শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬

টেকসই প্রত্যাবাসন রোহিঙ্গা সমস্যার একমাত্র সমাধান : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসন রোহিঙ্গা সমস্যার একমাত্র সমাধান।
আজ মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা- ইউএনএইচসিআরের আয়োজিত রোহিঙ্গা শরণার্থীবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন মন্ত্রী।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ড. মোমেন তার বক্তৃতায় রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতির উন্নতির জন্য এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অর্থপূর্ণ সম্পৃক্ততার আহ্বান জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের পাঠ্যক্রমের চলমান শিক্ষা এবং কক্সবাজার ও ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম প্রত্যাবাসন উদ্যোগের পরিপূরক হওয়া উচিত।

খুনিরা সেদিন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত করেছিল : তথ্যমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসেনকে যখন হত্যা করা হয় তখন নারী ও শিশুদের হত্যা করা হয়নি। অথচ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ রাসেলের মতো শিশুকে হত্যা করা হয়েছিল, নারী ও শিশুদের রেহাই দেওয়া হয়নি। চার বছরের সুকান্ত বাবু, ১২ বছরের বেবি সেরনিয়াবাত, ১০-১১ বছরের আরিফ সেরনিয়াবাত এবং অন্তসত্ত্বা আরজু মনিকে হত্যা করা হয়েছিল। খুনিরা সেদিন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত করেছিল।
আজ বুধবার বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ৬০তম জন্মদিন। ১৯৬৪ সালের এই দিনে রাজধানীর ধানমন্ডিতে শেখ রাসেল জন্মগ্রহণ করেন। শহীদ শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে আজ সকালে বনানী কবরস্থানে দলীয় নেতাদের সঙ্গে শেখ রাসেলসহ ১৫ আগস্টের শহীদদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাদের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আজ শহীদ শেখ রাসেলের জন্মদিনে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সময় এই নিষ্পাপ শিশু যে রাজনীতি বুঝত না, রাজনীতি করত না, রাজনীতির আশপাশেও ছিল না তাকে ও হত্যা করা হয়েছিল।
শেখ রাসেল দিবসে তার মর্মস্পর্শী ইতিহাস স্মরণ করে হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক যেটি এখন সিনেমা হলে চলছে সেটি যারা দেখেছেন বা দেখবেন, তারা দেখতে পাবেন, সেই হত্যাযজ্ঞের সময় বাড়ির সিঁড়ির তলায় আশ্রয় নেওয়া শেখ রাসেলকে যখন টানাহেঁচড়া করা হচ্ছিল তখন শেখ রাসেল বলেছিল, আমি মায়ের কাছে যাব। খুনিরা শেখ রাসেলকে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের লাশের কাছে নিয়ে গিয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করে। অর্থাৎ সে দিন খুনীরা যে কী নৃশংস, নির্মম, বর্বর ছিল সেটিরই প্রমাণ এই হত্যাকাণ্ড।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, শেখ রাসেলের আত্মার প্রতি এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন তখনই আরও পূর্ণতা পাবে, যখন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানসহ ১৫ আগস্টের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচিত হবে এবং তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, ১৫ আগস্টে সংঘটিত এই মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অন্যতম প্রধান কুশীলব ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। যে খুনের মাধ্যমে তাদের উত্থান সেই খুনের রাজনীতি তারা এখনও অব্যাহত রেখেছে। দেশটাকে তারা এখন বিশ্ববেনিয়াদের হাতে তুলে দিতে চায়। এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করেছেন আফ্রিকান ইউনিয়ন প্রধান

আফ্রিকান ইউনিয়নের প্রধান মুসা ফাকি মাহামাত গাজা উপত্যাকার একটি হাসপাতালে মঙ্গলবার ভয়াবহ হামলা চালানোয় ইসরায়েলকে ‘যুদ্ধাপরাধের’ দায়ে অভিযুক্ত করেছেন।
এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে মুসা ফাকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ‘আজ গাজার একটি হাসপাতালে ইসরায়েলের ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনায় আমাদের নিন্দা জানানোর কোন ভাষা নেই। তাদের বর্বরোচিত হামলায় শত শত মানুষ নিহত হয়েছে।’
এর আগে এক্স যোগাযোগ মাধ্যম টুইটার নামে পরিচিত ছিল।
হামাস পরিচালিত ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গৃহহীন মানুষদের আশ্রয় দেওয়ায় ইসরায়েল ওই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে হামলা চালায়। এতে সেখানে কমপক্ষে ৫০০ জন নিহত হয়।
এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, হামাসের মিত্র সংগঠন ইসলামিক জিহাদ ফিলিস্তিনের জঙ্গিরা ভুল করে সেখানে রকেট হামলা চালিয়েছে।
ফাকি বলেন, ‘কোন হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা চালানো যুদ্ধাপরাধের সামিল। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের আওতায় যে কোন হাসপাতালকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।’
গত ৭ অক্টোবর হামাসের যোদ্ধারা ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক হামলা চালানোর পর থেকে ইসরায়েল গাজার বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। ফলে সেখানে যুদ্ধে উভয় পক্ষের কয়েক হাজার লোক ইতোমধ্যে নিহত হয়েছে।
গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রায় ৩ হাজার লোক প্রাণ হারিয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলে হামাসের হামলায় ১৪শ’ জনের বেশি নিহত হয়েছে।
খবর এএফপি

বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে আজকের শিশুরা : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে। আগামীকে স্মার্ট বাংলাদেশ হবে। সেই বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে আজকের শিশুরা। তাদের সেভাবেই গড়ে তোলা হবে।
আজ বুধবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়নাধীন ১০টি প্রকল্প উদ্বোধন এবং ৭টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সরকারপ্রধান।
‘শেখ রাসেল দীপ্তিময়, নির্ভীক নির্মল দুর্জয়’ প্রতিপাদ্যে দেশে তৃতীয়বারের মতো পালন করা হচ্ছে শেখ রাসেল দিবস।
প্রতিটি স্কুলে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের শিশুরা তাড়াতাড়ি সবকিছু শেখে। আমরা বৃদ্ধরা শিখতে গেলে কোথায় বোতাম টিপতে হবে সেটা নিয়ে চিন্তা করতে হয়, আর ওরা কিন্তু ভেতর থেকে শিখে ফেলে।
নিজের নাতনির কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমার চার বছরের নাতনি আমাকে শিখায় যে, তুমি এটা (কম্পিউটার) টিপতে থাকো, টিপতে টিপতে পেরে যাবা। আর মোবাইল ফোনের পিন নম্বরটা, শুনলে অবাক হবেন, তারা গেম খেলবে এ কারণে আমি তাদেরকে পিন দেব না। আমি লুকিয়ে পিন দিচ্ছি, আর আমার চশমার রিফ্লেকশন থেকে আমার নাতি সে নম্বর নিয়ে নিয়েছে। আমাকে বলে আমি জেনে গেছি তুমি কী কর। এরা এতো স্মার্ট। আমাদের এই ছোট্ট সোনামণিরা আমার স্মার্ট বাংলাদেশের স্মার্ট সৈনিক হবে। এটাই তো আমি চাই।’

দেশকে এগিয়ে নিতে নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, ও মাদক থেকে শিশুদের দূরে থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ কখনো শান্তি বয়ে আনে না। যুদ্ধ বন্ধ করেন, অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করেন। আমরা যুদ্ধ চাই না। অস্ত্র প্রতিযাগিতায় যে ব্যয় হয় তা শিশুদের খাদ্য, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের জন্য ব্যয় করা হোক আমরা এটা চাই।
তিনি বলেন, আমরা চাই আমাদের শিশুরা আরও উন্নত হবে। আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। আজ থেকে ১৪ বছর আগের বাংলাদেশ কেমন ছিল? ’৯৬ সালে সরকারে এসে ডিজিটাল সিস্টেমের ব্যবস্থা করেছি, ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করেছি। ২০০৯-এর পর থেকে আজ পর্যন্ত ডিজিটাল বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলেছি। আমরা শান্তি চাই, আমরা দেশের উন্নতি চাই।
সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের শিশুরা লেখাপড়া শিখবে। এখানে অনেক শিশুরা রয়েছে, তোমরা গুরুজনের কথা মেনে চলবে, বাবা-মায়ের কথা মেনে চলবে। তোমরা লেখাপড়া শিখবে। একটা কথা মনে রাখবে, ধনসম্পদ কিছু থাকবে না, শুধু শিক্ষাটা থাকবে। শিক্ষাটাই মূল শক্তি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েদের ছোটবেলা থেকে একটা কথাই শিখিয়েছি, টাকা-পয়সা, সম্পদ আমরা কিছুই রেখে দিতে পারব না, তোমাদের লেখাপড়া শিখতে হবে, তারা বিশ্বের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের শিশুরা কিন্তু তাড়াতাড়ি শেখে। আমরা বৃদ্ধরা শিখতে গেলে কোথায় বোতাম টিপতে হবে সেটা নিয়ে চিন্তা করতে হয়, আর ওরা কিন্তু ভেতর থেকে শিখে ফেলে।
শেখ হাসিনা বলেন, ধর্ম-বর্ণ সবাইকে মানুষ হিসেবে দেখতে হবে। আর কেউ যদি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন হয়, কেউ যদি পঙ্গু হয়, আমরা তো ছোটবেলায় শিখেছি, অন্ধ অন্ধ বলিও না, পঙ্গুকে পঙ্গু বলিও না। বরং তাদের সাহায্য করো। আমাদের শিশুদের সেভাবেই মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৩০

মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩০ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।
মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার (১৮ অক্টোবর) একই সময়ের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল জানিয়েছে, নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ১ হাজার ২৪৫ পিস ইয়াবা, ১১ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা, ৩০ গ্রাম হেরোইন, ৬০ বোতল দেশিমদ ও ২১টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এছাড়া গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ডিএমপির মিডিয়া সেল।

দর্শক মাতানো স্ট্রেঞ্জার থিংসের ছায়া থেকে বের হতে চান মিলি

নেটফ্লিক্সের দর্শক মাতানো সিরিজ স্ট্রেঞ্জার থিংস। এতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিলি ববি ব্রাউন। এ সিরিজই তাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে বিশ্বের কাছে। প্রতিষ্ঠিত করেছে অভিনেত্রী হিসেবে। কিন্তু এখন এ সিরিজ থেকেই যেন মুক্তি চাইছেন মিলি। সম্প্রতি গ্ল্যামার ম্যাগাজিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ‌স্ট্রেঞ্জার থিংস শেষ হয়ে গেলে তিনি দুঃখ পাবেন না। এর কারণও বলেছেন মিলি। স্ট্রেঞ্জার থিংসের কারণে নিজের পছন্দের অনেক কাজ করতে পারছেন না তিনি।
মিলি বলেন, ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস শেষ হতে অনেক সময় লাগছে আর এতে আমি আটকা পড়ে আছি। চাইলেও পছন্দের কোনো গল্পে কাজ করতে পারছি না। আমি আসলে এ মুহূর্তে সিরিজটিকে বিদায় বলার জন্য প্রস্তুত।’
তবে পাশাপাশি সিরিজটিকে ধন্যবাদ দিতেও ভোলেননি ১৯ বছর বয়সী এ অভিনেত্রী। কেননা স্ট্রেঞ্জার থিংসের ইলেভেন চরিত্রটির মধ্য দিয়েই তিনি অভিনয়ে জনপ্রিয় হয়েছেন। মিলি বলেন, ‘‌চরিত্রটি আমাকে ভালো অভিনেত্রী হওয়ার উপাদানগুলো দিয়েছে। সিরিজ শেষ হয়ে গেলেও সেসব আমার মধ্যে থাকবে।’ তিনি অবশ্য আরো আগে থেকেই এ ধরনের কথা বলছেন। আগস্টে উইমেনস ওয়্যার ডেইলির সঙ্গে কথোপকথনে এ কথাই বলেছিলেন মিলি।
সে সময় তিনি আরো বলেছিলেন, ‘আমার জীবনে সিরিজটির প্রভাব অনেক। কিন্তু ‌আমার মনে হয়, স্কুল ছাড়ার সময় হয়েছে। এখন নিজেকে নতুন করে তৈরি করার দিকে মন দেয়া উচিত। নিজের জীবনকে নিজের পরিকল্পনা অনুসারে সাজানোর সময় হয়েছে।’ অর্থাৎ মিলি বলতে চান, তিনি ইলেভেনের টিনএজ চরিত্র থেকে বেরিয়ে পরিণত গল্প ও চরিত্রে নিজেকে পরীক্ষা করতে চান। আর সেজন্য তিনি প্রস্তুত।
মিলি অবশ্য এরই মধ্যে সে ধরনের কাজ করেছেন। নেটফ্লিক্সের সঙ্গেই করেছেন দুটি ফিচার ফিল্ম। শার্লকের স্পিন অফ এনোলা হোমসের গল্পে তাকে মুখ্য চরিত্রে দেখা গেছে। প্রথম সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০২০ সালে এবং এনোলা হোমস টু মুক্তি পায় ২০২২ সালে।
মিলির হাতে আছে রুশো ব্রাদার্সের সিনেমা ‘‌দি ইলেকট্রিক স্টেট’। এতে তিনি অভিনয় করছেন ক্রিস প্র্যাটের বিপরীতে। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘‌আমি খুবই উচ্ছ্বসিত যে ক্রিস প্র্যাটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অভিনয় করব। এটা আমার জন্য খুব বড় একটা সুযোগ। বহুদিন ধরে তাকে অনুসরণ করি। আর এ সিনেমার সেটে আমাকে ক্রিস প্র্যাটের সঙ্গে সমানভাবেই দেখেছেন সবাই।’

মেসি ম্যাজিকে আর্জেন্টিনাল টানা চতুর্থ জয়

মেসি ম্যাজিকে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে টানা চতুর্থ ম্যাচ জিতল আর্জেন্টিনা। তবে এ ম্যাচে ইনজুরির কারণে মেসি খেলবেন কিনা তা নিয়ে শঙ্কা ছিল। কিন্তু সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে মেসি নামলেন এবং জয় করলেন। শুরুর একাদশে থাকা মেসি প্রথমার্ধে জোড়া গোল করেছেন। তার জোড়া গোলে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে পেরুর বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে জয় পেয়েছে। এ জয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে চার ম্যাচ খেলে সবগুলোই জিতলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এতে ১২ পয়েন্ট নিয়ে কনমেবল অঞ্চলের বাছাইয়ে আলবিসেলেস্তেরা টেবিলের শীর্ষে রয়েছে।
এ দিন ম্যাচের ৩২ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন মেসি। নিকোলাস গঞ্জালেসের বাড়ানো বলে বক্সের ডান দিক থেকে বাম পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করেন আর্জেন্টাইন তারকা। এর মিনিট দশেক পরই তিনি দ্বিতীয় গোলও পেয়ে যান। এনজো ফার্নান্দেসের পাস পেয়েও সেটি এড়িয়ে মেসির জন্য ছেড়ে দেন ম্যানচেস্টার সিটির তারকা ফরোয়ার্ড জুলিয়ান আলভারেজ। এরপর নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান মেসি। এর মাধ্যমে লাতিন অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে এখন সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড মেসির দখলে। ৩১ গোল নিয়ে তিনি সবার উপরে আছেন। ২-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যাওয়া আর্জেন্টিনার দখলে ছিল ৭৫ শতাংশ বল।
দ্বিতীয়ার্ধে নেমেও আক্রমণের ধারা ধরে রাখে আর্জেন্টাইনরা। ফলে ৫০ মিনিটে ব‍্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ আসে নিকোলাস গঞ্জালেসের সামনে। কিন্তু শেষ সময়ের মরিয়া স্লাইডে ব‍্যবধান বাড়তে দেননি উইল্দার কার্তাহেনা। গতিময় ফুটবলে পরের কিছুক্ষণ আর্জেন্টিনার রক্ষণকে চাপে রাখে পেরু। নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে ফের মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নেয় আর্জেন্টিনা। ৫৭তম মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে বল জালে বলও পাঠানে মেসি। তবে ভিএআর মনিটরে রিপ্লে দেখে অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি।
এরপর অল্প সময়ের ব্যবধানে আবারও সুযোগ আসে মেসির সামনে। তবে ছোট ডি-বক্স থেকে ডিফেন্ডারদের চ‍্যালেঞ্জের মুখে শট নিতে পারেননি। পরের মিনিটে তার শট বেরিয়ে যায় পোস্ট ঘেঁষে। ৮৪তম মিনিটে ব্যবধান কমানোর কাছাকাছি ছিল পেরুও। খুব কাছ থেকে নেওয়া হেড লক্ষ‍্যে রাখতে পারেননি রেনাতো তাপিয়া। ফলে বাছাইয়ের চতুর্থ ম‍্যাচেও নিজেদের প্রথম গোল পাওয়া হয়নি পেরুর।
এ ম্যাচের জোড়া গোলের ফলে বাছাই পর্বে মেসির গোল সংখ্যা দাঁড়ালো তিনে। বর্তমান যুগ্মভাবে শীর্ষে তিনি ও উরুগুয়ের নিকোলাস ডি লা ক্রুজ। জাতীয় দলের হয়ে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়ালো ১০৬। ১৭৭ ম্যাচে এ গোল করেছেন। এ ছাড়া এ ম্যাচের জোড়া গোল নিয়ে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে তার গোলের সংখ্যা ৩১, যা দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের রেকর্ড।

দু-একটি দল অংশ না নিলেও নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে : কাদের

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দু-একটি দল অংশ না নিলেও নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শেখ রাসেলের ৬০তম জন্মদিন উপলক্ষে বুধবার (১৮ অক্টোবর) তার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সামনে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন হবে। নির্বাচন হচ্ছে স্বাধীন নির্বাচন কমিশনারের অধীনে। নির্বাচন সংবিধানের সব নিয়ম মেনেই হবে। সে নির্বাচনে কেউ যদি অংশ না নেয়, সেটার জন্য নির্বাচন আটকে থাকবে না। অনেকে অংশ নেবে। বহু দল অংশ নেবে। এক-দুইটা দল অংশ না নিলে নির্বাচনের কী হবে? নির্বাচন কি অবৈধ হয়ে যাবে? আপনি না এলে আমি কী করব। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা আপনার অধিকার। এটা কারও দয়া নয়। কেউ দয়া করে ত্রাণ বিতরণ করছে না। আপনার অধিকার আপনি প্রয়োগ করবেন। নিজের অধিকার যদি কেউ প্রয়োগ না করে, সেটার জন্য তো তারাই দায়ী।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আজ শেখ রাসেলের জন্মদিন। আজ আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করছি, আজকের এ দিবস রাসেল দিবস। একসঙ্গে সারা দেশে পালিত হচ্ছে। রাসেলের জন্মদিনে আনন্দের চাইতে তার নৃশংস মৃত্যুর বেদনাটাই মুখ্য। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলার ইতিহাসের সবচেয়ে নৃশংস রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। সেই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর ১০ বছরের শিশু সন্তান শেখ রাসেল। পৃথিবীতে অসংখ্য রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে কিন্তু ১৫ আগস্টের মতো নৃশংসতা, নির্মমতার হত্যাকাণ্ড আর কোথাও হয়নি।
তিনি বলেন, ভাঙচুর, অগ্নিসন্ত্রাস, অস্ত্র ও খুনের মামলায় আগে থেকে যারা জড়িত, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের গ্রেপ্তার করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নতুন করে গ্রেপ্তারের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ’৭৫ এ বাংলাদেশে খন্দকার মোশতাক এবং জেনারেল জিয়াউর রহমান যে হত্যা, ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করেছিলেন– ৩ নভেম্বর জেল হত্যাকাণ্ড, ২০০৪ সালের একুশে আগস্টে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান টার্গেট করে গ্রেনেড হামলা হয়। এই ষড়যন্ত্রের প্রধান কারণ ছিল বঙ্গবন্ধু পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করা, আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করা। সেই হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি যারা বাংলাদেশের শুরু করেছিল, এখনো তারা সেই হীন রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ায়নি। হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির সেই ধারাবাহিকতা তারাই বহন করে চলছে, যারা জিয়াউর রহমান উত্তরসূরি। আজ জিয়াউর রহমানের দল বিএনপি একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা বহন করছে।
বঙ্গবন্ধুর ছোট ছেলে শেখ রাসেল ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর ধানমন্ডির ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবনে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মানবতার শত্রু ঘৃণ্য ঘাতকদের নির্মম বুলেট থেকে রক্ষা পাননি শিশু শেখ রাসেল। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে নরপিশাচরা নির্মমভাবে তাকেও হত্যা করেছিল। তিনি ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
ঘাতকদের হাতে সেদিন একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল এবং পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। পৃথিবীর এ জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত এবং তার ছেলে আরিফ ও সুকান্তবাবু, মেয়ে বেবি, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় তারা প্রাণে রক্ষা পান।
শেখ রাসেলের ৬০তম জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। সকাল সোয়া সাতটার আগে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে শেখ রাসেলসহ ১৫ আগস্ট নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বঙ্গবন্ধুকন্যা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে সেখানে সমাহিত স্বজনদের কবরে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে দেন। এবং নিহত স্বজনদের স্মরণ করে দুই হাত তুলে মোনাজাত করেন।
সরকারপ্রধান চলে যাওয়ার পর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠন ও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করছে।

আজ শেখ রাসেলের ৬০তম জন্মদিন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শেখ রাসেলের ৬০তম জন্মদিন আজ বুধবার (১৮ অক্টোবর)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট ভাই শেখ রাসেল ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর ধানমন্ডির ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবনে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মানবতার শত্রু ঘৃণ্য ঘাতকদের নির্মম বুলেট থেকে রক্ষা পাননি শিশু শেখ রাসেল। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে নরপিশাচরা নির্মমভাবে তাকেও হত্যা করেছিল। তিনি ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
শিশু রাসেলের জীবন সম্পর্কে শিশু-কিশোরদের কাছে তুলে ধরতে তার জন্মদিনকে ‘শেখ রাসেল দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে তৃতীয়বারের মতো ‘শেখ রাসেল দিবস’ পালনের প্রতিপাদ্য ‘শেখ রাসেল দীপ্তিময়, নির্ভীক নির্মল দুর্জয়’।
জাতীয়ভাবে সারা দেশে একযোগে এবং বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে শেখ রাসেল দিবস পালিত হবে। শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত শেখ রাসেলসহ ১৫ আগস্টে নিহত সব শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।
আইসিটি অধিদফতর এবং শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের যৌথ উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৮টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে সবার অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) শেখ রাসেল দিবসের উদ্বোধন করবেন এবং শেখ রাসেল পদক-২০২৩ ও স্মার্ট বাংলাদেশ পুরস্কার বিতরণ করবেন।
দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেখ রাসেল দিবস পালন করা হবে।
আওয়ামী লীগ ছাড়াও দলটির ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শেখ রাসেলের জন্মদিন ‘শেখ রাসেল দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ উপলক্ষে কর্মসূচি পালনের জন্য সারা দেশে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সব স্তরের নেতাকর্মীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
রাসেলের জন্মের পর বঙ্গবন্ধু তার প্রিয় লেখক খ্যাতিমান দার্শনিক ও নোবেল বিজয়ী ব্যক্তিত্ব বার্ট্রান্ড রাসেলের নামানুসারে পরিবারের নতুন সদস্যের নাম রাখেন ‘রাসেল’। শৈশব থেকেই দুরন্ত প্রাণবন্ত রাসেল ছিলেন পরিবারের সবার অতি আদরের। কিন্তু মাত্র দেড় বছর বয়স থেকেই প্রিয় পিতার সঙ্গে তার সাক্ষাতের একমাত্র স্থান হয়ে ওঠে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট। তবে সাত বছর বয়সে ১৯৭১ সালে তিনি নিজেই বন্দি হয়ে যান।
১৯৭১ সালে রাসেল তার মা ও দুই বোনসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ধানমন্ডি ১৮ নম্বর সড়কের একটি বাড়িতে বন্দি জীবন কাটিয়েছেন। পিতা বঙ্গবন্ধু তখন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি এবং বড় দুই ভাই শেখ কামাল ও শেখ জামাল চলে গেছেন মুক্তিযুদ্ধে। মা ও বোনসহ পরিবারের সদস্যরা ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর মুক্ত হন। রাসেল ‘জয় বাংলা’ বলে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। বাইরে তখন চলছে বিজয়-উৎসব।
শেখ রাসেলের ভুবন ছিল তার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মাতা বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, বোন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং ভাই শেখ কামাল ও শেখ জামালকে ঘিরে।

শেখ রাসেলের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠপুত্র শেখ রাসেলের ৬০তম জন্মদিনে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা।
বুধবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ৭টায় ১০ মিনিটে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে শেখ রাসেলসহ ১৫ আগস্টে নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী।
পরবর্তীতে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠন ও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রদ্ধা জানায়।

১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর ধানমন্ডির ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত বঙ্গবন্ধু ভবনে জন্মগ্রহণ করেন শেখ রাসেল।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো শিশু রাসেলও রক্ষা পাননি ঘাতকদের নির্মম বুলেট থেকে। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ঘাতকরা নির্মমভাবে তাকেও হত্যা করেছিল। তিনি ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।