মধ্যে গ্যান্টজ আইজেনকোট, এমকে গিডিয়ন সা-আরসহ আর ‍দুজন থাকবেন। অন্য দুজন কে তা এখনও নির্ধারিত হয়নি।
বিবিসি জানিয়েছে বিরোধী নেতা ইয়ার ল্যাপিডের জন্য যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় একটি পদ খালি রাখা হয়েছে। তবে ল্যাপিডের শর্ত হলো- জরুরি সরকারে উগ্র-ডানপন্থী ধর্মীয় ইহুদিবাদ ও ওৎজমা ইহুদি দলগুলো যদি অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাহলে তিনি এ সরকারে যুক্ত হবেন না।

আকস্মিক সফরে কিরগিস্তানে পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় সফরে কিরগিস্তান গেছেন।এ বছরে এটাই পুতিনের প্রথম বিদেশ সফর।
দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি রয়েছে পুতিনের। এর মধ্যে রয়েছে কিরগিস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারোভের সঙ্গে পুতিনের বৈঠক। খবর তাসের।
প্রেসিডেন্টের রাষ্ট্রীয় বাসভবন আলা-আরচায় দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।এ সময় দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে।
রাতে ক্যান্টে অবস্থিত রুশ সেনাঘাঁটির ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন পুতিন।
এর আগে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে পুতিনের।

ইলিশ ধরার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু

ইলিশের ভরা মৌসুমে বিষখালী নদীতে জেলেদের জালে ইলিশের দেখা মেলার পরপরই শুরু হচ্ছে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। ইলিশ আহরণের মৌসুম প্রায় শেষ। ভরা মৌসুমের শেষ মুহূর্তেও নদীতে ইলিশের নাগাল না পেয়ে হতাশ এ উপজেলার কয়েক হাজার জেলে। নিষেধাজ্ঞার সময় কীভাবে সংসার চলবে, তা নিয়ে উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগীর জেলেদের কপালে দুঃশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ছে।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১১ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ থাকবে। বরগুনার বেতাগী উপজেলায় সরকারিভাবে নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ৩ হাজার ৪০০ জন। ইলিশ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় এ উপজেলার নিবন্ধনকৃত জনপ্রতি জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। ২২ দিনে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া অপ্রতুল খাদ্য সহায়তা নিয়েও রয়েছে জেলেদের ক্ষোভ।
এবছর ভরা মৌসুমে বৈরী আবহাওয়া ও বিষখালী নদীতে ইলিশ না পাওয়ায় জেলেরা হতাশা হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় একাধিক জেলে বলেন, আগামী ২২ দিন ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকার থেকে তারা বিরত থাকবেন। কিন্তু বিকল্প কোনো কর্মসংস্থান না থাকায় তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হবে। এ ছাড়াও মহাজনের দেনা আর এনজিওর ঋণের কিস্তি নিয়ে তাদের দুঃশ্চিন্তার শেষ নেই।
বেতাগী সদর ইউনিয়নের ঝোপখালী এলাকার জেলে আব্দুল জলিল বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার সময় তো আমরা জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে পারব না। তাই আমাদের তো কোনো আয় ইনকামও থাকে না। এ বছর সরকার যদি আমাদের নামে বরাদ্দকৃত চাল দ্রুত বিতরণের ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে অনেক উপকার হবে।’
বেতাগী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জেলেপাড়ার প্রবীণ জেলে রোহিনী কাড়া বলেন, ‘এই বচ্ছর বিষখালীতে তেমন কোনো ইলিশ পাই নাই, যা পাইছি তা জাটকা। এই জাটকা শিকার কইরা কোনো রহম জীবনডা বাঁচাইছি। ’
উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা সমাপ্তি সাহা বলেন, ২২ দিনের মা ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞাকে সফল করতে এরই মধ্যে প্রচার-প্রচারণা করেছেন তারা। গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে জনসচেতনতায় সভা করেছেন। ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞায় ইতোমধ্যে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আমরা ২২ দিনের মা ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা কঠোর করার জন্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। যারা সরকারি আইন অমান্য করে নদীতে গিয়ে মাছ শিকার করবে তাদের জেল ও জরিমানা করা হবে। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের নামে বরাদ্দকৃত সরকারি চাল দ্রুত বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

শীর্ষস্থান হারালেন সিরাজ, সুসংবাদ পেলেন কোহলি

আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর এক সপ্তাহের মধ্যে আরও একবার রদবদল হলো র‍্যাঙ্কিংয়ে। বিশ্বকাপের প্রথম এক সপ্তাহেই হয়েছে বেশকিছু রেকর্ড। দেখা গিয়েছে দারুণ কিছু ব্যক্তিগত পারফর্ম্যান্সের ঝলক। যার প্রভাব দেখা গিয়েছে সদ্য প্রকাশিত র‍্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রেও।
বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান হারিয়েছেন ভারতের মোহাম্মদ সিরাজ। এশিয়া কাপের ফাইনালে বিধ্বংসী স্পেলের সুবাদে শীর্ষে উঠে এলেও এরপর থেকে কিছুটা বিবর্ণ সময় পার করছেন এই পেসার। অজিদের বিপক্ষে সিরিজে ৬৮ রানে পেয়েছিলেন ১ উইকেট। বিশ্বকাপে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কেবল এক উইকেট।

বিপরীতে প্রথম ম্যাচে জশ হ্যাজেলউড শিকার করেছেন ৩ উইকেট। তাতেই এই অজি পেসারের পয়েন্ট ৬৬৯ থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৮২। অন্যদিকে সিরাজের পয়েন্ট কমে হয়েছে ৬৬৪। নিউজিল্যান্ডের ট্রেন্ট বোল্ট দুই ধাপ এগিয়ে উঠেছেন তিনে, তার সতীর্থ ম্যাট হেনরি চার ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন পাঁচে।
ব্যাটিং র‍্যাঙ্কিংয়ে বাবর আজমের শীর্ষস্থান আরেকটু হলেও চাপে পড়েছে। দুই ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলেও ভারতের শুভমান গিলের সঙ্গে ব্যবধান কমাতে পারেননি পাকিস্তানের অধিনায়ক। বিশ্বকাপের আগে শুবমান গিলের চেয়ে ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৮ পয়েন্টে এগিয়ে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে শীর্ষে ছিলেন বাবর আজম।
বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচেই ব্যাট হাতে ব্যর্থ তিনি। হারিয়েছেন ২২ পয়েন্ট। আর ডেঙ্গুর কারণে কোন ম্যাচ না খেলার ফল হিসেবে গিল হারিয়েছেন ৯ পয়েন্ট। দুজনের পয়েন্ট ব্যবধান এক কেবল ৫। সর্বশেষ র‍্যাঙ্কিংয়ে বাবরের পয়েন্ট ৮৩৫, গিলের ৮৩০।

অনেকটা পিছিয়ে ৭৫৮ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে তিনে দক্ষিণ আফ্রিকার রেসি ফন ডার ডুসেন। আর সমান ৭২৯ পয়েন্ট নিয়ে যৌথভাবে চারে আছেন আয়ারল্যান্ডের হ্যারি টেক্টর ও অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার।
অজিদের বিপক্ষে ম্যাচ জেতানো ইনিংসের সুবাদে র‍্যাঙ্কিংয়ে উপরে উঠে এসেছেন বিরাট কোহলি। এখন অবস্থান করছেন সাতে। গতকাল আফগানিস্তানের বিপক্ষেও খেলেছেন ৫৫ রানের অপরাজিত ইনিংস। বিশ্বকাপের আগে স্ত্রী আনুশকা শর্মার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর এসেছিল। সেটার পর থেকেই সুসময় যাচ্ছে কোহলির। তার বর্তমান পয়েন্ট ৭১৫। বর্তমান ফর্ম ধরে রাখা গেলে আবারও শীর্ষ পাঁচে দেখা যেতে পারে তাকে।

রানরেটের মারপ্যাঁচে টাইগাররা

বিশ্বকাপের সূচনা যতখানি উড়ন্ত ছিল, পরের ম্যাচটা বাংলাদেশের জন্য ছিল ততটাই নাজুক। আফগানিস্তানকে প্রথম ম্যাচে দেখানো আগুনে ফর্ম পরে আর ধরে রাখতে পারেনি সাকিব আল হাসানের দল। ম্যাচ হারার ফলে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে ম্যাচ শেষের একদিন পর বোঝা গেল আসল চিত্র।
বাংলাদেশ নিজেরা হেরেছে ১৩৭ রানের বড় ব্যবধানে। তাতে নেট রানরেট পড়ে গিয়েছে অনেকটাই। একইদিনে পাকিস্তান শ্রীলঙ্কার দেওয়া ৩৪৫ রানের টার্গেট পার করেছিল ৬ উইকেট হাতে রেখে। আর গতকাল (বুধবার) ভারত আফগানিস্তানকে হারিয়েছে ৮ উইকেটের ব্যবধানে। সবমিলিয়ে পয়েন্ট একই থাকলেও রানরেটের হিসেবে সমীকরণ বদলেছে অনেক।
এই মুহূর্তে বিশ্বকাপের পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে আছে নিউজিল্যান্ড। তাদের পয়েন্ট ৪, নেট রানরেট ১.৯৫৮। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারত এবং তৃতীয় স্থানে থাকা পাকিস্তানেরও সমান পয়েন্ট। তবে রানরেটের হিসেবে একটু এগিয়ে ভারত। পাকিস্তান অবশ্য এই ব্যবধান কমানোর সুযোগ পাবে শনিবারে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ সেই ভারতই।

এরপরেই আছে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইংল্যান্ড। তাদের পয়েন্টও সমান ২। আর বাংলাদেশ আছে ষষ্ঠ স্থানে। অন্তত ২ পয়েন্ট পেয়েছে এমন দলের তালিকায় সবার নিচেই আছে টাইগাররা। অন্তত এক ম্যাচ জেতা দলগুলোর মধ্যে একমাত্র ঋণাত্মক রানরেটও সাকিব আল হাসানদের।
আগামীকাল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পাশাপাশি তাই বাংলাদেশের বাড়তি নজর থাকবে রানরেটের দিকে। এর আগে ২০১১ সালেও তিন ম্যাচে জিতে কেবল রানরেটের হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখা হয়নি সাকিব বাহিনীর। ২০১৯ বিশ্বকাপে একইভাবে নিউজিল্যান্ডের কাছে কপাল পুড়েছিল পাকিস্তানের। এবার নিশ্চিতভাবে সেই একই হতাশা পেতে চাইবে না টাইগাররা। তাই চেন্নাইয়ের ম্যাচে জয় ছাড়াও চোখ থাকবে রানরেটের দিকে।
বাংলাদেশের পরেই পয়েন্ট তালিকায় আছে অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, নেদারল্যান্ডস ও আফগানিস্তান। এদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া বাদে সকলেই শেষ করেছে দুটি করে ম্যাচ। অজিরা অবশ্য আজ (বৃহস্পতিবার) নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।

গাজা : এক সময়ের অটোমান অঞ্চল এখন বিশ্বের ‌‌‌‌‘সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত কারাগার’

ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলি এলাকায় তাদের নজিরবিহীন আক্রমণ শুরু করেছিল বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এবং দরিদ্র একটি অঞ্চল গাজা থেকে।
এই উপত্যকায় সশস্ত্র সংঘাতের এক দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু সংঘাতের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে হয়েছে।
কয়েক দশক ধরে, ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।
গাজা উপত্যকা ২০০৭ সাল থেকে শাসন করে আসছে হামাস। কিন্তু ৭ই অক্টোবর ফিলিস্তিনি এই যোদ্ধাদের হামলা সবাইকে হতবাক করে দিয়েছে।
হামাস ইসরায়েলে হাজার হাজার রকেট নিক্ষেপ করেছে। সেই সাথে অনেক হামাস যোদ্ধা গাজার সীমানা অতিক্রম করে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে প্রবেশ করে।
এরপর তারা ইসরায়েলি বাসিন্দাদের ওপর হামলা চালায়, শত শত মানুষকে হত্যা করে এবং বহু সংখ্যক মানুষকে বন্দী করে গাজায় নিয়ে যায়।
এই হামলাকে গাজা থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামাসের পরিচালিত এ যাবতকালের সবচেয়ে বড়, ভয়াবহ ও পরিকল্পিত আন্তঃসীমান্ত অভিযান বলে মনে করা হয়।
প্রশ্ন হল, এই গাজা উপত্যকার ইতিহাসে কী আছে? মানবাধিকার সংস্থা এবং ফিলিস্তিনিরা কেন একে বিশ্বের বৃহত্তম উন্মুক্ত কারাগার হিসাবে আখ্যা দিয়েছে?
ভোগ দখলের ভূখণ্ড
১৯৯২ সালের সেপ্টেম্বরে, তৎকালীন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী আইজ্যাক রবিন, এক মার্কিন প্রতিনিধিকে বলেছিলেন: “আমি চাই গাজা সমুদ্রে ডুবে যাক, কিন্তু তা হবে না, তাই আমাদের একটি সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।”
আইজ্যাক রবিন ১৯৯৫ সালে এক ইহুদি চরমপন্থীর হামলায় নিহত হন।
গাজা উপত্যকাকে অনেক বিশ্বাসীরা পবিত্র ভূমি বলে মনে করে।
গাজা উপত্যকাকে অনেক বিশ্বাসীরা পবিত্র ভূমি বলে মনে করে।
তবে তিনি যে সমাধানের কথা বলেছিলেন, তিরিশ বছরের বেশি সময় পরেও, সেই সমাধানের কোন লক্ষণ দেখা যায়নি।
গাজা উপত্যকা ৪১ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১০ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি অঞ্চল যা ইসরায়েল, মিশর এবং ভূমধ্যসাগরের মধ্যে অবস্থিত।
এখানে প্রায় ২৩ লাখ মানুষ বসবাস করে। যা বিশ্বের সর্বোচ্চ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্যে একটি।
গাজা উপত্যকাকে ঘিরে চার হাজার বছরের অবরোধ এবং ভোগ দখলের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।
প্রাচীন মিশরীয় যুগ থেকে শুরু করে খ্রিস্টের কয়েকশ বছর আগে পর্যন্ত, এমনকি ১৬ শতকে অটোমান সাম্রাজ্যের পতন পর্যন্ত বিভিন্ন রাজবংশ, সাম্রাজ্য এবং ব্যক্তি এই গাজা উপত্যকাকে শাসন, ধ্বংস ও পুনরুদ্ধার করেছে।
আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট, রোমান সাম্রাজ্য বা মুসলিম জেনারেল আমর ইবনে আল-আস এই গাজা উপত্যকা জয় করেছে।
যখন যারা গাজা জয় করেছে তখন তারা তাদের মতো করে এখানকার ধর্মীয় বিশ্বাস, সমৃদ্ধি ও পতনকে প্রভাবিত করেছে।
গাজা ১৯১৭ সাল পর্যন্ত অটোমান সাম্রাজ্যের অংশ ছিল, এরপর এটি ব্রিটিশ শাসনের অধীনে আসে।
ব্রিটেন মূলত একটি ঐক্যবদ্ধ আরব রাজ্য গঠনের জন্য কাজ করছিল।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ এবং তুর্কিরা গাজা উপত্যকা এবং অটোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত বেশিরভাগ এশিয়ান আরব অঞ্চলগুলোর ভবিষ্যতের বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছায়।
কিন্তু ১৯১৯ সালে প্যারিস শান্তি সম্মেলনের সময়, বিজয়ী ইউরোপীয় শক্তিগুলো প্রতিশ্রুত ঐক্যবদ্ধ স্বাধীন আরব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বাধা দেয়।
বরং তারা বেশ কয়েকটি ম্যান্ডেট জারি করে যার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যকে বিভক্ত করে সুরক্ষা দেয়ার কথা বলা হয়।
এভাবে গাজা ফিলিস্তিনের ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত লীগ অফ নেশনস এর অনুমোদন দেয়।
গাজা উপত্যকা ১৯২০ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের অংশ থাকে।
ছয় দিনের যুদ্ধে বিজয়ের পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পূর্ব জেরুসালেমে প্রবেশ করে।
ছয় দিনের যুদ্ধে বিজয়ের পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পূর্ব জেরুসালেমে প্রবেশ করে।
যুদ্ধ এবং অঞ্চল বণ্টন
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, ব্রিটিশরা ফিলিস্তিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব সদ্য গঠিত জাতিসংঘের ওপর ছেড়ে দেয়।
১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে দ্বিখণ্ডিত করা সংক্রান্ত ১৮১ নম্বর প্রস্তাব গৃহীত হয়।
যার মাধ্যমে, জাতিসংঘ ফিলিস্তিনকে দ্বিখণ্ডিত করার প্রস্তাব পাস করে। ইহুদিদের জন্য ভূখণ্ডের ৫৫ শতাংশ, গাজা উপত্যকাসহ বাকি অংশ আরবদের জন্য বরাদ্দ করা হয়।
তবে জেরুসালেম আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি।
এই প্রস্তাবনা ১৯৪৮ সালের মে মাসে কার্যকর হয়। যার ফলে, ফিলিস্তিনের ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের অবসান ঘটে এবং ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
এরপরই যুদ্ধ শুরু হয়ে যায় । যা ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ নামে পরিচিতি পায়।
এই সংঘাতের কারণে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি শরণার্থী গাজা উপত্যকায় বসতি স্থাপন করে।
যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরের পর গাজা উপত্যকা মিশরের দখলে চলে যায় এবং তাদের দ্বারাই শাসিত হয়।
তবে সেই নিয়ন্ত্রণ থাকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত। ওই বছর ইসরায়েলের সাথে মিশর, জর্ডান ও সিরিয়ার মধ্যে ছয় দিনের যুদ্ধ বেধে যায়।
সে সময় মিশর, সিরিয়া, জর্ডান এবং ইরাককে আনুষ্ঠানিকভাবে সংযুক্ত আরব প্রজাতন্ত্র বা আরবদের জোট বলা হতো।
যুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনী জয়লাভের পর গাজা উপত্যকা, পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয়।
এরপর থেকে ওই ভূখণ্ডের দখল নিয়ে একের পর এক সহিংস সংঘর্ষ শুরু হয় যা আজও অব্যাহত রয়েছে।
ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের প্রথম ইন্তিফাদা বা অভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল গাজায় ১৯৮৭ সালে। সে বছর ইসলামপন্থী দল হামাস প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি অন্যান্য অধিকৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর ১৯৯৩ সালে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে অসলো চুক্তি স্বাক্ষর হয়। যার মাধ্যমে জন্ম হয় প্যালেস্টিনিয়ান ন্যাশনাল অথরিটি-পিএনএ বা ফিলিস্তিনি জাতীয় কর্তৃপক্ষের।
ওই চুক্তির মাধ্যমে গাজা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের কিছু অংশে সীমিত স্বায়ত্তশাসন দেয়া হয়।
উভয় পক্ষের মধ্যে বোঝাপড়া হয় যে ফিলিস্তিনিরা স্বশাসনের আংশিক অধিকার পাবে এবং ইসরায়েল প্রথমে পশ্চিম তীরের জেরিকো এবং তারপর গাজা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে নেবে।
এর পরিবর্তে, ইসরায়েলি রাষ্ট্রের বৈধতা স্বীকার করে নেবে পিএলও।
এরপর ২০০৫ সালে দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে সহিংস ইন্তিফাদার পর ইসরায়েল গাজা উপত্যকা থেকে তাদের সৈন্য এবং প্রায় সাত হাজার বসতি স্থাপনকারীদের প্রত্যাহার করে নেয়।
এর এক বছর পর, ফিলিস্তিনের নির্বাচনে হামাস নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। এরপর ২০০৭ সালে ফিলিস্তিনের হামাস এবং ফাতাহ পার্টির মধ্যে একটি সহিংস ক্ষমতার লড়াই শুরু হয়।
সে সময় ফাতাহ পার্টির নেতৃত্বে ছিলেন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।
সশস্ত্র গোষ্ঠীটি গাজায় বিজয়ী হয় এবং এখন পর্যন্ত তারাই সেখানকার শাসন ক্ষমতায় টিকে আছে। এর মধ্যে গাজা উপত্যকায় বয়ে গেছে তিনটি যুদ্ধ এবং ১৬ বছরের অবরোধ।
হামাস ইসরায়েলকে ধ্বংস করে একটি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এই সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হাজার হাজার রকেট হামলা এবং অন্যান্য মারাত্মক হামলা চালায়।
সামগ্রিকভাবে হামাস বা কিছু ক্ষেত্রে এর সামরিক শাখাকে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসাবে চিহ্নিত করেছে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি অন্যান্য শক্তি।
তবে ইরান এই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন করে। সেইসাথে তাদের অর্থায়ন, অস্ত্র সরবরাহসহ প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করে।
হামাসের হামলার পর ইসরায়েল গাজায় পাল্টা হামলা চালায়।
হামাসের হামলার পর ইসরায়েল গাজায় পাল্টা হামলা চালায়।
অবরোধ
হামাস ক্ষমতায় আসার পর ইসরায়েল ও মিশর গাজা উপত্যকার ওপর স্থল, আকাশ ও সমুদ্র অবরোধ আরোপ করে।
জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংস্থার আহ্বান সত্ত্বেও, ইসরায়েল ২০০৭ সাল থেকে অবরোধ অব্যাহত রেখেছে।
এই অবরোধ ফিলিস্তিনের বেসামরিক নাগরিকদের উপর এক ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে। গাজাবাসীদের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রেও কঠোর নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হতে হয়।
ইসরায়েলের মানবাধিকার গোষ্ঠী বিতসেলেমের মতে, গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের ঢোকা ও বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইসরায়েল।
খুব বিরল ক্ষেত্রে তাদের চলাচল করতে দেয়া হয়। যদি কারও জীবন সংকটে থাকে এবং জরুরী চিকিৎসা প্রয়োজন হয় এবং হাতে গোনা তালিকাভুক্ত কয়েকজন ব্যবসায়ী এই সুযোগ পান।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গাজার অবস্থাকে “একটি উন্মুক্ত কারাগার” এর সাথে তুলনা করেছে, যেখানে ফিলিস্তিনিদের উপর চলাচলের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসরায়েল।
ইসরায়েল জানিয়েছে, হামাসের হাত থেকে ইসরায়েলি নাগরিকদের রক্ষা করার জন্য তারা এই অবরোধের মাধ্যমে গাজার সীমানা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং মিশরও এই নিয়ন্ত্রণ আরোপে কাজ করছে।
রেডক্রসের আন্তর্জাতিক কমিটি এই অবরোধকে বেআইনি এবং জেনেভা কনভেনশনের লঙ্ঘন বলে মনে করে।
যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।
জাতিসংঘ, বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং আইনজ্ঞরা মনে করেন যে গাজা এখনও ইসরায়েলের সামরিক দখলে রয়েছে।
অবরোধ ঠেকানোর প্রচেষ্টা চালাতে গিয়ে, হামাস সুড়ঙ্গের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে।
এই সুড়ঙ্গ দিয়ে তারা গাজা উপত্যকায় পণ্য এবং অস্ত্র আনা নেয়া করে। সেইসাথে ভূগর্ভস্থ কমান্ড সেন্টার হিসাবে এই‌ টানেলগুলো ব্যবহার করে তারা।
ইসরায়েল এই সুড়ঙ্গগুলোকে হুমকি হিসেবে দেখে এবং প্রায়ই সেগুলোকে বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করে।
দরিদ্রতা
আমদানি এবং প্রায় সমস্ত রপ্তানি সীমিত করে, ইসরায়েলের ১৬ বছরের অবরোধ গাজার অর্থনীতিকে পতনের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মতে সেখানে বেকারত্বের হার ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।
জাতিসংঘের মতে, গাজার ৬৫ শতাংশের বেশি মানুষ দারিদ্র সীমার নীচে বাস করে এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মতে, গাজার মোট জনসংখ্যার ৬৩ শতাংশ “খাদ্য অনিরাপদ” অবস্থায় আছে।
গাজায় বসবাসকারী অর্ধেক ফিলিস্তিনির বয়স ১৯ বছরের কম, কিন্তু তাদের আর্থ-সামাজিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ খুবই সীমিত বা একেবারে নেই বললেই চলে।
এছাড়া বহির্বিশ্বের সাথে তাদের যোগাযোগের সুযোগও অনেক সীমিত।
জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, গাজা উপত্যকায় ক্রমাগত সহিংসতার মধ্যে একটি প্রজন্ম বেড়ে উঠছে যেখানকার শিশুরা যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী মানসিক প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে তেমন কোন সহায়তা পায় না।
যা গাজা উপত্যকায় বসবাসকারী শিশু কিশোরদের মধ্যে বিষণ্ণতাসহ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ২০২১ সালের একটি প্রতিবেদনে বলেছে, “গাজা বন্ধ করে দেয়ার কারণে অনেক প্রতিভাবান, পেশাদার ব্যক্তিরা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। যারা সুযোগ পেলে হয়তো সমাজকে অনেক কিছু দিতে পারতো।”
“ফিলিস্তিনিদেরকে মাতৃভূমি গাজায় অবাধে চলাফেরা করতে বাধা দেওয়ার কারণে তাদের জীবন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে লাখ লাখ ফিলিস্তিনির ওপর নিপীড়ন এবং তাদের ওপর বৈষম্যের নিষ্ঠুর বাস্তবতা ফুটে উঠেছে।”
তেইশ লাখ ফিলিস্তিনি গাজার আনুমানিক ৩৬০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বসবাস করে। গাজা হল “বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলির মধ্যে একটি,” ইসরায়েলের বেসরকারি সংস্থা গিশা এই তথ্য জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মতে, প্রায় ছয় লাখ শরণার্থী এই অঞ্চলের আটটি জনাকীর্ণ শিবিরে বাস করে।
লন্ডনের মতো একটি শহরে গড়ে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় পাঁচ হাজার সাতশ জন, কিন্তু গাজা শহরে এই সংখ্যা নয় হাজারের বেশি।
২০১৪ সালে, ইসরায়েল রকেট হামলা এবং হামাস যোদ্ধাদের হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য সীমান্ত বরাবর একটি প্রতিরক্ষা অঞ্চল ঘোষণা করে।
গাজায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট একটি নিত্যদিনের ঘটনা।
গাজায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট একটি নিত্যদিনের ঘটনা।
এ কারণে গাজা উপত্যকার একটি বড় অংশ জুড়ে কোন আবাসন নির্মাণ বা চাষাবাদের জন্য কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
গাজায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট একটি নিত্যদিনের ঘটনা।
জাতিসংঘের মানবিক সংগঠন ওসিএইচএ অনুসারে, গাজার বেশিরভাগ বাড়িতে দিনে মাত্র তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে।
গাজা উপত্যকা তাদের বেশিরভাগ বিদ্যুৎ ইসরায়েল থেকে পায়। পাশাপাশি গাজার একমাত্র বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এবং মিশর থেকে অল্প পরিমাণে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়।
বেশিরভাগ গাজাবাসী পানির ঘাটতিতেও ভুগছে এবং একটি অনিশ্চিত জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে বসবাস করছে।
ফিলিস্তিনি অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার দায়িত্ব পালন করে এএনপি। ওসিএইচএ এর মতে, ইসরায়েল ও মিশরের অবরোধ, স্বাস্থ্যে এএনপির বিনিয়োগ কমে যাওয়া এবং এএনপি ও হামাসের মধ্যে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সেখানকার স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতিতে ভঙ্গুর করে তুলেছে।
জাতিসংঘ সেখানকার ২২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনায় সাহায্য করছে। তবে ইসরায়েলের সাথে পূর্ববর্তী সংঘর্ষে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ও ক্লিনিক ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।
তবে হামাসের সর্বশেষ হামলার পর গাজার বেসামরিক নাগরিকদের জীবন এবং অবকাঠামো পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে খারাপের দিকে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলে ২২ মার্কিনি নিহত, নিখোঁজ আরও ১৭

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধে নিহত মার্কিন নাগরিকদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ জনে। এছাড়া এখনও ১৭ জন আমেরিকান নাগরিকের কোনও খোঁজ মিলছে না।
গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া পাঁচ দিনের এই যুদ্ধে উভয়পক্ষের ২৩০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধে কমপক্ষে ২২ মার্কিন নাগরিকের নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে। আরও ১৭ জন মার্কিনি নিখোঁজ রয়েছেন। মূলত ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধে নিহত আমেরিকান নাগরিকদের সংখ্যা গত মঙ্গলবার ১৪ জন বলা হলেও বুধবার তা ২২ জনে পৌঁছায়।
হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা মুখপাত্র জন কিরবি বুধবার বলেছেন, গত সপ্তাহান্তে ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের অভূতপূর্ব হামলার সময় বন্দি হওয়া আনুমানিক ১৫০ জন ব্যক্তির মধ্যে ‘মুষ্টিমেয়’ মার্কিন নাগরিক রয়েছেন।
কিরবি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই মুহূর্তে, যে সংখ্যাটি আমরা জানি বা আমরা বিশ্বাস করি যে, বন্দি করা হয়েছে তা খুব ছোট, খুব ছোট, মুষ্টিমেয় থেকেও কম। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এটি পরিবর্তিত হতে পারে।’
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেছেন, ইসরায়েল-হামাসের অব্যাহত যুদ্ধে মার্কিন নাগরিকদের মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ইসরায়েলের প্রতি বাইডেন প্রশাসনের দ্ব্যর্থহীন সমর্থনের অংশ হিসাবে বৃহস্পতিবার শীর্ষ এই মার্কিন কূটনীতিকের তেল আবিবে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এদিকে হামাস-ইসরায়েলের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ইসরায়েল উপকূলে বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর কথা জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানায়, তারা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এবং এর সঙ্গে থাকা অন্য যুদ্ধ জাহাজগুলোকে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে পাঠাচ্ছে।
আর এর মাধ্যমে মূলত এই অঞ্চলে ফাইটার এয়ারক্রাফটের সংখ্যা বাড়াতে চাচ্ছিল দেশটি।
আল জাজিরা বলছে, মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে উন্নত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড পূর্ব ভূমধ্যসাগরে পৌঁছে যাওয়ার পর মার্কিন সামরিক বাহিনী দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস ডোয়াইট ডি আইজেনহাওয়ারকে এবার ইসরায়েলের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

হামাস সদস্যদের ‘মৃত্যু পরোয়ানা’ ঘোষণা করলেন নেতানিয়াহু

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন ও গাজার শাসকগোষ্ঠী হামাসের ‘মৃত্যু পরোয়ানা’ ঘোষণা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে যুদ্ধের ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে। দুই পক্ষের ২৩০০ এর বেশি মানুষ এতে প্রাণ হারিয়েছেন।
এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, গাজায় ভয়াবহ অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল। এমন অবস্থার মধ্যে অভিযানে প্রত্যেক হামাস সদস্যের ‘মৃত্যু পরোয়ানা’ ঘোষণা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাদের সব সদস্যকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন তিনি।
ইসরায়েল এরই মধ্যে জরুরি সরকার গঠন করেছে। সেই সরকারের প্রথম বৈঠকের পর নেতানিয়াহু এমন মন্তব্য করেন। এছাড়া ইসরায়েলের বিরোধী নেতা বেনি গ্যান্টজ বলেছিলেন যে এটি ‘যুদ্ধের সময়’।
বুধবার হামাসের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মাঝে জাতীয় সরকার গঠনে ঐকমত্যে পৌঁছে ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন জোট ও বিরোধীরা। কয়েক ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও বিরোধীদলীয় নেতা বেনি গান্তেজ জাতীয় সরকার গঠনে রাজি হন। পরে সন্ধ্যার দিকে দেওয়া এক ভাষণে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রত্যেক হামাস সদস্যকে মৃত দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘প্রত্যেক হামাস সদস্যই (আমার চোখে) মৃত ব্যক্তি বা ডেড ম্যান।’ সাধারণত পশ্চিমা বিশ্বে প্রাচীন আমলে প্রতিপক্ষকে হত্যা করার হুমকি দিতে এই ডেড ম্যান শব্দবন্ধটি ব্যবহার করা হতো।
ইসরায়েলে মৃতের সংখ্যা ১২০০ ছুঁয়েছে। গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
জরুরি সরকার গঠনের মানে হল, যুদ্ধকালীন সময়ে যুদ্ধ পরিচালনার বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এ ধরনের কোনো বিল বা সরকারি সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে পাস হবে না। পাশাপাশি যুদ্ধকালীন সময়ে সমস্ত সিনিয়র কর্তৃপক্ষ নিয়োগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানো হবে।
গত ৭ অক্টোবর সকালে ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলা শুরু করে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। তারা মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে ইসরায়েলের দিকে ৫ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। একই সঙ্গে স্থলপথ, জলপথ ও আকাশপথে দেশটিতে ঢুকে পড়েন হামাস যোদ্ধারা। ইসরায়েলও এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ ঘোষণা করে হামাসের বিরুদ্ধে।
সাধারণত যুদ্ধ শুরু হলে সামরিক অবস্থানে হামলা চালায় প্রতিপক্ষ। তবে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় সেসবের কিছুই মানছে না ইসরায়েল। তারা যেন একেবারে সব শেষ করে দিতে হামলা করছে। বেশিরভাগ মসজিদে হামলা চালানো হয়েছে। হাসপাতাল, স্কুলও বাদ যাচ্ছে না।
এদিকে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার একমাত্র বিদ্যুৎকেন্দ্র। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে গাজার জরুরি ও সামান্য বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছিল। এখন গাজা পুরোপুরি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। এর ফলে সেখানে মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে।

গাজায় খাদ্য-জ্বালানি প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে : জাতিসংঘ

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের হামলার পর গত রোববার থেকে গাজার ওপর ‘সর্বাত্মক অবরোধ’ আরোপ করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োয়াভ গালান্ট ঘোষণা দিয়েছেন, গাজাকে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন করার পাশপাশি ওই অঞ্চলে খাদ্য বা জ্বালানি কোনো কিছুই প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
কিন্তু এর সঙ্গে একমত নয় জাতিসংঘ। সংস্থাটির মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, গাজা উপত্যকায় খাদ্য, জ্বালানি এবং পানির মতো জীবন রক্ষাকারী প্রয়োজনীয় জিনিসের অবশ্যই প্রবেশ করার অনুমতি দিতে হবে।
ইসরায়েল গাজায় সম্পূর্ণ অবরোধ আরোপ করছে, যা জাতিসংঘের আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
এই সর্বাত্মক অবরোধকে যুদ্ধাপরাধ ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভল্কার তুর্ক মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, গাজা উপত্যকার মানবিক পরিস্থিতি এমনিতেই খারাপ ছিল। ফলে সর্বাত্মক অবরোধ আরোপে সেখানকার পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে পড়বে।
২০০৭ সাল থেকেই বায়ু, স্থল ও সমুদ্র তিন দিক থেকেই ইসরায়েলি অবরোধের মুখে রয়েছে গাজা। এক বিবৃতিতে ভল্কার তুর্ক বলেন, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রতি মুহূর্তে হতাহত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় আহতদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে বুধবার (১২ অক্টোবর) জ্বালানির অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে গাজার একমাত্র বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন। এর ফলে অন্ধকারে ডুবে গেছে হামাস-নিয়ন্ত্রিত এলাকাটি। স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে বাসিন্দারা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হওয়ার চূড়ান্ত সতর্কবার্তা পান। এর এক ঘণ্টা পরেই অন্ধকার হয়ে যায় সব কিছু।
বিদ্যুৎ না থাকায় গাজার হাসপাতালগুলোকে এখন কেবল জেনারেটরের ওপর ভরসা করে চলতে হবে। সেটিও চালানো যাবে আর বড়জোর দুই থেকে চারদিন। এরপর শেষ হয়ে যাবে সব জ্বালানি। বিদ্যুৎ না থাকা অর্থ, উপত্যকায় পানি সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বহুতল ভবনগুলোতে আর কাজ করবে না লিফট। আজ রাত থেকেই পুরোপুরি অন্ধকারে কাটাতে হবে গাজার ২৩ লাখ বাসিন্দাকে।