শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬

হামাস-ইসরাইল যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়াল

গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান সংঘাতে ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গত এক সপ্তাহ ধরে চলা এ যুদ্ধে আহত হয়েছেন আরো অন্তত ১৪ হাজার ৩০০ জন।
সোমবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানোনো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুনগরীতে পরিণত হয়েছে গাজা। প্রতিনিয়ত বাড়তেই আছে হতাহতের সংখ্যা। ছিাড়িয়ে যাচ্ছে আগের দিনের সংখ্যাকে।
এদিকে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলের বিমান হামলায় গাজায় কমপক্ষে ২ হাজার ৬৭০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৯ হাজার ৬০০ জন আহত হয়েছেন। নিহতের মধ্যে সাত শতাধিক শিশু ও পাঁচ শতাধিক নারী রয়েছে বলেও জানানো হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, দখলকৃত পশ্চিম তীরে নিহত হয়েছেন ৫৭ জন এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ২০০ জন।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, চলমান এ সংঘাতে ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ৩ হাজার ৫০০ জন।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী আর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া এ হামলায় ইসরাইলের ২৯১ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।
এখন পর্যন্ত যত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন তাদের মধ্যে ৬৬ শতাংশই নারী ও শিশু বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
উল্লেখ্য, গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ইসরাইলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে বলে ঘোষণা করে। এর প্রতিরোধে পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরাইল।
এক বিবৃতিতে হামাসের সামরিক শাখার প্রধান মোহাম্মদ দেইফ বলেন, গত শনিবার (৭ অক্টোবর) সকালে ইসরাইলে পাঁচ হাজার রকেট বর্ষণের মাধ্যমে ‘অপারেশন আল-আকসা স্ট্রম’ শুরু হয়েছে। এ সময় ইসরাইল গাজা থেকে অনুপ্রবেশের কথা স্বীকার করে।

রাজধানীতে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩৯

রাজধানীতে মাদক বিরোধী অভিযানে বিক্রি ও সেবনের অপরাধে ৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
রোববার (১৫ অক্টোবর) ছয়টা থেকে সোমবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ছয়টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) কে এন রায় নিয়তি জানান, আসামিদের কাছ থেকে ১৪৪৬ পিস ইয়াবা, ৫৪ কেজি ৭৩০ গ্রাম গাঁজা, ২০ গ্রাম ৯০ পুরিয়া হেরোইন ও ৩০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়।
আসামিদের বিরুদ্ধে ডিএমপির থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২৯টি মামলা করা হয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার শীর্ষ কূটনীতিকের সাক্ষাৎ

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সোমবার রাশিয়ার শীর্ষ কূটনীতিক সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। মস্কোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ভিডিও ফুটেজে তাদের এই সাক্ষাতের দৃশ্য দেখা যায়।
রুশ নেতা ভ্লাদিমির পুতিনের বেইজিং সফরের প্রাক্কালে আলোচনার জন্য বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই স্টেট গেস্টহাউসে তারা দুজন সাক্ষাৎ করেন।
খবর এএফপি

খালেদা জিয়ার চিন্তার দৈন্যতা আছে, স্বার্থপরতায় ভোগেন : প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি ক্ষমতায় এসে কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার চিন্তার দৈন্যতা আছে এবং তিনি স্বার্থপরতায় ভোগেন।
সোমবার (১৬ অক্টোবর) সকালে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৮০টি সমাপ্ত প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া দেশের ৬৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপিত ‘কমিউনিটি আই সেন্টার’ উদ্বোধন করেন সরকারপ্রধান।
তিনি বলেন, আমরা বিএনপির মতো এসব দৈন্য চিন্তা করি না। আমরা কমিউনিটি ক্লিনিক করে দিয়েছি, সেগুলোতে দলমত নির্বিশেষে সব ধরনের মানুষ সেবা নিচ্ছে। বিএনপির চিন্তা দৈন্য আছে। তারা সব সময় স্বার্থপরতায় ভুগে।
বিএনপি ক্ষমতায় এসে কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার চিন্তার দৈন্যতা আছে এবং তিনি স্বার্থপরতায় ভোগেন বলেও মন্তব্য করেন সরকারপ্রধান।

আওয়ামী লীগ সরকারের বাস্তবায়ন করা কমিউনিটি ক্লিনিক বিএনপি ক্ষমতায় এসে বন্ধ করে দিয়েছিল অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত যখন সরকার ক্ষমতায় ছিলাম তখন প্রায় ১০ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক প্রস্তুত করেছিলাম। এর মধ্যে চার হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক চালুও করেছিলাম। এর মাধ্যমে আমরা জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছিলাম। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য ২০০১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসতে পারিনি। সেসময় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসে।
শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হয়েই কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দেয়। কারণ তিনি মনে করতেন, এসব ক্লিনিকে যারা কাজ করবে বা চিকিৎসাসেবা নেবে তারা সবাই নাকি নৌকা মার্কায় ভোট দেবে। নৌকা মার্কায় ভোট দেবে এই আশঙ্কায় তিনি মানুষের যে স্বাস্থ্য সেবা আমরা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছিলাম, সেটাই বন্ধ করে দেয়।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমরা যে ঘর দিচ্ছি। যে ভূমিহীন-গৃহহীন তাদেরকেই দিচ্ছি। কে কোন দল করে সেটা কিন্তু আমরা দেখছি না। আমরা মানুষকে মানুষ হিসেবেই গণ্য করি। সেভাবেই তাদের সেবাটা দিই। কমিউনিটি ক্লিনিকেও তো আমরা সবার জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু খালেদা জিয়া ও বিএনপি-জামায়াত জোটের চিন্তার দৈন্যতা আছে। তারা স্বার্থপরতায় ভোগে এবং মানুষের কল্যাণ চায় না। এটাই আমাদের দুর্ভাগ্য।
জলাবদ্ধতা যেন সৃষ্টি না হয় সেদিকে নজর রাখার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব যায়গায় পানি সরে যাওয়ার জন্য জলাধার রাখতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে আমাদের দেশকে বাঁচাতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের নদী নালাগুলো মানুষের জীবনের মতো। এগুলো প্রবাহ ঠিক রাখতে হবে। মানুষের হার্ট বন্ধ হলে যেমন মরে যায়, নদীর-নালার প্রবাহ বন্ধ হলে দেশটাই মরে যায়। শুধু পাড় বাধলেই হবে না, নদীর ড্রেজিংও করতে হবে। জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে প্রত্যেক এলাকায় নদী খাল বিল হাওরের পানি প্রবাহ ঠিক রাখতে পদক্ষেপ নিয়েছি। নদীপথগুলোও সচল করার পদক্ষেপ নিই।
বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পানির হাহাকার অনেক জায়গায়। আমরা ব্যবহারে সাশ্রয়ী হলে উদ্বৃত্ত থাকলে রফতানি করতে পারবো। বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমরা অনেক ভর্তুকি দেই। এটারও ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবেন। পাশাপাশি নদী খাল বিল সব কিছু যেনো দূষণমুক্ত হয়, খেয়াল রাখবেন। যেকোনো প্রকল্প প্রণয়নে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখবেন। জলাধার রাখবেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি টিকা দিয়েছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধনী দেশগুলোও বিনামূল্যে করোনার টিকা দেয়নি। কোটি কোটি টাকা খরচ করে আমরা বিনামূল্যে টিকা দিয়েছি। তখন আমাদের রিজার্ভও ভালো ছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাকালে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য আমাদের প্রতিটি নার্স-চিকিৎসককে আলাদা করে ভাতা দিতে হয়েছে। কারণ সেই সময়ে ভয়ে কেউই এগিয়ে আসতে চায়নি। এমনকি তাদের সুরক্ষায় পিপিইসহ বিভিন্ন ধরনের সুরক্ষা সামগ্রী কিনে দিতে হয়েছে। করোনার টিকা দেওয়ার জন্য ভলান্টিয়ার তৈরি করতে হয়েছে। পৃথিবীর অনেক দেশে লাখ লাখ মানুষ মারা গেছে, আল্লাহর রহমতে আমাদের তেমন ক্ষতি হয়নি।
শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে আমরা ১০ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছি। এসব কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রথম ৪ হাজার যখন চালু করি, তখন সেগুলো ৭০ ভাগের মতো সাফল্য অর্জন করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারিনি। খালেদা সরকার ক্ষমতা এসেই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বন্ধ করে দেয়। কারণ, এখানে যারা কাজ করবে, যারা সেবা নেবে, তারা নৌকা মার্কায় ভোট দেবে, সুতরাং এগুলো বন্ধ করে দিতে হবে।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসার ক্ষেত্রে যাতে কোনো ধরনের অবহেলা না হয়, সে ব্যবস্থা আমরা করে যাচ্ছি। বিশেষ করে, অন্ধজনের বিলাও আলো, এ কাজটা করছি। সারা বাংলাদেশে অন্ধত্ব দূর করতে মানুষকে সেবা দিচ্ছি। অন্ধত্বের হার ৩৫ শতাংশ কমিয়েছি। আরও কমাতে কাজ করছি।
শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের জীবেনের চাহিদা, অন্ন বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসা, সেই সাথে সাথে সড়ক যোগাযোগসহ সব ক্ষেত্রে ২০০৯ থেকে উন্নয়ন করেছি। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছেন বলে এগুলো করতে পেরেছি। এজন্য সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাই।

৩ দিন বন্ধ থাকার পর মেট্রোরেল চলাচল শুরু

টানা তিন দিন মেট্রোরেল বন্ধ থাকার পর আগের সময় সূচি অনুযায়ী সোমবার (১৬ অক্টোবর) থেকে মেট্রোরেল চলাচল শুরু করেছে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, হাতে সময় নেই উত্তরা ও আগারগাঁও অংশ এক করে পুরো মেট্রোরেল রুট উদ্বোধন করা হবে। উত্তরা উত্তর-আগারগাঁও অংশের সঙ্গে আগারগাঁও-মতিঝিল অংশ সংযুক্ত করে পুরো সিস্টেমকে এক করে দেওয়ার জন্য তিন দিন সময় দরকার ছিল। এরপর আগের ঘোষণা অনুযায়ী ১৬ অক্টোবর থেকে আগের সময়সূচি অনুযায়ী উত্তরা উত্তর থেকে আগারগাঁও অংশের মেট্রোট্রেন নিয়মিত চলাচল করছে।
শুক্রবার মেট্রোরেলের সাপ্তাহিক বন্ধের দিনের সঙ্গে সমন্বয় করে ১৪ ও ১৫ অক্টোবর মেট্রোরেল বাণিজ্যিকভাবে চলাচল বন্ধ ছিল।
প্রাথমিকভাবে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলছে স্বপ্নের মেট্রোরেল। তবে কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলবে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চালু হওয়ার পর। ঢাকার প্রথম মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-৬ এর আগারগাঁও-মতিঝিল অংশের উদ্বোধন হবে ২৯ অক্টোবর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধনের জন্যে এ দিন নির্ধারণ করেছেন।

গাজা দখল করা বড় ভুল হবে ইসরায়েলের : বাইডেন

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে সর্বাত্মক হামলার আগে উত্তর গাজার ইসরায়েলি সীমানার কাছে বিপুল সংখ্যক সৈন্য জড়ো হয়েছে। গাজা ছেড়ে যেতে ফিলিস্তিনিদেরকে দেওয়া আল্টিমেটামও শেষ হয়েছে।
মূলত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলছেন, গাজায় ইসরায়েলের দখলদারিত্ব হবে একটি ‘বড় ভুল’।
সিবিএস নিউজের প্রোগ্রাম ৬০ মিনিটস-এর স্কট পেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জো বাইডেন এই মন্তব্য করেন। সোমবার (১৬ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
সাক্ষাৎকারে মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক এই প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘হামাস ফিলিস্তিনি জনগণের সবার প্রতিনিধিত্ব করে না’। তবে বাইডেন জোর দিয়ে বলেন, তিনি হামাসকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে চান।

৬০ মিনিটস-এর পোস্ট করা একটি ভিডিও ক্লিপে প্রেসিডেন্ট বাইডেন আরও বলেন, তিনি গাজায় একটি মানবিক করিডোর চালু করাকে সমর্থন করেন যা মানুষকে অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ড থেকে বের হওয়ার সুযোগ দেবে, সেইসাথে গাজায় খাদ্য ও পানিসহ মানবিক সহায়তা বিতরণের সুযোগ মিলবে।
তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে, ইসরায়েল যুদ্ধের নিয়ম মেনেই কাজ করবে’। এছাড়া ইসরায়েলে মার্কিন সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
জো বাইডেন বলেন, হামাসকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য একটি পথ থাকতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসবাদের হুমকি বেড়েছে।
এদিকে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ফোন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অবরুদ্ধ গাজায় মানবিক ত্রাণসহায়তা পাঠানো নিয়ে মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে ফোনে আলাপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
একইদিনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেন বাইডেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন বাইডেন নিজেই।
তিনি এক্সবার্তায় লিখেছেন, ‘আমি তাকে (মাহমুদ আব্বাস) আশ্বস্ত করেছি যে, গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের কাছে মানবিক ত্রাণসহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে এবং এই সংঘাত যেন আরও ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য ওই অঞ্চলের অংশীদারদের সঙ্গে আমরা কাজ করছি।’
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের মধ্যকার চলমান যুদ্ধে মৃতের সংখ্যা তিন হাজার ৮০০ ছাড়িয়ে গেছে। গত ৭ অক্টোবর শুরু হয় এই যুদ্ধ।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, হামাসের হামলায় ইসরায়েলে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে। অপরদিকে দখলদার ইসরায়েলের বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই হাজার ৪৫০ ফিলিস্তিনি।

সৌদি যুবরাজের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

ইসরায়েলের সঙ্গে হামাসের চলমান সংঘাতের মধ্যেই সৌদি আরবের প্রধানমন্ত্রী ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে দেখা করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। আরব সফরের অংশ হিসেবে রিয়াদে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রাসাদে তার সঙ্গে দেখা করেছেন ব্লিঙ্কেন।
আজ রোববার এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয় এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে রয়টার্স।
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন ও অবরুদ্ধ গাজার শাসকগোষ্ঠী হামাস। এর প্রতিক্রিয়ায় টানা ৮ দিন ধরে গাজা উপত্যকায় ব্যাপকভাবে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।
এই যুদ্ধে সরাসরি ইসরায়েলের পক্ষে কথা বলেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের যেকোনো ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত মার্কিন সরকার। এরই মধ্যে হামাসকে ঠেকাতে ইসরায়েলকে সামরিক সহযোগিতা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একটি রণতরী এরই মধ্যে ইসরায়েলে পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আরেকটি ইসরায়েলের পথে রয়েছে।
বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে, বৈঠক খুব ফলপ্রসূ হয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন যে, বৈঠক এক ঘন্টার কম সময় ধরে চলে এবং ক্রাউন প্রিন্সের ব্যক্তিগত খামারের বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘বৈঠকে ব্লিঙ্কেন হামাসের সন্ত্রাসী হামলা বন্ধ করার, সমস্ত জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করা এবং সংঘর্ষের বিস্তার রোধ করার বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অটল অবস্থান তুলে ধরেছেন।’
মিলার যোগ করেন, ‘দুজন বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্য এবং তার বাইরে স্থিতিশীলতা এগিয়ে নেওয়ার জন্য অঙ্গীকার নিশ্চিত করেছেন।’
ব্লিঙ্কেন বৃহস্পতিবার ইসরায়েলে তার সফর শুরু করেন। এ সময় তিনি হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরায়েলের প্রতি জোরালো মার্কিন সমর্থনের কথা জানান। এরপর থেকে তিনি জর্ডান, কাতার, বাহরাইন, সৌদি আরব সফর করেছেন। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি সংক্ষিপ্ত সফর করেন এবং শনিবার দেরিতে ক্রাউন প্রিন্সের সাথে দেখা করতে রিয়াদে ফিরে আসেন।
ব্লিঙ্কেন শনিবার রিয়াদে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে দেখা করেন। তাদের বৈঠকের আগে, ব্লিঙ্কেন বলেছিলেন যে, সংঘর্ষের উভয় পক্ষের বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ঠিক এটি করার জন্য একসাথে কাজ করছি। বিশেষ করে গাজায় নিরাপদ এলাকা স্থাপনে কাজ করছি, করিডোর স্থাপনে কাজ করছি যাতে মানবিক সহায়তা প্রয়োজন এমন লোকদের কাছে পৌঁছাতে পারে।
তবে বৈঠকে কী কথা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানায়নি সৌদি আরব।
সহিংসতা শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে অগ্রগতির কথা জানিয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ। ইসরায়েল ২০২০ সালে ৩ টি আরব রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে। সৌদি স্বীকৃতি ইসরায়েলের জন্য একটি মাইলফলক।

বিএনপিকে ক্ষমা চেয়ে নির্বাচনে আসতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে বিএনপিকে নির্বাচনে আসতে হবে। তিনি বলেন, ‘ বিএনপির অগ্নিসন্ত্রাস দেশের জনগণ ভুলে নাই। আবারো সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করলে জবাব দেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে তাদের নির্বাচনে আসতে হবে।’
রোববার ( ১৫ অক্টোবর) রাজধানীর ফার্মগেট ফুটওভার ব্রিজের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নেতারা কে কীভাবে কাজ করবে, কে কীভাবে বেশি ভোট পাবে, কার দল জনগণকে কতটুকু আকৃষ্ট করবে এটা একটা রাজনৈতিক কৌশল। এই সব কৌশল অবলম্বন করে নির্বাচনের সময় একটা উৎসবে পরিণত হয়। সব মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। আমার দল ভালো, আমার প্রার্থী ভালো এটাই স্বাভাবিক। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়, এটাই হবে।
তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে যানজট নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ কাজ করছে। তাদের (ট্রাফিক পুলিশ) কথাও আমাদের চিন্তা করতে হবে। তাদের যেন অসুবিধা না হয় এ জন্যই ছোট ছোট পুলিশ বক্স তৈরি করেছে। মেয়র মহোদয় যেটা বলেছেন, সেগুলো (পুলিশ বক্স) পাল্টিয়ে তিনি দৃষ্টিনন্দন পুলিশ বক্স তৈরি করে দেবেন। এটাই তিনি বলতে চেয়েছেন। আমিও ওনাকে (মেয়র) অনুরোধ করছি, যতগুলো বক্স রয়েছে, সেখানে আপনি এই ব্যবস্থা নেবেন।
ফার্মগেট আনোয়ারা উদ্যান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি মেয়রের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে চাই এখানে (ফার্মগেটে) যথেষ্ট সুপার মার্কেট আছে। এখানে অনেক মার্কেট হয়েছে। মার্কেটের জন্য আরও বহু জায়গা রয়েছে। এখানে মেট্রোরেল এসেছে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এসেছে, কাজেই এখানে আমরা আর ইমারত না করি, এখানে একটা বাগান থাকবে। আমাদের এই আনোয়ারা বেগমের নামেই বাগানটি হবে। এটা আমরাও চাই।’
আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজের জন্য ভেঙে ফেলা হয়েছিল দেশের প্রথম ফুটওভার ব্রিজ ফার্মগেট ফুটওভার ব্রিজ। এরই মধ্যে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু, এবার নগরবাসী অপেক্ষার প্রহর গুনছিলেন নতুন ফুটওভার ব্রিজটির উদ্বোধনের। সেই অপেক্ষা এবার ঘুচলো। দেড় বছরের মাথায় উদ্বোধন হলো নতুন এই ফুটওভার ব্রিজটি। এতে রাখা হয়েছে ছয়টি পকেট। যেখানে দাঁড়িয়ে উপভোগ করা যাবে নগরীর সৌন্দর্য।’
ব্রিজটি উদ্বোধনের পর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ফুটওভার ব্রিজের ওপর কোনো দোকান বরাদ্দ দেয়া হবে না, সম্পূর্ণ হকারমুক্ত ফুটওভার ব্রিজ হবে এটি। ফুটওভার ব্রিজে আগামী মার্চ মাসে চলন্ত সিঁড়ি উদ্বোধন করা হবে। মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে আর অত্যাধুনিক প্রকৌশল শৈলিতে নির্মাণ হওয়া ফার্মগেট ফুটওভার ব্রিজ এখন একই জায়গায়। ১৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই ফুটওভার ব্রিজটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এসওয়াই রামাদান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
আজ রোববার (১৫ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনার বিষয় কোনো বার্তা প্রকাশ করা হয়নি। তবে বৈঠকের পর এক বিবৃতি প্রকাশ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ গাজায় নারী ও শিশুসহ সাধারণ মানুষের হতাহতের পাশাপাশি অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলপ্রয়োগের তীব্র নিন্দা করে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানায় যে, গাজায় মানবিক সহায়তার অনুমতি দিতে।
বাংলাদেশ ক্রমবর্ধমান মানবিক বিপর্যয় এড়িয়ে চলার পাশাপাশি এ অঞ্চলে একটি ন্যায্য এবং স্থায়ী সমাধান শান্তির প্রতিষ্ঠায় ইউএনএসসি রেজ্যুলেশনের ভিত্তিতে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের দ্বিরাষ্ট্র সমাধান নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানায়।

দেশে স্বাস্থ্য খাতের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশে স্বাস্থ্য খাতের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। মানুষকে আর চিকিৎসা নেওয়ার জন্য নিজ জেলা ছেড়ে কোথাও যেতে হয় না। এমনকি বিদেশেও যেতে হয় না। প্রতিটি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা সেবার মান বেড়েছে।
আজ রোববার (১৫ অক্টোবর) জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এইচপিভি টিকার ক্যাম্পেইন উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের নারীরা অনেক এগিয়ে গেছে। প্রতিটি দপ্তরই আজ নারীরা কাজ করছেন। দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন। এ বছর এমবিবিএসএ ৭০ ভাগ মেয়ে ভর্তি হয়েছেন। তারা ডাক্তার হবেন। আমরা ৪-৫ হাজার চিকিৎসক নিয়েছি সেখানেও দেখলাম ৭০ শতাংশ মেয়েরা উত্তীর্ণ হয়েছে।
জাহিদ মালেক বলেন, স্বাস্থ্য বিষয় নিয়েও বিএনপি অনেক বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। করোনার টিকা নিয়েও তারা অনেক বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে। বিভ্রান্ত হলে এ দেশে আরও অনেক মানুষ মৃত্যুবরণ করবে। মানুষকে ভালোবাসলে তারা এমন বিভ্রান্তমূলক তথ্য দিতো না।
এ সময় জেলা প্রশাসক রেহেনা আক্তার, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট গেলাম মহীউদ্দীন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অতিরিক্ত মহাপরিচালক রাশিদা সুলতানা, উপ-পরিচালক (ইপিআই) ডা. জেসমিন আরা খানম, পৌর মেয়র মো. রমজান আলী, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুলতানুল আজম খান আপেল, সিভিল সার্জন ডা. মোয়াজ্জেম আলীসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।