বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভা রোববার

একাদশ জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভা আহ্বান করা হয়েছে আগামীকাল রোববার (২২ অক্টোবর)। এটি হবে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের অষ্টম সভা।
রোববার সন্ধ্যা ৬টায় সংসদ ভবনের লেভেল ৯-এ সরকারি দলের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন।
আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সেক্রেটারি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী আওয়ামী লীগ দলীয় এমপিদের যথাসময়ে সভায় উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।

কাল সারা দেশে জুয়েলারি দোকান বন্ধ

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামীকাল রোববার (২২ অক্টোবর) সারাদেশে জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। সোনা ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাজুস থেকে জানানো হয়, অতীতের ধারাবাহিকতায় শারদীয় দুর্গোপূজা উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও অষ্টমী পূজার দিন রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস।
ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। আগামীকাল রোববার (২২ অক্টোবর) হবে অষ্টমী পূজা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য : পলক

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জন্যে অপরিহার্য। কারণ তিনি উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশকে নিরাপদ করেছেন।
আজ শনিবার সকাল ১০টায় সিংড়া কোর্টমাঠের মুক্তমঞ্চে বিভিন্ন পর্যায়ে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের ৪ হাজার ৩০৩ জন সুবিধাভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন সরদার সভায় সভাপতিত্ব করেন।
পলক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিকতার শ্বাশত উদাহরণ। মানুষের কল্যাণে তিনি নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে প্রতিবন্ধীদের জন্যে সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ছাড়াও তাদের জন্যে ভাতার ব্যবস্থা করেছেন, পরিধি ও সংখ্যা বৃদ্ধি করেছেন। প্রধানমন্ত্রী সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতার প্রচলন করেন। ১৯৯৬ সালে প্রবর্তিত এসব ভাতা লাখ মানুষের জীবনকে স্বাচ্ছন্দময় করেছে। ওই সময়ে তিনি তৃণমূলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিক চালু করেন। দুঃখের বিষয়, বিএনপি ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দেয়। আগামীতে তারা ক্ষতমায় আসতে পারলে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ভাতা প্রদান কার্যক্রমও বন্ধ করে দেবে।
তিনি বলেন, ১৯৮১ সালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জননেত্রী শেক হাসিনা দেশে আসেন। ৮১ থেকে ৯৬ পর্যন্ত তিনি সারাদেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন, মানুষের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করেছেণ। ১৯৯৬ সালে অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ শুরু করেন। এ ধারা এখনো অব্যাহত। দেশের মানুষের কল্যাণের জন্যে শেখ হাসিনা’র কোন বিকল্প নেই। তাই উন্নয়ন ও সুশাসনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আবারো নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী পরে সমজান আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শেরকোল ইউনিয়ন এবং লালোর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে লালোর ইউনিয়নের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধাপ্রাপ্তদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন।

আন্দোলনে আপত্তি নেই, দুর্বৃত্তপনা করলে ছাড় নয় : প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির আন্দোলনে আপত্তি না থাকলেও সহিংসতা ও নাশকতা করলে ছাড় দেবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘তারা আন্দোলন করছে, করুক। আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু আন্দোলনের নামে দুর্বৃত্তপনা করলে ছেড়ে দেব না। অন্যায়কে প্রশ্রয় দিলে এরা বাড়বে। কারণ অনেকে আন্ডারগ্রাউন্ডে ছিল, এখন আন্দোলনের সুযোগে একে একে সকলেই সামনে আসছে।’
আজ শনিবার (২১ অক্টোবর) বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধনের পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আইনজীবী মহাসমাবেশে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি বলেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। কেউ কারো ধর্মের ওপর আঘাত হানবে না। বাংলাদেশে যাতে এ ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটে, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যত বেশি স্বাবলম্বী হবো, ততবেশি আইনজীবী থেকে শুরু করে সবার জন্য সুযোগ অবারিত করে দিতে পারবো। আসুন সবাই মিলে সেই বাংলাদেশ গঠনে কাজ করি। আপনারা মানুষের পাশে থাকবেন। যেখানেই অন্যায় দেখবেন, অন্যায়কারী যেন সাজা পায় সে জন্য কাজ করবেন।
সরকারপ্রধান বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় যেন কোনো রকম প্রতিবন্ধকতা না হয়। মানুষের কল্যাণে আমরা কাজ করে যাই। আইনজীবীদের জন্য প্রতিটি জেলায় বিশেষ প্লটের ব্যবস্থা করে দেবো। সাথে সাথে আমার একটি অনুরোধ থাকবে আপনারা সর্বজনীন পেনশন স্কিম গ্রহণ করবেন। পাশাপাশি আপনাদের ফান্ড, যেটা জাতির পিতা করে দিয়েছেন, সেটাতে আমি ৩০ কোটি টাকা দেবো। আপনারাও সাধারণ আইনজীবীরা এতে কন্ট্রিবিউট করবেন।
তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে আমাকে আগেই গ্রেফতার করেছে। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই, যখন গ্রেফতার করেছে, আপনারা আইনজীবীরা পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। প্রতিনিয়ত একটার পর একটা মামলা দিয়েছে। আমাকে হয়রানি করেছে। আমি কিন্তু টলিনি। নিম্ন আদালতের পাশাপাশি উচ্চ আদালতের আইনজীবীরাও পাশে ছিলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে করেছি। দুর্নীতির অভিযোগ এসেছিল, আমি চ্যালেঞ্জ করেছিলাম, দুর্নীতি করতে তো আসিনি। পরে এটা আদালতে মিথ্যা প্রমাণ হয়েছে।

তিনি বলেন, স্মার্ট জুডিশিয়ারি করার উদ্যোগ হিসেবে ই-জুডিসিয়ারি চালু করেছি। জেলে ভার্চুয়াল কোর্ট বসানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আইনগুলো সংশোধন করে যুগোপযোগী করে দিয়েছি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি জানি একটি দাবি আছে, আইনজীবী ভবন করে দেওয়ার। আর্থিকভাবে যত সচ্ছলতা আসবে, ধীরে ধীরে সব জেলায় এটা করে দিতে পারব। তবে এখানে একটা শর্ত আছে, সেখানে আইনজীবীদের পক্ষ থেকেও ফান্ড থাকতে হবে। আপনারা একটা ফান্ড গঠন করেন, সেখান থেকে কিছু দেন আমিও কিছু দেব।
এসময় ২০১৩-১৪ সালে বিএনপির জ্বালাও পোড়াও আন্দোলনে দায়ের করা মামলার দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির দাবি জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই বিএনপি ক্ষমতায় এসে আমাদের কত নেতাকে হত্যা করেছে। ২০১৩ সালে অগ্নিসন্ত্রাস করে আরও ভয়াবহ পরিবেশ তৈরি করেছে। এই অগ্নিসন্ত্রাসের সঙ্গে যারা জড়িত, সেই মামলাগুলো দ্রুত শেষ করতে হবে, এটাই আমার অনুরোধ। তাদের শাস্তি কেন দেরি হবে। আগে আন্ডারগ্রাউন্ডে ছিল, এখন আন্দোলনের সুযোগে সামনে এসেছে। তাদের মামলায় যেন তারা সাজা পায়। এটা আপনাদের কাছে আমার দাবি।
সরকারপ্রধান বলেন, ২০০১ এ বাংলাদেশের গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে বিএনপি-জামায়াত এসেছিল ক্ষমতায়। তারা দেশের অর্থপাচার করেছে। দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের দেশ বানিয়েছে। সারাদেশে বোমা হামলা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করেছে। বেঁচে গেছি, এটা ঠিক। কিন্তু তারা দেশে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য করেছে।
তিনি বলেন, খুনিদের জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় বসিয়েছেন। সে সময় আমি দেশে ফিরে আসি। দেখি, ক্ষমতাসীনরা উচ্ছ্বিষ্ট বিলিয়ে কিছু লোকের ভাগ্য উন্নয়ন করেছেন কিন্তু জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়নি। আমি গ্রামগঞ্জে ঘুরে বেড়াই। মানুষের কষ্ট দুর্দশা দেখি। পরে ২১ বছর পর আমরা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করি। বিচার বিভাগের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিই।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা করে জিয়াউর রহমানের সহায়তায় বেঈমান মোশতাক ক্ষমতা দখল করে। টিকতে পারেনি। আসল চেহারা নিয়ে বেরিয়ে আসেন জিয়া। ক্ষমতা দখল করেন। ইনডেমনিটি জারি করে আমাদের বিচার থেকে বঞ্চিত করেন। নির্বাচন প্রক্রিয়া ধ্বংস করেন। নিজেই দল গঠন করে কারচুপি করে ২-৩ শতাংশ মেজরিটি দিয়ে সংবিধান ক্ষত-বিক্ষত করেন।
তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজও তিনিই শুরু করেছিলেন। তার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করেন। বিচার কাজে নারীদের যাওয়ার পথ সুগম করেন জাতির পিতা। তার হাত ধরে আমরা সেটা আরও সহজ করে দিয়েছি।
মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সদস্য সচিব ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, অ্যাটর্নি জেনারেল ও বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এ এম আমিন উদ্দিন, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান, আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক কাজী নজিবুল্লাহ হিরু ও আইন সচিব গোলাম সরওয়ার।

চার বছর পর পাকিস্তানে ফিরলেন নওয়াজ শরিফ

টানা চার বছর বিদেশে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর পাকিস্তানে ফিরেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। আজ শনিবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে তাকে বহনকারী উড়োজাহাজটি ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে, নওয়াজকে বরণ করে নিতে বিমানবন্দরে উপস্থিত আছেন তার আইনি সহায়তাকারী দলের সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী সিনেটর আজম তাতার এবং তার রাজনৈতিক দলের নেতারা।
এর আগে সাবেক আইনমন্ত্রী তাতার জানিয়েছিলেন, দেশে ফিরে নওয়াজ রাজনৈতিক ও আইনি বিষয়গুলো নিয়ে পরামর্শ নেবেন। তিনি আরও জানিয়েছিলেন, বিমান থেকে নেমে নওয়াজ ভিআইপি লাউঞ্জে অবস্থান নেবেন।
মাথার ওপর দুর্নীতির অভিযোগ ও নানান কারণে চিকিৎসার কথা বলে পাকিস্তান থেকে চলে গিয়েছিলেন নওয়াজ শরিফ। আস্থাভোটে ক্ষমতা হারানো ইমরান খান যত দিন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ততদিন নওয়াজ দেশে ফিরতে পারেননি। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরই নওয়াজ শরিফের দেশে ফেরার পথ সুগম করা হয়।
সাবেক আইনমন্ত্রী তাতার নিশ্চিত করেছেন, নওয়াজ শরিফের ‘নিরাপত্তার নিশ্চয়তার বিষয়টি সম্পন্ন করতে’ বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়েছেন আদালতের কর্মকর্তারা।
নওয়াজকে বরণ করতে আজ বিমানবন্দরে গিয়েছেন সাবেক উপ-মেয়র জিসান নাকবি ও শপথ কমিশনার। নওয়াজের আইনি দল বিমানের ভেতর প্রবেশ করে তার বায়োমেট্রিক ও প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর নেবে বলে জানিয়েছে দ্য ডন।
এদিকে এরআগে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে বিমানে ওঠার আগে নওয়াজ শরিফ বলেছিলেন, দেশে ফিরতে পেরে তিনি খুবই আনন্দিত।
তবে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নওয়াজকে অনেক আইনি ঝামেলার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এরপর তিনি আগামী বছরের জানুয়ারিতে হতে যাওয়া আইন পরিষদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন।
নওয়াজ শরিফের রাজনৈতিক দল পিএমএল-এনের নেতা ইশহাক দার জানিয়েছেন, আজ বিকেল ৫টায় মিনার-ই-পাকিস্তানে যাবেন নওয়াজ। সেখানে সমবেত মানুষের উদ্দেশে কথা বলবেন তিনি।
খবর দ্য ডন

হামাসের রহস্যময় সামরিক প্রধানকে খুঁজে হয়রান ইসরায়েল

ফিলিস্তিনিদের কাছে তিনি ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে এবং ইসরায়েলিদের কাছে ‘মৃত্যুর মানুষ’ বা ‘নয়টি জীবন নিয়ে জন্মানো যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত। ইসরায়েলের ফেরারী সন্ত্রাসী তালিকায় তার নাম সবার উপরে।
বলা হচ্ছে মোহাম্মদ দেইফের কথা, হামাসের সামরিক শাখার কমান্ডার তিনি। দেইফকে হত্যার জন্য ইসরায়েল হন্যে হয়ে খুঁজছে। বছরের পর বছর ধরে বহু চেষ্টা চালিয়ে তাকে কোনভাবেই ধরতে পারছে না ইসরায়েল।
২০২১ সালে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে লড়াই চলাকালে মোহাম্মদ দেইফকে হত্যার চেষ্টা করে ইসরায়েল, কিন্তু তাকে হত্যা করা যায়নি।
তখন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র হিডাই যিলবারম্যান নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, ‘এই পুরো অভিযান চলার সময় আমরা মোহাম্মদ দেইফকে হত্যার চেষ্টা করেছি।’
আইডিএফের কর্মকর্তারা ২০২১ সালে বিবিসির কাছে নিশ্চিত করেছেন যে, মোহাম্মদ দেইফকে হত্যার জন্য অন্তত দুটি চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু এবারও ইসরায়েলিদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়, মোহাম্মদ দেইফ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। বলা হচ্ছে, গত দুই দশকে ইসরায়েল এ নিয়ে মোহাম্মদ দেইফকে হত্যার জন্য সাতবার বিফল চেষ্টা চালিয়েছে।
মোহাম্মদ দেইফকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই ইঁদুর-বেড়াল খেলা নিয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হতাশ। ২০২১ সালে লড়াইয়ের সময়েও তাদের লক্ষ্য ছিল হামাসের সব শীর্ষ সামরিক অধিনায়ককে হত্যা করা।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ম্যাথিউ লেভিট বলেন, ‘এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই যে, হামাসের সামরিক সক্ষমতার পেছনে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তাদের একটা তালিকা ইসরায়েলের কাছে আছে, এবং এই তালিকায় সবার উপরে আছে মোহাম্মদ দেইফ।’

‘গাজার অতিথি’
মোহাম্মদ দেইফ ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব গাজা থেকে জীববিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখানে তিনি অভিনয় এবং থিয়েটার প্রতি আগ্রহের জন্য পরিচিত ছিলেন, আর সেখানে তিনি একটি শিল্পী দল গঠন করেছিলেন।
যখন হামাসের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করা হয়, তিনি বিনা দ্বিধায় এই দলে যোগ দেন। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাকে ১৯৮৯ সালে গ্রেপ্তার করে, আর হামাসের সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে কাজ করার অভিযোগে বিনা বিচারে ১৬ মাস কারাগারে কাটিয়েছেন।
মোহাম্মদ দেইফ সম্পর্কে যা জানা যায়, তা মূলত ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনি পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে। এসব রিপোর্ট অনুসারে, মোহাম্মদ দেইফের জন্ম ১৯৬৫ সালে গাজার খান ইউনিস শরণার্থী শিবিরে। গাজা তখন মিসরের দখলে।
জন্মের সময় তার নাম রাখা হয়েছিল মোহাম্মদ ডিয়াব ইব্রাহিম আল-মাসরি। কিন্তু ইসরায়েলি বিমান হামলা হতে বাঁচতে তাকে যেভাবে সারাক্ষণ যাযাবরের মতো জীবন-যাপন করতে হয়, পরে তিনি পরিচিত হয়ে উঠেন ‘দেইফ’ নামে, আরবিতে যার অর্থ ‘অতিথি’।
বহু দশক ধরে চলতে থাকা ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি সংঘাতের মধ্যে কীভাবে তিনি বেড়ে উঠেছেন, সে সম্পর্কেও জানা যায় খুব কম।
হামাস যখন প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন মোহাম্মদ দেইফ একজন তরুণ। ১৯৮০-এর দশকের শেষে তিনি হামাসে যোগ দেন। হামাস ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চায়। হামাসের সামরিক শাখা ‘ইজেদিন আল-কাসাম ব্রিগেডে’ মোহাম্মদ দেইফ বেশ দ্রুত উপরের দিকে উঠতে থাকেন, তিনি বেশ বিখ্যাত হয়ে ওঠেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের সন্ত্রাসবাদ বিরোধী উপদেষ্টা মিস্টার লেভিট বলেন, ‘তাকে বেশ কট্টরপন্থী হামাস কর্মকর্তা বলেই মনে করা হয়’।
তিনি জানান, মোহাম্মদ দেইফ হামাসের খুব কট্টরপন্থী কিছু অধিনায়কের বেশ ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এদের একজন হচ্ছেন ইয়েহিয়া আইয়াশ। তিনি ছিলেন বেশ দক্ষ এক বোমা প্রস্তুতকারক, তাকে লোকে চিন তো ‘ইঞ্জিনিয়ার’ নামে।
প্রযুক্তি নিয়ে জ্ঞান
দেইফ গাজা থেকে হামাস যোদ্ধাদের ইসরায়েলে প্রবেশের জন্য নির্মিত টানেলের প্রকৌশলী ছিলেন এবং একইসঙ্গে বড় সংখ্যক রকেট উৎক্ষেপণের কৌশল গ্রহীতাদের একজন ছিলেন।
১৯৯০ এর দশকের শুরুতে ইসরায়েলে যাত্রীবাহী বাসে বোমা হামলার জন্য আইয়াশকে দায়ী করা হয়। ১৯৯৬ সালে ইসরায়েল তাকে হত্যা করে। কিন্তু এর ঠিক পরেই ইসরায়েলে বাসে আরও অনেক বোমা হামলা হয়।
দেইফের তিনটি ছবি রয়েছে: একটি খুব পুরনো, দ্বিতীয়টি মুখোশ পরা এবং তৃতীয়টি তার ছায়ার ছবি।
মোহাম্মদ দেইফ ছিলেন আইয়াশের শিষ্য। অভিযোগ ওঠে, প্রতিশোধ হিসেবে তিনিই এসব হামলা পরিচালনা করেছেন।

এই ঘটনার পর মোহাম্মদ দেইফ হামাসের সামরিক শাখায় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন। ২০০২ সালে হামাসের সামরিক শাখার প্রতিষ্ঠাতা সালাহউদ্দীন শেহাদেহকে হত্যার পর নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন মোহাম্মদ দেইফ।
হামাসের যে বিখ্যাত ‘কাসাম রকেট’, সেটির পরিকল্পনা এবং তৈরির কৃতিত্ব দেয়া হয় মোহাম্মদ দেইফকে। গাজার ভূগর্ভে যেসব টানেল খনন করা হয়েছে, সেগুলোও নাকি মোহাম্মদ দেইফের পরিকল্পনা। তিনি নাকি বেশিরভাগ সময় এসব টানেলের মধ্যে কাটান। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর চোখ এড়িয়ে এখান থেকেই তিনি হামাসের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
প্রাণে বেঁচে গেছেন বহুবার
ইসরায়েলি নজরদারিকে ফাঁকি দেয়ার ওপরই নির্ভর করে মোহাম্মদ দেইফের জীবন। তাকে হত্যা করার সবচেয়ে জোরালো প্রচেষ্টা হয়েছিল ২০০২ সালে, যেটা থেকে তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও নিজের একটি চোখ হারান তিনি।
ইসরায়েলের তথ্যমতে, তিনি তার একটি পা এবং একটি হাতও হারিয়েছিলেন এবং বেশ কয়েকবার হত্যা প্রচেষ্টার পর বেঁচে থাকলেও তার কথা বলতে অসুবিধা হয়।
এর মধ্যে কয়েকটি হামলায় তিনি আহত হলেও পালাতে সক্ষম হন। ইসরায়েলি রিপোর্ট অনুযায়ী, তার একটি চোখ নষ্ট হয়ে গেছে, শরীরের কয়েকটি অঙ্গ উড়ে গেছে।
২০০৬ সালে ইসরায়েলের হামলায় মোহাম্মদ দেইফ যে গুরুতর আহত হয়েছেন সেটা নিশ্চিত করেছেন আইডিএফের এক সাবেক গোয়েন্দা প্রধান।
তিনি বিবিসিকে বলেছিলেন, ‘লোকে ভেবেছিল মোহাম্মদ দেইফ আর নেতা হিসেবে বা একজন সামরিক পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করতে পারবেন না। কিন্তু খুব দ্রুতই তিনি সেরে উঠেন।’
ইসরায়েলের এসব হামলা ব্যর্থ হওয়ার পর মোহাম্মদ দেইফের খ্যাতি আরও বেড়ে যায়। তাকে তার শত্রুপক্ষ বর্ণনা করতে থাকে ‘নয়বারের জীবন পাওয়া বিড়াল’ বলে।
২০১৪ সালে গাযায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় তার ওপর পঞ্চম হামলাটি চালানো হয়।
গাজার শেখ রাদওয়ান এলাকায় একটি বাড়ির ওপর ইসরায়েলিরা বিমান হামলা চালায়। হামলায় মোহাম্মদ দেইফের স্ত্রী উইদাদ এবং তাদের শিশুপুত্র আলি নিহত হয়। ইসরায়েলিরা ভেবেছিল তারা মোহাম্মদ দেইফকেও হত্যা করতে পেরেছিল। কিন্তু তিনি আসলে তখন সেই বাড়িতে ছিলেন না।
এই হামলার পরপরই হামাস জানিয়েছিল, মোহাম্মদ দেইফ এখনো বেঁচে আছেন এবং তিনিই হামাসের সামরিক অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোহাম্মদ দেইফ যে বারবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে ফাঁকি দিতে পারছেন তার কারণ তিনি আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার একেবারেই এড়িয়ে চলেন।
লেভিট বলেন, ‘যদি আপনি ফোন ব্যবহার না করেন, কম্পিউটার ব্যবহার না করেন, তাহলে আপনি কোথায় আছেন, সেই ধারণা পাওয়া আধুনিক গুপ্তচর সংস্থাগুলোর জন্য খুব কঠিন হবে।’
আর ইসরায়েলের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান বলছেন, মোহাম্মদ দেইফকে হত্যার চেষ্টা যে ব্যর্থ হচ্ছে তার অনেক কারণ আছে। হামাসের টানেলগুলো যে রকম গভীর এবং বিস্তৃত এবং তার সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য এত পুরনো, সেটা তাকে লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করছে। এছাড়া কিছু হত্যা প্রচেষ্টার সময় অস্ত্র ঠিকমত কাজ করেনি।
অনন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
ইসরায়েল এবং গাজার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার একদিন আগে হামাসের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছিলেন, গাজার লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোহাম্মদ দেফ।
আর ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফের একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে জানান, মোহাম্মদ দেইফের ব্যাপারে তাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। তবে এসব মিশন যেহেতু বেশ গোপনীয়, তাই তারা এর বেশি তথ্য দিতে পারছেন না।
ম্যাথিউ লেভিট বলেন, মোহাম্মদ দেইফকে নিয়ে ইসরায়েল যে এত বেশি মাথা ঘামাচ্ছে, সেটা তাকে অবাক করছে না। কিন্তু যেভাবে তিনি বার বার ইসরায়েল হত্যা প্রচেষ্টা থেকে বেঁচে যাচ্ছেন, সেটা তাকে ঘিরে রহস্য আরও বাড়াবে।
তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল তার শেষ দেখতে আগ্রহী, কারণ তিনি হামাসের পুরনো ধারার একজন। হামাসের একেবারে শুরু থেকে যারা ছিলেন, তাদের গুটিকয় এখনো আছেন, তিনি সেই অল্প কজনের একজন। সেদিক থেকে তিনি অনন্য।’
মোহাম্মদ দেইফের জীবন নিয়ে রহস্য অনেক। গাজার রাস্তায় তাকে দেখে চিনতে পারবেন খুব কম মানুষ। যে চরমপন্থা তিনি বেছে নিয়েছেন, সেটার পক্ষে কথা বলার লোকও কম।
জরিপের তথ্য উল্লেখ করে ম্যাথিউ লেভিট বলেন, ‘হামাসের বেশির ভাগ জঙ্গি নেতার ব্যাপারে আসলে ফিলিস্তিনিদের অত মোহ নেই বলেই মনে হয়।’
কিন্তু তা সত্ত্বেও যখন যুদ্ধবিরতির কথা ঘোষণা করা হলো, তখন কিছু ফিলিস্তিনিকে মোহাম্মদ দেইফের নামে শ্লোগান দেয়া থেকে বিরত রাখা যায়নি।
গাজার ধ্বংসস্তূপের মধ্যে যখন তারা গান গেয়ে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা উদযাপন করছিলেন, তখন তারা বলছিলেন, ‘দেইফ, আমাদের আত্মা এবং আমাদের রক্ত দিয়েই আমরা তোমাকে মুক্ত করব।’
খবর বিবিসি

সুস্থ হয়ে শুটিংয়ে ফিরলেন পরীমনি

দুই বছরের মাতৃত্বের ছুটি কাটিয়ে ‘ডোডোর গল্প’ সিনেমার মাধ্যমে কাজে ফিরেন হালের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনি। একটানা সিনেমাটির শুটিং শেষ করার কথা থাকলেও চার দিনের মাথায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাকে।
যার কারণে তার অংশের শুটিং বন্ধ রাখতে হয়। বর্তমান ভালো আছেন পরীমনি।
সুস্থ হয়ে আজ শনিবার (২১ অক্টোবর) থেকে অংশ নিয়েছেন ‘ডোডোর গল্প’ সিনেমার শুটিংয়ে। একটানা শুটিং করে কাজটি শেষ করতে চান, কাজে ফিরে এমনটাই জানালেন তিনি।
পরীমনি বলেন, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে বেশ কয়েকদিন হাসপাতালে থাকতে হয়েছে। প্রথমে ভর্তি হলাম জ্বর নিয়ে। তার দুই দিন পর নানা ভাই অসুস্থ হন। আমি সুস্থ হয়ে নানার যতœ নিচ্ছি। হাসপাতাল টু বাসা এভাবেই যাচ্ছে দিন-রাত। তার মধ্যে আজ থেকে আবার ‘ডোডোর গল্প’ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিয়েছি। আশা করছি, এবার একটানা কাজটি শেষ করতে পারব।
এই সিনেমার মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর চিত্রনায়ক সাইমন সাদিকের সঙ্গে জুটি বাঁধলেন পরী। ‘ডোডোর গল্প’র কাহিনি, চিত্রনাট্য, সংলাপ ও পরিচালনায় আছেন কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা রেজা ঘটক। সিনেমাটিতে কাজল চৌধুরীর চরিত্রে অভিনয় করছেন পরীমনি আর ফটোগ্রাফার রায়হান চরিত্রে সাইমন সাদিক।

সরকারের উপকারভোগী সব দলের সব ধর্মের মানুষ : খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, শেখ হাসিনার সরকারের উপকারভোগী সব দলের সব ধর্মের মানুষ। সরকারের বিরোধিতা যারা করে তারা আরও বেশি সুবিধা পেয়েছে এ সরকারের আমলে।
আজ শনিবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাঐচন্ডি আলিম মাদরাসা প্রাঙ্গণে চারতলা একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। তাদের বীর নিবাস করে দিয়েছে সরকার। বিধবাভাতা, বয়স্কভাতা, প্রতিবন্ধীদের ভাতাসহ শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, দেশকে উন্নত করতে হলে সব নাগরিককে এক কাতারে আনতে হবে। সুষম উন্নয়ন করতে হবে। সেটা বিবেচনায় নিয়ে সবার জন্য উন্নয়নের কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
বাঐচন্ডি আলিম মাদরাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য দেন- নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমতিয়াজ মোরশেদ, নওগাঁ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাইদ, নিয়ামতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান বিপ্লব, বাঐচন্ডি আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুজার এবং হাজীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক।

জাতির পিতার হাত ধরে বাংলাদেশের বিচারকাঠামো গঠিত : প্রধানমন্ত্রী

জাতির পিতার হাত ধরে বাংলাদেশের বিচারকাঠামো গঠিত হয়েছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, কৃষি, শিল্প, স্বাস্থ্য সবকিছু তিনি করে গেছেন। সমুদ্রসীমা বাড়ানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিলেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও তিনি শুরু করেছেন। যা আমরা শুরু করেছি।
আজ শনিবার (২১ অক্টোবর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আইনজীবীদের মহাসমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, আমি অবাক হয়ে যাই যে একজন মানুষ কীভাবে এক জীবনে এতগুলো কাজ করতে পারেন।
শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমান শুধু ইনডেমনিটি অধ্যাদেশই নয়, নির্বাচনী ব্যবস্থা নষ্ট করা, হ্যাঁ-না ভোট, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, যেটা সামরিক আইন ও বিধান ভঙ্গ করে নিজেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
তিনি বলেন, যে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন জাতির পিতা, যে স্বাধীনতার স্বপ্ন নিয়ে আমরা ক্ষমতায় এসেছি, সেই স্বাধীনতার স্বপ্ন আমরাই বাস্তবায়ন করেছি।

আইনজীবীদের ভবন, স্বল্পমূল্যে জমি বরাদ্দসহ নানা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর্থিক স্বচ্ছলতা আসলে আস্তে আস্তে করে দেব। তবে একটা শর্ত আছে, অগ্নিসন্ত্রাসের সঙ্গে যারা জড়িত, সেই মামলাগুলো দ্রুত শেষ করতে হবে। এটাই আমার অনুরোধ এবং দাবি।
তিনি বলেন, এই বিএনপি ক্ষমতায় এসে আমাদের কত নেতা হত্যা করেছে। ২০১৩ সালে অগ্নিসন্ত্রাস করে আরও ভয়াবহ পরিবেশ তৈরি করেছে। এই অগ্নিসন্ত্রাসের সঙ্গে যারা জড়িত, সেই মামলাগুলো দ্রুত শেষ করতে হবে, এটাই আমার অনুরোধ। তাদের শাস্তি কেন দেরি হবে? আগে আন্ডারগ্রাউন্ডে ছিল, এখন আন্দোলনের সুযোগে সামনে এসেছে। তাদের মামলায় যেন তারা সাজা পায়। এটা আপনাদের কাছে আমার দাবি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি জানি একটি দাবি আছে, আইনজীবী ভবন করে দেওয়ার। আর্থিকভাবে যত স্বচ্ছলতা আসবে, ধীরে ধীরে সব জেলায় এটা করে দিতে পারবো। তবে এখানে একটা শর্ত আছে, সেখানে আইনজীবীদের পক্ষ থেকেও ফান্ড থাকতে হবে। আপনারা একটা ফান্ড গঠন করেন। সেখান থেকে কিছু দেন, আমিও কিছু দেব।
সরকারপ্রধান বলেন, ২০০১ সালে বাংলাদেশের গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসে। তারা দেশের অর্থ পাচার করেছে। দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের দেশ বানিয়েছে। সারাদেশে বোমা হামলা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করেছে। বেঁচে গেছি, এটা ঠিক। কিন্তু তার দেশে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য করেছে।
তিনি বলেন, খুনিদের জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় বসিয়েছেন। সে সময় আমি দেশে ফিরে আসি। দেখি, ক্ষমতাসীনরা উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে কিছু লোকের ভাগ্য উন্নয়ন করেছে, কিন্তু জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়নি। আমি গ্রামেগঞ্জে ঘুরে বেড়াই। মানুষের কষ্ট দুর্দশা দেখি। পরে ২১ বছর পর আমরা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করি। বিচার বিভাগের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেই।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা করে জিয়াউর রহমানের সহায়তায় মোস্তাক ক্ষমতা দখল করে, টিকতে পারেনি। আসল চেহারা নিয়ে বেরিয়ে আসেন জিয়া। ক্ষমতা দখল করেন। ইনডেমনিটি জারি করে আমাদের বিচার থেকে বঞ্চিত করেন। নির্বাচন পক্রিয়া ধ্বংস করেন। নিজেই দল গঠন করে কারচুপি করে ২-৩ শতাংশ মেজরিটি দিয়ে সংবিধান ক্ষত-বিক্ষত করেন।
তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজও বঙ্গবন্ধু শুরু করেছিলেন। তার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করে দিয়ে যান। বিচার কাজে নারীদের যাওয়ার পথ সুগম করেন জাতির পিতা। তার হাত ধরে আমরা সেটা আরও সহজ করে দিয়েছি।
মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। আরও বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সদস্য সচিব ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, অ্যাটর্নি জেনারেল ও বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এ এম আমিন উদ্দিন, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান, আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক কাজী নজিবুল্লাহ হিরু ও আইন সচিব গোলাম সরওয়ার।
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী ‘বঙ্গবন্ধুর আইনি দর্শন’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।

আইনজীবীরা সব সময় প্রধানমন্ত্রীর পাশে আছেন : মেয়র তাপস

আইনজীবীরা আপনার (প্রধানমন্ত্রী) সঙ্গে সব সময় ছিলেন, আছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস।
আজ শনিবার (২১ অক্টোবর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আইনজীবীদের মহাসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মানবতার উজ্জ্বল নক্ষত্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মেয়র তাপস।
তিনি বলেন, ‘আপনি বাংলাদেশের ন্যায়বিচারের ওপর যে আস্থা রেখেছিলেন, আপনি ৩৪ বছর অপেক্ষা তা প্রমাণ করে দিয়েছেন। আপনি আইনের শাসন রক্ষা করেছেন। আপনি বিচার বিভাগকে রক্ষা করেছে।’
তাপস বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেনের সময় যখন আপনাকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে দিয়েছিল, সেদিন আইনজীবীরা ছুটে গেছেন আদালতে। তখন আইনজীবীরা বলেছিলেন, আইনি লড়াই চালিয়ে যাব আমরা।’