শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬

ইসরায়েলের জন্য প্রস্তুত ২০০০ মার্কিন সেনা

ইসরায়েলের পাশে দাঁড়াতে ২ হাজার মার্কিন সেনা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সাবরিনা সিং। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানান তিনি। খবর সিএনএনের।
সাবরিনা সিং বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে প্রায় দুই হাজার মার্কিন সেনাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তবে তাদের মোতায়েনের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
এর আগে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন প্রায় দুই হাজার সেনাকে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। তাদের ইসরায়েলে চিকিৎসা ও লজিস্টিক সহায়তার জন্য মোতায়নের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেনাদের কোথায় মোতায়েন করা হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানাননি মার্কিন কর্মকর্তারা।
এক কর্মকর্তা বলেছেন, তাদের ইসরায়েলের দক্ষিণ উপকূলে পাঠানো হবে। কিন্তু তারা সরাসরি হামাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নেবে না।
কর্মকর্তারা বলেছেন, এসব পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে ইরান ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে বার্তা পাঠাতে চাইছে। ওয়াশিংটন চায় না, ইসরায়েল-হামাস সংঘাত বাইরে ছড়িয়ে পড়ুক। তবে এসব পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন ওই কর্মকর্তারা।
ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে সংঘাতের শুরু থেকেই ইসরায়েলের পাশে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সামরিক বাহিনীকে সমরাস্ত্র দিয়ে সহায়তা করেছে ওয়াশিংটন। ইসরায়েল ঘিরে মোতায়েন করা হয়েছে মার্কিন রণতরি, যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান।
এদিকে ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর দেশটিতে সফর করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন। বুধবার ইসরায়েলে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের। এরই মধ্যে মঙ্গলবার দেশটিতে অঘোষিত সফর করেছেন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা জেনারেল মাইকেল এরিক কুরিলা।

বিএনপির সমাবেশ ঘিরে নাশকতার কোনো তথ্য নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আগামীকাল বিএনপির সমাবেশ ঘিরে নাশকতার কোনো তথ্য না থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকবে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় যোগদান শেষে এ কথা বলেন মন্ত্রী।
তিনি জানান, অতীতের মতো দেশকে অস্থিতিশীল করতে বিএনপি ষড়যন্ত্র করছে বলে বিচ্ছিন্নভাবে তথ্য আসছে তাদের কাছে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই কমিশন তাদের আঞ্চলিক অফিসগুলোর নিরাপত্তা চেয়ে যে চিঠি দিয়েছে সেটিকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জেলা উপজেলায় নির্বাচনী কার্যলয়গুলোতে প্রয়োজন বুঝে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

কার্টেল ওভারের ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের চ্যালেঞ্জিং স্কোর

দিল্লী-লখনৌয়ে শ্রীলঙ্কা-অস্ট্রেলিয়াকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাসের পারদটা বেশ উঁচুতে দক্ষিণ আফ্রিকার। ধর্মশালায় পুঁচকে নেদারল্যান্ডসকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে চেয়েছে তারা।
ধর্মশালায় এদিন বৃষ্টিতে বিলম্বে শুরু হওয়া ম্যাচে সে আবহই ছিল শুরুতে। টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন বলে নেদারল্যান্ডস ব্যাটারদের ভালই চেপে ধরেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। মেঘলা আবহাওয়ার কারণে বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় পেসাররা শুরুতে পেয়েছে সুইং-মুভমেন্ট।
স্কোরশিটে ৫০ উঠতে ৪ উইকেট হারিয়ে চ্যালেঞ্জিং স্কোরের আশা ছেড়ে দেয়ার কথা নেদারল্যান্ডসের। তবে বৃষ্টিতে ৪৩ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ব্যাটিং বাহাদুরি ভালই দেখিয়েছে নেদারল্যান্ডস। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করেছে ২৪৫/৮ স্কোর।
এদিন টপ এবং মিডল অর্ডারদের ব্যর্থতায় দায়িত্বটা নিয়েছিলেন লোয়ার অর্ডার স্কট এডওয়ার্ডস। ৪১তম ওয়ানডে ম্যাচে ১৪তম ফিফটি উদযাপন করেছেন তিনি ধর্মশালায়। বিশ্বকাপে এটা তার প্রথম হাফ সেঞ্চুরি।
৫৩ বলে ফিফটি পূর্ণ করে ইনিংসটা টেনে নিয়েছেন তিনি ৬৯ বলে ৭৮ পর্যন্ত। হার না মানা এই ইনিংসে মেরেছেন তিনি ১০টি চার এর পাশে একটি ছক্কা। ৮ম উইকেট জুটিতে মারউইকে নিয়ে ৩৭ বলে ৬৪ এবং টেল এন্ডার আরিয়ান ডাটকে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন ৯ম উইকেট জুটিতে ১৯ বলে ৪১ রানে দিয়েছেন নেতৃত্ব এই লোয়ার অর্ডার।
দক্ষিণ আফ্রিকা বোলারদের মধ্যে এদিন তিন পেসার এনগিডি (২/৫৭), জানসেন (২/২৭), রাবাদা (২/৫৬) পেয়েছেন দুটি করে উইকেট।
নেদারল্যান্ডস : ২৪৫/৮ (৪৩.০ ওভারে)

ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন ঢাকার এবং বাকি পাঁচজন ঢাকার বাইরের বাসিন্দা।
এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৯০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ৬০৯ জন।
আজ মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ মো. জাহিদুল ইসলামের সই করা ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সোমবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ৬০৯ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ৫৬১ জন ও ঢাকার বাইরের দুই হাজার ৪৮ জন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই লাখ ৪৪ হাজার ৬৯৮ জন। তাদের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ৯৩ হাজার ১০৫ ও ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে এক লাখ ৫১ হাজার ৫৯৩ জন ভর্তি হয়েছেন।
একই সময়ে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এক হাজার ১৯০ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৭৩৯ জন এবং ঢাকার বাইরের ৪৫১ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন দুই হাজার ৫২৫ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ৫৩৮ জন এবং ঢাকার বাইরের এক হাজার ৯৮৭ জন।
চলতি বছর আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে মোট ছাড়পত্র পেয়েছেন দুই লাখ ৩৫ হাজার ২৮৪ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ৮৯ হাজার ৯৫৬ জন এবং ঢাকার বাইরের এক লাখ ৪৫ হাজার ৩২৮ জন।
ঢাকাসহ সারাদেশে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন আট হাজার ২২৪ জন ডেঙ্গুরোগী। তাদের মধ্যে ঢাকায় দুই হাজার ৪১০ জন এবং ঢাকার বাইরে ভর্তি রয়েছেন পাঁচ হাজার ৮১৪ জন।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘আগাম পদক্ষেপ’ নেওয়ার হুশিয়ারি ইরানের

ইরান ‘আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ‘আগাম পদক্ষেপ নেওয়ার’ হুশিয়ারি দিয়েছে। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল স্থল অভিযান চালানোর প্রস্তুতি গ্রহণের প্রেক্ষাপটে সোমবার তেহরান এমন হুশিয়ারি দিল।
তেহরান বারবার সতর্ক করে বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ করে রাখা গাজায় স্থল আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় অন্যান্য ফ্রন্টকে একত্রিত করতে পারে। এক্ষেত্রে অন্য দেশ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শনিবার হিজবুল্লাহ নেতা নাসরুল্লাহর সাথে তার বৈঠকের কথা উল্লেখ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসাইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে বলেন, এক্ষেত্রে ‘প্রতিরোধ অক্ষের আগাম পদক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
এর আগে সোমবার ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি এবং দেশটির শীর্ষ কূটনীতিক বলেছিলেন, এ সংঘাতের একটি রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং তারা ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধকে অন্যান্য ফ্রন্টে সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে সতর্ক করেন।
আমির আব্দুল্লাহিয়ান সোমবার বলেন, প্রতিরোধ যোদ্ধারা ইসরায়েলকে গাজায় যা খুশি তা করতে দেবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি আজ গাজাকে রক্ষা না করি, তাহলে আগামীকাল আমাদের নিজেদের দেশের শিশুদের হাসপাতালে এই ফসফরাস বোমা মোকাবেলা করতে হবে।’
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের ব্যাপক হামলায় ১,৪০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারানোর এক দিন পর ফিলিস্তিনের কট্টর ইসলামপন্থী হামাস গ্রুপের বিরুদ্ধে ইসরায়েল যুদ্ধ ঘোষণা করে। হামাসের হামলায় নিহতদের অধিকাংশ বেসামরিক নাগরিক।
এদিকে ইসরায়েলের পাল্টা হামলায় গাজায় কমপক্ষে ২ হাজার ৮০৮ জন নিহত হয়েছে। এদের বেশির ভাগই বেসামরিক নাগরিক।
এদিকে ইরান হামাসের হামলাকে সাধুবাদ জানালেও তারা জোর দিয়ে বলেছে যে, এ হামলায় তেহরানের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই।
খবর এএফপি

টেকসই শিল্পের জন্য দক্ষ জনবল তৈরির বিকল্প নেই : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ফার্নিচারসহ যেকোনো টেকসই শিল্পের উন্নয়নের জন্য দেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করার বিকল্প নেই। প্রশিক্ষিত জনবলের তৈরি দেশীয় ফার্নিচার বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক অর্জন করা সম্ভব।
আজ মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতি আয়োজিত ‘১৮তম জাতীয় ফার্নিচার মেলা‘-২০২৩ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ফার্নিচার খাত খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একটি শক্তিশালী খাতে রূপান্তরিত হয়েছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এখন বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। বাংলাদেশের ফার্নিচারের যে কোয়ালিটি, ডিজাইন, আধুনিকতা তা বিশ্বের যেকোনো দেশেরই নজর কাড়বে এবং নিতে আগ্রহী হবে।
টিপু মুনশি বলেন, তৈরি পোশাক শিল্প খাত আজ যে অবস্থানে এসেছে এটি একদিনে হয়নি। বর্তমানে ফার্নিচার থেকে ১১০-১২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি হচ্ছে বলে যে তথ্য দিচ্ছেন তা এ অবস্থায় থাকবে না। এ খাতে বিগত ১০-১২ বছরে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে তাতে খুব শিগগির খাতটি রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

মন্ত্রী বলেন, টেকসই ফার্নিচার শিল্প গড়ে তুলতে পারলে রপ্তানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। যে পরিমাণ শ্রমিক এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত এ সংখ্যা দ্বিগুণ করা সম্ভব। ফার্নিচার তৈরিতে যেসব মেটারিয়ালস আমদানি করতে হয় সেগুলো দেশেই উৎপাদনে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।
রপ্তানির ক্ষেত্রে যেসব বাধা রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দেবে জানিয়ে তিনি বলেন, ফার্নিচার শিল্পের সঙ্গে জড়িত বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান শতভাগ রপ্তানিমুখী হওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে, যা সত্যিই প্রসংশনীয়। এ খাত অনেক বেশি সম্ভাবনাময় উল্লেখ করে এ খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ১৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশে ৪ কোটি মানুষ রয়েছেন যাদের ক্রয়ক্ষমতা ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশের মানুষের সমান। দেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে গড়ার যে লক্ষ্যমাত্রা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠিক করেছেন, তা এর আগেই অর্জিত হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক লড়াই-আন্দোলন-সংগ্রাম করে আমাদের এই প্রিয় দেশ স্বাধীন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে দেশ আজ বিশ্ববাসীর কাছে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন উন্নয়ন সূচকে পাকিস্তানসহ পার্শ্ববর্তী অনেক দেশকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে গেলেই বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্প শোনা যায়, যা বাঙালি হিসেবে আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের।
বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতির চেয়ারম্যান সেলিম এইচ রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস-চেয়ারম্যান ও সিইও এ এইচ এম আহসান, এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম এবং বাংলাদেশ ফার্নিচার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও এফবিসিসিআই পরিচালক কে এম আকতারুজ্জামান।
পাঁচ দিনব্যাপী দেশীয় ফার্নিচার শিল্পের সর্ববৃহৎ এ মেলা চলবে আগামী ২১ অক্টোবর পর্যন্ত। মেলায় ৩০টি প্রতিষ্ঠানের মোট ১৮৫টি স্টল রয়েছে।

যুদ্ধ বন্ধে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান প্রধামন্ত্রীর

যুদ্ধ বন্ধের জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নারী ও শিশুরা।
তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো যুদ্ধ চাই না। আমি একজন শুধু নারী রাজনীতিক বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয় একজন মা হিসেবে বিশ্ব নেতাদের কাছে অনুরোধ করব আপনারা বন্ধ করেন এই যুদ্ধ। বন্ধ করেন এই অস্ত্রের খেলা। এই অস্ত্র প্রতিযোগিতা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে পৃথিবীজুড়ে এক যুদ্ধের দামামা আমরা দেখতে পাই। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ তারমধ্যে আবার ফিলিস্তিনের ওপর ইসরাইলের হামলা।
প্রধানমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে নারী উদ্যোক্তা এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মহিলা অঙ্গসংগঠনের নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত জয়িতা টাওয়ার উদ্বোধন পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, যুদ্ধ হলে অস্ত্রের প্রতিযোগিতা হলে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায় আমাদের নারী এবং শিশুরা। তারাই বেশি কষ্ট ভোগ করে।
আমাদের সবরকম অভিজ্ঞতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ’৭১ সালে পাকিস্তানি আর্মি আমার বাবাকে বন্দি করে নিয়ে যায়। তারপর মা’কে বন্দি করে। তিনি ছোট বোন রেহানা ও ছোটভাইসহ বন্দিখানায় ছিলেন। এমনকি তিনি সে সময় অন্তস্বত্তাও ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো ফার্নিচার ছিল না, খাবার কি হবে তার কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। কাজেই যুদ্ধের সময় যে কি ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়, সে অভিজ্ঞতা আমার আছে।’
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট কন্যা ও প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়রম্যান মেহের আফরোজ চুমকি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব সচিব নাজমা মোবারেক এবং জয়িতা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা খান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
জয়িতা ফাউন্ডেশনের কর্মকা- এবং নবনির্মিত জয়িতা টাওয়ারের ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয়।
এর আগে আজ সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় নবনির্মিত জয়িতা ১২তলা আইকনিক টাওয়ার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। দেশব্যাপী নারীবান্ধব পৃথক বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে জয়িতার কার্যক্রম চালু করা হয়।
১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এক বিঘা জমির ওপর নির্মিত বহুতল জয়িতা আইকনিক টাওয়ারে চাইল্ড ডে কেয়ার সেন্টার, ডিজাইন সেন্টার, বিউটি পার্লার, মহিলাদের জন্য জিমনেসিয়াম, মহিলা ও শিশুদের জন্য সুইমিং পুল, মাল্টিপারপাস হল, সেমিনার হল, ব্যাংক, ফুড-কোর্ট এবং ক্যাফে রয়েছে। এছাড়া ই-জয়িতা অনলাইন মার্কেটপ্লেস চালুু করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের ১ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডির ২৭ (পুরাতন) সড়কে এক বিঘা জমিতে ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২ তলা জয়িতা টাওয়ার নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এর আগে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ২০১১ সালের ১৬ নভেম্বর জয়িতা ফাউন্ডেশন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
এরই মধ্যে সরকার নামমাত্র মূল্যে দেশের প্রতিটি বিভাগে এক বিঘা জমি বরাদ্দ দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেন্ডার সমতার কথা বলে অনেক দেশ। বাংলাদেশে কিন্তু এর উল্টো হয়ে গেছে। ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা বেশি স্কুলে যায়, ফলাফলেও ভালো করে। খেলাধুলায়ও নারীরা ভালো করছে। প্রাইমারি ও মাধ্যমিকে খেলাধুলা চলছে, এখানে মেয়েরা যাতে আরও সম্পৃক্ত হয় সে ব্যবস্থা তাঁর সরকার করে দিয়েছে।
জাতির পিতা নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু অধিকার অধিকার বলে চিল্লালে হবে না। অধিকার হবে তখনই, যখন নারী ১০ টাকা নিয়ে ঘরে ঢুকতে পারবে। অর্থাৎ অর্থনৈতিক শক্তি অর্জন করতে পারলেই মেয়েদের কারও মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না, এটা তাঁর বাবার কথা।
তিনি বলেন, তাঁর সরকার দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে, ধর্ষণ ও এসিড নিক্ষেপের দায়ে মৃত্যুদন্ডের বিধান করে সুরক্ষা দিয়েছে, নারী নির্যাতন থেকে সুরক্ষা দিতেও আইন করে দিয়েছে, সন্তানের পরিচয়ের ক্ষেত্রে বাবার সঙ্গে মায়েরও পরিচয় নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও, সরকার দরিদ্র মা, বয়স্ক নারী, বিধবা, স্বামী নিগৃহীতাদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছে যাতে তাদের জীবনটা অর্থবহ হয়। এই বাজেটে ৪৩টা মন্ত্রণালয়ে নারীবান্ধব বাজেট দেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা সবক্ষেত্রে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করে আমরা নারী উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় ২০০১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসতে পারিনি। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পরই সেখানে নারীর যে অধিকারের কথা ছিল সব বাতিল করে দেয়। কারণ, তিনি জামায়াতে ইসলামকে নিয়ে সরকার গঠন করেছিলেন। ফলে তাদের ২০ দলীয় জোট নারীদের অধিকার বন্ধ করে দিয়েছিল। এরপর আওয়ামী লীগ পুনরায় ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আবারও আমরা নীতিমালা প্রণয়ন করে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের মেয়েরা প্রশাসন থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে যাবে। তাদেরকে ওসি, এসপি করেছি, বিচারকও বানিয়েছি। এসপি পদায়নের সময় অনেকে এ নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন, কিন্তু আমি তা শুনিনি। আমাদের প্রতিটি জায়গায় নারীদের আসন ও পদ সংরক্ষিত আছে, রেখেছি।
তিনি বলেন, প্রথম ইসলাম যিনি গ্রহণ করেছেন তিনি একজন নারী। আমাদের রাসুল (সা:) এর স্ত্রী খাদিজা। যিনি ইসলাম প্রচার ও প্রসারে সহযোগিতা করেছেন। যিনি একজন নারী হয়ে ব্যবসা করেছেন, স্বামীকে সহযোগিতা করেছেন, তাহলে এখন নারী ঘরবন্দি হবে কেনো ? হ্যাঁ, শালীনতার সঙ্গে সব জায়গায় চলবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নারীদের পৃথক চেম্বার করার ক্ষেত্রে তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা উৎসাহ দিয়েছেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতি নারীদের উদ্দেশে আরো বলেন, নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলে আজকের এত উন্নয়ন করতে পেরেছি। নারীদেরসহ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি। আমাদের এই অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
দেশের প্রতি ইঞ্চি অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনার মাধ্যমে সার্বিক উৎপাদন বাড়ানোর আহবান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনার প্রাদুর্ভাবের প্রভাব ও যুদ্ধের প্রভাবে অর্থনীতিতে চাপ পড়েছে। দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেছে। জাহাজের ভাড়া বেড়ে গেছে। এ জন্য ভাইবোনদের আহ্বান করি, যার যেখানে সুযোগ আছে, নিজেরা যেন চাষ করি। নিজেরা আবাদ করলে নিজের চাহিদা পূরণ করতে পারবো। নিজেদের উপার্জন নিজে করবো, নিজের পায়ে দাঁড়াবো।
তিনি বলেন, আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে পাশে থেকে শক্তি সাহস যুগিয়েছেন আমার মা। তিনি বাবাকে বলতেন, তুমি কোনো চিন্তা করবে না। আমাদের পড়াশোনা করানো, সংসার সামলানো সবই দেখেছেন আমার মা। এমনকি তাঁর বাবা কারাগারে থাকার সময় আমার মা তাঁর মুক্তির প্রচেষ্টার পাশাপাশি আন্দোলন সংগঠনেও ভূমিকা রেখেছেন।
দেশের স্বাধীনতা ত্বরান্তিত করার ক্ষেত্রে তাঁর মা’য়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, বড় বড় নেতাদের মতামত অগ্রাহ্য করেই তার মা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা চলাকালিন জাতির পিতার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে আলোচনায় যোগ দেবার প্রস্তাবে সাড়া দেননি এমনকি ঐতিহাসিক ছয় দফার সময় একচুলও অবস্থান থেকে সরে আসেননি। তাঁর পরামর্শেই জাতির পিতা নানা মুনীর নানা মত না নিয়ে তাঁর নিজের মধ্যে মানুষের জন্য যে ভাবনা তা থেকেই ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন বলেও জানান তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা মানুষকে বঞ্চনার হাত থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। বার বার কারাবরণ করেছেন। তিনিই আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। তার ডাকেই এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে এসেছে। তিনিই এদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতির শুরুটা করে দিয়ে গেছেন। তাঁর মা সবসময় পাশেপাশে থেকে উৎসাহ যুুগিয়ে গেছেন এবং জাতির পিতার সঙ্গে নিজের জীবনটাও দিয়ে গেছেন।
তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য আমরা জয়িতা ফাউন্ডেশন করেছি। নারীদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শনীর জন্য এই টাওয়ার করেছি। গণভবনের মাটি আজ ধন্য, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে দক্ষ ও সফল নারী উদ্যোক্তারা এখানে এসেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন রাজপথে পুরুষরা নামতে পারেনি, বিএনপি-জামায়াতের অত্যচার-নির্যাতন সহ্য করেই আমাদের নারী নেতা-কর্মীরা আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন। ২১ আগষ্টের গ্রেনেড হামলায় নিহত নারী নেত্রী আইভি রহমানসহ আন্দোলন-সংগ্রামে জীবন উৎসর্গকারী নারীদেরও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

আগামী ১০০ দিন দেশকে পাহারা দিতে হবে : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, ১৪ সালে বিএনপি গাড়ি ও মানুষ পুঁড়িয়েছিল। এতকিছু করেও তারা শেখ হাসিনাকে হটাতে পারেনি। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এ বিষয়ে আমরা খুবই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আগামী নির্বাচনে দেশের মানুষ দৃঢ়ভাবে অংশগ্রহণ করবে। আশা করব বিএনপিও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এবং তারা তাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করবে।
তিনি বলেন, আমি সবাইকে অনুরোধ জানাই আগামী ১০০ দিন দেশকে পাহারা দিতে হবে। কারণ দেশটাকে তারা বিশ্ব বেনিয়াদের কাছে তুলে দিতে চাচ্ছে। ক্ষমতা পাহারা দিতে হবে না, ক্ষমতা পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের। কিন্তু দেশটাকে পাহারা দিতে হবে।
মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠপুত্র শহীদ শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির উদ্দেশে হাছান মাহমুদ বলেন, তারা ভেবেছে ঢাকা শহরে কয়েকটা সমাবেশ করে, মানববন্ধন করে এবং সারাদেশ থেকে তাদের অগ্নিসন্ত্রাসীদের জড়ো করে সরকার হটিয়ে দেবে। এটা আওয়ামী লীগ সরকার… শেখ হাসিনার সরকার। কয়েকটা মানববন্ধন করে, নয়া পল্টনে ২০-৩০ হাজার মানুষ জড়ো করে কিংবা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে এই সরকার হটানো সম্ভব না। আপনারা ২০১৩-১৪ সালেও তো অনেক চেষ্টা করেছিলেন। বহু গাড়ি ও মানুষ পুড়িয়েছিলেন; তবুও শেখ হাসিনাকে হটাতে পারেননি।
তিনি বলেন, তাদের লক্ষ্য ক্ষমতায় যাওয়া নয়। তারা জানে নির্বাচন হলেও তাদের পক্ষে ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব নয়। তারা যে পানি ঘোলা করার চেষ্টা করছে সেখানে মাছ তারা শিকার করতে পারবে না, শিকার করবে অন্যরা। সেটিও তারা জানে। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করা এবং বিশ্ব বেনিয়াদের হাতে দেশটাকে তুলে দেওয়া ও দেশের সম্পদটাও তুলে দেওয়া।
হাছান মাহমুদ বলেন, আমি অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম বিএনপি-জামায়াত যখন নির্বাচনে আসে তখন তারা ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতি করে। জামায়াততো ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতি করে। কিন্তু ফিলিস্তিনে পাখি শিকার করার মতো মানুষ মারা হচ্ছে, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, তা নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের মুখে এখন একটিও কথা নেই।
মন্ত্রী বলেন, আর তারেক জিয়া নির্দেশ দেয় এটি নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ বিশ্ব মোড়লরা অখুশি হতে পারে। এজন্য তারা এ বিষয়ে কোনো কথা বলেন না। যারা বিশ্ব মোড়লরা অখুশি হবে বলে একটি শব্দ উচ্চারণ করেন না, তারা সুযোগ পেলে দেশটাকে বিক্রি করে দেবে।
তিনি বলেন, আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ করার জন্য। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আগামী নির্বাচনে দেশের মানুষ ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করবে। আশা করি বিএনপিও সেখানে অংশগ্রহণ করবে এবং তারা তাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করবে।
বিএনপি মহাসচিবকে ভদ্রলোক সম্বোধন করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, মির্জা ফখরুল আর যাই হোক, মিথ্যা কথা বললেও, যেটা বিশ্বাস করে না সেটি মুখে বললেও এবং নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কথা বললেও তিনি ভদ্রলোক। তাই তাকে বলব অত উঁচু গলায় কথা বলবেন না। আপনি এমপি হওয়ার পরও আপনার দল আপনাকে শপথ নিতে দেয়নি। আপনার দল এমপিদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাদেরকে পদত্যাগ করিয়েছে, তবুও কোনো লাভ হয়নি। সুতরাং আপনার দলের মূল নেতারা বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়া চায় না আপনারা নির্বাচনে এসে ভালো ফল করুন কিংবা এমপি হোন। সুতরাং ফখরুল সাহেবদের অনুরোধ জানাব, খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়ার লাঠিয়াল বাহিনীর সর্দার হয়ে কাজ করবেন না। রাজনীতিবিদ হিসেবে এবং দেশের স্বার্থে কাজ করুন। তাহলে দেশ উপকৃত হবে।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কার্যকরী সভাপতি কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম। এতে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র অরুন সরকার রানা এবং যুবলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য মানিক লাল ঘোষসহ অনেকে।

নিজ গুণেই নারীদের অধিকার আদায় করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নারীরা শুধু আমাদের অধিকার দাও বললে চলবে না, নারীদের অধিকার নারীদের আদায় করে নিতে হবে। নারীদের অধিকার নিজের গুণে অর্জন করতে হবে।
আজ মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) বেলা পৌনে একটার দিকে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত নারী উদ্যোক্তা সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
একজন নারীর জন্য অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া খুবই প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাহলে একজন নারী কারও কাছে মুখাপেক্ষী থাকবে না।
নারীদের বাদ দিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, নারীদের অধিকার আদায়ে সরকার কাজ করছে। কারণে তাদের বাদ দিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সব সময় নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করতেন। তিনি এ দেশে নারীদের সার্বিক উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য স্বাধীনতার পর যে সংবিধান দিয়েছিলেন, সেখানে কিন্তু নারীর সমঅধিকারের কথা বলা আছে। নারী শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন। নারী নেতৃত্ব যাতে গড়ে ওঠে, তার জন্য পার্লামেন্টে সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের মেয়েদের ওপর বিএনপির অত্যাচার, নির্যাতন, অগ্নিসন্ত্রাস চালিয়েছিল। আমাদের যুব মহিলা লীগের মেয়ে, আমাদের আওয়ামী লীগের মেয়েদের ওপর যে অত্যাচার তারা করেছিল, তা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। গ্রেপ্তার করা, থানা নিয়ে আটকানো, নানাভাবে তাদের নির্যাতন করা হয়। এর প্রতিবাদ আমাদের মেয়েরা করে গেছে। আমাদের পুরুষরা যখন রাস্তায় নামতে পারেনি, তখন আমাদের যুব ও আওয়ামী লীগের নারী নেত্রীরা সাহসের সঙ্গে রাস্তায় নেমেছে। যার ফলে আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পেরেছি।
এর আগে সকাল ১০টার পর তিনি জয়িতা টাওয়ারের উদ্বোধন করেন। এসময় বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা ও প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা সঙ্গে ছিলেন।

হামাসের সক্ষমতা ধ্বংস না করা পর্যন্ত ইসরায়েল থামবে না

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপে বলেছেন, ইসরায়েল হামাসের সামরিক ও সরকারি সক্ষমতা ধ্বংস না করা পর্যন্ত গাজা উপত্যকায় তাদের অভিযান বন্ধ করবে না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এই কথা জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, নেতানিয়াহু সোমবার সন্ধ্যায় পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং ‘এটি স্পষ্ট করেছেন যে, ইসরায়েল জঘন্য এবং নিষ্ঠুর খুনীদের হাতে হামলার শিকার হয়েছে। তারা এসব খুনিকে রুখতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ এবং ঐক্যবদ্ধভাবে যুদ্ধে নেমেছে। এক্ষেত্রে ইসরায়েল হামাসের সামরিক ও সরকারি সক্ষমতা ধ্বংস না করা পর্যন্ত থামবে না।’
সোমবার ক্রেমলিন জানায়, পুতিন ও নেতানিয়াহু ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। ক্রেমলিনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এ সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নিহত ইসরায়েলিদের নিকটাত্মীয়দের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি নারী ও শিশুসহ বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয় এমন যেকোন কর্মকা-ের নিন্দা জানিয়েছেন।
এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট এ অঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সহিংসতা বৃদ্ধি রোধ করতে এবং গাজায় মানবিক বিপর্যয় এড়াতে মস্কোর বিভিন্ন পদক্ষেপ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
সোমবার পুতিন ফিলিস্তিনি, মিশর, ইরান ও সিরীয় নেতাদের সঙ্গে টেলি ফোনে কথা বলেছেন। এসব ফোনালাপের হাইলাইট ইসরায়েলকে জানানো হয়েছে।
ক্রেমলিন জানায়, পুতিন আরও বলেন যে, রাশিয়া এ সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে।
খবর তাস