বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

সরকার শিক্ষাক্রমে গুণগত পরিবর্তন এনেছে : খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম তৈরি করতে বর্তমান সরকার শিক্ষাক্রমে গুণগত পরিবর্তন এনেছে। শিক্ষার্থীরা স্মার্ট বাংলাদেশের মূল হাতিয়ার।
আজ বুধবার (২৫ অক্টোবর) জেলার সাপাহার উপজেলার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানার আহবান জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশকে চিনতে হবে। সেই সঙ্গে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। বিশ্বের দরবারে দেশকে উঁচুতে তুলে ধরার মানসিকতা নিয়ে বড় হওয়ার আহবানও জানান সাধন চন্দ্র মজুমদার।
তিনি বলেন, আগে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জটে পড়তে হতো। শিক্ষাজীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট হতো। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশন জট নেই। সময়মতো শিক্ষাজীবন শেষ করে কর্মে প্রবেশ করতে সক্ষম হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। দেশে বর্তমানে কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষারও বিস্তার ঘটেছে।
শিক্ষকদের উদ্দেশে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে দেশের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে গড়তে আপনাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এই শিক্ষার্থীদের আগামীর জন্য আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে হবে। তাদের হাত ধরেই স্মার্ট বাংলাদেশ গঠন হবে।
সাপাহার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল বারী শাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাপাহার উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্যাহ আল মামুন, সাপাহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল আলম শাহ চৌধুরী, সাপাহার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজেদুল আলমসহ অন্য রা বক্তব্য দেন।
পরে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার ২০২৩ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।

‘যেখানে অনুমতি মিলবে সেখানেই বিএনপিকে সমাবেশ করতে হবে’

ঢাকা মহানগর (ডিএমপি) পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেছেন, যেখানে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে সেখানেই বিএনপিকে সমাবেশ করতে হবে। আমরা আশা করি, সেই দায়িত্বশীলতার জায়গায় তারা থাকবে।
আজ বুধবার (২৫ অক্টোবর) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন- ‘পুলিশ অনুমতি দিলেও নয়াপল্টনে সমাবেশ করবে না দিলেও নয়াপল্টনে করবে’। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে কথা বলতে হবে। কারও বক্তব্যের ব্যাপারে আমার কোনো মন্তব্য নেই। যেখানে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে সেখানেই বিএনপিকে সমাবেশ করতে হবে।
ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, সব রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই আইনি কাঠামোতে দেওয়া শর্তগুলো যেন তারা অনুসরণ করে। ঢাকা শহরে কোনো রাজনৈতিক দলের সমাবেশ কোনো মাঠে করাই শ্রেয়। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক দলগুলোকে সেটি আমার বলেছিও।
জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা একটি দরখাস্ত করেছে। এই দলটির বিষয়ে হাইকোর্টের অবজারভেশন আছে। শাপলা চত্বরের মতো জায়গায় জামায়াতের মতো দলকে অনুমতি দেওয়া হবে না।
কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সমাবেশে বসে পড়ার গোয়েন্দা তথ্য আছে কি না জানতে অতিরিক্ত কমিশনার ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখনো নেই। অনেক সময় রাজনীতিবিদরা এ ধরনের ঘটনা ঘটার পরে তাদের দায়িত্ব নিতে চায় না। তারা বলেন- কে করেছে তারা জানেন না। এমন অভিজ্ঞতাও আমাদের আছে। কাজেই নাশতা যে করবে না এমন কথা এখনই বলা যাচ্ছে না। নগরবাসীদের নিরাপদ রাখার জন্য আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।
সব রাজনৈতিকদলগুলোকে দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা অনুরোধ জানিয়েছেন অতিরিক্ত এ পুলিশ কমিশনার।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানিয়েছেন, বিএনপির সমাবেশের অনুমতির ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি সিদ্ধান্ত নেবে। তারা সুবিধাজনক জায়গায় সমাবেশের অনুমতি দেবে।
বিএনপির সরকার পতনের হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘দেখুন, সরকার তো এমন কোনোকিছু না যে, ধাক্কা দিলে পড়ে যাবে। এদেশে গণতান্ত্রিক সরকার আছে। ভোটের মাধ্যমে তারা ক্ষমতায় এসেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।’
তবে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও জামায়াতে ইসলামীকে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে থাকা বিএনপি আগামী ২৮ অক্টোবর শনিবার রাজধানীতে মহাসমাবেশ ডেকেছে বিএনপি। সেখান থেকে দলটি হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই দিনই বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে সমাবেশ ডেকেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সেখানে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
একই দিন একই সময়ে অল্প দূরত্বে প্রধান দুই দলের সমাবেশ ঘিরে রাজনীতিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই অবস্থায় জামায়াতে ইসলামী একই দিন মতিঝিল শাপলা চত্বরে সমাবেশ ডাকলেও অনুমতি দেয়নি সরকার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিনটি ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে যাচ্ছে। র‌্যাব ঢাকার প্রবেশ পথগুলোতে চেকপোস্ট বসানোর কথা জানিয়েছে।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ চলবে : পরিকল্পনামন্ত্রী

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না। আমেরিকা, জাপান, চীন কিংবা ভারতের কথায় বাংলাদেশ চলবে না, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ স্বাধীনভাবে চলবে। নির্বাচনে সর্তকতার সঙ্গে সবাইকে কাজ করতে হবে। যে কোনো সিদ্ধান্ত বুঝে শুনে নিতে হবে।
আজ বুধবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের ৫৮০ জন প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনা মূল্যে বীজ ও সার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ চায় জাতীয় নির্বাচনে যেন সব দল অংশ নেয়। নানা ধরনের মার্কা নিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরে দেখুক তাদের জনপ্রিয়তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বারে কাছেও নেই। তবে জামায়াত নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। কারণ তাদের নিবন্ধন নেই। এছাড়া স্বেচ্ছায় যদি জাতীয় নির্বাচনে নিবন্ধিত দলগুলো আসতে চায় আসুক আমরা বাধা দেব না। তবে আওয়ামী লীগ কোনো দলকে জোর করে নির্বাচনে আনবে না।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কেন্দ্র করে যদি বিএনপি মহাসমাবেশের নামে আইন লঙ্ঘন করে তাহলে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম, জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান প্রমুখ।

আমরা ঢাকার কোনো রাস্তা বন্ধ করব না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিএনপির ২৮ তারিখের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকার কোনো রাস্তা বন্ধ করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।
আজ বুধবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আসন্ন বিজয় দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, আমরা ঢাকা রাস্তাঘাট কেন বন্ধ করব? ঢাকায় মানুষ চাকরি-বাকরি এবং ব্যবসার কাজে আসে। আমরা ঢাকার কোনো রাস্তা বন্ধ করব না। বিএনপি যদি শান্তিপূর্ণভাবে নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে চলে যায়, তাহলে আমাদের কিছুই বলার নেই। আমরা কোনো বাধা দেব না।
জামায়াতে ইসলামী সভা-সমাবেশ করতে চাচ্ছে, তাদের অনুমতি দেওয়া হবে কি না,এ প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক দলমত আছে। জামায়াত এর আগেও দুয়েক জায়গায় আলোচনা করেছে। তারা যদি দেশের নিয়ম-কানুন মেনে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশনা মেনে যে কেউ যে কোনো কথা বলতে পারে। জামায়াত বলতে কোনো কথা নেই। দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা আছে। আমাদের কথা হলো, আইন-কানুনের মধ্যে থেকে তারা কথা বলতে পারেন।’
জামায়াতকে সভা-সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে পারমিশন (অনুমতি) দেইনি। স্পষ্টভাবে জানা উচিৎ—আমরা কাউকে পারমিশন দেইনি। জামায়াতে ইসলাম এখন পর্যন্ত কোনো নিবন্ধিত দল না, কাজেই তারা যদি জামায়াতে ইসলামের ব্যানারে আসে, তাহলে অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।’
বিএনপির সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন কিভাবে করেছেন, তা পুলিশ কমিশনার জানেন। তারা এতো লোক, সারা বাংলাদেশের যারা বিএনপি করে—তাদের সবাইকে ঢাকায় আনবেন। কোথায় তাদের সমাবেশের অনুমতি দিলে ভালো হবে। এছাড়া এতো লোক ঢাকায় এলে একটা অন্য ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এ জন্য তাদের কোথায় সমাবেশ করতে দেওয়া হবে এটা পুলিশ কমিশনার বুঝবেন। সেইভাবে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।’
সরকারের পতনের দাবিতে ২৮ অক্টেবর সমাবেশ হচ্ছে। এতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার শঙ্কা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকার এমন কিছু না, যে ধাক্কা দিলেই পরে যাবে। এটা গণতান্ত্রিক সরকার, কাজেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হবে। ধাক্কা দিলে সরকার পরে যাবে, এমন কথা সংবিধানে লেখা নেই।’
একই দিনে দুই দলকে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া নিয়ে এক প্রশ্নে কামাল বলেন, আইন সঙ্গতভাবে আরও যদি ১০টি দল চায় আমরা ওই দিনই সমাবেশ করবো, আমরা বলব নিয়মশৃঙ্খলা মেনে শান্তি রক্ষা করে যদি করতে পারো, তাহলে করবা। আইনশৃঙ্খলা মেনে চললে বিশৃঙ্খলা হবে না।
আনসার বাহিনীকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে কি না, এ প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা একটা মিস ইনফরমেশন। আপনাদের ভুল ধারণা। এ প্রশ্নটা ভুল ধারণার পরিপ্রেক্ষিতে করছেন। আনসার বাহিনীকে গ্রেফতার করার পারমিশন কখনো দেওয়া হয় না, আজকেও দেওয়া হয়নি এবং কোনো আইন দ্বারা সেটা দেওয়ার কোনো ক্ষমতা আমাদের নেই। আমাদের ফৌজদারি কার্যবিধির আওতার ভেতরে থেকে সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কাজ করতে হবে। এ হলো মূল কথা। তাদের যে আইনটি আসছে, সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার শেষ পর্যায়ে এখানে এসেছে। এটা আমাদের স্থায়ী কমিটিতে গেছে, স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। সেখানে কোনো শব্দ, বাক্য যদি এ ধরনের প্রশ্নের অবতারণা করে তবে সেগুলো কারেকশন হবে। এখানে প্রচলিত আইনের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, আমি একটি কথা স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছি। এভাবে ভুল বোঝাবুঝির কোনো অবকাশ নেই। এখানে আমি শুনতে পাচ্ছি অনেক জায়গায় প্রচারিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে আনসার পুলিশের ক্ষমতা নিয়ে যাচ্ছে, পুলিশের ক্ষমতা আসনার নিয়ে যাচ্ছে। এগুলো প্রপাগান্ডা, সব মিস ইনফরমেশন। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা সব সময় বলি, আমাদের দুটো ফোর্সই আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী লি শাংফুকে সরিয়ে দিল চীন

প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল লি শাংফুকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্ত করেছে চীন। মঙ্গলবার তাকে বরখাস্ত করার খবর দিয়েছে চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। গত জুনে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীকেও বরখাস্ত করা হয়েছিল।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাংফু গত দুই মাস জনসাধারণের দৃষ্টির আড়ালে ছিলেন। মঙ্গলবার তাকে বরখাস্ত করার খবর দিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো। তিন মাস আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাংকেও বরখাস্ত করা হয়েছিল। তিনিও এক মাসের বেশি সময় লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লি শাংফুকে কেন সরানো হয়েছে, তার কারণ জানা যায়নি। এমনকি তার স্থানে কাউকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে কিনা তাও বলা হয়নি।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুসারে, শাংফুকে স্টেট কাউন্সিলর পদ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে কেন তাকে অপসারণ করা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
গত মার্চেই চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছিলেন শাংফু। এই হিসেবে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে তিনিই সবচেয়ে কম সময় ছিলেন।

বেলিংহ্যাম-রুদ্রিগো গোলে রিয়ালের জয়

চ্যাম্পিয়নস লিগে জয়ের ধারা বজায় রেখেছে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ। এবার পর্তুগিজ ক্লাব ব্রাগাকে হারালো কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। লড়াই জমিয়ে তোলার আভাস দিলেও শেষমেশ টিকতে পারেনি ব্রাগা। জুড বেলিংহ্যাম ও রুদ্রিগোর গোলে ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতেছে ‘লস ব্লাঙ্কোস’রা।
মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) রাতে ম্যাচের শুরু থেকেই নিজেদের দখলে বল রেখে খেলতে থাকে রিয়াল। তাতে ম্যাচের প্রথম শটেই এগিয়ে যায় তারা। ডি-বক্সের বাইরে থেকে ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে পাস দেন নাচো ফার্নান্দেজ। ডি-বক্সে ঢুকে ভিনিসিয়াস পাস বাড়ান রুদ্রিগোকে। স্লাইড করে জাল খুঁজে নেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
ম্যাচের ২৪তম মিনিটে ভালো একটি সুযোগ তৈরি করে ব্রাগা। তবে পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড রিকার্ডো অর্তার শট রিয়ালের রক্ষণে প্রতিহত হয়। প্রথমার্ধে দুই দল আরও কয়েকটি আক্রমণ শাণায়। তবে জাল খুঁজে নিতে ব্যর্থ হয়। তাতে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় রিয়াল।
দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিলেন বেলিংহ্যাম। তবে ইংলিশ এই মিডফিল্ডারের শট কোনোমতে এক হাত দিয়ে ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠান ব্রাগা গোলরক্ষক। এর খানিক বাদেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে রিয়াল।
৬১তম মিনিটে আরেকটি দারুণ বোঝাপারায় আক্রমণে ওঠেন ভিনিসিয়াস। বাঁ দিক থেকে তার বাড়ানো পাস বক্সের মুখে পেয়ে যান বেলিংহ্যাম। বল পায়ে রেখে খানিক এগিয়ে মাটি কামড়ানো নিচু শট নেন ইংলিশ মিডফিল্ডার। ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি ব্রাগা গোলরক্ষক।
এ নিয়ে রিয়ালের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তিন ম্যাচ খেলে প্রতিটিতেই একবার করে জালের দেখা পেলেন বেলিংহ্যাম। লা লিগাতেও নিয়মিত গোল করে চলেছেন তিনি। ৯ ম্যাচে ৮ গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করেছেন এই তরুণ।
বেলিংহ্যামের গোলের পরপরই এক গোল শোধ করে ব্রাগা। বক্সে সিমোন বান্সার পাস পেয়ে ঠাণ্ডা মাথায় জোরালো শটে কাছের পোস্ট দিয়ে স্কোরলাইন ২-১ করেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড দিয়ালো। বাকি সময়ে নিজেদের রক্ষণ সমুন্নত রেখে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল।
এ জয়ে তিন ম্যাচ পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে আছে রিয়াল। গ্রুপের অন্য ম্যাচে ইউনিয়ন বার্লিনকে ১-০ গোলে হারিয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে নাপোলি আছে দ্বিতীয় স্থানে। তিন নম্বরে থাকা ব্রাগার পয়েন্ট ৩। জার্মান ক্লাব বার্লিন তিন ম্যাচের সব কটিতেই হেরেছে।

রোনালদোর নৈপুণ্যে আল-নাসরের জয়

আল-নাসরে যোগ দিয়ে ট্রফিবিহীন হতাশার এক মৌসুম কাটিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। সেখান থেকে হয়তো তিনি নিজেকে উজ্জ্বীবিত করেছেন, উদ্দীপ্ত করেছেন সৌদি আরবের ক্লাবটিকেও। নতুন মৌসুমে নাসরকে ডানা বানিয়ে রীতিমতো উড়ছেন এই পর্তুগিজ সুপারস্টার। সর্বশেষ ৯ ম্যাচে তিনি ১১ গোল এবং ৫টি অ্যাসিস্ট করেছেন। দল অপরাজিত রয়েছে সবমিলিয়ে ১২ ম্যাচ, এর মধ্যে কেবল একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
সর্বশেষ মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) রাতে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে আল-নাসর ৪-৩ গোলের ব্যবধানে জিতেছে। কাতারের চ্যাম্পিয়ন ক্লাব আল দুহাইলের বিপক্ষে এদিন জোড়া গোল করেছেন রোনালদো। তার মধ্যে একটি ছিল বাঁ-পায়ে দূরপাল্লার এক দারুণ গোল।
এর আগে ম্যাচের ২৫ মিনিট পর্যন্ত আল দুহাইলের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি আল-নাসর। কিন্তু তার পরই রোনালদোর ঝলক। ব্যাকহিলে সতীর্থ অ্যান্ডারসন তালিসকাকে নিখুঁত পাস দেন রোনাদো। ব্রাজিল ফরোয়ার্ড মাটি ঘেঁষাশটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে সক্ষম হন। সহজেই লিড পেয়ে যায় আল-নাসর। প্রথমার্ধে আর কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।
তবে বিরতির পর দুই দল মিলে করেছে ৬টি গোল। ৫৬ মিনিটে নাসরের হয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সাদিও মানে। দুহাইলের ডিফেন্ডাররা যখন রোনাদোকে নিয়ে ব্যস্ত, সেই সময়ে সাদিও মানেকে মার্ক করতে ভুলে যায় তারা। ফলে সুযোগ পেয়েই কাজে লাগাতে ভুল করেননি সেনেগালিজ তারকা। এরপর গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে দুহাইল। তবে গোল করার চেষ্টায় রোনালদোর মনোযোগ সরে যায় তাদের। সেই সুযোগে সিআরসেভেন ব্যবধান বাড়িয়ে নেন।
ম্যাচের ৬১ মিনিটের পেনাল্টি বক্সের বাইরে ডান দিক থেকে আসা একটি শট ধরে চোখধাঁধানো গোলটি করেন রোনালদো। গোলপোস্ট থেকে ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া তার শটটি ছিল বাঁ-পায়ের বাঁক খাওয়ানো। গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে পড়ে কিছুটা হাত ছোঁয়ালেও বলটি আটকাতে পারেননি। এরপর গোল পেতে সময় লাগেনি দুহাইলেরও। ৬৩ ও ৬৭ মিনিটে তাদের হয়ে পরপর দুই গোল করেন ইসমাইল মোহাম্মদ ও আলমোয়েজ আলি।
ম্যাচের ৮১ মিনিটে ফের রোনালদো ম্যাজিক। ডান প্রান্ত ধরে সতীর্থের ভাসিয়ে দেওয়া বলে বাঁ-পায়ের দারুণ ভলিতে তিনি বল জালে জড়ান দ্বিতীয়বা। গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না। দুহাইলের হয়ে ৮৫ মিনিটে আরেকটি গোল করেন অলুঙ্গা। তখন মনে হয়েছিল ম্যাচটি রোনালদোদের হাতছাড়া হয় কিনা, তবে শেষ পর্যন্ত তেমন কিছু ঘটেনি।
চলতি বছরে এ নিয়ে ৪৩টি গোল করেছেন পর্তুগিজ তারকা। এখন পর্যন্ত ২০২৩ সালে ফুটবলের মঞ্চে (আন্তর্জাতিক ও ক্লাব ফুটবল) তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতা। এর মধ্যে ২০২৩-২৪ মৌসুমে ২২ ম্যাচ খেলে তার পা থেকে এসেছে ২৪টি গোল। দেশের জার্সিতে কিছুদিন আগেই ২ ম্যাচ খেলে ৪ গোল করেছিলেন। সেই ছন্দ এবার তিনি ক্লাবেও টেনে নিয়ে গেলেন।

২৮ অক্টোবর সমাবেশ : ঢাকার প্রবেশমুখে চেকপোস্ট বসাবে র‌্যাব

আগামী ২৮ অক্টোবর রাজনৈতিক দলগুলোর সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকা শহরের প্রবেশদ্বারগুলোতে চেকপোস্ট বসাবে র‌্যাব। যাতে করে কেউ নাশকতার জন্য আগ্নেয়াস্ত্র বা বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে সমাবেশে প্রবেশ করতে না পারে। একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও চেকপোস্ট বসানো হবে।
আজ বুধবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন, র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি বলেন, আমরা আমাদের নিয়মিত চেকপোস্ট কার্যক্রম চলমান রেখেছি। ঢাকার বাইরে থেকে যে কেউ যেন নাশকতার জন্য কোনো বস্তু নিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করতে না পারে। একই সাথে কারো যদি কোনো নাশকতার পরিকল্পনা থেকে থাকে, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য আমরা কাজ করছি।

খন্দকার আল মঈন বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে পুঁজি করে কোনো কোনো স্বার্থান্বেষী মহল বা কোনো রাষ্ট্রবিরোধী চক্র কোনো ধরনের নাশকতা বা সহিংসতা যেন করতে না পারে সেজন্য আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন। এছাড়া আমরা সাইবার ওয়ার্ল্ডে নজরদারি করছি।
র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক বলেন, আগামী ২৮ অক্টোবর অনেক রাজনৈতিক দল সমাবেশের অনুমতি চেয়েছে। সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না সেটা ডিএমপির এখতিয়ার। আমরা মনে করি, র‌্যাবের যে দায়িত্ব জনগণের জানমলে নিরাপত্তা দেওয়া, পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুরক্ষা করা। এসব রক্ষায় আমরা দায়িত্ব পালন করে যাব। দেশের মহাসড়কগুলোতে নিয়মিত পেট্রোলিং করা হচ্ছে, যাতে মানুষজন সাচ্ছন্দ্যে তাদের দৈনন্দিন কাজ করতে পারেন।
এ সময় তিনি জানান, আগামী ২৮ অক্টোবর ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও মোড়গুলোতে র‌্যাবের তল্লাশি চেকপোস্ট বসানো হবে। কেউ কোনো নাশকতার পরিকল্পনা করছে কিনা বা আগ্নেয়াস্ত্র বহন করছে কি না, সেটা লক্ষ্য রাখা হবে।

হিজবুল্লাহ আগুন নিয়ে খেলছে : ইসরায়েল

লেবাননের ইরান-সমর্থিত শক্তিশালী সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ চায় না ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ এমন কথাই জানিয়েছেন। এছাড়া হিজবুল্লাহ আগুন নিয়ে খেলছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
এমনকি হিজবুল্লাহ ইসরায়েলকে যুদ্ধে টেনে আনলে লেবাননকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইসরায়েলি এই প্রেসিডেন্ট।
আজ বুধবার (২৫ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল তার উত্তর সীমান্তে লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ চাইছে না বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। ইসরায়েল সফরে থাকা ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সতর্ক করে বলেন, ‘হিজবুল্লাহ আগুন নিয়ে খেলছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা আমাদের উত্তর সীমান্তে কোনো সংঘাত চাইছি না। কিন্তু যদি হিজবুল্লাহ আমাদের যুদ্ধে টেনে নেয়, তবে এটা পরিষ্কার হওয়া উচিত যে, লেবাননকে চড়া মূল্য দিতে হবে।’
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার পাশাপাশি লেবানন সীমান্তেও হামলার মুখে পড়েছে ইসরায়েল। লেবাননের ইরান-সমর্থিত শক্তিশালী এই সশস্ত্রগোষ্ঠী উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে আসছে।
মূলত গাজা ভূখণ্ডে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে সংঘাত। ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তের এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৩০ জনেরও বেশি হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া হিজবুল্লাহর হামলায় ইসরায়েলি সেনা নিহতের ঘটনাও ঘটেছে।
এমনকি হিজবুল্লাহর তীব্র হামলার মুখে সীমান্ত এলাকার হাজার হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালাচ্ছে ইসরায়েল। এতে করে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধে দ্বিতীয় যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে ওঠার শঙ্কা তৈরি হয়েছে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্ত। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্ত এলাকা থেকে প্রত্যেক দিনই উত্তর ইসরায়েলে রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র এবং গোলাবর্ষণ করা হচ্ছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাষা, ধর্ম এবং সুরক্ষিত বেড়ায় বিভক্ত হওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তের উভয়পাশের বাসিন্দারা ব্যাপক অস্থিতিশীলতার মুখোমুখি হয়েছেন। সীমান্ত এলাকায় ক্রমবর্ধমান সহিংসতার কারণে উভয়পাশের হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক তাদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় খুঁজতে বাধ্য হয়েছেন।
বার্তা সংস্থাটি বলছে, গত ৭ অক্টোবর হামাস-ইসরায়েলের সংঘাত শুরুর পর থেকে হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী প্রায় প্রতিদিনই সীমান্তে গুলিবিনিময় করছে। হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে ২০০৬ সালের যুদ্ধের পর এটিই ইসরায়েল-লেবানিজ সীমান্তে সবচেয়ে খারাপ সহিংসতার ঘটনা।
অবশ্য ইসরায়েল বরাবরই বলছে, হিজবুল্লাহরে সঙ্গে তাদের যুদ্ধে কোনও আগ্রহ নেই। যদি হিজবুল্লাহ সংযত থাকে তবে তারাও স্থিতাবস্থা বজায় রাখবে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। কিন্তু ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এই অঞ্চলে এবং এর বাইরেও বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, কারণ ইসরায়েল গাজায় স্থল অভিযানের নামে অনুপ্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অন্যদিকে গত ৭ অক্টোবর থেকেই গাজায় বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। তাদের অবিরাম নির্বিচার এই হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার ৮০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার।
এছাড়া ইসরায়েলের হামলায় গাজায় শুধুমাত্র গত একদিনে ৭০৪ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ইসরায়েলে হামাসের হামলা ‘শূন্য থেকে’ হয়নি : গুতেরেস

গাজায় ইসরায়েলি হামলার ব্যাপক সমালোচনা করায় জাতিসংঘ মহাসচিবের পদত্যাগ চেয়েছে ইসরায়েল।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২৪ অক্টোবরের অধিবেশনে গাজায় হামাসের হামলার কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলা ‘শূন্য থেকে’ হয়নি। ফিলিস্তিনিরা ৫৬ বছর ধরে দমবন্ধ দখলদারিত্বের শিকার।
গুতেরেস বলেন, ফিলিস্তিনের জনগণ তাদের ভূখণ্ড (ইসরায়েলি) বসতিতে পরিণত হতে এবং সহিংসতায় জর্জরিত হতে দেখেছেন। তাদের অর্থনীতি থমকে গেছে। সেখানকার বাসিন্দারা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের দুর্দশার রাজনৈতিক সমাধানের আশা ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।
উত্তর গাজা খালি করার ইসরায়েলি নির্দেশের প্রসঙ্গ টেনে মহাসচিব বলেন, ১০ লাখ মানুষকে দক্ষিণে চলে যেতে বলাকে সুরক্ষা দেওয়ার বলা যায় না, যেখানে কোনো আশ্রয় নেই, খাবার নেই, পানি নেই, ওষুধ নেই, জ্বালানি নেই। আর মানুষকে দক্ষিণে যেতে বলে সেখানে বোমা হামলা চালিয়ে যাওয়া যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা হামাসের ভয়ংকর হামলাকে ন্যায্যতা দেয় না। আর ওই ভয়ংকর হামলার কারণে ফিলিস্তিনি মানুষদের সম্মিলিতভাবে শাস্তি দেওয়াও ন্যায্যতা পায় না।
হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ প্রসঙ্গে গুতেরেসের এমন মন্তব্যের পর তার সঙ্গে পূর্ব নির্ধারিত বৈঠকে বসবেন না বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলি কোহেন। এদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত গিলার্ড এরডান মহাসচিবকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, আমি তাকে এ মুহূর্তে পদত্যাগের আহ্বান জানাচ্ছি। ইসরায়েলের জনগণ ও ইহুদিদের বিরুদ্ধে চালানো সবচেয়ে জঘণ্য অপরাধের প্রতি যারা সহানুভূতি দেখায় তাদের সঙ্গে কথা বলার যৌক্তিকতা নেই।