বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

ফি‌লি‌স্তি‌নে নিহতদের স্মর‌ণে বাংলাদেশে এক‌দি‌নের শোক ঘোষণা

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের হামলায় নিহতদের স্মরণে আগামী শনিবার দেশে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।
ওই দিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখতে বলেছেন তিনি। এ ছাড়া, তিনি জুমার দিন সব মসজিদ ও উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করতে বলেন।
ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানান প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপির কথা-কাজ সবই ধ্বংসাত্মক : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি এখন নির্বাচন নিয়ে কথা বলে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে তারা নানা কথা বলে। আমি এখন সমালোচনা করতে চাই না। এদের কথা এদের কাজ সবই ধ্বংসাত্মক। এ ব্যাপারে দেশবাসীকে আমি সতর্ক করব। আজকের উন্নয়ন ধ্বংস করুক, সেটা আমরা চাই না।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা অনেক ভালো কাজ করেছি, ভালো কথাই বলতে চাই। ২০০৯ সালে যখন আমরা সরকারে আসি, তখন সারা বাংলাদেশে কী ভাবে উন্নয়ন গড়ে তুলবো সেই প্রচেষ্টা আমরা চালাই।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে আয়োজিত সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতায় ১৫০টি সেতু, ১৪টি ওভার পাস, স্বয়ংক্রিয় মোটরযান ফিটনেস পরীক্ষা কেন্দ্র, ডিটিসিএ ভবন, বিআরটিসির ময়মনসিংহ বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ময়মনসিংহের কেউট খালি ও রহমতপুর সেতুর নির্মাণ কাজ উদ্বোধন এবং সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ক্ষতিপূরণ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২৯ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল তারা দেশকে কী দিয়েছে? তারা দেশের মানুষের জন্য কতটুকু করেছে? তারা দেশের কতটুকু উন্নতি করেছে, সেটাই হলো বড় প্রশ্ন। আওয়ামী লীগ যখনই সরকারে এসেছে, তখনই এ দেশের উন্নয়নে জাতির পিতার আদর্শ-পদাঙ্ক অনুসরণ আমরা করেছি। তার আদর্শ নিয়ে আমরা কাজ করেছি।’
তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত যতগুলো ব্রিজ, পুল ব্রিজ, রাস্তা-ঘাট আমরা করেছি সব হিসাব দিতে গেলে অনেক সময় লাগবে।’
এ সময় উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত উন্নয়নের বর্ণনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১ সালে সরকারে আসতে পারিনি, সেটা আমি বহুবার বলেছি। কারণ আমাদের গ্যাস অন্য দেশ কিনবে; আমি রাজি হইনি। খেসারত দিতে হয়েছে, ক্ষমতায় আসতে পারিনি। জনগণের ভোট পেয়েছিলাম কিন্তু চক্রান্তের শিকার হয়েছিলাম। তার পরে দেশটার অবস্থা কী হয়েছিল? বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি—অপশাসনের কারণে এ দেশে ইমার্জেন্সি ঘোষণা হয়। তার আসে আর্মি ব্যাকড তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

‘সেই সময়টার কথা একবার চিন্তা করে দেখেন মানুষের কী দুরাবস্থা ছিল। ব্যবসা-বাণিজ্য করার কোনো সুযোগ ছিল না। বিএনপির আমল থেকে যে অত্যাচার নির্যাতন শুরু হয়েছিল এ দেশের মানুষের ওপর, তারই ধারাবাহিকতা চলতে থাকে। যা হোক একটা পর্যায়ে ২০০৮ সালে তারা নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়,’ বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০৮ এর নির্বাচনের রেজাল্ট; ২০ দলীয় ঐক্যজোট বিএনপি-জামায়াত পেয়েছিল মাত্র ২৯টি সিট। পরে বোধ হয় রিইলেকশনে একটা—৩০টা। ৩০০ সিটের মধ্যে তাদের প্রাপ্তি ছিল মাত্র ৩০টি সিট। এই হলো তাদের শক্তি, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা।
‘এখন তারা নির্বাচন নিয়ে কথা বলে। অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন; নানা কথা বলে। সেটা নিয়ে আমি এখন সমালোচনা করতে চাই না কারণ অনেকগুলো ভালো কাজ করেছি ভালো কথাগুলো বলে যেতে চাই কিন্তু এদের কথা এবং এদের কাজ সবই ধ্বংসাত্মক। এ ব্যাপারে দেশবাসীকে আমি সতর্ক করতে চাই। আজকে এই উন্নয়নগুলো ধ্বংস করুক সেটা আমরা চাই না,’ যোগ করেন তিনি।

ভুল পথ ছেড়ে নির্বাচনের পথে আসুন : বিএনপিকে কাদের

বিএনপির উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এখনও তারা (বিএনপি) যে পথে চলছে, সেটা ভুল পথ। তাদেরকে বলি, আপনারা এই ভুল পথ ছেড়ে দিয়ে নির্বাচনের পথে আসুন।
তিনি বলেন, যদি দেশকে ভালোবাসেন, যদি মুক্তিযুদ্ধকে ভালোবাসেন, যদি স্বাধীনতাকে ভালোবাসেন, তাহলে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ের সড়ক ভবনে ১৫০টি সেতু ও ১৪টি ওভার পাস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আপনারাই বলুন তো, আজকে দেশের একটি বিরোধী দল দেশের নামে বিষোদ্গার করেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ফখরুল সাহেব, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এখন আজিমপুর কবরস্থানে শায়িত। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে কথা বলে এখন আর লাভ নেই।
তিনি আরও বলেন, ১৫ বছর আগের বাংলাদেশের দিকে তাকান। আর ১৫ বছর পর আজকের বাংলাদেশের দিকে তাকান। এই বাংলাদেশের রূপকার (শেখ হাসিনা) আজকে আমাদের মাঝে বসে আছেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কী বডি ল্যাঙ্গুয়েজে সম্মান করে, এরা কি দেখে না? আমেরিকার প্রেসিডেন্ট তো আর কারও সাথে ছবি তোলেন নাই। জি-২০তে ছবি তোলেন (শেখ হাসিনার সঙ্গে), নিউইয়র্কেও তোলেন।’
তিনি বলেন, ‘এ দেশকে রক্ষা করতে চাইলে, দেশকে ভালোবাসলে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। শেখ হাসিনা (ক্ষমতায়) না এলে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যাবে, গণতন্ত্র থাকবে না। শান্তির পথে, প্রগতির পথে, উন্নয়নের পথে আসুন।’
‘এবারের লড়াই অনেক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই’ মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশে এসে ফখরুল সাহেবকে উৎসাহ দেবেন কে? সরকারের পতন হয়, বিরোধী দলের পতন কি হয় না?’
সেতুমন্ত্রী বলেন, তারা দ্বিজাতি তত্ত্বের লাইনে চলে গেছে। তাই আমাদেরকেও বুঝতে হবে কোন লাইনে আমরা যাব। সাম্প্রদায়িকতা আর জঙ্গিবাদ- এই লাইন আমাদের লাইন নয়। তাদেরকে সুযোগ দিয়ে লাভ নেই। তাদেরকে সুযোগ দিলে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, এখন বিশ্বে কত ঘরে কত আগুন। ঘরই সামলাতে পারছেন না। আর তিনি তো (মির্জা ফখরুল) প্রতিদিনই বক্তব্য দিচ্ছেন, পশ্চিমারা নাকি আমাদের বিরুদ্ধে। মির্জা আব্বাস তো বলেন, চাঁদরাত।

নির্বাচন সামনে রেখে পূজায় নিরাপত্তা শঙ্কা নেই : ডিএমপি কমিশনার

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেছেন, নির্বাচন সামনে রেখে শারদীয় দূর্গা উৎসবে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। নিরাপত্তার জন্য যা যা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সব ধরনের ব্যবস্থাই নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার(১৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর পুরান ঢাকায় ঢাকেশ্বরীর জাতীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে তিনি একথা বলেন।
কমিশনার বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ২৪৮টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এ মন্ডপগুলোর নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মহালয়া থেকে আজ পর্যন্ত এক ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। আগামীকাল থেকে পাঁচ দিনব্যাপী পূজার মূল কার্যক্রম শুরু হবে। মহাষষ্ঠী থেকে বিসর্জন পর্যন্ত পুরো সময়টাই পুলিশ আনসারসহ যে স্বেচ্ছাসেবক দল রয়েছে তাদের সহযোগীতায় নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
তিনি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে সিভিল পোশাকেও লোক রাখা হয়েছে। আয়োজকদের সঙ্গে আমাদের আধিকবার বিভিন্ন সভা হয়েছে। আমরা আশা করি আগামী পাঁচ দিন অত্যন্ত সুন্দরভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে সক্ষম হবো।
আগামী নির্বাচন সামনে রেখে পূজা উদযাপনে কোনো ধরনের শঙ্কা রয়েছে কি না এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পূজা উপলক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় কোনো সুনির্দিষ্ট শঙ্কা নেই। তবে সব ধরনের শঙ্কা মাথায় রেখে আমাদের পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে এবং আমরা সব ধরনের শঙ্কা মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।
তিনি বলেন, সাতটা পূজা মণ্ডপ ছোট, এছাড়া সব পূজা মণ্ডপকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা দুই ভাগে ভাগ করে অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং কম গুরুত্বপূর্ণ রেখেছি। আমরা কেবল সাতটি পূজা মণ্ডপকে কম গুরুত্বপূর্ণ রেখেছি এবং বাদবাকি সব পূজা মণ্ডপকেই গুরুত্ব দিচ্ছি। যেহেতু এটি প্রধান মণ্ডপ তাই এখানে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এখানে প্রত্যেকটি জায়গায় আর্চওয়ে থাকবে এবং বিশেষ টিম থাকবে। প্রত্যেকটি পূজা মণ্ডপেই সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাইবারের মাধ্যমে কোনো মহল তার স্বার্থ হাসিলের জন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা করে থাকে। আমাদের পুলিশের পক্ষ থেকে এটি প্রতিরোধ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সাইবার মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যে সমস্ত পূজা কমিটিগুলো রয়েছে সবাইকে এ বিষয়ে অনুরোধ করা হয়েছে এ ধরনের কোনো কিছু পেলে যেন আমাদের দিয়ে থাকে। আমাদের সার্বক্ষণিক মনিটরিং টিম এটি চব্বিশ ঘণ্টা প্রতিরোধ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিসর্জনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের সমন্বয়ে সভায় সবাইকে বলেছি নির্ধারিত সময়ে মধ্যে বিসর্জন যেন সম্পন্ন করতে পারি এবং কোনো ধরনের সমস্যা ব্যাধি রেখে সকলেই সচেষ্টা থাকবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি মনীন্দ্র কুমার নাথ, সাধারণ সম্পাদক রমেন মন্ডল, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনারসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ওআইসির বৈঠক : গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান বাংলাদেশের

গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে অব্যাহত রক্তাক্ত ইসরায়েলি আগ্রাসন মোকাবিলায় ইসলামিক দেশগুলোর সংগঠন ‘অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন’ (ওআইসি)-এর নির্বাহী কমিটির মন্ত্রী পর্যায়ের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ইসরায়েলি আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। সেইসঙ্গে জরুরিভিত্তিতে গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের মূল কারণগুলো সমাধান করতেও আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে।
গতকাল বুধবার (১৮ অক্টোবর) জেদ্দায় ওআইসির সদর দপ্তরে ওই বৈঠকে যোগ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। সৌদি আরবের উদ্যোগে ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই বৈঠকে যোগ দেন।
বৈঠকে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমরা অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানাই। ইসরায়েলের হামলায় ৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ শিশু।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গাজার হাসপাতালে ইসরায়েলের বর্বরোচিত বোমা হামলা সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য। বেসামরিক লোকদের লক্ষ্য করে গাজায় ইসরায়েলের এই অসামঞ্জস্যপূর্ণ যুদ্ধ মানবাধিকার এবং মানবিক আইনের সমস্ত মৌলিক নীতির লঙ্ঘন করেছে। তাই আমরা সকল পক্ষের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গাজায় জরুরি যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাই।’
তিনি বলেন, ‘গাজায় ইসরায়েলের মানবিক প্রবেশাধিকার প্রত্যাখ্যান এবং বেসামরিক অবকাঠামোতে নির্বিচারে হামলার কারণে মানবিক পরিস্থিতি সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে ফিলিস্তিনিদেরকে তাদের মাতৃভূমি থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার জন্য ইসরায়েলের আহ্বানকে প্রত্যাখ্যান করি, যা সমগ্র অঞ্চলে মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাবে।’
গত ১৬ অক্টোবর নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে রাশিয়ার প্রস্তাবিত রেজুলেশন পাস না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি অবিলম্বে একটি আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের জোরালো আবেদন জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সংঘাতের মূল কারণগুলো সমাধান করার আহ্বান জানাই। আমরা বিশ্বাস করি, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান কেবলমাত্র ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ও জাতিসংঘের রেজুলেশন, আরব শান্তি উদ্যোগ এবং কোয়ার্টেট রোড ম্যাপ দ্বারা ফিলিস্তিনের একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অধিকার অর্জনের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব।’
ফিলিস্তিনি জনগণের এই সংকটময় সময়ে সকল ওআইসি সদস্যা রাষ্ট্রসমূহকে ভেদাভেদ ভুলে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য শেষ করেন।
ওআইসির এই জরুরি বৈঠকে বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যোগদান করে ফিলিস্তিনের জনগণের সঙ্গে তাদের সংহতি প্রকাশ করেন এবং ইসরালের অব্যাহত আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানান। বৈঠকের শুরুতেই সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান সবাইকে স্বাগত জানিয়ে ফিলিস্তিন সমস্যা সমাধান ও ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তার আহ্বান জানান। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চলমান সংঘাতের সর্বশেষ পরিস্থিতি সবাইকে জানান। সভা শেষে একটি যৌথ ঘোঘণাপত্র সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন ছাড়াও সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মাদ জাবেদ পাটোয়ারি ও জেদ্দাস্থ বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মাদ নাজমুল হক উপস্থিত ছিলেন।

ইসরাইলকে অস্ত্র দেয়ায় মার্কিন কর্মকর্তার পদত্যাগ

হামাসের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র শুধু ইসরাইলকে সমর্থনই জানায়নি, দিয়েছে সামরিক সহায়তার ঘোষণাও। এছাড়া আগে থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে চলে আসছে অস্ত্র বাণিজ্য। তবে ধারাবাহিকভাবে ইসরাইলকে অস্ত্র সহায়তা দিয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এবার প্রকাশ্যে পদত্যাগ করেছেন মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা।
সম্প্রতি পেশাজীবীদের কাছে তুমুল জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম লিংকডইনে নিজের পদত্যাগপত্র পোস্ট করেছেন জশ পল নামের ওই মার্কিন কর্তকর্তা। ‘ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত অস্ত্র সহায়তা নিয়ে মতবিরোধ’ থেকে পদত্যাগ করার কথা জানিয়েছেন তিনি। খবর আল-জাজিরার।
জশ পল মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের রাজনৈতিক-সামরিকবিষয়ক পরিচালক ছিলেন।
লিংকডইনে পোস্ট করা চিঠিতে তিনি লিখেছেন, আমার ভয়, আমরা আবারও সেই একই ভুলগুলো করছি যা আমরা বিগত দশকগুলোতে করে এসেছি। আমি আর এসবের অংশ হতে রাজি নই।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অস্ত্র স্থানান্তর নিয়ে কাজ করা পল জানান, ‘এক পক্ষকে সমর্থন দিয়ে’ তাদের অস্ত্র সরবরাহ করতে থাকার এই কাজ তিনি আর করতে চান না।
তিনি বলেন, মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা আমাদেরই দায়িত্ব ছিল, তা যেই করুক না কেন।
প্রসঙ্গত, ইসরাইলকে প্রতি বছর ৩.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্র।

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৩ জন গ্রেফতার

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ৩৩ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।
এসময় তাদের হেফাজত থেকে ৭৪৯৬ পিস ইয়াবা, ২৪ কেজি গাঁজা, ২৬.১ গ্রাম ২৫ পুরিয়া হেরোইন, ২৬০ বোতল ফেন্সিডিল ও ০৩ বোতল দেশি মদ উদ্ধারমূলে জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) ডিএমপির গণমাধ্যম শাখা থেকে এ তথ্য জানানো হযেছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এর নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার সকাল ছয়টা থেকে আজ সকাল ছয়টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২৪টি মামলা রুজু হয়েছে।

গাজায় ত্রাণ সহায়তার জন্য রাফাহ ক্রসিং খুলে দিচ্ছে মিশর

মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসি গাজায় ত্রাণ সহায়তা পৌঁছাতে একটি সীমান্ত ক্রসিং খুলে দিতে রাজি হয়েছেন। এটি খোলার পর মাত্র ২০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে মিশর।
ইসরায়েলের সাথে সংহতি জানিয়ে দেশে ফিরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। মধ্যপ্রাচ্যের পথে থাকা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বৃহস্পতিবার সকালেই ইসরায়েলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, গাজার হাসপাতালে হামলার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বেড়েছে এবং নতুন করে ৪৭১ জন মারা গেছে। হাসপাতালে বিস্ফোরণের সাথে নিজের সম্পৃক্ততার খবর প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল এবং প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও ইসরায়েলের এ অবস্থানকে সমর্থন করেছেন।
যদিও হামাস তাৎক্ষনিকভাবে ওই ঘটনার জন্য ইসরায়েলকেই দায়ী করেছিলো। তবে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স বা আইডিএফের অভিযোগ, ফিলিস্তিনিদের ছোড়া রকেট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ঘটনাটি ঘটেছে। তবে আরব বিশ্বের অনেক দেশই ইসরায়েলকেই ওই হামলার জন্য দোষারোপ করেছে। আরব নেতারা প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে তাদের বৈঠকও বাতিল করেছেন।
মিশর গাজায় ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর জন্য রাফাহ ক্রসিং খুলে দিতে সম্মত হয়েছে। এই ক্রসিং দিয়ে ২০টি পর্যন্ত ত্রাণবাহী ট্রাক পাঠানো যাবে।আগেরদিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ ঘোষণা দেওয়ার পর মিশরের দিক থেকেও সেটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
মিশরের প্রেসিডেন্টের একজন মুখপাত্র আহমেদ ফাহমি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি ও আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রাফাহ টার্মিনাল ব্যবহার করে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন।’
তবে তিনি কোন সময়সীমার কথা উল্লেখ করেননি। রাফাহ- মিশরের সিনাই মরুভূমি সংলগ্ন একটি সীমান্ত পথ যেটি গাজার সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত। গাজা থেকে বের হবার আরও দুটি সীমান্তপথ রয়েছে, যেগুলো পুরোপুরি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে এবং দুটোই এখন বন্ধ।
ফলে মিশরের এই সীমান্ত পথটিই এখন গাজার উদ্বাস্তুদের একমাত্র ভরসা। তবে ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ শুরু হবার পর সীমান্তটি মিশর বন্ধ করে দেওয়ায় সেটি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে আলোচনা চলছিল।
গত সাতই অক্টোবর গাজার উত্তরাঞ্চলের ইরেজ সীমান্ত দিয়ে ইসরায়েলে আক্রমণ করে হামাস। এ ঘটনার পর পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সীমান্তটি বন্ধ ঘোষণা করে ইসরায়েল।
ফলে রাফাহ সীমান্তটিই এখন বেসামরিক নাগরিকদের জন্য গাজা ত্যাগ করার একমাত্র স্থলপথ। গাজায় মানবিক সহায়তা পাঠানোর ক্ষেত্রেও রাফাহ এখন গুরুত্বপূর্ণ।

জার্মানিতে ইহুদিদের উপাসনালয়ে পেট্রোল বোমা হামলা

জার্মানির রাজধানী বার্লিনে ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের একটি সিনাগগে (ধর্মীয় উপাসনালয়) পেট্রোল বোমা (মলোটভ ককটেল) ছোড়ার অভিযোগে ৩০ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জার্মানির স্থানীয় সময় বুধবার রাত ৩ টা ৪৫ মিনিটে এই হামলা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করা এক বার্তায় বার্লিন পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী ওই যুবক একটি ইলেকট্রিক বাইকে চেপে সিনাগগের কাছে এসে সেটির চত্বর লক্ষ্য করে পর পর দু’টি পেট্রোল বোমা ছুড়ে মারেন। তবে এ সময় সড়কে টহররত পুলিশদের একটি দলের হাতে তিনি ধরা পড়ে যান এবং বোমার আগুনও দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা সম্ভব হয়।
হামলাকারী ব্যক্তির নাম ও ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ করেনি বার্লিন পুলিশ; তবে এক্স বার্তায় বলা হয়েছে, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করেছিলেন এবং তাকে পাকড়াও করার সময় তিনি পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করেছিলেন। আটক করে গাড়িতে তোলার সময় তিনি চিৎকার করে ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিলেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
যে সিনাগগটিকে ‘টার্গেট’ করেছিলেন ওই ব্যক্তি, সেটি বার্লিনের কাহাল আদাস জিসরোল ইহুদি কমিউনিটির অন্তর্গত। ওই চত্বরে সিনাগগের পাশাপাশি ইহুদিদের একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এবং ডে কেয়ার সেন্টারও রয়েছে।
এদিকে সিনাগগে হামলার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শুলজ। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে শুলজ বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি এ ঘটনায় খুবই ক্ষুব্ধ এবং আমার বিশ্বাস, জার্মানির নাগরিকদের মানসিক অবস্থাও আমার মতোই। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই— জার্মানিতে ইহুদি বিদ্বেষের কোনো স্থান নেই। নিরাপত্তা বাহিনীকে তাদের কর্তব্য পালনের জন্য ধন্যবাদ।’
প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধ বাঁধার পর থেকে ইউরোপ ও কানাডায় ইহুদি বিদ্বেষ বাড়ছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইউরোপীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

এবার লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলা

লেবাননের দুটি গ্রামে বৃহস্পতিবার ভোরে ইসরায়েল বিমান হামলা চালিয়েছে।
লেবাননের আল মায়াদিন টিভির বরাত দিয়ে অ্যারাবিয়া নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের কাফর শুবা ওদাইশেহ এলাকায় ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
ওই গ্রাম দুটি ইসরায়েল সীমান্ত সংলগ্ন। হামলায় হতাহতের খবর এখনও জানা যায়নি।
৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটি বড় আকারের আক্রমণ শুরু করেছিল। হামাস একে অপারেশন ‘আল-আকসা ফ্লাড’ নামে অভিহিত করেছিল। এরপর ৮ অক্টোবর হিজবুল্লাহ হামাসের হামলার সমর্থনে শেবা ফার্মের সামরিক সাইটগুলোর দিকে দশটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এরপরেই লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তের পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওদিনই ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ-পূর্ব লেবাননের বেশ কয়েকটি ভারী কামান নিক্ষেপ করে জবাব দেয়।
মাত্র ৬ মিলিয়ন জনসংখ্যার ছোট্ট দেশ লেবানন ইসরায়েলের সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত সহিংসতার কারণে অর্থনৈতিক মন্দায় ভুগছে। এর মধ্যে আবার নতুন করে সংঘাতের কারণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে সেখানকার মানুষ।