সোমবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬

অবশেষে শপথ নিচ্ছেন এরশাদ

mamসব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সংসদে যোগ দিতে যাচ্ছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। এ নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এরশাদের যোগাযোগ হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাপার একাধিক প্রেসিডিয়াম সদস্য এরশাদের সংসদে যোগ দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। আজ বুধবার জাপার সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদের বাসায় নব নির্বাচিত এমপিদের বৈঠক আহবান করা হয়েছে। সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে মঙ্গলবার এরশাদ-পত্নী রওশন এরশাদের গুলশানের বাসার সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মশিউর রহমানও একই কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘রওশন ম্যাডাম আমাদের জানিয়েছেন এরশাদ সাহেব সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন।’
নির্বাচন বয়কট করা সত্ত্বেও পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনে এরশাদ রংপুর-৩ আসন থেকে জয়লাভ করেছেন এবং লালমনিরহাট-১ থেকে পরাজিত হয়েছেন। নির্বাচনের আগে এরশাদের প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন নাকচ করে দেয় নির্বাচন কমিশন।
জাপার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ সংসদে যোগ দেবেন ঠিকই, তবে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নয়। সূত্র জানায়, বিরোধীদলকে নেতৃত্ব দিতে চাচ্ছেন রওশন এরশাদ।
প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ জানিয়েছেন, দেশের একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর এরশাদ বিরোধীদলের নেতা হতে পছন্দ করছেন না।
সাবেক ‘একনায়ক’ এরশাদ বর্তমানে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ‘চিকিৎসাধীন’ আছেন। কিন্তু দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা দাবি করছেন, তাদের দলীয় প্রধান অসুস্থ নয়, সরকারের নির্দেশে তাকে আটকে রাখা হয়েছে।
এদিকে এরশাদ হাসপাতালের নিকটস্থ কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে নিয়মিত খেলাও দেখতে যাচ্ছেন।
রাঙা জানান, পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে তাদের নবনির্বাচিত এমপিরা আজ রওশনের সঙ্গে বৈঠক করবেন।‘আমরা সরকারের জোট হিসেবে সংসদে যাব, না কি বিরোধীদল হিসেবে যাব, সে বিষয়ে আজকের বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’ বলেন রাঙা

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে রাষ্ট্র সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে

sokজাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, রাষ্ট্র সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিধানে ‘সম্পূর্ণ ব্যর্থ’ হয়েছে। তারা আজ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

বুধবার বেলা ১২টার দিকে রাজধানীর বিচার, প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জাতীয় আইন কমিশনের এক সেমিনারে তিনি এ অভিযোগ করেন।

আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক শাহ আলম ও সচিব একেএম আশরাফুল ইসলাম।

এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন কমিশনের মুখ্য গবেষণা কর্মকর্তা ফৌজুল আজিম।

ড. মিজানুর রহমান বলেন, রাষ্ট্র সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যর্থতা যেন প্রলম্বিত না হয়। ব্যর্থতা প্রলম্বিত হলে দেশ বিপন্ন হয়ে যাবে। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনা ভূলুণ্ঠিত হয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় দেশে হাজার হাজার সংখ্যালঘু আক্রান্ত হয়েছে। নির্বাচনের আগে সরকার আমাদের আশ্বস্ত করেছিল।

বলা হয়েছিল, নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী থাকবে। কিন্তু দেখলাম নির্বাচনের আগে এক প্রিজাইডিং অফিসারকে হত্যা করা হলো। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সংখ্যালঘুদের বাড়িতে লুটপাট-হামলা করা হলো।

মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, এখনই এই সহিংসতা রুখতে হবে। প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। –