শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬

বুধবার শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশের ডাক আওয়ামী লীগের

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব এর কনিষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ রাসেলের ৬০তম জন্মদিন ও শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশের ডাক দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
বুধবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের আয়োজনে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ পালিত হবে।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেইট অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফী।
বক্তব্য রাখবেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।

নবনির্মিত জয়িতা টাওয়ার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর ধানমণ্ডিতে নবনির্মিত জয়িতা টাওয়ারের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার পর এই টাওয়ারের উদ্বোধন করেন সরকারপ্রধান। এর পাশাপাশি জামদানি গ্যালারি ও জয়িতা মার্কেট প্লেসও উদ্বোধন করবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়, দেশের নারী উদ্যোক্তাদের জয়িতা ব্র্যান্ডের আওতায় নানামুখী ব্যবসা উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অত্যাধুনিক ভৌত অবকাঠামো সুবিধা সম্বলিত জয়িতা টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। জয়িতা টাওয়ারে ইউনিভার্সেল এক্সেসিবিলিটিসহ দেশের নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত ও প্রক্রিয়াজাত বিভিন্ন ধরনের পণ্য, সাপ্লাই চেইন ও সেবা বিপণনের সুবিধা থাকবে।
এ ভবনে নারী উদ্যোক্তাদের জ্ঞান, দক্ষতা, ব্যবসা ব্যবস্থাপনা ও বিকাশ কৌশল ভিত্তিক প্রশিক্ষণের জন্য ভৌত অবকাঠামোগত সুবিধা রাখা হয়েছে। এখানে রয়েছে পর্যাপ্ত গাড়ি পার্কিং সুবিধা ও সুপরিসর লবি। এছাড়া ভবনটিতে থাকবে জয়িতা ফাউন্ডেশনের সদর দফতর।

জয়িতা আইকনিক টাওয়ারে রয়েছে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র, ডিজাইন সেন্টার, বিউটি পার্লার, নারীদের জন্য জিমনেসিয়াম, নারী ও শিশুদের জন্য সুইমিং পুল, মাল্টিপারপাস হল, সেমিনার হল, ব্যাংক, ফুড-কোর্ট ও ক্যাফে। চালু করা হয়েছে ই-জয়িতা অনলাইন মার্কেট প্লেস।
২০২১ সালের ১ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমণ্ডির ২৭ নম্বর (পুরাতন) রোডে এক বিঘা জমির ওপর ১৬৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১২তলা বিশিষ্ট জয়িতা টাওয়ার নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ২০১১ সালের ১৬ নভেম্বর জয়িতা ফাউন্ডেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরই মধ্যে সরকার দেশের প্রতিটি বিভাগে প্রতীকী মূল্যে ১ বিঘা করে জমি বরাদ্দ দিয়েছে। জয়িতার কার্যক্রম বিভাগ, জেলা ও উপজেলায়ও চালুর মাধ্যমে দেশব্যাপী একটি নারীবান্ধব আলাদা বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে দেশ ছাড়তে বলল কলম্বিয়া

ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে ক্ষমা চেয়ে দেশ ছাড়তে বলেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া। সম্প্রতি গাজায় নির্বিচারে হামলা চালানোয় ইসরায়েলের কড়া সমালোচনা করেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রা। এরপর দেশটিতে সামরিক সরঞ্জাম রফতানি বন্ধ করার ঘোষণা দেয় ইসরায়েল।
আনাদুলু এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, কলম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলভারো লেইভা দেশটিতে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত গালি দাগানকে ক্ষমা চেয়ে দেশ ছাড়তে বলেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লেইভা দাগানকে ‘অভদ্র’ বলে অভিযুক্ত করেন।
পোস্টে তিনি বলেন, ‘সর্বজনীন কূটনীতির ইতিহাস একটি মাইলফলক হিসাবে রেকর্ড করবে প্রেসিডেন্ট গুস্তাভোর প্রতি ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের নির্বোধ অভদ্রতা। তার অন্তত ক্ষমা চাওয়া উচিত এবং চলে যাওয়া উচিত।’
লেইভার এই বিবৃতিটি কলম্বিয়া এবং ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনাকে আরও তীব্র করেছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগে কলম্বিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিল। প্রেসিডেন্ট পেত্রা গাজায় হামলার জন্য ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনা করায় কলম্বিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তিরস্কার করে ইসরায়েল।
এর আগে কলম্বিয়া ইসরায়েলে হামলা চালানোর জন্য হামাসের নিন্দা জানাতে অস্বীকার করে। দাগান ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘর্ষের পর থেকে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেত্রার সমালোচনামূলক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছেন।
কলম্বিয়া ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনেছে এবং এর সমর্থন জানাতে অস্বীকার করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট পেত্রা গাজায় মানবিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
কলম্বিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী অস্ত্রসহ যেসব সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে সেগুলোর বেশিরভাগই ইসরায়েল থেকে আমদানি করা। তবে সম্প্রতি গাজায় হামলার কঠোর সমালোচনার পর কলম্বিয়ায় সামরিক সরঞ্জাম রফতানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল।
গাজার উপর ইসরায়েলের আক্রমণের নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরাগভাজন হয়ে পড়েছে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে যদি আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায় যাক, আমরা ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের গণহত্যা মেনে নেব না। ইসরায়েলের মিত্র দেশ হিসেবে আমরা সেই অন্যায়ের ভাগীদার হতে চাই না।

মানসম্মত এভিয়েশন সেবার জন্য আইসিএও’র সহায়তা চান প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানসম্পন্ন বিমান চলাচল পরিষেবা ও উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দক্ষ জনবল তৈরিতে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) কারিগরি সহায়তা চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আশা করে, আইসিএওর মান অনুযায়ী এভিয়েশন নেভিগেশন পরিষেবা প্রদানে ও বাংলাদেশে নিবন্ধিত বিমানের রক্ষণাবেক্ষণের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য দক্ষ জনবল তৈরিতে আইসিএও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করবে।’
সোমবার (১৬ অক্টোবর) আইসিএও কাউন্সিলের সভাপতি সালভাতোর সায়াচ্চিতানো ও আইসিএও মহাসচিব হুয়ান কার্লোস সালাজার গোমেজ শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার সময় এ সহযোগিতা চান সরকারপ্রধান।
বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, ‘বৈঠককালে শেখ হাসিনা আইসিএওর মান বজায় রেখে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ন্ত্রণে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে আইসিএও বাংলাদেশকে সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ হবে পূর্ব ও পশ্চিমকে সংযুক্তকারী একটি বিমান চলাচল কেন্দ্র। সেই লক্ষ্যে সরকার সে অনুযায়ী তাদের বিমানবন্দরের উন্নয়ন করছে। আর সেজন্য তিনি এ ব্যাপারে আইসিএওর সহায়তা কামনা করছেন।’
আইসিএও কাউন্সিলের সভাপতি বলেন, ‘বাংলাদেশে এভিয়েশন সেক্টরের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আইসিএও এ খাতে বাংলাদেশকে সহায়তা করবে।’
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধনের কথা উল্লেখ করে সালভাতোর সিয়াচিটানো বলেন, ‘এই টার্মিনালটি সুন্দর, যা বিমান যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে প্রধান কাজ। এ প্রসঙ্গে আইসিএও কাউন্সিলের সভাপতি কানেক্টিভিটি উন্নয়নে শেখ হাসিনার সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের উচ্ছ্বাসিত প্রশংসা করেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার পরিবেশ রক্ষায় জোর দিচ্ছে। সরকার পরিবেশ রক্ষায় খুবই সতর্ক এবং বাংলাদেশ খুব কম পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করে। অথচ, তা সত্ত্বেও দেশটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। আওয়ামী লীগ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ১৯৮৫ সাল থেকে বৃক্ষরোপণ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পর দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালু করেছিলেন।
এ সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন এবং বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে পৌঁছেছেন পুতিন

কয়েকমাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে গেলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাষ্ট্রীয় সফরে মঙ্গলবার চীনে পৌঁছেছেন পুতিন। দেশটিতে অনুষ্ঠিত বেল্ট অ্যান্ড রোড ফোরামে অংশ নেবেন তিনি। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী বেল্ট অ্যান্ড রোড ফোরামে ১৩০টিরও বেশি দেশ এবং ৩০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক সংস্থা অংশ নেবে। চীনের মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফোরামে অংশগ্রহণ করবেন আফ্রিকান এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় নেতারা।
এর আগে সোমবার সকালে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, ‘আমরা তৃতীয় আন্তর্জাতিক বেল্ট অ্যান্ড রোড ফোরাম সফল দেখতে আগ্রহী এবং আমরা নিশ্চিত যে এটি হবে।’
ল্যাভরভ বলেন যে, তিনি আন্তর্জাতিক এজেন্ডা এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পেরে খুব খুশি।
ফোরানের তৃতীয় সংস্করণ কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ২০১৯ সালের পর থেকে স্থগিত ছিল। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ১৫০টিরও বেশি দেশ এবং ৩০টি আন্তর্জাতিক সংস্থা এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
পুতিন ২০১৭ এবং ২০১৯ সালে আগের দুটি ফোরামে যোগ দিয়েছিলেন। রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে যে, বেইজিং জুলাই মাসে পুতিনকে এআমন্ত্রণ জানিয়েছিল এবং তিনি গত মাসে চীন সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুতিন সেই সময় বলেন, চীন এবং রাশিয়ার স্বার্থ পুরোপুরি মিলে যায়।
এই মাসের শুরুতে সোচিতে একটি আন্তর্জাতিক ফোরামে পুতিন বেইজিংয়ের সঙ্গে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
ইউক্রেন থেকে শিশুদের নির্বাসিত করার অভিযোগে গত মার্চে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তারপর দেশের বাইরে কয়েকটি বড় বড় সম্মেলনে অংশ নেননি পুতিন। গত মার্চের পর এটিই পুতিনের প্রথম সোভিয়েত ইউনিয়নের বাইরের কোনো দেশ ভ্রমণ।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সর্বশেষ চীন সফরে গিয়েছিলেন পুতিন। ওই সফরে দুই দেশ নিজেদের মধ্যে ‘অন্তহীন’ অংশীদারিত্ব ঘোষণা করে। চীন সফর থেকে ফেরার কয়েক দিনের মধ্যে ইউক্রেনে আক্রমণ করেন পুতিন। যা এখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে সবচেয়ে বড় যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।

সরকার পতন, ঢাকা অবরোধ বিএনপির স্বপ্ন : কাদের

বিএনপি আবারও সরকার পতনের স্বপ্নে বিভোর, তারা ঢাকা অবরোধের স্বপ্ন দেখছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে যুবলীগের যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বিএনপি ১৮ অক্টোবর (ঢাকায় সমাবেশ) সামনে রেখে সারা বাংলাদেশ থেকে নেতাকর্মীদের ঢাকায় আনতে শুরু করেছে। ঢাকা শহরে আবার অবরোধ করার স্বপ্ন দেখছে। ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তারা অবরোধ করার ষড়যন্ত্র করছে।
’
কাদের বলেন, ‘এবার বিএনপিকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। ডিসেম্বরের (গত বছরের) চেয়েও এবার ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি হবে বিএনপির। খেলা হবে, ছাড় দেব না ফখরুল। ডিসেম্বরের চেয়েও কড়া খেলা হবে। আওয়ামী লীগের অ্যাকশন, যুবলীগের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন। ’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরাও প্রস্তুত আছি, অবরোধ করলে বিএনপিও অবরুদ্ধ হয়ে যাবে। যারা লুকিয়ে ও চুরি করে ঢাকায় ঢুকছে তারা পালাবার পথ পাবে না। ’
আগামী ১৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির সমাবেশ করার ঘোষণা রয়েছে। একই দিন আওয়ামী লীগও ঢাকায় জমায়েত করবে বলে জানান ওবায়দুল কাদের।
যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দীর সঞ্চালনায় যুব সমাবেশে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান নিখিল প্রমুখ বক্তব্য দেন।

ডেঙ্গুতে আরও ১২ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৪৭৫

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে এ নিয়ে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৮১ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৪৭৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৫৩৯ জন ঢাকার। এক হাজার ৯৩৬ জন অন্যান্য বিভাগের।
সোমবার (১৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সারাদেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে আট হাজার ১৪৯ জন রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে ঢাকাতেই দুই হাজার ৩৯১ জন। বাকি পাঁচ হাজার ৭৫৮ জন ঢাকার বাইরে অন্য বিভাগে।
এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দুই লাখ ৪২ হাজার ৮৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন দুই লাখ ৩২ হাজার ৭৫৯ জন।

কাল নবনির্মিত জয়িতা টাওয়ার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আগামীকাল নবনির্মিত জয়িতা ফাউন্ডেশনের উদ্বোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল সকাল ১০টায় ধানমন্ডিতে জয়িতা টাওয়ারের উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন, জয়িতা টাওয়ারে স্থাপিত জামদানী গ্যালারি ও জয়িতা মার্কেট প্লেস উদ্বোধন করবেন।
জয়িতা টাওয়ার উদ্বোধন পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী একইদিন সকালে গণভবন কমপ্লেক্স মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত জয়িতা টাওয়ারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করবেন।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করবেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি ও জয়িতা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা খান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমা মোবারেক।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ‘নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করবেন।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশের নারী উদ্যোক্তাদের জয়িতা ব্র্যান্ডের আওতায় নানামুখী ব্যবসা উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অত্যাধুনিক ভৌত অবকাঠামো সুবিধা সম্বিলত জয়িতা টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে।
জয়িতা টাওয়ারে ইউনিভার্সেল এক্সেসিবিলিটিসহ দেশের নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত প্রক্রিয়াজাত বিভিন্ন ধরণের পণ্য, সাপ্লাই চেইন এবং সেবা বিপণনের সুবিধা থাকবে। এ ভবনে নারী উদ্যোক্তাদের জ্ঞান, দক্ষতা, ব্যবসা ব্যবস্থাপনা ও বিকাশ কৌশল ভিত্তিক প্রশিক্ষণের জন্য ভৌত অবকাঠামোগত সুবিধাদির সংস্থান রাখা হয়েছে। এখানে রয়েছে পর্যাপ্ত গাড়ি পার্কিং সুবিধা এবং সুপরিসর লবি। এছাড়া ভবনটিতে জয়িতা ফাউন্ডেশনের থাকবে সদর দপ্তর। জয়িতা আইকনিক টাওয়ারে রয়েছে শিশু দিবাযতœ কেন্দ্র, ডিজাইন সেন্টার, বিউটি পার্লার, নারীদের জন্য জিমনেসিয়াম, মহিলা ও শিশুদের জন্য সুইমিং পুল, মাল্টিপারপাস হল, সেমিনার হল, ব্যাংক, ফুড-কোর্ট ও ক্যাফে। চালু করা হয়েছে ই-জয়িতা অনলাইন মার্কেট প্লেস।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের ১ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডির ২৭ নম্বর (পুরাতন) রোডে এক বিঘা জমির ওপর একশত আটষট্রি কোটি চল্লিশ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বারোতলা বিশিষ্ট জয়িতা টাওয়ার নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ২০১১ সালের ১৬ নভেম্বর জয়িতা ফাউন্ডেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এরই মধ্যে সরকার দেশের প্রতিটি বিভাগে প্রতিকীমূল্যে ১ বিঘা করে জমি বরাদ্দ দিয়েছে। জয়িতার কার্যক্রম বিভাগ, জেলা ও উপজেলায়ও জয়িতার কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে দেশব্যাপী একটি নারীবান্ধব আলাদা বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
জয়িতা টাওয়ার উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, অন্যান্য টেলিভশন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

বাংলাদেশ কম কার্বন-সবুজ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে : পরিবেশমন্ত্রী

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেছেন, বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নের পথে কম কার্বন-সবুজ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ অফ-গ্রিড এলাকায় ৬ মিলিয়নেরও বেশি সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করেছে, জনসংখ্যার ১২ শতাংশের জন্য পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিশ্চিত করেছে। এখন বাংলাদেশ বড় আকারের সৌর প্রকল্পের ওপর জোর দিচ্ছে।
আজ সোমবার (১৬ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত এসা ইউসুফ এসা আল দুহাইলান সচিবালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠকে তারা বাংলাদেশে পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তিতে রূপান্তর, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ন্যাপ বাস্তবায়নে সহায়তা এবং পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা করেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ১০টি বড় আকারের সোলার পার্ক, ২৮টি সৌর মিনি-গ্রিড, ২৮৮১টি সৌর সেচ পাম্প, ১৯৫২টি নেট মিটারড রুফটপ সোলার সিস্টেম এবং ৮টি সৌর চালিত পানীয় ব্যবস্থা স্থাপন করেছে।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের ক্রমবর্ধমান দূষিত বায়ু ও পানি পরিশুদ্ধির লক্ষ্যে পরিবেশ দূষণকারী শিল্পগুলোকে অতিরিক্ত শুল্ক দিতে বাধ্য করার জন্য ‘পরিবেশ সুরক্ষা সারচার্জ’ আকারে একটি আমূল নতুন ‘সবুজ কর’ আরোপ করেছে। সরকার ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে একাধিক গাড়ির মালিকদের ওপর ‘কার্বন ট্যাক্স’ আরোপ করেছে যার লক্ষ্য কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করা এবং দেশে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রচার করা।
ব্যবসা-বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক বিনিময়, শিক্ষা, পরিবেশ ও পর্যটনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরালো হবে বলে পরিবেশমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ইকবাল আবদুল্লাহ হারুন, অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন) সঞ্জয় কুমার ভৌমিক এবং যুগ্ম সচিব (পরিবেশ) মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

গাজা ছেড়েছে ১০ লাখ মানুষ

গাজায় স্থল অভিযানের পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে ইসরাইল। গাজায় বোমা হামলাও অব্যাহত রেখেছে দেশটি। এই প্রেক্ষিতে ক্ষত রক্তাক্ত গাজা থেকে ১০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা পালাতে বাধ্য হচ্ছে। তারা সকলে সাথে যা যা নিতে পারছে সেটুকু নিয়েই পালাচ্ছে। ব্যাগে কিংবা স্যুটকেসে, তিন চাকার মোটর বাইকে করে, ব্যাটারি চালিত গাড়িতে, ভ্যানে এমনকি গাধার টানা গাড়িতে করেও কেউ কেউ তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সাথে নিয়ে যাচ্ছে।
বোমা হামলার ভয়ে এবং গাজার দক্ষিণাঞ্চল ছেড়ে দেয়ার ইসরাইলি নির্দেশের কারণে রাস্তা ও জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুলসহ যে যেখানে পারছে সেখানে আশ্রয় নিচ্ছে।
গাজার রাফা শহর থেকে পালিয়ে আসা ৫৫ বছর বয়সী মোনা আবদেল হামিদ বলেছেন, ‘বিদ্যুত নেই, পানি নেই, ইন্টারনেট নেই। আমার মনে হচ্ছিল আমি মানবতা হারিয়ে ফেলছি।’
গত শনিবার ফিলিস্তিনি গ্রুপ হামাস ইসরাইলে আকস্মিক বড়ো ধরনের হামলা চালায়। এর পরপরই ইসরাইল গাজায় নির্বিচারে বোমা হামলা শুরু করে। এই হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই অবস্থাতেই ইসরাইল গাজায় আকাশ, স্থল ও নৌ হামলা চালানোর প্রস্তৃতি নিয়েছে। একে তারা ‘গুরুত্বপূর্ণ স্থল অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করছে।
এদিকে হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহকে সমর্থনদানকারী ইরান সতর্ক করে বলেছে, এই ধরনের হামলার জবাব দেয়া হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং সংঘাতের বিস্তৃতি ঘটবে না এমন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না।
এদিকে ইসরাইল লেবানন সীমান্তেও গত সপ্তাহে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বেসামরিক নাগরিকদের জন্যে ওই এলাকা বন্ধ করে দিতে ইসরাইল বাধ্য হয়েছে।
রোববার দক্ষিণ লেবাননের জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী ঘাঁটিতে রকেট আঘাত হানে। ইসরাইলে হিজবুল্লাহর হামলায় একজন নিহত হয়েছে বলে ইসরাইলি সেনা সূত্র নিশ্চিত করেছে।
গত সপ্তাহে লেবাননে অন্তত ১০ জন এবং ইসরাইলে দুজন নিহত হয়েছে। লেবাননে নিহতদের মধ্যে রয়টার্সের এক সাংবাদিকও রয়েছেন।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াভ গ্যালান্ট বলেছেন, উত্তরে যুদ্ধ করার কোন আগ্রহ তার দেশের নেই। তারা পরিস্থিতিকে আরো তীব্র করতে চাইছেন না।
ইসরাইল দেশটির দক্ষিণে মরুভূমিতে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত হাজার হাজার সৈন্যের সমাবেশ ঘটিয়েছে। এসব সৈন্য গাজায় প্রবেশের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলের ১১ লাখ ফিলিস্তিনিকে দক্ষিণাঞ্চলে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অথচ খান ইউনুসসহ পুরো দক্ষিণে ইসরাইল অব্যাহত বোমা বর্ষণ করে যাচ্ছে।
এদিকে জাতিসংঘ, রেডক্রসহ বিদেশি সরকার এবং দাতা সংস্থাসমূহ ফিলিস্তনিদের চলে যেতে ইসরাইল যে নির্দেশ দিয়েছে তার সমালোচনা করেছে।
জাতিসংঘ বলছে, সংঘাতের প্রথম সপ্তাহেই প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এই সংখ্যা আরো বেশিও হতে পারে বলে জাতিসংঘ সতর্ক করেছে।
এদিকে গাজার হাসপাতাল হতাহতদের ভিড়ে উপচে পড়ছে। রোববার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বিচারে বোমা হামলায় ৯ হাজার ৬০০ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে।
ইসরাইল নিয়ন্ত্রিত ক্রসিং এবং দক্ষিণে রাফা সীমান্ত মিশর বন্ধ করে দেয়ায় গাজাবাসী কার্যত আটকা পড়েছে। এদিকে হামাসের হাতে জিম্মি ইসরাইলিদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত তেলআবিব।
নয় মাস এবং চার বছর বয়সী শিশুদের খালা ইরাত জাইলার কান্না জড়িত কন্ঠে বলছিলেন, আমরা তাদের জীবিত ফিরিয়ে আনতে চাই। মাসহ এসব শিশুদের জিম্মি করে রেখেছে হামাস।
ফিলিস্তিনি অঞ্চলের জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী লিন হেস্টিংস সমালোচনা করে বলেছেন, ইসরাইল জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ের সাথে গাজায় মানবিক সহায়তার বিষয়টি যুক্ত করে রেখেছে।
কোন কিছুই শর্তযুক্ত হওয়া উচিত নয় বলে তিনি তার ভিডিও পোস্টে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইসরাইল বলছে তারা হামাসকে ধ্বংস করবে, কিন্তু তাদের বর্তমান গতিবিধিতে মনে হচ্ছে তারা গাজাকেই ধ্বংস করতে যাচ্ছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, পুরো অঞ্চল এখন এক অতল গহ্বরের কিনারে রয়েছে।