বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

ফিলিস্তিনিদের জরুরি সামগ্রী পাঠানো হবে : প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ থেকে ফিলিস্তিনে ওষুধ এবং জরুরি অন্যান্য জিনিসপত্র পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ওআইসিভুক্ত ১৪ দেশের রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, কোন পথে ফিলিস্তিনে ওষুধ পাঠানো হবে এখনো সেটা ক্লিয়ার না। তবে আমরা পাঠাবো। এছাড়া আগামী শুক্রবার বাংলাদেশের সব মসজিদে ফিলিস্তিনিদের জন্য দোয়া পড়ানো হবে।
বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় ওআইসিভুক্ত ১৪ দেশের রাষ্ট্রদূত গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, গতকাল ফিলিস্তিনের হাসপাতালে যে অ্যাটাক করেছে সেখানে বহু শিশু এবং নারী মারা গেছে। সে সম্পর্কে তারা (১৪ দেশের রাষ্ট্রদূতরা) তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। ফিলিস্তিনিদের ব্যাপারে বাংলাদেশের যেই সমর্থন আছে, সেই সমর্থন যেন অব্যাহত থাকে সেটাও চান তারা।
এ সময় বাংলাদেশের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই ধরনের সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার। হাসপাতালের উপর যে হামলা হয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে সচিব বলেন, অতি শীঘ্রই একটি শোক দিবস পালনেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। ক্যাবিনেটের মাধ্যমে সেটি জানানো হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সমস্যার মূল যে কারণগুলো রয়েছে, এগুলো বের করে বিশ্ব সম্প্রদায়কে একটা সমাধানের পথ বের করতে হবে। তার জন্য দরকার মুসলিম উম্মাহর ঐক্য।
সচিব বলেন, মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের উপর প্রধানমন্ত্রী বার বার জোর দিয়েছেন। মুসলিম উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ হলে ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিশ্চিত হবে। আর ২৩৮ এবং ৩৪২ যে রেজুলেশনগুলো আছে, সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি।
সচিব আরও জানান, আজকে ওআইসি একটা জরুরি সভা ডেকেছে। সেখানে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন। তিনি বক্তব্য দিয়েছেন। তারা একটা রেজ্যুলেশনে এই মুহূর্তে কাজ করছে। আজকে যারা রাষ্ট্রদূত ছিলাম তারা এবং প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এর মাধ্যমে শক্তিশালী বার্তা যাবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে, যে এটা চলতে পারে না। যুদ্ধ বা সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। এই সমস্যার সমাধান যেন নতুন করে করা হয়।
সচিব বলেন, আমরা সবসময় তাদের (ফিলিস্তিনি) পাশে ছিলাম, আমরা তাদের পাশে থাকব। এবারও আমরা ওষুধ এবং জরুরি সামগ্রী পাঠাবো। আন্তর্জাতিকভাবে যতগুলো ফোরাম আছে আমরা সেখানে সক্রিয় ভূমিকা রাখব।
রাষ্ট্রদূতদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা সবাই একসঙ্গে হয়েছেন এটাও একটা মেসেজ।
সচিব জানান, ফিলিস্তিনের সমস্যার কথা চিন্তা করে তারা (রাষ্ট্রদূতরা) সবাই একত্র হয়েছেন, এক ভয়েজে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর যথেষ্ট প্রশংসা করেছেন।

উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহ’র মুহুর্মুহু রকেট হামলা

ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় মুহুর্মুহু রকেট হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বুধবার ইসরায়েলের কিরিয়াত শমোনা এলাকায় এই হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
এক বিবৃতিতে আইডিএফ বলেছে, উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তের কিরিয়াত শমোনা এলাকায় টানা রকেট নিক্ষেপ করেছে লেবাননের হিজবুল্লাহ। ওই এলাকায় অন্তত ৯টি রকেট ধেয়ে এসেছে। লেবানন থেকে ছোড়া এসব রকেটের মধ্যে চারটিকে বাধা দিয়েছে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম। তবে একটি রকেট কিরিয়াত শমোনা এলাকার উন্মুক্ত স্থানে পড়েছে। এতে কোনও হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
আইডিএফ বলেছে, উত্তর ইসরায়েলের টেল তুমরুস এলাকা লক্ষ্য করে লেবানন থেকে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। পরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সদস্যরা লেবাননের ভূখণ্ডে হিজবুল্লাহর অবস্থানে পাল্টা গোলাবর্ষণ করেছে।
এ ছাড়াও ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের মেটুলা, মালকিয়া এবং মানারা শহরে আরও কয়েকটি ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে লেবাননের হিজবুল্লাহ। তবে এসব শহরে হিজবুল্লাহর হামলায় কোনও হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না তা জানায়নি আইডিএফ।
এর আগে, ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তের বেশ কয়েকটি সামরিক চৌকিতে হামলার দায় স্বীকার করে লেবাননের সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ বলেছে, তারা তিনটি স্থানে ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। পাশাপাশি ইসরায়েলি তল্লাশি চৌকিতে গুলিবর্ষণ করেছে হিজবুল্লাহ।
মঙ্গলবার গভীর রাতে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার আল-আহলি হাসপাতালে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলায় ৫০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনির মৃত্যুর ঘটনায় বুধবার ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে লেবাননে। বৈরুতে মার্কিন দূতাবাসের সামনে শত শত বিক্ষোভকারীর সাথে দেশটির আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছে। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
হিজবুল্লাহ সংশ্লিষ্ট আল-মায়াদিন নিউজের প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, বৈরুতে ফিলিস্তিন ও ইরানের পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ করছেন শত শত মানুষ। ক্রমবর্ধমান সীমান্ত সংঘর্ষের মাঝে ইসরায়েল এবং লেবানন— উভয় সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, তারা কখনও এমন উত্তেজনা অনুভব করেননি। ইরান-সমর্থিত লেবাননের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক ও রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মাঝে প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে সীমান্তের উভয় পাশের শহরগুলো। এই ভয়ে উভয়পাশের সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা ব্যাগ গুছিয়ে অন্যত্র চলে যেতে শুরু করেছেন।

শুক্রবারের মধ্যে গাজায় ত্রাণ সরবরাহ শুরু হবে : বাইডেন

ইসরায়েলের বিমান বাহিনীর হামলায় বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানোর জন্য মিসর ও গাজা সীমান্তের রাফাহ ক্রসিং খুলে দিতে রাজি হয়েছে মিসর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বুধবার ইসরায়েল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের আল আকসা অঞ্চলে চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলের প্রতি সংহতি জানাতে বুধবার ইসরায়েলের রাজধানী জেরুজালেমে গিয়েছিলেন বাইডেন। সেই সফর শেষে মার্কিন বিমান বাহিনীর বিশেষ উড়োজাহাজ এয়ারফোর্স ওয়ানে চেপে দেশে ফিরে যান তিনি।
বিমান ছাড়ার আগে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের উদ্দেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির সঙ্গে টেলিফোনে আমার কথা হয়েছে। গাজার বেসামরিক লোকজনের জন্য ত্রাণ সরবরাহের জন্য রাফাহ ক্রসিং খুলে দিতে রাজি হয়েছেন। (ইসরায়েলের) প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও এ ব্যাপারে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।”
সম্প্রতি ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর বোমা হামলায় রাফা ক্রসিংয়ের বেশ কিছু জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেসব জায়গা মেরামতের কাজ চলছে উল্লেখ করে বাইডেন বলেন, ‘আশা করছি শুক্রবারের মধ্যেই এই ক্রসিং দিয়ে ত্রাণ সামগ্রীবাহী ট্রাকগুলো গাজায় প্রবেশ করা শুরু করবে। প্রথম দিন ২০টি ট্রাককে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে।’
‘তবে এই ক্রসিং খোলা হবে কেবল ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহের জন্য। শরণার্থীরা এই ক্রসিং ব্যবহার করতে পারবেন না।’
প্রসঙ্গত, ৩৬৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ভূখণ্ড গাজায় বসবাস করেন প্রায় ২৩ লাখ ফিলিস্তিনি। দারিদ্র ও বেকারত্বপীড়িত এই ভূখণ্ডের মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশই জাতিসংঘ ও বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থার সহায়তার ওপর সরাসরি নির্ভরশীল।
ইসরায়েল ব্যতীত গাজার সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে কেবল মিসরের। রাফাহ ক্রসিং নামের সেই সীমান্ত পথ দিয়েই গাজা ভূখণ্ডে ত্রাণ ও সহায়তা সামগ্রী পাঠানো হয়।
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে অতর্কিতে হামলা চালায় গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী। সেই হামলার জবাবে গাজা ভূখণ্ডে বোমা বর্ষণ শুরু করে ইসরায়েলের বিমান বাহিনী। সেই হামলা এখন অব্যাহত রয়েছে।

গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাড়ে ৩ হাজার ছুঁই ছুঁই

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৭৮ জনে। আহত হয়েছেন আরও ১২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি।
টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন চলছে এবং স্কুল ও হাসপাতালের মতো স্থানেও হামলার ঘটনা ঘটছে। বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের বার্তাসংস্থা আনাদোলু।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি বিমান হামলা ও অভিযানে গাজা উপত্যকায় নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৪৭৮ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন আরও ১২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার এই তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কেদরা এক সংবাদ সম্মেলনে এই পরিসংখ্যান ঘোষণা করার সময় ‘চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনের গুরুতর পরিণতির’ ওপর জোর দেন। আল-কেদরা জোর দিয়ে বলেন, ‘ইসরায়েলি বাহিনীর সংঘটিত গণহত্যার ধারাবাহিকতা জাতিগত নির্মূলের মতো কাজ এবং এটি ফিলিস্তিনি অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।’
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৪৭৮ জন মারা গেছেন এবং বিভিন্ন মাত্রার আঘাতে ১২ হাজার ৬৫ জন আহত হয়েছেন। হতাহতদের ৭০ শতাংশই নারী, শিশু এবং বৃদ্ধ। হামলার শিকার শত শত ফিলিস্তিনি এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে ফিলিস্তিনির অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার একটি হাসপাতালে মঙ্গলবার ভয়াবহ হামলা চালায় ইসরায়েল। ওই এক হামলায় একসঙ্গে ৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পরে জানানো হয় হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪৭১ জন।
আল-আহলি আরব নামের ওই হাসপাতালটিতে অসংখ্য আহত ও অসুস্থ মানুষ চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এছাড়া দখলদার ইসরায়েলিদের হামলা থেকে বাঁচতেও অনেক মানুষ ‘নিরাপদ আশ্রয়’ ভেবে হাসপাতালটিতে অবস্থান নিয়েছিলেন।
গাজার হামাস নিয়ন্ত্রিত সরকার হাসপাতালের ওপর এ হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ইসরায়েল অবশ্য বিমান হামলার দায় অস্বীকার করেছে। তবে বুধবারের এই পরিসংখ্যানে হাসপাতালে বোমা হামলার হতাহতের সংখ্যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়।

গাজায় হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবজাতির কল্যাণে যুদ্ধ ও অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধের জন্য বিশ^ নেতৃবৃন্দের প্রতি তাঁর আহবান পুণর্ব্যক্ত করে গাজার একটি হাসপাতালে ইসলাইলের সাম্প্রতিক হামলায় নারী-শিশুসহ নিরীহ মানুষ হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা গতকাল (ইসরায়েল কর্তৃক গাজায়) হাসপাতালে বোমা হামলা চালিয়ে মানুষ ও শিশুদের হত্যা এবং শিশুদের রক্তমাখা মুখ দেখেছি। আমি বিশ্ব নেতাদের আহবান জানাচ্ছি, যুদ্ধ ও অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে।’
শেখ হাসিনা আরও বলেন, যুদ্ধ এবং অস্ত্র প্রতিযোগিতা কখনই মানবজাতির জন্য ধ্বংসের পরিবর্তে কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। যুদ্ধে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অস্ত্র প্রতিযোগিতার অর্থ সারাবিশে^র শিশুদের কল্যাণে ব্যয় করা হোক।
আজ বুধবার সকালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ৬০তম জন্মদিন উপলক্ষে ‘শেখ রাসেল দিবস-২০২৩’ এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের মধ্যে ‘শেখ রাসেল পদক-২০২৩’ ও ‘স্মার্ট বাংলাদেশ পদক-২০২৩’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র ভাষণে এসব কথা বলেন।
বিজয়ীদের মধ্যে ‘শেখ রাসেল পদক ও স্মার্ট বাংলাদেশ পদক’ প্রদান করেন তিনি।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ এবং সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রী ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং ইসরায়েলের ফিলিস্তিনের ওপর আগ্রাসনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, আজকে সারা বিশে^ যে যুদ্ধ চলছে, ফিলিস্তিনে নারী-শিশু মারা যাচ্ছে, ইসরাইলেও মারা গেছে। গতকাল দেখলাম হাসপাতালে বোমা হামলা করা হয়েছে। সেখানে মানুষ মারা গেছে, শিশু মারা গেছে, দেখলাম রক্তাক্ত সেই শিশুদের চেহারা।
তিনি বলেন, আমি বিশ^ নেতৃবৃন্দকে বলবো-যুদ্ধ বন্ধ করেন। অস্ত্র প্রতিযোগিত বন্ধ করুন। যুদ্ধ আর অস্ত্র মানুষের মঙ্গল বয়ে আনে না। সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায় শিশু আর নারীরা। আর যুবকরা দেয় জীবন। সন্তান হারান পিতা-মাতা। পিতা-মাতা হারান সন্তান। তাদের যে কী বেদনা সেটা আমরা জানি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি যুদ্ধের ভায়বহতা দেখেছেন, কীভাবে রাস্তায় রাস্তায় মানুষের লাশ পড়ে রয়েছে। আর ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর প্রবাসে রিফিউজি জীবন কাটাতে বাধ্য হতে হয়েছে তাঁকে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫-এর আমরা দুই বোন এবং আমাদের পরিজনরা জানে এই কস্ট টা কী। আমাদেরতো রিফিউজি হিসেবে বিদেশে থাকতে হয়েছে। সেতো আরও কষ্ট। নিজের নাম পরিচয়টা দিতে পারবোনা, অন্যের দেশ, ভাষা আলাদা। সেখানে থাকতে হয়েছে কবে ফিরবো দেশে একটা অনিশ্চয়তা-সেভাবেই তো ছ’টি বছর কাটাতে হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। শান্তি সমৃদ্ধি বয়ে আনে, আর যুদ্ধ কেবল ধ্বংস করে। সে জন্য আমি যুদ্ধ বন্ধের আহবান জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, এই অস্ত্র বানানোর এবং অস্ত্র প্রতিযোগিতায় যে অর্থ ব্যয় হয় সেই অর্থ সারাবিশে^র শিশুদের খাদ্য, স্বাস্থ্য এবং তাদের উন্নয়নের জন্য ব্যয় করা হোক। সেটাই আমাদের দাবি, আমরা তা-ই চাই। আমরা সবসময় শান্তির পক্ষেই কাজ করি।
প্রধানমন্ত্রী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, আমার ছোট্ট রাসেল সোনার মত, আর যেন কাউকে এভাবে জীবন দিতে না হয়। একটা ফূল না ফুটতেই যেন ঝরে না পড়ে। সেটাই আমার কামনা। কবি সুকান্তের ছাড়পত্র কবিতার কয়েকটি পঙক্তি তুলে ধরে এ সময় বিশ^কে নবজাতকের বাসযোগ্য করে যাওয়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
সরকারপ্রধান অনুষ্ঠানে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্ত বিভাগ বাস্তবায়িত সারাদেশের একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন ও বেশকিছু প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
বাংলাদেশ পুলিশ সরকারি ক্যাটাগরিতে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ পদক লাভ করায় মহা পুলিশ পরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে পদক গ্রহণ করেন। একই ক্যাটাগরিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ঢাকা, পঞ্চগড় এবং ঠাকুরগাঁও জেলা এই পদক লাভ করায় সংশ্লিষ্ট জেলাপ্রশাসকগণও প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে পদক গ্রহণ করেন।
একই সঙ্গে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘শেখ রাসেল দিবস-২০২৩’ উপলক্ষে মাসব্যাপী ক্রীড়া, চিত্রাংকন ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু-কিশোরদের মধ্যেও পুরস্কার বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের পরপরই শেখ রাসেলকে নিয়ে একটি থিম সং পরিবেশিত হয়। আর শেখ রাসেলসহ ‘৭৫ এর ১৫ আগষ্টের শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব মো.শামসুল আরেফিন, আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড.চৌধুরী নাফিস শরাফত, সাংগঠনিক সচিব ফরিদউদ্দিন আহমেদ রতন এবং শিশু বক্তা সামিরা নাইর চৌধুরী।
শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের মহাসচিব কে এম শহীদুল্লাহ স্বাগত বক্তৃতা করেন।
ভারতের সাবেক সেনাকর্মকর্তা কর্নেল অশোক কুমার তারার একটি ভিডিও বার্তা অনুষ্ঠানে প্রচার করা হয়। তিনি ’৭১-এর ১৭ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু পরিবারকে পাকিস্তানি বন্দিদশা থেকে মুক্ত করার পর রাসেলকে যেমন দেখেছেন তা নিয়ে নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সম্পাদিত শেখ রাসেলের জীবনীভিত্তিক গ্রহ্ন ‘স্মরণের আবরনে শেখ রাসেল’এর মোড়ক উন্মোচন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লেখা গ্রহ্ন ‘আমাদের রাসেল সোনা’কে নিয়ে নির্মিত ত্রি-মাত্রিক চলচ্চিত্র ‘আমাদের রাসেল সোনা’র ট্রেলার প্রদর্শন করা হয়। শেখ রাসেল দিবস ২০২৩ উপলক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ বিভাগ নির্মিত তথ্যচিত্র ও প্রদর্শিত হয়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শহীদ শেখ রাসেলের ৬০তম জন্মদিন আজ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট ভাই শেখ রাসেল ১৯৬৪ সালের এই দিনে স্মৃতি-বিজড়িত ধানমন্ডির ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবনে জন্মগ্রহণ করেন। শিশু রাসেলের জীবন সম্পর্কে শিশু-কিশোরদের কাছে তুলে ধরতে তার জন্মদিনকে ‘শেখ রাসেল দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এবারে রাষ্ট্রীয়ভাবে তৃতীয়বারের মতো ‘শেখ রাসেল দিবস-২০২৩’ পালনের প্রতিপাদ্য ‘শেখ রাসেল দীপ্তিময়, নির্ভীক নির্মল দুর্জয়’।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মানবতার শত্রু ঘৃণ্য ঘাতকদের নির্মম বুলেট থেকে রক্ষা পায়নি শিশু শেখ রাসেল। বঙ্গবন্ধুর সাথে নরপিশাচরা নির্মমভাবে তাকেও হত্যা করে। রাসেল তখন ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল।

গাজায় হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলা অগ্রহণযোগ্য : ট্রুডো

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার একটি হাসপাতালে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এ ঘটনায় অন্তত ৫০০ জন নিহত হয়েছেন। হাসপাতালে ইসরায়েলি এই হামলাকে ‘ভয়াবহ এবং একেবারেই অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।
আজ বুধবার (১৮ অক্টোবর) রয়টার্সেও প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতালের মতো স্থানে ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয় জাস্টিন ট্রুডোর। জবাবে তিনি বলেন, গাজা থেকে যে খবর এসেছে তা ভয়ঙ্কর এবং একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান করা দরকার। যুদ্ধের কিছু নিয়ম আছে। যুদ্ধের নামে হাসপাতালে হামলা করা গ্রহণযোগ্য নয়।
এর আগে মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) গাজার আল-আহলি আরব নামের একটি হাসপাতাল ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাতে অসংখ্য আহত ও অসুস্থ মানুষ হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এ ছাড়া দখলদার ইসরায়েলিদের হামলা থেকে বাঁচতেও অনেক মানুষ ‘নিরাপদ আশ্রয়’ ভেবে হাসপাতালটিতে অবস্থান নিয়েছিলেন। হাসাপাতালটিতে ইসরায়েলের হামলায় একসঙ্গে ৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
গাজার হামাস নিয়ন্ত্রিত সরকার হাসপাতালের ওপর এ হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
অন্যদিকে হাসপাতালে হামলার ঘটনায় ‘ক্ষুব্ধ এবং গভীরভাবে দুঃখ’ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এ ঘটনায় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে বলেছেন তিনি।

দেশে অবৈধ অস্ত্রের প্রবেশ ঠেকানোর নির্দেশ

নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে যেন কোনও অবৈধ অস্ত্র ঢুকতে না পারে, সেজন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
বুধবার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ নির্দেশনার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘দেশে হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
‘দেশের কিছু এনজিও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি’ মন্তব্য করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গারা যেন মিয়ানমারে ফেরত না যায়, এ জন্য গোপনে কিছু এনজিও কাজ করছে। তারা গুজব ছড়াচ্ছে, মিয়ানমারে ফিরে গেলে তাদের হত্যা করা হবে।’
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বলেন, ‘আমরা একটা বিষয়ে উদ্বিগ্ন। সেটা হচ্ছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সরকার কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যেগুলো সঠিকভাবে কার্যকর হয়নি। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের যেসব সংস্থা আছে, তারা যাতে মনিটরিং করে, সে ব্যাপারেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রান্তিক চাষি, যারা উৎপাদন করে, তারা কিন্তু আসল মূল্যটা পায় না। পায় মধ্যস্বত্বভোগীরা। ভোক্তারা যখন কেনে, তখন সেখানে দামের অনেক তারতম্য থাকে। মজুতদারদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা আইনেই বলা আছে। আইন যথাযথ বাস্তবায়ন করে তাদের যেন আইনের আওতায় আনতে পারি, সে চেষ্টা চলছে।’

প্রয়োজনে ভোটের ১৫ দিন পর্যন্ত পুলিশ মোতায়েন : ইসি

সহিংসতা রোধে প্রয়োজনে সংসদ নির্বাচনের পরবর্তী ১৫ দিন পর্যন্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ।
আজ বুধবার (১৮ অক্টোবর) গণমাধ্যমকে তিনি এ কথা বলেন।
অশোক কুমার বলেন, বিভিন্ন সংগঠনের নিরাপত্তা শঙ্কায় এবং সংলাপে এটি উঠে আসার কারণেই বিষয়টি কমিশনে আলোচনা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি বলেন, নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, ভোটের ১৫ দিন পর্যন্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে পারে কমিশন। যেহেতু সুধীজনদের সঙ্গে সংলাপে ভোট পরবর্তী সহিংসতার আশঙ্কার বিষয়টি উঠে এসেছে এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতারাও চিঠি দিয়ে অবহিত করছেন, সেহেতু প্রয়োজনে কমিশন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে। আর ভোটগ্রহণ হবে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। সেজন্য ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন।
জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে এবার ভোটকেন্দ্র হবে ৪২ হাজারের কিছু বেশি। গত নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বিভিন্ন বাহিনীর ছয় লাখের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে ছিল সশস্ত্রবাহিনী। আসন্ন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গত নির্বাচনের চেয়েও অনেক বেশি সদস্য নিয়োজিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

‘সরকারি চাকরিজীবীদের যেকোনো সময় ডোপ টেস্ট’

সরকারি চাকরিজীবীদের সন্দেহ হলে যেকোনো সময় মাদক শনাক্তকরণ টেস্ট (ড্রাগ অ্যাবিউজ) করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
তিনি জানান, মাদক গ্রহণের ৭২ ঘণ্টা পার হলে ডোপ টেস্টে আর শনাক্ত করা যায় না। সে জন্য এ পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আজ বুধবার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ১২তম সভা শেষে তিনি এ কথা জানান।
আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, অবৈধ অস্ত্র, নাশকতামূলক কাজ, ধর্মীয় উসকানি ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি করার জন্য একটু প্রবণতা কিছু কিছু রাজনৈতিক দলের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে যাতে সব সময় সতর্ক থাকা যায়, অঘটন ঘটাতে যাতে না পারে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যাতে সবসময় সচেতন থাকতে পারে- সেই বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন বাহিনী সমন্বয় করার জন্য জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বাহিনীগুলোর এসব কাজ তিনি সমন্বয় করবেন।

বাংলাদেশে বিশেষ কোনো দলের পছন্দ নেই যুক্তরাষ্ট্রের : ব্রায়ান শিলার

বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো দলের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেয়নি। বরং ওয়াশিংটনের চাওয়া, বাংলাদেশিরা যেন স্বাধীনভাবে তাদের নেতা নির্বাচন করতে পারেন।
আজ বুধবার (১৮ অক্টোবর) কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের পাঠানো এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র ব্রায়ান শিলার।
বিদেশি একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বাংলাদেশে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতার কথা বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে অন্য একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের ক্ষেত্রে এ ধরনের তৎপরতা চালাতে পারে- এ বিষেেয় মুখপাত্র ব্রায়ানের কাছে প্রশ্ন করা হয়।
জবাবে ব্রায়ান বলেন, ওই প্রতিবেদনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র অবগত। রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ও অন্যরা বেশ কয়েকবার বলেছেন, আমরা বাংলাদেশে একটি দলের বিরুদ্ধে বা আরেকটি দলের পক্ষ নেই না। এখানে আমাদের বিশেষ পছন্দ নেই। আমরা চাই, বাংলাদেশের জনগণ তাদের নিজেদের নেতা নির্বাচন করতে সক্ষম হবেন।
মুখপাত্র বলেন, ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আফরিন আক্তার মঙ্গলবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনকে সমর্থন করে। নির্বাচন শুধু ভোটের দিনে কীভাবে তা পরিচালিত হয় তা নয়, বরং নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম এবং অন্যান্য অংশীদারদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অবাধে অংশগ্রহণ করার সুযোগ।